নির্বাচনে জোরালো প্রচারে আবার মাঠে নামছেন ইলন মাস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারণায় আবারও সক্রিয় হচ্ছেন বিশ্বের অন্যতম ধনী উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা তার রাজনৈতিক তহবিল ‘আমেরিকা প্যাক’ পুনরায় সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তুলনায় সাধারণত কম ভোটার উপস্থিতি হয় এমন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকান সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে আনাই হবে এই প্রচারণার মূল লক্ষ্য। এ জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার এবং ডাকযোগে প্রচারণাসহ বিভিন্ন কৌশল গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বিশেষভাবে এমন রক্ষণশীল ভোটারদের লক্ষ্য করা হবে, যারা সাধারণত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ছাড়া অন্য নির্বাচনে ভোট দিতে আগ্রহী হন না। রিপাবলিকানদের ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে আমেরিকা প্যাক অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের সঙ্গেও সমন্বয় করবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পপন্থী প্রচারণায় আমেরিকা প্যাক ২৬০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছিল। ওই নির্বাচনী চক্রে মাস্ক ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত রাজনৈতিক দাতাদের একজন। তবে এবার তিনি কত অর্থ ব্যয় করবেন, সে বিষয়ে তার প্রতিনিধিরা নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি।
একসময় ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত মাস্ক দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যয়সংকোচন কর্মসূচি ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি’ (ডিওজিই)-এর নেতৃত্বও দিয়েছিলেন। পরে সরকারি ব্যয় এবং নীতিগত নানা বিষয়ে মতবিরোধের জেরে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই পক্ষের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে এবং রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচেষ্টায় মাস্ক আবারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে বিপুল অর্থ, তথ্যভিত্তিক প্রচারণা এবং ভোটার সংগঠনে আমেরিকা প্যাকের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে আসন্ন মিডটার্ম নির্বাচনকে ঘিরে মাস্কের এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেয়ারের প্রেসক্রিপশন ওষুধবিষয়ক ‘পার্ট-ডি’ কর্মসূচির জন্য দেওয়া অস্থায়ী ফেডারেল ভর্তুকি ২০২৬ সালের পর আর নবায়ন করা হবে না। এর ফলে ২০২৭ সাল থেকে স্ট্যান্ড-অ্যালোন পার্ট-ডি ওষুধ বিমা পরিকল্পনায় থাকা প্রায় আড়াই কোটি মার্কিন প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী উপকারভোগীর একটি বড় অংশকে বেশি প্রিমিয়াম গুনতে হতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (সিএমএস)। এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য হিল, রয়টার্সসহ একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম। সিএমএস জানিয়েছে, প্রেসক্রিপশন ওষুধের বিমা বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু করা অস্থায়ী ‘পার্ট-ডি প্রিমিয়াম স্ট্যাবিলাইজেশন’ কর্মসূচি ২০২৬ সালেই শেষ হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, বাজার এখন আগের তুলনায় স্থিতিশীল এবং বীমা কোম্পানিগুলোর সরকারি অতিরিক্ত সহায়তা ছাড়াই পরিকল্পনার মূল্য নির্ধারণ করার সক্ষমতা রয়েছে। সিএমএসের প্রশাসক ডা. মেহমেত ওজ বলেন, এই ভর্তুকি কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা এখন আর নেই। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ উপকারভোগীর মাসিক প্রিমিয়াম বৃদ্ধি ১০ ডলারের কম থাকবে এবং অনেকেই পরিকল্পনা পরিবর্তনের মাধ্যমে কম খরচের বিকল্পও বেছে নিতে পারবেন। তবে স্বাস্থ্যনীতি বিশ্লেষক ও ভোক্তা সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, ভর্তুকি প্রত্যাহারের ফলে অনেক বীমা পরিকল্পনার প্রিমিয়াম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে যেসব প্রবীণ স্ট্যান্ড-অ্যালোন পার্ট-ডি পরিকল্পনার ওপর নির্ভরশীল, তাদের ওপর এর প্রভাব বেশি পড়তে পারে। ২০২২ সালের ইনফ্লেশন রিডাকশন অ্যাক্টের আওতায় মেডিকেয়ার পার্ট-ডিতে ওষুধের বার্ষিক নিজস্ব ব্যয়ের সীমা নির্ধারণসহ বেশ কিছু বড় পরিবর্তন আনা হয়। এসব পরিবর্তনের ফলে বীমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক দায় বেড়ে যাওয়ায় বাজারে আকস্মিক প্রিমিয়াম বৃদ্ধি ঠেকাতে অস্থায়ী ভর্তুকি চালু করা হয়েছিল। সেই কর্মসূচির মেয়াদই ২০২৬ সালে শেষ হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের চূড়ান্ত প্রিমিয়াম ও বিভিন্ন পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য আগামী শরতে উন্মুক্ত নিবন্ধন (ওপেন এনরোলমেন্ট) শুরুর আগে প্রকাশ করা হবে। সে সময় উপকারভোগীরা চাইলে কম খরচের অন্য পার্ট-ডি পরিকল্পনা অথবা প্রেসক্রিপশন ওষুধ সুবিধাসহ মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনায় পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন। ভর্তুকি কর্মসূচি বন্ধের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টার অংশ হলেও এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভব করতে পারেন নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল প্রবীণ নাগরিকরা। ফলে ২০২৭ সালের নতুন প্রিমিয়াম ঘোষণা এবং উন্মুক্ত নিবন্ধন পর্বের দিকে এখন নজর রাখছেন লাখো মেডিকেয়ার গ্রাহক।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কুয়েতে চীনা প্রতিষ্ঠানের ভবনে নিহত ১, সংঘাতের নতুন মাত্রা
নির্বাচনে জোরালো প্রচারে আবার মাঠে নামছেন ইলন মাস্ক
এআই দৌড়ে বড় বাজি ট্রাম্পের, পুরোনো পারমাণবিক স্থাপনায় গড়ে উঠছে বিশাল ডেটা সেন্টার
মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আগের বিস্তৃত আমদানি শুল্ক বাতিল হওয়ার পরও নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা থেকে সরে আসছেন না প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বরং ভিন্ন আইনি ভিত্তি ব্যবহার করে নতুন করে শুল্ক কার্যকর করার পথে এগোচ্ছে তাঁর প্রশাসন। এতে আবারও বৈশ্বিক বাণিজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এবার ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় নতুন শুল্ক আরোপ করছে। প্রশাসনের দাবি, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তাদের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক বসানো হবে। এই শুল্ক ৬০টি বাণিজ্য অংশীদারকে প্রভাবিত করবে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানির ৯৯ শতাংশেরও বেশি অংশকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট জরুরি ক্ষমতা ব্যবহার করে আরোপ করা ট্রাম্পের ব্যাপক শুল্ককে আইনসম্মত নয় বলে রায় দেয়। আদালতের ওই সিদ্ধান্তের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি বিদ্যমান কিছু শুল্ক বাড়াবেন এবং প্রয়োজনে নতুন আইনি কাঠামো ব্যবহার করে আবারও শুল্ক আরোপ করবেন। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে নতুন শুল্ক নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়াসহ একাধিক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ব্যবসায়ী সংগঠন ও অর্থনীতিবিদদের একাংশের আশঙ্কা, নতুন শুল্কের প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর পড়তে পারে এবং বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তে পারে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন শুল্ক এবার ভিন্ন আইনের আওতায় আরোপ করা হলেও তা আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নতুন শুল্কের বৈধতা নিয়ে মামলা করেছে। ফলে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আবারও আদালতে গড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
৩৩ বছর পালিয়ে শেষ রক্ষা হলো না, শিশু যৌননিপীড়কের প্রায় ৩০০ বছরের কারাদণ্ড!
ক্যালিফোর্নিয়ার উত্তাল সাগরে মৃত্যুর মুখ থেকে ১০ বছরের শিশুকে ফিরিয়ে আনলেন ১৬ বছরের লাইফগার্ড
তাপপ্রবাহের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিউইয়র্ক, ২০৪০ সালের মধ্যে শহরের ৩০% এলাকায় গাছ লাগানোর পরিকল্পনা
নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যাকসন হাইটস দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি, ভারতীয় ও পাকিস্তানি অভিবাসীদের অন্যতম প্রধান কেনাকাটার কেন্দ্র। এখানকার দক্ষিণ এশীয় গ্রোসারি দোকানগুলোতে প্রতিদিন হাজারো প্রবাসী পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার হয়। তবে গত এক বছরে খাদ্যপণ্য ও কাঁচাবাজারের দাম বেড়ে যাওয়ায় একই পরিমাণ অর্থে আগের তুলনায় কম পণ্য কিনতে পারছেন বলে জানাচ্ছেন অনেক ক্রেতা। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যুরো অফ ল্যাবর স্ট্যাটিসটিক্স ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক-নিউয়ার্ক-জার্সি সিটি অঞ্চলে গত এক বছরে ভোক্তা মূল্যসূচক (CPI) বেড়েছে। একই সময়ে খাদ্যপণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির হার আগের তুলনায় কিছুটা কমলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনও অনেক পরিবারের জন্য চাপের কারণ হয়ে রয়েছে। জ্যাকসন হাইটসের বিভিন্ন বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় গ্রোসারি দোকানে চাল, ডাল, ডিম, দুধ, মাছ, মাংস, তেল, পেঁয়াজ, আলু, টমেটো ও অন্যান্য সবজির দাম দোকানভেদে কিছুটা ভিন্ন হলেও অধিকাংশ পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় বেশি। ফলে মাসিক বাজারের বাজেটও বেড়েছে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী, প্রায় ১০০ ডলারের বাজেটে একটি পরিবারের জন্য ১০ পাউন্ড চাল, এক গ্যালন দুধ, এক ডজন ডিম, কয়েক পাউন্ড মুরগির মাংস, কিছু ডাল, সীমিত পরিমাণ সবজি, ফল এবং প্রয়োজনীয় কিছু মসলা কেনা সম্ভব। তবে এক বছর আগে একই অর্থে আরও বেশি পরিমাণ পণ্য কেনা যেত বলে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে। নিয়মিত বাজার পর্যালোচনা করেন তাদের মতে, মূল্যস্ফীতির হার কমে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে বাজারদর আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। বরং দাম বৃদ্ধির গতি কমলেও পণ্যের মূল্য সাধারণত উচ্চ অবস্থানেই থেকে যায়। এ কারণে ভোক্তারা এখনও উচ্চ বাজারদরের প্রভাব অনুভব করছেন। এপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফুড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান অর্থনীতিবিদ অ্যান্ডি হারিগ বলেন, খুচরা বিক্রেতারা অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ দামে কেনা পণ্যের মজুত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারেন না। ফলে পাইকারি বাজারে পরিবর্তন এলেও খুচরা বাজারে তার প্রভাব পৌঁছাতে সময় লাগে। একই প্রতিবেদনে নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটির কৃষি ও সম্পদ অর্থনীতির অধ্যাপক মাইক ওয়ালডেন বলেন, মূল্যস্ফীতির হার কমলেও ভোক্তারা সাধারণত আগের দামে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পান না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দাম একটি নতুন উচ্চ স্তরে স্থিতিশীল হয়ে যায়। অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার ব্যয়, পরিবহন খরচ, শ্রম ব্যয় এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে খাদ্যপণ্যের দাম এখনও তুলনামূলকভাবে বেশি রয়েছে। ফলে জ্যাকসন হাইটসের অনেক প্রবাসী পরিবার এখন বাজার খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড় প্যাকেটে পণ্য কেনা, বিভিন্ন দোকানের মূল্য তুলনা করা এবং সাপ্তাহিক ছাড়ের সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। তবুও অনেক পরিবারের মাসিক খাদ্য ব্যয় আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিউইয়র্কের এক বাংলাদেশি প্রবাসী আমেরিকা বাংলাকে বলেন, “এক বছর আগেও ৮০ ডলার দিয়ে মোটামুটি এক সপ্তাহের কাঁচাবাজার হয়ে যেত। এখন একই ধরনের কাঁচাবাজার করতে প্রায় ১৫০ ডলার লেগে যায়। তবে শুধু কাঁচাবাজার নয়, পরিবারের অন্যান্য নিয়মিত খরচও বেড়েছে। সব মিলিয়ে আমার চার সদস্যের পরিবারের মাসিক ব্যয় আগের তুলনায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ বেড়ে গেছে। চাল, ডাল, মাছ, মাংস, সবজি প্রায় সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামই বেড়েছে। সংসারের বাজেট সামলানো এখন অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। অর্থনীতিবিদদের ধারণা, আগামী কয়েক মাসেও খাদ্যপণ্যের দাম কিছুটা ওঠানামা করলেও দ্রুত আগের স্তরে নেমে আসার সম্ভাবনা কম। তাই নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ অন্যান্য অভিবাসী পরিবারকে উচ্চ বাজারদরের বাস্তবতার মধ্যেই তাদের মাসিক বাজেট পরিকল্পনা করতে হবে।
চিকিৎসা সেবার নামে চরম প্রতারণা: রোগীদের অজান্তে নিজের শুক্রাণু ব্যবহারের অভিযোগে কাঠগড়ায় মার্কিন চিকিৎসক
যুক্তরাষ্ট্রে তিন দিনে ১৩ দোকান থেকে ৭৫ হাজার ডলারের প্রসাধনী চুরির অভিযোগে দুই বোন গ্রেপ্তার