কাশ্মীর

ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী | ছবি: ফাইল ছবি
পাকিস্তানের কাশ্মীর ভারতের অংশ বলে দাবি করলেন বিদায়ী সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী

পাকিস্তান-শাসিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করেছেন দেশটির বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। তার দাবি, পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে থাকা ওই অঞ্চলটি এখনও সন্ত্রাসী অবকাঠামো গড়ে তোলা, প্রশিক্ষণ এবং ভারতশাসিত কাশ্মীরে অনুপ্রবেশের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সেখানে চীনের সামরিক ও অবকাঠামোগত তৎপরতাও ভারতের সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।   আগামীকাল মঙ্গলবার অবসরে যাচ্ছেন জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। তার একদিন আগে গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। ভারতীয় সেনাপ্রধান বলেন, ভারত ও চীনের মধ্যকার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) বরাবর পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল হলেও তা এখনও বেশ সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকার অর্থ এই নয় যে ভারতীয় সেনাবাহিনী কোনো আত্মতুষ্টিতে ভুগছে।   উপেন্দ্র দ্বিবেদী জানান, উত্তর সীমান্তে ভারত ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের চলমান উত্তেজনা কিছুটা কমেছে এবং উভয় দেশই এখন পারস্পরিক উদ্বেগের বিষয়ে আরও সংবেদনশীল ও ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে। সেনা প্রত্যাহারসংক্রান্ত চুক্তিগুলো সীমান্তে স্থিতিশীলতা বাড়াতে সাহায্য করেছে। গত এক বছরে কূটনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে নতুন করে যোগাযোগ শুরু হওয়ায় বড় বড় সীমান্ত সমস্যাগুলোর সমাধান হয়েছে এবং দ্বিপাক্ষিক আস্থাও বেড়েছে।   ধীরে ধীরে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে কয়েকটি পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে সীমান্ত নির্ধারণের বিকল্প খুঁজতে বিশেষজ্ঞ দল গঠন, কৈলাশ মানস সরোবর যাত্রা ও সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালুর উদ্যোগ, তিনটি সীমান্তপথ দিয়ে বাণিজ্য চালু এবং ভিসা সহজ করার ব্যবস্থা। এছাড়া স্থানীয় সমস্যা সমাধানে প্রতি বছর দুই পক্ষের মধ্যে ১ হাজার ১০০টিরও বেশি মাঠপর্যায়ের বৈঠক ও ফ্ল্যাগ মিটিং অনুষ্ঠিত হচ্ছে।   তবে সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার পাশাপাশি ভারতীয় সেনাবাহিনী অবকাঠামো উন্নয়ন, উন্নত নজরদারি, রসদ সরবরাহ ও সেনা চলাচলের সক্ষমতা বাড়ানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিদায়ী সেনাপ্রধান স্পষ্ট করে বলেন, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে চলমান বিদেশি সামরিক ও অবকাঠামোগত তৎপরতার কৌশলগত গুরুত্ব সম্পর্কে ভারত সম্পূর্ণ সচেতন। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তে সর্বোচ্চ নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা ও শক্তিশালী সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখা হয়েছে।

তাবাস্সুম জুন ২৮, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের কাশ্মীরে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ সেনাবাহিনীর

ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের কিশতওয়ার জেলায় পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং থানায় জোরপূর্বক প্রবেশের অভিযোগে এক কর্নেল ও এক মেজরসহ ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৪০ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। খবর এনডিটিভির।   দায়ের করা এফআইআরে ১৭ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের কমান্ডিং অফিসার কর্নেল এন অরুণ গান্ধী, মেজর বিকাশ শর্মা, নায়েব সুবেদার শঙ্কর গুরখে এবং আরও ৩০ থেকে ৪০ জন অজ্ঞাতনামা সেনাসদস্যকে আসামি করা হয়েছে।   পুলিশের অভিযোগ, অভিযুক্তরা কিশতওয়ারের আথোলি থানায় জোরপূর্বক প্রবেশ করে সরকারি কর্মকর্তা ও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালান। হামলার ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। প্রতিরক্ষা বিভাগের এক মুখপাত্র ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ভারতীয় সেনাবাহিনী আইনি প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা করবে। যৌথ তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত চলমান থাকায় এ মুহূর্তে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়।”   অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার শিকারদের মধ্যে রয়েছেন আথোলির ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (ডিএসপি) বিজয় কুমার ভগত এবং আথোলি থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) অমৃত কাটোচ।   এসএইচও অমৃত কাটোচের দায়ের করা এফআইআরে বলা হয়েছে, তিনি পাড্ডার এলাকার ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসে অনুষ্ঠিত একটি সরকারি অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছিলেন। ওই অনুষ্ঠানে কিশতওয়ারের জেলা কমিশনার সভাপতিত্ব করছিলেন। এ সময় থানার ভেতরে সহিংসতার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত সেখানে ফিরে আসেন।   এফআইআরে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, থানার প্রাঙ্গণে প্রবেশের পর মেজর বিকাশ শর্মার নেতৃত্বাধীন সেনাসদস্যরা তার ওপর হামলা চালান। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তার ইউনিফর্মের শার্ট ছিঁড়ে ফেলা হয়। একই সঙ্গে ডিএসপি বিজয় কুমার ভগতের ওপরও হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।   পুলিশের দাবি, সেনাসদস্যরা লাঠি, লোহার রড এবং সরকারি অস্ত্র নিয়ে থানার প্রধান ফটক ও সীমানা প্রাচীর টপকে জোরপূর্বক ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা সরকারি ও জনসম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটান।   এফআইআরে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা কিশতওয়ারের সহকারী আঞ্চলিক পরিবহন কর্মকর্তা (এআরটিও), আথোলি থানার এসএইচও এবং এসডিপিওর সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করেন। এছাড়া থানার প্রধান ফটকও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিশতওয়ারের সহকারী আঞ্চলিক পরিবহন কর্মকর্তা সেনাবাহিনীর একটি যানবাহন জব্দ করার পর এ ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।   পুলিশের অভিযোগ, হামলাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। এফআইআরে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত সেনাসদস্যদের উদ্দেশ্য ছিল দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালানো। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং যৌথ তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   সূত্র: এনডিটিভি

Unknown জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে আজাদ কাশ্মির অঞ্চল। ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ভয়াবহ সহিংসতা, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত অন্তত ২৪

কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বিধানসভায় সংরক্ষণ ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (জেএএকে) ডাকা বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে পাকিস্তানের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আজাদ কাশ্মির। গত ৫ জুন শুরু হওয়া এই আন্দোলন ৯ জুনের হরতালের পর থেকে চরম আকার ধারণ করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গত প্রায় দুই সপ্তাহে ২৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতোমধ্যে বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে জেএএকের ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে এই সংঘাতের জেরে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ইট-পাটকেল ও হামলায় এ পর্যন্ত ৯৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা এবং বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন। আজাদ কাশ্মিরের পুলিশপ্রধান লিয়াকত আলী মালিক জানিয়েছেন, রাজধানী মুজাফফরাবাদ থেকে ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত রাওয়ালকোট শহরটি বর্তমানে এই বিক্ষোভের মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।   উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাওয়ালকোটসহ বিভিন্ন এলাকায় কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন। শহরের প্রধান সড়কগুলো অবরুদ্ধ করার পাশাপাশি ইন্টারনেট সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে এবং সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিও ব্যাপকভাবে সীমিত করা হয়েছে।   টানা বিক্ষোভ, সংঘাত ও কারফিউয়ের কারণে আজাদ কাশ্মিরের জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ। ওষুধের তীব্র সংকটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। মুজাফফরাবাদের বাসিন্দা মুহম্মদ মাসকিন জানান, ওষুধের জন্য কয়েকদিন ধরে ঘুরলেও বড় ফার্মেসিগুলো বন্ধ থাকায় তা মিলছে না এবং যে কয়েকটি খোলা আছে সেখানেও সরবরাহ শেষ। আরেক বাসিন্দা সাবার হোসেনের কথায়, বাজারগুলো বন্ধ থাকায় শাক-সবজি ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে গত আটদিন ধরে তারা চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত অন্তত ২২ সেনা

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে এক ভয়াবহ সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় অন্তত ২২ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। বুধবার অঞ্চলটির রাজধানী মুজাফফরাবাদের কাছে রাশিয়ার তৈরি 'এমআই-১৭' মডেলের এই সামরিক পরিবহন হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। উড্ডয়নের পরপরই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মিডিয়া উইং, ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলের ভবনগুলোর পেছন থেকে প্রচণ্ড কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উড়তে দেখা যায়।   নিহতদের মধ্যে একজন কর্নেল, দুজন মেজর পদমর্যাদার কর্মকর্তা এবং ১৯ জন সেনা সদস্য রয়েছেন বলে রয়টার্স, আনাদোলু এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছে বিভিন্ন নিরাপত্তা সূত্র। সামরিক বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ না করলেও, তারা নিশ্চিত করেছে যে ওই হেলিকপ্টারে থাকা সব আরোহীই প্রাণ হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার কাশ্মীরে অবস্থানরত একটি আর্টিলারি ইউনিটের তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ও জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিনে নিহত এই সেনা সদস্যদের সামরিক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।   কাশ্মীরের এই অতি-স্পর্শকাতর সীমান্ত অঞ্চলে বর্তমানে কঠোর নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধ চলছে। গত সপ্তাহান্তে নিরাপত্তা বাহিনী এবং সদ্য নিষিদ্ধ হওয়া সুশীল সমাজের একটি জোটের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন নিহতের ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন এই কড়াকড়ি আরোপ করে। তবে স্থানীয় এই অস্থিরতার সঙ্গে এভিয়েশন বা হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার কোনো ধরনের সম্পর্ক থাকার কথা জোরালোভাবে নাকচ করে দিয়েছেন কর্মকর্তারা। আইএসপিআর জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত যান্ত্রিক কারণ অনুসন্ধানে এরই মধ্যে একটি তদন্ত বোর্ড গঠন করা হয়েছে।   এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। উল্লেখ্য, গত এক দশক ধরে পাকিস্তানের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে সেনা মোতায়েন ও চলাচলের জন্য সোভিয়েত নকশার এই এমআই-১৭ হেলিকপ্টারগুলোর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে আসছে দেশটির সেনাবাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় পাকিস্তান এর আগে তাদের ২২টি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার সংস্কার ও আধুনিকায়ন করলেও, প্রায়শই এই দুর্গম ভূখণ্ডে এ ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাদের।

বায়জিদ হাসান জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
কাশ্মীর কখনোই ভারতের অংশ ছিল না, হবেও না—জাতিসংঘে পাকিস্তানের দাবি

জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আবারও তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পার্বথানেনি হরিশ কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবি করার পর, এর কড়া জবাব দিয়েছে পাকিস্তান। ‘জবাব দেওয়ার অধিকার’ (রাইট অব রিপ্লাই) প্রয়োগ করে পাকিস্তানি কূটনীতিক গুল কায়সার সারওয়ানি বিশ্বমঞ্চে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জম্মু ও কাশ্মীর কখনোই ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল না, নয় এবং ভবিষ্যতেও কখনো হবে না।   জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে সারওয়ানি বলেন, ভারত অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বিরোধপূর্ণ অঞ্চল, যা আজও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এজেন্ডায় গুরুত্বের সঙ্গে রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের মিথ্যা বা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এই বিরোধের ঐতিহাসিক, আইনি ও আন্তর্জাতিক চরিত্রকে বদলে দেওয়া ভারতের পক্ষে সম্ভব নয়।   এর আগে জাতিসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমেদ নিরাপত্তা পরিষদের বার্ষিক প্রতিবেদন তুলে ধরে জানান, কাশ্মীর ও ফিলিস্তিন সংকট আজও সমানে প্রাসঙ্গিক এবং এর দ্রুত সমাধান হওয়া জরুরি। তার এই বক্তব্যের পরই মূলত দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে বাগযুদ্ধ শুরু হয়।   রাষ্ট্রদূত আসিম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিবেদনে ‘ভারত-পাকিস্তান প্রশ্ন’ সংক্রান্ত ২০টিরও বেশি চিঠি বা যোগাযোগ নজরে আনা হয়েছে। এমনকি ওই বছরের মে মাসে নিরাপত্তা পরিষদ এই ইস্যুতে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকও করেছে, যা প্রমাণ করে সাত দশক পেরিয়ে গেলেও কাশ্মীর বিরোধ এখনো আন্তর্জাতিক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।   দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই শান্তির স্বার্থে জাতিসংঘের প্রস্তাবনা ও কাশ্মীরি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের ভিত্তিতে এই বিরোধের ন্যায়সংগত নিষ্পত্তির দাবি জানায় ইসলামাবাদ।   কাশ্মীর ছাড়াও ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে পাকিস্তানের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন আসিম আহমেদ। গাজায় চলমান রক্তপাত বন্ধে নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবের পূর্ণাঙ্গ ও বিশ্বস্ত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি। ১৯৬৭ সালের পূর্বের সীমানার ভিত্তিতে জেরুজালেমকে (আল-কুদস আল-শরিফ) রাজধানী করে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের প্রতি অবিচল সমর্থন জানায় পাকিস্তান।   পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা এবং নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদের একক সম্প্রসারণ ও ‘ভেটো’ ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই পাকিস্তানি দূত।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত।
স্বর্ণালংকার থেকে মাটির ব্যাংক, কেন ইরানের জন্য সবই বিলিয়ে দিচ্ছেন কাশ্মীরিরা

কয়েক শতাব্দীর পুরনো আত্মিক ও ঐতিহাসিক বন্ধন যেন নতুন করে জেগে উঠেছে ভারত-শাসিত কাশ্মীরে। আমেরিকা ও ইসরায়েলের সাথে চলমান যুদ্ধের কবলে পড়া ইরানের সাধারণ মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন কাশ্মীরি জনগণ। কেউ দিচ্ছেন নিজের প্রিয় স্বর্ণালংকার, কেউ ভেঙে ফেলছেন বছরের পর বছর জমানো মাটির ব্যাংক, আবার কেউ দান করছেন ঘরের তামা-কাসার তৈজসপত্র। গত ২১ মার্চ ঈদুল ফিতরের দিন যখন পুরো দক্ষিণ এশিয়া উৎসবে মেতেছিল, তখন কাশ্মীরের বুদগাম এলাকার ৫৫ বছর বয়সী মাসরাত মুখতার তার বাবার দেওয়া জন্মদিনের উপহার—এক জোড়া সোনার দুল তুলে দেন ত্রাণ তহবিলে। মাসরাত বলেন, “আমরা যা সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি, তা-ই দান করি। এটি আমাদের তাদের (ইরানিদের) আরও কাছে নিয়ে যায়।” কাশ্মীরকে ঐতিহাসিকভাবে ‘ইরান-ই-সাগীর’ বা ‘ক্ষুদ্র ইরান’ বলা হয়। চতুর্দশ শতাব্দীতে ইরানি সুফি সাধক মির সাইয়্যেদ আলি হামাদানির আগমনের মাধ্যমে কাশ্মীরে যে পারস্য সংস্কৃতির ছোঁয়া লেগেছিল, বর্তমান সংকটে সেই টান আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। কী কী দান করছেন কাশ্মীরিরা? স্বর্ণ ও নগদ অর্থ: এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ বিলিয়ন রুপি (প্রায় ৬৪ মিলিয়ন ডলার) মূল্যের সহায়তা সংগৃহীত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ব্যক্তিগত সম্পদ: শ্রীনগরের মিনি ট্রাক চালক সাদাকাত আলি মির তার আয়ের উৎস দুটি ট্রাকের একটি দান করে দিয়েছেন। শিশুরা তাদের জমানো মাটির ব্যাংক বা ‘পিগি ব্যাংক’ তুলে দিচ্ছে স্বেচ্ছাসেবকদের হাতে। গৃহস্থালি সামগ্রী: কাশ্মীরি ঐতিহ্যে মেয়ের বিয়ের জন্য তামা ও কাসার তৈজসপত্র জমিয়ে রাখা হয়। অনেক মা সেই তামা-কাসার পাত্রগুলো ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত মা-বোনদের জন্য দিয়ে দিচ্ছেন। অন্যান্য: গবাদি পশু, সাইকেল এবং রিকশাও দান করা হচ্ছে এই ত্রাণ কার্যক্রমে। উল্লেখ্য যে, শিয়া প্রধান এলাকাগুলোতে এই আবেগ বেশি দেখা গেলেও ত্রাণ কার্যক্রমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন সুন্নি সম্প্রদায়ের মানুষও। এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের এক মাসের বেতন দান করেছেন। ভারতের নয়া দিল্লিতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এই মানবিক সহায়তার জন্য কাশ্মীরিদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। এক ভিডিও বার্তায় দেখা যায়, ২৮ বছর আগে মৃত স্বামীর স্মৃতি হিসেবে রাখা স্বর্ণের অলংকারও এক বৃদ্ধা ইরানের জন্য দান করে দিয়েছেন। তবে ভারতের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো (SIA) এই বিশাল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়ে সতর্ক করেছে। তাদের মতে, অনিবন্ধিত ব্যক্তি বা মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে টাকা দিলে তা ভুল পথে প্রবাহিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই সরাসরি দূতাবাসের মাধ্যমে সহায়তা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ইসমাইল হোসাইন এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০
জম্মু-কাশ্মিরে জোজিলা পাসে তুষারধস
জম্মু-কাশ্মিরে জোজিলা পাসে তুষারধস, নিহত ৭

জম্মু-কাশ্মিরের জোজিলা পাসে একাধিক তুষারধসে অন্তত ৭ জনের মৃত্যু এবং আরও ৫ জন আহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনা ঘটেছে এনএইচ-১ মহাসড়কের শ্রীনগর থেকে লেহ পর্যন্ত সংযোগকারী অংশে, বিশেষ করে জিরো পয়েন্ট থেকে মিনিমার্গ এলাকায়। কয়েকটি যানবাহন তুষার ও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে, যা হতাহতের মূল কারণ বলে জানা গেছে।   ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও জম্মু-কাশ্মির বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র সিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মৃত ও আহতদের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন এবং হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।   লাদাখের লেফটনেন্ট গভর্নর বিনয় কুমার সাক্সেনা বলেন, তিনি নিজে পরিস্থিতি সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি নিকটবর্তী কারগিল জেলার জেলা প্রশাসক ও সিনিয়র পুলিশ সুপারকে ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী দল পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।   ধসের কারণে মহাসড়কের ওই অংশে বিপুল পরিমাণ তুষার ও পাথর জমে গেছে, যা সরাতে উদ্ধারকারী দল যথেষ্ট সময় ও শ্রম দিচ্ছেন। জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, নিহত ও আহতদের উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহতদের জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।   সূত্র: পিটিআই

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৭, ২০২৬ ১৪:০
সমাজের সর্বস্তরের মানুষ এই মানবিক কাজে অংশ নিয়েছিলেন। ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের পাশে কাশ্মীর, অর্থ-স্বর্ণ দানে এগিয়ে মানুষ

চলমান যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের মানুষের পাশে দাঁড়াতে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন ভারতের কাশ্মীর অঞ্চলের বাসিন্দারা। ঈদুল ফিতরের পরপরই শিয়া অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায় স্বেচ্ছাসেবকেরা ত্রাণ সংগ্রহ শুরু করেছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে অর্থ ও সহায়তা সংগ্রহ করা হচ্ছে, আর মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিচ্ছেন।   বিশেষ করে বুদগাম ও বারামুল্লা জেলার বাসিন্দারা এই উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। শুধু নগদ অর্থ নয়, সোনা-রুপার গয়না, গবাদি পশু এবং ঐতিহ্যবাহী তামার সামগ্রীও দান করছেন স্থানীয়রা, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের সহায়তায় ব্যবহৃত হবে।   ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মানবিক উদ্যোগের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে কাশ্মীরের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা এই সহায়তাকে ‘মানবতা ও সংহতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করে ধন্যবাদ জানায়।   সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, নারী-পুরুষ-শিশুসহ সমাজের সব শ্রেণির মানুষ এতে অংশ নিচ্ছেন। অনেক নারী তাদের ব্যক্তিগত গয়না ও মূল্যবান সামগ্রী দান করেছেন। এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনায়, এক কাশ্মীরি বিধবা তার প্রয়াত স্বামীর স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে ২৮ বছর ধরে সংরক্ষিত একটি স্বর্ণালংকার দান করেন।   এছাড়া শিশুদের মধ্যেও এই মানবিকতা দেখা গেছে। কেউ কেউ তাদের সঞ্চয়ের টাকা, এমনকি ঈদের উপহার হিসেবে পাওয়া অর্থও দান করেছে। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক কিশোরী তিন বছর ধরে জমানো টাকা ভর্তি তার মাটির ব্যাংকটি ত্রাণ তহবিলে তুলে দিচ্ছে। এদিকে বুদগামের স্থানীয় বিধায়ক মুনতাজির মেহেদী ত্রাণ তহবিলে এক মাসের বেতন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।   স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, যুদ্ধের কারণে ইরানে যে মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহায়তা জরুরি। সংগৃহীত অর্থ ও সামগ্রী ইরানি দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট ত্রাণ সংস্থার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।   সূত্র: এনডিটিভি

Unknown মার্চ ২২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট

নিজ মায়ের হাতে তিন সন্তান হত্যার ভয়াবহ বর্ণনা শুনে কেঁদে ফেললেন আদালতে উপস্থিত সদস্যরা

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০