স্কুলে যাওয়ার পথে আটক, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মার্কিন শিক্ষার্থীর কবজি ভাঙার অভিযোগে তদন্ত
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে স্কুলে যাওয়ার পথে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইসিই) কর্মকর্তাদের হাতে আটক ও আহত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ২০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী। ঘটনার পর তাঁর কবজিতে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। একজন মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে এমন আচরণের অভিযোগ সামনে আসায় স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
শিক্ষার্থীর নাম এরিক জেপেদা। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা মারিয়া এলাকার বাসিন্দা এবং সান্তা মারিয়া হাইস্কুলের প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থী। তাঁর এমন কিছু শারীরিক ও যোগাযোগগত প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, যার কারণে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো এবং স্পষ্টভাবে কথা বলা তাঁর জন্য কঠিন।
দ্য গার্ডিয়ানের ৫ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর সকালে প্রতিদিনের মতো হেঁটে স্কুলে যাচ্ছিলেন এরিক। এ সময় মুখোশ পরা কয়েকজন আইসিই কর্মকর্তা তাঁর কাছে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা ও ভিডিও পর্যালোচনা করে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, কর্মকর্তারা তাঁকে মাটিতে ফেলে হাতকড়া পরান এবং একটি সরকারি গাড়িতে তুলে নিয়ে যান।
এরিকের ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মকর্তারা তাঁকে ধরে মাটিতে ফেলে দেন এবং আঘাত করেন। তিনি জানান, ওই সময় তাঁর মনে হয়েছিল তাঁকে মেরে ফেলা হতে পারে। তিনি কোনো অন্যায় করেননি বলেও দাবি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু সময় গাড়িতে রাখার পর কর্মকর্তারা তাঁকে ছেড়ে দেন। চোখে আঘাত ও কবজিতে তীব্র ব্যথা নিয়ে এরিক বাকি পথ হেঁটে স্কুলে পৌঁছান। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁর শারীরিক অবস্থা দেখে অ্যাম্বুলেন্স ডাকে। তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কবজির হাড় ভাঙার বিষয়টি ধরা পড়ে এবং অস্ত্রোপচার করা হয়।
এরিকের সাবেক বিশেষ শিক্ষা শিক্ষক ও ঘনিষ্ঠ পরামর্শদাতা গ্লেন গোল্ডিন জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এরিককে চেনেন। অনেক চেষ্টার পর গত বছর এরিক একা স্কুলে যাতায়াত শুরু করেছিলেন। কিন্তু এই ঘটনার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং কয়েক সপ্তাহ স্কুলে ফিরতে পারবেন না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি সামনে আসার পর ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন। সিনেটর অ্যাডাম শিফ ঘটনাটিকে হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রতিনিধি সালুদ কারবাহালও পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছেন।
সান্তা মারিয়া পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জেলা অ্যাটর্নি, ক্যালিফোর্নিয়া বিচার বিভাগ এবং কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
তবে আইসিই কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। সংস্থাটির বক্তব্য অনুযায়ী, কর্মকর্তারা একটি নির্দিষ্ট অভিবাসনবিষয়ক অভিযানে ছিলেন। তাঁদের ধারণা হয়েছিল, এরিক তাঁদের খোঁজা ব্যক্তির বর্ণনার সঙ্গে মিলে যাচ্ছেন। সংস্থার দাবি, এরিক কর্মকর্তাদের নির্দেশ মানেননি এবং প্রতিরোধ করেছিলেন। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
আইসিই আরও দাবি করেছে, তাঁর হাড় ভাঙার অভিযোগ সত্য নয় এবং তিনি কর্মকর্তাদের কাছে চিকিৎসা সহায়তা চাননি। অন্যদিকে এরিকের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, হাসপাতালের ছাড়পত্রে কবজির হাড় ভাঙার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে এবং এ কারণে তাঁর অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে।
এই ঘটনার পর স্থানীয় শিক্ষার্থীরাও প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন। সান্তা মারিয়া ও পাশের এলাকার কয়েকটি স্কুলের শত শত শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। তাঁদের বক্তব্য, কোনো শিক্ষার্থী যেন স্কুলে যাওয়ার পথে এমন ঘটনার শিকার না হন।
ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা, আটকের কারণ এবং শারীরিক আঘাতের বিষয়ে এখনো তদন্ত চলছে। তাই পুরো ঘটনার দায় ও পরিস্থিতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।
একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীর স্কুলে যাওয়ার স্বাভাবিক পথ কীভাবে এমন ভীতিকর অভিজ্ঞতায় পরিণত হলো, তা নিয়ে এখন যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা চলছে। তদন্তের ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহির দিকে তাকিয়ে রয়েছেন এরিকের পরিবার, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।
আমেরিকা
View moreম্যানহাটনের এ-ট্রেনে (A train) ১২৫তম স্ট্রিট এবং কলম্বাস সার্কেলের মাঝামাঝি জায়গায় গান গাচ্ছিলেন ২৯ বছর বয়সী শিল্পী শেন ড্যান টার্নার। তিনি গত বছর জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো 'আমেরিকান আইডল'-এর ২৩তম আসরে অংশ নিয়েছিলেন। গান গাওয়ার সময় হঠাৎ এক নারী যাত্রী এসে দাবি করেন, কানে সদ্য অস্ত্রোপচার হওয়ায় এই গানের শব্দে তার মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। এরপর তিনি টার্নারকে গান থামাতে জোর করতে থাকেন। শুধু তাই নয়, টার্নারের শার্টে 'আমি অটিস্টিক' লেখা একটি পিন লাগানো দেখে ওই নারী তাকে উপহাস করে বলেন, এটি কেবলই মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার একটি 'জঘন্য কৌশল'। এরপর তিনি টার্নারের জমানো টিপসের (বখশিশ) টাকা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং তার গান থামাতে নিজেই বিকট শব্দে চিৎকার করতে শুরু করেন! তবে এমন অদ্ভুত ও আক্রমণাত্মক পরিস্থিতিতে টার্নারের সাহায্যে এগিয়ে আসেন ট্রেনে থাকা অন্য যাত্রীরা। তারা ওই নারীর আচরণের কড়া প্রতিবাদ করেন এবং তাকে ট্রেন থেকে নেমে যাওয়ার পরামর্শ দেন। ওই নারী যেন টিপসের বাক্স থেকে আর টাকা নিতে না পারেন, সেজন্য যাত্রীরা সরাসরি টার্নারের হাতে বখশিশ তুলে দিতে থাকেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে টার্নার শান্ত থেকে বিখ্যাত ব্যান্ড 'মাই কেমিক্যাল রোমান্স'-এর "আই ডোন্ট লাভ ইউ" গানটি গাওয়া শুরু করেন। পুরো ঘটনাটি টার্নার পরে ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন। প্রকাশ্যে এমন হেনস্থার শিকার হয়েও ওই নারীর প্রতি কোনো ক্ষোভ দেখাননি তিনি। বরং সহমর্মিতা প্রকাশ করে তিনি জানান, ওই নারী সম্ভবত মানসিক অবসাদে ভুগছেন এবং তার দ্রুত চিকিৎসকের সাহায্য প্রয়োজন। শত উসকানিতেও শান্ত থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলা করায় নেটদুনিয়ায় এখন প্রশংসায় ভাসছেন তরুণ এই শিল্পী।
যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৬৫ হাজার চাকরি বাড়লেও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে না কর্মীদের মজুরি
পরিবারের স্বপ্ন পূরণে যুক্তরাষ্ট্রে এসে নর্থ ক্যারোলাইনায় সড়কে ঝরল ভারতীয় প্রবাসীর প্রাণ
১০ ডলারের অপমান, ৭ লাখ ৮৪ হাজার ডলারের ভালোবাসা পেলেন চার সন্তানের বাবা
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) সঙ্গে একই পরিবারের দুই তরুণের সম্পৃক্ততা নিয়ে আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ করেছেন নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের বাসিন্দা হান্নান ইউ মামুন। পরিবারের একজন সদস্য আরেকজনকে এনওয়াইপিডি পরিবারে স্বাগত জানানোর বিশেষ মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন তিনি। পরিবারের এই অর্জনকে অত্যন্ত আনন্দের ও গর্বের বলে উল্লেখ করেছেন মামুন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করে হান্নান ইউ মামুন জানান, তাঁর এক ভাতিজা বা ভাগনে পরিবারের আরেক সদস্যকে এনওয়াইপিডিতে স্বাগত জানিয়েছেন। ছবিতে নিউইয়র্ক পুলিশের পোশাক পরা এক তরুণকে অন্য একজনের ইউনিফর্মে ব্যাজ বা পদচিহ্ন লাগিয়ে দিতে দেখা যায়। এরপর দুজনকে একসঙ্গে ছবি তুলতেও দেখা যায়। পোস্টে এনওয়াইপিডির ১০৯তম প্রিসিঙ্কটের কথাও উল্লেখ রয়েছে। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে হান্নান ইউ মামুন লেখেন, পরিবারের এমন একটি আনন্দের সংবাদ জানাতে পেরে তিনি অত্যন্ত খুশি ও গর্বিত। তাঁর পরিবারের একজন সদস্য আরেকজনকে এনওয়াইপিডি পরিবারে স্বাগত জানিয়েছেন। এই অর্জনের জন্য দুজনকেই আন্তরিক অভিনন্দন জানান তিনি। মামুন আরও জানান, পরিবারের সদস্যদের এগিয়ে যাওয়া এবং কমিউনিটির সেবায় যুক্ত হতে দেখা তাঁর জন্য বিশেষ আনন্দের। তিনি দুজনের কর্মজীবনে ধারাবাহিক সাফল্য, নিরাপত্তা এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন। তাঁর পোস্টে পারিবারিক বন্ধন ও জনসেবার প্রতি সম্মানবোধের প্রকাশ ঘটেছে। নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ১০৯তম প্রিসিঙ্কট কুইন্সের ফ্লাশিং, কলেজ পয়েন্ট, হোয়াইটস্টোন, মালবা, বিচহার্স্ট ও বে টেরেসসহ বেশ কয়েকটি এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করে। প্রিসিঙ্কটটির প্রধান কার্যালয় ফ্লাশিংয়ের ইউনিয়ন স্ট্রিটে অবস্থিত। এই এলাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক দক্ষিণ এশীয় ও অভিবাসী পরিবারের বসবাস রয়েছে। পরিবারের দুই সদস্যের এই অর্জন নিউইয়র্কে বসবাসকারী তাঁদের স্বজনদের জন্য আনন্দের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। সংবাদসূত্র: হান্নান ইউ মামুনের ফেসবুক পোস্ট , নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ১০৯তম প্রিসিঙ্কটের সরকারি তথ্য।
ছুটির মৌসুমে ফ্লাইট বিলম্বের তালিকায় দ্বিতীয় নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া বিমানবন্দর
ভবিষ্যত পরিবর্তন ঠেকাতে, হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসকে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ ঘোষণা ট্রাম্পের
ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল গার্ডের টহল বাড়ানোর অনুমোদন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি পরিষদ নির্বাচনে জয় পেয়েছেন সোমালি বংশোদ্ভূত ডে-কেয়ার ব্যবসায়ী আবদি দাইসানে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক কনওয়েকে পরাজিত করে মিনেসোটা হাউসের ডিস্ট্রিক্ট ১৪এ আসনে জয়ী হন ডেমোক্র্যাটিক-ফার্মার-লেবার পার্টির এই প্রার্থী। এর মধ্য দিয়ে সেন্ট ক্লাউড এলাকা থেকে প্রথম সোমালি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি হিসেবে অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় নির্বাচিত হওয়ার ইতিহাস গড়েছেন তিনি। তবে তাঁর পরিচালিত শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রের সরকারি অর্থপ্রাপ্তি ও লাইসেন্সসংক্রান্ত অনিয়মের তথ্য সামনে আসায় নির্বাচনী জয়ের পর নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মিনেসোটার সেক্রেটারি অব স্টেটের প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, দাইসানে পেয়েছেন ৯ হাজার ১৬৩ ভোট, যা মোট ভোটের ৫১ দশমিক ৫৯ শতাংশ। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক কনওয়ে পেয়েছেন ৮ হাজার ৫৭০ ভোট বা ৪৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। মাত্র ৫৯৩ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন দাইসানে। এর আগে ২০২৪ সালে একই আসনে রিপাবলিকান প্রার্থী বার্নি পেরিম্যানের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। এবারের নির্বাচনে পেরিম্যান সিনেট আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় খালি হওয়া আসনে জয় পেয়েছেন দাইসানে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) প্রকাশিত ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাইসানে মিনেসোটার সেন্ট ক্লাউড শহরে অবস্থিত ব্লুমিং কিডস চাইল্ড কেয়ার সেন্টারের প্রধান নির্বাহী। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮ সাল থেকে অঙ্গরাজ্যের চাইল্ড কেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রায় ৭২ লাখ ৯০ হাজার ডলার পেয়েছে। নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুদের ডে-কেয়ার সেবা নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারি অর্থ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ২০২০ সাল থেকে ফেডারেল অর্থায়নে পরিচালিত শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের খাদ্যসহায়তা কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৫ লাখ ৯৮ হাজার ডলারের অনুমোদিত অর্থ পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব অর্থপ্রাপ্তির তথ্যের ভিত্তিতে সরকারি তহবিলের ব্যবহার ও সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আলফা নিউজ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্লুমিং কিডসের লাইসেন্সসংক্রান্ত নথিতে একাধিক নিয়ম লঙ্ঘনের তথ্য রয়েছে। মিনেসোটা ডিপার্টমেন্ট অব হিউম্যান সার্ভিসেসের নথিতে ২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন পরিদর্শনের তথ্য পাওয়া যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের হিসাবে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অন্তত ১৬টি লাইসেন্সসংক্রান্ত অনিয়ম শনাক্ত হয়েছিল। এর মধ্যে শিশুদের নাগালের মধ্যে বিপজ্জনক সামগ্রী রাখা, পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি এবং যথাযথ তদারকির অভাবের মতো বিষয় রয়েছে। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে জরিমানার আদেশও জারি করা হয়েছিল। তবে সরকারি লাইসেন্স রেকর্ড অনুযায়ী, ব্লুমিং কিডস বর্তমানে সক্রিয় লাইসেন্স নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে এবং সর্বোচ্চ ১১৩ শিশুকে সেবা দেওয়ার অনুমোদন রয়েছে। অন্যদিকে ব্লুমিং কিডসের খাদ্যসহায়তার অর্থ একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান পার্টনারস ইন নিউট্রিশনের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়েছিল। গত ২৪ সেপ্টেম্বর মিনেসোটার অ্যাটর্নি জেনারেল কিথ এলিসন ঘোষণা করেন, শিশুদের খাবারের সরকারি অর্থ নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ নিষ্পত্তিতে পার্টনারস ইন নিউট্রিশন প্রায় ১ কোটি ৮৫ লাখ ডলার ফেরত দিতে সম্মত হয়েছে। সংস্থাটির বিরুদ্ধে প্রকৃতপক্ষে সরবরাহ না করা খাবারের জন্যও অর্থ দাবি করার অভিযোগ ছিল। তবে ওই মামলায় ব্লুমিং কিডস চাইল্ড কেয়ার সেন্টার কিংবা আবদি দাইসানেকে আসামি করা হয়নি। সরকারি সহায়তা পাওয়া, লাইসেন্সসংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘন এবং আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ—এগুলো পৃথক বিষয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাইসানের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে কোনো অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। নির্বাচনে জয়ের পর দাইসানের ডে-কেয়ার ব্যবসা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ফক্স নিউজ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম দেখতে গিয়েছিলেন তাদের প্রতিবেদকেরা। তাঁরা সেখানে সীমিত কার্যক্রম দেখতে পান। তবে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিষ্ঠানের বাইরে শিশুদের দেখা না যাওয়াকে প্রতারণার প্রমাণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য জানতে দাইসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে দাইসানের নির্বাচনী জয় সেন্ট ক্লাউডের সোমালি আমেরিকান কমিউনিটির রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগামী জানুয়ারিতে তিনি নতুন আইনসভার দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। সংবাদসূত্র: মিনেসোটা ডিপার্টমেন্ট অব হিউম্যান সার্ভিসেস, , FOX News।
ট্রাম্পের ২৫০ ফুট স্মারক তোরণ নির্মাণে অনুমোদন, আটকে দিলেন আদালত
স্কুলে যাওয়ার পথে আটক, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মার্কিন শিক্ষার্থীর কবজি ভাঙার অভিযোগে তদন্ত