চট্টগ্রাম বন্দর

ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে আরও দুই জ্বালানিবাহী জাহাজ

দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আমদানিকৃত জ্বালানি দ্রুত খালাস নিশ্চিত করতে বন্দরে ভিড়তে যাচ্ছে আরও দুটি জ্বালানিবাহী জাহাজ। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘চ্যাং হ্যাং হং তু’ ও ‘এলপিজি সেভেন’ নামের জাহাজ দুটি বর্তমানে খালাস কার্যক্রমে রয়েছে। এর মধ্যে ‘চ্যাং হ্যাং হং তু’ বুধবার এবং ‘এলপিজি সেভেন’ শুক্রবার (২০ মার্চ) মূল বন্দরে ভিড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।   মালয়েশিয়া থেকে গ্যাস অয়েল নিয়ে আসা ‘চ্যাং হ্যাং হং তু’ গত ১৫ মার্চ বন্দরে পৌঁছে বর্তমানে ব্রাভো মুরিং এলাকায় অবস্থান করছে। জাহাজটি থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি খালাস হয়েছে এবং ১৯ মার্চের মধ্যে পুরো খালাস শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।   অন্যদিকে, ওমান থেকে এলপিজি নিয়ে আসা ‘এলপিজি সেভেন’ গত ৮ মার্চ চট্টগ্রামে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে কুতুবদিয়া এলাকায় অবস্থান করছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ২০ মেট্রিক টন এলপিজি খালাস করা হয়েছে। ২০ মার্চের মধ্যে জাহাজটির কার্যক্রম শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মোট ২৮টি জ্বালানিবাহী জাহাজের মধ্যে অধিকাংশই কার্গো খালাস শেষে বন্দর ত্যাগ করেছে। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ওমান ও ভারত থেকে আসা এসব জাহাজে এলএনজি, এলপিজি, ক্রুড অয়েলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে। এ ছাড়া কাতার, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, অ্যাঙ্গোলা, থাইল্যান্ড ও ওমান থেকে আরও কয়েকটি জ্বালানিবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের পথে রয়েছে।   চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব রেফায়াত হামিম বলেন, জ্বালানি খালাস ও সরবরাহ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নতুন জাহাজগুলোর আগমনে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: বাসস

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
এক সপ্তাহের মধ্যেই ট্যাঙ্কারগুলো পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রথম ট্যাংকার, পথে আরও চারটি জাহাজ

সিঙ্গাপুর থেকে প্রায় ২৭ হাজার ২০৪ টন ডিজেল নিয়ে ‘শিউ চি’ নামের একটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় এসে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত শুরুর প্রায় ১০ দিন পর সোমবার (৯ মার্চ) এই জ্বালানিবাহী জাহাজটি বন্দরের জলসীমায় আসে বলে বন্দর সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে ট্যাংকারটি কুতুবদিয়ার কাছাকাছি এলাকায় নোঙর করে রয়েছে।   বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আরও চারটি ডিজেলবাহী ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।   স্থানীয় শিপিং এজেন্ট প্রতিষ্ঠান প্রাইড শিপিং লাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বাকি ট্যাংকারগুলো বন্দরে পৌঁছাবে। এরপর পর্যায়ক্রমে সেগুলো থেকে ডিজেল খালাস করা হবে।   বন্দর সূত্রে আরও জানা গেছে, এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা পাঁচটি ট্যাংকারে মোট প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার ২০৫ টন পরিশোধিত ডিজেল রয়েছে।   শিপিং এজেন্টদের তথ্য অনুযায়ী, চারটি ট্যাংকারের মধ্যে ‘লিয়ান হুয়ান হু’ নামের একটি জাহাজ সোমবার রাতে সিঙ্গাপুর থেকে প্রায় ৩০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে বন্দরে পৌঁছাতে পারে। এছাড়া ‘এসপিটি থেমিস’ নামের আরেকটি ট্যাংকার বৃহস্পতিবার প্রায় ৩০ হাজার ৪৮৪ টন ডিজেল নিয়ে আসার কথা রয়েছে।   অন্যদিকে ‘র‍্যাফেলস সামুরাই’ ও ‘চাং হাং হং তু’ নামের আরও দুটি ট্যাংকার আগামী শনিবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে বলে জানা গেছে। প্রতিটি জাহাজে প্রায় ৩০ হাজার টন করে ডিজেল রয়েছে।   বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে ব্যবহৃত মোট জ্বালানির প্রায় ৭০ শতাংশই ডিজেল এবং এর বেশিরভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। সাধারণ সময়ে দেশে দৈনিক ডিজেলের চাহিদা প্রায় ১২ হাজার টন। সেই হিসাবে পাঁচটি ট্যাংকারে আনা ডিজেল দিয়ে প্রায় ১২ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।   তবে মজুত ধরে রাখতে সরকার রোববার থেকে দৈনিক সরবরাহ কমিয়ে প্রায় ৯ হাজার টনে নামিয়ে এনেছে। এই হারে সরবরাহ অব্যাহত থাকলে নতুন আসা জ্বালানি দিয়ে প্রায় ১৬ দিনের চাহিদা মেটানো যাবে। বর্তমানে যে মজুত রয়েছে তা দিয়ে আরও ১৬ থেকে ১৭ দিন চলা সম্ভব। ফলে নতুন চালান যুক্ত হলে প্রায় এক মাসের ডিজেল চাহিদা পূরণ করা যেতে পারে।   এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, প্রায় ২৭ হাজার টন ডিজেলবাহী একটি ট্যাংকার বন্দরে এসেছে। তবে জাহাজ থেকে ডিজেল খালাসের কাজ শুরু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে ট্রাফিক বিভাগ থেকে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১০, ২০২৬ 0
ধর্মঘট প্রত্যাহারের পরদিন আটক আন্দোলনের সমন্বয়ক
ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর চট্টগ্রাম বন্দরে আন্দোলনের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন আটক

চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সোমবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম বন্দর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। বন্দরে চলমান লাগাতার ধর্মঘট কর্মসূচি প্রত্যাহারের পরপরই তাকে আটক করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ইব্রাহিম খোকন বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সমন্বয়কের দায়িত্বও পালন করে আসছিলেন।   নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ জানান, র‌্যাবের একটি দল ইব্রাহিম খোকনকে আটক করে বন্দর থানায় হস্তান্তর করেছে। যাচাই-বাছাই শেষে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   ইব্রাহিম খোকনকে আটকের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ এড়িয়ে প্রশাসন শ্রমিকদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি করছে।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রোববার পাঁচজন শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সোমবার ইব্রাহিম খোকনকে আটক করা হয়েছে। এতে পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে দাবি করা হয়।   বন্দর কর্মচারীরা নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা না দেওয়া-সহ চার দফা দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। এ আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন ইব্রাহিম খোকন ও হুমায়ুন কবির। শুরুতে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের ব্যানারে কর্মসূচি পালন করা হলেও পরে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে আন্দোলন জোরদার করা হয়।   সংগঠনটি ৩১ জানুয়ারি থেকে প্রথমে টানা তিন দিন প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করে। পরে গত মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মসূচি শুরু হয়। বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর দুই দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।   আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অভিযোগ তুলে রোববার থেকে আবার ধর্মঘটের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে সোমবার সকাল আটটা থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।   স্কপের বিবৃতিতে বলা হয়, ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার সময় প্রশাসনের এ ধরনের পদক্ষেপ গভীর সন্দেহের সৃষ্টি করছে। এতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে বন্দর পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে চায় বলেও অভিযোগ করা হয়।   বিবৃতিতে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহারসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা স্বাক্ষর করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি
এই সরকারের আমলে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা চুক্তি হচ্ছে না: বিডা চেয়ারম্যান

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেছেন, ‘এই সরকারের আমলে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা চুক্তি হচ্ছে না। তারা আমাদের কাছে একটু সময় চেয়েছেন। কিন্তু আমাদের হাতে মাত্র ২টি কার্যদিবস বাকি আছে। তাই এ সময়ের মধ্যে হচ্ছে না।’   রোববার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।   আশিক চৌধুরী বলেন, ‘প্রজেক্টটা ২০১৯ সালে শুরু হয়েছিল। গত এক মাসে ফাইনাল বোঝাপড়ার ধাপটা শুরু হয়েছিল। যা এখনো চলমান। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন তাদের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছে। যা চলমান থাকবে। এটা সম্পন্ন করতে আরও কিছু সময় লাগবে।’   এদিকে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা না দেওয়ার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’। এতে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার ডেলিভারির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। সীমিত পরিসরে সকালে জেটিতে কিছুক্ষণ পণ‍্য খালাসের কাজ চললেও এখন সেটিও বন্ধ আছে। বহির্নোঙরে পণ‍্য খালাসের কার্যক্রমও ব‍্যাহত হচ্ছে।   এবারের ধর্মঘটে জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল, প্রশাসনিক ভবনের পাশাপাশি বহির্নোঙরেও (আউটারে লাইটারিং) অপারেশনাল কাজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আগের ধর্মঘটে বন্দরের বহির্নোঙরে কার্যক্রম সচল ছিল।   এদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রায় ২০০ সাধারণ কর্মচারী ও শ্রমিককে রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় বন্দর ভবনের সম্মেলন কক্ষে জরুরি সভায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে আন্দোলনকারী শ্রমিক-কর্মচারীরা এটি প্রত্যাখান করায় সেখানেও উপস্থিতি কম ছিল।   চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে শনিবার এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন। বন্দর রক্ষা পরিষদের বাকি তিনটি দাবি হচ্ছে- বন্দরের বর্তমান চেয়ারম্যান এসএম মনিরুজ্জামানকে চেয়ারম্যান পদ থেকে প্রত্যাহার করা; বিগত আন্দোলনে যেসব কর্মচারীর বিরুদ্ধে বদলি, চার্জশিট, সাময়িক বরখাস্ত, পদাবনতিসহ নানাবিধ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে তা বাতিল করে প্রত্যেক কর্মচারীকে চট্টগ্রাম বন্দরের স্ব স্ব পদে পুনর্বহাল করা; এবং আন্দোলনরত শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে মামলাসহ কোনোরূপ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে না।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬ 0
চট্টগ্রাম বন্দর
বন্দরে আন্দোলনকারী সেই ১৫ কর্মচারীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ তদন্তে চিঠি

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশিদের হাতে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনরত ১৫ কর্মচারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করার পর এবার তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। একই সাথে তাদের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), এনএসআই এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমের সই করা এক চিঠিতে এই জরুরি অনুরোধ জানানো হয়। চিঠিতে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা পাওয়া ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ও জাতীয়তাবাদী বন্দর শ্রমিক দলের শীর্ষ সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির, মো. ইব্রাহিম খোকন, মো. ফরিদুর রহমানসহ আরও ১২ জন শ্রমিক নেতা।   বন্দর কর্তৃপক্ষের চিঠিতে এই কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ‘আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি’ এবং ‘রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২ ফেব্রুয়ারি এই কর্মচারীদের শাস্তিমূলকভাবে বদলি করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। তদন্ত চলাকালে তারা যেন দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের অর্জিত সম্পদের বৈধতা যাচাইয়ে দুদকের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।   উল্লেখ্য, দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে এনসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত শনিবার থেকে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ দফায় দফায় কর্মবিরতি পালন করে আসছিল। এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বন্দরে অচলাবস্থা তৈরির উপক্রম হলে প্রশাসন আলোচনার পরিবর্তে সরাসরি কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার পথ বেছে নেয়। বন্দর কর্তৃপক্ষের এই কঠোর অবস্থান শ্রমিক সংগঠনগুলোর মাঝে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম বন্দর বন্ধের অচলাবস্থায় উদ্বিগ্ন ব্যবসায়ীরা, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা

চট্টগ্রাম বন্দরে লাগাতার কর্মবিরতির কারণে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীরা। বুধবার সন্ধ্যায় নগরের আগ্রাবাদে একটি হোটেলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসে ব্যবসায়ীরা এই পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান চেয়েছেন।   বন্দর ব্যবহারকারীদের পক্ষে এম এ সালাম সাংবাদিকদের বলেন, সামনে নির্বাচন ও তিন দিনের সরকারি ছুটি রয়েছে। এরপর রমজান শুরু হচ্ছে। রমজানের পণ্য কীভাবে ডেলিভারি হবে, এই বিষয়টি আমাদের উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু। তিনি আরও বলেন, ফেব্রুয়ারিতে পোশাক খাতে কাজের দিন মাত্র ১৮ দিন, মার্চে ১৬–১৭ দিন। বন্দরের অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকলে বিদ্যমান পণ্য সরবরাহ করা যাবে না, নতুন পণ্যের আগমনও বন্ধ হবে। এতে উৎপাদন খাতের মারাত্মক ক্ষতি ঘটবে এবং ভোক্তাদেরও প্রভাব পড়বে।   এম এ সালাম বলেন, “বন্দর বন্ধ থাকলে মাশুলসহ বাড়তি ব্যয়ের চাপ শেষ পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের ওপর পড়বে। যদি ব্যবসায়ীরা তা বহন করতে না পারেন, তবে চাপ ভোক্তাদের ওপর পড়বে।” তিনি বলেন, এনসিটি সংক্রান্ত ভুল-বোঝাবুঝি এবং শ্রমিকদের বদলি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থাসহ কিছু বিষয় নিয়ে আন্দোলনকারীদের উদ্বেগ রয়েছে। আলোচনা ছাড়া কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। আন্দোলনকারীরা সম্মত হয়েছেন যে এই বিষয়ে বৃহত্তর আলোচনা শুরু হলে আপাতত কর্মবিরতি স্থগিত রাখবেন।   চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকন বলেন, “অচলাবস্থা নিরসনে উভয় পক্ষ কিছু প্রস্তাব দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা সরকারপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন। ইউজার ফোরাম ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন এবং আগামীকালের কর্মসূচিতে পাশে থাকবেন।” তবে তিনি যোগ করেন, কর্মবিরতি চলবে যতক্ষণ না সরকার এনসিটি বেসরকারীকরণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে এবং আন্দোলনরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া বদলি ও অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হয়।   উল্লেখ্য, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু হয়। পরে তা লাগাতার কর্মবিরতিতে রূপান্তরিত হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি), চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও এনসিটি দিয়ে বন্দরের সিংহভাগ কনটেইনার ওঠানামা হয়, যা মোট আমদানি–রপ্তানির ৯৭ শতাংশ পরিচালনা করে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ 0
চট্টগ্রাম বন্দরে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের আওতাধীন নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের রায়কে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। অফিস চলাকালে মিছিল, মহড়া ও আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।   শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিজ্ঞপ্তিটি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় অফিস চলাকালে এনসিটি সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বন্দরের কিছু কর্মচারী ভবন চত্বরে মিছিল করেন। এ সময় তারা আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করেন এবং দলবদ্ধভাবে মহড়া দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন।   কর্তৃপক্ষ জানায়, সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন, সভা-মিছিল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়া ‘সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা-১৯৭৯’ ও ‘চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা-১৯৯১’ সহ সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী সুস্পষ্ট পেশাগত অসদাচরণ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় স্বার্থবিরোধী।   বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত না থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে হস্তান্তরের উদ্যোগ এবং আদালতের রায়ের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছেন বন্দর শ্রমিক-কর্মচারীরা। এর প্রতিবাদে আগামী শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ও রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বন্দর এলাকায় ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।   কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বন্দরের সব অপারেশনাল কার্যক্রম এবং রোববার একই সময়ে প্রশাসনিক ও অপারেশনাল উভয় কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।   এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বন্দরের কারশেড ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শ্রমিক নেতারা এনসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তকে জাতীয় স্বার্থবিরোধী আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানান।   একই ইস্যুতে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে ‘চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ’ (স্কপ)। সংগঠনটির নেতারা বলেন, পর্যাপ্ত দেশীয় সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও লাভজনক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এনসিটি টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তারা অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান। অন্যথায় সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।   সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় বন্দর ভবন অভিমুখে কালো পতাকা মিছিল করবেন শ্রমিকেরা।  

ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় পতন

দাম বাড়ানোর ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভরিতে এক লাফে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা।   শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে দাম কমানোর বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকেই কার্যকর হবে।   এর আগে একই দিন সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। ওই সময় ভরিপ্রতি এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা।   নতুন দাম অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৭৬০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩২৭ টাকা।   এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে মোট ২৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করলো বাজুস। এরমধ্যে ১৭ বারই দাম বাড়ানো হয়েছে। আর দাম কমেছে মাত্র ১০ বার। অন্যদিকে গতবছর দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বারই দাম বাড়ানো হয়েছিল। এছাড়া ২০২৫ সালে ২৯ বার কমানো হয়েছিল স্বর্ণের দাম।

Top week

ফাইল ফটো।
আমেরিকা

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0