- প্রচ্ছদ
- Topic
অ্যামাজন
যুক্তরাষ্ট্রে বছরের শেষের ছুটির মৌসুমে পণ্য কেনাকাটা ও সরবরাহের চাপ সামলাতে তিন লাখের বেশি কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করেছে অনলাইন বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন। ২০২৬ সালের ছুটির মৌসুমকে সামনে রেখে দেশজুড়ে মৌসুমি, খণ্ডকালীন ও পূর্ণকালীন কর্মী নিয়োগ দেবে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নির্দিষ্ট কর্মীদের জন্য প্রথম কর্মদিবস থেকেই স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা চালু করার ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি। ২০ অক্টোবর প্রকাশিত অ্যামাজনের ঘোষণা এবং রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত তিন বছর ধরে ছুটির মৌসুমে প্রায় আড়াই লাখ কর্মী নিয়োগের লক্ষ্য থাকলেও এবার তা বাড়িয়ে তিন লাখের বেশি করা হয়েছে। অর্থাৎ নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ছে প্রায় ২০ শতাংশ। নিয়োগের আওতায় অ্যামাজনের পণ্য গুদাম, পণ্য বাছাই ও প্যাকেটজাতকরণ কেন্দ্র, পরিবহনব্যবস্থা এবং সরবরাহ কার্যক্রমে বিভিন্ন ধরনের পদ রয়েছে। এসব কর্মী ছুটির মৌসুমে বাড়তি ক্রেতার অর্ডার সামলানো এবং নির্ধারিত সময়ে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার কাজে সহায়তা করবেন। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, নতুন পদগুলোর বিজ্ঞপ্তি অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে প্রকাশ করা হবে। তবে সব পদ একই সময়ে বা প্রতিটি অঙ্গরাজ্যে সমান সংখ্যায় পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বেতনও চাকরিপ্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অ্যামাজনের ঘোষণা অনুযায়ী, মৌসুমি কর্মীদের গড় ঘণ্টাপ্রতি বেতন প্রায় ২০ ডলার। পূর্ণকালীন পরিচালনাকাজের কর্মীদের ন্যূনতম প্রারম্ভিক বেতন ঘণ্টায় ২০ ডলার এবং এই বিভাগের কর্মীদের গড় ঘণ্টাপ্রতি বেতন প্রায় ২৪ ডলার। তবে পদ, কর্মস্থল, কাজের সময় ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রকৃত বেতন ভিন্ন হতে পারে। কিছু নির্দিষ্ট পদের বেতন ঘণ্টায় ২০ ডলারের বেশি হতে পারে। নতুন ঘোষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সপ্তাহে অন্তত ৩০ ঘণ্টা কাজের নির্ধারিত সময় রয়েছে—এমন যোগ্য মৌসুমি কর্মীরা প্রথম কর্মদিবস থেকেই স্বাস্থ্যসেবা বিমার আওতায় আসবেন। যাঁরা এর আগে কাজে যোগ দেবেন, তাঁরা ১ জানুয়ারি থেকে এই সুবিধা পাবেন। আর যাঁরা ওই দিন বা তার পরে যোগ দেবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সুবিধা প্রথম কর্মদিবস থেকেই কার্যকর হবে। অ্যামাজনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনার খরচ সপ্তাহে ৫ ডলার থেকে শুরু এবং চিকিৎসাসেবার নির্দিষ্ট সহ-পরিশোধের অঙ্ক ৫ ডলার। তবে পরিকল্পনা ও যোগ্যতার শর্ত অনুযায়ী সুবিধা এবং খরচ আলাদা হতে পারে। অ্যামাজন আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে কর্মীদের জন্য মুদি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনায় ছাড় এবং নির্দিষ্ট কর্মী ও তাঁদের পরিবারের জন্য আর্থিক সেবার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। যোগ্য কর্মীদের জন্য বছরে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ২৫০ ডলার পর্যন্ত শিক্ষাব্যয়ের সহায়তা, অবসরকালীন সঞ্চয় পরিকল্পনায় কোম্পানির অবদান এবং অন্যান্য সুবিধাও রয়েছে। তবে সব সুবিধা প্রতিটি মৌসুমি কর্মীর জন্য প্রযোজ্য নয়; চাকরির ধরন ও যোগ্যতার শর্ত যাচাই করতে হবে। ছুটির মৌসুমে অনলাইন কেনাকাটা বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করে থাকে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় খুচরা বাণিজ্য ফেডারেশন চলতি বছরের ছুটির মৌসুমে মোট খুচরা বিক্রির পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর পূর্বাভাস দিয়েছে। এই সম্ভাব্য চাহিদার কারণে অ্যামাজন তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো মৌসুমি কর্মী নিয়োগের লক্ষ্য বাড়িয়েছে। তবে ঘোষিত নিয়োগের সংখ্যা চাকরির নিশ্চয়তা নয়; আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট পদে আবেদন করতে হবে এবং নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে যাঁরা চাকরি খুঁজছেন, তাঁরা অ্যামাজনের অফিসিয়াল চাকরির ওয়েবসাইটে পদ, কর্মস্থল, বেতন, কাজের সময় ও যোগ্যতার শর্ত দেখতে পারেন। নতুন পদ নিয়মিত প্রকাশিত হওয়ায় পছন্দের এলাকায় সুযোগ খুঁজতে ওয়েবসাইটটি অনুসরণ করা যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তিন লাখ মৌসুমি কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে অনলাইন কেনাকাটার প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন। আসন্ন ছুটির মৌসুমে পণ্য সংরক্ষণ, অর্ডার প্রস্তুত ও পরিবহন কার্যক্রমে এসব কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। আগের তিন বছরের তুলনায় এবার ২০ শতাংশ বেশি কর্মী নিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি আগামী ১ জানুয়ারি থেকে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী কর্মীদের চাকরির প্রথম দিন থেকেই স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা এসেছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত তিন বছর ধরে অ্যামাজন প্রতিবছর আড়াই লাখ মৌসুমি কর্মী নিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল। এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে তিন লাখ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এটি হবে প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অস্থায়ী কর্মীবাহিনী। অ্যামাজন জানিয়েছে, মৌসুমি চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর অনেক পদ কয়েক মিনিটের মধ্যেই পূর্ণ হয়ে যায়। প্রতিষ্ঠানটি সারা বছর বিভিন্ন সময়ে মৌসুমি কর্মী নিয়োগ করে থাকে। এসব কর্মীর কেউ কেউ পরবর্তী সময়ে দীর্ঘমেয়াদি চাকরির সুযোগ পান। তবে মৌসুমি পদে নিয়োগ পেলেই স্থায়ী চাকরি নিশ্চিত নয়। বেতনের বিষয়ে অ্যামাজন জানিয়েছে, মৌসুমি কর্মীদের গড় ঘণ্টাপ্রতি আয় ২০ ডলারের বেশি হতে পারে। অন্যদিকে নিয়মিত পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন কর্মীদের গড় ঘণ্টাপ্রতি বেতন প্রায় ২৪ ডলার। গত সেপ্টেম্বরে অ্যামাজন তাদের মূল পরিচালন কার্যক্রমের কর্মীদের ন্যূনতম ঘণ্টাপ্রতি বেতন বাড়িয়ে ২০ ডলার করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত কর্মীদের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটায় নতুন ছাড়ের সুবিধাও চালু করেছে। স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনছে প্রতিষ্ঠানটি। আগামী ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সপ্তাহে অন্তত ৩০ ঘণ্টা কাজের সময় নির্ধারিত রয়েছে, এমন পূর্ণকালীন, খণ্ডকালীন ও মৌসুমি ঘণ্টাভিত্তিক কর্মীরা চাকরির প্রথম দিন থেকেই স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পাবেন। যাঁরা আগামী ১ জানুয়ারির আগে চাকরিতে যোগ দেবেন এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ করবেন, তাঁদের স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা ওই দিন থেকে কার্যকর হবে। অন্যদিকে ১ জানুয়ারি বা তার পরে যোগ দেওয়া যোগ্য কর্মীরা চাকরির প্রথম দিন থেকেই এই সুবিধা পাবেন। এর আগে খণ্ডকালীন ও মৌসুমি কর্মীদের স্বাস্থ্যবিমার যোগ্যতা অর্জন করতে কাজের সময়ের ভিত্তিতে ৯০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। অ্যামাজনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির কিছু স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনায় সপ্তাহে পাঁচ ডলার থেকে প্রিমিয়াম শুরু হয়। নির্দিষ্ট চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রে পাঁচ ডলার সহপরিশোধের ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে সব কর্মী একই খরচে স্বাস্থ্যবিমা পাবেন, এমন নয়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের ছুটির মৌসুমে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভিন্ন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ওয়ালমার্ট ও টার্গেটের মতো কিছু বড় খুচরা বিক্রেতা নতুন মৌসুমি কর্মী নিয়োগের পরিবর্তে বিদ্যমান কর্মীদের ওপর বেশি নির্ভর করছে। অন্যদিকে স্পিরিট হ্যালোইন, মাইকেলস ও ডিকস স্পোর্টিং গুডস সম্মিলিতভাবে প্রায় ৭৩ হাজার কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। চাকরিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইনডিডের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৌসুমি কর্মী নিয়োগের কার্যক্রম আগের তুলনায় বছরের আরও আগে শুরু হচ্ছে। পাশাপাশি প্রচলিত দোকানভিত্তিক চাকরির পরিবর্তে অনলাইন অর্ডার প্রস্তুত ও পণ্য সরবরাহসংক্রান্ত কাজে নিয়োগের প্রবণতা বাড়ছে। অ্যামাজনের তিন লাখ কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনাও মূলত পণ্য সংরক্ষণ ও পরিবহন কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে। তবে কোন অঙ্গরাজ্যে কতজন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য নেই। সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার
যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইনে কেনা ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহারে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অ্যামাজন বিক্রি হওয়া নিজস্ব ব্র্যান্ডের ১ লাখ ১২ হাজার ৯৩২টি বোতল ব্যথানাশক ওষুধ প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ওষুধের বড়ির রং পরিবর্তন হয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রত্যাহারের আওতায় থাকা ওষুধটির নাম অ্যামাজন বেসিক কেয়ার অতিরিক্ত শক্তির অ্যাসিটামিনোফেন। প্রতিটি বড়িতে ৫০০ মিলিগ্রাম ওষুধ রয়েছে। অ্যাসিটামিনোফেন সাধারণত ব্যথা কমাতে ও জ্বর নামাতে ব্যবহার করা হয়। তবে সব ধরনের অ্যাসিটামিনোফেন বা আমাজনের সব ব্যথানাশক ওষুধ এই প্রত্যাহারের আওতায় নেই। নির্দিষ্ট কয়েকটি ব্যাচের বোতলই চিহ্নিত করা হয়েছে। ওষুধটি তৈরি করেছে অরোবিন্দো ফার্মা ইউএসএ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। অ্যামাজন ডটকম সার্ভিসেস প্রতিষ্ঠানটি ওষুধটি বিতরণ করেছে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর স্বেচ্ছায় ওষুধ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া ২০০, ৫০০ ও ১,০০০ বড়ির বোতল এই প্রত্যাহারের আওতায় রয়েছে। ওষুধের বড়ির রং পরিবর্তন হয়ে যাওয়ার অভিযোগই প্রত্যাহারের প্রধান কারণ। বড়ির স্বাভাবিক চেহারা বদলে গেলে তা ওষুধের গুণগত সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তবে এই ঘটনার কারণে কতটা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রত্যাহারের ঝুঁকির মাত্রাও তখন পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। যাঁরা অ্যামাজন থেকে এই ওষুধ কিনেছেন, তাঁদের বোতলের গায়ে লেখা নাম, বড়ির সংখ্যা, ব্যাচ নম্বর এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ মিলিয়ে দেখা জরুরি্।২০০ বড়ির বোতলের ব্যাচ নম্বর এসিডি১২৫০৪০এ। এর মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। ৫০০ বড়ির বোতলের ক্ষেত্রে প্রত্যাহারের আওতায় রয়েছে পাঁচটি ব্যাচ: এসিডি১২৪০৩৬এ, এসিডি১২৪০৩০এ, এসিডি১২৪০৪২এ, এসিডি১২৪০৪৮বি এবং এসিডি১২৫০১০এ। এসব বোতলের মেয়াদ ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর এবং ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হবে।১,০০০ বড়ির বোতলের ব্যাচ নম্বর এসিডি১২৪০৪৮এ। এর মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩০ নভেম্বর। বোতলের ব্যাচ নম্বর প্রত্যাহারের তালিকার সঙ্গে মিলে গেলে ওষুধটি আর ব্যবহার করবেন না। কেনাকাটার হিসাব পরীক্ষা করুন এবং অ্যামাজন সঙ্গে যোগাযোগ করে ফেরত দেওয়া বা অর্থ ফেরত পাওয়ার নিয়ম জেনে নিন। প্রয়োজনে ফার্মাসিস্ট বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ওষুধের কারণে অসুস্থতা বা আঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে এর অর্থ এই নয় যে রং পরিবর্তিত হওয়া বড়ি ব্যবহার করা নিরাপদ। ওষুধের রং, গন্ধ বা চেহারায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গেলে সেটি ব্যবহার না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও এই সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক পরিবার অনলাইনে একসঙ্গে অনেক ওষুধ কিনে ঘরে রাখে। তাই বাড়িতে থাকা বোতলগুলোর নাম, ব্যাচ নম্বর ও মেয়াদ পরীক্ষা করে দেখা ভালো। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি এবং নিয়মিত ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার করেন এমন পরিবারের সদস্যদের ওষুধগুলো যাচাই করতে সহায়তা করুন।
নিউইয়র্কে সন্তান সামলানোর পাশাপাশি ঘরে বসে আয় করতে চান অনেক বাংলাদেশি মা। তাঁদের জন্য সম্ভাবনাময় একটি মাধ্যম হতে পারে অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজন। নিজের পণ্য বিক্রি থেকে শুরু করে অন্যের পণ্য প্রচারের মাধ্যমে কমিশন আয়, ঘরে বসেই এসব ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে মাত্র ৩০ দিনে ৫ হাজার ডলার আয়ের নানা গল্প। কিন্তু বাস্তবে অ্যামাজনে ব্যবসা শুরু করা কতটা সহজ, কত টাকা বিনিয়োগ প্রয়োজন এবং নতুন উদ্যোক্তাদের আয়ের সম্ভাবনাই বা কতটুকু? অ্যামাজনের মাধ্যমে ব্যবসার অন্যতম পরিচিত পদ্ধতি হলো ফুলফিলমেন্ট বাই অ্যামাজন বা এফবিএ। এই ব্যবস্থায় উদ্যোক্তা নিজে পণ্য সংগ্রহ করে অ্যামাজনের ওয়্যারহাউসে পাঠান। ক্রেতারা অর্ডার করলে পণ্য সংরক্ষণ, প্যাকিং, ডেলিভারি এবং সংশ্লিষ্ট অনেক গ্রাহকসেবার দায়িত্ব সামলায় অ্যামাজন। ফলে যাঁরা চাকরি বা সংসারের ব্যস্ততার কারণে প্রতিদিন পণ্য প্যাকিং ও শিপিং করতে পারেন না, তাঁদের জন্য এই পদ্ধতি সুবিধাজনক হতে পারে। তবে ওয়্যারহাউসে পণ্য পাঠিয়ে দিলেই ব্যবসা সফল হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। পণ্য নির্বাচন, দাম নির্ধারণ, প্রতিযোগিতা, বিজ্ঞাপন এবং গ্রাহকের চাহিদার ওপর নির্ভর করে বিক্রি। অন্য একটি পদ্ধতি হলো ফুলফিলমেন্ট বাই মার্চেন্ট বা এফবিএম। এখানে উদ্যোক্তা নিজেই পণ্য সংরক্ষণ, প্যাকিং ও ডেলিভারির ব্যবস্থা করেন। ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করতে চাইলে এই পদ্ধতি বিবেচনা করা যায়। তবে অর্ডার বাড়লে প্যাকিং, শিপিং ও রিটার্ন সামলানোর চাপও বাড়তে পারে। নতুন উদ্যোক্তাদের মধ্যে রিটেইল আরবিট্রাজ এবং অনলাইন আরবিট্রাজও পরিচিত। এসব পদ্ধতিতে তুলনামূলক কম দামে বৈধভাবে সংগ্রহ করা পণ্য অ্যামাজনে পুনরায় বিক্রির চেষ্টা করা হয়। তবে সব ব্র্যান্ড বা পণ্য অবাধে বিক্রির অনুমতি নেই। কিছু পণ্যের জন্য অ্যামাজনের অনুমোদন, গ্রহণযোগ্য সাপ্লায়ারের ইনভয়েস এবং নির্দিষ্ট নীতিমালা মেনে চলতে হয়। তৃতীয় আরেকটি সুযোগ হলো অ্যামাজন ইনফ্লুয়েন্সার প্রোগ্রাম। এটি সরাসরি পণ্য কেনাবেচার ব্যবসা থেকে আলাদা। এখানে যোগ্য কনটেন্ট ক্রিয়েটররা পণ্য সম্পর্কে ভিডিও বা অন্যান্য কনটেন্ট তৈরি করে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী কমিশন আয় করতে পারেন। তবে প্রোগ্রামে অনুমোদন পাওয়া, কনটেন্টের গ্রহণযোগ্যতা এবং ক্রেতাদের কেনাকাটার ওপর আয় নির্ভর করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু উদ্যোক্তার বছরে এক লাখ ডলার বা তার বেশি আয়ের গল্প প্রচার করা হয়। আবার সন্তানকে ঘুম পাড়িয়ে অবসর সময়ে কাজ করে কয়েক মিলিয়ন ডলারের ব্যবসা গড়ে তোলার দাবিও বিভিন্ন উদ্যোক্তা বিষয়ক কনটেন্টে দেখা যায়। কিন্তু এসব ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্পকে নতুন উদ্যোক্তাদের সাধারণ আয়ের চিত্র হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি মায়েরা অ্যামাজনে ব্যবসা করে নিয়মিত কত আয় করছেন, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কমিউনিটিভিত্তিক কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁদের মধ্যে কতজন ইতিমধ্যে এই ব্যবসায় সফল হয়েছেন বা মাসে কত আয় করছেন, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। অনলাইন ব্যবসা নিয়ে গবেষণা ও তথ্য প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠান জাঙ্গল স্কাউটের ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদনে অ্যামাজন বিক্রেতাদের আয় ও বিনিয়োগ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে। প্রতিষ্ঠানটির জরিপে অংশ নেওয়া বিক্রেতাদের ২৫ শতাংশ জানিয়েছিলেন, তাঁরা এক হাজার ডলারের কম অর্থ বিনিয়োগ করে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। আর ৬৪ শতাংশ বিক্রেতার প্রাথমিক বিনিয়োগ ছিল পাঁচ হাজার ডলারের কম। অর্থাৎ অ্যামাজনে ব্যবসা শুরু করতে প্রত্যেকের তিন হাজার থেকে দশ হাজার ডলার বিনিয়োগ বাধ্যতামূলক নয়। তবে নিজস্ব ব্র্যান্ডের পণ্য তৈরি, বড় পরিসরে ইনভেন্টরি কেনা এবং বিজ্ঞাপন দিয়ে ব্যবসা শুরু করতে চাইলে খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। একই জরিপে ৫৮ শতাংশ বিক্রেতা জানিয়েছেন, ব্যবসা শুরুর প্রথম বছরের মধ্যে তাঁরা লাভের মুখ দেখেছেন। অন্যদিকে ১৩ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁদের ব্যবসা তখনো লাভজনক হয়নি। জরিপের এই ফলাফল নতুন উদ্যোক্তাদের ভবিষ্যৎ আয়ের নিশ্চয়তা দেয় না। জাঙ্গল স্কাউটের ২০২৫ সালের গবেষণাতেও অ্যামাজন ব্যবসায় ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির জরিপে অংশ নেওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও ব্যবসার প্রতিনিধিরা পণ্য সংগ্রহ, শিপিং এবং বিজ্ঞাপনের খরচ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ফলে শুধু বিক্রির পরিমাণ বাড়ানো নয়, ব্যবসার প্রকৃত লাভ হিসাব করাও গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে ৩০ দিনে পাঁচ হাজার ডলার আয়ের প্রচারণা কতটা বাস্তবসম্মত? বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, অ্যামাজনে এত পরিমাণ বিক্রি করা সম্ভব হলেও নতুন একজন বিক্রেতার প্রথম মাসেই এই অঙ্কের লাভ হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। এখানে বিক্রি ও লাভের মধ্যে পার্থক্য বোঝা জরুরি। উদাহরণ হিসেবে, কোনো উদ্যোক্তা এক মাসে পাঁচ হাজার ডলারের পণ্য বিক্রি করলে সেই পুরো অর্থ তাঁর আয় বা লাভ নয়। পণ্য কেনার দাম, অ্যামাজনের ফি, শিপিং, বিজ্ঞাপন, রিটার্ন এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বাদ দেওয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকে, সেটিই ব্যবসার প্রকৃত লাভ। অ্যামাজনের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রেতাদের জন্য দুটি প্রধান সেলিং প্ল্যান রয়েছে। ইন্ডিভিজুয়াল প্ল্যানে প্রতি পণ্য বিক্রিতে ৯৯ সেন্ট ফি দিতে হয়। অন্যদিকে প্রফেশনাল প্ল্যানে মাসিক চার্জ ৩৯ ডলার ৯৯ সেন্ট। এর বাইরে পণ্যের ক্যাটাগরি অনুযায়ী রেফারেল ফি এবং এফবিএ ব্যবহার করলে অতিরিক্ত খরচ প্রযোজ্য হতে পারে। কোন পণ্য বিক্রি করবেন, সেটিও ব্যবসা শুরুর একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। হিজাব, বেবি প্রোডাক্ট, কিচেন গ্যাজেট কিংবা ফোন অ্যাকসেসরিজের মতো পণ্য নিয়ে উদ্যোক্তারা বাজার যাচাই করতে পারেন। তবে এসব ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতা, পণ্যের মান, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পর্কে আগে জানা জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের ব্যবহার্য পণ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়মকানুন প্রযোজ্য হতে পারে। আবার অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে অ্যামাজনের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের শর্ত থাকতে পারে। তাই শুধু কম দামে পণ্য পাওয়া যাচ্ছে বলেই বড় অর্ডার দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্যবসা নিবন্ধন ও ট্যাক্স সংক্রান্ত নিয়ম। অ্যামাজনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সেলার অ্যাকাউন্ট খুলতে এলএলসি থাকা বাধ্যতামূলক নয়। ব্যক্তিগত পরিচয়েও অ্যামাজনে সেলার হিসেবে নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে। তবে এলএলসি ছাড়া অ্যামাজন অ্যাকাউন্ট খোলা এবং নিউইয়র্কে আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা করা এক বিষয় নয়। ব্যবসার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নিবন্ধন, অনুমতি ও ট্যাক্স সংক্রান্ত দায়িত্ব আলাদা হতে পারে। নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ফাইন্যান্সের নিয়ম অনুযায়ী, বাসা থেকে করযোগ্য পণ্য বিক্রি করলেও সাধারণভাবে সেলস ট্যাক্সের জন্য নিবন্ধন প্রয়োজন হতে পারে। এমনকি শুধু অ্যামাজনের মতো মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে বিক্রি করলেও নিউইয়র্কভিত্তিক বিক্রেতাদের জন্য সার্টিফিকেট অব অথরিটি প্রয়োজন হতে পারে। অ্যামাজন নির্দিষ্ট বিক্রির ক্ষেত্রে ক্রেতার কাছ থেকে সেলস ট্যাক্স সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করলেও বিক্রেতার নিজস্ব নিবন্ধন ও ট্যাক্স রিটার্ন সংক্রান্ত দায়িত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায় না। অ্যামাজন সেলার অ্যাকাউন্ট খোলার সময় সাধারণত পরিচয়পত্র, ঠিকানার প্রমাণ, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, পেমেন্ট সংক্রান্ত তথ্য এবং প্রযোজ্য ট্যাক্স তথ্য দিতে হয়। ব্যবসার কাঠামো অনুযায়ী ইআইএন প্রয়োজন হতে পারে, তবে প্রত্যেক ব্যক্তিগত বিক্রেতার জন্য আলাদা ইআইএন বাধ্যতামূলক নয়। যাঁরা নিজস্ব ব্র্যান্ডের পণ্য বিক্রি করতে চান, তাঁদের জন্য ট্রেডমার্ক এবং অ্যামাজন ব্র্যান্ড রেজিস্ট্রি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে সাধারণভাবে পণ্য বিক্রির জন্য ট্রেডমার্ক বা ব্র্যান্ড রেজিস্ট্রি বাধ্যতামূলক নয়। ব্র্যান্ড রেজিস্ট্রিতে যোগ দেওয়ার জন্য অ্যামাজনের নির্ধারিত ট্রেডমার্ক সংক্রান্ত যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। ব্যবসা শুরু করার আগে পণ্যের বাজারদর, প্রতিযোগী বিক্রেতা, সম্ভাব্য লাভ এবং অ্যামাজনের বিভিন্ন ফি সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন নতুন উদ্যোক্তারা। এ ক্ষেত্রে জাঙ্গল স্কাউটের মতো প্রোডাক্ট রিসার্চ টুল ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশি অ্যামাজনের নিজস্ব রেভিনিউ ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির সম্ভাব্য খরচ ও আয়ের একটি হিসাবও করা সম্ভব। তবে এসব টুলের পূর্বাভাস নিশ্চিত বিক্রির নিশ্চয়তা দেয় না। নতুন পণ্যের চাহিদা প্রত্যাশার চেয়ে কম হলে ইনভেন্টরি অবিক্রীত থেকে যেতে পারে। আবার বিজ্ঞাপনের খরচ বেড়ে গেলে ভালো বিক্রির পরও লাভ কমে যেতে পারে। অনলাইন ব্যবসা নিয়ে ইউটিউব ও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ভিডিও এবং দ্রুত আয়ের প্রচারণা দেখা যায়। কোনো কোনো কনটেন্টে তিন মাসে দশ হাজার ডলার বিক্রির লক্ষ্য নির্ধারণের পরামর্শ দেওয়া হয়। এসব ভিডিও ব্যবসার প্রাথমিক ধারণা দিতে পারলেও এগুলোকে নিশ্চিত আয়ের পরিকল্পনা হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। বিশেষ করে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বেশি দামে কোর্স কেনা বা ঋণ নিয়ে বিপুল পরিমাণ পণ্য সংগ্রহের আগে ব্যবসার প্রকৃত খরচ ও ঝুঁকি যাচাই করা প্রয়োজন। নিউইয়র্কের বাংলাদেশি মায়েদের জন্য ঘরে বসে অ্যামাজনভিত্তিক ব্যবসা একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প আয়ের পথ হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা সংসার ও সন্তান সামলানোর পাশাপাশি নিজের সময় অনুযায়ী কাজ করতে চান, তাঁদের জন্য ছোট পরিসরে শুরু করে অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। তবে ব্যবসার জন্য পর্যাপ্ত সময়, প্রাথমিক বিনিয়োগ, বাজার সম্পর্কে ধারণা এবং নিয়মিত হিসাব রাখার সক্ষমতা প্রয়োজন। সন্তান ঘুমিয়ে থাকার কয়েক ঘণ্টা কাজে লাগিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব হলেও ব্যবসার দায়িত্ব কেবল ওই সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। সব মিলিয়ে অ্যামাজনে ৩০ দিনে পাঁচ হাজার ডলার আয়ের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কিন্তু এটিকে সাধারণ বা নিশ্চিত উপার্জন হিসেবে প্রচার করারও ভিত্তি নেই। বরং বাস্তবসম্মত বিনিয়োগ, সঠিক পণ্য নির্বাচন, অ্যামাজনের নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা এবং আয়ব্যয়ের হিসাব রাখাই নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে যাঁরা এ ধরনের ব্যবসা শুরু করতে আগ্রহী, তাঁদের জন্য অ্যামাজন সেলার সেন্ট্রালের নির্দেশনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী একজন সিপিএ বা ব্যবসা বিষয়ক পরামর্শকের সহায়তা নেওয়া কার্যকর হতে পারে। কারণ অনলাইন ব্যবসায় সফল হওয়ার সুযোগ থাকলেও প্রথম মাস থেকেই নিয়মিত আয় বা মুনাফা পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
অ্যামাজন প্রাইমের সাবস্ক্রিপশন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) সঙ্গে করা ২৫০ কোটি ডলারের নিষ্পত্তির আওতায় গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু হয়েছে। নতুন করে আরও কয়েক মিলিয়ন গ্রাহক এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য হয়েছেন। যোগ্য গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ফেরতের সর্বোচ্চ মোট পরিমাণ ২০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। নতুন দফার অর্থ পাঠানো শুরু হয়েছে ১ অক্টোবর থেকে এবং এর জন্য গ্রাহকদের আলাদা করে কোনো আবেদন করতে হচ্ছে না। এফটিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অ্যামাজনের সঙ্গে এই নিষ্পত্তি হয়েছিল। সংস্থাটির অভিযোগ ছিল, অ্যামাজন এমন কিছু নকশা ও প্রক্রিয়া ব্যবহার করেছে, যার মাধ্যমে গ্রাহকদের অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রাইম সদস্যপদে যুক্ত করা এবং পরে সেই সদস্যপদ বাতিল করা কঠিন করে তোলা হয়েছিল। অ্যামাজন অবশ্য এসব অভিযোগের দায় স্বীকার করেনি। নিষ্পত্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১০০ কোটি ডলার দেওয়ানি জরিমানা এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের জন্য ১৫০ কোটি ডলার ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়। এফটিসির ভাষায়, অ্যামাজনের ব্যবহৃত কিছু পদ্ধতিকে ‘ডার্ক প্যাটার্ন’ বলা হয়। অর্থাৎ ওয়েবসাইট বা অ্যাপের এমন নকশা, যা ব্যবহারকারীকে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করতে পারে। সংস্থাটির মামলায় বলা হয়েছিল, প্রাইমে যুক্ত হওয়ার সময় সদস্যপদ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ সহজে চোখে পড়ত না এবং সদস্যপদ বাতিলের প্রক্রিয়াটিও ছিল দীর্ঘ ও জটিল। এমনকি অ্যামাজনের কর্মীরা বাতিলের প্রক্রিয়াটিকে অভ্যন্তরীণভাবে ‘ইলিয়াড’ নামে অভিহিত করতেন বলে এফটিসির অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছিল। নতুন সংশোধিত নিষ্পত্তির আওতায় এবার এমন গ্রাহকরাও অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, যারা অ্যামাজন প্রাইমের ১১ থেকে ২০টি সুবিধা যেকোনো ১২ মাসের সময়ে ব্যবহার করেছেন। এর আগে অপেক্ষাকৃত কম সুবিধা ব্যবহার করা গ্রাহকদের জন্য ফেরতের ব্যবস্থা ছিল। এফটিসি জানিয়েছে, নতুন যোগ্য গ্রাহকদের অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠানো হচ্ছে এবং তাদের কোনো দাবি দাখিল, নোটিশের জবাব বা অতিরিক্ত ফরম পূরণ করতে হবে না। তবে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট গ্রাহকরাই এই অর্থ পাওয়ার যোগ্য। এফটিসির বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অ্যামাজন প্রাইম গ্রাহক হতে হবে এবং ২৩ জুন ২০১৯ থেকে ২৩ জুন ২০২৫-এর মধ্যে এফটিসির চ্যালেঞ্জ করা কোনো পদ্ধতির মাধ্যমে প্রাইম সদস্যপদে যুক্ত হয়ে থাকতে হবে। পাশাপাশি সদস্যপদ নেওয়ার পর যেকোনো ১২ মাসের সময়ে সর্বোচ্চ ২০টি প্রাইম সুবিধা ব্যবহার করা হয়ে থাকতে হবে। প্রাইম সুবিধার মধ্যে অ্যামাজনের বিভিন্ন সেবা ও সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে প্রাইমের মাধ্যমে পাওয়া দ্রুত পণ্য সরবরাহ, প্রাইম ভিডিও বা প্রাইম মিউজিকের মতো সুবিধার ব্যবহার হিসাবের মধ্যে পড়তে পারে। এফটিসির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক এক বছরের মধ্যে এসব সুবিধা যতবার ব্যবহার করেছেন, তা মোট ব্যবহারের সংখ্যা নির্ধারণে বিবেচনা করা হবে। তবে যেসব গ্রাহক নিয়মিতভাবে প্রাইমের বহু সুবিধা ব্যবহার করেছেন, এই ফেরত কর্মসূচি মূলত তাদের জন্য তৈরি হয়নি। প্রথম দফায় যোগ্য গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ৫১ ডলার পর্যন্ত ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। সংশোধিত নিষ্পত্তিতে সেই সীমা বাড়িয়ে মোট ২০০ ডলার করা হয়েছে। ফলে কেউ যদি আগের দফায় ৫১ ডলার পেয়ে থাকেন, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পরবর্তী সময়ে আরও সর্বোচ্চ ১৪৯ ডলার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এফটিসি জানিয়েছে, গ্রাহকরা মোট কত অর্থ পাবেন তা তাদের প্রাইম সদস্যপদ বাবদ দেওয়া অর্থ এবং নিষ্পত্তির আওতায় তাদের যোগ্যতার ওপর নির্ভর করবে। অর্থ ফেরতের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনো ফি নেওয়া হবে না। যোগ্য গ্রাহকদের অর্থ ইলেকট্রনিক পেমেন্টের মাধ্যমে পেপ্যাল বা ভেনমোতে পাঠানো হবে, অথবা ডাকযোগে চেক পাঠানো হবে। এফটিসি জানিয়েছে, অর্থ পাওয়ার জন্য কাউকে আগে থেকে টাকা দেওয়া, ব্যক্তিগত তথ্য সরবরাহ করা বা কোনো তৃতীয় পক্ষকে অর্থের বিনিময়ে ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা করতে বলা হলে সতর্ক থাকতে হবে। এ ধরনের যোগাযোগ প্রতারণার চেষ্টা হতে পারে। এফটিসি আরও জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত অ্যামাজন ইতোমধ্যে যোগ্য প্রাইম গ্রাহকদের ৮৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি ফেরত দিয়েছে। নতুন সংশোধিত ব্যবস্থার আওতায় স্বয়ংক্রিয় অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত চলবে। অর্থাৎ এখনো যারা অর্থ পাননি, তাদের ক্ষেত্রে যোগ্যতা থাকলে পরবর্তী সময়েও অর্থ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি আগের দফায় অর্থ পাওয়া কিছু গ্রাহকের জন্য আরও অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এফটিসির সংশোধিত আদেশ অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে গ্রাহকদের গ্রহণ করা অর্থ নির্ধারিত সীমায় না পৌঁছালে অতিরিক্ত অর্থ বিতরণ করা হবে। আগের অর্থ গ্রহণ করা যোগ্য গ্রাহকরা সর্বোচ্চ আরও ১৪৯ ডলার পেতে পারেন, যার ফলে তাদের মোট ফেরত ২০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার দফা ২০২৭ সালের এপ্রিলের মধ্যে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে অর্থ ফেরতের নামে প্রতারণা নিয়ে সতর্ক করেছে এফটিসি। সংস্থাটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা এই অর্থ ফেরতের বিষয়ে গ্রাহকদের ফোন করে অর্থ চাইবে না। অ্যামাজনও ফেরত পাওয়ার জন্য কোনো গ্রাহকের কাছে টাকা চাইবে না। তাই কেউ যদি নিজেকে এফটিসি বা অ্যামাজনের প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে অর্থ দাবি করে কিংবা ফেরত নিশ্চিত করার বিনিময়ে ফি চায়, তার সঙ্গে লেনদেন না করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। সূত্র: ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি)
মাত্র ১৬ বছর বয়সে ৫০০ ডলার পুঁজি নিয়ে অনলাইনে পণ্য পুনর্বিক্রির ব্যবসা শুরু করেন যুক্তরাষ্ট্রের ইথান আলেকজান্ডার। কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁর মাসিক বিক্রি ২৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায় এবং পরিবারের গ্যারেজ পরিণত হয় পণ্যের গুদামে। তবে এখানে ২৫ হাজার ডলার তাঁর নিট লাভ নয়; এটি এক মাসে পণ্য বিক্রি থেকে আসা মোট অর্থ বা রেভিনিউ। গত বছর তাঁর মোট বিক্রিও প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার ডলারে পৌঁছেছিল। বিজনেস ইনসাইডারকে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে ইথান বলেন, ২০২৫ সালে হাইস্কুলের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় অনলাইনে পণ্য কিনে বেশি দামে বিক্রির ধারণাটি তাঁর মাথায় আসে। প্রতি বছর প্রপিতামহের রেখে যাওয়া একটি বিনিয়োগ হিসাব থেকে তিনি ৫০০ ডলার পেতেন। সেই অর্থ দিয়েই শুরু হয় তাঁর ব্যবসার পথচলা। ইনস্টাগ্রামে অনলাইন রিসেলিং নিয়ে একটি ভিডিও দেখার পর বিষয়টিতে আগ্রহী হন ইথান। হাতে থাকা ৫০০ ডলার দিয়ে একজনের কাছ থেকে অনলাইনে পণ্য পুনর্বিক্রির কৌশল শেখেন। খুব বেশি গবেষণা ছাড়াই ব্যবসায় নেমে পড়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি। শুরুতেই অপ্রত্যাশিত সাড়া পান ইথান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম মাসেই প্রায় ১০ হাজার ডলারের পণ্য বিক্রি করেন। কয়েক মাস পর আগস্টে মাসিক বিক্রি ২৫ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়। তাঁর ব্যবসার কৌশল ছিল প্রতিটি পণ্যে তুলনামূলক কম লাভ রেখে বেশি পরিমাণে বিক্রি করা। সাধারণত একটি পণ্যে ২ থেকে ৪ ডলার লাভ রাখতেন। তাই বড় অঙ্কের বিক্রি হলেও পুরো অর্থ তাঁর ব্যক্তিগত আয় বা লাভ ছিল না। ইথানের প্রথম বিক্রি করা পণ্য ছিল লন্ড্রি ডিটারজেন্ট। ওয়ালমার্ট থেকে কিনে অ্যামাজনে প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি দামে সেটি বিক্রি করতে পারতেন বলে জানিয়েছেন তিনি। পরে লাভজনক পণ্য খুঁজতে অ্যামাজন বিক্রেতাদের ব্যবহৃত সফটওয়্যারের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও ব্যবহার করেন। ব্যবসা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বাড়ির গ্যারেজ কার্যত গুদামে পরিণত হয়। গ্রেটার কানসাস সিটি এলাকার বিভিন্ন ওয়ালমার্টে নিজের ট্রাক নিয়ে ঘুরে বিপুল পরিমাণ পণ্য কিনতেন। দিনের বেলা পণ্য সংগ্রহের পর গভীর রাত পর্যন্ত সেগুলো প্যাক করতেন এবং পরদিন পোস্ট অফিসে পাঠাতেন। ব্যবসার পরিধি একপর্যায়ে এতটাই বেড়ে যায় যে কোনো কোনো মাসে শুধু পণ্য কিনতেই প্রায় ৪৫ হাজার ডলার খরচ করতেন ইথান। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় প্রথম দিকে মায়ের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতেন। বড় অঙ্কের লেনদেন বারবার সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় পরে নগদ অর্থ ব্যবহার করতে হয় তাঁকে। কাজের চাপ সামলাতে কয়েকজনকে পণ্য প্যাক করার জন্য নিয়োগও দিয়েছিলেন। তবে একজন ভুল পণ্যে ভুল লেবেল লাগিয়ে দেওয়ায় তাঁর কয়েক হাজার ডলার ক্ষতি হয়। ব্যবসার মাধ্যমে লাভের পাশাপাশি কর্মী ব্যবস্থাপনা ও ভুল সিদ্ধান্তের আর্থিক ঝুঁকিও শেখেন তিনি। এই সাফল্যের জন্য ব্যক্তিগত জীবনেও মূল্য দিতে হয়েছে ইথানকে। গ্রীষ্মের ছুটিতে বন্ধুদের সঙ্গে খুব বেশি সময় কাটাতে পারেননি। তাঁর ভাষায়, নিজের বাড়িতেই কার্যত একটি গুদামের চাকরি করছিলেন তিনি। ইথানের মা নিজেও স্বাস্থ্য ও সুস্থতাবিষয়ক ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং ব্যবসায়িক প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। ব্যবসা পরিচালনার বিভিন্ন পর্যায়ে মায়ের পরামর্শ তাঁর কাজে এসেছে বলে জানিয়েছেন ইথান। তবে দ্রুত বড় হওয়া ব্যবসা শেষ পর্যন্ত পড়াশোনার ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর স্কুলের ফলাফল খারাপ হতে থাকায় ব্যবসা সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন। ইথানের মতে, অ্যামাজনে বিক্রির গতি ধরে রাখতে নিয়মিত নতুন পণ্য সংগ্রহ ও বিক্রি চালিয়ে যেতে হতো। ফলে ব্যবসাটি শুধু অল্প সময় দিয়ে ছোট পরিসরে চালিয়ে যাওয়া তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। ব্যবসা থেকে পাওয়া অর্থের কিছু অংশ পোশাক ও মেটার স্মার্ট গ্লাসের মতো ব্যক্তিগত জিনিস কিনতে ব্যয় করেছেন তিনি। তবে বড় একটি অংশ বিনিয়োগ করেছেন বলে জানিয়েছেন। বর্তমানে ইথানের বয়স ১৮ বছর। তিনি হাইস্কুলের শেষ বর্ষে প্রবেশ করছেন এবং কলেজে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। তাঁর বাবা-মা আগে থেকেই তাঁর উচ্চশিক্ষার জন্য একটি কলেজ সেভিংস অ্যাকাউন্ট তৈরি করে রেখেছেন। নিজের ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতার পরও উচ্চশিক্ষা বাদ দিতে চান না ইথান। তবে ব্যবসায়িক শিক্ষা নিতে গিয়ে বাস্তব ব্যবসা পরিচালনা করে ইতোমধ্যে যা শিখেছেন, তার চেয়ে কতটা নতুন কিছু শিখতে পারবেন, সেটি নিয়ে তাঁর কৌতূহল রয়েছে। ভবিষ্যৎ পেশা নিয়ে অবশ্য তিনি নিশ্চিত। আবারও উদ্যোক্তা হতে চান ইথান। ১৬ বছর বয়সে ৫০০ ডলার দিয়ে শুরু করা উদ্যোগটি তাঁকে বিক্রি, পণ্য নির্বাচন, কর্মী ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক ঝুঁকির বাস্তব অভিজ্ঞতা দিয়েছে। তাঁর গল্পে ২৫ হাজার ডলারের মাসিক অঙ্কটি সবচেয়ে বেশি নজর কাড়লেও সেটি নিট লাভের হিসাব নয়। এটি মাসিক মোট বিক্রি। পণ্য কেনা, কর্মী ও ব্যবসার অন্যান্য খরচ বাদ দেওয়ার পর তাঁর প্রকৃত লাভ কত ছিল, বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদনে সেই অঙ্ক প্রকাশ করা হয়নি। সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অ্যামাজনের হয়ে পণ্য পরিবহনকারী একটি কার্গো বিমান রানওয়ে ছাড়িয়ে যাওয়ার আগে পাইলটদের বাতাসের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানানো হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের প্রাথমিক তদন্তে এ তথ্য উঠে এসেছে। ৬ সেপ্টেম্বরের ওই দুর্ঘটনায় মাটিতে থাকা পাঁচজন নিহত এবং তিনজন গুরুতর আহত হন। বিমানের দুই পাইলট সামান্য আহত হন। তবে তদন্তকারীরা এখনো দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণ করেননি। দুর্ঘটনায় জড়িত উড়োজাহাজটি ছিল বোয়িং ৭৬৭-৩৩এ মডেলের কার্গো বিমান। ২১ এয়ারের পরিচালনায় বিমানটি অ্যামাজনের হয়ে পণ্য পরিবহন করছিল। এটি পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মিয়ামির উদ্দেশে আসছিল। মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩০ নম্বর রানওয়েতে অবতরণের পর বিমানটি রানওয়ের শেষ প্রান্ত অতিক্রম করে মাটিতে থাকা দুটি যাত্রীবাহী যানবাহনে আঘাত করে। দুর্ঘটনার পর বিমানের ডান পাখায় আগুন ধরে যায় এবং উড়োজাহাজটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রাথমিক তদন্তে বাতাসের তথ্য না পাওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। বিমানটিকে অবতরণের অনুমতি দেওয়ার প্রায় চার মিনিট আগে অন্য একটি বিমান বাতাসের তথ্য জানতে চেয়েছিল। তখন নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বাতাস ১৯০ ডিগ্রি দিক থেকে ১৯ নট বেগে বইছে এবং দমকা বাতাসের গতি ২২ নট পর্যন্ত উঠছে। কিন্তু দুর্ঘটনায় পড়া কার্গো বিমানটি তখন ওই বেতার তরঙ্গে ছিল না। পরে বিমানটিকে অবতরণের অনুমতি দেওয়ার সময় পাইলটদের সেই বাতাসের তথ্য জানানো হয়নি। জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড জানিয়েছে, পেছন দিকের বাতাসের প্রভাব থাকা অবস্থায় কোনো রানওয়েতে বিমানকে অবতরণের অনুমতি দেওয়ার সময় নিয়ন্ত্রকের বাতাসের দিক ও গতি জানানো প্রয়োজন। কিন্তু এই বিমানটির অবতরণের অনুমতির সঙ্গে সেই তথ্য দেওয়া হয়নি। তবে সংস্থাটি এখনো বলেনি যে বাতাসের তথ্য না পাওয়ার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টি চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বাতাসের পাশাপাশি অবতরণের সময় বিমানটির গতিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ককপিটের রেকর্ড অনুযায়ী, অবতরণের শেষ পর্যায়ে একজন পাইলট ফ্ল্যাপ ২০ ডিগ্রিতে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর অন্য পাইলট সতর্ক করেন যে বিমানটি অতিরিক্ত গতিতে এগোচ্ছে। এরপরও বিমানের অতিরিক্ত গতি নিয়ে আরও কয়েকবার মন্তব্য করা হয়। বিমানটি রানওয়ের শুরু থেকে প্রায় ৩ হাজার ৭৫০ ফুট সামনে গিয়ে প্রথমবার মাটি স্পর্শ করে। জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নাকের চাকা ও ডান পাশের প্রধান চাকা মাটি স্পর্শ করার সময় বিমানটির মাটির ওপর গতি ছিল প্রায় ১৫৮ নট। এরপর ১৪৬ নট গতিতে ব্রেক প্রয়োগ করা হয়। বাম পাশের প্রধান চাকা মাটি স্পর্শ করে প্রায় ১৩৪ নট গতিতে। রেকর্ড করা তথ্যে আরও দেখা যায়, বিমানটির গতি যখন প্রায় ১২০ নটে নেমে আসে, তখন ব্রেক ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ইঞ্জিনের শক্তি এমন পর্যায়ে বাড়ানো হয়, যা আবার আকাশে ওঠার চেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কয়েক সেকেন্ড পর ইঞ্জিনের শক্তি আবার কমিয়ে ব্রেক প্রয়োগ করা হয়। তখন বিমানটির গতি ছিল প্রায় ১১৭ নট। তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, রেকর্ড করা তথ্যে অবতরণের সময় বিমানের স্পিড ব্রেক কিংবা ইঞ্জিনের থ্রাস্ট রিভার্সার মোতায়েন হওয়ার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ব্রেক প্রয়োগ করা হয়েছিল। রেকর্ডিং শেষ হওয়ার সময় বিমানটির সর্বশেষ ধারণ করা গতি ছিল ৬৫ নট। রানওয়ে ছাড়িয়ে যাওয়ার পর বিমানটি দুটি যানবাহনে আঘাত করে। এতে মাটিতে থাকা পাঁচজনের মৃত্যু হয় এবং তিনজন গুরুতর আহত হন। বিমানে থাকা দুই ক্রু সদস্য সামান্য আহত হন। জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড দুর্ঘটনার পরদিন ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ এবং দুর্ঘটনার বিভিন্ন দিক তদন্ত শুরু করে। তদন্তে বিমানটির ককপিটের কথোপকথন ও উড্ডয়নসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণকারী দুটি যন্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। ককপিটের কথোপকথন সংরক্ষণকারী যন্ত্রে দুই ঘণ্টার বেশি সময়ের ভালো মানের শব্দ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে উড্ডয়নসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণকারী যন্ত্রে প্রায় ৫৪ ঘণ্টার তথ্য এবং চার শতাধিক তথ্যসূচক সংরক্ষিত ছিল। এসব তথ্য দুর্ঘটনার শেষ মুহূর্তের ঘটনাপ্রবাহ পুনর্গঠনে ব্যবহার করছেন তদন্তকারীরা। দুর্ঘটনার পর অ্যামাজন ২১ এয়ারের ব্যবহার স্থগিত করেছে। ২১ এয়ার জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের প্রাথমিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করছে এবং তদন্তে যেসব তথ্য প্রতিষ্ঠিত হবে, তার ভিত্তিতে নিরাপত্তা উন্নত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। অ্যামাজনও চলমান তদন্তে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে। তবে জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড স্পষ্ট করেছে, এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য প্রাথমিক এবং তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ নির্ধারণ করা হয় না। চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণের জন্য বিমানটির কার্যক্ষমতা, পাইলটদের সিদ্ধান্ত, বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, আবহাওয়া এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয় পরীক্ষা করা হচ্ছে। ফলে বাতাসের তথ্য না দেওয়া, অবতরণের সময় অতিরিক্ত গতি, রানওয়ের অনেকটা সামনে গিয়ে মাটি স্পর্শ করা কিংবা শেষ মুহূর্তে আবার আকাশে ওঠার চেষ্টা - কোনো একটিকেই এখন দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ বলা যাচ্ছে না। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হওয়ার পরই এসব ঘটনার সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণের সম্পর্ক নির্ধারণ করবে জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড।
যুক্তরাষ্ট্রে নিজের গাড়ি দিয়ে বাড়তি আয়ের একটি বিকল্প অ্যামাজন ফ্লেক্স। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচিতে অধিকাংশ ড্রাইভার ঘণ্টায় ১৮ থেকে ২৫ ডলার আয় করেন। তবে এলাকা, ডেলিভারিতে লাগা সময় ও অন্যান্য বিষয়ের ওপর প্রকৃত আয় নির্ভর করে। উবার ছেড়ে প্যাকেজ ডেলিভারি করলেই আয় দ্বিগুণ হবে, এমন নিশ্চয়তা এই তথ্য দেয় না। অ্যামাজন ফ্লেক্সে ড্রাইভাররা স্বাধীন কন্ট্রাক্টর হিসেবে নিজের গাড়িতে প্যাকেজ পৌঁছে দেন। অ্যাপে নির্দিষ্ট সময়ের কাজ বেছে নিতে হয়, যাকে বলা হয় ডেলিভারি ব্লক। অ্যামাজনের সাধারণ প্যাকেজ ডেলিভারির ব্লক সাধারণত তিন থেকে ছয় ঘণ্টার। ব্লক গ্রহণের আগেই নির্ধারিত পারিশ্রমিক জানা যায়। এই ব্যবস্থায় সুবিধা হলো, ড্রাইভার নিজের সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে উপলব্ধ কাজ বেছে নিতে পারেন। অ্যামাজনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ব্লকের সময়, প্যাকেজের সংখ্যা, গন্তব্য এবং ট্রাফিকসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় ডেলিভারি রুট তৈরি করা হয়। তবে নিজের সুবিধামতো সময় বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকলেও সেই সময়ে কাজ পাওয়া নির্ভর করে অ্যাপে ব্লকের প্রাপ্যতার ওপর। ঘণ্টাপ্রতি পারিশ্রমিক আর খরচ বাদে হাতে থাকা অর্থ এক নয়। প্যাকেজ ডেলিভারির আয় হিসাব করতে গ্যাস, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, ইন্স্যুরেন্স এবং প্রযোজ্য অন্যান্য খরচ বিবেচনায় নিতে হবে। প্যাকেজ সংগ্রহের জায়গায় যাওয়া, ডেলিভারি শেষ করা এবং ফেরার মোট সময়ও হিসাবের অংশ। একই পারিশ্রমিকের ব্লকে দূরত্ব ও সময় বেশি লাগলে কার্যকর আয় কমে যেতে পারে। উবারের সঙ্গে তুলনার ক্ষেত্রেও একই হিসাব ব্যবহার করা জরুরি। একটির খরচ বাদ দেওয়ার আগের আয় এবং অন্যটির খরচ বাদে হাতে থাকা অর্থ তুলনা করলে লাভের প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায় না। জাতীয় পর্যায়ের গড় আয় দিয়েও নিউইয়র্কের কোনো নির্দিষ্ট ড্রাইভারের আয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। গিগ কাজের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান গ্রিডওয়াইজের ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনের প্রকাশ্য সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে প্রধান রাইডশেয়ার ও ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মগুলোতে ঘণ্টাপ্রতি আয় মোটামুটি স্থির ছিল। কোনো কোনো প্ল্যাটফর্মে সামান্য বৃদ্ধি হলেও অন্যগুলোতে কিছুটা কমেছে। ফলে শুধু কাজের ধরন বদলালেই বড় অঙ্কের আয় বাড়বে, এমন সিদ্ধান্তের ভিত্তি নেই। নিউইয়র্কের ড্রাইভারদের জন্য ইন্স্যুরেন্সের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অ্যামাজনের নির্দেশনা অনুযায়ী, অন্য রাজ্যে সক্রিয় ডেলিভারি ব্লকের সময় কোম্পানির দেওয়া যে কমার্শিয়াল অটো ইন্স্যুরেন্স প্রযোজ্য, তা নিউইয়র্কে প্রযোজ্য নয়। সেখানে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কভারেজ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স লাগতে পারে। কাজ শুরুর আগে নিজের ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে কভারেজ যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে অ্যামাজন। আবেদনের জন্য বয়স অন্তত ২১ বছর, বৈধ যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাইভার লাইসেন্স, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর, উপযুক্ত গাড়ি, প্রয়োজনীয় অটো ইন্স্যুরেন্স এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হয়। সাধারণ প্যাকেজ ডেলিভারির জন্য চার দরজার মাঝারি আকারের সেডান বা বড় গাড়ি প্রয়োজন। আবেদনকারীকে ব্যাকগ্রাউন্ড চেকও পাস করতে হয়। অ্যামাজন ফ্লেক্স অ্যাপের মাধ্যমে নিজের এলাকায় সুযোগ আছে কি না দেখা যায়। নতুন ড্রাইভার নেওয়া বন্ধ থাকলে আগ্রহীদের অপেক্ষার তালিকায় থাকতে হতে পারে। তাই যোগ্যতা পূরণ করলেই সঙ্গে সঙ্গে কাজ পাওয়া নিশ্চিত নয়। নিজের গাড়ি দিয়ে আয় করতে চাওয়া ব্যক্তিদের জন্য প্যাকেজ ডেলিভারি একটি বিবেচনাযোগ্য বিকল্প। তবে উবার ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কয়েকটি ব্লকের মোট পারিশ্রমিক, যাতায়াতের সময়, মাইলেজ ও খরচ মিলিয়ে হিসাব করলেই বোঝা যাবে, নিজের এলাকায় কোন কাজটি বেশি লাভজনক।
নিউইয়র্কের গ্রিনউইচ ভিলেজের একটি অভিজাত অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের লবিতে প্রস্রাব করার অভিযোগ উঠেছে এক অ্যামাজন ডেলিভারি কর্মীর বিরুদ্ধে। ভবনের বাসিন্দার রিং ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে ঘটনাটি ধরা পড়ে। এ ঘটনায় ওই বাসিন্দার বেশ কিছু ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি গত ২৬ আগস্ট বিকেল ৩টার দিকে ব্লিকার স্ট্রিট ও কারমাইন অ্যাভিনিউয়ের কাছাকাছি একটি চারতলা অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ঘটে। ডনি নামে ৩০ বছর বয়সী এক বাসিন্দা ঘটনার শিকার হয়েছেন। নিরাপত্তার কারণে তার পুরো নাম প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যামাজনের হালকা নীল ও ধূসর রঙের পোশাক পরা এক ডেলিভারি কর্মী ভবনের প্রবেশপথে এসে ইলেকট্রনিক দরজার ঘণ্টা বাজান। ডনি তাকে ভবনের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেন। তখন ওই কর্মীর আচরণে কোনো অস্বাভাবিকতা তিনি লক্ষ্য করেননি। পরে রিং ক্যামেরার ভিডিও দেখার সময় তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। ভিডিওতে দেখা যায়, ডেলিভারি কর্মী লবিতে ঢোকার পর চারপাশে তাকান। এরপর তিনি প্যান্ট খুলে ভবনের করিডোর ও সেখানে থাকা কয়েকটি আসবাবের ওপর প্রস্রাব করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ডনি নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ওই ব্যক্তি এমনভাবে ভবনের ভেতরের দিকে চলে যান, যেন তিনি এর আগেও সেখানে বহুবার এসেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, করিডোরে রাখা জুতা, একটি চেয়ার ও একটি টেবিল ওই তরলের সংস্পর্শে আসে। ঘটনার পর ডনি অ্যামাজনের কাছে বিষয়টি জানান। তার দাবি, প্রতিষ্ঠানটি ঘটনাটিকে অত্যন্ত খারাপ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করে এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাকে ৫০ ডলারের একটি উপহার কার্ড দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। তবে ডনি সেটি গ্রহণ করেননি। ডনির দাবি, প্রস্রাবে ভিজে যাওয়ার কারণে জুতা, চেয়ার ও টেবিলসহ কয়েকটি জিনিস তিনি আর ব্যবহার করতে পারেননি এবং শেষ পর্যন্ত সেগুলো ফেলে দিতে হয়েছে। ঘটনাটির পর ভবনে কোনো ডেলিভারি কর্মী প্রবেশ করলে তিনি এখন ক্যামেরায় নজর রাখেন বলেও জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভবনে তার পাঁচ বছর বয়সী ভাগনেও নিয়মিত আসে। ডনির আশঙ্কা, ওই সময় তার পরিবারের কেউ বা অতিথি বাইরে বের হলে তাদের সামনে এমন ঘটনা ঘটতে পারত। ঘটনাটি নিয়ে আইনগত পদক্ষেপের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। আইনজীবী ক্যারি লন্ডন জানিয়েছেন, অ্যামাজনের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের বিভিন্ন পথ তারা খতিয়ে দেখছেন। তবে শুধু আর্থিক ক্ষতিপূরণ নয়, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে অ্যামাজনের নীতিতেও পরিবর্তন চান তারা। অ্যামাজন অবশ্য ওই কর্মীর কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের দূরত্ব বজায় রেখেছে। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র লেই অ্যান গুলেট এক বিবৃতিতে বলেন, ঘটনাটি অ্যামাজনের ডেলিভারি সার্ভিস পার্টনারদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ওই ব্যক্তি অ্যামাজনের সরাসরি কর্মী ছিলেন না। তিনি অ্যামাজনের একটি স্বাধীন ডেলিভারি সার্ভিস পার্টনার প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করতেন। অ্যামাজন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আর অ্যামাজনের প্যাকেজ সরবরাহ করছেন না। তবে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। অ্যামাজনের ডেলিভারি ব্যবস্থায় চালকদের জন্য বিশ্রাম ও শৌচাগার ব্যবহারের সুযোগ থাকার কথাও প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। ডেলিভারি অ্যাপের মাধ্যমে চালকদের কাছাকাছি শৌচাগারের অবস্থান দেখানো হয়। পাশাপাশি তাদের সময়সূচিতে ৩০ মিনিটের মধ্যাহ্নভোজের বিরতি এবং দুটি ১৫ মিনিটের বিরতির ব্যবস্থা রয়েছে। ঘটনার বিষয়ে কোনো গ্রেপ্তার, পুলিশি তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ভিডিওতে দেখা ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগতভাবে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্যও প্রকাশ্যে নেই। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রে অ্যামাজনের যোগ্য পূর্ণকালীন মূল কার্যক্রমের কর্মীদের ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম বেতন ১ ডলার বাড়িয়ে ২০ ডলার করা হচ্ছে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন বেতন কার্যকর হবে। একই সঙ্গে কর্মীদের জন্য নতুন ব্যাংকিং সুবিধা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটায় ছাড় চালু করছে কোম্পানিটি। অ্যামাজন জানিয়েছে, বেতন বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রে ১৫০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করা হবে। নতুন বেতন কাঠামো মূলত অ্যামাজনের পূর্ণকালীন মূল কার্যক্রমের কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। এসব পদের অনেকগুলোর জন্য আগের কাজের অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক নয়। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মীদের গড় ঘণ্টাপ্রতি বেতন প্রায় ২৪ ডলারে পৌঁছাবে। বেতনের পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মী সুবিধার আর্থিক মূল্য হিসাব করলে গড় মোট পারিশ্রমিক ঘণ্টায় ৩২ ডলারের বেশি হবে। বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মীদের জন্য ‘ডে ওয়ান ফাইন্যান্সিয়াল’ নামে নতুন ব্যাংকিং সুবিধা চালু করছে অ্যামাজন। এর মাধ্যমে যোগ্য কর্মী, তাঁদের স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানরা ফার্স্ট টেক ফেডারেল ক্রেডিট ইউনিয়নের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংকিং সেবা ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। বিশেষ সুবিধা হলো, যোগ্য কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অ্যামাজনে চাকরি শেষ হয়ে যাওয়ার পরও এই ব্যাংকিং সুবিধা আজীবন ব্যবহার করতে পারবেন। নতুন সুবিধার আওতায় সাধারণ হিসাব ও সঞ্চয়ী হিসাবে কোনো মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ ফি বা অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনজনিত ফি থাকবে না। হিসাব খোলার জন্য আগের ঋণ বা ক্রেডিট ব্যবহারের ইতিহাসও প্রয়োজন হবে না। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে হাজারো অতিরিক্ত ফি ছাড়া এটিএম ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে অন্য ব্যাংকের এটিএম ব্যবহারের ফিও ফেরত দেওয়া হবে। মোবাইল ও অনলাইন ব্যাংকিং, সরাসরি বেতন জমা এবং ক্রেডিট ইতিহাস তৈরি ও উন্নত করার বিভিন্ন সুবিধাও থাকবে। অ্যামাজন কর্মীদের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও খাদ্যপণ্য কেনাকাটায় নতুন ছাড়ও চালু করছে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সব অ্যামাজন কর্মী অ্যামাজন ডটকম ও হোল ফুডস মার্কেটের অনলাইন কেনাকাটায় যোগ্য খাদ্যপণ্য ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যে কোনো সর্বোচ্চ সীমা ছাড়াই ১০ শতাংশ ছাড় পাবেন। হোল ফুডসের দোকানে সরাসরি কেনাকাটার ক্ষেত্রে এই ছাড় হবে ২০ শতাংশ। গরম খাবারের কাউন্টার ও সালাদ কাউন্টারও এই ছাড়ের আওতায় থাকবে। কোম্পানির নিজস্ব অ্যামাজন হিসাবে কেনাকাটা করলেই কর্মীরা এই ছাড় ব্যবহার করতে পারবেন। যাঁরা আগে থেকেই অ্যামাজনের প্রাইম সদস্য, তাঁরা নির্দিষ্ট বিদ্যমান ছাড়ের সঙ্গে নতুন কর্মী ছাড়ও একসঙ্গে ব্যবহার করতে পারবেন। এর ফলে কর্মীদের দৈনন্দিন খাদ্য ও প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। নতুন সুবিধাগুলো অ্যামাজনের বিদ্যমান কর্মী সুবিধার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। কোম্পানির নিয়মিত পূর্ণকালীন কর্মীরা চাকরির প্রথম দিন থেকেই স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা পান। অ্যামাজনের তথ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা পরিকল্পনায় কর্মীদের নিজস্ব খরচ সপ্তাহে ৫ ডলার থেকে শুরু হতে পারে। কিছু পরিকল্পনায় চিকিৎসাসেবার জন্য ৫ ডলারের সহভাগী অর্থও রয়েছে। যোগ্য কর্মীরা বিনা খরচে প্রাইম সদস্যপদ এবং ‘ক্যারিয়ার চয়েস’ কর্মসূচির মাধ্যমে বছরে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ২৫০ ডলার পর্যন্ত আগাম শিক্ষাব্যয়ের সুবিধা পেতে পারেন। ‘ক্যারিয়ার চয়েস’ কর্মসূচির আওতায় ৪৭৫টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশীদার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কর্মীরা বিভিন্ন ডিগ্রি ও সনদ অর্জনের সুযোগ পান। এর পাশাপাশি অবসরকালীন সঞ্চয় কর্মসূচিতে কোম্পানির অবদান, বেতনসহ সন্তানের জন্ম বা দেখাশোনার ছুটি, নমনীয় ছুটি এবং মানসিক স্বাস্থ্যসহ অন্যান্য কর্মী সুবিধাও রয়েছে। অ্যামাজনের বিশ্বব্যাপী কার্যক্রম বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট উডিট মাদান জানিয়েছেন, কর্মীদের ক্ষেত্রে শুধু বেতন নয়, পুরো সুবিধা প্যাকেজকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে কোম্পানির ন্যূনতম প্রারম্ভিক বেতন ১৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এবারের নতুন বেতন বৃদ্ধি সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের বড় খুচরা ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিগুলোর মধ্যে কর্মীদের বেতন নিয়ে প্রতিযোগিতাও রয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ালমার্টে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের ন্যূনতম ঘণ্টাপ্রতি বেতন ১৪ ডলার এবং টার্গেটে ১৫ ডলার। অন্যদিকে কস্টকো গত বছর প্রারম্ভিক পর্যায়ের কর্মীদের ন্যূনতম ঘণ্টাপ্রতি বেতন ২০ ডলারে উন্নীত করেছিল। অ্যামাজনের নতুন সিদ্ধান্তে পূর্ণকালীন মূল কার্যক্রমের কর্মীদের ন্যূনতম বেতন ২০ ডলারে পৌঁছাচ্ছে। এর পাশাপাশি নতুন ব্যাংকিং সুবিধা এবং খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ছাড় যুক্ত হওয়ায় কর্মীদের সামগ্রিক আর্থিক সুবিধাও বাড়ছে। তবে কোন পদে কত বেতন এবং কোন সুবিধা প্রযোজ্য হবে, তা কর্মীর পদ, যোগ্যতা ও কোম্পানির নির্ধারিত শর্তের ওপর নির্ভর করবে।
২৭ বছর বয়সেই বছরে প্রায় ৪৬ লাখ রুপির চাকরি ছেড়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন ভারতের লখনউয়ের তরুণ শারদেন্দু তিওয়ারি। অ্যামাজনে ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি বৈশ্বিক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসেও কাজের সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তারপরও ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণে করপোরেট চাকরি ছেড়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শারদেন্দু তিওয়ারি এখন গয়ার অফিসার্স ট্রেনিং একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ শেষ করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে কমিশন পেয়েছেন। বড় অঙ্কের বেতন ও ভালো ক্যারিয়ার ছেড়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে তার গল্পটি আলোচনায় এসেছে। লখনউতে বেড়ে ওঠা তিওয়ারি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। পরে চণ্ডীগড়ের পিইসি থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে প্রযুক্তি খাতে ক্যারিয়ার শুরু করেন। অ্যামাজনে ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার সময় তার ক্যারিয়ার দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল। পরে এয়ারবাসেও সুযোগ পান তিনি। তবে প্রযুক্তি খাতে সফল ক্যারিয়ার গড়ে উঠলেও সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা তার কখনো হারিয়ে যায়নি। ছোটবেলা থেকেই সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি তার আগ্রহ ছিল। এর পেছনে বড় ভূমিকা ছিল তার বাবা অনারারি ক্যাপ্টেন রাজ কুমার তিওয়ারির। তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর আর্মি সার্ভিস কোরে ৩৬ বছর দায়িত্ব পালন করে অবসর নেন। বাবার সামরিক জীবনের প্রভাবেই তিওয়ারির মধ্যেও সেনাবাহিনীতে কাজ করার আগ্রহ তৈরি হয়। চাকরি ও আর্থিকভাবে ভালো অবস্থানে পৌঁছানোর পরও তিনি সেই স্বপ্ন থেকে সরে আসেননি। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা হওয়ার বাছাই প্রক্রিয়ায় কয়েকবার ব্যর্থ হলেও তিনি চেষ্টা চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত টেকনিক্যাল এন্ট্রি রুটে গয়ার অফিসার্স ট্রেনিং একাডেমিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পান তিওয়ারি। প্রযুক্তি খাতে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সেনাবাহিনীতে নতুন ক্যারিয়ার শুরু করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। প্রশিক্ষণের সময়ও তার পারফরম্যান্স ছিল উল্লেখযোগ্য। একাধিক ক্যাডেট দায়িত্বের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিনিয়র আন্ডার অফিসার পদে দায়িত্ব পান তিনি, যা একাডেমিতে ক্যাডেটদের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রায় ৪৬ লাখ রুপির চাকরি ছেড়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না। তবে তিওয়ারির কাছে অর্থনৈতিক সুবিধার চেয়ে দেশের সেবা করার দীর্ঘদিনের স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মায়ামি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে অ্যামাজনের একটি কার্গো বিমান দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচজনের পরিচয় প্রকাশ করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত আরও জোরদার করেছে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড বা এনটিএসবি। রোববার দুপুরে পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মায়ামিতে আসা বোয়িং ৭৬৭-৩০০ বিমানটি রানওয়েতে অবতরণের সময় নির্ধারিত অংশের বাইরে চলে যায়। বিমানটি রানওয়ের শেষ প্রান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ ফুট এগিয়ে গিয়ে প্রথমে একটি ভ্যানে ধাক্কা দেয়। পরে বিমানবন্দরের সীমানার বেড়া ভেঙে পাশের সড়কে গিয়ে একটি গাড়িতেও আঘাত করে। মায়ামি-ডেড শেরিফ রোজি কর্দেরো-স্টুটজ মঙ্গলবার নিহত পাঁচজনের পরিচয় প্রকাশ করেন। তারা হলেন ৫৫ বছর বয়সী রোলান্ডো আলেমান লিওন, ৫৩ বছর বয়সী ইয়োয়েল রদ্রিগেজ নারানহো, ৭৫ বছর বয়সী হুলিও সি. পিনেদা, ৫৩ বছর বয়সী কার্লোস আকোস্তা ফাহার্দো এবং ৪৭ বছর বয়সী হাভিয়েরকিস রেইস কেভেদো। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচজনই প্রফেশনাল ওশান সার্ভিস কর্পোরেশনের কর্মী ছিলেন। বিমান পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহৃত একটি ভ্যানে তারা ছিলেন। ওই ভ্যানে মোট সাতজন ছিলেন। দুর্ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হন। তাদের মধ্যে তিনজন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দুইজনের অবস্থা গুরুতর বা সংকটজনক। আরেকজনের অবস্থা স্থিতিশীল। বিমানে থাকা পাইলট ও সহকারী পাইলটও আহত হয়েছিলেন। তবে চিকিৎসার পর তাদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। এনটিএসবি’র ৩২ সদস্যের একটি তদন্তকারী দল বিমানটির গতি, আবহাওয়া, বিমানের যান্ত্রিক অবস্থা, পাইলটদের সিদ্ধান্ত এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে। তদন্তে বিমানের ফ্লাইট ডাটা রেকর্ডার এবং ককপিট ভয়েস রেকর্ডার উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো সাধারণভাবে ব্ল্যাক বক্স নামে পরিচিত। এসব রেকর্ডার বিশ্লেষণ করে দুর্ঘটনার ঠিক আগে বিমানের গতি, অবস্থান এবং ককপিটে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সে সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। রানওয়ের শেষ প্রান্তে বিমান থামানোর জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। মায়ামি বিমানবন্দরে ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যাটেরিয়ালস অ্যারেস্টিং সিস্টেম বা ইমাস নেই। রানওয়ের শেষে থাকা এই বিশেষ ব্যবস্থাটি দ্রুতগতির বিমানকে থামাতে সাহায্য করতে পারে। তবে মায়ামি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বিমানবন্দরটি বর্তমানে ফেডারেল নিরাপত্তা নিয়ম মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। তদন্তকারীরা এখনো দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ ঘোষণা করেননি। তাই পাইলটের ভুল, আবহাওয়া বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কারণকে এখনই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা হচ্ছে না। ব্ল্যাক বক্সের তথ্যসহ তদন্তের পরবর্তী ধাপগুলো থেকেই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের একটি বোয়িং ৭৬৭ কার্গো বিমান রানওয়ে ছাড়িয়ে দুর্ঘটনায় পড়েছে। স্থানীয় সময় রোববার দুপুর ২টার দিকে অবতরণের পর বিমানটি রানওয়ের শেষ প্রান্ত পেরিয়ে যায়। ভয়াবহ দুর্ঘটনার ভিডিওতে বিমান থেকে আগুন ও ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, এটি ২১ এয়ার ফ্লাইট ৭৫৯৮, একটি বোয়িং ৭৬৭-৩০০ কার্গো বিমান। বিমানটি পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মিয়ামির উদ্দেশে উড়েছিল। অবতরণের সময় বিমানটি রানওয়ে ছাড়িয়ে বিমানবন্দরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে গিয়ে অচল হয়ে পড়ে। মিয়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউ জানিয়েছে, রানওয়ে ছাড়িয়ে যাওয়ার পর বিমানটি একাধিক গাড়িতে আঘাত করে এবং আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনাস্থলে ৬০টির বেশি ফায়ার-রেসকিউ ইউনিট পাঠানো হয়। একাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার কথা জানানো হলেও, তাদের আঘাতের মাত্রা বা প্রাণহানির বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদনে বিস্তারিত নিশ্চিত করা হয়নি। দুর্ঘটনার পর মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং উড্ডয়ন-অবতরণে গ্রাউন্ড স্টপ জারি করা হয়। এতে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং ফ্লাইটে বিলম্বের আশঙ্কা তৈরি হয়। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিমানটিকে সড়কের পাশে আগুনে জ্বলতে এবং আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। এফএএ ঘটনাটি তদন্ত করছে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট | রয়টার্স| অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে অ্যামাজনের একটি বিশেষায়িত স্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য বই স্ক্যান করে পরে সেগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে বলে এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ৪০৪ মিডিয়ার অনুসন্ধানে এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। অনুসন্ধানটি শুরু হয় বিরল ও পুরোনো বইয়ের বড় পরিমাণে অস্বাভাবিক কেনাকাটা নিয়ে সন্দেহ থেকে। ৪০৪ মিডিয়ার সাংবাদিকেরা এক স্বাধীন বই বিক্রেতার সহায়তায় প্রায় ১ হাজার বইয়ের একটি চালানের একটি বইয়ের ভেতরে অ্যাপলের এয়ারট্যাগ বসান। এরপর বইটির গতিপথ অনুসরণ করে দেখা যায়, চালানটি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত লাস ভেগাসের একটি অ্যামাজন স্থাপনায় পৌঁছেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, লাস ভেগাসের ওই অ্যামাজন স্থাপনায় ভিজিটি৩ নামে একটি বিশেষায়িত কার্যক্রমে বই স্ক্যান করা হয়। সেখানে কর্মীরা বইয়ের বাঁধাই কেটে পৃষ্ঠাগুলো আলাদা করেন, এরপর সেগুলো দ্রুত স্ক্যান করে ডিজিটাল তথ্য হিসেবে সংগ্রহ করা হয়। বাঁধাই কাটার ফলে মূল বইটি আর অক্ষত থাকে না। ৪০৪ মিডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুসরণ করা বইটি প্রথমে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বিমানবন্দরে যায়। সেখান থেকে উইসকনসিনের মিলওয়াকি, পরে কেনোশার একটি বিতরণকেন্দ্র এবং এরপর ট্রাকে করে কলোরাডো হয়ে লাস ভেগাসে পৌঁছায়। শেষ পর্যন্ত বইটি অ্যামাজনের এলএএস৮ নামের একটি বড় স্থাপনায় যায়, যার একটি অংশে ভিজিটি৩ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অনুসন্ধানে জানা যায়। অ্যামাজনের ওই কার্যক্রমে কর্মরত ব্যক্তিদের অনলাইন আলোচনার তথ্যও অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে। সেখানে কর্মীরা বইয়ের বারকোড বা আইএসবিএন স্ক্যান এবং বই কাটার কাজের কথা উল্লেখ করেছেন। আইএসবিএন হলো প্রকাশিত বই শনাক্ত করার জন্য ব্যবহৃত একটি অনন্য নম্বর। এআই কোম্পানিগুলোর জন্য পুরোনো বই গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ উপাদান হয়ে উঠেছে। কারণ এসব বইয়ের অনেক লেখা ইন্টারনেটে সহজে পাওয়া যায় না। বিশেষ করে ২০২২ সালের আগে প্রকাশিত বইগুলো এআই-নির্মিত লেখা থেকে মুক্ত থাকার সম্ভাবনা বেশি হওয়ায় প্রশিক্ষণ ডেটা হিসেবে এগুলোর আলাদা মূল্য রয়েছে। এর আগে লেখকদের করা একটি মামলায় অ্যানথ্রপিকের বই সংগ্রহ ও স্ক্যান করার একটি প্রকল্পের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। ওই প্রকল্পেও বইয়ের বাঁধাই কেটে দ্রুত স্ক্যান করার পদ্ধতি ব্যবহারের কথা উঠে এসেছিল। আদালতের রায়ে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বই স্ক্যান করে প্রশিক্ষণ ডেটা তৈরির বিষয়টিকে ন্যায্য ব্যবহারের আওতায় বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে বই কেটে ধ্বংস করার এই প্রক্রিয়া নিয়ে কপিরাইট, নৈতিকতা এবং মানবিক জ্ঞান সংরক্ষণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে বিরল বইয়ের ক্ষেত্রে একটি মুদ্রিত কপি ধ্বংস হয়ে গেলে সেটি পুনরুদ্ধারের সুযোগ সীমিত হতে পারে। অ্যামাজন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গ্রাহকদের ব্যবহৃত পণ্য ও সেবা উন্নয়নে তারা বাণিজ্যিক চ্যানেলের মাধ্যমে বই কেনে। তবে ৪০৪ মিডিয়ার পক্ষ থেকে বই কাটার কারণ, এ ধরনের আরও কতটি স্থাপনা রয়েছে এবং বই ধ্বংস নিয়ে ওঠা সমালোচনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলেও অ্যামাজন সেসব প্রশ্নের উত্তর দেয়নি। এ অনুসন্ধান দেখাচ্ছে, এআই মডেলকে আরও বড় ও বৈচিত্র্যময় মানব-লিখিত ডেটা দিয়ে প্রশিক্ষিত করতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এখন শুধু অনলাইন কনটেন্টের ওপর নির্ভর করছে না। মুদ্রিত বই সংগ্রহ, ডিজিটাইজ করা এবং প্রয়োজনে মূল কপি ধ্বংস করার মতো প্রক্রিয়াও সেই প্রতিযোগিতার অংশ হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের লেক কাউন্টিতে অ্যামাজনের একটি ডেলিভারি ভ্যানের ভেতর থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া নারীর পরিচয় শনাক্ত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। নিহত নারীর নাম জেলিন ভার্গাস গঞ্জালেজ। তিনি ওই অ্যামাজন ডেলিভারি গাড়িটির চালক ছিলেন। লেক কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের (LCSO) বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গত ১০ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটের দিকে ক্লার্ক রোড এলাকায় একটি সন্দেহজনক পরিস্থিতির খবর পেয়ে সেখানে যায় পুলিশ। একটি অ্যামাজন ডেলিভারি গাড়ি দীর্ঘ সময় ধরে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়টি নজরে আসার পর জরুরি সহায়তার জন্য খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্যানটির ভেতরে গঞ্জালেজকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পায়। পরে লেক কাউন্টি ফায়ার রেসকিউ ও জরুরি চিকিৎসা বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে তার মৃত্যুর কারণ জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। লেক কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, ঘটনাটি এখনো সক্রিয় তদন্তাধীন। তাই ঠিক কী কারণে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি পুলিশ। এর আগে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ভ্যানটি বেশ কিছু সময় ধরে একই স্থানে দাঁড়িয়ে থাকায় বিষয়টি নিয়ে আশপাশের লোকজনের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয় এবং কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে ভ্যানের ভেতর অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। ঘটনার পর অ্যামাজনও ওই নারী তাদের প্রতিষ্ঠানের ডেলিভারি চালক ছিলেন বলে নিশ্চিত করে। প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে এবং নিহতের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানায়। একই সঙ্গে তদন্তে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছে অ্যামাজন। তবে নিহত গঞ্জালেজের বয়স, ব্যক্তিগত পরিচয় বা মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তার মৃত্যুকে কোনো নির্দিষ্ট কারণের সঙ্গে যুক্ত করাও হচ্ছে না। লেক কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, মৃত্যুর কারণ নির্ধারণসহ ঘটনাটির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইনে কেনাকাটার সময় কোনো পণ্যে ‘যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি’ লেখা দেখেই অনেক ক্রেতা ধরে নেন সেটি দেশেই উৎপাদিত হয়েছে। কিন্তু নতুন এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, অ্যামাজন ও ওয়ালমার্টের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কেনাকাটার সহকারীরা ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর ‘যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি’ দাবির অসঙ্গতি শনাক্ত করতে পারলেও সেই তথ্য ক্রেতাদের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে না। এতে ভোক্তারা পণ্যের প্রকৃত উৎপত্তি সম্পর্কে বিভ্রান্ত হতে পারেন বলে গবেষকদের আশঙ্কা। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলাম্বিয়া ল স্কুলের সেন্টার ফর ল অ্যান্ড দ্য ইকোনমি প্রকাশিত এক গবেষণায় অ্যামাজনের ‘অ্যালেক্সা শপিং সহকারী’ এবং ওয়ালমার্টের ‘স্পার্কি’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কেনাকাটার সহকারীর কার্যক্রম বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণার নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) সাবেক চেয়ার লিনা খান। গবেষণায় বলা হয়েছে, দুটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের উৎপত্তি-সংক্রান্ত অসঙ্গতি শনাক্ত করতে সক্ষম হলেও সেই তথ্য ব্যবহার করে ক্রেতাদের সতর্ক করার পরিবর্তে প্রায়ই নিরপেক্ষ বা এড়িয়ে যাওয়ার মতো উত্তর দেয়। গবেষকদের দাবি, এর ফলে যেসব ক্রেতা সচেতনভাবে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পণ্য কিনতে চান, তারা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। বিশেষ করে অনলাইনে কেনাকাটায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়তে থাকায় এ ধরনের তথ্য উপস্থাপনের ধরন ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশ্ন করার ধরন পরিবর্তন করলে একই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিন্ন ধরনের উত্তর দিচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পণ্যের তালিকা জানতে চাইলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জানায় যে তাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। কিন্তু একই প্রশ্ন অন্যভাবে করলে সেই ব্যবস্থাই যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পণ্যের তথ্য দেখাতে সক্ষম হয়। গবেষকদের মতে, এটি তথ্যের অভাব নয়; বরং তথ্য উপস্থাপনের পদ্ধতির সমস্যা নির্দেশ করে। অ্যামাজনের পক্ষ থেকে গবেষণার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রস্তুতকারক বা তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতারা উৎপত্তি-সংক্রান্ত তথ্য দিলে তা পণ্যের তথ্য পাতায় প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি গ্রাহকদের কাছে এসব তথ্য আরও সহজে পৌঁছে দিতে তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কেনাকাটার সেবার উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, এ বিষয়ে ওয়ালমার্ট তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ‘যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি’ লেবেল নিয়ে দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নজরদারি নতুন নয়। ২০২৫ সালে ফেডারেল ট্রেড কমিশন অ্যামাজন ও ওয়ালমার্টকে চিঠি দিয়ে তাদের অনলাইন বিক্রয় প্ল্যাটফর্মে তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতাদের বিভ্রান্তিকর ‘যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি’ দাবির বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায়। কমিশন জানায়, কোনো পণ্যকে ‘যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি’ হিসেবে প্রচার করতে হলে সেটি ‘সম্পূর্ণ বা কার্যত সম্পূর্ণ’ যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হতে হবে। অন্যথায় এমন দাবি ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অনলাইন কেনাকাটায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার যত বাড়বে, এই প্রযুক্তি কোন তথ্য ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরবে আর কোন তথ্য আড়াল করবে, সেটিও ভোক্তা অধিকার ও বাজারের স্বচ্ছতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে। ফলে ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কেনাকাটার প্ল্যাটফর্মগুলোর তথ্য উপস্থাপন নিয়েও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নজরদারি আরও বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন অবৈধ ঘোষিত ট্রাম্প প্রশাসনের আমদানি শুল্ক থেকে প্রায় ৬০ কোটি ডলার ফেরত পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যেসব গ্রাহক ওই শুল্কজনিত অতিরিক্ত খরচ বহন করেছিলেন এবং যাদের ক্ষেত্রে তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে, তাদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। অ্যামাজনের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) ব্রায়ান ওলসাভস্কি কোম্পানির আয়-সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে বলেন, যেসব লেনদেনে অতিরিক্ত শুল্কের প্রভাব সরাসরি নির্ধারণ করা যাবে, সেসব ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠান নিজেই যোগাযোগ করবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থ ফেরত দেবে। আর যেসব ক্ষেত্রে তা সম্ভব হবে না, সেখানে ফেরত পাওয়া অর্থ কম দামে পণ্য সরবরাহ ও গ্রাহকসেবায় বিনিয়োগে ব্যবহার করা হবে। তবে ঠিক কতজন গ্রাহক এই অর্থ ফেরত পাবেন, কোন সময়ের কেনাকাটা এর আওতায় পড়বে বা কীভাবে ফেরতের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানায়নি অ্যামাজন। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অধীনে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে ব্যাপক আমদানি শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। ওই রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন ক্ষতিগ্রস্ত আমদানিকারকদের শুল্ক ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। অ্যামাজন জানিয়েছে, তারা তুলনামূলক কম অর্থ ফেরত পেয়েছে, কারণ নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগেই প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্য মজুত করেছিল। এছাড়া তাদের প্ল্যাটফর্মে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ পণ্যের আমদানিকারক ছিল তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতারা, ফলে সেসব পণ্যের শুল্ক ফেরতের দাবিদারও অ্যামাজন নয়। প্রতিষ্ঠানটি আরও দাবি করেছে, অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত ব্যয় গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে নিজেই বহন করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বড় খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে গ্রাহকদের কাছে শুল্ক ফেরতের অর্থ সরাসরি ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা বিরল। যদিও অন্যান্য বড় খুচরা প্রতিষ্ঠানও শুল্ক ফেরতের আবেদন করেছে, তাদের সবাই এখনো গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স শহরে গতি সীমা লঙ্ঘনের একটি জরিমানার নোটিশ পৌঁছে দিতে অ্যামাজনের ডেলিভারি কর্মীর মতো পোশাক পরা এক প্রসেস সার্ভারের উপস্থিতি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ফিনিক্সের বাসিন্দা মাইরান্ডা ইয়াং, যিনি প্রথমে ভেবেছিলেন তার বাড়িতে কোনো পার্সেল পৌঁছে দিতে এসেছেন একজন অ্যামাজন ডেলিভারি কর্মী। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেপিএনএক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় দুই মাস আগে ফিনিক্স শহরের একটি ফটো এনফোর্সমেন্ট ক্যামেরায় অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর অভিযোগে মাইরান্ডা ইয়াংয়ের নামে একটি ট্রাফিক টিকিট ইস্যু হয়। গত সপ্তাহে নীল রঙের ভেস্ট পরা এক ব্যক্তি তার বাড়িতে এসে নিজেকে সিটির পক্ষে কাজ করা একজন প্রসেস সার্ভার হিসেবে পরিচয় দেন এবং ২৫০ ডলারের স্পিডিং টিকিটের নোটিশ হাতে তুলে দেন। ইয়াং জানান, ওই ব্যক্তির পোশাক অ্যামাজনের ডেলিভারি কর্মীদের ইউনিফর্মের সঙ্গে এতটাই মিল ছিল যে তিনি প্রথমে এটিকে একটি পার্সেল ডেলিভারি বলেই মনে করেছিলেন। অ্যারিজোনার আইন অনুযায়ী, ডাকযোগে পাঠানো ফটো এনফোর্সমেন্ট ট্রাফিক টিকিটের ক্ষেত্রে অনেক সময় প্রাপককে সাড়া দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে একই নোটিশ ব্যক্তিগতভাবে হাতে পৌঁছে দেওয়া হলে সেটি আইনগতভাবে কার্যকর হয়ে যায় এবং জরিমানা পরিশোধের বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি হয়। মাইরান্ডা ইয়াংয়ের দাবি, প্রসেস সার্ভার তাকে জানান যে ডাকযোগে আগেই নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। পরে তিনি সেটি বাড়ির দরজায় রেখে চলে যান। ব্যক্তিগতভাবে নোটিশ পাওয়ার পর এখন তাকে ২৫০ ডলারের জরিমানা পরিশোধ করতে হবে। ফিনিক্স সিটি কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের মার্চের শেষ দিকে শহরের ১৭টি ফটো এনফোর্সমেন্ট ক্যামেরার মাধ্যমে ধরা পড়া গতি সীমা লঙ্ঘনের ঘটনায় জরিমানার নোটিশ দেওয়া শুরু করে। এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শহর কর্তৃপক্ষ মেসাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ভেরা মোবিলিটির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। সিটি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আদায় হওয়া প্রতিটি জরিমানার জন্য প্রতিষ্ঠানটি ২০ ডলার পায়। তবে পৃথক প্রসেস সার্ভারদের কীভাবে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়, তা চুক্তিতে উল্লেখ নেই। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি নোটিশ পৌঁছে দিতে কোনো প্রসেস সার্ভারের এমন পোশাক ব্যবহার করা বিভ্রান্তিকর কি না। যদিও এ বিষয়ে ফিনিক্স সিটি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ২৩ বছর বয়সী এক তরুণ অ্যামাজন জঙ্গলের অত্যন্ত দুর্গম এলাকায় গিয়ে এক আদিবাসী নারীর প্রেমে পড়েন। কিন্তু সেখানকার জীবনযাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। আবেগের বশে করা একটিমাত্র ভুলের কারণে তাকে সম্প্রদায়ের অন্তঃসত্ত্বা নারীদের কাছ থেকে দূরে থাকার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। জাস্টিন আলভো নামের ওই তরুণের বাবা ছিলেন অ্যামাজনের আদিবাসী, যদিও জাস্টিন বড় হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। জীবনের অপূর্ণতা ঘোচাতে তিনি বাবার জন্মভূমি ইকুয়েডরের পূর্ব অ্যামাজনের ‘ত্রেস দে নোভিয়েম্ব্রে’ নামের দুর্গম অঞ্চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। নিজের ইউটিউব চ্যানেলের জন্য শুয়ার (Shuar) সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র বানাতে গিয়েই মারিয়া নামের এক স্থানীয় রেস্তোরাঁকর্মীর সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেম হয়। পরবর্তীতে এই মারিয়াই তার জীবনসঙ্গী হন। যদিও জাস্টিনের শরীরে আদিবাসী রক্ত ছিল, তবুও জঙ্গলের জীবন তার কাছে আক্ষরিক অর্থেই ছিল সম্পূর্ণ অচেনা এক জগতের মতো। স্থানীয়রা তাকে বিষধর সাপ ও পোকামাকড় থেকে বেঁচে থাকার নানা কৌশল শিখিয়েছিলেন। কিন্তু একদিন প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের সময় তিনি একটি মারাত্মক ভুল করে বসেন। স্থানীয়দের কঠোর নিষেধ অমান্য করে ফিল্মমেকিংয়ের নেশায় তিনি একটি প্রাণঘাতী বোয়া (boa) সাপ ধরে ফেলেন। শুয়ার সম্প্রদায়ের মানুষ বোয়া সাপকে অত্যন্ত আধ্যাত্মিক প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করে। সাপটি স্পর্শ করার কারণে স্থানীয়রা ধরে নেয় যে, জাস্টিনের ওপর ‘খারাপ শক্তি’ বা অশুভ প্রভাব ভর করেছে। এর জের ধরেই তাকে ওই সম্প্রদায়ের যেকোনো অন্তঃসত্ত্বা নারীর কাছাকাছি যাওয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এই অশুভ প্রভাব থেকে মুক্ত হতে এবং পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পরবর্তীতে তাকে একটি বিশেষ ‘শুদ্ধি’ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। বর্তমানে শুদ্ধি প্রক্রিয়া শেষে জাস্টিন সেই বিচ্ছিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিজেকে বেশ ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছেন। মারিয়াকে বিয়ে করে তিনি এখন সুখে সংসার করছেন এবং চলতি বছরের শুরুতেই এই দম্পতির ঘরে একটি নতুন সন্তানের আগমন ঘটেছে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি ও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনে গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে কর্মী ছাঁটাই অব্যাহত রয়েছে। ২০২২ সাল থেকে শুরু হওয়া পুনর্গঠন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত ৫৭ হাজারের বেশি করপোরেট কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। এর মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারিতেই প্রায় ১৬ হাজার কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, শুধু চাকরি হারানো কর্মীরাই নন, প্রতিষ্ঠানে থেকে যাওয়া কর্মীরাও এখন বাড়তি কাজের চাপ, মানসিক ক্লান্তি এবং অনিশ্চয়তার মুখোমুখি। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য নেক্সট ওয়েব (টিএনডব্লিউ)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মী ছাঁটাইয়ের ফলে আগের সমপরিমাণ কাজ এখন কমসংখ্যক কর্মীকে সামলাতে হচ্ছে। অনেক কর্মী একাধিক দলের দায়িত্ব পালন করছেন, ফলে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, অতিরিক্ত দায়িত্ব এবং কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ বেড়েছে। অনেকের মতে, চাকরি টিকে থাকলেও কাজের পরিবেশ আগের তুলনায় অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। একই সময়ে প্রযুক্তি খাতের অন্যান্য বড় প্রতিষ্ঠান—মেটা, মাইক্রোসফট, সিসকো ও ওরাকল—এছাড়াও হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। ফলে প্রযুক্তি খাতে নতুন চাকরির সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে এবং প্রতিযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগে যেখানে একজন প্রযুক্তি পেশাজীবীর নতুন চাকরি পেতে গড়ে চার মাস সময় লাগত, এখন অনেকের ক্ষেত্রে সেই সময় বেড়ে ১৮ মাস পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি খাতে নিয়োগের ধীরগতি এবং ব্যাপক ছাঁটাইয়ের কারণে অভিজ্ঞ পেশাজীবীরাও দীর্ঘ সময় ধরে চাকরি খুঁজতে বাধ্য হচ্ছেন। এর প্রভাব পড়ছে বেতন, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও। অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী অ্যান্ডি জ্যাসি এর আগে জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানকে আরও দক্ষ, দ্রুতগতির এবং কম প্রশাসনিক স্তরবিশিষ্ট করতে পুনর্গঠন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে বড় বিনিয়োগের ফলে অনেক ক্ষেত্রে কর্মীসংখ্যা পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে কিছু ধরনের করপোরেট চাকরির চাহিদা আরও কমতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যামাজনের এই পরিস্থিতি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সংকট নয়; বরং পুরো প্রযুক্তি শিল্পের পরিবর্তিত বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। মহামারির সময় দ্রুত সম্প্রসারণের পর এখন অধিকাংশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং এআই-নির্ভর কার্যক্রমে জোর দিচ্ছে। এর ফলে একদিকে কর্মী ছাঁটাই অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে যারা চাকরিতে রয়েছেন তাদের ওপরও বাড়ছে কাজের চাপ ও কর্মদক্ষতার প্রত্যাশা। শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক বছরে প্রযুক্তি খাতের চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে। তাই বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাকরিপ্রার্থীদের নতুন প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার নিরাপত্তা এবং ডেটা-সংশ্লিষ্ট দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন প্রযুক্তির গুরুত্ব বাড়তে থাকায় সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে মার্কিন সেনাবাহিনী। এ লক্ষ্যে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন-এর সঙ্গে যৌথভাবে একটি ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে অ্যামাজনের ক্লাউড সেবা ইউনিট অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস এবং আর্মি এন্টারপ্রাইজ ক্লাউড ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি একসঙ্গে কাজ করছে। ‘ইউএএস মার্কেটপ্লেস’ নামে এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট, সরকারি অংশীদার এবং মিত্রদেশগুলো সহজেই ড্রোন প্রযুক্তি সংগ্রহ করতে পারবে। প্ল্যাটফর্মটিতে ব্যবহারকারীরা যাচাইকৃত ড্রোন সিস্টেমগুলোর তুলনা করতে পারবেন, সরাসরি অর্ডার দিতে পারবেন এবং ব্যবহারের পর মতামত ও রেটিং প্রদান করতে পারবেন—যা অনেকটা অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্মের অভিজ্ঞতার মতো। মার্কিন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই উদ্যোগ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করবে। ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রযুক্তি উদ্ভাবকদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং ড্রোন প্রযুক্তির উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। সেনাবাহিনীর সরঞ্জাম সংগ্রহ–বিষয়ক প্রধান ব্রেন্ট ইনগ্রাম বলেন, প্রতিরক্ষা খাতে প্রবেশের বাধা কমিয়ে উদ্ভাবকদের সঙ্গে অংশীদারত্ব বাড়ানো হচ্ছে, যাতে দ্রুত ও কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়। এ ছাড়া ইউএএস প্রকল্প ব্যবস্থাপক কর্নেল ড্যানিয়েল মেদাগ্লিয়া জানান, এই প্ল্যাটফর্ম প্রতিযোগিতা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করবে। এর ফলে সেনারা তাদের মিশনের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি দ্রুত পাবে। সাধারণত নতুন সামরিক প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও বাজেট অনুমোদনের ধাপ অতিক্রম করতে হয়। নতুন এই ডিজিটাল উদ্যোগ সেই জটিলতা কমিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্ল্যাটফর্ম শুধু ড্রোন সংগ্রহ ব্যবস্থাকে আধুনিক করবে না, ভবিষ্যতের যুদ্ধ কৌশলেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।