- প্রচ্ছদ
- Topic
ইলন মাস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের জন্য নিজের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ার দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ধনকুবের ইলন মাস্ক। আগামী বছর থেকে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্য থাকলেও কোন বয়সের শিশুরা শেয়ার পাবে, কোন জন্মতারিখের শিশুরা যোগ্য হবে এবং অভিবাসী পরিবারের সন্তানরা এই সুবিধার আওতায় আসবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিভাবকদের মধ্যেও এ ধরনের উদ্যোগের সম্ভাব্য যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। মাস্কের ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে একটি করে শেয়ার দেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। তবে ‘প্রতিটি শিশু’ বলতে ঠিক কোন বয়সসীমার শিশুদের বোঝানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত শর্ত প্রকাশ করা হয়নি। ১৮ বছরের কম বয়সী সব শিশু এই সুবিধা পাবে কি না, কিংবা নির্দিষ্ট কোনো তারিখের আগে বা পরে জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য আলাদা নিয়ম থাকবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। শেয়ার পাওয়ার ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব ও বসবাসের শর্তও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক শিশুদের পাশাপাশি গ্রিন কার্ডধারী পরিবারের সন্তান, অস্থায়ী ভিসায় বসবাসরত পরিবারের শিশু কিংবা অন্য দেশে জন্ম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত শিশুরা এই পরিকল্পনার আওতায় আসবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। একইভাবে, বাবা-মাকে আবেদন করতে হবে কি না, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা অন্য কোনো পরিচয়পত্র লাগবে কি না, সেটিও পরিষ্কার নয়। যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের ভবিষ্যৎ আর্থিক সঞ্চয়ের জন্য ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’ নামে একটি বিনিয়োগ হিসাবের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে স্পেসএক্সের শেয়ার বিতরণ করা হবে কি না, কিংবা শেয়ার পাওয়ার জন্য আলাদা কোনো অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে কি না, তা নিশ্চিত করে জানানো হয়নি। তাই অভিভাবকদের জন্য এখনই কোনো নির্দিষ্ট আবেদনপ্রক্রিয়া অনুসরণ করার সুযোগ রয়েছে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা কয়েক কোটি। প্রতিটি শিশুকে একটি করে শেয়ার দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বিপুলসংখ্যক শিশু একটি বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় অংশীদার হওয়ার সুযোগ পেতে পারে। তবে শেয়ারের আর্থিক মূল্য নির্ভর করবে শেয়ারের প্রকৃত মূল্যায়ন ও বিতরণের শর্তের ওপর। শেয়ার পাওয়া মানেই নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ নিশ্চিত হওয়া নয়, কারণ ভবিষ্যতে এর মূল্য বাড়তেও পারে, কমতেও পারে। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইলন মাস্কের ঘোষণায় শেয়ার দেওয়ার পরিকল্পনার কথা থাকলেও যোগ্যতার পূর্ণাঙ্গ নিয়ম ও বিতরণপ্রক্রিয়া স্পষ্ট নয়। কোন বয়সের শিশু এই সুবিধা পাবে, জন্মতারিখের কোনো সীমা থাকবে কি না এবং অভিবাসী পরিবারের সন্তানরা এর আওতায় আসবে কি না, তা জানতে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার অপেক্ষা করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে ২০২৭ সালে নিজের মালিকানাধীন স্পেসএক্সের একটি করে শেয়ার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইলন মাস্ক। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এই ঘোষণা দেন তিনি। তবে কারা এই সুবিধা পাবে এবং কীভাবে শেয়ার হস্তান্তর করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাস্ক তাঁর পোস্টে বলেছেন, আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে নিজের স্পেসএক্সের শেয়ার থেকে একটি করে দেবেন। এটিকে ভবিষ্যতে আরও এমন উদ্যোগের প্রথমটি হিসেবেও উল্লেখ করেছেন তিনি। ঘোষণায় শিশুদের বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়নি। একইভাবে নাগরিকত্ব বা বসবাসের ভিত্তিতে যোগ্যতা ঠিক করা হবে কি না, তাও স্পষ্ট নয়। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী সব শিশু এই উদ্যোগের আওতায় আসবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের কোন সময় শেয়ার দেওয়া হবে, কীভাবে যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে এবং লাখ লাখ শিশুর কাছে শেয়ার হস্তান্তরের ব্যবস্থা কী হবে, সেসব বিষয়ে মাস্ক কোনো ব্যাখ্যা দেননি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক জনকল্যাণমূলক একটি তহবিলে নিজেদের ৫ শতাংশ শেয়ার দেওয়ার পরিকল্পনা জানানোর পর মাস্কের এই ঘোষণা আসে। ওই উদ্যোগের প্রতিক্রিয়ায় তিনি শেয়ার সরাসরি সাধারণ মানুষের হাতে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। এরপর শিশুদের স্পেসএক্সের শেয়ার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। আপাতত এটি মাস্কের ঘোষিত প্রতিশ্রুতি। বাস্তবায়নের সময়সূচি, প্রাপকদের যোগ্যতা ও শেয়ার বিতরণের প্রক্রিয়া প্রকাশ না হওয়ায় পরিবারগুলো কীভাবে এই সুবিধা পাবে, সে প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
যুক্তরাষ্ট্রে স্কুল জোনে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করে গাড়ি চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইলন মাস্কের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার স্বয়ংক্রিয় রোবোট্যাক্সির বিরুদ্ধে। অভিযোগটি যাচাই করে আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা তদন্ত শুরু করা হবে কি না, তা পর্যালোচনা করছে মার্কিন সড়ক নিরাপত্তা সংস্থা ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NHTSA)। সংস্থাটির কাছে জমা দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, টেসলার স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং প্রযুক্তি ব্যবহারকারী কিছু গাড়ি স্কুল জোনে নির্ধারিত গতিসীমা না মেনে চলাচল করেছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির সময় এসব এলাকায় কম গতিতে গাড়ি চালানোর নিয়ম কার্যকর থাকে। ফলে অভিযোগগুলো সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৩ সেপ্টেম্বর টেসলার রোবোট্যাক্সির বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ জমা পড়ে। পরে ৯ অক্টোবর বিষয়টি পর্যালোচনার প্রক্রিয়া শুরু করে এনএইচটিএসএ। অভিযোগের সঙ্গে তিনটি ভিডিওর লিংকও জমা দেওয়া হয়েছে। এসব ভিডিওতে স্কুল জোনে টেসলার গাড়ির চলাচল নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে ২০২৬ মডেলের টেসলা মডেল ওয়াই রোবোট্যাক্সি এবং সাইবারক্যাব। সংশ্লিষ্ট গাড়ির সংখ্যা আনুমানিক এক হাজার বলে জানানো হয়েছে। অভিযোগের নথিতে মোট চারটি ঘটনার তথ্য উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে একটি সরাসরি অভিযোগ এবং বাকি তিনটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনার তথ্য। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে কোনো দুর্ঘটনা বা হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। এনএইচটিএসএ জানিয়েছে, অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রাথমিক পর্যালোচনায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তাঝুঁকির প্রমাণ পাওয়া গেলে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত টেসলার গাড়িগুলো আইন লঙ্ঘন করেছে বলে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। টেসলার স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং প্রযুক্তি নিয়ে এর আগেও মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি ও তদন্ত হয়েছে। ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা এবং ভুল লেনে গাড়ি চালানোর মতো অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির ফুল সেলফ-ড্রাইভিং প্রযুক্তি নিয়ে পৃথক তদন্ত চলছে। টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক দীর্ঘদিন ধরে চালকবিহীন গাড়ি ও রোবোট্যাক্সি সেবাকে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ ব্যবসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরছেন। তবে জনসাধারণের রাস্তায় এ ধরনের প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয়। বিশেষ করে স্কুল জোনে গাড়ির গতিসীমা মেনে চলা শিশু ও পথচারীদের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে টেসলার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পর্যালোচনা স্বয়ংক্রিয় গাড়ি প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের মন্তব্যের অনুরোধে টেসলার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থার পর্যালোচনা শেষে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ স্পষ্ট হবে।
প্রায় এক দশকের অপেক্ষার পর যুক্তরাষ্ট্রে আকাশে লাফ দেওয়ার বিশেষ প্রযুক্তিসম্পন্ন নতুন রোডস্টার গাড়ি উন্মোচন করেছে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান টেসলা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) টেক্সাসে স্পেসএক্সের একটি স্থাপনায় গাড়িটি প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে পাশাপাশি রাখা পাঁচটি গাড়ির ওপর দিয়ে লাফ দেওয়া, উল্টো অবস্থায় চলা এবং আকাশে ঘূর্ণির মতো বিশেষ কৌশল দেখানো হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক গাড়িটি ২০২৮ সালে বাজারে আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তবে সাধারণ সড়কে এটি চালানোর আইনি অনুমোদন পাওয়া যাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেক্সাসের ম্যাকগ্রেগরে অবস্থিত স্পেসএক্সের স্থাপনায় নতুন রোডস্টার প্রদর্শন করা হয়। স্থানটি হিউস্টন থেকে প্রায় ৩৫৪ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। অনুষ্ঠানে টেসলার গাড়িপ্রেমী ও সম্ভাব্য ক্রেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও ছিলেন, যাঁরা প্রায় নয় বছর আগে গাড়িটি পাওয়ার আশায় আড়াই লাখ ডলার অগ্রিম জমা দিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে উপস্থিত পর্যবেক্ষকদের বরাতে বলা হয়েছে, নতুন রোডস্টার প্রদর্শনীর সময় বেশ কয়েকটি অস্বাভাবিক কৌশল দেখিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উল্টো অবস্থায় গাড়ি চালানো, পাশাপাশি রাখা পাঁচটি টেসলা গাড়ির ওপর দিয়ে লাফ দেওয়া এবং আকাশে থাকা অবস্থায় নিজের অক্ষ বরাবর সম্পূর্ণ ঘুরে যাওয়া। এসব কৌশল দেখাতে স্পেসএক্সের তৈরি থ্রাস্টার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানানো হয়। টেসলার দাবি, বিশেষ থ্রাস্টার চালু থাকলে নতুন রোডস্টার স্থির অবস্থা থেকে ঘণ্টায় প্রায় ৯৭ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে মাত্র এক সেকেন্ড সময় নেবে। গাড়িটির সর্বোচ্চ গতি হতে পারে ঘণ্টায় প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার। তবে এগুলো প্রতিষ্ঠানটির ঘোষিত সক্ষমতা। সাধারণ সড়কে বাস্তব ব্যবহারের ক্ষেত্রে একই ধরনের পারফরম্যান্স পাওয়া যাবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। নতুন রোডস্টারের অন্যতম আলোচিত বৈশিষ্ট্য হলো এর থ্রাস্টার প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তির সাহায্যে গাড়িটি প্রচলিত বৈদ্যুতিক গাড়ির তুলনায় ভিন্ন ধরনের কৌশল দেখাতে সক্ষম বলে দাবি করেছে টেসলা। তবে প্রদর্শনীতে আকাশে ওঠা বা বিশেষ কৌশল দেখানোর অর্থ এই নয় যে, গাড়িটি প্রচলিত উড়োজাহাজের মতো নিয়মিত আকাশপথে চলাচলের অনুমোদন পেয়েছে। অনুষ্ঠানে ইলন মাস্ক জানান, নতুন রোডস্টার এমন একটি গাড়ি হবে, যা সাধারণ মানুষ ব্যক্তিগতভাবে কিনতে পারবেন। সাধারণ সড়কে চলাচলের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তবে একই সঙ্গে স্বীকার করেন, সব এলাকায় গাড়িটি চালানোর আইনি অনুমোদন পাওয়া যাবে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। মাস্কের বক্তব্য অনুযায়ী, কোন সড়ক বা এলাকায় গাড়িটি চালানো যাবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মের ওপর নির্ভর করতে পারে। গাড়িশিল্পের বিশেষজ্ঞরাও জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত পরীক্ষামূলক ট্র্যাকে বিশেষ প্রযুক্তিসম্পন্ন গাড়ি চালানো এবং সাধারণ সড়কে ব্যবহারের আইনি অনুমোদন পাওয়া দুটি আলাদা বিষয়। টেসলার নতুন রোডস্টার প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে বিলম্বের মুখে রয়েছে। প্রায় নয় বছর আগে কিছু ক্রেতা গাড়িটি পাওয়ার জন্য আড়াই লাখ ডলার করে অগ্রিম অর্থ জমা দিয়েছিলেন। তবে এতদিনেও গাড়িটির বাণিজ্যিক সরবরাহ শুরু হয়নি। নতুন ঘোষণায় প্রতিষ্ঠানটি ২০২৮ সালকে সম্ভাব্য বাজারে আনার সময় হিসেবে নির্ধারণ করেছে। অবশ্য ২০২৮ সালে বাজারে আনার পরিকল্পনা জানানো হলেও নতুন রোডস্টারের চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্য প্রকাশ করেনি টেসলা। গাড়িটির ব্যাটারির ধারণক্ষমতা সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনে রোডস্টারের পূর্বঘোষিত একবার পূর্ণ চার্জে প্রায় ৯৯৮ কিলোমিটার চলার সক্ষমতার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে নতুন থ্রাস্টারযুক্ত সংস্করণটির একবার চার্জে চলার দূরত্ব সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য জানানো হয়নি। দীর্ঘ বিলম্বের পর নতুন রোডস্টারের প্রদর্শনী এবং ২০২৮ সালে বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে টেসলা। তবে গাড়িটির বাণিজ্যিক উৎপাদন, চূড়ান্ত মূল্য, সরবরাহের সময় এবং সাধারণ সড়কে চলাচলের অনুমোদন নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
ভারতের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে ইলন মাস্কের স্টারলিংককে স্বাগত জানিয়েছে মুকেশ আম্বানির প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ। ভারতে স্টারলিংকের কার্যক্রম শুরুর পথে প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠী বাধা সৃষ্টি করছে বলে মাস্কের অভিযোগের পর শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে রিলায়েন্স। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রতিযোগিতাকে তারা ভয় পায় না। তবে স্টারলিংকসহ সব প্রতিষ্ঠানকে ভারতের আইন ও নীতিমালা মেনে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত বিবৃতিতে রিলায়েন্স জানিয়েছে, ভারত দেশীয় ও বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগ এবং উদ্ভাবনের জন্য উন্মুক্ত। তবে এই সুযোগ আইনের শাসনের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। সরকারের নির্ধারিত অনুমোদন প্রক্রিয়া দেশীয় ও বিদেশি সব প্রতিষ্ঠানের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রিলায়েন্স আরও জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান জিওর স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাও এখনো সরকারি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে শুধু স্টারলিংক নয়, ভারতের স্যাটেলাইট যোগাযোগ বাজারে প্রবেশ করতে আগ্রহী অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও একই নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হচ্ছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। বিবৃতিতে রিলায়েন্স জানায়, প্রতিযোগিতাকে তারা গ্রাহকদের সর্বোত্তম সেবা দেওয়ার সক্ষমতা যাচাইয়ের সুযোগ হিসেবে দেখে। প্রতিষ্ঠানটি মনে করিয়ে দেয়, ২০১৬ সালে ভারতের টেলিকম বাজারে প্রবেশের সময় জিওর কোনো গ্রাহক ছিল না। পরবর্তী ১০ বছরে প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকসংখ্যা ৫৩ কোটির বেশি হয়েছে। রিলায়েন্সের বক্তব্য অনুযায়ী, জিও ভারতের ডিজিটাল অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। স্যাটেলাইট যোগাযোগ খাতেও স্টারলিংকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে প্রস্তুত রয়েছে তারা। এদিকে রিলায়েন্সের এই বিবৃতির আগে ইলন মাস্ক ভারতের টেলিকম বাজারে প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, আম্বানির ব্যবসায়িক স্বার্থের পক্ষে থাকা ব্যক্তিরা স্টারলিংকের বিরুদ্ধে পরস্পরবিরোধী যুক্তি তুলে ধরছেন। মাস্কের বক্তব্য অনুযায়ী, একদিকে বলা হচ্ছে, জিওর কম দামের ইন্টারনেট সেবার সঙ্গে স্টারলিংক প্রতিযোগিতা করতে পারবে না। অন্যদিকে স্টারলিংককে শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবেও উপস্থাপন করা হচ্ছে। এই দুই অবস্থানকে পরস্পরবিরোধী বলে মন্তব্য করেন তিনি। মাস্ক আরও দাবি করেন, ভারতের বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়লে সাধারণ গ্রাহকেরা বেশি বিকল্প পাবেন। এতে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের মুনাফা কমতে পারে, তবে তাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে না। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুকেশ আম্বানিকে উদ্দেশ করে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যও করেন মাস্ক। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের টেলিকম বাজারে আম্বানির প্রভাব এত বেশি যে স্টারলিংকের মতো নতুন প্রতিষ্ঠানের প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে ভারত সরকার মাস্কের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ভারতের যোগাযোগমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া জানিয়েছেন, স্যাটেলাইট যোগাযোগ খাতে কোনো প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেওয়া হবে না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনটি প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। সরকার স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবার মূল্য নির্ধারণসংক্রান্ত কাঠামো চূড়ান্ত করার কাছাকাছি রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর আগে স্টারলিংকসহ সব অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানকে নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। সরকারি সূত্রের বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, স্টারলিংক এখনো ভারতে বাণিজ্যিক সেবা চালুর চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। দেশটির নিয়ম অনুযায়ী, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভারতের ভেতরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং স্থানীয় বেস স্টেশন স্থাপন করতে হবে। একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, স্টারলিংক এখনো এসব শর্ত পুরোপুরি মেনে নিতে সম্মত হয়নি। তবে নিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্বেগ দূর করে স্থানীয় বেস স্টেশন স্থাপনের শর্ত পূরণ করলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে সরকারের আপত্তি নেই। ভারতে স্যাটেলাইট যোগাযোগ সেবা চালুর পরিকল্পনায় রয়েছে রিলায়েন্স জিও, ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব এবং ইলন মাস্কের স্টারলিংক। ভারতী এন্টারপ্রাইজেসের চেয়ারম্যান সুনীল ভারতী মিত্তাল জানিয়েছেন, তাঁদের স্যাটেলাইট উদ্যোগ ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব স্টারলিংকের আগেই অনুমোদন পেতে পারে। কারণ প্রতিষ্ঠানটি আগে আবেদন করেছে এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ায় তুলনামূলক এগিয়ে রয়েছে। এ অবস্থায় ভারতের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে প্রবেশ নিয়ে মাস্ক ও রিলায়েন্সের মধ্যে প্রকাশ্য মতবিরোধ তৈরি হলেও রিলায়েন্স আনুষ্ঠানিকভাবে স্টারলিংককে স্বাগত জানিয়েছে। তবে কোন প্রতিষ্ঠান কবে বাণিজ্যিক সেবা চালু করতে পারবে, তা নির্ভর করছে সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণের ওপর। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক চালুর অনুমোদন নিয়ে দেশটির প্রভাবশালী শিল্পপতি আম্বানি পরিবারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। তাঁর অভিযোগ, কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নিজেদের একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখতে স্টারলিংকের কার্যক্রম শুরুর পথে বাধা সৃষ্টি করছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতের প্রকৃত ক্ষমতা আম্বানির হাতে কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে ভারত সরকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, স্যাটেলাইট যোগাযোগসেবার অনুমোদন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সব প্রতিষ্ঠানের জন্য সমান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রল ডট ইন, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ভারতে স্টারলিংক চালুর চেষ্টা করছে মাস্কের মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। প্রাথমিক অনুমোদন পেলেও নিরাপত্তাসংক্রান্ত চূড়ান্ত ছাড়পত্র ও স্পেকট্রাম বরাদ্দের অপেক্ষায় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ক্ষোভ প্রকাশ করে মাস্ক অভিযোগ করেন, ভারতের কয়েকজন ধনী ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় স্টারলিংকের কার্যক্রম আটকে দিচ্ছেন। তাঁর দাবি, এর ফলে বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পরদিন আরেকটি পোস্টে সরাসরি আম্বানি পরিবারের প্রসঙ্গ তোলেন মাস্ক। তিনি জানান, স্টারলিংক বিশ্বের ১৬৫টির বেশি দেশে লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং গত পাঁচ বছর ধরে ভারতের সব আইন ও শর্ত পূরণের চেষ্টা করছে। তা সত্ত্বেও চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় তিনি প্রশ্ন করেন, ভারতের আসল ক্ষমতা কি আম্বানির হাতে? অন্য এক ব্যবহারকারীর পোস্টের জবাবে এই মন্তব্য করেন মাস্ক। তবে আম্বানি পরিবারের কোন সদস্যকে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি। ভারতের টেলিকম খাতে মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স জিও এবং ভারতী এয়ারটেলের শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারেও প্রতিষ্ঠান দুটির ব্যবসায়িক আগ্রহ রয়েছে। রিলায়েন্সের জিও স্পেস টেকনোলজি স্যাটেলাইট যোগাযোগসেবা নিয়ে কাজ করছে। অন্যদিকে সুনীল মিত্তালের ভারতী এয়ারটেল গ্রুপের বিনিয়োগ রয়েছে ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েবে। ফলে স্টারলিংক ভারতে কার্যক্রম শুরু করলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। তবে প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি অনুমোদন আটকে দিয়েছে, এমন কোনো স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ করেননি মাস্ক। মাস্কের মন্তব্যের পর ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানায়, স্যাটেলাইট যোগাযোগসেবার অনুমোদনের জন্য অভিন্ন নিয়ন্ত্রক কাঠামো রয়েছে। ইতোমধ্যে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত কার্যক্রম শুরুর আগে সবাইকে নির্ধারিত নিরাপত্তা শর্ত পূরণ করতে হবে। বিতর্কে যুক্ত হন ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও। মাস্কের পোস্টের জবাবে তাঁকে ভারতে স্বাগত জানিয়ে মন্তব্য করেন, আরেকজনের কথা জানতে পারলে তিনি আরও অবাক হবেন। তবে ওই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি রাহুল। জবাবে মাস্ক তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন। এদিকে স্টারলিংকের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তাসংক্রান্ত কিছু শর্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ব্যবহারকারীর তথ্য, যোগাযোগব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ এবং অনুমোদনহীন যন্ত্রপাতি ব্যবহার ঠেকানোর বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে চায়। বিদেশ থেকে কেনা স্টারলিংক যন্ত্র ভারতে ব্যবহার এবং ভারত থেকে বিদেশে নেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণের শর্ত রয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মণিপুরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে স্টারলিংকের নামসংবলিত একটি যন্ত্র উদ্ধারের খবর প্রকাশিত হয়। তবে মাস্ক দাবি করেন, ভারতের ওপর স্টারলিংকের স্যাটেলাইট সংকেত বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে সেখানে প্রতিষ্ঠানটির সেবা ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয় বলে তাঁর বক্তব্য। স্পেসএক্সের নির্বাহী কর্মকর্তা লরেন ড্রেয়ার জানিয়েছেন, ভারতে ইতোমধ্যে ২০টি গেটওয়ে স্টেশন স্থাপন করেছে স্টারলিংক। এসব স্থাপনার সঙ্গে শত শত অ্যান্টেনা যুক্ত রয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেলে প্রতিষ্ঠানটি সেবা চালুর জন্য প্রস্তুত। তাঁর প্রত্যাশা, ২০২৭ সালের মধ্যে ভারতে কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হতে পারে। অন্যদিকে ভারতী এয়ারটেলের প্রতিষ্ঠাতা সুনীল মিত্তালও জানিয়েছেন, ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েবের কার্যক্রম শুরুর জন্য অনুমোদনের অপেক্ষা চলছে। ফলে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট চালুর নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া শুধু স্টারলিংকের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। স্টারলিংক পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের স্যাটেলাইট ব্যবহার করে ইন্টারনেট সরবরাহ করে। ভারতের প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহার রয়েছে। ডেলয়েটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড বাজারের মূল্য প্রায় ১৯০ কোটি ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত স্টারলিংকের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়নি। ভারত সরকারের দাবি, সব প্রতিষ্ঠানকে একই নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করতে হবে। অন্যদিকে মাস্কের অভিযোগ, ব্যবসায়িক স্বার্থের কারণে স্টারলিংকের অনুমোদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর এই অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এখনো সামনে আসেনি। সূত্র: রয়টার্স
এক দিনেই সম্পদ বাড়ল ৩ হাজার কোটি ডলারের বেশি, আর তাতেই আবার ট্রিলিয়নিয়ার হলেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। সোমবার শেয়ারবাজার খোলার পর স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের দাম বাড়ায় ফোর্বসের হিসাবে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ আবার এক ট্রিলিয়ন বা এক লাখ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। শুক্রবারের তুলনায় সোমবার সকালে তাঁর সম্পদ বেড়েছে ৩০ দশমিক ৬ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৬০ কোটি ডলার। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, সোমবার মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ এক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। এর মধ্য দিয়ে কয়েক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ট্রিলিয়নিয়ার মর্যাদা ফিরে পেলেন তিনি। তাঁর মালিকানাধীন ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধিই এই উত্থানের প্রধান কারণ। সম্পদের এই বৃদ্ধি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে মাস্কের অবস্থান আরও শক্ত করেছে। ফোর্বসের হিসাবে, দ্বিতীয় স্থানে থাকা অ্যামাজনের জেফ বেজোসের সম্পদের পরিমাণ ৩৭১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ দুজনের সম্পদের ব্যবধান এখন কয়েকশ বিলিয়ন ডলার। মাস্ক প্রথমবার গত জুনে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হয়েছিলেন। স্পেসএক্স নাসডাকে শেয়ার লেনদেন শুরু করার পর কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বাড়লে তাঁর মোট সম্পদ প্রথমবারের মতো এক ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করে। তবে সেই অবস্থান বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। কয়েক দিনের মধ্যেই স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের দাম কমে গেলে মাস্কের সম্পদও এক ট্রিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যায়। এরপর সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম আবার বাড়তে থাকায় তাঁর সম্পদ ধীরে ধীরে সেই মাইলফলকের কাছাকাছি পৌঁছায়। বিশেষ করে টেসলার তৃতীয় প্রান্তিকের গাড়ি সরবরাহ বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে যাওয়ার পর কোম্পানিটির শেয়ারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর ফলে শুক্রবার এক দিনেই মাস্কের সম্পদ প্রায় ৬১ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ১০০ কোটি ডলার বেড়েছিল বলে ফোর্বস জানিয়েছে। সোমবারও টেসলার শেয়ারের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকে। সকালের লেনদেনে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ১ শতাংশের বেশি বাড়ে। তবে মাস্ককে আবার এক ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের সীমায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে স্পেসএক্সের শেয়ারের উত্থান। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতিটি ১৬৭ ডলারে পৌঁছায়। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে কোম্পানিটিতে মাস্কের মালিকানার মূল্যও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায় এবং তাঁর মোট সম্পদ আবার এক ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা স্পর্শ করে। স্পেসএক্সের শেয়ারের সাম্প্রতিক উত্থানের পেছনে একাধিক ঘটনা রয়েছে। মরগ্যান স্ট্যানলির বিশ্লেষকেরা কোম্পানিটির শেয়ার অবমূল্যায়িত বলে মত দিয়েছেন। একই সঙ্গে গত সপ্তাহে প্রথমবার সফলভাবে কক্ষপথে পৌঁছেছে স্পেসএক্সের স্টারশিপ। স্পেসএক্সের ব্যবসায়িক অবস্থানের পাশাপাশি মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংক্রান্ত কার্যক্রমও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’-এর পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শব্দটি ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পর মাস্কও সেই ধারণাকে সমর্থন করেছেন। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মাস্ক জানান, স্পেসএক্সের অধীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সএআইয়ের নাম পরিবর্তন করে স্পেসএক্সএসআই করা হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি গ্রক নামের চ্যাটবট পরিচালনা করে। তবে সোমবার সকাল পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নাম পরিবর্তনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়নি। গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের অন্যান্য শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মাস্ক। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিয়ে একটি নতুন স্বেচ্ছামূলক সমঝোতা সামনে আনা হয়। ওই সমঝোতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করতে কিছু নির্দেশনা রাখা হয়েছে। তবে ট্রাম্প এটিকে নৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রায় ৩০০ শব্দের ওই সমঝোতায় প্রযুক্তি খাতের ওপর বিস্তারিত নতুন নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়নি। ব্যবসায়িক সম্পদের নতুন মাইলফলকের পাশাপাশি চলতি মাসে আরেক কারণেও আলোচনায় থাকতে পারেন মাস্ক। তাঁকে নিয়ে নির্মিত প্রায় চার ঘণ্টার তথ্যচিত্র ‘মাস্ক’ চলতি মাসে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। তথ্যচিত্রটি প্রথমে নিউইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসে সীমিত পরিসরে প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর ১৬ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এটি মুক্তি পাওয়ার কথা। নির্মাতা অ্যালেক্স গিবনির তথ্যচিত্রটি মাস্ককে নিয়ে সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে বলে প্রাথমিক পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে। মাস্ক অবশ্য তথ্যচিত্রটির সমালোচনা করেছেন। সেখানে তাঁর সম্পর্কে করা কিছু দাবির বিরুদ্ধে নির্মাতার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার হুমকিও দিয়েছেন তিনি। তবে সোমবার মাস্ককে ঘিরে সবচেয়ে বড় খবর তাঁর সম্পদের নতুন উত্থান। টেসলা এবং বিশেষ করে স্পেসএক্সের শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির ফলে ফোর্বসের হিসাবে তাঁর মোট সম্পদ আবার এক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। শেয়ারবাজারে কোম্পানিগুলোর মূল্য পরিবর্তনের সঙ্গে মাস্কের মোট সম্পদের হিসাবও ওঠানামা করতে পারে। ফলে এক ট্রিলিয়ন ডলারের এই সম্পদ নগদ অর্থ নয়, বরং তাঁর মালিকানাধীন বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ও অন্যান্য সম্পদের আনুমানিক বাজারমূল্যের ওপর ভিত্তি করে হিসাব করা। তারপরও সোমবারের হিসাবে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হিসেবে নতুন করে বিরল এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন মাস্ক। শুক্রবারের তুলনায় এক দিনেই ৩০ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার সম্পদ বৃদ্ধির পর আবারও ট্রিলিয়নিয়ার হয়েছেন ইলন মাস্ক। সূত্র: ফোর্বস
ইলন মাস্কের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক হঠাৎ শেষ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন প্রযুক্তি নির্বাহী শিভন জিলিস। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে জিলিস দাবি করেন, কোনো ধরনের আগাম সতর্কতা ছাড়াই তাদের সম্পর্কের ইতি ঘটে। মাস্কের সঙ্গে জিলিসের চার সন্তান রয়েছে। জিলিস লেখেন, এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভালোবাসার সম্পর্ক থেকে বিচ্ছেদের অবস্থায় চলে যাওয়া তার জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সম্পর্ক শেষ হওয়ার আগে তিনি এ ধরনের কোনো পরিবর্তনের আভাস পাননি। তবে বিচ্ছেদের কারণ কী, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। মাস্ক ও জিলিসের চার সন্তানের মধ্যে ২০২১ সালে যমজ সন্তান স্ট্রাইডার ও অ্যাজুর জন্ম নেয়। এরপর ২০২৪ সালে তাদের কন্যা আর্কাডিয়া এবং ২০২৫ সালে ছেলে সেলডনের জন্ম হয়। জিলিস তার পোস্টে সন্তানদের নিয়ে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, তাদের চার সন্তানই তার জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দের উৎস। বিচ্ছেদের ঘোষণা দেওয়ার পাশাপাশি জিলিস মাস্কের সঙ্গে সাম্প্রতিক কিছু ব্যক্তিগত বার্তার স্ক্রিনশটও প্রকাশ করেন। সেখানে ২৪ সেপ্টেম্বরের একটি কথোপকথনে মাস্ককে জিলিসের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে দেখা যায়। একই কথোপকথনে একটি অনুষ্ঠানে তাকে নিজের সঙ্গী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানোর প্রসঙ্গও আসে। এর কয়েক দিনের মধ্যেই সম্পর্কের আকস্মিক সমাপ্তির কথা জানানোয় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর জিলিস এক্সে লিখেছিলেন, “নতুন দিন, নতুন জীবন।” তখন তিনি ওই পোস্টের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। পরে সম্পর্কের বিচ্ছেদের কথা প্রকাশ করার পর আগের পোস্টটি নতুন করে আলোচনায় আসে। মাস্ক তাকে এক্সে অনুসরণ করা বন্ধ করেছেন বলেও একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিচ্ছেদের পরও মাস্কের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং সন্তানদের যৌথভাবে দেখাশোনা করার আশা প্রকাশ করেছেন জিলিস। তিনি বলেন, মাস্কের প্রতি তার গভীর যত্ন ও শুভকামনা রয়েছে। তবে সম্পর্ক কেন শেষ হলো, সে বিষয়ে মাস্ক বা তার প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রকাশ্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে বিচ্ছেদের পেছনের কারণ আপাতত অজানা।
আবারও মার্কিন সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হচ্ছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ঘোষিত নতুন ‘প্রজেক্ট মেরিডিয়ান’ উদ্যোগে সহ-নেতৃত্ব দেবেন তিনি। ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কী ধরনের প্রযুক্তি, অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা প্রয়োজন হবে, তা পর্যালোচনা করাই এই ১২০ দিনের প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। ৩০ সেপ্টেম্বর ভার্জিনিয়ার কোয়ান্টিকোতে দেওয়া ‘স্টেট অব দ্য ফোর্স’ ভাষণে হেগসেথ প্রজেক্ট মেরিডিয়ানের ঘোষণা দেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে কাজ করে পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নত প্রযুক্তি ও ব্যবস্থা চিহ্নিত করা হবে। প্রকল্পের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসব প্রযুক্তি দ্রুত তৈরি, পরীক্ষা ও সামরিক বাহিনীতে ব্যবহারের বিষয়ে সুপারিশ দেওয়ার কথা রয়েছে। মাস্কের সঙ্গে প্রজেক্ট মেরিডিয়ানে সহ-নেতৃত্ব দেবেন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পালমার লাকি এবং মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক স্পিকার নিউট গিংরিচ। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও প্রকৌশলবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি এমিল মাইকেল প্রকল্পটির নেতৃত্ব দেবেন। পাশাপাশি একাডেমিক, নীতি নির্ধারণী ও শিল্প খাতের বিশেষজ্ঞদেরও এতে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। হেগসেথের ঘোষণায় বলা হয়েছে, প্রকল্পটির উদ্দেশ্য নতুন কোনো সামরিক কৌশল বা নীতি তৈরি করা নয়। বরং ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্র কেমন হতে পারে, সেখানে কোন কোন ক্ষেত্র গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কী ধরনের সক্ষমতা প্রয়োজন হবে, তা চিহ্নিত করাই এর কাজ। এর আওতায় উন্নত প্রযুক্তি আবিষ্কার, উন্নয়ন ও সামরিক ব্যবহারে নিয়ে আসার পথও খোঁজা হবে। প্রজেক্ট মেরিডিয়ানের কাজের পরিধি বেশ বিস্তৃত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, নির্দেশিত শক্তি, রোবোটিকস ও জৈবপ্রযুক্তির মতো দ্রুত বিকাশমান প্রযুক্তি ভবিষ্যতের যুদ্ধের ধরন বদলে দিতে পারে বলে প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে। মাটির নিচের পরিবেশ থেকে শুরু করে চাঁদের বাইরের মহাকাশ পর্যন্ত সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ যুদ্ধক্ষেত্র নিয়েও প্রকল্পটিতে চিন্তা করা হবে। প্রকল্পটির জন্য ১২০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে এর পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিবেদনটির একটি অশ্রেণিবদ্ধ সংস্করণ প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে একটি শ্রেণিবদ্ধ অংশও থাকার কথা রয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে এক বছরের বেশি সময় পর আবারও মার্কিন সরকারের কাজে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিরছেন মাস্ক। এর আগে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি বা ডোজের নেতৃত্বে ছিলেন। ২০২৫ সালের মে মাসে সেই দায়িত্ব ছাড়ার পর সরকারের সঙ্গে তাঁর আনুষ্ঠানিক ভূমিকার সমাপ্তি ঘটে। প্রজেক্ট মেরিডিয়ানকে তাঁর সরকারি কাজে ফেরার নতুন অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেছে একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পকে সমর্থনের মাধ্যমে মাস্ক তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন। পরে সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত একটি আইন নিয়ে ট্রাম্প ও মাস্কের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ দেখা দেয়। তবে পরবর্তীতে তাঁদের সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক হয়। সাম্প্রতিক সময়ে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে মাস্ককে আবারও দেখা গেছে। পেন্টাগনের সঙ্গে মাস্কের ব্যবসায়িক সম্পর্কও আগে থেকেই রয়েছে। তাঁর মহাকাশ প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করছে। অন্যদিকে প্রজেক্ট মেরিডিয়ানে তাঁর সহ-নেতা পালমার লাকির প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিলও মার্কিন প্রতিরক্ষা খাতের সঙ্গে কাজ করে। ফলে ভবিষ্যৎ সামরিক প্রযুক্তি নিয়ে এই উদ্যোগে বেসরকারি প্রযুক্তি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সরাসরি যুক্ত করা হচ্ছে। প্রজেক্ট মেরিডিয়ানের পাশাপাশি হেগসেথ একই ভাষণে স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধের জন্য নতুন একটি কমান্ড গঠনের পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ওই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ফলে নতুন প্রকল্পটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও সামনে এসেছে। প্রতিবেদিত তথ্য অনুযায়ী, প্রজেক্ট মেরিডিয়ানে মাস্কের ভূমিকা মূলত ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা নিয়ে পর্যালোচনা ও সুপারিশ করা। অর্থাৎ তিনি পেন্টাগনের নিয়মিত সামরিক কমান্ড কাঠামোর দায়িত্ব নিচ্ছেন না। বরং প্রতিরক্ষা দপ্তরের অধীনে নির্দিষ্ট সময়ের এই উদ্যোগে সহ-নেতৃত্ব দেবেন এবং প্রকল্পের সুপারিশ তৈরিতে অংশ নেবেন।
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মেমফিসে একটি এয়ারস্ট্রিম মোবাইল ট্রেলারে থাকছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআইয়ের মেমফিস প্রকল্পের সম্প্রসারণের কাজ তদারকি করতে তিনি প্রকল্প এলাকার কাছাকাছি অবস্থান করছেন। বিষয়টি মাস্ক নিজেই জানিয়েছেন। ১৫ সেপ্টেম্বর ‘অল-ইন’ পডকাস্টের এক অনুষ্ঠানে ভিডিও সংযোগে অংশ নেন মাস্ক। সেখানে তিনি মেমফিসে নিজের থাকার জায়গাকে মজা করে ‘প্রাসাদ’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জানান, সেটি একটি এয়ারস্ট্রিম ট্রেলার। অনুষ্ঠানে স্পেসএক্সের প্রেসিডেন্ট গুইন শটওয়েলও উপস্থিত ছিলেন। মাস্ক মেমফিসে অবস্থান করছেন এক্সএআইয়ের ‘কলসাস’ সুপারকম্পিউটার প্রকল্পের সম্প্রসারণের কাজের কারণে। প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল পরিচালনা ও প্রশিক্ষণের জন্য এই বিশাল কম্পিউটার অবকাঠামো ব্যবহার করছে। মেমফিসে এক্সএআইয়ের অবকাঠামো আরও বাড়ানোর কাজও চলছে। গুইন শটওয়েল অনুষ্ঠানে বলেন, মাস্ক মেমফিসে থেকে নির্মাণকাজে যুক্ত আছেন। তিনি আরও জানান, মাস্ক এমনভাবে কাজ করেন যে প্রয়োজন হলে কারখানার মেঝেতেও ঘুমিয়ে থাকেন। এর আগে বিভিন্ন প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কর্মস্থলের কাছাকাছি থাকার অভ্যাসও তাঁর ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মাস্কের বর্তমান থাকার জায়গাটি কোনো বিলাসবহুল বাড়ি নয়। এয়ারস্ট্রিমের বিভিন্ন ট্রেলারে সীমিত জায়গার মধ্যে ঘুমানোর ব্যবস্থা, রান্নাঘর ও বাথরুমসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা থাকে। তবে মাস্ক ঠিক কোন মডেলের এয়ারস্ট্রিম ট্রেলারে থাকছেন, তা তিনি জানাননি। বিপুল সম্পদের মালিক হয়েও তুলনামূলক সাধারণ জায়গায় থাকার বিষয়টি মাস্কের জন্য নতুন নয়। ২০২০ সালে তিনি জানিয়েছিলেন, নিজের বেশির ভাগ সম্পত্তি বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন এবং কোনো বাড়ির মালিক থাকতে চান না। পরে অবশ্য টেক্সাসের অস্টিনে একাধিক বাড়ি কেনার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। এর আগেও কাজের প্রয়োজনে কর্মস্থলের কাছাকাছি থাকার নজির রয়েছে মাস্কের। জীবনীকার ওয়াল্টার আইজ্যাকসনের বর্ণনা অনুযায়ী, বিভিন্ন ব্যবসা ও প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি অফিস বা কারখানার কাছাকাছি থেকেছেন। ২০২২ সালে টুইটার অধিগ্রহণের পরও তিনি কোম্পানির কার্যালয়ে ঘুমিয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন। মেমফিসে তাঁর বর্তমান অবস্থানও মূলত কাজকেন্দ্রিক। এক্সএআইয়ের কম্পিউটিং অবকাঠামো সম্প্রসারণের সময় প্রকল্পের কাছাকাছি থেকে কাজের অগ্রগতি দেখছেন তিনি। ফলে বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি হয়েও বর্তমানে তাঁর অস্থায়ী থাকার জায়গা হয়ে উঠেছে টেনেসির একটি এয়ারস্ট্রিম মোবাইল ট্রেলার।
প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের সাবেক সঙ্গী অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার দাবি করেছেন, তাদের সম্পর্কের সময় মাস্ক তাকে বলেছিলেন, ‘গৃহযুদ্ধের আগে অনেক সন্তান’ প্রয়োজন। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অ্যালেক্স গিবনির নির্মিত নতুন তথ্যচিত্র ‘মাস্ক’ প্রদর্শনের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দাবি করেন। সেন্ট ক্লেয়ারের বক্তব্য অনুযায়ী, মাস্ক তাকে এ কথা একটি খুদে বার্তায় জানিয়েছিলেন। তবে তিনি ঠিক কোন অর্থে ‘গৃহযুদ্ধের’ কথা বলেছিলেন, সেটি স্পষ্ট নয়। মাস্ক সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা করতেন, নাকি এমন ধারণাকে উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে সেন্ট ক্লেয়ার মাস্কের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স ব্যবহারের সমালোচনা করেন। সেন্ট ক্লেয়ার বলেন, এক্সে মাস্কের বিভিন্ন বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড বাস্তব জীবনে প্রভাব ফেলছে এবং তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্ল্যাটফর্মটিতে এমন বিভাজন তৈরি করা হচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণ করা না হলে বড় ধরনের সামাজিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এসব অবশ্য সেন্ট ক্লেয়ারের ব্যক্তিগত মতামত ও অভিযোগ, যার সঙ্গে মাস্ক একমত কি না তা তিনি নিজে এই প্রতিবেদনে কোনো মন্তব্য করেননি। অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার ২০২৪ সালে মাস্কের একটি সন্তানের জন্ম দেন। শিশুটির নাম রোমুলাস। তাদের সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দুজনকে ঘিরে ব্যক্তিগত ও আইনি নানা আলোচনা চলছে। সেন্ট ক্লেয়ার ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে রোমুলাসের একক হেফাজত চেয়ে মামলা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে মাস্কও সন্তানের হেফাজত নিয়ে আইনি পদক্ষেপের কথা প্রকাশ্যে জানান। সেন্ট ক্লেয়ারের সাম্প্রতিক বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো, তিনি দাবি করেছেন, মাস্কের পক্ষ থেকে তাকে ৪ কোটি ডলারের একটি গোপনীয়তা চুক্তিতে সই করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবটির সঙ্গে এককালীন অর্থ এবং দীর্ঘমেয়াদি মাসিক অর্থ দেওয়ার বিষয় ছিল। তিনি শেষ পর্যন্ত সেই চুক্তিতে সই করেননি। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে সাংবাদিকদের সেন্ট ক্লেয়ার বলেন, অর্থের বিনিময়ে নীরব থাকার প্রস্তাব পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তিনি গভীরভাবে চিন্তা করেন। শেষ পর্যন্ত সন্তানদের জন্য সত্য বলার সিদ্ধান্তকে তিনি আর্থিক সুবিধার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। এর আগে জুনে ডন লেমন শো পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও সেন্ট ক্লেয়ার একই ধরনের দাবি করেছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাস্কের সম্পদ ব্যবস্থাপক জ্যারেড বার্চাল তার সঙ্গে গোপনীয়তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, প্রথম দিকে মাস্ক তাকে ১৫ লাখ ডলার বাড়ি কেনা ও সঞ্চিত মূলধনের জন্য দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। পরে তার সঙ্গে দীর্ঘ ফোনালাপে গোপনীয়তা চুক্তির বিষয়টি তোলা হয়। তবে এই দাবিগুলোর বিষয়ে মাস্কের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জবাব পাওয়া যায়নি। সেন্ট ক্লেয়ারের বক্তব্যের স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে অর্থের প্রস্তাব কিংবা ব্যক্তিগত বার্তার বিষয়গুলোকে সেন্ট ক্লেয়ারের দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ইলন মাস্কের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। তিনি বর্তমানে ১৪ সন্তানের বাবা হিসেবে পরিচিত এবং চার নারীর সঙ্গে তার সন্তান রয়েছে বলে তথ্যচিত্রটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সেন্ট ক্লেয়ারের সঙ্গে তার সন্তান রোমুলাস ছাড়াও নেভাদা, ভিভিয়ান, গ্রিফিন, কাই, স্যাক্সন, ড্যামিয়ান, এক্স অ্যাশ এ-টুয়েলভ, এক্সা, স্ট্রাইডার, অ্যাজুর, টেকনো, আর্কাডিয়া এবং সেলডন লাইকর্গাসের নাম প্রকাশ্যে এসেছে। ‘মাস্ক’ তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছেন অস্কারজয়ী নির্মাতা অ্যালেক্স গিবনি। প্রায় চার ঘণ্টার এই ছবিতে মাস্কের ব্যক্তিগত জীবন, ব্যবসায়িক উত্থান, টেসলা ও স্পেসএক্সসহ তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য এবং রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ৮ সেপ্টেম্বর ছবিটির বিশ্ব প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। তথ্যচিত্রে সেন্ট ক্লেয়ার ছাড়াও মাস্কের সাবেক স্ত্রী জাস্টিন মাস্ক, তার বাবা এরল মাস্ক, প্রযুক্তি সাংবাদিক জো শিফার, টেসলার সহপ্রতিষ্ঠাতা মার্টিন এবারহার্ড এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞ জিওফ্রে হিন্টনের মতো ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার রয়েছে। মাস্ক নিজে তথ্যচিত্রটিতে সাক্ষাৎকার দেননি। নির্মাতা গিবনি জানিয়েছেন, তিনি মাস্কের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, কিন্তু মাস্ক অংশ নিতে রাজি হননি। মাস্ক এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্যচিত্রটিকে ‘হিট পিস’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। অন্যদিকে গিবনি বলেছেন, তিনি মাস্কের প্রযুক্তি, ব্যবসা, রাজনীতি এবং ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন দিক অনুসন্ধান করে একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তথ্যচিত্রটির নির্মাণ শুরু হয় ২০২৩ সালে। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ২৩২ মিনিট। যুক্তরাষ্ট্রে এটি ১৬ অক্টোবর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে এবং পরে এইচবিও ম্যাক্সে দেখানো হবে। ভেনিসে সেন্ট ক্লেয়ারের বক্তব্যের পর মাস্কের ব্যক্তিগত জীবন, সন্তান নেওয়ার বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি এবং এক্স প্ল্যাটফর্মে তার রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে গৃহযুদ্ধের আগে ‘অনেক সন্তান’ চাওয়ার বক্তব্যসহ এসব তথ্যের বড় অংশই সেন্ট ক্লেয়ারের বর্ণনার ওপর নির্ভরশীল। তাই মাস্কের নিজের বক্তব্য বা স্বাধীন প্রমাণ ছাড়া এগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন না করাই সাংবাদিকতার দিক থেকে যথাযথ। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, পিপল ও ভ্যারাইটি।
আগামী এক দশকের মধ্যে বিশ্বে অন্তত ১০০ কোটি হিউম্যানয়েড বা মানবাকৃতির রোবট তৈরি হবে। আর এই রোবটগুলো পৃথিবীর সব মানুষের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতার চেয়েও বেশি উৎপাদনশীল হবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের জি-২০ সম্মেলনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে স্পেসএক্স ও টেসলার প্রধান নির্বাহী এই মন্তব্য করেন। তিনি ধারণা করছেন, একটি হিউম্যানয়েড রোবটের উৎপাদন ক্ষমতা সাধারণ একজন মানুষের চেয়ে অন্তত পাঁচ গুণ বেশি হবে। এরপর রোবটরাই অন্যান্য রোবট তৈরি করা শুরু করবে, যা একটি রিকার্সিভ বা চক্রাকার প্রভাব তৈরি করবে। ইলন মাস্ক বলেন, শুরুতে এটি খুব ধীরগতিতে এগোলেও পরে তা বিস্ফোরক গতিতে বাড়বে। আজ থেকে ১০ বছর পর আমি বলতে পারি যে, পৃথিবীতে ১০০ কোটিরও বেশি হিউম্যানয়েড রোবট থাকবে। প্রতিটি রোবটের উৎপাদন ক্ষমতা সম্ভবত একজন মানুষের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি হবে। এর মানে হলো, এই ১০০ কোটি রোবট পৃথিবীর সব মানুষের সম্মিলিত ক্ষমতার চেয়েও বেশি কাজ করতে পারবে। তিনি এটিকে একটি রক্ষণশীল হিসাব বলে উল্লেখ করে জানান, তিনি এই বিষয়ে বাজি ধরতেও প্রস্তুত। মাস্কের মতে, একটি রোবটের কার্যকারিতা তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে। সেগুলো হলো এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সফটওয়্যার কতটা উন্নত, রোবটের ভেতরের এআই চিপ কতটা শক্তিশালী এবং রোবটের ইলেকট্রোমেকানিকাল দক্ষতা বা হাত দিয়ে সূক্ষ্ম কাজ করার ক্ষমতা কতটা নিখুঁত। এই তিনটি বিষয়ই দ্রুতগতিতে উন্নত হচ্ছে বলে তিনি জানান। এদিকে স্মার্ট অ্যানালিটিকস গ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৯ হাজার ১০০টি হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহ করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যাশা, চলতি বছর শেষে এই সংখ্যা ৬০ হাজারে পৌঁছাবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৫ লাখে গিয়ে দাঁড়াবে। বর্তমানে হিউম্যানয়েড রোবট তৈরির বাজারে আধিপত্য বিস্তার করছে চীন। বৈশ্বিক সরবরাহের ৯৭ শতাংশেরও বেশি আসছে চীনা নির্মাতাদের কাছ থেকে। এর মধ্যে সাংহাই ভিত্তিক অ্যাজিবট ৮ হাজার ৪০০টি রোবট সরবরাহ করে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এরপরই রয়েছে হাংঝু ভিত্তিক ইউনিটি রোবোটিক্স। অন্যদিকে, ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান টেসলাও তাদের নিজস্ব হিউম্যানয়েড রোবট অপটিমাস বাজারে আনছে। এটি মূলত ঝুঁকিপূর্ণ ও পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। টেসলার লক্ষ্য বছরে ১০ লাখ এমন রোবট উৎপাদন করা। মাস্ক আগেই জানিয়েছিলেন, এই অপটিমাস রোবট ভবিষ্যতে টেসলার মোট মূল্যের প্রায় ৮০ শতাংশ জায়গা দখল করে নিতে পারে। সম্প্রতি চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবট গেমসে চীনা রোবটগুলো মানুষের গড়া রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। পাঁচ দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় ১০০ মিটার স্প্রিন্টে দুটি রোবট কিংবদন্তি অ্যাথলেট উসাইন বোল্টের ৯.৫৮ সেকেন্ডের বিশ্বরেকর্ড ভেঙে দেয়। বেইজিং হিউম্যানয়েড রোবট ইনোভেশন সেন্টারের তৈরি তিয়ানগং আল্ট্রা ৯.৩৯ সেকেন্ডে এবং অনারস লাইটনিং ৯.৪৭ সেকেন্ডে ১০০ মিটার দৌড় শেষ করে। গত বছর তিয়ানগং আল্ট্রা এই দৌড় শেষ করতে ২১.৫০ সেকেন্ড সময় নিয়েছিল, যা প্রমাণ করে মাত্র এক বছরে প্রযুক্তির কতটা বিস্ময়কর উন্নতি হয়েছে। জি-২০ সম্মেলনে মাস্ক আরও বলেন, হিউম্যানয়েড রোবোটিক্স অবিশ্বাস্য পরিবর্তন আনবে। তার ধারণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্ব অর্থনীতিকে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেবে, যার পরিমাণ বছরে ২০ থেকে ৩০ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন, আগামী বছরের শেষের দিকে এআই এমন যেকোনো ডিজিটাল কাজ করতে পারবে, যার জন্য মানুষের হাতের দরকার নেই। এটি দাবার জনপ্রিয় প্রোগ্রাম স্টকফিশ এর মতো শক্তিশালী হয়ে উঠবে, যা বিশ্বের সেরা দাবাড়ুদের অনায়াসে হারাতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনে ইলন মাস্কের মহাকাশ কোম্পানি স্পেসএক্সের শেয়ারে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করেছেন। ২২ আগস্ট প্রকাশিত প্রেসিডেন্টের আর্থিক নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বড় একটি কন্ট্রাক্টর কোম্পানিতে ট্রাম্পের সরাসরি আর্থিক অংশীদারিত্ব তৈরি হয়েছে। নথি অনুযায়ী, ২৩ জুন ট্রাম্প ১৫ হাজার ১ ডলার থেকে ৫০ হাজার ডলারের মধ্যে স্পেসএক্সের শেয়ার কিনেছেন। ১২ আগস্ট তিনি নথিতে স্বাক্ষর করেন। জুন মাসে করা এক হাজারের বেশি স্টক লেনদেনের মধ্যে এই বিনিয়োগও ছিল। ট্রাম্পের এই বিনিয়োগের সময়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর মাত্র ১১ দিন আগে, ১২ জুন স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় এবং রেকর্ড গড়ে। ওই আইপিওতে কোম্পানিটির মূল্যায়ন করা হয়েছিল প্রায় ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংল রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের বিনিয়োগ পোর্টফোলিও তৃতীয় পক্ষের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে পরিচালনা করে। তাদের দাবি, ট্রাম্প বা তার পরিবারের কেউ কোন শেয়ার কেনা বা বিক্রির সিদ্ধান্তে নির্দেশনা, প্রভাব বা মতামত দেওয়ার সুযোগ রাখেন না। ইলন মাস্ক একসময় ট্রাম্পের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা ছিলেন। বর্তমানে স্পেসএক্স যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক খাতের গুরুত্বপূর্ণ কন্ট্রাক্টর এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থার কাছ থেকে নিয়মিত অনুমোদন ও চুক্তি পেয়ে থাকে। ফলে ট্রাম্পের স্পেসএক্সে বিনিয়োগ তাঁর প্রশাসনের সিদ্ধান্তগুলোর সঙ্গে কোম্পানিটির আর্থিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। এদিকে ট্রাম্প সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিক মহাকাশ উৎক্ষেপণের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য তাঁর প্রশাসনকে উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এই খাতে স্পেসএক্স অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান হওয়ায় কোম্পানিটির সঙ্গে সরকারের সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে ফেডারেল আর্থিক নথিতে সম্পদের সঠিক মূল্য প্রকাশ না করে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে মূল্য দেখানো হয়। তাই ট্রাম্প স্পেসএক্সে ঠিক কত ডলার বিনিয়োগ করেছেন এবং কত শেয়ার কিনেছেন, তা প্রকাশিত নথি থেকে নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত সাবেক মিনিয়াপোলিস পুলিশ অফিসার ডেরেক শভিনকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাস্ক দাবি করেন, শভিন অন্যায়ভাবে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং তাকে মুক্তি দেওয়া উচিত। মাস্কের মন্তব্য এসেছে শভিনের আইনজীবীরা তার ২০২১ সালের স্টেট হত্যা মামলার রায় বাতিলের জন্য নতুন আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পর। ১৮ আগস্ট দায়ের করা আবেদনে শভিনের আইনজীবীরা মিনেসোটা কোর্ট অব আপিলসকে তার চলমান আপিল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার অনুরোধ করেছেন, যাতে নতুন কিছু সাংবিধানিক ও প্রক্রিয়াগত অভিযোগ নিয়ে ট্রায়াল কোর্টে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এক্সে মাস্ক লেখেন, শভিনকে অন্যায়ভাবে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, তাই তাকে মুক্তি দেওয়া উচিত। তিনি আরও দাবি করেন, শভিন জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর কারণ ছিলেন না এবং তার মৃত্যুর কোনো উদ্দেশ্যও শভিনের ছিল না। মাস্কের এই মন্তব্যের পক্ষে তিনি কোনো নতুন আদালত নথি বা চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। তবে শভিনের মামলার সরকারি নথিতে ভিন্ন তথ্য রয়েছে। ২০২১ সালের ফেডারেল মামলায় দোষ স্বীকার করার সময় শভিন স্বীকার করেছিলেন যে ফ্লয়েডের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করার মতো শক্তি প্রয়োগ এবং চিকিৎসা সহায়তা না দেওয়ার ফলে ফ্লয়েডের শারীরিক ক্ষতি ও মৃত্যু ঘটে। পরে তাকে ফেডারেল মামলায় ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, যা তার স্টেট মামলার সাজা চলাকালীনই কার্যকর হওয়ার কথা। ২০২০ সালের ২৫ মে মিনিয়াপোলিসে পুলিশি আটকের সময় শভিন ফ্লয়েডের ঘাড় ও পিঠের ওপর হাঁটু রেখে দীর্ঘ সময় ধরে তাকে মাটিতে চেপে রাখেন। ফ্লয়েড তখন হাতকড়া পরা অবস্থায় মাটিতে ছিলেন। ঘটনাটির ভিডিও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও পুলিশি আচরণ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। ২০২১ সালে মিনেসোটা স্টেট কোর্টে শভিনকে দ্বিতীয় ডিগ্রির অনিচ্ছাকৃত হত্যা, তৃতীয় ডিগ্রির হত্যা এবং দ্বিতীয় ডিগ্রির ম্যানস্লটারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে তাকে ২২ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ফেডারেল মামলায়ও তিনি ফ্লয়েডের সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন এবং ২১ বছরের সাজা পান। শভিনের আইনজীবীরা এবার দাবি করছেন, তার মূল বিচারপ্রক্রিয়ায় একাধিক সাংবিধানিক ও প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ছিল। তাদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে প্রসিকিউশনের ক্ষমতা অর্পণ, গ্র্যান্ড জুরি না ডাকা এবং বিচারকের পক্ষপাতের মতো বিষয়। এর আগে শভিনের সাজা বাতিলের প্রচেষ্টাও আদালতে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। মাস্কের নতুন মন্তব্যে শভিনের দণ্ড ও জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুকে ঘিরে পুরোনো বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে। তবে শভিনের নতুন আইনি আবেদন গ্রহণ করা হবে কি না এবং তার দণ্ড বাতিল হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত এখন আদালতের হাতে।
যুক্তরাজ্য কিনে সেখানে বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করবেন ইলন মাস্ক। এমন একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সেটিতে মজা করে মাত্র চার শব্দের জবাব দিয়েছেন টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ক। তাঁর প্রশ্ন, “দাম কত?” মাস্কের এই মন্তব্য দ্রুতই অনলাইনে আলোচনার জন্ম দেয়। কারণ, প্রায় একই প্রশ্ন তিনি করেছিলেন ২০১৭ সালে, যখন এক ব্যক্তি মজা করে তাঁকে টুইটার কিনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তখন মাস্কও জবাব দিয়েছিলেন, “দাম কত?” পাঁচ বছর পর সেই রসিকতাই বাস্তবে রূপ নেয়। ২০২২ সালে প্রায় ৪৪ বিলিয়ন ডলারে টুইটার কিনে নেন তিনি, যা পরে এক্স নামে পরিচিত হয়। সাম্প্রতিক ঘটনাটির শুরু একটি ব্যঙ্গাত্মক নিবন্ধকে ঘিরে। ব্যঙ্গধর্মী সংবাদমাধ্যম দ্য ব্যাবিলন বি এমন একটি কাল্পনিক গল্প প্রকাশ করে, যেখানে বলা হয়, মাস্ক যুক্তরাজ্য কিনে নিয়েছেন এবং সেখানে বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করতে চান। গল্পটি বাস্তব কোনো অধিগ্রহণের খবর নয়, বরং পুরোপুরিই রসিকতা। পোস্টটি আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মাস্ক সেখানে মন্তব্য করেন, “দাম কত?” তাঁর এই সংক্ষিপ্ত জবাবই পুরোনো টুইটার-কেনার ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়। ২০১৭ সালের ২১ ডিসেম্বর মাস্ক টুইটারে লিখেছিলেন, তিনি টুইটার ভালোবাসেন। এর জবাবে এক ব্যবহারকারী তাঁকে প্ল্যাটফর্মটি কিনে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তখন মাস্ক পাল্টা জানতে চান, “দাম কত?” ওই সময় মন্তব্যটি নিছক রসিকতা হিসেবেই দেখা হয়েছিল। কিন্তু ২০২২ সালে মাস্ক সত্যিই টুইটার কেনার প্রস্তাব দেন। শেষ পর্যন্ত ৫৪ দশমিক ২০ ডলার শেয়ারমূল্যে প্রায় ৪৪ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা তাঁর হাতে যায়। এই পুরোনো ঘটনার কারণেই এবার যুক্তরাজ্য কেনার ব্যঙ্গাত্মক পোস্টে মাস্কের একই ধরনের জবাব নতুন মাত্রা পেয়েছে। অনেকে রসিকতা করে প্রশ্ন তুলছেন, টুইটার কেনার মতো এবারও কি তাঁর “দাম কত?” প্রশ্নের পেছনে কোনো বাস্তব পরিকল্পনা রয়েছে? তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাজ্য কেনার কোনো বাস্তব প্রস্তাব বা উদ্যোগের তথ্য নেই। মাস্কের মন্তব্যটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্টের জবাব হিসেবেই এসেছে। এমনকি পরে তিনি যুক্তরাজ্য কেনার কাল্পনিক দৃশ্য নিয়ে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্মিত ভিডিওও শেয়ার করেছেন, যা ঘটনাটিকে আরও হাস্যরসাত্মক করে তুলেছে। মাস্কের সাম্প্রতিক মন্তব্যে তাই মূল আকর্ষণ যুক্তরাজ্য কেনার কোনো বাস্তব পরিকল্পনা নয়, বরং প্রায় এক দশক আগের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রসিকতার সঙ্গে বর্তমান ঘটনার মজার মিল। ২০১৭ সালে টুইটার কেনার প্রসঙ্গে করা সেই একই প্রশ্নের পর কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি সত্যিই প্রতিষ্ঠানটি কিনে নিয়েছিলেন। এবার একই প্রশ্ন যুক্তরাজ্যকে ঘিরে ওঠায় ঘটনাটি স্বাভাবিকভাবেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে টেসলা ও স্পেসএক্স। 'টেরাফ্যাব' নামে এই বিশাল সেমিকন্ডাক্টর কারখানার আয়তন হবে ১০ কোটি বর্গফুটেরও বেশি। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এটি বিশ্বের বর্তমান বৃহত্তম ভবনগুলোকেও আকারে অনেক পেছনে ফেলে দেবে। টেসলা ও স্পেসএক্স বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, হিউস্টনের কাছে গ্রাইমস কাউন্টিতে যৌথভাবে নির্মিতব্য এই মেগা কারখানার প্রথম ধাপে বিনিয়োগ করা হবে ১৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। পরবর্তী ধাপগুলো সম্পন্ন হলে মোট বিনিয়োগ ১১৯ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ইলন মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে দাবি করেছেন, এটি হবে "পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে মূল্যবান ভবন।" প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি চীনের সিচুয়ান প্রদেশের চেংদুতে অবস্থিত নিউ সেঞ্চুরি গ্লোবাল সেন্টারের রেকর্ড ভেঙে দেবে। বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৮৯ লাখ বর্গফুট আয়তনের এই ভবনটিই বিশ্বের বৃহত্তম ভবন হিসেবে পরিচিত। এর ভেতরে রয়েছে কৃত্রিম সমুদ্রসৈকত, স্কি ঢালসহ নানা সুবিধা। প্রস্তাবিত টেরাফ্যাবের আয়তন হবে এর পাঁচ গুণেরও বেশি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন, অ্যাপল পার্ক এবং মল অব আমেরিকার সম্মিলিত আয়তনের চেয়েও অনেক বড় হবে। টেসলা ও স্পেসএক্সের তথ্য অনুযায়ী, একই ছাদের নিচে এখানে সেমিকন্ডাক্টর চিপের নকশা, উৎপাদন, প্যাকেজিং এবং পরীক্ষার কাজ হবে। প্রতিষ্ঠান দুটির দাবি, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংচালিত যান, রোবট এবং মহাকাশ প্রযুক্তির জন্য বর্তমান বৈশ্বিক চিপ উৎপাদন যথেষ্ট নয়। সেই ঘাটতি পূরণেই এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, টেরাফ্যাবে তৈরি হওয়া চিপ টেসলার অপটিমাস মানবাকৃতি রোবট, স্বয়ংচালিত সাইবারক্যাব এবং স্পেসএক্সের পরিকল্পিত মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টারে ব্যবহার করা হবে। লক্ষ্য হচ্ছে বছরে ১ টেরাওয়াটের বেশি কম্পিউটিং সক্ষমতার জন্য প্রয়োজনীয় চিপ উৎপাদন। প্রকাশিত নকশায় দেখা গেছে, ভবনটির নকশা হবে ডানার মতো বিস্তৃত এবং ছাদ হবে স্বচ্ছ। ইলন মাস্কের ভাষায়, এটি হবে "বিজ্ঞান কল্পকাহিনির শহরের" মতো দেখতে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অন্তত ৩ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছে টেসলা ও স্পেসএক্স। নতুন কর্মীদের বড় অংশ গ্রাইমস কাউন্টি ও পাশের ব্রাজোস কাউন্টি থেকে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইন্টেলও এই প্রকল্পে অংশ নেবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে, যদিও তাদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে প্রকল্পটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে কিছু উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। কারখানাটি নির্মিত হবে গিবন্স ক্রিক রিজার্ভয়ার এলাকায়, যেখানে আগে একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ছিল। ডেটা সেন্টারের পানির ব্যবহার নিয়ে টেক্সাসে আগে থেকেই বিতর্ক রয়েছে। এ কারণে স্পেসএক্স জানিয়েছে, তারা স্থানীয় ভূগর্ভস্থ পানির পরিবর্তে ওই জলাধারের পানি ব্যবহার করবে। এছাড়া প্রকল্পের জন্য দেওয়া কর-সুবিধা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা না থাকার অভিযোগ তুলে শত শত বাসিন্দা সম্প্রতি এক কাউন্টি সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের কার্যালয় এই প্রকল্পের জন্য টেক্সাস এন্টারপ্রাইজ ফান্ড থেকে ৩ কোটি ডলারের অনুদান অনুমোদন করেছে। পাশাপাশি প্রকল্পটি রাজ্যের কর্মসংস্থান, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন সুবিধাও পাবে। প্রকল্পটি ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হলে এটি শুধু আয়তনের দিক থেকেই নয়, আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের ক্ষেত্রেও বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শিল্পকেন্দ্রে পরিণত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
‘জুরাসিক পার্ক’ কি কখনও বাস্তবে সম্ভব হবে? কোটি মানুষের কল্পনায় ঘুরপাক খাওয়া এই প্রশ্নটি আবারও আলোচনায় এসেছে প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যকে ঘিরে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিলুপ্ত প্রাণী ফিরিয়ে আনার প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা এগোলেও প্রকৃত ডাইনোসরকে আবার পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা বর্তমান বিজ্ঞানের পক্ষে এখনও সম্ভব নয়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বাস্তবের জুরাসিক পার্ক’ তৈরির একটি ধারণা নিয়ে আলোচনা শুরু হলে ইলন মাস্ক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় লেখেন, তিনি আশা করেন কেউ একদিন এটি বাস্তবায়ন করতে পারবে। তার এই মন্তব্যের পরই বিশ্বজুড়ে ডি-এক্সটিংশন বা বিলুপ্ত প্রাণী পুনরুজ্জীবিত করার প্রযুক্তি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সিনেমায় দেখানো পদ্ধতিতে ডাইনোসর ফিরিয়ে আনা বাস্তবসম্মত নয়। কারণ প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে বিলুপ্ত হওয়া ডাইনোসরদের ব্যবহারযোগ্য ডিএনএ আজ আর সংরক্ষিত নেই। এত দীর্ঘ সময়ে ডিএনএ ভেঙে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেখান থেকে জীবন্ত প্রাণী পুনর্গঠন করা বর্তমান প্রযুক্তিতে সম্ভব নয়। তবে ডি-এক্সটিংশন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা থেমে নেই। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বায়োটেক কোম্পানি উলি ম্যামথ, ডোডো কিংবা মোয়ার মতো তুলনামূলক সাম্প্রতিক সময়ে বিলুপ্ত হওয়া প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনতে জিন সম্পাদনা ও আধুনিক জৈবপ্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এসব প্রকল্পের লক্ষ্য মূলত সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার, যদিও এ নিয়ে বৈজ্ঞানিক ও নৈতিক বিতর্কও রয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভবিষ্যতে জিন প্রকৌশলে আরও বড় অগ্রগতি এলেও ‘জুরাসিক পার্ক’-এর মতো প্রকৃত ডাইনোসরের পৃথিবীতে ফিরে আসার সম্ভাবনা এখনও অত্যন্ত ক্ষীণ। তবে ইলন মাস্কের মন্তব্য দেখিয়ে দিয়েছে, বিজ্ঞান ও কল্পবিজ্ঞানের সীমারেখা নিয়ে মানুষের কৌতূহল এখনও আগের মতোই প্রবল, আর সেই আগ্রহই ডি-এক্সটিংশন প্রযুক্তি নিয়ে নতুন নতুন বিতর্ক ও গবেষণার জন্ম দিচ্ছে।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর প্রথম আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইলন মাস্কের মহাকাশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি আয় করেছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বড় ব্যয় নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের কারণে লেনদেন-পরবর্তী সময়ে কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। স্পেসএক্স জানিয়েছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে তাদের আয় হয়েছে ৭৮১ কোটি ডলার। বাজার বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছিল ৬৯৩ কোটি ডলার। একই সময়ে কোম্পানির প্রতি শেয়ারে লোকসান হয়েছে ৯ সেন্ট, যেখানে বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল ২৬ সেন্ট লোকসানের। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার কোম্পানির আয় বেড়েছে ৯২ শতাংশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্পেসএক্সের নিট লোকসান হয়েছে ৫৪ কোটি ১০ লাখ ডলার। তবে আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানির লোকসান ছিল প্রায় ১০০ কোটি ডলার। আয় বাড়লেও এআই অবকাঠামোতে বিপুল বিনিয়োগের বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের নজরে এসেছে। কোম্পানির সবচেয়ে শক্তিশালী আয়ের উৎস হিসেবে রয়েছে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্টারলিংকের গ্রাহকসংখ্যা বেড়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখে পৌঁছেছে। পাশাপাশি স্পেসএক্সের এআই বিভাগ থেকেও আয় এসেছে। কোম্পানির তিনটি প্রধান বিভাগ—মহাকাশ কার্যক্রম, সংযোগ সেবা এবং এআই বিভাগ—থেকে আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্পেসএক্সের মূলধনী ব্যয় বেড়ে প্রায় ১৮৩৭ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এর বড় অংশ ব্যয় হয়েছে এআই অবকাঠামো তৈরিতে। এই অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় আয় প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম প্রায় ৭ থেকে ৮ শতাংশ কমে যায়। স্পেসএক্স জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এআই সক্ষমতা বাড়ানো এবং স্টারলিংক সেবা সম্প্রসারণে বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় এআই, মহাকাশ প্রযুক্তি ও স্যাটেলাইট ইন্টারনেটকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তবে বড় বিনিয়োগের বিপরীতে দ্রুত মুনাফা দেখাতে পারবে কি না, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ইলন মাস্কের একটি হাতে আঁকা পেন্সিল স্কেচ পোস্ট করে শুধু একটি ইচ্ছার কথাই লিখেছিলেন শিল্পী "আশা করি, একদিন ইলন আমার আঁকা ছবিটি দেখবেন।” কিন্তু প্রশংসা তো দূরের কথা, মাস্ক ছবিটি দেখার পর শিল্পীকে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকেই ব্লক করে দেন। ঘটনাটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ওই পোস্টটি মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ভিউ পায়। হাজারো ব্যবহারকারী ছবিটি শেয়ার ও মন্তব্য করতে শুরু করেন। অনেকেই অপেক্ষা করছিলেন, ইলন মাস্ক ছবিটির কোনো প্রতিক্রিয়া জানাবেন কি না। শেষ পর্যন্ত তিনি পোস্টটি দেখলেও প্রত্যাশিত প্রশংসা বা মন্তব্যের পরিবর্তে শিল্পীকে ব্লক করেন। ব্লক হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করার পর ঘটনাটি আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরে মাস্ক একই আলোচনায় একটি হাসির ইমোজি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। সেই প্রতিক্রিয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে শুরু হয় নানা ধরনের ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট ও মিম তৈরির ঢল। ঘটনার পর অনেক ব্যবহারকারী ইলন মাস্কের নিজেদের আঁকা ছবি প্রকাশ করতে শুরু করেন। কেউ মূল ছবিটি সম্পাদনা করে নতুন সংস্করণ তৈরি করেন, আবার কেউ ‘মেলন মাস্ক’ নামে নানা হাস্যরসাত্মক মিম ছড়িয়ে দেন। অল্প সময়ের মধ্যেই বিষয়টি এক্সের অন্যতম আলোচিত ট্রেন্ডে পরিণত হয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভাইরাল বিতর্কের পরও ইলন মাস্ক শিল্পীর ওপর থেকে ব্লক তুলে নেননি। একটি সাধারণ ভক্তের প্রশংসাসূচক পোস্ট কীভাবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কোটি মানুষের আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে, এই ঘটনাটি তারই আরেকটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স (সাবেক টুইটার) ব্যবহারকারীদের জন্য ‘এক্স মানি’ নামে নতুন আর্থিক সেবা চালু করেছে। প্রাথমিকভাবে আমন্ত্রণভিত্তিক এই সেবার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা একে অপরকে তাৎক্ষণিক অর্থ পাঠাতে পারবেন, পাশাপাশি পাবেন ভিসা-সমর্থিত ডেবিট কার্ড ও অন্যান্য ব্যাংকসদৃশ সুবিধা। নতুন সেবাটি বর্তমানে এক্সের প্রিমিয়াম গ্রাহকদের জন্য চালু হয়েছে। ‘এক্স মানি’ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থ জমা রাখা, ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে (পি-টু-পি) অর্থ স্থানান্তর, বিল পরিশোধ, সরাসরি বেতন গ্রহণ (ডাইরেক্ট ডিপোজিট) এবং ভিসা ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে লেনদেন করা যাবে। এ সেবার ব্যাংকিং অংশীদার হিসেবে রয়েছে ক্রস রিভার ব্যাংক। এক্স জানিয়েছে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী ব্যবহারকারীরা জমাকৃত অর্থের ওপর সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ বার্ষিক মুনাফা এবং যোগ্য কেনাকাটায় ৩ শতাংশ পর্যন্ত ক্যাশব্যাক সুবিধা পাবেন। ডেবিট কার্ডটি এটিএম থেকেও ব্যবহার করা যাবে এবং অ্যাপল ওয়ালেটের মতো ডিজিটাল ওয়ালেটের সঙ্গেও সংযুক্ত করা যাবে। দীর্ঘদিন ধরেই ইলন মাস্ক এক্সকে একটি ‘এভরিথিং অ্যাপ’ বা বহুমুখী সেবা প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথা বলে আসছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বার্তা আদান-প্রদান এবং আর্থিক সেবাকে একই প্ল্যাটফর্মে একীভূত করার লক্ষ্যেই ‘এক্স মানি’ চালু করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে নতুন এ আর্থিক সেবা নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কিছু উদ্বেগও রয়েছে। ভোক্তা সুরক্ষা, আর্থিক নিরাপত্তা এবং সেবাটির ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারণায় আবারও সক্রিয় হচ্ছেন বিশ্বের অন্যতম ধনী উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা তার রাজনৈতিক তহবিল ‘আমেরিকা প্যাক’ পুনরায় সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তুলনায় সাধারণত কম ভোটার উপস্থিতি হয় এমন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকান সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে আনাই হবে এই প্রচারণার মূল লক্ষ্য। এ জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার এবং ডাকযোগে প্রচারণাসহ বিভিন্ন কৌশল গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশেষভাবে এমন রক্ষণশীল ভোটারদের লক্ষ্য করা হবে, যারা সাধারণত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ছাড়া অন্য নির্বাচনে ভোট দিতে আগ্রহী হন না। রিপাবলিকানদের ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে আমেরিকা প্যাক অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের সঙ্গেও সমন্বয় করবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পপন্থী প্রচারণায় আমেরিকা প্যাক ২৬০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছিল। ওই নির্বাচনী চক্রে মাস্ক ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত রাজনৈতিক দাতাদের একজন। তবে এবার তিনি কত অর্থ ব্যয় করবেন, সে বিষয়ে তার প্রতিনিধিরা নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি। একসময় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত মাস্ক দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যয়সংকোচন কর্মসূচি ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি’ (ডিওজিই)-এর নেতৃত্বও দিয়েছিলেন। পরে সরকারি ব্যয় এবং নীতিগত নানা বিষয়ে মতবিরোধের জেরে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই পক্ষের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে এবং রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচেষ্টায় মাস্ক আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে বিপুল অর্থ, তথ্যভিত্তিক প্রচারণা এবং ভোটার সংগঠনে আমেরিকা প্যাকের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে আসন্ন মিডটার্ম নির্বাচনকে ঘিরে মাস্কের এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।