- প্রচ্ছদ
- Topic
ক্যালিফোর্নিয়া
ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণ উপকূলে সাগরের প্রবল ঢেউ ও ভাঙনের কারণে একের পর এক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কোথাও ভেঙে পড়েছে কাঠের বোর্ডওয়াক, কোথাও উধাও হয়ে গেছে বাড়ি আর সমুদ্রের মাঝের বালুর সৈকত। ঢেউ আছড়ে পড়ছে বাড়ির ছাদ পর্যন্ত। আর এসব ঘটছে অনেক ক্ষেত্রে বৃষ্টি কিংবা প্রবল বাতাস ছাড়াই। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, শীতকালে এল নিনোর প্রভাব আরও তীব্র হলে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। গত ৯ অক্টোবর রাত সাড়ে ৩টার দিকে লং বিচের উপকূলীয় এলাকায় নিজের অ্যাপার্টমেন্টে ঘুম ভাঙে শন কার্টিসের। বাইরে তাকিয়ে তিনি দেখেন, তাঁর দুই তলা বাড়ির সামনের বোর্ডওয়াক আর নেই। বাড়ি ও সমুদ্রের মাঝখানে থাকা প্রায় ২৫ ফুট চওড়া বালুর সৈকতও ঢেউয়ের তোড়ে হারিয়ে গেছে। চারদিক থেকে নোনা পানি ঢুকছিল। আর তাঁর বাড়িটি ধীরে ধীরে সমুদ্রের দিকে হেলে পড়ছিল। কার্টিসের কাছে প্রথমে দৃশ্যটি বিশ্বাস করা কঠিন মনে হয়। তিনি জানান, দরজার চৌকাঠ ও জানালা বাঁকা হয়ে গিয়েছিল। এরপর একটি বিশাল ঢেউ বাড়ির দিকে আছড়ে পড়ে। ঢেউয়ের পানি দ্বিতীয় তলা পর্যন্ত উঠে যায়। রাস্তার উল্টো পাশের প্রতিবেশীরা বাড়ির ছাদ বেয়ে পানি নেমে আসতেও দেখেন। নয় বছর ধরে ওই বাড়িতে বসবাস করছিলেন কার্টিস। তাঁর ভাষ্য, ঢেউয়ের গর্জন এতটাই জোরালো ছিল যে ঘুম ভেঙে যায়। পানির ধাক্কায় অ্যাপার্টমেন্ট কেঁপে উঠছিল, যেন ভূমিকম্প হচ্ছে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি তাঁর রুমমেটকে নিয়ে প্রাণ বাঁচাতে ছুটে যান। তাঁরা যতটা সম্ভব জিনিসপত্র বাড়ির পেছনের দিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে শোবার ঘরের জানালা দিয়ে নিজের কুকুর লাক্সকে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। তাঁদের বাড়ি আর রক্ষা করা সম্ভব হবে না, তা তখনই বুঝতে পেরেছিলেন কার্টিস। লং বিচের এই উপকূলীয় এলাকায় শুধু কার্টিসের বাড়িই নয়, আরও অনেক বাড়ি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৯ থেকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে এক ডজনের বেশি বাড়ি সমুদ্রে ধসে পড়ে। আটটি স্থাপনা, যেগুলোর মধ্যে মোট ১৩টি বাড়ি ছিল, এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে যে সেগুলোতে প্রবেশ অনিরাপদ ঘোষণা করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলোর কয়েকটির মালিক ও ভাড়াটিয়াকে দ্রুত এলাকা ছাড়তে হয়। ক্ষয়ক্ষতির পেছনে রয়েছে একের পর এক শক্তিশালী ঢেউ, অস্বাভাবিক উচ্চ জোয়ার এবং উপকূলের বালু সরে যাওয়া। হারিকেন মেরি ও পোলোর প্রভাবে আগেই সৈকত ও বোর্ডওয়াকের ক্ষতি হয়েছিল। এরপর ট্রপিক্যাল স্টর্ম র্যাচেলের অবশিষ্ট প্রভাব উপকূলে বড় ঢেউ তৈরি করে। কোনো কোনো ঢেউয়ের উচ্চতা ১৭ ফুট পর্যন্ত পৌঁছায়। গত সপ্তাহান্তে মালিবু থেকে সান ডিয়েগো পর্যন্ত দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় ঢেউ আছড়ে পড়ে। নিউপোর্ট বিচের কিছু এলাকায় পানি ঢুকে পড়ে। লং বিচে বাসিন্দাদের বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, লেগুনা বিচে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় মহাসড়কের (পিসিএইচ) একটি অংশে ফাটল দেখা দেওয়ায় সড়কটি বন্ধ রাখা হয়েছে। সড়কের কিছু অংশও সমুদ্রের দিকে ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। লং বিচের পেনিনসুলা এলাকার বাসিন্দা ডানা মেরি লাজ্জারেশ্চি চার বছর আগে সেখানে ভাড়া থাকতে শুরু করেন। এলাকাটির বৈচিত্র্য ও প্রতিবেশীদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাঁকে আকৃষ্ট করেছিল। বাসিন্দারা একে অপরের খোঁজখবর নিতেন, কুকুর নিয়ে হাঁটতেন, সাইকেল চালাতেন এবং প্রয়োজনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন। কিন্তু বাড়ির ছাদে ঢেউয়ের পানি আছড়ে পড়তে দেখে সেই পরিচিত পরিবেশ নিয়ে তাঁর উদ্বেগ বেড়ে যায়। তিনি জানান, এখন সেখানে বাড়ি কেনার কথা ভাববেন না, যদিও জায়গাটি তাঁর কাছে এখনও স্বপ্নের মতো সুন্দর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপকূলের এই সংকটের পেছনে একাধিক প্রাকৃতিক ও জলবায়ুগত কারণ একসঙ্গে কাজ করছে। বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার কারণে উপকূলীয় বন্যা ও ভাঙনের ঝুঁকি দীর্ঘদিন ধরেই বাড়ছে। এবার তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এল নিনোর শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা। এল নিনো প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ও বায়ুপ্রবাহে পরিবর্তন আনে। এর প্রভাবে আবহাওয়ার ধরন বদলে যেতে পারে, তৈরি হতে পারে শক্তিশালী ঢেউ ও ঝড়। এ ছাড়া সমুদ্রের নিচ দিয়ে চলাচলকারী কেলভিন তরঙ্গ পানির উচ্চতা সাময়িকভাবে বাড়াতে পারে। একা এই তরঙ্গ সাধারণত উপকূলীয় বন্যার বড় কারণ নয়। তবে এর সঙ্গে অস্বাভাবিক উচ্চ জোয়ার ও ঝড়ের ঢেউ যুক্ত হলে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলীয় কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ সালের এল নিনো আরও শক্তিশালী হচ্ছে। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে উপকূলে বেশি ঝড়, বড় ঢেউ, বৃষ্টি ও ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। তবে এল নিনোর প্রভাব সব এলাকায় একই রকম হবে না; স্থানভেদে পরিস্থিতির পার্থক্য থাকতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, লস এঞ্জেলেসের (ইউসিএলএ) উপকূলীয় বন্যা গবেষণাগারের বিশেষজ্ঞ টিমু গ্যালিয়েনের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ভবিষ্যতে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তার একটি আভাস মাত্র। তাঁর আশঙ্কা, বছরের বাকি সময়ে আরও কয়েক দফা উচ্চ জোয়ার উপকূলে নতুন করে বন্যা ও ভাঙন ঘটাতে পারে। এল নিনোর প্রভাব শীতের শুরুতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। লং বিচের মেয়র রেক্স রিচার্ডসন বলেছেন, শহরের পুরোনো অবকাঠামো বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার উপযোগী করে তৈরি করা হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত বোর্ডওয়াক ও প্রতিরক্ষা দেয়ালের ফাঁক কাঠের তক্তা ও বালুর বস্তা দিয়ে সাময়িকভাবে মেরামতের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রবল ঢেউয়ের ধাক্কায় সেই ব্যবস্থা টেকেনি। জোয়ার কমলে মেরামতের কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় বসবাস কতটা নিরাপদ, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দর দৃশ্য ও সমুদ্রের কাছাকাছি থাকার আকর্ষণ থাকলেও এসব স্থানে বসবাসের ঝুঁকি বিবেচনা করা জরুরি। দীর্ঘমেয়াদে বাঁধ, সৈকতে বালু ফিরিয়ে আনা এবং অন্যান্য প্রকৌশলগত ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কার্টিসের বাড়ি ভেঙে ফেলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বাড়ি হারানোর পর কয়েক দিন ধরে তিনি ফোন, ইমেইল, বাড়িওয়ালা, শহরের কর্মকর্তা, পরিবার ও বিমা-সংক্রান্ত বিষয় সামলাতে ব্যস্ত ছিলেন। নিজের প্রিয় সোফাটিকে পরে ড্রোনের ভিডিওতে সমুদ্রে ভাসতে দেখেন তিনি। তবু তাঁর দুঃখ শুধু নিজের ক্ষতি নিয়ে নয়; প্রতিবেশীদের দুর্দশা নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন। এলাকা ছেড়ে চলে যাবেন কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে কার্টিস জানান, উপদ্বীপ ছেড়ে যাওয়ার ইচ্ছা তাঁর নেই। তবে এবার সমুদ্রের বিপরীত পাশে বাড়ি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের উডল্যান্ড শহরে অভিবাসন কর্মকর্তাদের তৎপরতা ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় কিছু পরিবার ঘর থেকে বের হওয়া, সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে। বিষয়টি বিশেষ করে অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় প্রভাব ফেলেছে। স্থানীয় একটি বেকারির মালিক মারিয়া ওলমেদো জানান, অভিবাসন অভিযান নিয়ে উদ্বেগের কারণে তাঁর ব্যবসায় ক্রেতা কমে গেছে। তিনি শুধু ব্যবসা সামলাচ্ছেন না; যারা বাইরে যেতে ভয় পাচ্ছেন, তাঁদের জন্য তথ্য ও সহায়তার ব্যবস্থাও করছেন। কিছু মায়ের সন্তানদের স্কুল থেকে নিয়ে আসতেও সাহায্য করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্বেগ আরও বেড়েছে একটি গাড়ি দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর এক আইসিই কর্মকর্তা চালিত গাড়ি উডল্যান্ডের এক বাসিন্দাকে ধাক্কা দেয়। ওই ব্যক্তি গাড়িটির ভিডিও ধারণ করছিলেন। ঘটনাটি তদন্ত করছে উডল্যান্ড পুলিশ বিভাগ। পুলিশ জানিয়েছে, তারা বিভিন্ন দিকের ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করে বিষয়টি পর্যালোচনা করবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার সব দিক সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষও পরিবারগুলোর উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে আশ্বস্ত করেছে যে, অভিবাসন-স্থিতি নির্বিশেষে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব। অভিভাবকদের মধ্যে কেউ কেউ সন্তানদের স্কুলে পাঠানো এবং স্কুলের কার্যক্রমে অংশ নেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন। অভিবাসন-সংক্রান্ত কোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে পরিবারগুলোর জন্য নির্ভরযোগ্য আইনি তথ্য জানা গুরুত্বপূর্ণ। আইসিই কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের পরিস্থিতিতে কী অধিকার প্রযোজ্য, তা ব্যক্তির পরিস্থিতি ও আইনের ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজবের বদলে বিশ্বস্ত অভিবাসন আইনজীবী বা স্বীকৃত সহায়তা সংস্থার পরামর্শ নেওয়া উচিত। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মরণ করিয়ে দেয়—স্থানীয় স্কুলের বার্তা, শহর কর্তৃপক্ষের ঘোষণা এবং জরুরি যোগাযোগের তথ্য সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। তবে উডল্যান্ডের ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের সব শহরের পরিস্থিতি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না; অভিবাসন অভিযান ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া এলাকাভেদে ভিন্ন হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় দুই গাড়ির সংঘর্ষের পর একটি বক্স ট্রাক হাইওয়ের ডিভাইডারের ওপর আছড়ে পড়ে শূন্যে ঝুলতে থাকে। ট্রাকে আগুন ধরে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে জানালা দিয়ে নিচে লাফিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় প্রাণে বেঁচে যান ট্রাকের এক যাত্রী। ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) সকাল ১০টার দিকে সান ডিয়েগোর মিশন হিলস এলাকার ইন্টারস্টেট-৫ (I-5) হাইওয়েতে রোমহর্ষক এই দুর্ঘটনা ঘটে। ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল (সিএইচপি) সংবাদমাধ্যমকে জানায়, একটি সেডান গাড়ি ও ওই বক্স ট্রাকের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনার তীব্রতায় ট্রাকের চালক ছিটকে বাইরে পড়ে যান। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক পথচারীর ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাকের ভেতরে থাকা এক যাত্রী জানালা দিয়ে বের হয়ে কিছুক্ষণ শূন্যে ঝুলে থাকেন। এরপর নিচে অপেক্ষারত মানুষের সহায়তায় তিনি মাটিতে লাফিয়ে পড়েন। এর পরপরই ট্রাকটিতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে ওই ব্যক্তিকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে দেখা যায়। সান দিয়েগো ফায়ার-রেসকিউ বিভাগের বরাতে জানা যায়, প্রাইভেটকারটিতে থাকা চার যাত্রীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে ট্রাকের চালক ও ওই যাত্রী চিকিৎসকদের সহায়তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। দুর্ঘটনার পর হাইওয়ের একাধিক লেন বন্ধ করে যান চলাচল অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। উদ্ধারকাজ শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাস্তাটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার এক নারী উটাহ অঙ্গরাজ্যে তিন গাড়ির সংঘর্ষে একজনের মৃ ত্যুর ঘটনায় গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগের মুখে পড়েছেন। তদন্তকারীদের দাবি, দুর্ঘটনার দুই মিনিটেরও কম সময় আগে তাঁর মুঠোফোন থেকে প র্ণ ভিডিও দেখার একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা হয়েছিল। নির্মাণকাজের কারণে মহাসড়কে যানবাহনের গতি কমে যাওয়ার সময় তাঁর চালানো গাড়িটি সামনে থাকা একটি গাড়িতে ধাক্কা দেয়। এতে তিনটি গাড়িই সড়কের বাইরে চলে যায় এবং একজন যাত্রী প্রা ণ হারান। অভিযুক্ত নারীর নাম ক্রিস্টিন চাও। ৪৪ বছর বয়সী চাও ক্যালিফোর্নিয়ার রোজমিড শহরের বাসিন্দা। গত ২০ অক্টোবর তাঁর বিরুদ্ধে গাড়ি চালানোর সময় ফোন ব্যবহারসংক্রান্ত কারণে প্রা ণহানির অভিযোগ আনা হয়। উটাহ অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী, এটি দ্বিতীয় শ্রেণির গুরুতর অপরাধ। দুর্ঘটনাটি ঘটে গত ১২ জুন, উটাহের জুয়াব কাউন্টিতে লেভান এলাকার কাছে ইন্টারস্টেট ১৫ মহাসড়কের উত্তরমুখী লেনে। ওই সময় সড়কে নির্মাণকাজ চলছিল। ফলে যানবাহনগুলোকে গতি কমিয়ে চলতে হচ্ছিল। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, চাও একটি নীল রঙের এসইউভি চালাচ্ছিলেন। সামনে থাকা গাড়িগুলোর গতি কমে এলে তাঁর গাড়িটি একটি সাদা সেডানের পেছনে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার কারণে সেডানটি সামনে থাকা একটি কালো এসইউভির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তিনটি গাড়িই মহাসড়কের বাইরে চলে যায়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে পৌঁছান জরুরি সেবাকর্মী ও হাইওয়ে টহল পুলিশ। সেডান গাড়িতে থাকা ৬৬ বছর বয়সী স্কট লিচফিল্ড মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরে তাঁর মৃ ত্যু হয়। তিনি উটাহের ফিলমোর শহরের বাসিন্দা ছিলেন। পুলিশের কাছে চাও দুর্ঘটনার দায় স্বীকার করেছিলেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংঘর্ষের আগে তিনি গাড়ির গতি কমানোর চেষ্টা করেছিলেন কি না, তা নিয়ে তদন্তকারীদের সন্দেহ তৈরি হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ সড়কে ব্রেক করার কোনো চিহ্ন দেখতে পায়নি। তদন্তকারীদের মতে, এমন চিহ্ন থাকলে সংঘর্ষের আগে গাড়ি থামানোর চেষ্টা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেত। এরপর তদন্তের অংশ হিসেবে চাওয়ের মুঠোফোন জব্দ করা হয়। ফোনের তথ্য পরীক্ষা করতে আদালতের অনুমতিও নেওয়া হয়। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা দেখতে পান, দুর্ঘটনার দুই মিনিটেরও কম সময় আগে ফোনটি থেকে প র্ণ ভিডিও দেখার জন্য পরিচিত একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা হয়েছিল। তদন্তে ফোনের এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে ওয়েবসাইটে প্রবেশের তথ্য পাওয়া গেলেও সংঘর্ষের ঠিক মুহূর্তে চাও কী করছিলেন, সে বিষয়ে প্রকাশিত নথিতে বিস্তারিত তথ্য নেই। ফোনে ওয়েবসাইট ব্যবহারের সময় এবং দুর্ঘটনার মধ্যকার সম্পর্ক তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও, অভিযোগের সব বিষয় আদালতে প্রমাণিত হওয়া এখনো বাকি। চাওকে দুর্ঘটনার দিন ঘটনাস্থল থেকে গ্রে প্তার করা হয়নি। তদন্তের পর তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয় এবং আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়। আগামী ১৭ নভেম্বর উটাহে তাঁর প্রথম আদালত উপস্থিতির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। গাড়ি চালানোর সময় ফোন ব্যবহার চালকের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। বিশেষ করে নির্মাণকাজের এলাকায় যানবাহনের গতি হঠাৎ কমে গেলে সামনের গাড়ির সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই মামলায় ফোন ব্যবহারের সঙ্গে দুর্ঘটনার সম্পর্ক কতটা ছিল, তা বিচারিক প্রক্রিয়ায় মূল্যায়ন করা হবে। চাওয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তাঁকে নির্দোষ বলে বিবেচনা করার আইনি নীতি প্রযোজ্য থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচিতে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের ভুয়া বিল জমা দেওয়ার অভিযোগে ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে বিচার বিভাগ। তাঁদের মধ্যে ছয়জন চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট পেশাজীবী রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ঘোষিত অভিযানে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগগুলো মাদকাসক্তির চিকিৎসাকেন্দ্র, রক্তনালির চিকিৎসা, জীবনাবসান পর্যায়ের রোগীদের সেবাকেন্দ্র বা হসপিস এবং ফার্মেসির বিলসংক্রান্ত কয়েকটি পৃথক মামলার। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় মামলায় ভুয়া মাদকাসক্তি চিকিৎসার নামে বেসরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানে ১৬০ কোটি ডলারের বেশি বিল জমা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ওই মামলায় অভিযুক্ত চারজনের বিরুদ্ধে গৃহহীন ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল ব্যক্তিদের চিকিৎসার কথা বলে বিভিন্ন স্থান থেকে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় আনার অভিযোগ করা হয়েছে। সরকারি কৌঁসুলিদের দাবি, যাতায়াত, থাকার জায়গা, অর্থ ও অন্যান্য সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের আনা হতো। পরে যথাযথ চিকিৎসা না দিয়েও বিমা প্রতিষ্ঠানে সেবার বিল পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্ট আরেক মামলায় ১৯ কোটি ৯০ লাখ ডলারের ভুয়া বিল জমা দেওয়ায় সহায়তার অভিযোগ স্বীকার করেছেন এক ব্যক্তি। পৃথক মামলায় একজন সার্জন ও একজন কাইরোপ্র্যাক্টরের বিরুদ্ধে রোগীদের প্রয়োজন ছাড়াই রক্তনালিতে অস্ত্রোপচার করিয়ে মেডিকেয়ারে প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বিল জমা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। বিচার বিভাগের দাবি, এসব অস্ত্রোপচারে কিছু রোগী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ ছাড়া তিনটি হসপিস সেবাসংক্রান্ত মামলায় মোট ১৩ কোটি ৮০ লাখ ডলারের বেশি ভুয়া বিলের অভিযোগ রয়েছে। আরেকটি মামলায় ক্যালিফোর্নিয়ার মেডিকেইড কর্মসূচি ‘মেডি-ক্যাল’-এ প্রায় ২৭ কোটি ডলারের ভুয়া ওষুধের বিল জমা দেওয়ার অভিযোগে আগে অভিযুক্ত এক নারীর বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ; ফক্স ১১ লস অ্যাঞ্জেলেস।
ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রায় ২৫০ জন শীর্ষ ধনকুবেরের ওপর এককালীন ৫ শতাংশ কর আরোপের বিষয়ে আগামী মাসে ভোট দেবেন সেখানকার ভোটাররা। আর এই বিলিয়নেয়ার ট্যাক্সের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে শীর্ষ ধনীদের ওপর। নিজের সম্পদ ও কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ বাঁচাতে আগেভাগেই নড়েচড়ে বসেছেন মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ। বিপুল অঙ্কের এই কর মেটাতে গিয়ে তাকে মেটার শেয়ার বিক্রি করতে হতে পারে। তবে এতে যেন কোম্পানির ওপর তার একচ্ছত্র আধিপত্য খর্ব না হয়, তা নিশ্চিত করতেই মূলত শেয়ার পুনর্গঠনের এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ২৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মালিক মার্ক জাকারবার্গ বর্তমানে বিশেষ শ্রেণির শেয়ারের বদৌলতে মেটার যেকোনো বড় সিদ্ধান্তে একক আধিপত্য বা ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। সম্প্রতি মেটার এক আর্থিক নথিতে বলা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার প্রস্তাবিত এই নতুন কর পরিশোধের জন্য জাকারবার্গকে মেটার কিছু শেয়ার বিক্রি করতে হবে। তিনি মেটার পরিচালনা পর্ষদকে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, শেয়ার বিক্রির কারণে তার একক ভোটাধিকার ঝুঁকিতে পড়লে তিনি ক্যালিফোর্নিয়া থেকে কোম্পানির সদর দপ্তর অন্য কোথাও সরিয়ে নিতে বাধ্য হবেন। জাকারবার্গের এমন হুমকির পর মেটার পরিচালনা পর্ষদ সদর দপ্তর স্থানান্তরের ঝুঁকি এড়াতে কোম্পানির শেয়ার কাঠামো এমনভাবে ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে তিনি কিছু শেয়ার বিক্রি করলেও মেটার ওপর তার সম্পূর্ণ ভোটাধিকার ও নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে। মেটার শেয়ার কাঠামো পরিবর্তনের এই চেষ্টা অবশ্য নতুন কিছু নয়। প্রায় এক দশক আগেও কোম্পানিটি ঠিক একই ধরনের একটি উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে সে সময় জাকারবার্গ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের বিনিময়ে নিজের ক্ষমতা কুক্ষিগত করছেন— এমন অভিযোগ তুলে অন্যান্য শেয়ারহোল্ডাররা মামলা করলে মেটা সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়। এবার ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন করনীতির চাপে সেই পুরোনো বিতর্কিত পথে মেটা আবারও হাঁটতে পারবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) ডলারের এক বিশাল চিকিৎসা জালিয়াতি চক্রের পর্দাফাঁস করেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। অকারণে অস্ত্রোপচার, গৃহহীনদের পুনর্বাসনের নামে প্রতারণা এবং ভুয়া চিকিৎসা বিল তৈরির অভিযোগে বৃহস্পতিবার চিকিৎসা পেশার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিসহ মোট ১৫ জনকে অভিযুক্ত করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। এর মধ্যে ১.৬ বিলিয়ন ডলারের একটি ভুয়া রিহ্যাব বা মাদকাসক্তি নিরাময় জালিয়াতির ঘটনাও রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এ ধরনের সবচেয়ে বড় জালিয়াতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই চক্রের অন্যতম হোতা ৬১ বছর বয়সী কাইরোপ্র্যাক্টর ড. হানি মালেককে গ্রেপ্তার করতে লস অ্যাঞ্জেলেসের টার্জানায় তার ২০ লাখ ডলারের বিলাসবহুল প্রাসাদে শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালায় এফবিআইয়ের সোয়াট টিম। বৃহস্পতিবার ভোরে সাঁজোয়া যান নিয়ে বাড়িটি ঘিরে ফেলে সশস্ত্র পুলিশ। ফ্ল্যাশ-ব্যাং গ্রেনেডের বিস্ফোরণ ও সাইরেন বাজিয়ে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে তাকে গ্রেপ্তার করে একটি সাঁজোয়া ট্রাকে তোলা হয়। প্রতিবেশীদের কাছে আগে থেকেই প্রতারক হিসেবে পরিচিত এই চিকিৎসক বিলাসবহুল গাড়ি ও নৌকাসহ রাজকীয় জীবনযাপন করতেন। প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, হানি মালেক নিজেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিয়ে রোগীদের ধমনীর রোগের ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করতেন। এরপর ৭৮ বছর বয়সী সার্জন ড. হ্যারল্ড তাবাইয়ের সঙ্গে মিলে সম্পূর্ণ সুস্থ রোগীদের শরীরে অপ্রয়োজনীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার (অ্যাথেরেকটমি) চালাতেন। এমনকি যেসব রোগীর ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি কাজ করেনি, তাদেরও বারবার এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে বাধ্য করা হতো। এভাবে তারা মেডিকেয়ার থেকে ১৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেন, যার ফলে অনেক রোগী গুরুতর শারীরিক ক্ষতির সম্মুখীন হন। অন্যদিকে, ৩৯ বছর বয়সী নাথান ইয়াং এবং তার বাবা ৭১ বছর বয়সী ডেভিড ইয়াংয়ের বিরুদ্ধে ১.৬ বিলিয়ন ডলারের ভুয়া পুনর্বাসন কেন্দ্র চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা দালালদের মাধ্যমে গৃহহীন ও মাদকাসক্তদের টার্গেট করে হোটেলে রাখতেন এবং কোনো থেরাপি বা চিকিৎসা না দিয়েই বীমা কোম্পানির কাছ থেকে কোটি কোটি ডলারের বিল আদায় করতেন। ফার্স্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ইউএস অ্যাটর্নি বিল এসাইলি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, মানুষের জীবন বাঁচানোর শপথ নেওয়া চিকিৎসকদের এমন জঘন্য লোভ ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য বীমা ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
অসাধ্য সাধন করলেন ৩৩ বছর বয়সী মার্কিন ওপেন-ওয়াটার সাঁতারু ক্যাথরিন ব্রিড। মাত্র ১১১ দিনে ক্যালিফোর্নিয়ার পুরো ৯০০ মাইল দীর্ঘ উপকূল সাঁতরে পার হয়ে এক অবিশ্বাস্য ইতিহাস রচনা করেছেন তিনি। গত ১ জুলাই ওরেগন সীমান্ত থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ ও চ্যালেঞ্জিং যাত্রা গত ১৯ অক্টোবর মেক্সিকোর টিজুয়ানা সীমান্তে এসে সফলভাবে সম্পন্ন হয়। প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে আট ঘণ্টা খোলা সমুদ্রে সাঁতার কেটেছেন ক্যাথরিন। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস ও নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এই অর্জন তার কাছে এখনো স্বপ্নের মতো লাগছে। দীর্ঘ চার মাসের এই রোমাঞ্চকর যাত্রাপথ মোটেও সহজ ছিল না। বিশেষ করে 'এল নিনো'র প্রভাবে সমুদ্রের বৈরী আবহাওয়ার কারণে বারবার দিক পরিবর্তন করতে হয়েছে তাকে। এতে সমুদ্রে তার সাঁতারের সময় ও দূরত্ব দুই-ই বেড়ে যায়। এর পাশাপাশি সমুদ্রের দ্রুততম শিকারি হিসেবে পরিচিত 'মাকো হাঙর'-এর মুখোমুখিও হতে হয়েছিল তাকে। তবে হাঙর দেখার মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যেই তাকে নিরাপদে ৫২ ফুট দীর্ঘ নৌকায় তুলে নেন দলের ক্যাপ্টেন মেইসি ব্রিস্টো। ওয়ার্ল্ড ওপেন ওয়াটার সুইমিং অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক কুইন ফিটজগেরাল্ড জানান, এল নিনোর প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এমন উচ্চাভিলাষী এক অভিযান সফল করা ক্যাথরিনের অসাধারণ প্রতিভারই প্রমাণ। ঐতিহাসিক এই অর্জনের পর ক্যাথরিন ব্রিড তার অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে পুরো ক্রু দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। টানা প্রায় চার মাস সমুদ্রের বুকে কাটানোর পর আপাতত ছুটি কাটাতে মধ্য আমেরিকায় এক বন্ধুর বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। এরপর সমুদ্র সংরক্ষণ এবং সাধারণ মানুষকে বড় লক্ষ্য অর্জনে অনুপ্রাণিত করতে নিজের এই রোমাঞ্চকর যাত্রার গল্প সবার কাছে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে এই অদম্য সাঁতারুর।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লং বিচে অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে আটকের সময় এক মার্কিন নাগরিক আহত হওয়ার ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের দাবি উঠেছে। স্থানীয় মেয়র রেক্স রিচার্ডসন ঘটনার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের তদন্ত চলাকালে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) নর্থ লং বিচে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তির নাম রিকার্ডো গনজালেস। তিনি শহরটির সাবেক কর্মী। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তিনি বাড়িতে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ১১। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে গনজালেসকে হাতকড়া পরা অবস্থায় রাস্তার পাশে উপুড় করে চেপে রাখতে দেখা যায়। এ সময় তাঁকে সাহায্য চাইতে এবং নিজের হাত ভেঙে যাওয়ার কথা বলতে শোনা যায়। তাঁর স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, কর্মকর্তারা তাঁকে টেজার দিয়ে বৈদ্যুতিক শকও দেন। তবে আঘাতের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাগত বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, ঘটনার সময় গনজালেস একটি ই-বাইক চালাচ্ছিলেন। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে একটি চিহ্নবিহীন এসইউভিকে একমুখী সড়কে উল্টো দিক দিয়ে চলতে দেখা যায়। তবে ক্যামেরার অবস্থানের কারণে গাড়িটির সঙ্গে ই-বাইকের সংঘর্ষ হয়েছিল কি না, তা ওই ফুটেজ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লং বিচ পুলিশের ভাষ্য, গাড়ি ভাঙচুর এবং একজনের চিকিৎসাসহায়তার প্রয়োজন হওয়ার কথা জানিয়ে আইসিই স্থানীয় জরুরি সেবা চেয়েছিল। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ কর্মকর্তারা গনজালেসকে হাতকড়া পরা ও রক্তাক্ত অবস্থায় পান। তাঁকে কাছের একটি ফায়ার স্টেশনে নেওয়ার পর হাতকড়া খুলে দেওয়া হয়। পরে দমকল বিভাগের কর্মীরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, তারা অভিবাসন অভিযানটিতে অংশ নেয়নি এবং কাউকে গ্রেপ্তারও করেনি। সোমবার মেয়র রিচার্ডসন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মহাপরিদর্শকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ পাঠান। কেন গনজালেসকে আটক করা হয়েছিল, তাঁর ক্ষেত্রে বর্ণগত পরিচয়ের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল কি না এবং কেন তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হয়নি, এসব প্রশ্নের জবাব চেয়েছেন তিনি। তদন্তের প্রমাণ সংরক্ষণ এবং প্রতিবেদন প্রকাশেরও দাবি জানিয়েছেন মেয়র। কংগ্রেস সদস্য রবার্ট গার্সিয়াও ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছেন। অন্যদিকে আইসিই দাবি করেছে, সরকারি গাড়ির আয়না ভাঙার পর ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। সংস্থাটি ই-বাইকে থাকা কাউকে গাড়ি দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম বলপ্রয়োগ করেছেন। সরকারি গাড়ির ক্ষতিসাধনের ঘটনায় সম্ভাব্য অভিযোগ আনার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইসিই। এসব দাবি এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ভোট জালিয়াতির বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। ক্যালিফোর্নিয়ায় নির্বাচনসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগে ২৮ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যটির ভোটার তালিকায় থাকা ২০ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে সম্ভাব্য অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যালট গণনা বন্ধের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ফেডারেল সরকার। তবে ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষ এই তালিকার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং বলেছে, যাচাই করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য তাদের দেওয়া হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ১৯ অক্টোবর জানায়, ‘অপারেশন প্রোটেক্ট দ্য ভোট’ নামের একটি উদ্যোগের আওতায় ক্যালিফোর্নিয়ায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভাগটি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় মার্কিন নাগরিকত্ব সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং ফেডারেল নির্বাচনে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ২৮ জনই যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী। তবে গ্রিন কার্ড থাকলেই মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া যায় না। স্থায়ী বাসিন্দারা বৈধভাবে দেশটিতে বসবাস ও কাজ করতে পারলেও সাধারণভাবে ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার তাঁদের নেই। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, অভিযুক্তদের কেউ কেউ ভোটার নিবন্ধনের সময় নিজেদের মার্কিন নাগরিক বলে দাবি করেছিলেন। তাঁদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিচার এখনো শেষ হয়নি। ফলে আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। বিচার বিভাগ আরও জানিয়েছে, গত সাত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি অঙ্গরাজ্যে অবৈধ ভোট দেওয়া এবং বেআইনিভাবে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের অভিযোগে মোট ১১৩ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব মামলায় অ-মার্কিন নাগরিকের ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া, নিবন্ধন ফরমে নাগরিকত্ব সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং একাধিকবার ভোট দেওয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে। অভিযানের অংশ হিসেবে অক্টোবরের শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মামলার তথ্য প্রকাশ করছে বিচার বিভাগ। ৫ অক্টোবর ১৬ জন অ-মার্কিন নাগরিককে ঘিরে নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগের কথা জানানো হয়। ১২ অক্টোবর অবৈধ ভোট ও প্রতারণামূলক নিবন্ধনসহ বিভিন্ন অভিযোগে আরও ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার তথ্য প্রকাশ করা হয়। ১৬ অক্টোবর নর্থ ক্যারোলাইনা, নিউইয়র্ক ও আইডাহোর ১৬ জনকে ঘিরে অভিযোগের কথা জানানো হয়। এরপর ১৯ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার ঘোষণা আসে। এদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটার তালিকা নিয়ে ফেডারেল সরকারের সঙ্গে রাজ্যটির বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। বিচার বিভাগের মামলায় বলা হয়েছে, রাজ্যের ভোটার তালিকায় ২০ হাজারের বেশি এমন ব্যক্তির নাম রয়েছে, যাঁদের সরকার সম্ভাব্য অ-মার্কিন নাগরিক বলে মনে করছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ চায়, এসব ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যালট গণনা বন্ধ রাখা হোক। কিন্তু ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তারা এই দাবি মেনে নেননি। রাজ্যের সেক্রেটারি অব স্টেট শার্লি ওয়েবার বলেছেন, তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব যাচাই করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য রাজ্যকে দেওয়া হয়নি। রাজ্য কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে অযোগ্য ভোটার হিসেবে চিহ্নিত করলে বৈধ ভোটারদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধন ঠেকাতে রাজ্যে বিদ্যমান সুরক্ষাব্যবস্থাও রয়েছে বলে তারা দাবি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ বিরোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর প্রশাসন যেসব ব্যালটকে সন্দেহজনক বলে চিহ্নিত করেছে, সেগুলো গণনা করা হলে ক্যালিফোর্নিয়ার কর্মকর্তাদের কারাগারে পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, বিচার বিভাগ সতর্ক করেছে, কোনো নির্বাচনী কর্মকর্তা জেনেশুনে অ-মার্কিন নাগরিকদের ভোট গ্রহণ বা গণনায় সহায়তা করলে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত কিংবা ফৌজদারি মামলা হতে পারে। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ভোটারকে সম্ভাব্য অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে তালিকাভুক্ত করাই কোনো নির্বাচনী কর্মকর্তার অপরাধ প্রমাণ করে না। ফৌজদারি দায় প্রতিষ্ঠা করতে হলে প্রমাণ করতে হবে, কর্মকর্তা জানতেন যে ভোটারটি ভোট দেওয়ার যোগ্য নন এবং জেনেশুনে তাঁকে বেআইনি ভোট দিতে সহায়তা করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিশংসন মামলায় তাঁর পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করা আইনজীবী মাইকেল টি. ভ্যান ডার ভিন বলেন, কোনো ব্যক্তিকে সম্ভাব্য অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করার অর্থ এই নয় যে তাঁর ব্যালট প্রক্রিয়াকরণকারী কর্মকর্তা অপরাধ করেছেন। তাঁর মতে, কর্মকর্তারা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেছেন, নাকি জেনেশুনে অবৈধ ভোটে সহায়তা করেছেন—সেটিই হবে আইনি বিবেচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থার সাংবিধানিক আইন বিশেষজ্ঞ মার্ক গ্রাবারও বলেন, কোনো কর্মকর্তা ভোটারের অযোগ্যতার বিষয়টি জেনেও ব্যালট গণনা করেছেন, এমন প্রমাণ প্রয়োজন হবে। হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ডেভিড ফ্রুমকিনের মতে, ভোটারের যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ বা বিরোধ থাকলেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করা যায় না। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার ও ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসনের মধ্যে নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে বিরোধকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। তবে বিচার বিভাগের অভিযোগ এবং রাজ্য সরকারের আপত্তি—দুটিই এখনো আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ। অভিযুক্তদের অপরাধ আদালতে প্রমাণিত হওয়া এবং ভোটার তালিকার বিতর্কিত নামগুলোর প্রকৃত অবস্থা যাচাই হওয়ার আগে এসব অভিযোগকে প্রমাণিত ব্যাপক ভোট জালিয়াতির ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রে এক বছরে ১৩ লাখের বেশি মানুষ গ্রিন কার্ড পেয়েছেন, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যা। ২০২৪ অর্থবছরে মোট ১৩ লাখ ৬৪ হাজার ৯০ জন বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পেয়েছেন। আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ১১ লাখ ৭২ হাজার ৯১০। রাজ্যভিত্তিক হিসাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে ছাড়িয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে ফ্লোরিডা। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসনসংক্রান্ত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৪ অর্থবছরে গ্রিন কার্ড পাওয়া মানুষের সংখ্যা ২০২৩ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৫ থেকে ২০২৪ অর্থবছরের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা। গ্রিন কার্ডের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকেরা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে স্থায়ীভাবে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ পান। রাজ্যভিত্তিক হিসাবে ২ লাখ ১৯ হাজার ৪৭০ জন গ্রিন কার্ডধারী নিয়ে তালিকার প্রথম স্থানে রয়েছে ফ্লোরিডা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ক্যালিফোর্নিয়ায় এই সংখ্যা ২ লাখ ১৭ হাজার ৪২০। অর্থাৎ দুই রাজ্যের মধ্যে ব্যবধান খুব বেশি নয়। তবে আগের বছরের তুলনায় ফ্লোরিডায় গ্রিন কার্ড পাওয়া মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে টেক্সাস। রাজ্যটিতে ২০২৪ অর্থবছরে ১ লাখ ৬০ হাজার ৪০০ জন বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পেয়েছেন। এরপর রয়েছে নিউইয়র্ক, যেখানে এই সংখ্যা ১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৫০। এসব রাজ্যে অভিবাসী জনগোষ্ঠীর বড় উপস্থিতি এবং কর্মসংস্থান ও বসবাসের সুযোগ গ্রিন কার্ডধারীদের সংখ্যায় প্রভাব ফেলতে পারে। ফ্লোরিডায় ২০২৩ অর্থবছরের তুলনায় গ্রিন কার্ড পাওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৬৩ হাজার ৯৭০। শতকরা হিসাবে এই বৃদ্ধি প্রায় ৪১ শতাংশ। টেক্সাসেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। রাজ্যটিতে গ্রিন কার্ডধারীর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৩৩ হাজার ৪৭০ জন বেড়েছে, যা প্রায় ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি। কেন্টাকিতেও গ্রিন কার্ড পাওয়ার সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। ২০২৩ অর্থবছরে রাজ্যটিতে ৭ হাজার ৮৩০ জন স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পেয়েছিলেন। ২০২৪ অর্থবছরে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ হাজার ১২০। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া নিউ জার্সিতে ৫৮ হাজার ১৮০ জন, ইলিনয়ে ৪৪ হাজার ৬৫০ জন, ভার্জিনিয়ায় ৩৭ হাজার ৮৫০ জন, ম্যাসাচুসেটসে ৩৬ হাজার ১৮০ জন, জর্জিয়ায় ৩৫ হাজার ১০০ জন এবং পেনসিলভানিয়ায় ৩৪ হাজার ৮৫০ জন গ্রিন কার্ড পেয়েছেন। অন্যদিকে, কয়েকটি রাজ্যে গ্রিন কার্ড পাওয়া মানুষের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। ওয়াইয়োমিংয়ে ৫১০ জন, ভারমন্টে ৬৩০ জন এবং মন্টানায় ৬৫০ জন স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পেয়েছেন। আলাস্কায় এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১০০ এবং সাউথ ডাকোটায় ১ হাজার ৭০। তবে এসব পরিসংখ্যানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। রাজ্যভিত্তিক তথ্য দিয়ে বোঝা যায়, গ্রিন কার্ড পাওয়ার পর কতজন কোন রাজ্যে বসবাস করছেন। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, প্রত্যেক ব্যক্তি ওই রাজ্য দিয়েই প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন। যারা আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন এবং পরে দেশটির ভেতর থেকেই স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা পেয়েছেন, তারাও এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রক্রিয়া আরও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মুখে পড়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন প্রান্তিকে গ্রিন কার্ড আবেদনের অনুমোদনের হার আগের প্রান্তিকের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে করা আবেদনের অনুমোদনের হার ৮৬ শতাংশ থেকে কমে ৮১ দশমিক ৭ শতাংশে নেমেছে। কর্মসংস্থানভিত্তিক আবেদনের ক্ষেত্রেও অনুমোদনের হার ৯৩ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমে ৯৩ শতাংশ হয়েছে। কিউবার নাগরিকদের আবেদনের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। ওই প্রান্তিকে ৫৮৬টি আবেদনের মধ্যে ১৩৯টি অনুমোদিত এবং ৪৪৭টি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। এতে অনুমোদনের হার দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ, যেখানে আগের প্রান্তিকে হার ছিল ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ। এ ছাড়া ২০২৬ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশটির ভেতরে অবস্থান করে গ্রিন কার্ড পাওয়ার আবেদন একটি বিবেচনাধীন প্রক্রিয়া। ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি না থাকলে সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আবেদনকারীদের সাধারণত বিদেশে কনস্যুলার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের আবেদন সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে। অক্টোবরের শুরুতে শ্রম বিভাগ মাইক্রোসফট ও অ্যাডোবিকে পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন বা পার্ম কর্মসূচি থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করে। এর ফলে প্রতিষ্ঠান দুটির নতুন ও চলমান কিছু আবেদনপ্রক্রিয়া থেমে যায়। তবে মাইক্রোসফট কর্তৃপক্ষ কর্মী ছাঁটাই এবং বিদেশি কর্মীদের নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগের বিরোধিতা করেছে। অন্যদিকে, ১৪ অক্টোবর একটি ফেডারেল আদালত ২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা লটারির নিবন্ধন চালু করার নির্দেশ দেয়। এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে কম অভিবাসন হওয়া দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে লটারিতে নির্বাচিত হলেও ভিসা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীদের অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। সব মিলিয়ে, ২০২৪ অর্থবছরের পরিসংখ্যান যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়া মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরছে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো দেখাচ্ছে, স্থায়ী বসবাসের সুযোগ থাকলেও আবেদনকারীদের জন্য অভিবাসনপ্রক্রিয়ার নিয়ম, যাচাই-বাছাই ও যোগ্যতার শর্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার অভিযোগে হাজারো ব্যক্তির বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিচার বিভাগের সিভিল রাইটস ডিভিশনের প্রধান হারমিত ধিলন। রোববার (১৮ অক্টোবর) সিবিএসের ‘সিক্সটি মিনিটস’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে তদন্ত চলছে। তবে তাঁর এই বক্তব্য হাজারো ব্যক্তির অবৈধ ভোট দেওয়ার ঘটনা প্রমাণিত হওয়ার ঘোষণা নয়। সাক্ষাৎকারে ধিলন বলেন, ফেডারেল নির্বাচনে নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার অনুমতি নেই। বিচার বিভাগের তৎপরতা নির্বাচনব্যবস্থার প্রতি অবিশ্বাস তৈরির উদ্দেশ্যে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি তা অস্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্য, বিদ্যমান উদ্বেগের মধ্যেই অভিযোগগুলো তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ ধরনের তদন্তে সময় লাগে। এই তৎপরতার মধ্যেই গত ১৫ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিচার বিভাগ। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সঙ্গে যৌথ পর্যালোচনার ভিত্তিতে সংস্থাটি দাবি করেছে, অঙ্গরাজ্যটির ভোটার তালিকায় ২০ হাজারের বেশি ব্যক্তি রয়েছেন, যাঁরা সম্ভবত মার্কিন নাগরিক নন। সরকারি বিবৃতিতেও এই শনাক্তকরণকে প্রাথমিক বিশ্লেষণ হিসেবে উল্লেখ করে পর্যালোচনা চলমান থাকার কথা বলা হয়েছে। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রকাশ্যে পাওয়া ভোটার নিবন্ধনের রেকর্ডের সঙ্গে ফেডারেল অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্য মিলিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার নিয়মে প্রত্যেক নিবন্ধিত ভোটারকে ডাকযোগে ব্যালট পাঠানো হয়। নাগরিকত্ব যাচাই না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানো ডাকব্যালট গণনা বন্ধ রাখার আদেশ চেয়েছে ফেডারেল সরকার। তবে ভোটার তালিকায় নাম থাকা, ব্যালট পাওয়া এবং বাস্তবে ভোট দেওয়া পৃথক বিষয়। একইভাবে তথ্যের অমিলের ভিত্তিতে কাউকে সম্ভাব্য অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা তাঁর নাগরিকত্ব বা অপরাধের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। বিচার বিভাগের অভিযোগেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্ভাব্য নাগরিক নন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেট শার্লি ওয়েবার এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি বলেছেন, নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ভোট ঠেকাতে অঙ্গরাজ্যে শক্তিশালী সুরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে। ভোটাধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোও উদ্বেগ জানিয়েছে, পুরোনো অভিবাসন তথ্যের কারণে পরে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের ভুলভাবে চিহ্নিত করা হতে পারে। একাধিক গবেষণায় নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার ঘটনা বিরল বলে উঠে এসেছে। পৃথকভাবে গত ১৬ অক্টোবর বিচার বিভাগ নর্থ ক্যারোলাইনা, নিউইয়র্ক ও আইডাহোতে নাগরিক নন এমন ১৬ ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবৈধ ভোট, মার্কিন নাগরিকত্বের মিথ্যা দাবি ও সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী অপরাধে অভিযোগ আনার ঘোষণা দিয়েছে। এসব ফৌজদারি মামলা এবং হাজারো ব্যক্তিকে নিয়ে চলমান পর্যালোচনা একই বিষয় নয়। অভিযোগ আনা মানেও আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া নয়। সাক্ষাৎকারে ধিলন আরও জানান, ভোটকেন্দ্রে আইসিই এজেন্ট পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। কোনো নাগরিক নন এমন ব্যক্তির অবৈধ ভোট শনাক্ত হলে সেটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভোট চ্যালেঞ্জের কারণ হতে পারে, পুরো নির্বাচন চ্যালেঞ্জের নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিখোঁজ স্ত্রীকে ইমিগ্রেশন এজেন্টরা আটক করে নিয়ে গেছেন বলে দাবি করেছিলেন গুরিন্দর গিল। কিন্তু তদন্তে সেই দাবির সত্যতা মেলেনি। পরে উদ্ধার হওয়া দগ্ধ দেহাবশেষ তাঁর স্ত্রী জেসমিন গিলের বলে শনাক্ত হলে হত্যার অভিযোগে গুরিন্দরকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্যাক্রামেন্টো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় ১৬ অক্টোবর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ১৪ অক্টোবর গুরিন্দরকে গ্রেপ্তার করেন তদন্তকারীরা। তাঁকে স্যাক্রামেন্টো কাউন্টি মেইন জেলে রাখা হয়েছে। তিনি বর্তমানে জামিনের যোগ্য নন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেসমিনকে সর্বশেষ ৩০ সেপ্টেম্বর স্যাক্রামেন্টোর নিজ বাসায় দেখা যায়। ৪ অক্টোবর তাঁর এক কাজিন নিখোঁজের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরিন্দর দাবি করেন, বাসার চিঠিপত্র দেখতে যাওয়ার সময় ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের, সংক্ষেপে আইসিইর, এজেন্টরা জেসমিনকে আটক করে নিয়ে যান। তদন্তকারীরা আইসিইর সঙ্গে যোগাযোগ করলে সংস্থাটি জানায়, ওই বাসায় তাদের কোনো অভিযান বা আটকের ঘটনা ঘটেনি। তদন্ত এগোতে থাকলে স্ত্রীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে গুরিন্দরের বক্তব্যে আরও কয়েকটি অসংগতি পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে শেরিফের কার্যালয়। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, এই দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলছিল। সন্তানের হেফাজত নিয়েও তাঁদের মধ্যে বিরোধ ছিল। এদিকে জেসমিনকে নিখোঁজ হিসেবে জানানোর তিন দিন আগে, ১ অক্টোবর এল ডোরাডো কাউন্টিতে দগ্ধ মানবদেহের অবশেষ উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলো জেসমিনের বলে নিশ্চিত করা হয়। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গুরিন্দরের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেন গোয়েন্দারা। তাঁকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি বাসায় তল্লাশি পরোয়ানাও কার্যকর করা হয়। জেসমিনের মৃত্যুর কারণ কিংবা উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ কীভাবে শনাক্ত করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি শেরিফের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। গুরিন্দরের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হলেও আদালতে তা প্রমাণিত হওয়ার তথ্য ওই বিজ্ঞপ্তিতে নেই।
যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন শরৎ ও শীত মৌসুমে শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে আবহাওয়ার ঝুঁকির মানচিত্র বদলে যেতে পারে। এতে দেশটির কিছু অঞ্চলে বাড়তে পারে ভারী বৃষ্টি, বন্যা, ভূমিধস ও ঝড়ের আশঙ্কা। অন্যদিকে কিছু এলাকায় আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি কমতেও পারে। এর প্রভাব বাড়ির ক্ষয়ক্ষতি, বীমা সুরক্ষা এবং ভবিষ্যতে বীমার খরচের ওপর পড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। এল নিনো প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি প্রাকৃতিক আবহাওয়াগত চক্র। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) জানিয়েছে, চলতি শরৎ ও শীতে এল নিনো ‘খুব শক্তিশালী’ হয়ে উঠতে পারে। আবহাওয়াবিদদের ভাষায়, সম্ভাব্য এই শক্তিশালী পরিস্থিতিকে কেউ কেউ ‘গডজিলা’ এল নিনো বলছেন। এনওএএর জলবায়ু পূর্বাভাস কেন্দ্রের প্রধান আবহাওয়াবিদ স্কট হ্যান্ডেলের মতে, প্রতিটি এল নিনোর বৈশিষ্ট্য এক রকম হয় না। তবে এবার যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল, বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ায় ভারী বৃষ্টি ও বন্যার আশঙ্কা তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। একই সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলেও ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও তীব্র আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর রকি পর্বতমালা ও উত্তর ক্যাসকেডস অঞ্চলে তুষার জমার পরিমাণ কম হতে পারে। পূর্ব উপকূলে উপকূলীয় ঝড়ের ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। এল নিনোর একটি পরিচিত প্রভাব হলো আটলান্টিক মহাসাগরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় তৈরির অনুকূল পরিবেশ দুর্বল করে দেওয়া। এতে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূল, বিশেষ করে ফ্লোরিডার মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা কিছুটা কমতে পারে। তবে সেই সম্ভাব্য সুবিধা ভারী বৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকিকে পুরোপুরি পুষিয়ে দেবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, আসন্ন মৌসুমে পশ্চিম উপকূল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হতে পারে বন্যা। ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ি ও ঢালু এলাকায় ভূমিধস হতে পারে। পশ্চিম উপকূলের বিভিন্ন অংশে ঝোড়ো হাওয়ার পর্বও দেখা দিতে পারে। এসব ঘটনায় বাড়ির ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, পানি ঢুকে পড়া, গাছপালা বা অন্যান্য ধ্বংসাবশেষের আঘাতে সম্পত্তির ক্ষতি এবং অন্যান্য আবহাওয়াজনিত সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকি মানেই এসব ঘটনা নিশ্চিতভাবে ঘটবে, এমন নয়। বাড়ির মালিকদের জন্য উদ্বেগের আরেকটি বিষয় হলো বন্যা বীমার সীমাবদ্ধতা। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বন্যার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা সম্পত্তিগুলোর বড় একটি অংশেরই বন্যা বীমা নেই। সাধারণ বাড়ির বীমা পলিসিতে সাধারণত বন্যার কারণে সরাসরি হওয়া ক্ষয়ক্ষতি অন্তর্ভুক্ত থাকে না। ফলে বন্যার পানি ঘরে ঢুকে আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কিংবা ভবনের ক্ষতি করলে অনেক বাড়ির মালিককে নিজের পকেট থেকেই বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে। রিয়েল এস্টেট বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কোটালিটির প্রধান বিজ্ঞানী হাওয়ার্ড বটসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বন্যার ক্ষয়ক্ষতির বেশির ভাগই সাধারণ বাড়ির বীমায় কাভার হয় না। এ ধরনের ক্ষতির জন্য আলাদা বন্যা বীমা বা নির্দিষ্ট শর্তে ব্যক্তিগত বীমা প্রয়োজন হতে পারে। তবে ঝড়ের বাতাসে ছাদের ক্ষতি কিংবা শীতকালীন ঝড়ে ছাদ চুইয়ে পানি ঢোকার মতো কিছু ক্ষতি সাধারণ বাড়ির বীমার আওতায় আসতে পারে। এদিকে, বন্যার ঝুঁকি মূল্যায়ন নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির (ফেমা) মানচিত্রে কোনো এলাকা উচ্চ ঝুঁকির হিসেবে চিহ্নিত না থাকলেও সেখানে বন্যা হতে পারে। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে ন্যাশনাল ফ্লাড ইন্স্যুরেন্স প্রোগ্রামের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বন্যা বীমা দাবি এসেছে এমন স্থাপনা থেকে, যেগুলো তখনকার মানচিত্রে উচ্চ ঝুঁকির এলাকার বাইরে ছিল। তাই শুধু সরকারি মানচিত্রে নিজের বাড়িকে নিরাপদ দেখেই নিশ্চিন্ত হওয়া উচিত নয়। ফেমার ম্যাপ সার্ভিস সেন্টারে ঠিকানা দিয়ে নিজের এলাকার বন্যার ঝুঁকি যাচাই করা যেতে পারে। ভারী বৃষ্টিতে পানি জমার পাশাপাশি মাটি অতিরিক্ত ভিজে গেলে ভূমিধসের ঝুঁকিও তৈরি হয়। তবে ভূমিধসের ক্ষতি কোন বীমায় কাভার হবে, তা পলিসির ধরন ও শর্তের ওপর নির্ভর করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসন্ন শীতের আগে বন্যা বীমা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জবাবদিহি দপ্তরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা সম্পত্তির ৮৬ শতাংশের বন্যা বীমা নেই। অর্থাৎ, ঝুঁকিপূর্ণ অনেক বাড়িই সম্ভাব্য ক্ষতির আর্থিক সুরক্ষার বাইরে রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সান ডিয়েগোর স্ক্রিপস ইনস্টিটিউশন অব ওশেনোগ্রাফির জলবায়ু অর্থনীতিবিদ টম করিংহ্যামের মতে, ন্যাশনাল ফ্লাড ইন্স্যুরেন্স প্রোগ্রামের (এনএফআইপি) বীমায় সাধারণত ৩০ দিনের অপেক্ষার সময় থাকে। ফলে বড় ঝড়ের পূর্বাভাস আসার পর বীমা কিনতে গেলে প্রয়োজনের সময় সুরক্ষা নাও পাওয়া যেতে পারে। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় সাধারণত জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে বন্যার মৌসুম বেশি সক্রিয় থাকে। তাই সম্ভাব্য ঝুঁকিতে থাকা বাড়ির মালিকদের আগেভাগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। এনএফআইপির আওতায় বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়া—দুই পক্ষই বন্যা বীমা নিতে পারেন। বাড়ির মালিকেরা ভবনের জন্য সর্বোচ্চ আড়াই লাখ ডলার এবং ঘরের ভেতরের জিনিসপত্রের জন্য এক লাখ ডলার পর্যন্ত সুরক্ষা পেতে পারেন। ভাড়াটিয়ারা ভবনের কাঠামোর পরিবর্তে নিজেদের আসবাব ও ব্যক্তিগত সম্পদের জন্য সর্বোচ্চ এক লাখ ডলারের বীমা নিতে পারেন। তবে বন্যা বীমা থাকলেই সব ধরনের ক্ষতির অর্থ পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। এনএফআইপির পলিসিতে সাধারণত অস্থায়ী বাসস্থানের খরচ বা বাড়ি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে গেলে অন্যত্র থাকার অতিরিক্ত ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকে না। তাই বীমা কেনার আগে কোন ধরনের ক্ষতি কাভার হবে এবং কোন খরচ নিজের বহন করতে হবে, তা পরিষ্কারভাবে জেনে নেওয়া জরুরি। এল নিনোর কারণে বাড়ির বীমার খরচ কি সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যাবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি এত সরল নয়। করিংহ্যাম জানিয়েছেন, এল নিনোর পূর্বাভাসের কারণে এনএফআইপি সাধারণত প্রতি শীতে নতুন করে বীমার মূল্য নির্ধারণ করে না। ফেমার ‘রিস্ক রেটিং ২.০’ পদ্ধতিতে বীমার খরচ নির্ধারণে সম্পত্তির দীর্ঘমেয়াদি বন্যার ঝুঁকি, পুনর্নির্মাণের ব্যয় এবং ভবনের বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করা হয়। একটি নির্দিষ্ট মৌসুমে এল নিনোর উপস্থিতি আলাদাভাবে কোনো পরিবারের বীমার মূল্য নির্ধারণের প্রধান ভিত্তি নয়। তবে বেসরকারি বীমা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠান আবহাওয়াজনিত বিপর্যয়ের মডেল, জলবায়ু-সংক্রান্ত তথ্য এবং পুনর্বীমার ব্যয় বিবেচনা করে ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে পারে। কোনো মৌসুমে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলে তার প্রভাব পরবর্তী সময়ে বীমার মূল্য নির্ধারণে পড়তে পারে। কিন্তু এই পরিবর্তন সাধারণত সঙ্গে সঙ্গে বা একবারে হয় না; অনেক ক্ষেত্রে পলিসি নবায়নের সময় তা কার্যকর হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বীমার খরচ বাড়ার পেছনে একটি মৌসুমের আবহাওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়ক্ষতির প্রবণতা ও পুনর্বীমার বাজারের অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। এনএফআইপিতে বার্ষিক প্রিমিয়াম বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সাধারণত ১৮ শতাংশের সীমা থাকায় বন্যাজনিত ব্যয় বাড়লেও তা ধাপে ধাপে প্রতিফলিত হতে পারে। সব মিলিয়ে, শক্তিশালী এল নিনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি অঞ্চলে একই ধরনের প্রভাব ফেলবে না। কোথাও ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি তুলনামূলক কমতে পারে, আবার কোথাও বন্যা, ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কা বাড়তে পারে। বাড়ির মালিকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজেদের এলাকার ঝুঁকি যাচাই করা, বীমার শর্ত ভালোভাবে বোঝা এবং প্রয়োজন হলে আগেভাগে বন্যা বীমার ব্যবস্থা করা। কারণ, বীমার প্রিমিয়াম সঙ্গে সঙ্গে না বাড়লেও একটি বড় আবহাওয়াজনিত দুর্যোগ বাড়ির মালিকদের জন্য বিপুল আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় ক্যালিফোর্নিয়ার তিনটি শহরের সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন প্রার্থী। তাঁরা হলেন শাজিয়া হক, মোহাম্মদ কে. রহমান ও এম এস আলম। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে তাঁরা মন্টেবেলো, পেরিস ও চিনো শহরের বিভিন্ন কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্ট থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে জয়ী হলে নিজ নিজ শহরের উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা নিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন তাঁরা। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির মন্টেবেলো শহরের সিটি কাউন্সিলের ডিস্ট্রিক্ট ১ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শাজিয়া হক। শহরটির সরকারি নির্বাচনী তথ্যেও তাঁর প্রার্থিতার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। ব্যবসা ও কমিউনিটি কার্যক্রমে প্রায় ২০ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে তাঁর পরিচিতিতে জানানো হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, বাজেট ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ পাড়া-মহল্লা এবং স্থানীয় ব্যবসার বিকাশকে গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। বাংলাদেশি-আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো এবং বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম ও নারীদের জন্য মূলধারার রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টিও তাঁর প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ দিক। রিভারসাইড কাউন্টির পেরিস শহরের সিটি কাউন্সিলের ডিস্ট্রিক্ট ১ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোহাম্মদ কে. রহমান। তাঁর নির্বাচনী পরিচিতি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগে ২৭ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। নির্বাচিত হলে জননিরাপত্তা জোরদার, সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ব্যবসার বিকাশ এবং তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরিতে কাজ করতে চান তিনি। পাশাপাশি সড়কবাতি, ফুটপাত এবং পাড়া-মহল্লার নিরাপত্তা উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্ব দিচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন সমস্যা সমাধান এবং নাগরিক সেবার মান বাড়ানো তাঁর নির্বাচনী পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য। অন্যদিকে, সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির চিনো শহরের সিটি কাউন্সিলের ডিস্ট্রিক্ট ৩ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রকৌশলী এম এস আলম। চিনো শহরের সরকারি নির্বাচনী তথ্যেও তাঁর নাম প্রার্থী হিসেবে রয়েছে। তাঁর পেশাগত পরিচিতি অনুযায়ী, তিনি ক্যালিফোর্নিয়া পরিবহন বিভাগের (ক্যালট্রান্স) ডিস্ট্রিক্ট ৭-এ প্রকল্প ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছেন। পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, লং বিচে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেন। প্রায় ১৮ বছর ধরে চিনো শহরে বসবাসকারী এম এস আলম নিরাপদ ও পরিকল্পিত নগরায়ণ, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শক্তিশালী অবকাঠামো এবং নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রকৌশল ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শহরের উন্নয়নে অবদান রাখার প্রত্যাশা তাঁর। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় সিটি কাউন্সিলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় নীতিমালা, নগর পরিকল্পনা, সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন, আবাসন এবং নাগরিক সেবার মতো বিভিন্ন বিষয়ে কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। ফলে এসব নির্বাচনে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অংশগ্রহণ স্থানীয় পর্যায়ে তাঁদের অভিজ্ঞতা, চাহিদা ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিভিন্ন কমিউনিটির সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনাও থাকে। মন্টেবেলো, পেরিস ও চিনো—তিন শহরের নির্বাচনে এই তিন প্রার্থীর অংশগ্রহণ বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির জন্য আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠেছে। আগামী ৩ নভেম্বর ভোটাররা তাঁদের পছন্দের প্রার্থী নির্বাচন করবেন। নির্বাচনে তাঁদের ফলাফল কী হয়, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ভোট গণনা ও সরকারি ফলাফল ঘোষণার জন্য।
ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির বাজারে এলন মাস্ককে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে উড়ন্ত গাড়ির দুনিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আলেফ অ্যারোনটিক্স। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি রোমাঞ্চকর ভিডিওতে দেখা যায়, টেসলা রোডস্টারের ঠিক ওপর দিয়ে সফলভাবে উড়ে যাচ্ছে আলেফের একটি গাড়ি। এই অভাবনীয় সাফল্যের পর টেসলাকে উড়ন্ত গাড়ির বাজারে স্বাগত জানিয়ে আলেফের প্রধান নির্বাহী জিম দুখভনি কিছুটা রসিকতা করেই বলেন, গত এগারো বছর ধরে এই প্রতিযোগিতায় তারা একাই রাজত্ব করছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের অটোমোবাইল সাময়িকী ‘ইলেকট্রেক’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি আলেফ তাদের এক হাজারতম সফল টেস্ট ফ্লাইট সম্পন্ন করেছে, আর ঐতিহাসিক সেই উড্ডয়নের মুহূর্তেই নিচে রাখা ছিল একটি টেসলা রোডস্টার। উড়ন্ত গাড়ির বাজারে টেসলার মতো আন্তর্জাতিক জায়ান্টের আগমনকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন জিম দুখভনি। তাঁর মতে, নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী এলে উড়ন্ত গাড়ির জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটি বাজার তৈরি হবে, এভিয়েশন খাত নিয়ে থাকা প্রচলিত মিথগুলো ভেঙে যাবে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের নজর এই উদীয়মান প্রযুক্তির দিকে আরও বেশি আকৃষ্ট হবে। বাহ্যিক পার্থক্য থাকলেও টেসলা রোডস্টার এবং আলেফের গাড়ির মধ্যে বেশ কিছু মৌলিক মিল রয়েছে। দুটি বাহনই পুরোপুরি বিদ্যুৎচালিত এবং অল-হুইল ড্রাইভ ব্যবস্থাসম্পন্ন। মজার বিষয় হলো, উভয় প্রতিষ্ঠানেরই শুরুর দিকের অন্যতম ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট বা বিনিয়োগকারী হলেন একই ব্যক্তি—টিম ড্রেপার। তবে প্রকৌশল ও গঠনশৈলীর দিক থেকে দুটি বাহন সম্পূর্ণ আলাদা। আলেফ তাদের গাড়িতে ব্যবহার করছে ডিস্ট্রিবিউটেড ইলেকট্রিক প্রপালশন বা ডিইপি প্রযুক্তি, অন্যদিকে টেসলা রোডস্টারে যুক্ত করা হচ্ছে বিশেষ ধরনের থ্রাস্টার। আলেফের পুরো বডিটি এরোডাইনামিক ডানার মতো কাজ করে এবং ভেতরে রয়েছে একটি স্বয়ংক্রিয় ঘূর্ণায়মান ক্যাবিন। আকাশে ওঠার সময় চাপযুক্ত গ্যাসের বদলে এটি পারিপার্শ্বিক বাতাস ব্যবহার করে। এছাড়া চরম জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার জন্য পুরো গাড়িটির সঙ্গে যুক্ত থাকছে একটি বিশেষ ব্যালিস্টিক প্যারাসুট। সাধারণ এভিটিওএল (eVTOL) বা এয়ার ট্যাক্সির সঙ্গে আলেফের মূল তফাৎ হলো, এটি কোনো জটিল রানওয়ে ছাড়াই শহরের সাধারণ রাস্তায় স্বাভাবিকভাবে চলাচলের পাশাপাশি পার্কিং স্পেসেও পার্ক করা যাবে। প্রাথমিক ধারণা প্রকাশের দীর্ঘ বছর পর ২০২২ সালে আলেফ তাদের পূর্ণাঙ্গ ‘মডেল এ’ প্রোটোটাইপ উন্মোচন করে। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্যমতে, এক চার্জে গাড়িটি রাস্তায় ২২০ মাইল এবং শূন্যে ১১০ মাইল পর্যন্ত পাড়ি দিতে সক্ষম। এরই মধ্যে ২০২৩ সালে মার্কিন ফেডারেল এভিয়েশন অথরিটি (এফএএ) থেকে বিশেষ উড্ডয়নযোগ্যতার অনুমোদন পেয়ে ইতিহাস গড়েছে আলেফ, যা মার্কিন সরকারের স্বীকৃতি পাওয়া বিশ্বের প্রথম উড়ন্ত গাড়ি। অন্যদিকে, টেসলা রোডস্টারকে আকাশে ওড়াতে হলে এখনো এফএএ-এর দীর্ঘ আইনি ও কারিগরি অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে, যা সম্পন্ন হতে আরও কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের পোষা কুকুরকে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করে পরপর দুই নির্বাচনে তার নামে ডাকযোগে ব্যালট পাঠিয়েছিলেন এক নারী। কুকুরটির নামে পাঠানো প্রথম ব্যালটটি গণনা করা হলেও দ্বিতীয়টি বাতিল হয়। ঘটনাটি নিয়ে তদন্তের পর ওই নারীর বিরুদ্ধে পাঁচটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি একটি কম গুরুতর অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন এবং শাস্তির অংশ হিসেবে নিজের কুকুরের ছবি ব্যবহার করা ভোট জালিয়াতিবিরোধী চারটি বিলবোর্ডের জন্য ১ হাজার ৫০০ ডলার দেন। শর্ত পূরণের পর তাঁর মামলাটিও খারিজ হয়েছে। নারীর নাম লরা লি ইউরেক্স। ৬৪ বছর বয়সী এই নারী ক্যালিফোর্নিয়ার কোস্টা মেসা এলাকার বাসিন্দা। তাঁর পোষা কুকুরটির নাম ছিল মায়া জিন ইউরেক্স। ২০২০ সালের ৭ মে তিনি কুকুরটিকে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করেন। পরে ২০২১ সালের গভর্নর প্রত্যাহার নির্বাচন এবং ২০২২ সালের প্রাইমারি নির্বাচনে কুকুরটির নামে পাঠানো ব্যালট জমা দেন। তবে কুকুরটি আসলে কাকে ভোট দিয়েছিল, তা জানা যায়নি। প্রকাশিত নির্বাচনী তথ্যেও মায়ার ভোটের পছন্দ উল্লেখ নেই। কুকুরটির নামে নিবন্ধনের সময় রাজনৈতিক দলের পরিবর্তে ‘কোনো দল পছন্দ নয়’—এমন অবস্থান নথিভুক্ত ছিল। ইউরেক্স নিজে ২০২০ সালে নিবন্ধিত রিপাবলিকান ভোটার ছিলেন বলে সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় থেকে কুকুরটির নামে পাঠানো ব্যালটের ভোট কাকে দেওয়া হয়েছিল, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। ২০২১ সালের নির্বাচনে ক্যালিফোর্নিয়ার তৎকালীন গভর্নর গ্যাভিন নিউসমকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে ভোট হয়েছিল। মায়ার নামে পাঠানো ব্যালটটি গণনা করা হয়। ওই নির্বাচনে ৬১ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার নিউসমকে প্রত্যাহারের প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন। কিন্তু এই ফলাফল থেকে মায়ার ব্যালটে কোন বিকল্প বেছে নেওয়া হয়েছিল, তা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। পরের বছর ২০২২ সালের প্রাইমারি নির্বাচনে কুকুরটির নামে পাঠানো ব্যালটটি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে এবং বাতিল হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনী নিয়মে অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে পরিচয়পত্র বা বসবাসের প্রমাণ দেখানোর শর্ত না থাকলেও নির্দিষ্ট ফেডারেল নির্বাচনে প্রথমবার ভোট দেওয়া ব্যক্তির জন্য অতিরিক্ত প্রমাণের প্রয়োজন হতে পারে। মায়ার নামে পাঠানো ব্যালটের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রমাণ না থাকায় সেটি গ্রহণ করা হয়নি। ঘটনাটি তদন্তকারীদের নজরে আসে ২০২৪ সালের অক্টোবরে। অরেঞ্জ কাউন্টির নির্বাচনী নিবন্ধকের কার্যালয় বিষয়টি জেলা অ্যাটর্নির দপ্তরকে জানায়। তদন্তকারীরা দেখতে পান, ইউরেক্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুকুরটির নামে ব্যালট পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ছবি প্রকাশ করেছিলেন। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে তিনি মায়ার গায়ে ‘আই ভোটেড’ লেখা স্টিকার লাগানো এবং সামনে ব্যালট রাখা একটি ছবি পোস্ট করেন। ২০২৪ সালের অক্টোবরে আরেকটি পোস্টে কুকুরটির পরিচয়পত্রের ট্যাগ ও ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যালটের ছবি দিয়ে লেখেন, ‘মায়া এখনো তার ব্যালট পাচ্ছে।’ তখন কুকুরটি আগেই মারা গিয়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইউরেক্সের বিরুদ্ধে পাঁচটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ছিল মিথ্যা শপথ, জাল বা মিথ্যা নথি জমা দেওয়ার অভিযোগ, ভোট দেওয়ার যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ব্যালট জমা দেওয়া এবং অস্তিত্বহীন ব্যক্তিকে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করা। সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সর্বোচ্চ ছয় বছর কারাদণ্ড হতে পারত। তবে ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল সমঝোতার অংশ হিসেবে ইউরেক্স অস্তিত্বহীন ব্যক্তিকে জেনেশুনে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের একটি কম গুরুতর অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। বাকি চারটি গুরুতর অভিযোগ বাদ দেওয়া হয় এবং একটি অভিযোগ গুরুতর অপরাধ থেকে অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর অপরাধে রূপান্তর করা হয়। সমঝোতা অনুযায়ী, ইউরেক্সকে অরেঞ্জ কাউন্টির ৫৫ ও ২২ নম্বর ফ্রিওয়ের পাশে চারটি ভোট জালিয়াতিবিরোধী বিলবোর্ডের জন্য ১ হাজার ৫০০ ডলার দিতে হয়। বিলবোর্ডগুলোতে তাঁর পোষা কুকুর মায়ার সেই ছবিই ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে কুকুরটির গায়ে ‘আই ভোটেড’ স্টিকার এবং সামনে ব্যালট দেখা যায়। সেখানে লেখা রয়েছে, ‘কুকুরের মতো আচরণ করবেন না। ভোট জালিয়াতি অপরাধ। আইনগতভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার না থাকলে ভোট দেবেন না। অরেঞ্জ কাউন্টি জেলা অ্যাটর্নির দপ্তর এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।’ বিলবোর্ডগুলো ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত প্রদর্শিত হওয়ার কথা। ইউরেক্স সমঝোতার সব শর্ত পূরণ করার পর ১৩ অক্টোবর তাঁর মামলাটি সম্পূর্ণ খারিজ হয়। ফলে ঘটনাটি শুধু পোষা প্রাণীর নামে ভোট দেওয়ার অস্বাভাবিক কাহিনি নয়, বরং ভোটার নিবন্ধন ও নির্বাচনী যাচাইব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ক্যালিফোর্নিয়াকে ৪৮ ঘণ্টার একটি কড়া আলটিমেটাম দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে সন্দেহভাজন অ-নাগরিক (নন-সিটিজেন) ভোটারদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা রাজ্য কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই তালিকা যাচাই করে ব্যবস্থা না নিলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ফেডারেল সরকার। মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেট শার্লি ওয়েবার এবং লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির রেজিস্ট্রার-রেকর্ডার ডিন লোগানকে পাঠানো চিঠিতে এই কড়া আলটিমেটাম দেওয়া হয়। চিঠির সাথে পাসওয়ার্ড-সুরক্ষিত একটি থাম্ব ড্রাইভ লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিকে সরবরাহ করা হয়েছে, যেখানে সম্ভাব্য অ-নাগরিকদের নাম রয়েছে যাদের কাছে ইতোমধ্যে ডাকযোগে ব্যালট (মেইল-ইন ব্যালট) পাঠানো হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আর. ট্রেন্ট ম্যাককোটার চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র সরকার জরুরি আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হবে। বিচার বিভাগের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় নির্বাচনে কেবল বৈধ মার্কিন নাগরিকদেরই ভোট দেওয়ার আইনি অধিকার রয়েছে এবং অ-নাগরিকদের ভোট প্রদান একটি সুস্পষ্ট ফেডারেল অপরাধ। এই অপরাধ ঠেকাতেই ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসনকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। চিঠিতে ডিন লোগানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন যাদের নাগরিকত্ব তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, তাদের ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট বাতিল না করে আলাদা করে রাখা হয়, যতক্ষণ না তাদের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করা যায়। এ বিষয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার সেক্রেটারি অব স্টেট বা গভর্নরের কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে ভোটার জালিয়াতি এবং অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়ার বিষয়ে বিস্তর অভিযোগ করে আসলেও, বিভিন্ন গবেষণায় এটি অত্যন্ত বিরল ঘটনা বলে প্রমাণিত হয়েছে। তবে সম্প্রতি রয়টার্সের এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সফটওয়্যার ত্রুটি ও করণিক ভুলের কারণে ২০০০ সালের পর থেকে দেশব্যাপী প্রায় ৩০ হাজার অ-নাগরিক ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকতে পারেন, যদিও তাদের মধ্যে কতজন বাস্তবে ভোট দিয়েছেন তা নিশ্চিত নয়। এর মাঝেই সোমবার ফেডারেল প্রসিকিউটররা অ-নাগরিকদের ভোট ও ভুয়া নিবন্ধনের অভিযোগে ১৬টি নতুন ফৌজদারি মামলার ঘোষণা দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে অন্য রাজ্যে পাড়ি জমাচ্ছেন জেনারেশন জেড বা জেন জি প্রজন্মের তরুণেরা। তাঁদের বড় একটি অংশের গন্তব্য টেক্সাস। জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসনের খরচ এবং নতুন জায়গায় বসবাসের সুযোগ নিয়ে বাড়তে থাকা আলোচনার মধ্যে প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে তরুণদের এই স্থানান্তরের চিত্র উঠে এসেছে। ২০২৪ সালের জনসংখ্যা-সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ওই বছর ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ৫৮ হাজার ১০৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক জেন জি অন্য রাজ্যে চলে গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো রাজ্য থেকে এই প্রজন্মের মানুষের অন্যত্র চলে যাওয়ার ক্ষেত্রে সংখ্যাটি সর্বোচ্চ। তাঁদের মধ্যে ১৯ হাজার ২৮৭ জন পাড়ি জমিয়েছেন টেক্সাসে। অর্থাৎ, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অন্য রাজ্যে যাওয়া তরুণদের জন্য টেক্সাস ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য। তবে শুধু ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাসে যাওয়ার হিসাব দেখলেই পুরো চিত্র বোঝা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তরুণদের রাজ্য পরিবর্তনের প্রবণতা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক জেন জি নিজ রাজ্য ছেড়ে অন্য রাজ্যে অথবা ওয়াশিংটন ডিসিতে চলে গেছেন। এই সংখ্যা দেশটির ১৮ থেকে ২৭ বছর বয়সী জেন জি জনগোষ্ঠীর প্রায় ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থাৎ, এই বয়সী প্রায় প্রতি চারজনের একজন ওই বছর রাজ্য বদলেছেন। নিট স্থানান্তরের হিসাবে জেন জিদের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় রাজ্য ছিল সাউথ ক্যারোলাইনা। সেখানে যতজন তরুণ এসেছেন, চলে গেছেন তার চেয়ে অনেক কম। ফলে রাজ্যটিতে এই প্রজন্মের মানুষের নিট সংখ্যা বেড়েছে ২২ হাজার ৮৪৩ জন। অন্যদিকে, টেক্সাসে তরুণদের আসা-যাওয়া—দুটিই বেশি হলেও রাজ্যটিতে নিট সংখ্যা বেড়েছে ১০ হাজার ৭২০ জন। এই হিসাবে টেক্সাসের অবস্থান ছিল সপ্তম। নিউইয়র্কও তরুণদের আকর্ষণ ধরে রেখেছে। ২০২৪ সালে রাজ্যটিতে জেন জি প্রজন্মের মানুষের নিট সংখ্যা বেড়েছে ৮ হাজার ৬১ জন। বিপরীতে ক্যালিফোর্নিয়া, নিউ জার্সি ও ইলিনয়েসসহ কয়েকটি রাজ্যে এই বয়সী মানুষের সংখ্যা কমেছে। জেন জিদের রাজ্য বদলের প্রবণতা আগের প্রজন্মগুলোর তুলনায়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। একই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মিলেনিয়ালদের ১৪ শতাংশ অন্য রাজ্যে চলে গেছেন। জেনারেশন এক্সের ক্ষেত্রে এই হার ৭ দশমিক ২ শতাংশ এবং বেবি বুমারদের ক্ষেত্রে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ, রাজ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে জেন জির প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। টেক্সাসে তরুণদের আগমন অবশ্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। চলতি বছর প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট একটি স্থানান্তর-তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণে টেক্সাসে ৫ হাজার ৮১ জন জেন জি এসেছেন, বিপরীতে রাজ্যটি ছেড়েছেন ৩ হাজার ৫৫৫ জন। ফলে সেখানে নিট আগমন হয়েছে ১ হাজার ৫২৬ জনের। ওই বিশ্লেষণে অস্টিন, হিউস্টন ও ডালাস মহানগর এলাকাকে নতুন তরুণ বাসিন্দাদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে টেক্সাসে মানুষের স্থানান্তরও দীর্ঘদিনের প্রবণতা। ২০২৩ সালে এক লাখের বেশি ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা টেক্সাসে চলে গিয়েছিলেন বলে আগের পরিসংখ্যানে উঠে এসেছিল। একই সময়ে টেক্সাস থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় যাওয়ার তুলনায় উল্টো পথে যাওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল দ্বিগুণেরও বেশি। ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয়, বিশেষ করে আবাসনের খরচ, গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। সিলিকন ভ্যালি ও সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে করা এক জরিপে অংশ নেওয়া ১ হাজার ৮০১ জন প্রাপ্তবয়স্কের ৪৬ শতাংশ বলেছেন, বাড়ির উচ্চমূল্যের কারণে তাঁরা ওই এলাকা ছাড়তে বাধ্য হওয়ার চাপ অনুভব করছেন। আগের বছরের তুলনায় এই হার ৩ শতাংশ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আঞ্চলিক গবেষণা সংস্থা জয়েন্ট ভেঞ্চার সিলিকন ভ্যালির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী রাসেল হ্যানকক বলেছেন, আবাসনসংকট ও জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ই মানুষকে ওই অঞ্চল ছাড়তে উদ্বুদ্ধ করছে। তাঁর মতে, মৌলিক আবাসনসমস্যার সমাধান করতে না পারার বিষয়টি বাসিন্দাদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় আবাসন ব্যয়ের প্রভাব দারিদ্র্যের হিসাবেও দেখা যাচ্ছে। নতুন তথ্য অনুযায়ী, দেশটির রাজ্যগুলোর মধ্যে আবাসন ব্যয়জনিত দারিদ্র্যের হারে ক্যালিফোর্নিয়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। রাজ্যটিতে বাড়ি কেনা ও ভাড়া নেওয়ার অত্যধিক খরচ সামগ্রিক দারিদ্র্যের ৩৪ শতাংশ এবং শিশুদের দারিদ্র্যের ৪২ শতাংশের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব পরিসংখ্যান থেকে বলা যায় না যে কেবল আবাসন ব্যয়ের কারণেই সব তরুণ ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ছেন। পড়াশোনা, চাকরি, ব্যক্তিগত পছন্দ ও অন্যান্য কারণও স্থানান্তরের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখতে পারে। তা সত্ত্বেও, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে বিপুলসংখ্যক তরুণের চলে যাওয়া এবং টেক্সাসে তাঁদের উল্লেখযোগ্য অংশের নতুন ঠিকানা খোঁজা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেসনোতে ৭২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ও তাঁর মেয়েকে মারধরের অভিযোগ ওঠার পর ওই ব্যক্তির গুলিতে আহত হয়েছেন এক আইসিই এজেন্ট। ডেভিড গঞ্জালেজ নামের ৩২ বছর বয়সী ওই ফেডারেল এজেন্টকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হামলার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ভোরে ইস্ট ডাডলি অ্যাভিনিউ ও নর্থ ব্রডওয়ে স্ট্রিটের কাছে একটি বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে। ফ্রেসনো পুলিশ ডিপার্টমেন্টের বক্তব্যের ভিত্তিতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি৩০ জানিয়েছে, গঞ্জালেজ টেক্সাসের বাসিন্দা এবং ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইতে কর্মরত। ঘটনার সময় তিনি ডিউটিতে ছিলেন না। পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই বাড়ির এক নারী বাসায় ফিরে সামনের লনে গঞ্জালেজকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখেন। তিনি বিষয়টি তাঁর ৭২ বছর বয়সী বাবাকে জানান। এরপর বাবা বাইরে গিয়ে গঞ্জালেজকে বাড়ির জায়গা ছেড়ে চলে যেতে বলেন। ঘুম থেকে ওঠার পর গঞ্জালেজকে মদ্যপ ও উত্তেজিত বলে মনে হচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ওই বৃদ্ধকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করে মাটিতে ফেলে দেন। বাবাকে রক্ষা করতে মেয়ে এগিয়ে গেলে তাঁকেও আক্রমণ করেন গঞ্জালেজ। পুলিশ জানিয়েছে, নিজের ও মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কায় ওই ব্যক্তি একটি আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গঞ্জালেজকে লক্ষ্য করে একবার গুলি করেন। গুলিটি তাঁর পেটের অংশে লাগে। এর কিছুক্ষণ পর ওই নারীর প্রেমিক ঘটনাস্থলে এসে গঞ্জালেজকে হাতকড়া পরান। তিনি একজন পুলিশ অফিসার এবং তখন ডিউটির বাইরে ছিলেন। ভোর ৩টা ১৯ মিনিটের দিকে ওই এলাকায় গুলির শব্দ শোনার বিষয়ে একাধিক নাইন ওয়ান ওয়ান কল পায় ফ্রেসনো পুলিশ। অফিসাররা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গঞ্জালেজকে হাতকড়া পরানো ও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পান। পরে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। এবিসি৩০-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাসপাতালে গঞ্জালেজের অবস্থা গুরুতর বলে জানানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের পর্যায়ের হামলা বা ফেলনি অ্যাসল্টের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে আদালতের কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশিত হয়নি। অন্যদিকে, গুলি চালানো ৭২ বছর বয়সী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর কাছে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধভাবে ছিল। টেক্সাসের ওই এজেন্ট কেন ফ্রেসনোর এই আবাসিক এলাকায় ছিলেন, তা তদন্ত করছে পুলিশ। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি কোনো আনুষ্ঠানিক অভিবাসন অভিযানের অংশ ছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানায়নি। সংঘর্ষের বিস্তারিত পরিস্থিতি জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি ১০ মিলিয়ন ডলারের বিলাসবহুল প্রাসাদে সারোগেসির মাধ্যমে জন্ম নেওয়া অন্তত ১৪ জন শিশুর ওপর পৈশাচিক নির্যাতনের অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গুওজুন জুয়ান (৬৬) এবং সিলভিয়া ঝাং (৩৯) নামের এই দম্পতির বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন, তথ্য গোপন এবং সাক্ষীদের ভয় দেখানোর মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি নাথান হচম্যান এই ঘটনাকে 'নজিরবিহীন ও ঘৃণ্য' বলে আখ্যায়িত করে জানিয়েছেন, যাদের ওপর শিশুদের সুরক্ষার দায়িত্ব ছিল, তাদের হাতেই অবুঝ শিশুরা এমন ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছে। যদিও আদালতে অভিযুক্তরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। ২০২৫ সালের মে মাসে সিলভিয়া ঝাং তার দুই মাস বয়সী এক শিশুকে মাথায় গুরুতর আঘাত এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করলে এই ভয়াবহ ঘটনার তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসকরা জানান, শিশুটিকে প্রচণ্ড জোরে ঝাঁকানো ও আঘাত করা হয়েছিল। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ওই দম্পতি শিশুটিকে হাসপাতালে নিতে দুই দিন দেরি করেছিলেন এবং খাট থেকে পড়ে যাওয়ার মিথ্যা গল্প ফেঁদেছিলেন। পরবর্তীতে পুলিশের উদ্ধার করা সিসিটিভি ফুটেজে দুই মাস থেকে ১৩ বছর বয়সী অন্তত ১৪ জন শিশুর ওপর ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র ধরা পড়ে। এছাড়া অন্য কয়েকটি বাড়ি থেকে তাদের সাথে সম্পৃক্ত আরও ছয়টি শিশু উদ্ধার করা হয়, ফলে ভুক্তভোগী শিশুর মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ২১-এ। বিলাসবহুল ওই প্রাসাদের ভেতরে তিনটি 'লার্নিং সেন্টার' তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে শিশুদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডেস্কে বসে থাকতে বাধ্য করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন না রেখেই শিশুদের মারধর করার জন্য আয়াদের নির্দেশ দিতেন ওই দম্পতি। এমনকি জুয়ান নিজে এক শিশুকে নির্দয়ভাবে মারধর করতেন এবং শাস্তিস্বরূপ আরেক ছেলেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্কোয়াট বা 'হর্স স্ট্যান্স' পজিশনে দাঁড় করিয়ে রাখতেন। জানা গেছে, এই দম্পতি নিজেদের বাড়ি থেকেই 'ফিউচার স্প্রিং সারোগেসি' নামের একটি প্রতিষ্ঠান চালাতেন এবং মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে সারোগেট মায়েদের বিপুল অর্থের বিনিময়ে সন্তান জন্মদানে যুক্ত করতেন। তদন্তে ওই দম্পতির বিপুল সম্পদের সন্ধান মিলেছে। তাদের বাড়ি থেকে আয়াদের বেতন দেওয়ার নগদ অর্থ, মেক্সিকোসহ একাধিক দেশের পাসপোর্ট, ২০০টির বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য এবং প্রায় ৮ থেকে ৯ মিলিয়ন ডলার মূল্যের মদ উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযুক্ত আয়া চুনমেই লি-র বিরুদ্ধে মারাত্মক শিশু নির্যাতনের অভিযোগ আনা হলেও তিনি এরই মধ্যে চীনে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি ডিপার্টমেন্ট অব চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলি সার্ভিসেস উদ্ধারকৃত ২১টি শিশুর চিকিৎসা, মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়ন ও আইনি অভিভাবকত্বের বিষয়টি তদারকি করছে। একই সাথে অভিযুক্ত জুয়ানের অতীতের অবৈধ ক্যাসিনো ও মাদক ব্যবসার সম্পৃক্ততার বিষয়গুলোও নতুন করে খতিয়ে দেখছে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।