- প্রচ্ছদ
- Topic
#এয়ারলাইন
যুক্তরাষ্ট্রে ১৯ অক্টোবর থেকে ফ্লাইট বিলম্ব ও বাতিলের কারণ নথিভুক্ত করার নিয়ম বদলাচ্ছে। নতুন নিয়মে ১০ ধরনের ঘটনাকে এয়ারলাইনসের নিয়ন্ত্রণে থাকা কারণের তালিকা থেকে সরিয়ে আলাদা শ্রেণিতে রাখা হবে। এতে ওই সব কারণে ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটলে যাত্রীদের খাবার, হোটেল বা অন্য সুবিধা পাওয়ার সুযোগ কমতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন পরিবহন বিভাগ। এত দিন এয়ারলাইনসের নিয়ন্ত্রণে থাকা কারণে দীর্ঘ বিলম্ব বা ফ্লাইট বাতিল হলে কোম্পানিগুলোর নিজস্ব অঙ্গীকার অনুযায়ী যাত্রীরা বিভিন্ন সুবিধা পেতেন। নতুন নিয়মে নির্দিষ্ট ১০টি কারণ সেই শ্রেণিতে গণনা করা হবে না। পরিবহন বিভাগ বলছে, এর ফলে সুবিধা বা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় এমন ঘটনার সংখ্যা কমতে পারে। তবে কতজন যাত্রী প্রভাবিত হবেন বা সুবিধার পরিমাণ কতটা কমবে, সে হিসাব তাদের কাছে নেই। নতুন শ্রেণিতে থাকছে যাত্রীর মৃত্যুর পর উড়োজাহাজ পরিষ্কারের প্রয়োজন, চরম আবহাওয়া বা বাইরের কোনো বস্তুর আঘাতে উড়োজাহাজের ক্ষতি, এয়ারলাইনস বা তার ঠিকাদারের নিয়ন্ত্রণে নেই এমন ব্যাগেজ ব্যবস্থার ত্রুটি এবং নির্দিষ্ট শর্তে সাইবার হামলা। সরকারি ব্যবস্থার অপ্রত্যাশিত ত্রুটি সরাসরি নিরাপদে ফ্লাইট পরিচালনায় বাধা দিলেও সেটি এই শ্রেণিতে পড়বে। এ ছাড়া জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে ব্রেক অতিরিক্ত গরম হওয়া, ফ্লাইটের আগে সমাধান করতেই হবে এমন অনির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ, এয়ারলাইনসের দায় ছাড়া চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা, বিশৃঙ্খল যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়া এবং আগ্নেয়গিরির ছাই বা ঝোড়ো হাওয়ার কারণে বিমানবন্দর বন্ধ হওয়াও তালিকায় রয়েছে। সব ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি বা রক্ষণাবেক্ষণ এই ছাড়ের আওতায় পড়বে না; নিয়মে নির্দিষ্ট পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে। যাত্রীদের জন্য খাবার ও হোটেলের ব্যবস্থা আর টিকিটের মূল্য ফেরত পাওয়া দুটি আলাদা বিষয়। এয়ারলাইনস ফ্লাইট বাতিল করলে বা সময়সূচিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনলে যাত্রী বিকল্প ফ্লাইট কিংবা ভাউচার গ্রহণ না করে রিফান্ড নিতে পারেন। ফ্লাইট বাতিলের কারণ এয়ারলাইনসের নিয়ন্ত্রণে ছিল কি না, তার ওপর এই রিফান্ডের অধিকার নির্ভর করে না। পরিবহন বিভাগের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ যাত্রায় নির্ধারিত সময়ের অন্তত তিন ঘণ্টা এবং আন্তর্জাতিক যাত্রায় অন্তত ছয় ঘণ্টা পরে গন্তব্যে পৌঁছানোর মতো পরিবর্তন উল্লেখযোগ্য বিলম্বের মধ্যে পড়ে। তবে পরিবর্তিত বা বিকল্প ফ্লাইটে ভ্রমণ করলে সাধারণত পুরো টিকিটের মূল্য ফেরত পাওয়ার নিয়ম প্রযোজ্য হয় না। ২০২৪ সালে পাস হওয়া আইনের নির্দেশনা কার্যকর করতেই পরিবহন বিভাগ এই শ্রেণিবিন্যাস বদলাচ্ছে। ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটলে যাত্রীরা এয়ারলাইনসের কাছে বিলম্বের কারণ জানতে এবং কোম্পানির কাস্টমার সার্ভিস নীতিতে খাবার, হোটেল বা অন্য সুবিধার কী অঙ্গীকার রয়েছে, তা দেখতে পারেন।
জেট ফুয়েলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বড় কয়েকটি এয়ারলাইন ফ্লাইটের সংখ্যা ও সক্ষমতা কমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমেরিকান এয়ারলাইনস, ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ও সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাড়তি জ্বালানি খরচ সামাল দিতে তারা ফ্লাইট সূচি নিয়মিত পর্যালোচনা করছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন আনছেন। ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে জেট ফুয়েলের গড় দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় ৬ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১৮১ দশমিক ৪৬ ডলারে পৌঁছেছে। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি এয়ারলাইনগুলোর পরিচালন ব্যয়ে বড় চাপ তৈরি করছে। আমেরিকান এয়ারলাইনসের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা ডেভন মে জানিয়েছেন, চতুর্থ প্রান্তিকে জেট ফুয়েলের দাম জুলাইয়ে করা পূর্বাভাসের তুলনায় গ্যালনপ্রতি প্রায় ১ ডলার বেশি হতে পারে। এতে শুধু আমেরিকান এয়ারলাইনসের জ্বালানি ব্যয় প্রায় ১০০ কোটি ডলার বাড়তে পারে বলে তিনি জানান। মে বলেন, বাড়তি জ্বালানি খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে বছরের শেষ প্রান্তিকে এয়ারলাইনটির ফ্লাইট সক্ষমতায় আরও কিছু পরিবর্তন আনা হবে। তবে তিনি জানান, চলতি তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে তারা সন্তুষ্ট। আমেরিকান এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রবার্ট আইসমের মতে, জ্বালানির বাড়তি খরচের একটি বড় অংশ যাত্রীদের কাছ থেকে পাওয়া বাড়তি আয় দিয়ে সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, তৃতীয় প্রান্তিকে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এয়ারলাইনটির আয় ১৬ থেকে ১৯ শতাংশ বাড়তে পারে বলে তারা আশা করছেন। এদিকে ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা মাইকেল লেস্কিনেন জানিয়েছেন, জ্বালানির দাম বেশি থাকায় ডিসেম্বরে নির্ধারিত কিছু ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে না। পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিক এবং পরবর্তী সময়েও ফ্লাইট সূচিতে আরও পরিবর্তন আনা হতে পারে। তবে ইউনাইটেডের কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, জ্বালানির দাম বাড়লেও তাদের ফ্লাইট বুকিংয়ে এখনো বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। প্রিমিয়াম যাত্রী, করপোরেট ভ্রমণ এবং সাধারণ শ্রেণির বুকিং—সব ক্ষেত্রেই চাহিদা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী রয়েছে। সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনসও জ্বালানি খরচের চাপ সামাল দিতে ফ্লাইট সক্ষমতা নিয়ে পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে। কোম্পানির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা টম ডক্সি বলেন, ২০২৬ সালের শুরুতে যে পরিমাণ সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তার প্রায় অর্ধেক ইতোমধ্যে বাদ দেওয়া হয়েছে। ডক্সি বলেন, জ্বালানির দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে ফ্লাইট সক্ষমতা কমানো স্বাভাবিক পদক্ষেপ হতে পারে। তবে সাউথওয়েস্টের এক মুখপাত্র পরে জানান, এখন পর্যন্ত সূচিতে যে পরিবর্তন করা হয়েছে তা খুবই সীমিত। ডক্সির বক্তব্যটি মূলত পরিস্থিতি বোঝানোর উদাহরণ ছিল, ইতোমধ্যে নেওয়া কোনো বড় পদক্ষেপের ঘোষণা নয়। সাউথওয়েস্ট জানিয়েছে, শরৎকালের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো বুকিং বাড়তি জ্বালানি খরচের প্রভাব কিছুটা সামাল দিতে সাহায্য করছে। এ কারণে চলতি তৃতীয় প্রান্তিকের আয়সংক্রান্ত পূর্বাভাসও তারা বজায় রেখেছে। এয়ারলাইনগুলো বলছে, যাত্রী চাহিদা এখনো তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী থাকলেও জেট ফুয়েলের দাম কতদিন উচ্চ থাকবে, তার ওপর পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনেকটাই নির্ভর করছে। জ্বালানি খরচ দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে ফ্লাইট সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি যাত্রীদের টিকিটের দামেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানি এয়ারলাইনগুলোর আন্তর্জাতিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানি বিমানকে জ্বালানি, অবতরণ সুবিধা বা টিকিট বিক্রির মতো সেবা দেওয়া বিদেশি প্রতিষ্ঠান মার্কিন সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক রুটে ইরানি এয়ারলাইনগুলোর কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেন, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানি এয়ারলাইনগুলোকে বিশ্বজুড়ে বন্ধ করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ইরানি বিমান বিদেশি বিমানবন্দরে অবতরণ করলে সেটিকে জ্বালানি, অবতরণ-সংক্রান্ত সেবা বা টিকিট বিক্রির সুবিধা দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ইরানের বিমান চলাচল খাতের বিরুদ্ধে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। ওই দিন অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল বা ওএফএসি মোট ৩৬টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে। এর মধ্যে ইরানের বাকি ২৭টি এয়ারলাইনও ছিল। ট্রেজারি বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব এয়ারলাইন ইরানের বিমান চলাচল খাতের মাধ্যমে অস্ত্র, জনবল ও অবৈধ পণ্য পরিবহনে সহায়তা করেছে। এগুলো মার্কিন সরকারের অভিযোগ। নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা ২৭টি এয়ারলাইনের মধ্যে রয়েছে ইরান এয়ার ট্যুর, ইরান আসেমান এয়ারলাইনস, কেশম এয়ার, কিশ এয়ারলাইনস, সেপেহরান এয়ারলাইনস, তাবান এয়ারলাইনস ও মাহান এয়ার-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ট্রেজারি বিভাগের ৮ সেপ্টেম্বরের ঘোষণায় এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। নতুন হুঁশিয়ারির মূল লক্ষ্য ইরানি বিমানগুলো নয়, বরং তাদের আন্তর্জাতিক কার্যক্রম চালাতে সহায়তা করা বিদেশি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বিমানবন্দর, জ্বালানি সরবরাহকারী, গ্রাউন্ড সার্ভিস প্রতিষ্ঠান এবং টিকিট বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান ইরানি এয়ারলাইনকে সেবা দেওয়া চালিয়ে গেলে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে। এর ফলে ইরানি এয়ারলাইনগুলোর আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে বড় ধরনের বাস্তব সমস্যা তৈরি হতে পারে। কারণ একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য শুধু উড়োজাহাজ ও ক্রু যথেষ্ট নয়; বিমানবন্দরে অবতরণ, জ্বালানি নেওয়া, যাত্রীসেবা এবং টিকিট বিক্রির মতো বিভিন্ন সেবা প্রয়োজন। বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এড়াতে ইরানি বিমানকে এসব সেবা না দিলে আন্তর্জাতিক রুট পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে সরাসরি সব ইরানি উড়োজাহাজকে শারীরিকভাবে আকাশে উড্ডয়ন থেকে নিষিদ্ধ করা হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না। মূল চাপটি তৈরি করা হচ্ছে বিদেশি সেবা প্রদানকারীদের ওপর। ফলে বাস্তবে কতগুলো ফ্লাইট বন্ধ হবে বা কোন কোন রুটে প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করবে বিদেশি বিমানবন্দর ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি কীভাবে মোকাবিলা করে তার ওপর। ইরানের বিমান চলাচল খাতের ওপর এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট-এর অংশ। ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, এই অভিযানের মাধ্যমে ইরানের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, তেল বাণিজ্য, আর্থিক নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে রাখার ঝুঁকি বাড়ানো হচ্ছে। এরই মধ্যে ইরানি এয়ারলাইন মাহান এয়ারের আন্তর্জাতিক কার্যক্রম নিয়েও চাপ বাড়ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পর তুরস্ক ও ওমান মাহান এয়ারের ফ্লাইট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, ইরানি বিমান চলাচলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ বিমান খাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। সোর্স: রয়টার্স; যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ; আল জাজিরা; দ্য ন্যাশনাল
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় এয়ারলাইন আলাস্কা এয়ার গ্রুপ চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার (৭৬ মিলিয়ন) নিট লোকসানের কথা জানিয়েছে। কোম্পানির দাবি, ইরান যুদ্ধসহ বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জেট জ্বালানির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তাদের ব্যয় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে শক্তিশালী যাত্রীচাহিদার কারণে আগামী প্রান্তিকে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। আলাস্কা এয়ার গ্রুপের প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৩০ জুন শেষ হওয়া দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির নিট লোকসান হয়েছে ৭৬ মিলিয়ন ডলার বা শেয়ারপ্রতি ৬৮ সেন্ট। গত বছরের একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি ১৭ কোটি ২০ লাখ ডলার মুনাফা করেছিল। যদিও একই সময়ে কোম্পানির মোট রাজস্ব ১০ শতাংশ বেড়ে ৪ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বেন মিনিকুচ্চি বলেন, ব্যবসার মূল ভিত্তি আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়েছে। বছরের প্রথমার্ধে সময়নিষ্ঠ ফ্লাইট পরিচালনায় শিল্পে শীর্ষ অবস্থানে ছিল আলাস্কা এয়ার। এছাড়া হাওয়াইয়ান এয়ারলাইন্সের সঙ্গে একীভূতকরণের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হয়েছে এবং সিয়াটল থেকে রোম, লন্ডন ও রেইকিয়াভিকে নতুন আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও চালু হয়েছে। তার ভাষায়, জ্বালানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি না হলে প্রতিষ্ঠানটি লাভজনক প্রান্তিক পার করত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে জেট জ্বালানির গড় মূল্য গ্যালনপ্রতি ৪ দশমিক ৪৩ ডলারে পৌঁছায়, যা এক বছর আগের তুলনায় ৮৫ শতাংশ বেশি। এর ফলে মাত্র তিন মাসেই কোম্পানির অতিরিক্ত প্রায় ৬০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা এবং রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার কারণে বৈশ্বিক পরিশোধন ব্যয় ও জেট ফুয়েলের দাম বেড়ে যায়। পশ্চিম উপকেন্দ্রিক রুট নেটওয়ার্ক এবং হাওয়াইগামী ফ্লাইট বেশি হওয়ায় আলাস্কা এয়ার এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব তুলনামূলক বেশি অনুভব করেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, জুন মাসেই তারা আবার লাভজনক অবস্থায় ফিরেছে। করপোরেট ভ্রমণ, প্রিমিয়াম সেবা, কার্গো এবং লয়্যালটি কর্মসূচি থেকে আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকে জ্বালানির দাম কিছুটা কমবে ধরে নিয়ে শেয়ারপ্রতি শূন্য থেকে ১ ডলার পর্যন্ত আয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে কোম্পানি। চলতি বছর জ্বালানির মূল্য অস্থির থাকায় আলাস্কা এয়ার আগেই পূর্ণ বছরের আর্থিক পূর্বাভাস স্থগিত করেছিল। তবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে সেপ্টেম্বরে নতুন পূর্ণাঙ্গ পূর্বাভাস প্রকাশ করবে বলে জানিয়েছে কোম্পানি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।