আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

সংসদে রুমিন ফারহানা | ফাইল ছবি
৫২ দিনে ৪৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার; সংসদে রুমিন ফারহানা

নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ৫২ দিনের মাথায় ব্যাংক খাত থেকে ৪৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, এমন তথ্য তুলে ধরে জাতীয় সংসদে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) সংসদে দেওয়া বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, সরকার অতিমাত্রায় ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় দেশের অর্থনীতি ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের কোনো সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ আছে কি না, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।   রুমিন ফারহানার সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, এই ঋণের বড় অংশই মূলত বিগত সরকারের রেখে যাওয়া দেনার ধারাবাহিকতা বা ‘ক্যারিওভার’। এটি বর্তমান সরকারের নতুন কোনো আর্থিক বোঝা নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিএনপির অর্থনৈতিক লক্ষ্য হলো স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমিয়ে আনা, যার প্রতিফলন আগামী বাজেটে দেখা যাবে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ২০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইতিহাসের বৃহত্তম বাজেট প্রস্তাব; কর্মসংস্থান ও জনকল্যাণে বিশেষ গুরুত্ব

আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেট প্রস্তাব করতে যাচ্ছে সরকার। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলার লক্ষ্য নিয়ে এবারের বাজেটে গত অর্থবছরের তুলনায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা বেশি ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই প্রাক্কলিত বাজেট উপস্থাপন করা হয়।   প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা ও জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি মাথায় রেখেই মোট দেশজ উৎপাদনের আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩১ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। এই বিশাল বাজেটের ঘাটতি পূরণে ব্যাংক ও বৈদেশিক উৎস থেকে ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।   বাজেটে ১১টি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা অন্যতম। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং দেশীয় ও প্রবাসী শ্রমবাজার সম্প্রসারণে বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য এই বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে।   সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’-এর মতো কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে ৩ লাখ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একইসাথে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে।   আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাজেটে নীতিগত সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আইএমএফ-এর শর্ত থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি, সার ও বিদ্যুৎ খাতে বড় অংকের ভর্তুকি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। রাজস্ব আদায়ের বড় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়নই এখন এই বাজেটের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে বাংলাদেশকে ৬০ দিনের ছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র

দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় রাশিয়া থেকে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য বা তেল আমদানির জন্য বাংলাদেশকে ৬০ দিনের বিশেষ অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ সম্প্রতি এই ‘সবুজ সংকেত’ দিয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। ১১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এই ছাড়ের মেয়াদ আগামী ৯ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে।   এর আগে গত ১২ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র ৩০ দিনের জন্য একটি সাময়িক ছাড় দিয়েছিল। তবে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের মতো বাংলাদেশকেও দীর্ঘমেয়াদী ছাড় দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল সরকার। এরই প্রেক্ষিতে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশি কূটনীতিকদের তৎপরতায় এবার ৬০ দিনের অনুমতি মিলল। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র থেকে রাশিয়ার নির্দিষ্ট কিছু তেল কোম্পানির তালিকাও দেওয়া হয়েছে, যাদের কাছ থেকে বাংলাদেশ তেল সংগ্রহ করতে পারবে।   জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়া থেকে এমন ধরনের অপরিশোধিত তেল আমদানির চেষ্টা চলছে যা দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব। বর্তমানে এই রিফাইনারি সৌদি আরব ও কুয়েতের তেলের ওপর নির্ভরশীল। রাশিয়ার বিশেষ ধরনের হালকা অপরিশোধিত তেল না পাওয়া গেলে বিকল্প হিসেবে তৃতীয় কোনো দেশে তা শোধন করে আনার পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে।   উল্লেখ্য, সম্প্রতি ওয়াশিংটনে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জ্বালানি সহযোগিতা ও বাণিজ্যের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই ছাড়ের ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ে ৬ সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন; আহ্বায়ক অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু

চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান সংকট মোকাবিলায় বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা মূল্য সমন্বয়ের প্রস্তাব তৈরির লক্ষ্যে ৬ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করেছে সরকার। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।   প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, অর্থ বিভাগের সচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ফারজানা মমতাজ এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।   কমিটিকে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা মূল্যহার পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিস্তারিত যাচাই-বাছাই শেষে তারা মন্ত্রিসভার বৈঠকের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব প্রণয়ন করবেন। প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়েছে, কমিটি প্রয়োজনে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে এবং বিদ্যুৎ বিভাগ এই কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
এমএফএস ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে প্রতারণা রুখতে সরকারের ৭ পদক্ষেপ

মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে হ্যাকার ও প্রতারক চক্রের কারসাজি ঠেকাতে সরকার সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার (৬ এপ্রিল) সংসদে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান। অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, এমএফএস প্রযুক্তিগতভাবে নিরাপদ হলেও গ্রাহকদের অসচেতনতা এবং প্রতারকদের নতুন কৌশলের কারণে মানুষ আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে।   প্রতারক চক্র দমনে গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে প্রথমত, একটি এনআইডির বিপরীতে একটি এমএফএস প্রোভাইডারের অধীনে একটি মাত্র হিসাব চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকের মোবাইল নম্বরটি তার নিজস্ব এনআইডিতে নিবন্ধিত কি না, তা যাচাই করতে বিটিআরসির সহায়তায় একটি সমন্বিত ব্যবস্থা চালুর প্রক্রিয়া চলছে। দ্বিতীয়ত, গ্রাহকদের পিন নম্বর সুরক্ষা ও সচেতনতা বাড়াতে এমএফএস প্রোভাইডারদের নিয়মিত এসএমএস, ভয়েস মেসেজ ও গণমাধ্যমে প্রচারণার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   তৃতীয়ত, এমএফএস এজেন্টদের অস্বাভাবিক লেনদেনের ওপর কঠোর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। চতুর্থত, গ্রাহকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রোভাইডারদের নিজস্ব অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে। পঞ্চমত, অভিযোগের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারের এই উদ্যোগগুলোর মূল লক্ষ্য হলো ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে সাধারণ মানুষের জন্য শতভাগ নিরাপদ করে তোলা।   ষষ্ঠত, বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস সুপারভিশন বিভাগ নিয়মিত ঝুঁকি নিরূপণ ও পরিদর্শন কার্যক্রম চালাচ্ছে। সর্বশেষ, সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট-এ (বিএফআইইউ) রিপোর্ট করা হচ্ছে এবং সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অনলাইন ব্যাংকিং সেবায় সব ব্যাংকে ‘টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন’ (২এফএ) নিশ্চিত করা হয়েছে, যা গ্রাহকের লেনদেনকে আরও সুরক্ষিত করবে বলে অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
এক লাখ টন ডিজেল, দুই কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার | ফাইল ছবি
জরুরি ভিত্তিতে ডিজেল ও এলএনজি কিনছে সরকার; ব্যয় হবে ২,২৪৯ কোটি টাকা

দেশের বিদ্যমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে এক লাখ মেট্রিক টন ডিজেল এবং দুই কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শনিবার (৪ এপ্রিল) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটায় রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এই জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, কাজাখস্তানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান 'কাজাখ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট এলএলপি' থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানিতে ব্যয় হবে প্রায় ৬৮৯ কোটি ২৯ লাখ টাকা। প্রতি ব্যারেল ডিজেলের মূল্য ধরা হয়েছে ৭৫.০৬ ডলার। এছাড়া সিঙ্গাপুরের 'আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড' থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানিতে খরচ হবে প্রায় ১,৫৬০ কোটি টাকা। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির মূল্য ১৯ ডলারের কিছু বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে।   জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের নিয়মিত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো 'ফোর্স মেজর' ঘোষণা করে ডিজেল পাঠাতে অপারগতা জানায়। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা অনুযায়ী বিকল্প উৎস থেকে সরাসরি আমদানির এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   চুক্তি অনুযায়ী, আমদানিতব্য ডিজেল জর্জিয়ার বাটুমি বন্দর থেকে লোড হয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস করা হবে। কাজাখস্তানের এই প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত দর আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় সাশ্রয়ী বলে মূল্যায়ন কমিটি জানিয়েছে। তবে এলএনজি ও ডিজেলের এই চূড়ান্ত মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা ও বিনিময় হারের ওপর নির্ভর করে কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে। সরকার আশা করছে, এই আমদানির ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: পিআইডি
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক: নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি ও ই-ভিসার দাবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা কাউন্সিলের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ চাঙা করা এবং শিল্প খাতের বিদ্যমান সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে নতুন এক সংলাপের সূচনা হয়। বৈঠকে ব্যবসায়ীরা মূলত নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ই-ভিসা চালুর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।   বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে দেশের অর্থনীতিতে তৈরি হওয়া চাপ মোকাবিলায় ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের নিশ্চয়তা চেয়েছেন। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উদ্যোক্তাদের সরকারি সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। অর্থমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যাতে কোনো ঝামেলা ছাড়াই সহজে বাংলাদেশে আসতে পারেন, সেজন্য দ্রুত ই-ভিসা ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়েছে।   অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়ে আলোচনায় ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো এবং এনবিআর (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) সংস্কারের বিষয়টি উঠে আসে। ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের ওপর করের বোঝা না চাপিয়ে করের আওতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া মাঝারি উদ্যোক্তাদের রপ্তানিতে উৎসাহিত করতে লাইসেন্সপ্রাপ্তি সহজীকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গতি আনতে গভীর সমুদ্রবন্দর দ্রুত চালুর দাবি জানান তারা।   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৈঠকে ব্যবসায়ীদের বিদ্যমান সংকটগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সেসবের একটি বিস্তারিত নোট গ্রহণ করেন। অর্থমন্ত্রী জানান, অতীতে ব্যবসায়ীদের অনেক সমস্যার সমাধান হলেও কিছু বিষয় এখনো ঝুলে আছে, যা আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান করা হবে। বৈঠকে ডিবিএল, এপেক্স, প্রাণ-আরএফএল, ইনসেপ্টা ও রানার গ্রুপসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
বাড়তে পারে জ্বালানির দাম; শিগগিরই মূল্য সমন্বয়ের ইঙ্গিত অর্থমন্ত্রীর

বিশ্ববাজারে উচ্চমূল্যে জ্বালানি আমদানির ফলে সরকারি তহবিলে চাপ বাড়ায় দেশের স্বার্থে শিগগিরই জ্বালানির দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কোরিয়ান ইপিজেডে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই ইঙ্গিত দেন। মন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক সংকটের কারণে বর্তমানে সরকারকে অনেক বেশি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বহন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।   আদালত ও সরকারি তহবিলের ওপর চাপের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “সরকারি তহবিল যদি এভাবে উচ্চমূল্যে ক্রয়ের কারণে ক্ষয় হতে থাকে, তবে উন্নয়ন ও সামাজিক সহায়তা কার্যক্রম ব্যাহত হবে। তাই দেশের স্বার্থে একটি পর্যায়ে গিয়ে মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।” তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকিতে পড়েছে। অধিকাংশ জ্বালানি ওই অঞ্চল থেকে আসায় বাধ্য হয়ে বিকল্প উৎস থেকে চড়া দামে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে সরকারকে।   জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কোনো আপস করছে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য জ্বালানি ব্যবহারে রেশনিং চালু করা হয়েছে। তিনি নিজে ৩০ শতাংশ জ্বালানি কম ব্যবহার করছেন উল্লেখ করে বলেন, “এখন পর্যন্ত শিল্পকারখানা, পরিবহন ও কৃষি খাতের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সফল হয়েছে।” তবে জ্বালানির দাম বাড়লে সার ও খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিসহ মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।   পুঁজিবাজার ও রপ্তানি প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে দ্রুতই বড় ধরনের সংস্কার আনা হবে। বৈশ্বিক সংকটে গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল খাতে আয় কিছুটা কমলেও রেমিট্যান্স বৃদ্ধি এবং খাতটির পুনরুদ্ধারের বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ এখনো জ্বালানির দাম সহনীয় রেখেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

গ্রিন কার্ড পাওয়া আরো কঠিন হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিজ দেশে গিয়ে আবেদন করতে হবে অভিবাসীদের

ইসতিয়াক আহমেদ মে ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0