- প্রচ্ছদ
- Topic
#চাকরিরবাজার
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটিতে টানা ছয় মাস বা তার বেশি সময় ধরে কাজ খুঁজেও চাকরি পাচ্ছেন না, এমন মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে শ্রমবাজারের এই পরিস্থিতি নিয়ে নিউজউইকের প্রতিবেদনে আলোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে চাকরি হারানোর পর নতুন কর্মসংস্থান খুঁজতে দীর্ঘ সময় লাগার বিষয়টি অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব বলতে সাধারণত এমন ব্যক্তিদের বোঝানো হয়, যাঁরা অন্তত ২৭ সপ্তাহ ধরে বেকার এবং সক্রিয়ভাবে চাকরি খুঁজছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের হিসাব অনুযায়ী, এই শ্রেণির মানুষদের সাধারণ বেকার জনগোষ্ঠী থেকে আলাদাভাবে গণনা করা হয়। কারণ দীর্ঘ সময় চাকরির বাইরে থাকলে আয় ও সঞ্চয়ের ওপর চাপ বাড়ার পাশাপাশি নতুন চাকরিতে ফিরে আসাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের বৃদ্ধি সাধারণ বেকারত্বের হার থেকে ভিন্ন একটি চিত্র তুলে ধরে। সামগ্রিক বেকারত্বের হার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও যাঁরা চাকরি হারাচ্ছেন, তাঁদের একটি অংশ নতুন চাকরি পেতে বেশি সময় নিতে পারেন। ফলে শুধু বেকারত্বের হার দিয়ে শ্রমবাজারের পুরো পরিস্থিতি বোঝা যায় না। দীর্ঘ সময় চাকরি না থাকলে পরিবারের নিয়মিত খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে মর্টগেজ, রেন্ট, গাড়ির কিস্তি, হেলথ ইন্স্যুরেন্স এবং অন্যান্য বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। সঞ্চয় সীমিত থাকলে সেই চাপ আরও বাড়ে। চাকরি খোঁজার সময় দীর্ঘ হলে অনেককে পেশা পরিবর্তন কিংবা আগের তুলনায় কম বেতনের চাকরির কথাও বিবেচনা করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারের পরিস্থিতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, চাকরির বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগের হার এবং বেকারত্বের মেয়াদ গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এসব তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন কর্মী নিয়োগে কতটা আগ্রহী এবং চাকরিপ্রার্থীরা কত দ্রুত কাজে ফিরতে পারছেন। তবে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব বাড়ার অর্থ এই নয় যে সব খাতে সমানভাবে চাকরির সুযোগ কমেছে। বিভিন্ন শিল্প, পেশা ও অঞ্চলে নিয়োগ পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে। একইভাবে বেকারত্ব বৃদ্ধির কারণ নির্ধারণ করতে সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট সময়ের সরকারি পরিসংখ্যান বিবেচনা করা প্রয়োজন। নিউজউইকের প্রতিবেদনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাই করা সম্ভব না হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি বেকারের সর্বশেষ সংখ্যা, আগের বছরের তুলনায় বৃদ্ধির হার এবং সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদদের বক্তব্য এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পরই পরিস্থিতির প্রকৃত মাত্রা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময় কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার ব্যয় ভোটারদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্বের সাম্প্রতিক প্রবণতা তাই শ্রমবাজারের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। সূত্র: নিউজউইক, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস।
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে কোন অঙ্গরাজ্যে সুযোগ বেশি, আর কোথায় কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি তুলনামূলক দুর্বল—এমন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে নতুন একটি র্যাঙ্কিং। দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যের চাকরির বাজার ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে তৈরি এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে নেব্রাস্কা। এরপর আছে নর্থ ডাকোটা, মিনেসোটা, সাউথ ডাকোটা ও নিউ হ্যাম্পশায়ার। অন্যদিকে তালিকার একেবারে শেষ অবস্থানে রয়েছে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া। ক্যালিফোর্নিয়ার অবস্থান ২৫তম, আর ফ্লোরিডা রয়েছে ৪৭তম স্থানে। এই র্যাঙ্কিং তৈরিতে ৩৪টি সূচকের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যগুলোর তুলনা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চাকরির সুযোগ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার, বেকারত্ব, চাকরির নিরাপত্তা, আয়, কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা এবং কর্মস্থলে যাতায়াতে ব্যয় হওয়া সময়। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও শ্রমবাজারের শক্তিমত্তা—দুই দিক বিবেচনা করে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের সামগ্রিক স্কোর নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে তালিকাটি শুধু কোথায় চাকরির সুযোগ বেশি, তা দেখায় না; চাকরি পাওয়ার পর সেটি ধরে রাখা এবং কাজের পরিবেশ কেমন, সেটিও বিবেচনায় আনে। র্যাঙ্কিংয়ে নেব্রাস্কার মোট স্কোর ১০০-এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ২৪। নর্থ ডাকোটার স্কোর ৬২ দশমিক ৯২, মিনেসোটার ৬২ দশমিক ৫০, সাউথ ডাকোটার ৬২ দশমিক ০২ এবং নিউ হ্যাম্পশায়ারের ৬১ দশমিক ৭২। শীর্ষ পাঁচে থাকা এই অঙ্গরাজ্যগুলোর পাশাপাশি ওয়াশিংটন ষষ্ঠ, মেইন সপ্তম, টেক্সাস অষ্টম, হাওয়াই নবম এবং টেনেসি দশম স্থানে রয়েছে। নেব্রাস্কা কেন শীর্ষে নেব্রাস্কা প্রথম স্থান পাওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ রাজ্যটির তুলনামূলক কম বেকারত্ব। সেখানে বেকারত্বের হার প্রায় ৩ শতাংশ। জনসংখ্যার তুলনায় চাকরির সুযোগের সংখ্যায় রাজ্যটি ১১তম অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি সেখানে চাকরির সংখ্যা বছরে প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ হারে বাড়ছে, যা দেশটির অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে চতুর্থ সর্বোচ্চ। শুধু নতুন চাকরি তৈরি নয়, কর্মীদের চাকরি ধরে রাখার ক্ষেত্রেও নেব্রাস্কার অবস্থান ভালো। চাকরির নিরাপত্তার সূচকে রাজ্যটি তৃতীয়। বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমার আওতায় থাকা কর্মীর অনুপাতেও রয়েছে চতুর্থ অবস্থানে। বিভিন্ন শিল্প খাতের বৈচিত্র্যের দিক থেকে নেব্রাস্কা দশম স্থানে রয়েছে। পাশাপাশি কর্মীদের কাজ ভাগাভাগি করে নেওয়ার কর্মসূচি এবং তুলনামূলক ভালো বেতনের ইন্টার্নশিপের সুযোগও রাজ্যটির অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। নর্থ ডাকোটা ও মিনেসোটার অবস্থান দ্বিতীয় স্থানে থাকা নর্থ ডাকোটায় বেকারত্বের হার ২ দশমিক ৬ শতাংশ। চাকরির সংখ্যা বৃদ্ধির গড় বার্ষিক হারে রাজ্যটি ১২তম স্থানে রয়েছে। কাজ খুঁজতে নিরুৎসাহিত হয়ে শ্রমবাজার থেকে দূরে থাকা মানুষের অনুপাতও সেখানে সবচেয়ে কম। অর্থাৎ হতাশা, দক্ষতার অভাব, বয়সজনিত বৈষম্য কিংবা অন্য কোনো বাধার কারণে যারা সক্রিয়ভাবে চাকরি খোঁজেন না, তাদের অংশ তুলনামূলকভাবে কম। কর্মপরিবেশের দিক থেকেও নর্থ ডাকোটা এগিয়ে। সেখানে কর্মস্থলে পৌঁছাতে গড়ে প্রায় ১৭ মিনিট লাগে, যা দেশটির অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন যাতায়াত সময়। চাকরির নিরাপত্তায় রাজ্যটি অষ্টম এবং বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা পাওয়া কর্মীর অনুপাতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। বছরে ২৫ হাজার ডলার বা তার কম আয় করেন, এমন মানুষের ওপর রাজ্য আয়করের চাপ তুলনামূলক কম। ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার আয়ের মানুষের ক্ষেত্রেও করের চাপ দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। কর্মজীবী মায়েদের জন্য উপযোগী অঙ্গরাজ্যের তালিকায় নর্থ ডাকোটা নবম। তৃতীয় স্থানে থাকা মিনেসোটার বড় সুবিধা হলো তুলনামূলক বেশি পারিবারিক আয় এবং কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সমন্বয় করার পর রাজ্যটির মধ্যম পারিবারিক আয় প্রায় ৮৮ হাজার ডলার, যা দেশটির মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ। নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়া কর্মীদের গড় মাসিক প্রারম্ভিক বেতন প্রায় ৪ হাজার ডলার। এই সূচকে মিনেসোটা ১১তম। মিনেসোটায় বেসরকারি স্বাস্থ্যবিমা এবং নিয়োগকর্তার মাধ্যমে অবসরকালীন সঞ্চয় পরিকল্পনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ তুলনামূলক ভালো। রাজ্যটির বেকারত্বের হার প্রায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। কর্মজীবী মা ও বাবাদের জন্যও মিনেসোটার অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো। কর্মজীবী মায়েদের তালিকায় সপ্তম এবং বাবাদের তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছে রাজ্যটি। ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাসের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের বড় অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোর মধ্যে থাকা ক্যালিফোর্নিয়া সামগ্রিক তালিকায় ২৫তম। রাজ্যটির মোট স্কোর ৫৪ দশমিক ২৫। তবে চাকরির সুযোগের সংখ্যার সূচকে ক্যালিফোর্নিয়ার অবস্থান ৪৯তম, অর্থাৎ তালিকার নিচের দিক থেকে দ্বিতীয়। অর্থনৈতিক পরিবেশের সূচকে রাজ্যটি ১৮তম হলেও চাকরির বাজারের সূচকে রয়েছে ৩১তম স্থানে। অন্যদিকে টেক্সাস সামগ্রিকভাবে অষ্টম স্থানে রয়েছে। অর্থনৈতিক পরিবেশের সূচকে রাজ্যটি দ্বিতীয় হলেও চাকরির বাজারের শক্তিমত্তার সূচকে ২৫তম। এই পার্থক্য দেখায়, কোনো অঙ্গরাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভালো হলেই সেখানে চাকরি পাওয়ার সুযোগও সব সূচকে সমানভাবে ভালো হবে—এমন নয়। হাওয়াই চাকরির সুযোগের সূচকে প্রথম এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হারেও প্রথম স্থানে রয়েছে। তবে সামগ্রিক র্যাঙ্কিংয়ে রাজ্যটি নবম। এর বিপরীতে ফ্লোরিডা কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সূচকে ৫০তম বা সর্বশেষ স্থানে রয়েছে। সামগ্রিক তালিকায় ফ্লোরিডার অবস্থান ৪৭তম। চাকরির সুযোগের সূচকে নর্থ ক্যারোলাইনা প্রথম। এরপর রয়েছে হাওয়াই, ভারমন্ট, নিউ হ্যাম্পশায়ার ও মেইন। বিপরীত দিকে এই সূচকে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা পাঁচটি অঙ্গরাজ্য হলো মিশিগান, ক্যালিফোর্নিয়া, ওরেগন, ইলিনয় ও নেভাদা। সবচেয়ে পিছিয়ে কোন অঙ্গরাজ্য সামগ্রিক র্যাঙ্কিংয়ের শেষ পাঁচটি অঙ্গরাজ্য হলো লুইজিয়ানা ৪৬তম, ফ্লোরিডা ৪৭তম, পেনসিলভানিয়া ৪৮তম, ওরেগন ৪৯তম এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ৫০তম। ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার মোট স্কোর ৩৯ দশমিক ৪২। চাকরির বাজারের সূচকেও রাজ্যটি সর্বশেষ স্থানে রয়েছে। পেনসিলভানিয়া ও ওরেগনের অবস্থানও নিচের দিকে, যা চাকরির সুযোগ এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি—দুই ক্ষেত্রেই চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেয়। কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সূচকে হাওয়াই প্রথম হলেও মিসিসিপি দ্বিতীয়, আলাস্কা তৃতীয়, নেব্রাস্কা চতুর্থ এবং কানসাস পঞ্চম স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে এই সূচকে ফ্লোরিডা সর্বশেষ। ইউটাহ, ওয়াইয়োমিং, ভারমন্ট ও মেরিল্যান্ডও তালিকার নিচের দিকে রয়েছে। চাকরির জন্য কোন অঙ্গরাজ্য বেছে নেবেন, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু সামগ্রিক র্যাঙ্কিংয়ের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। চাকরিপ্রার্থীর পেশা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশিত বেতন এবং নির্দিষ্ট শহরের শ্রমবাজারের পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বাড়িভাড়া, যাতায়াতের ব্যয়, স্বাস্থ্যবিমা ও অন্যান্য জীবনযাত্রার খরচ বিবেচনা করা দরকার। চাকরির জন্য উপযোগী অঙ্গরাজ্যে বসবাস দীর্ঘমেয়াদে কর্মজীবনের স্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে। সেখানে চাকরি খুঁজে পাওয়া ও ধরে রাখার সুযোগের পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক বেতন এবং কর্মী-সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। তবে কোনো তালিকাই নির্দিষ্ট ব্যক্তির চাকরি পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না। তাই অন্য অঙ্গরাজ্যে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের পেশার চাহিদা, সম্ভাব্য আয় এবং জীবনযাত্রার ব্যয় আলাদাভাবে যাচাই করাই ভালো।
টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন অঞ্চলে সেপ্টেম্বরে ৭ হাজার ৩০০টি চাকরি কমেছে। বছরের এই সময়ে সাধারণত কর্মসংস্থান বাড়লেও এবার তার উল্টো চিত্র দেখা গেছে। বিশেষ করে বেসরকারি খাতের প্রধান শিল্পগুলোতে একযোগে চাকরি কমে যাওয়ায় স্থানীয় শ্রমবাজার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের কর্মসংস্থান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মাসটিতে হিউস্টনে চাকরি কমার হার ১৯৯০ সালের পর ওই মাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পতন। মৌসুমি পরিবর্তনের প্রভাব সমন্বয় করার পরও কর্মসংস্থান কমেছে ১৪ হাজার ৬০০টি। সাধারণত সেপ্টেম্বর মাসে স্কুলের নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ায় শিক্ষা খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়োগ বাড়ে। কিন্তু এবার সেই স্বাভাবিক প্রবণতা দেখা যায়নি। বেসরকারি খাতেই চাকরি কমার চাপ সবচেয়ে বেশি ছিল। সেপ্টেম্বরে এ খাতে মোট ১৯ হাজার ৪০০টি চাকরি কমেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে অবসর ও আতিথেয়তা খাতে। রেস্তোরাঁ, হোটেল এবং বিনোদনসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমসহ এই খাতে কর্মসংস্থান কমেছে ৭ হাজার ৩০০টি। এ ছাড়া পেশাগত ও ব্যবসায়িক পরিষেবা খাতে ৩ হাজার ৯০০টি এবং বাণিজ্য, পরিবহন ও ইউটিলিটি খাতে ২ হাজার ৬০০টি চাকরি কমেছে। অর্থাৎ, শুধু একটি শিল্পে নয়, হিউস্টনের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ একাধিক খাতেই কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়েছে। তবে সরকারি খাতে কিছুটা নিয়োগ বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে এ খাতে ১২ হাজার ১০০টি চাকরি যুক্ত হয়েছে। নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মী নিয়োগ এই বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তারপরও সরকারি খাতের চাকরি বৃদ্ধির পরিমাণ সেপ্টেম্বর মাসে সাধারণত যে হারে বাড়ে, এবার তা তার চেয়ে কম ছিল। ফলে সরকারি নিয়োগ বেসরকারি খাতের বড় ধরনের চাকরি হ্রাসের প্রভাব পুরোপুরি সামাল দিতে পারেনি। হিউস্টনের শ্রমবাজার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ওয়ার্কফোর্স সলিউশনস গালফ কোস্টের অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ আহমাদিজাদেহ। তাঁর মতে, সেপ্টেম্বরে চাকরি কমার বিস্তৃতি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি ছিল। বিশেষ করে হিউস্টনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা শিল্পগুলোতেও পতন দেখা গেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, মাত্র এক মাসের পরিসংখ্যান দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা নির্ধারণ করা যায় না। তবে বিভিন্ন খাতে একসঙ্গে কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে, তা বুঝতে পরবর্তী কয়েক মাসের কর্মসংস্থান প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ হবে। মাসিক হিসাবে চাকরি কমলেও গত এক বছরের চিত্র পুরোপুরি নেতিবাচক নয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হিউস্টন অঞ্চলে মোট ৩৩ হাজার ৬০০টি নতুন চাকরি যুক্ত হয়েছে। এই সময়ে কর্মসংস্থান বেড়েছে ১ শতাংশ। এদিকে সেপ্টেম্বরে হিউস্টনের বেকারত্বের হার নেমে এসেছে ৪ দশমিক ৬ শতাংশে। হারটি কমলেও তা টেক্সাস অঙ্গরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পর্যায়ের বেকারত্বের হারের চেয়ে বেশি ছিল। অর্থাৎ, বার্ষিক হিসাবে নতুন চাকরি তৈরি এবং বেকারত্বের হার কমার ইতিবাচক দিক থাকলেও আঞ্চলিক শ্রমবাজারের কিছু দুর্বলতা রয়ে গেছে। ওয়ার্কফোর্স সলিউশনস গালফ কোস্টের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত হিউস্টন অঞ্চলে প্রায় ২৯ হাজার ৯০০টি নতুন চাকরি যুক্ত হতে পারে। তবে সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন শিল্পে দেখা দেওয়া পতন এই পূর্বাভাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কতটা সম্ভব হবে, সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে। অক্টোবর মাসের কর্মসংস্থানসংক্রান্ত পরিসংখ্যান আগামী ২০ নভেম্বর প্রকাশের কথা রয়েছে। ওই প্রতিবেদনে নতুন চাকরি সৃষ্টি, বিভিন্ন শিল্পের নিয়োগ পরিস্থিতি এবং বেকারত্বের হারের পরিবর্তন সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। আপাতত এক মাসের পতনকে দীর্ঘমেয়াদি মন্দার নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে না; তবে হিউস্টনের শ্রমবাজারের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি বোঝার জন্য নতুন তথ্যের দিকে নজর থাকবে।
প্রায় ১৯ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা নিয়েও চাকরি হারানোর আট মাস পর নতুন কাজ পাননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির সাবেক কর্মী থমাস রোমান। লিংকডইনে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেছেন, অসংখ্য আবেদন, রিক্রুটারদের সঙ্গে আলোচনা এবং ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতির পরও তাঁর চাকরির সন্ধান চলছে। রোমানের ভাষ্য অনুযায়ী, বাজেট কমানোর কারণে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটিতে তাঁর পদটি বাতিল হয়। আকস্মিকভাবে কাজ হারানোর পর থেকেই আবার কর্মজীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন তিনি। তবে আট মাসের চেষ্টাতেও নতুন চাকরি নিশ্চিত করতে পারেননি। নিজের পরিস্থিতি প্রকাশ করা সহজ ছিল না বলে জানিয়েছেন রোমান। পোস্টে তিনি লিখেছেন, এটি তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন পোস্টগুলোর একটি। তবু নিজের সংকোচ সরিয়ে চাকরি খোঁজার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তাঁর কথায়, ‘আমি সহানুভূতি চাইছি না।’ রোমান জানিয়েছেন, তাঁর অভিজ্ঞতা শুধু একটি কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পণ্য ও সেবা কেনার প্রক্রিয়া, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, ভবন ও স্থাপনার কার্যক্রম পরিচালনা, মজুত ব্যবস্থাপনা এবং সরবরাহকারীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি বিভিন্ন কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্বও পালন করেছেন। নিজের কাজের বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেছেন, কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের মজুত সামলেছেন, প্রতিষ্ঠানের খরচ কমাতে ভূমিকা রেখেছেন এবং কর্মীদের দল পরিচালনা করেছেন। দক্ষ সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। এরপরও নতুন চাকরি খোঁজার দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি। রোমানের বক্তব্যে চাকরি হারানোর পর একজন অভিজ্ঞ পেশাজীবীর অনিশ্চয়তার চিত্র উঠে এসেছে। তাঁর ক্ষেত্রে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও পরিচিত প্রতিষ্ঠানে কাজের পটভূমি থাকা সত্ত্বেও দ্রুত নতুন কর্মসংস্থান হয়নি। চাকরি খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার মধ্যেই সেই বাস্তবতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ চাকরির প্রতিবেদনে দেশটির শ্রমবাজারে ধীরগতির চিত্র উঠে এসেছে। সেপ্টেম্বর মাসে মার্কিন নিয়োগদাতারা ২৯ হাজার নতুন চাকরি যোগ করেছেন, যা অর্থনীতিবিদদের প্রায় ৯০ হাজার নতুন চাকরির পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক কম। একই সময়ে বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ। শ্রমবাজারের এই ধীরগতির তথ্য প্রকাশের পরও শেয়ারবাজারে উল্টো ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। অর্থনীতি বিশ্লেষক স্যামুয়েল টবের মতে, চাকরির বাজার প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এর একটি কারণ হতে পারে সুদের হার নিয়ে ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সিদ্ধান্ত। দুর্বল চাকরির বাজার এবং বেকারত্বের হার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকায় অক্টোবরের শেষ দিকে ফেডারেল রিজার্ভ আবার সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা কমতে পারে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মোট বেসরকারি ও সরকারি খাতে নন-ফার্ম চাকরি ২৯ হাজার বেড়েছে। আগের ১২ মাসে মাসে গড়ে প্রায় ৪৫ হাজার চাকরি যোগ হয়েছিল। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের প্রবৃদ্ধি সাম্প্রতিক গড়ের চেয়েও কম। স্বাস্থ্যসেবা খাতে ১৭ হাজার চাকরি বেড়েছে, যদিও এই খাতেও আগের এক বছরের গড় বৃদ্ধির তুলনায় গতি কমেছে। একই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুলাই ও আগস্টের চাকরি বৃদ্ধির আগের হিসাবও কমিয়ে সংশোধন করা হয়েছে। জুলাইয়ের হিসাব ২১ হাজার থেকে কমিয়ে ১০ হাজার চাকরি কমেছে হিসেবে সংশোধন করা হয়েছে। আগস্টের চাকরি বৃদ্ধির হিসাব ১ লাখ ৬২ হাজার থেকে কমিয়ে ১ লাখ ৩৩ হাজার করা হয়েছে। ফলে জুলাই ও আগস্ট মিলিয়ে আগের হিসাবের তুলনায় মোট ৬০ হাজার কম চাকরি যোগ হয়েছিল বলে নতুন হিসাব দেখাচ্ছে। এই চাকরির তথ্য এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনীতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ রয়েছে। সেপ্টেম্বরের এক এপি-নরস জরিপে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের উদ্বেগের চিত্রও উঠে এসেছে। জরিপটি ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ২ হাজার ১৪০ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত হয়। সাধারণ মানুষের জন্য চাকরির বাজারের এই পরিবর্তনের প্রভাব সরাসরি ও পরোক্ষ—দুইভাবেই পড়তে পারে। নিয়োগ ধীর হলে নতুন চাকরি খোঁজা কঠিন হতে পারে এবং আয় বৃদ্ধির গতি কমতে পারে। অন্যদিকে, শ্রমবাজার দুর্বল হওয়ার লক্ষণ ফেডারেল রিজার্ভকে সুদের হার নিয়ে অপেক্ষাকৃত সতর্ক অবস্থান নিতে উৎসাহিত করতে পারে। সুদের হার কমলে ঋণ, ক্রেডিট কার্ড, গাড়ি ও বাড়ির অর্থায়নের খরচে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন আসতে পারে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটিই শেষ মাসিক চাকরির প্রতিবেদন হওয়ায় অর্থনীতি নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনাতেও এর গুরুত্ব রয়েছে। তবে চাকরির একটি মাসের তথ্য দিয়ে পুরো অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি অবস্থা নির্ধারণ করা যায় না। পরবর্তী মাসগুলোর চাকরি, মজুরি, মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার—সবগুলো তথ্য একসঙ্গে দেখলেই অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।
যুক্তরাজ্যে তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। চাকরির বাজারে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা এখন আর শুধু ভবিষ্যতের আশঙ্কায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং অনেক পেশায় এর প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের কারণে শুধু চাকরি নয়, তরুণদের নিজস্ব চিন্তা, দক্ষতা ও সৃষ্টিশীলতার চর্চাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। গত মাসে যুক্তরাজ্যের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকসের (ওএনএস) তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল থেকে জুন সময়ে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী ৯ লাখ ৮১ হাজার তরুণ কর্মসংস্থান, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের বাইরে ছিল। জানুয়ারি থেকে মার্চে এই সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ১২ হাজার। সংখ্যা কিছুটা কমলেও তরুণদের বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের বাইরে থাকার হার এখনো উদ্বেগজনক। এর মধ্যেই এআইয়ের দ্রুত বিস্তার চাকরির বাজারে নতুন চাপ তৈরি করছে। ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চের (আইপিপিআর) ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি হস্তক্ষেপ না থাকলে যুক্তরাজ্যে প্রায় ৮০ লাখ চাকরি এআইয়ের কারণে হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ের, খণ্ডকালীন ও প্রশাসনিক চাকরিগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। লন্ডন সিটি হলের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর অন্তত ১০ লাখ চাকরি এআইয়ের কারণে ‘উচ্চ বা উল্লেখযোগ্যভাবে ঝুঁকিপূর্ণ’ অবস্থায় রয়েছে। চাকরির পাশাপাশি সৃষ্টিশীলতাতেও চাপ অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউটের এআই ও কর্মসংস্থানবিষয়ক অর্থনীতিবিদ কার্ল-বেনেডিক্ট ফ্রের মতে, এআইয়ের প্রভাব শুধু অফিসের চাকরি বা প্রযুক্তিনির্ভর পেশার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। নির্মাণ, উৎপাদন ও বিভিন্ন কারিগরি পেশাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এমনকি মানুষ এআই ব্যবহার করে আগে যেসব কাজের জন্য পেশাদারের ওপর নির্ভর করত, সেসব কাজ নিজেরাই করার চেষ্টা করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, বাড়ির কোনো যন্ত্রপাতি নষ্ট হলে আগে যেখানে মিস্ত্রিকে ডাকা হতো, এখন কেউ এআইয়ের সাহায্যে সমস্যার ছবি তুলে সেটি নিজেই ঠিক করার চেষ্টা করতে পারেন। এতে সরাসরি ব্যাপক বেকারত্ব না হলেও কাজের ধরন বদলে যেতে পারে। একইভাবে তরুণ শিক্ষানবিশদের জন্যও সমস্যা তৈরি হতে পারে। কারণ অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য যেসব তুলনামূলক সহজ কাজ তারা করত, সেগুলোও যদি এআইয়ের সহায়তায় মানুষ নিজেই করতে শুরু করে, তাহলে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ কমে যেতে পারে। তরুণদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ কিংস কলেজ লন্ডনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের অর্ধেকের বেশি মানুষ মনে করেন এআই ব্যাপক বেকারত্ব তৈরি করতে পারে। প্রতি পাঁচজনের একজন মনে করেন, এআইয়ের কারণে বেকারত্ব এমন পর্যায়ে যেতে পারে, যা সামাজিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই আশঙ্কা আরও বেশি। তাদের ৩৪ শতাংশ মনে করেন, এআই-নির্ভর বেকারত্ব সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। কিংস কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক এলেনা সিম্পারল বলেন, মহামারি, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও এখন জেনারেটিভ এআইয়ের উত্থান—সব মিলিয়ে তরুণরা একের পর এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই এআইকে শুধু ভয় পাওয়ার বদলে এর সঙ্গে কীভাবে খাপ খাওয়ানো যায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে করণীয় কী? বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইকে পুরোপুরি ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। বরং তরুণদের এমন দক্ষতা গড়ে তুলতে হবে, যা এআই সহজে প্রতিস্থাপন করতে পারবে না। সৃষ্টিশীল চিন্তা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, যোগাযোগ, নেতৃত্ব, বিশ্লেষণ এবং মানুষের সঙ্গে কাজ করার সক্ষমতার ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও পরিবর্তন প্রয়োজন। শুধু প্রচলিত জ্ঞান মুখস্থ করানোর বদলে শিক্ষার্থীদের কীভাবে এআইকে একটি সহায়ক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে, তা শেখানো জরুরি। অর্থাৎ এআই যেন তরুণদের হয়ে চিন্তা না করে; বরং তরুণরা যেন এআইকে ব্যবহার করে নিজেদের চিন্তা ও সৃষ্টিশীলতাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। কর্মক্ষেত্রেও একইভাবে পুনঃদক্ষতা অর্জনের সুযোগ বাড়াতে হবে। যারা এআইয়ের কারণে কাজের ধরন বদলে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন, তাদের নতুন দক্ষতা শেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে কর্মী ও নিয়োগদাতাদের এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। অধ্যাপক সিম্পারলের মতে, এআইয়ের পরিবর্তনকে নিজেদের ওপর ঘটতে দেওয়ার বদলে সমাজ ও সরকারকে সক্রিয়ভাবে এর দিকনির্দেশনা দিতে হবে। এজন্য চাকরির বাজারে এআইয়ের প্রভাব নিয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। সৃষ্টিশীলতা কি তাহলে হারিয়ে যাবে? বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, এআই অনেক কাজ দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে করতে পারলেও মানুষের সৃষ্টিশীলতার প্রয়োজন শেষ হয়ে যাচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে এখনই পৌঁছানোর সুযোগ নেই। বরং বড় পরিবর্তনটি হতে পারে মানুষের কাজের ধরনে। তরুণরা যদি এআইয়ের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে নিজেরা চিন্তা করা, নতুন ধারণা তৈরি করা কিংবা কোনো সমস্যার নিজস্ব সমাধান খোঁজার অভ্যাস দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে এআইকে সহায়ক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে যদি মানুষ নিজের জ্ঞান, দক্ষতা ও সৃষ্টিশীলতাকে আরও বিকশিত করতে পারে, তাহলে প্রযুক্তিটি প্রতিদ্বন্দ্বীর বদলে সহযোগীও হয়ে উঠতে পারে। তাই প্রশ্ন শুধু এআই কতগুলো চাকরি নিয়ে নেবে—তা নয়। বড় প্রশ্ন হলো, এআইয়ের যুগে তরুণরা নিজেদের সৃষ্টিশীলতা, দক্ষতা ও চিন্তার স্বাধীনতা কীভাবে ধরে রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।