- প্রচ্ছদ
- Topic
অ্যান্ডি বার্নহ্যাম
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেছেন, ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ছোট নৌকায় অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে সরকারের এখনও অনেক কাজ বাকি এবং এই সংখ্যা “আরও অনেক নিচে নামাতে হবে।” সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজারের বেশি অভিবাসী ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ কম। তবে সাম্প্রতিক উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে কয়েক দিনের মধ্যে আবারও নৌকায় পারাপার বেড়েছে। বার্নহ্যাম বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের নেতৃত্বে সরকার সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে একটি কঠোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। তাঁর দাবি, বছরের সামগ্রিক পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে সরকারের কৌশল ইতিবাচক ফল দিচ্ছে। তবে জনগণ সীমান্তে আরও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ দেখতে চায় এবং সরকার সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। অভিবাসন সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মধ্যে নতুন সহযোগিতা চুক্তিও কার্যকর হয়েছে। এর আওতায় ফরাসি উপকূল থেকে ছোট নৌকা যাত্রা ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। যদিও এ পর্যন্ত এ খাতে যুক্তরাজ্য এক বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি অর্থ ব্যয় করেছে, বিরোধীরা দাবি করছে যে সাম্প্রতিক পারাপার বৃদ্ধি প্রমাণ করে বর্তমান ব্যবস্থা এখনও পুরোপুরি কার্যকর নয়। এদিকে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির নেতারা অভিযোগ করেছেন, ফরাসি কর্তৃপক্ষ অনেক ক্ষেত্রেই নৌকা থামাতে ব্যর্থ হচ্ছে। তারা সরকারের অভিবাসন নীতির কঠোর সমালোচনা করে বলেছে, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। বার্নহ্যাম জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাজ্যে প্রবেশকারী প্রত্যেক ব্যক্তিকে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় আনা হবে। তাঁর ভাষায়, সীমান্তের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং অবৈধ পারাপারের সংখ্যা আরও কমানোই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে নেতৃত্ব সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের জনপ্রিয় মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম পার্লামেন্টে ফেরার পর প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বিরুদ্ধে নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। নর্থ-ওয়েস্ট ইংল্যান্ডের মেকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে পার্লামেন্টে ফেরার পথ নিশ্চিত করেছেন বার্নহ্যাম। এই আসনটি খালি হওয়ার পর থেকেই তার জাতীয় রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। উপনির্বাচনটি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ নির্বাচনের মতোই দ্রুত রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। লেবার পার্টির একাংশের মতে, দুই বছর আগে বিশাল ব্যবধানে ক্ষমতায় আসা দলটি এখন জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ দুই দিক থেকেই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। একই সঙ্গে ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে এবং বামপন্থী গ্রিন পার্টির উত্থান দলটির জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে। দলের ভেতরে অনেকেই মনে করছেন, এই সংকট মোকাবিলায় বার্নহ্যামই একমাত্র বিকল্প নেতা হতে পারেন, যিনি স্টারমারের মতো নয়, বরং ভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক আবেদন তৈরি করতে সক্ষম। নির্বাচনের পর দেওয়া বক্তব্যে বার্নহ্যাম বলেন, “রাজনীতি এখন কাজ করছে না। দেশ যেখানে থাকা উচিত সেখানে নেই। আজকের রাত একটি মোড় ঘোরানোর মুহূর্ত হতে পারে।” স্টারমার অবশ্য জানিয়েছেন, তিনি যে কোনো নেতৃত্ব প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিরুদ্ধে লড়াই করবেন। অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। তিনি এর আগে টনি ব্লেয়ার ও গর্ডন ব্রাউনের সরকারের মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রী হন। ২০১০ ও ২০১৫ সালে তিনি লেবার নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সফল হননি। ২০১৭ সালে ম্যানচেস্টারের মেয়র হওয়ার পর তিনি ওয়েস্টমিনস্টারের দলীয় দ্বন্দ্ব থেকে অনেকটাই দূরে সরে যান এবং স্থানীয় উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে মনোযোগ দেন। এই সময়েই তিনি “কিং অব দ্য নর্থ” নামে পরিচিতি পান। তার নেতৃত্বে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের অর্থনীতি সম্প্রসারিত হয় এবং গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও আবাসন প্রকল্পে অগ্রগতি ঘটে। বার্নহ্যামের রাজনৈতিক দর্শন এখন “ম্যানচেস্টারিজম” নামে পরিচিত। এতে রয়েছে অর্থনীতিতে আরও স্থানীয় নিয়ন্ত্রণ, পাবলিক সার্ভিসের পুনর্গঠন এবং “ব্যবসাবান্ধব সমাজতন্ত্র” ধারণা। সমর্থকদের মতে, এটি যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তবে সমালোচকদের মতে, তার অনেক উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। স্টারমারের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার পাশাপাশি দলটির ভেতরে বিভাজনও বাড়ছে। ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে এবং বামপন্থী গ্রিন পার্টির উত্থান লেবারের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহ্যাম যদি নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় নামেন, তবে তাকে একই সঙ্গে মধ্যপন্থী, বামপন্থী এবং শ্রমিক শ্রেণির ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখার কঠিন সমীকরণ মোকাবিলা করতে হবে। এদিকে তার নীতিগত অবস্থানেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে। অভিবাসন, অর্থনৈতিক নীতি এবং ব্রেক্সিট ইস্যুতে তিনি আগের তুলনায় তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী অবস্থান নিচ্ছেন বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত। বার্নহ্যাম এখন পার্লামেন্টে ফেরার পর জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসছেন। তার পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করতে পারে ব্রিটিশ রাজনীতির আগামী দিনের গতিপথ।
যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতৃত্বের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। দলের নেতৃত্বের লড়াইয়ে আগের দুইবার ব্যর্থ হলেও সাম্প্রতিক একটি বিশেষ সংসদীয় উপ-নির্বাচনে বড় বিজয়ের পর তার রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এতে তিনি কেবল দলীয় নেতৃত্ব নয়, বরং ভবিষ্যতে ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছেন। অ্যান্ডি বার্নহ্যাম গত নয় বছর ধরে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চমৎকার বাচনভঙ্গি ও ব্যক্তিগত ক্যারিশমার কারণে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন। সম্প্রতি উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের মেকারফিল্ড আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর লেবার পার্টির বর্তমান নেতা কিয়ার স্টারমারের বিরুদ্ধে নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ গড়তে তার প্রয়োজন অন্তত ৮০ জন লেবার আইনপ্রণেতার সমর্থন। করোনা মহামারির সময় ম্যানচেস্টারের স্থানীয় স্বার্থ রক্ষায় ভূমিকার কারণে সমর্থকদের মধ্যে তিনি ‘কিং অব দ্য নর্থ’ হিসেবে পরিচিতি পান। একই সময়ে ডানপন্থী দল রিফর্ম ইউকে-এর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইয়ে তিনি লেবার পার্টির সম্ভাব্য শক্তিশালী বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে আলোচিত হন। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ তাকে কৌশলগতভাবে নমনীয় অবস্থান নেওয়া নেতা হিসেবে দেখেন। ১৯৭০ সালে লিভারপুলে জন্মগ্রহণ করেন বার্নহ্যাম। বাবা ছিলেন টেলিফোন প্রকৌশলী এবং মা স্বাস্থ্যসেবায় কর্মরত ছিলেন। চেশায়ারের কালচেথ গ্রামে তার শৈশব কাটে। রোমান ক্যাথলিক স্কুলে পড়াশোনা শেষে তিনি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। রাজনীতিতে প্রবেশের আগে তিনি গবেষক ও উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। প্রথমে টেসা জোয়েলের গবেষক এবং পরে তৎকালীন সংস্কৃতিমন্ত্রী ক্রিস স্মিথের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে লেই আসন থেকে প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হয়ে তিনি টনি ব্লেয়ারের নেতৃত্বাধীন সরকারের কনিষ্ঠ মন্ত্রীদের একজন হন। পরবর্তীতে গর্ডন ব্রাউনের সরকারের অধীনে তিনি ট্রেজারির চিফ সেক্রেটারি, সংস্কৃতিমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোর মধ্যে রয়েছে ২০০৯ সালের হিলসবোরো ট্র্যাজেডি নিয়ে তার ভূমিকা। ওই ঘটনায় ৯৭ জন লিভারপুল সমর্থকের মৃত্যুর পর ভুক্তভোগীদের পরিবারের বিচার দাবি জোরদার করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং পরবর্তীতে নতুন তদন্ত শুরু হয়। ২০১০ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টির পরাজয়ের পর তিনি নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চতুর্থ হন। ২০১৫ সালে আবারও নেতৃত্বের চেষ্টা করলেও জেরেমি করবিনের কাছে পরাজিত হন। পরবর্তীতে তিনি করবিনের নেতৃত্বাধীন দলে কাজ করেন এবং ২০১৭ সালে জাতীয় রাজনীতি ছেড়ে ম্যানচেস্টারের মেয়র নির্বাচিত হন। ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক মনে করেন, মেয়র হিসেবে বার্নহ্যাম স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থা সংস্কার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন। তার মতে, তিনি রাজনৈতিক যোগাযোগে দক্ষ এবং জনমত গঠনে সক্ষম একজন নেতা। তবে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ার জুড়ে বিভিন্ন সরকারের অধীনে কাজ করায় তাকে রাজনৈতিকভাবে নমনীয় বা কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তনকারী নেতা হিসেবে সমালোচনাও করা হয়। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি স্টারমারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারেন কি না, তা নির্ভর করছে দলীয় সমর্থন এবং সংসদীয় সমীকরণের ওপর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ম্যানচেস্টারের স্থানীয় নেতৃত্ব থেকে জাতীয় রাজনীতির শীর্ষ পদে যাত্রা সহজ নয়। তবে দলীয় সমর্থন পেলে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ভবিষ্যতে ব্রিটিশ রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।