সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

চিকিৎসক

চীনের ফুজিয়ান প্রদেশে ২০১৪ সালে টানা ৩২ ঘণ্টার জটিল অস্ত্রোপচার শেষে ক্লান্ত চিকিৎসকদের মেঝেতে বিশ্রাম নেওয়ার ছবি আলোচনায় আসে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
রোগীর জীবন বাঁচাতে টানা ৩২ ঘণ্টা অপরারেশন, ক্লান্তিতে মেঝেতে শুয়ে পড়লেন চিকিৎসকেরা

রোগীর জীবন বাঁচাতে টানা ৩২ ঘণ্টা ধরে জটিল অস্ত্রোপচার করেছেন চীনের একদল চিকিৎসক। অস্ত্রোপচার শেষে ক্লান্তিতে অপারেশন কক্ষের মেঝেতে শুয়ে পড়েন তাঁদের কয়েকজন। তাঁদের একজন মেঝেতে শুয়েই ক্যামেরার দিকে বিজয়চিহ্ন দেখান। চিকিৎসকদের এই মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৪ সালের জুনে, চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের ফুঝৌ শহরের ফুজিয়ান মেডিকেল ইউনিভার্সিটি ইউনিয়ন হাসপাতালে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোগীর মস্তিষ্কে দুটি গুরুতর সমস্যা ছিল। একটি হলো মস্তিষ্কের রক্তনালিতে অ্যানিউরিজম, অর্থাৎ রক্তনালির দেয়াল দুর্বল হয়ে অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ওঠা। অন্যটি ছিল ব্রেনস্টেমে হেমানজিওব্লাস্টোমা নামের বিরল ধরনের টিউমার। মস্তিষ্কের এই অংশটি শ্বাসপ্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দনের মতো গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। চিকিৎসকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, একটি সমস্যার চিকিৎসা করতে গিয়ে অন্যটির জটিলতা বা রক্তক্ষরণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা করতে হয়।   অস্ত্রোপচারে অংশ নেন তিনজন সার্জন, ছয়জন অ্যানেসথেশিওলজিস্ট এবং আটজন নার্স। প্রায় ৩২ ঘণ্টার এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় মোট ছয়টি ধাপে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকদের দীর্ঘ সময় ধরে নিবিড় মনোযোগ ও সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করতে হয়েছিল। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকেরা কেবল অল্প সময়ের জন্য বিরতি নিয়েছিলেন। রোগীর অবস্থা বিবেচনায় প্রতিটি ধাপে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হয়েছে তাঁদের।   অস্ত্রোপচার শেষে তোলা ছবিতে চিকিৎসকদের শারীরিক ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কয়েকজন সার্জন অপারেশন কক্ষের মেঝেতে শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। তাঁদের একজন ক্লান্ত অবস্থাতেও ক্যামেরার দিকে দুই আঙুল তুলে বিজয়চিহ্ন দেখান। ছবিটি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মূলত দীর্ঘ সময় ধরে চলা জটিল অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকদের শারীরিক পরিশ্রম ও মানসিক চাপের বাস্তব চিত্র তুলে ধরায়। তবে ছবিটি ভাইরাল হওয়ার নির্দিষ্ট সময় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর প্রতিক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি।   প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের পর রোগী বেঁচে যান। তবে তাঁর পরবর্তী শারীরিক অবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সহজলভ্য নয়। ঘটনাটি চিকিৎসকদের দক্ষতা, দলগত কাজ এবং জটিল চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে। একই সঙ্গে দীর্ঘ অস্ত্রোপচারে চিকিৎসাকর্মীদের শারীরিক সক্ষমতা ও বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও সামনে আনে।   সূত্র: গ্লোবাল টাইমস ও সিএনটিভির বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদন।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
ডা. নাদিয়া হামিদ
নিউইয়র্কের স্টোনি ব্রুক মেডিসিনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে যোগ দিলেন নাদিয়া হামিদ

নিউইয়র্কের স্টোনি ব্রুক মেডিসিন কমিউনিটি মেডিকেল গ্রুপের ইস্ট এন্ড সার্জিক্যালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে যোগ দিয়েছেন ডা. নাদিয়া হামিদ। পায়ের ও গোড়ালির বিভিন্ন রোগ ও জটিলতার চিকিৎসায় বিশেষায়িত সেবা দেবেন তিনি। তাঁর এই যোগদানের ফলে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের ইস্ট এন্ড অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।   ডা. নাদিয়া হামিদ একজন বোর্ড-সার্টিফায়েড পডিয়াট্রিস্ট। পায়ের বিভিন্ন সমস্যা, গোড়ালির রোগ এবং সংশ্লিষ্ট জটিলতার চিকিৎসায় তিনি রোগীদের সেবা দেবেন। তাঁর কর্মস্থল ইস্ট এন্ড সার্জিক্যাল থেকে গ্রিনপোর্ট, ম্যাটিটাক, রিভারহেড ও আশপাশের এলাকার রোগীরা চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন।   স্টোনি ব্রুক মেডিসিনের সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. অ্যাপোস্টোলোস তাসিওপোলোস ডা. নাদিয়া হামিদের যোগদানকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইস্ট এন্ড সার্জিক্যাল ও স্টোনি ব্রুক মেডিসিন কমিউনিটি মেডিকেল গ্রুপে ডা. হামিদকে পেয়ে তাঁরা আনন্দিত। তাঁর মাধ্যমে রোগীকেন্দ্রিক ও ব্যক্তির প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসাসেবায় নতুন গুরুত্ব দেওয়া সম্ভব হবে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীসহ বৃহত্তর ইস্ট এন্ড অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসার চাহিদা পূরণেও তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।   যুক্তরাষ্ট্রে পায়ের ও গোড়ালির বিভিন্ন সমস্যার চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এসব সমস্যার মধ্যে রয়েছে পায়ের ব্যথা, গোড়ালির জটিলতা এবং চলাফেরায় অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে এমন বিভিন্ন রোগ। ডা. নাদিয়া হামিদের নতুন দায়িত্বের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের রোগীরা এসব সমস্যার জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন।

নুরুল্লাহ সাইদ অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
২৬ বছর বয়সে স্তন ক্যানসার, কেমো থেকে অস্ত্রোপচার; সব বাধা পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়ালেন আন্দ্রেয়া
২৬ বছর বয়সে স্তন ক্যানসার, কেমো থেকে অস্ত্রোপচার; সব বাধা পেরিয়ে ঘুরে দাঁড়ালেন আন্দ্রেয়া

আন্দ্রেয়া ডি আরমাস, বয়স তখন মাত্র ২৬ বছর। পরিবারে কারও স্তন ক্যানসারের ইতিহাস নেই, তবে নিজের স্তনে একটি অস্বাভাবিক পিণ্ড বা চাকা অনুভব করায় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আলট্রাসাউন্ড টেকনিশিয়ানের আচরণ ছিল চরম হতাশাজনক; বয়স কম হওয়ায় আন্দ্রেয়ার শারীরিক উদ্বেগকে রীতিমতো অবহেলা করে তিনি বুঝিয়েছিলেন যে তরুণী অযথাই ভয় পাচ্ছেন।   তবে একজন রেডিওলজিস্টের হস্তক্ষেপে দ্রুত বায়োপসি করা হয় এবং জানা যায়, আন্দ্রেয়ার সেই পিণ্ডটি ম্যালিগন্যান্ট বা ক্যানসারাস। ফিজিশিয়ান অ্যাসিস্ট্যান্ট (পিএ) হিসেবে চূড়ান্ত পড়াশোনা শুরুর ঠিক এক দিন আগে স্তন ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার এই খবর তাঁর জীবনকে থমকে দেয়।   আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির তথ্যমতে, স্তন ক্যানসারে নতুন করে আক্রান্ত প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজনের বয়স ৪৫ বছরের নিচে। বিশেষ করে ২০-এর কোঠায় থাকা নারীদের আক্রান্ত হওয়ার হার তুলনামূলক কম হলেও (প্রতি ১,৩৪৪ জনে একজন), বর্তমানে তরুণীদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বছরে প্রায় ১ শতাংশ হারে বাড়ছে।   এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোনের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মেরি জেমিনিয়ানি জানান, তরুণীদের ক্ষেত্রে সাধারণত ক্যানসার দেরিতে শনাক্ত হয় এবং টিউমারগুলো বেশ আক্রমণাত্মক প্রকৃতির হয়ে থাকে। তা সত্ত্বেও অনেক তরুণীকে ‘ক্যানসারের জন্য বয়স অনেক কম’—এমন ভ্রান্ত ধারণার শিকার হতে হয়, যা আন্দ্রেয়ার ক্ষেত্রেও ঘটেছিল। পরবর্তী পরীক্ষায় আন্দ্রেয়ার শরীরে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি সৃষ্টিকারী একটি জিনগত মিউটেশন ধরা পড়ে।   তবে ক্যানসারের এই ভয়াবহতা আন্দ্রেয়াকে দমাতে পারেনি। পড়াশোনার পাশাপাশি অত্যন্ত কঠিন রুটিনে তিনি নিজের চিকিৎসাও চালিয়ে গেছেন। সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে কেমোথেরাপি নিয়ে বিকেলে নিয়ম করে ক্লাসে অংশ নিতেন তিনি। ছুটির ফাঁকে লাম্পেকটমি ও মাস্টেকটমির মতো জটিল সার্জারিও সম্পন্ন করেন। চিকিৎসকদের দারুণ সহযোগিতায় শারীরিক ও মানসিক এই যুদ্ধের পরও ২০২৫ সালে সফলভাবে পিএ গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন তিনি এবং এক মাসের মধ্যেই পেশাগত জীবনে প্রবেশ করেন।   বর্তমানে ৩০ বছর বয়সী আন্দ্রেয়া সম্পূর্ণ ক্যানসারমুক্ত। সার্জারি ও কেমোথেরাপির দিনগুলো পেছনে ফেললেও চিকিৎসার অংশ হিসেবে তাকে হরমোন থেরাপির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে, যা তাকে সাময়িক মেনোপজ এবং সন্তান ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আগেভাগেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। তবুও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।   নিজের এই লড়াইয়ের গল্প জানিয়ে আন্দ্রেয়া বলেন, নিজের শরীরের অস্বাভাবিক কোনো লক্ষণ দেখলে কখনোই ভয় বা অন্যের কথায় পিছিয়ে আসা উচিত নয়। নিজের প্রবৃত্তি ও অনুভূতির ওপর আস্থা রেখে সঠিক সময়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

ইসতিয়াক আহমেদ অক্টোবর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আহত বাংলাদেশিরা সৌদি চিকিৎসক ও নার্সদের সেবায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।
সৌদি চিকিৎসকদের নিবিড় সেবায় ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছেন হুথি হামলায় আহত বাংলাদেশিরা

ইয়েমেনের হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আহত বাংলাদেশিরা সৌদি চিকিৎসক ও নার্সদের সেবায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁদের কয়েকজনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তবে কয়েকজন এখনো নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন এবং অন্তত একজনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত আরব নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।    হামলার সময় বিমানবন্দরে ছিলেন ৩৮ বছর বয়সী বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রী আবুল মনসুর রিয়াজ। তিনি বোর্ডিং পাস সংগ্রহের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বিস্ফোরণের পর তাঁর মনে হয়েছিল, হয়তো আর বেঁচে ফিরতে পারবেন না। সেই মুহূর্তে তাঁর চোখের সামনে ভেসে উঠেছিল দেশে থাকা তিন বছর বয়সী মেয়ে, স্ত্রী ও বৃদ্ধ মায়ের মুখ। পরে আরব নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ওই কয়েকটি মুহূর্তে তাঁর মনে হয়েছিল, প্রিয়জনদের স্মরণ করার এটাই হয়তো শেষ সুযোগ।    রিয়াদের একটি হাসপাতালে রিয়াজের পা, কোমর ও মাথায় আঘাতের চিকিৎসা চলছে। তাঁকে একাধিক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তিনি জানান, সৌদি চিকিৎসক ও নার্সরা অত্যন্ত আন্তরিকভাবে তাঁর সেবা করছেন। হাসপাতালে কর্মরত বাংলাদেশিরাও তাঁকে পরিবারের সদস্যের মতো সহযোগিতা করছেন। সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দেলওয়ার হোসেন বুধবার তাঁকে দেখতে গিয়ে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন।  আহত আরেক বাংলাদেশি কুমিল্লার দাউদ বিন মুহিব। তিনি রিয়াদের কিং ফাহাদ হাসপাতালে শরীরে ধাতব টুকরোর আঘাত ও পোড়া ক্ষতের চিকিৎসা নিচ্ছেন। আরব নিউজকে তিনি জানিয়েছেন, হামলার স্মৃতি এখনো তাঁকে কষ্ট দেয়। তবে চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তিনি চিকিৎসক ও সেবাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।    বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী এবং ১৩ জন ওমরাহ পালন করতে যাওয়া যাত্রী। তাঁদের রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ দূতাবাস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।    এই হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তাঁরা হলেন বগুড়ার শাহেদ আহমেদ ও কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের নাসরুল্লাহ বাদরপুরী। শাহেদ সৌদি আরবে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফেরার পথে রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার শিকার হন তিনি। অন্যদিকে নাসরুল্লাহ ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে গিয়েছিলেন এবং রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন।    বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সৌদি আরবের সহযোগিতা চেয়েছেন। ১৪ অক্টোবর ঢাকায় সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে তিনি আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান এবং সংঘাত কমাতে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।    হামলার পর বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রী আটকা পড়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ওমরাহযাত্রী, প্রবাসী কর্মী এবং বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা ছিলেন। বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে কিছু যাত্রীর জন্য হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়, অন্যদের বিকল্প পথে গন্তব্যে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
ফ্লোরিডার সুইমিং পুলে সাত বছরের শিশুর মৃ ত্যু
চোখের সামনে শিশুকে ডুবে যেতে দেখেও উদ্ধার করেননি চিকিৎসক, সাহায্যে পাঠান অন্য শিশুদের

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের একটি কমিউনিটি সুইমিং পুলে সাত বছরের এক শিশুকে ডুবে যেতে দেখেও দ্রুত উদ্ধার করতে এগিয়ে যাননি এক নারী চিকিৎসক—এমন অভিযোগ উঠেছে। বরং শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য নিজের পরিবর্তে একই বয়সী অন্য দুই শিশুকে পানিতে পাঠিয়েছিলেন তিনি বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে আরেকজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি শিশুটিকে পানি থেকে উদ্ধার করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি। এ ঘটনায় ৪৮ বছর বয়সী চিকিৎসক সুকান্থিনি সুব্বিয়াহকে গ্রে প্তা র করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে শিশুর মৃ ত্যুর ঘটনায় গুরুতর অবহেলাজনিত হ ত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।   ঘটনাটি ঘটে গত ১০ এপ্রিল ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোর এভারবি কমিউনিটির একটি সুইমিং পুলে। নিহত শিশুটির নাম খুশিল বান্ডি। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় ছয় মাস পর নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা করে গত ৫ অক্টোবর চিকিৎসক সুব্বিয়াহকে গ্রে প্তা র করা হয়।   সুব্বিয়াহ লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ও পেশায় চিকিৎসক। ঘটনার সময় তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে অরল্যান্ডোতে এসেছিলেন। সেখানে তাঁর সাত বছর বয়সী ছেলের সঙ্গে প্রতিবেশী পরিবারের যমজ দুই শিশুর বন্ধুত্ব হয়। পরে ওই শিশুদের মায়ের অনুমতি নিয়ে নিজের ছেলেসহ তিন শিশুকে সুইমিং পুলে নিয়ে যান তিনি।   তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন খুশিলের যমজ বোন লাইফ জ্যাকেট পরেছিল, কিন্তু খুশিলের গায়ে সেটি ছিল না। সুব্বিয়াহ পরে তদন্তকারীদের জানান, তিনি ধারণা করেছিলেন শিশুটি সাঁতার জানে। তাই তাকে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই পানিতে নামতে দেওয়া হয়েছিল।   পুলিশের হাতে থাকা নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টা ১৯ মিনিটে শিশুরা পুলে নামে। এর প্রায় এক মিনিট পরই খুশিল পানিতে বিপদে পড়ে। ফুটেজে দেখা যায়, পুলের মাঝামাঝি গিয়ে সে দিক পরিবর্তনের চেষ্টা করে এবং হাত-পা ছুড়তে থাকে। একপর্যায়ে সে পানির নিচে তলিয়ে যায়।   তদন্তকারীদের অভিযোগ, শিশুটি বিপদে পড়ার পরও সুব্বিয়াহ দ্রুত তাকে উদ্ধারের উদ্যোগ নেননি। বরং পুলের দিকে তাকিয়ে ছিলেন এবং পরে একই বয়সী অন্য দুই শিশুকে খুশিলকে উদ্ধারের জন্য পাঠান। পুলিশের দাবি, শিশুটি পাঁচ মিনিটের বেশি সময় ধরে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ছিল। পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সাত মিনিটেরও বেশি সময় পর তাকে উদ্ধার করা হয়।   তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাত বছর বয়সী শিশুদের পক্ষে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া আরেক শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব ছিল না। ওই দুই শিশু পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে চিৎকার করতে শুরু করে। পরে সুব্বিয়াহ পুলে থাকা অন্য একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সাহায্য চান। ওই ব্যক্তি পানিতে নেমে খুশিলকে উদ্ধার করেন।   শিশুটিকে পানি থেকে তোলার পর সুব্বিয়াহ তার সিপিআর দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করা হয়। পরে খুশিলকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসা দিয়েও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।   ঘটনার পর পুলিশের কাছে প্রাথমিক বক্তব্যে সুব্বিয়াহ দাবি করেছিলেন, শিশুটি প্রায় ৪৫ সেকেন্ড পানির নিচে ছিল। তবে তদন্তকারীরা নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজের সঙ্গে তাঁর বক্তব্যের সময়ের অসংগতি খুঁজে পান। ফুটেজ অনুযায়ী, শিশুটি অনেক বেশি সময় ধরে বিপদে ছিল এবং তাকে উদ্ধারের জন্য যথাসময়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তদন্তকারীদের।   প্রথমদিকে শিশুটির মৃ ত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে তদন্তকারীরা মনে করেন, শিশুটির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির গুরুতর অবহেলা এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত।   তদন্তকারীদের মতে, জরুরি পরিস্থিতিতে শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য সুব্বিয়াহর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। বিশেষ করে তিনি একজন চিকিৎসক হওয়ায় পানিতে ডুবে যাওয়ার বিপদ ও অক্সিজেনের অভাবে শিশুর প্রাণহানির ঝুঁকি সম্পর্কে তাঁর ধারণা থাকার কথা। কিন্তু সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগকে তাঁরা গুরুতর দায়িত্বহীনতা হিসেবে দেখছেন।   দীর্ঘ তদন্ত শেষে সুব্বিয়াহর বিরুদ্ধে শিশুর মৃ ত্যুর ঘটনায় গুরুতর অবহেলাজনিত হ ত্যার অভিযোগ আনা হয়। ৫ অক্টোবর তাঁকে অরেঞ্জ কাউন্টি জেলে নেওয়া হয়।   তবে চিকিৎসকের আইনজীবী রাজন যোশি অভিযোগের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনাটি একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নয়। আইনজীবী জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেল স্বেচ্ছায় কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিরুদ্ধে আদালতে আইনি লড়াই চালানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।   এ ঘটনাটি শিশুদের সুইমিং পুলে নিরাপত্তা ও প্রাপ্তবয়স্কদের তত্ত্বাবধানের গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে এক থেকে চার বছর বয়সী শিশুদের মৃ ত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ পানিতে ডুবে যাওয়া। পাঁচ থেকে ১৪ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রেও এটি মৃ ত্যুর উল্লেখযোগ্য কারণগুলোর একটি।   বিশেষজ্ঞদের মতে, পানিতে ডুবে যাওয়ার সময় শিশুরা সব সময় চিৎকার করে সাহায্য চাইতে পারে না। অনেক সময় অল্প সময়ের মধ্যেই তারা পানির নিচে তলিয়ে যায়। এ কারণে সুইমিং পুলে শিশুদের উপস্থিতিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সার্বক্ষণিক নজরদারি অত্যন্ত জরুরি।   চিকিৎসক সুব্বিয়াহর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে, শিশুটিকে উদ্ধারে তাঁর কথিত নিষ্ক্রিয়তা ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে কি না।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ৮, ২০২৬ ১৪:০
পারিবারিক ফটো।
রাত ২ টায় কুইন ক্যামিলার চিকিৎসকের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ, স্বামী আটক

ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা দিয়েছেন বলে পরিচিত চিকিৎসক ডা. হান্না কেইনের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বামী মার্ক কেইনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। ইংল্যান্ডের নরফোকের ডারসিংহামে নিজ বাড়ি থেকে ৪৫ বছর বয়সী হান্নার মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ।   নরফোক পুলিশ জানিয়েছে, ৪৫ বছর বয়সী মার্ক কেইনকে গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।ঘটনাটি ঘটে ৪ অক্টোবর ভোরে। নরফোক পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাত ২টা ২০ মিনিটের কিছু পর অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের কাছ থেকে খবর পেয়ে কর্মকর্তারা ফার্ন হিল এলাকার একটি বাড়িতে যান। সেখানে ৪০-এর কোঠার এক নারীকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে আনুষ্ঠানিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার প্রক্রিয়া সাপেক্ষে তাঁকে হান্না কেইন হিসেবে শনাক্ত করা হয়।   হান্না পেশাগতভাবে ডা. হান্না টেরি নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি নরফোকের গ্রিমস্টন মেডিকেল সেন্টারে জেনারেল প্র্যাকটিশনার হিসেবে কাজ করতেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্যান্ড্রিংহামে অবস্থানকালে রাজপরিবারের সদস্যদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য যেসব চিকিৎসককে ডাকা হতো, হান্না তাঁদের একজন ছিলেন। তিনি কুইন ক্যামিলাকেও চিকিৎসা দিয়েছেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে নরফোক পুলিশ বা ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস রাজপরিবারের সঙ্গে তাঁর এই সম্পর্ক আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।   নিউইয়র্ক পোস্টসহ ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় বাড়িতে হান্নার সন্তানদের কয়েকজন বন্ধু ছিল এবং সেখানে শিশুদের রাতযাপনের আয়োজন চলছিল। তবে এই অংশটি পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি। হান্না তিন সন্তানের মা ছিলেন।   বুধবার নরউইচ ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে হাজির করা হয় মার্ক কেইনকে। আদালতের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংক্ষিপ্ত শুনানিতে তিনি নিজের নাম, ঠিকানা ও জন্মতারিখ নিশ্চিত করেন। এ পর্যায়ে তাঁকে কোনো প্লি দিতে বলা হয়নি। তাঁকে হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং মামলাটি পরবর্তী আদালত প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে।   আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে হান্নার মাথায় আঘাত এবং ঘাড়ে চাপের চিহ্ন পাওয়ার কথা তুলে ধরা হয়েছে। তবে নরফোক পুলিশ জানিয়েছে, ৫ অক্টোবর হোম অফিসের তত্ত্বাবধানে ময়নাতদন্ত হলেও মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ এখনো আরও তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ নিয়ে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছে না।   ঘটনার পর নরফোক ও সাফোক মেজর ইনভেস্টিগেশন টিম হত্যার তদন্ত শুরু করে। প্রথমে একজন ৪০-এর কোঠার পুরুষকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরে পুলিশ অতিরিক্ত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছ থেকে আরও সময় নেয়। তদন্ত শেষে ৬ অক্টোবর মার্ক কেইনের বিরুদ্ধে হান্নাকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়।   ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসও নিশ্চিত করেছে, হান্না কেইনের মৃত্যুর ঘটনায় মার্ক কেইনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ অনুমোদন করা হয়েছে। প্রসিকিউশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুলিশি তদন্তে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনার পর এই অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে ফৌজদারি মামলার নিয়ম অনুযায়ী, আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত মার্ক কেইনকে নির্দোষ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।   ঘটনার পর গ্রিমস্টন মেডিকেল সেন্টার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের টিমকে প্রভাবিত করা অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হান্নার সহকর্মী ও পরিচিতদের অনেকেই তাঁকে একজন সহানুভূতিশীল ও নিবেদিত চিকিৎসক হিসেবে স্মরণ করেছেন।   হান্নার পরিবারকে বিশেষায়িত পুলিশ কর্মকর্তারা সহায়তা করছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে এই সময়ে গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।   স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটের কাছাকাছি শান্ত আবাসিক এলাকায় এই মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য ঘটনার পূর্ণ পরিস্থিতি, মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এবং অভিযোগের পক্ষে থাকা প্রমাণ আদালতের সামনে উপস্থাপন করা। মামলাটি বিচারাধীন থাকায় উদ্দেশ্য বা ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

বায়জিদ হাসান অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১৪:০
এফবিআইয়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় এখনো বাংলাদেশি চিকিৎসক জাহিদুল
এফবিআইয়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় এখনো বাংলাদেশি চিকিৎসক জাহিদুল

যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় এক নারী রোগীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাংলাদেশি চিকিৎসক জাহিদুল ইসলামকে খুঁজছে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন, এফবিআই। ১৯৯৬ সালের ৩ অক্টোবরের ওই ঘটনার ৩০ বছর পরও সংস্থার ওয়ান্টেড তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। এফবিআইয়ের ফিলাডেলফিয়া কার্যালয় তাঁকে সহিংস অপরাধসংক্রান্ত তালিকায় রেখেছে।    এফবিআইয়ের বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনাটি পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ার একটি বড় হাসপাতালে ঘটে। অভিযোগ, সেখানে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত জাহিদুল অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে উঠতে থাকা এক নারী রোগীকে ওষুধ দিয়ে ঝিমিয়ে ফেলেন এবং হাসপাতালের কক্ষে তাঁকে ধর্ষণ করেন।    তাঁর বিরুদ্ধে অঙ্গরাজ্য পর্যায়ে অভিযোগ আনার পর ১৯৯৭ সালের জুলাইয়ে পেনসিলভানিয়ার ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টে ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। বিচার এড়াতে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগও এফবিআইয়ের নোটিশে উল্লেখ রয়েছে।    জাহিদুলের নাম এফবিআইয়ের ওয়ান্টেড তালিকায় থাকলেও তাঁকে সংস্থার বিশেষ ‘টেন মোস্ট ওয়ান্টেড ফিউজিটিভস’ তালিকার সদস্য হিসেবে দেখানো হয়নি। ফিলাডেলফিয়া কার্যালয়ের তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে ‘অ্যাডিশনাল ভায়োলেন্ট ক্রাইমস’ বিভাগে।    এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ও কানাডার মন্ট্রিয়লে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। তিনি চিকিৎসক স্ত্রীর সঙ্গে চলাফেরা করতে পারেন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। তবে তাঁর বর্তমান অবস্থান নোটিশে উল্লেখ করা হয়নি।    সংস্থাটি জাহিদুলকে সশস্ত্র ও বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচনার সতর্কতা দিয়েছে। তাঁর সম্পর্কে তথ্য থাকলে স্থানীয় এফবিআই কার্যালয় অথবা নিকটস্থ মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

নীলুফা নিশাত অক্টোবর ৩, ২০২৬ ১৪:০
তথ্য গোপন ও পেশাগত দক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের ঘটনায় বৃটেনে ডা. নাজিবের নিবন্ধন বাতিলের নির্দেশ
পেশাগত অসদাচরণ, চিকিৎসাসেবায় ঘাটতি ও তথ্য গোপনের দায়ে বৃটেনে ডা. নাজিবের নিবন্ধন বাতিল

পেশাগত দক্ষতার ঘাটতি, চিকিৎসাসেবায় প্রয়োজনীয় সক্ষমতা দেখাতে ব্যর্থতা এবং নতুন নিয়োগদাতার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের ঘটনায় যুক্তরাজ্যে চিকিৎসক ডা. সুরাইয়া কামাল নাজিবের চিকিৎসক নিবন্ধন বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মেডিকেল প্র্যাকটিশনার্স ট্রাইব্যুনালের এক শুনানিতে তার বিরুদ্ধে পেশাগত অসদাচরণ ও চিকিৎসাসেবায় ঘাটতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত আসে।   ট্রাইব্যুনালের নথি অনুযায়ী, ডা. নাজিব ১৯৮৫ সালে পাকিস্তানের করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ধ মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাবিদ্যায় যোগ্যতা অর্জন করেন। তিনি ২০২১ সালের জুন থেকে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্ল্যাকপুল টিচিং হসপিটালসে অস্থায়ী কনসালট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।   কনসালট্যান্ট পর্যায়ে তার কাজের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় ২০২২ সালের অক্টোবরে তাকে রেজিস্ট্রার পর্যায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু পরে কিংস লিনের কুইন এলিজাবেথ হাসপাতালে কনসালট্যান্ট পদে আবেদন করার সময় তিনি দায়িত্ব পরিবর্তনের বিষয়টি এবং নিজের দক্ষতা নিয়ে ওঠা উদ্বেগ নতুন নিয়োগদাতাকে জানাননি। ট্রাইব্যুনাল এই তথ্য গোপন করাকে অসততা হিসেবে বিবেচনা করে।   ২০২২ সালের ২৯ নভেম্বর জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসার একটি প্রশিক্ষণে প্রয়োজনীয় দক্ষতা প্রদর্শন করতে ব্যর্থ হন ডা. নাজিব। ফলে তিনি পরবর্তী পরীক্ষার ধাপে যেতে পারেননি। এর মাত্র দুই দিন পর চাকরির ইন্টারভিউ অনুষ্ঠিত হলেও সেখানেও তিনি বিষয়টি প্রকাশ করেননি। পরে ২০২৩ সালের মার্চে তিনি নতুন হাসপাতালে যোগ দেন।   ট্রাইব্যুনালের মূল্যায়নে, তার পেশাগত দক্ষতার ঘাটতি এবং তথ্য গোপনের ঘটনায় রোগীর নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ব্ল্যাকপুল কর্তৃপক্ষ তাকে তত্ত্বাবধানে পুনঃপ্রশিক্ষণের সুযোগ দিলেও তিনি সেই সুযোগ গ্রহণ করেননি।   শুনানি শেষে মেডিকেল প্র্যাকটিশনার্স ট্রাইব্যুনাল ডা. নাজিবের নাম যুক্তরাজ্যের চিকিৎসক নিবন্ধন থেকে মুছে ফেলার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে তার ওপর তাৎক্ষণিক স্থগিতাদেশও দেওয়া হয়েছে।   নোটিশ আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছানোর ২৮ দিন পর নিবন্ধন বাতিলের মূল নির্দেশ কার্যকর হওয়ার কথা। তবে এর মধ্যে তিনি আপিল করলে আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০
চীনের উহানে ২০ বছরের ডাক্তারি পেশা ছেড়ে বান রুটির দোকান খুলেছেন সাবেক চিকিৎসক ডং মিন। ছবি: সংগৃহীত
মানসিক শান্তি পেতে ২০ বছরের ডাক্তারি পেশা ছেড়ে দিলেন নারী, খুললেন বান রুটির দোকান

দীর্ঘ দুই দশক ধরে চিকিৎসা পেশায় যুক্ত ছিলেন চীনের এক নারী। কিন্তু রোগীর চাপ, প্রশাসনিক কাজ আর মানসিক অবসাদ থেকে মুক্তি পেতে তিন বছর আগে এক অভাবনীয় সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ডাক্তারি ছেড়ে তিনি একটি স্টিমড স্টাফড বান বা ভাপানো রুটির দোকান খোলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার এই দোকানটি শুধু টিকেই থাকেনি, বরং দারুণ সফলতা পেয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় গত জুলাই মাসে তিনি দ্বিতীয় শাখাও চালু করেছেন।   ডং মিন নামের ৪৮ বছর বয়সী এই সাবেক চিকিৎসকের গল্পটি চীনের চিকিৎসা ব্যবস্থায় একটি নতুন প্রবণতার চিত্র তুলে ধরেছে। যেখানে মানসিক শান্তি ও সহজ জীবনের আশায় অনেক চিকিৎসক তাদের সম্মানজনক পেশা ছেড়ে সাধারণ ব্যবসায় যুক্ত হচ্ছেন।   চীনের সংবাদমাধ্যম চ্যাংজিয়াং ডেইলিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডং মিন বলেন, যখন আমি চিকিৎসক ছিলাম, তখন প্রায়ই চাকরি ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবতাম। এখন বান রুটির দোকান চালাতে গিয়ে আমাকে অনেক ব্যস্ত থাকতে হয় এবং আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ি। কিন্তু আমি এতটাই খুশি যে এই কাজ থামানোর কোনো ইচ্ছে আমার নেই।   ১৯৯৯ সালে উহান ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মেডিসিন থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন ডং মিন। এরপর শেনজেন শহরে গাইনোকোলজিস্ট বা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কয়েক বছর পর মায়ের ব্যক্তিমালিকানাধীন ক্লিনিক পরিচালনার জন্য উহানে ফিরে আসেন তিনি।   মায়ের অবসরের পর তারা ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেন এবং হুবেই প্রদেশের তিয়ানমেনে নিজেদের এলাকায় ফিরে যান। সেখানে ডং একটি ছোট কমিউনিটি হাসপাতালের চিকিৎসক এবং আইনি প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নেন।   পেশা পরিবর্তনের কারণ সম্পর্কে ডং জানান, একজন চিকিৎসক হিসেবে তাকে চরম মানসিক চাপের সম্মুখীন হতে হতো। রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন সংস্থার ঘন ঘন পরিদর্শনের মতো চিকিৎসা বহির্ভূত কাজেও প্রচুর সময় ও শ্রম দিতে হতো। চীনে হাসপাতাল ও রোগীদের মধ্যে সম্পর্ক অনেক সময় বেশ উত্তেজনাপূর্ণ থাকে। হাসপাতালের আইনি প্রতিনিধি হওয়ায় যেকোনো চিকিৎসাজনিত বিবাদের সম্পূর্ণ দায়ভার তার ওপরই বর্তাতো।   আগের কাজের সঙ্গে বর্তমান জীবনের তুলনা করে ডং বলেন, এখন তাকে প্রতিদিন ১০ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে হয়, কিন্তু তার কোনো মানসিক চাপ নেই।   ২০২৩ সালে এক বন্ধুর পরিবারের এমন একটি দোকান দেখে তিনি এই ব্যবসায় আগ্রহী হন। শুরুতে তিনি একটি বান রুটির দোকানে বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে দোকানের প্রধান বাবুর্চি কাজ ছেড়ে দিলে তিনি নিজেই বান রুটি তৈরির কৌশল শেখার সিদ্ধান্ত নেন। খুব দ্রুত তিনি এই কাজে দক্ষতা অর্জন করেন এবং কাজটি উপভোগ করতে শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত তিনি দোকানটি পরিচালনার জন্য ডাক্তারি পেশা পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।   শুরুতে তার পরিবার এই সিদ্ধান্তের ঘোর বিরোধিতা করেছিল। কারণ চীনে চিকিৎসকের পেশাকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও সম্মানজনক মনে করা হয়। এর জবাবে ডং তার পরিবারকে বলেছিলেন, আমার বয়স এখন প্রায় ৫০ বছর এবং আমি জীবনে অনেক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছি। অন্যরা আমাকে নিয়ে কী ভাবল তা নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না। আমি শুধু এমন একটি জীবন চাই যা আমি ভালোবাসি এবং আমি নিজের জন্য বাঁচতে চাই।   তার এই দৃঢ়তায় ধীরে ধীরে তার মা ও ভাই তাকে সমর্থন করতে শুরু করেন এবং এখন তারা মাঝেমধ্যে দোকানে এসে তাকে সাহায্যও করেন। ডং বলেন, জীবনে কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর নেই, পরিবর্তনের জন্য কখনোই দেরি হয়ে যায় না। আমি যতদিন চলাফেরা করতে পারব, ততদিন এই দোকানটি চালিয়ে যেতে চাই।   চীনে রোগীর অতিরিক্ত চাপ এবং প্রশাসনিক কাজের বোঝার কারণে চিকিৎসকরা প্রায়ই মারাত্মক শারীরিক ও মানসিক অবসাদে ভোগেন। ডংয়ের মতো আরও অনেক স্বাস্থ্যকর্মী এখন তুলনামূলক কম মর্যাদাপূর্ণ কিন্তু শান্তিময় পেশার দিকে ঝুঁকছেন।   ২০২৪ সালে ঝেজিয়াং প্রদেশের একটি বড় হাসপাতালে ১৩ বছর ধরে কাজ করা এক চিকিৎসকও চাকরি ছেড়ে রাস্তার পাশে স্ন্যাকসের দোকান খোলেন। তিনি জানান, আগের চাকরিতে তিনি মাসে ১০ হাজার ইউয়ানের কম বেতন পেতেন, কিন্তু এখন তার আয় আগের চেয়ে অনেক বেশি।   চীনের চিকিৎসকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম জিং লিন ইউয়ান কমিউনিটির মতে, চিকিৎসকরা শুধু শারীরিকভাবে ক্লান্ত হন না, তারা চরম মানসিক অবসাদেও ভোগেন। এটি পুরো চিকিৎসা খাতের একটি কাঠামোগত সমস্যা। চিকিৎসকদের অন্তহীন চিকিৎসা বহির্ভূত কাজ করতে হয় এবং রোগীদের অভিযোগের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়। অথচ তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পরিশ্রম অনুযায়ী তারা যথাযথ পারিশ্রমিক পান না।   সূত্র: চ্যাংজিয়াং ডেইলি

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি চিকিৎসক সায়েরা হক
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি চিকিৎসক সায়েরা হক, রংপুর মেডিকেল থেকে ব্রুকলিনের চিকিৎসাসেবা

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনাল মেডিসিনের চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডা. সায়েরা হক। রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে এসে তিনি কনি আইল্যান্ড হাসপাতালে ইন্টারনাল মেডিসিনে প্রশিক্ষণ নেন। বর্তমানে তিনি ব্রুকলিনে নিজস্ব চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগী দেখার পাশাপাশি সাউথ ব্রুকলিন হেলথের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন।    প্রকাশ্য চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ডা. সায়েরা হক ১৯৯৫ সালে রংপুর মেডিকেল কলেজ থেকে মেডিকেল ডিগ্রি অর্জন করেন। যুক্তরাষ্ট্রে তার ইন্টারনাল মেডিসিনের রেসিডেন্সি সম্পন্ন হয় কনি আইল্যান্ড হাসপাতালে। নিউইয়র্কের সরকারি হাসপাতাল ব্যবস্থার চিকিৎসক প্রোফাইলেও তার মেডিকেল শিক্ষা ও রেসিডেন্সির তথ্য উল্লেখ রয়েছে।    চিকিৎসাবিষয়ক বিভিন্ন প্রকাশ্য প্রোফাইলে তাকে ইন্টারনাল মেডিসিনের বোর্ড সার্টিফায়েড চিকিৎসক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের চিকিৎসক ডিরেক্টরিতেও তার বিশেষত্ব হিসেবে ইন্টারনাল মেডিসিনের তথ্য রয়েছে।    ব্রুকলিনে তার চিকিৎসাসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাংলা ভাষায় রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ। নিউইয়র্ক সিটি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালসের প্রোফাইলে ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ভাষায় তার চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন স্বাস্থ্যবীমা প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত চিকিৎসক তালিকাতেও তাকে বাংলা ভাষাভাষী চিকিৎসক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।    তার নিজস্ব চিকিৎসাকেন্দ্র হক মেডিকেল অফিসের প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রাইমারি কেয়ার চিকিৎসক হিসেবেও রোগী দেখেন। চিকিৎসাকেন্দ্রটির ওয়েবসাইটে তাকে ইন্টারনাল মেডিসিনে ২৫ বছরের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এবং ইমার্জেন্সি রুমে অ্যাটেন্ডিং ফিজিশিয়ান হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অধিকারী বলা হয়েছে। তবে বর্তমানে একই প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য ওয়েবসাইটে অভিজ্ঞতার সময়কাল ৩০ বছরের বেশি এবং ইমার্জেন্সি রুমে ২১ বছরের বেশি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে পুরোনো ও বর্তমান প্রোফাইলের মধ্যে অভিজ্ঞতার সংখ্যায় পার্থক্য রয়েছে।    ব্রুকলিনে তার চিকিৎসাকেন্দ্রের বর্তমান প্রকাশ্য ঠিকানা ৫৪০ ম্যাকডোনাল্ড অ্যাভিনিউ, ব্রুকলিন, নিউইয়র্ক ১১২১৮ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসাকেন্দ্রের নিজস্ব তথ্য এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যবীমা প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসক তালিকায় এই ঠিকানা ও ফোন নম্বরের তথ্য পাওয়া যায়। একই সঙ্গে কিছু পুরোনো জাতীয় চিকিৎসক রেজিস্ট্রি তথ্যে ৫১৮ ম্যাকডোনাল্ড অ্যাভিনিউর ঠিকানাও দেখা যায়। তাই রোগীদের অ্যাপয়েন্টমেন্টের আগে চিকিৎসাকেন্দ্রের বর্তমান তথ্য নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।    ডা. সায়েরা হকের চিকিৎসাসেবা শুধু একটি নির্দিষ্ট কমিউনিটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকাশ্য চিকিৎসক তালিকায় তাকে নতুন রোগী গ্রহণকারী চিকিৎসক হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং টেলিহেলথ সুবিধার কথাও উল্লেখ রয়েছে। তার চিকিৎসাকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, রোগীদের জন্য সপ্তাহের বিভিন্ন দিন এবং দীর্ঘ সময় ধরে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সুযোগ রয়েছে।    নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য মাতৃভাষায় চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ একটি বাস্তব সুবিধা। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসমস্যা, নিয়মিত প্রাইমারি কেয়ার এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য বোঝার ক্ষেত্রে রোগী ও চিকিৎসকের মধ্যে ভাষাগত যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ডা. সায়েরা হকের প্রকাশ্য চিকিৎসক প্রোফাইলগুলোতে বাংলা ভাষায় সেবা দেওয়ার তথ্য থাকায় ব্রুকলিনে বসবাসরত বাংলা ভাষাভাষী রোগীদের জন্য তার চিকিৎসাসেবা আলাদা গুরুত্ব বহন করে।  সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০
“অন্তত এক্টি সন্তান দিন, তাকেই আমি সাধ্যমতো বড় করর” সন্তানদের হারিয়ে প্যাট্রিকের আকুতি
“অন্তত এক্টি সন্তান দিন, তাকেই আমি সাধ্যমতো বড় করর” সন্তানদের হারিয়ে প্যাট্রিকের আকুতি

ম্যাসাচুসেটসের ডাক্সবারির সেই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছোট ছেলে ক্যালানকে বাঁচানোর জন্য মরিয়া হয়ে প্রার্থনা করেছিলেন বাবা প্যাট্রিক ক্ল্যান্সি। দুই বড় সন্তান কোরা ও ডসনকে মৃত অবস্থায় পাওয়ার পর চিকিৎসকেরা যখন ক্যালানকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন, তখন প্যাট্রিকের একটাই আকুতি ছিল, অন্তত তার একটি সন্তান যেন বেঁচে থাকে। কিন্তু চার দিন হৃদস্পন্দন চলার পর ক্যালানও মারা যায়। সম্প্রতি সিবিএসের ‘৬০ মিনিটস’-এ দেওয়া প্রথম টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে সেই দুঃসহ সময়ের কথা তুলে ধরেছেন তিনি।    ২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারি ম্যাসাচুসেটসের ডাক্সবারিতে পরিবারের বাড়িতে পাঁচ বছর বয়সী কোরা, তিন বছর বয়সী ডসন এবং আট মাস বয়সী ক্যালানকে গুরুতর অবস্থায় পাওয়া যায়। প্যাট্রিকের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বাড়িতে ফিরে সন্তানদের দেখতে পান এবং ক্যালানকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। ক্যালানের হৃদস্পন্দন ফিরিয়ে আনতে চিকিৎসকেরা চেষ্টা চালান এবং তাকে বোস্টন চিলড্রেনস হাসপাতালে নেওয়া হয়।    হাসপাতালে ক্যালানের হৃদস্পন্দন চার দিন চলেছিল। সেই সময়টুকু প্যাট্রিকের কাছে ছিল একদিকে আশার, অন্যদিকে গভীর অনিশ্চয়তার। তিনি জানান, তখন তিনি মনে মনে চেয়েছিলেন, অন্তত একজন সন্তান যেন তার কাছে ফিরে আসে। ক্যালানকে নিয়ে তিনি ভবিষ্যতের কথাও ভাবছিলেন এবং বড় দুই ভাইবোনের কথা তাকে একদিন বলবেন বলে আশা করেছিলেন।    কিন্তু সেই আশা শেষ পর্যন্ত পূরণ হয়নি। প্যাট্রিক জানান, ক্যালানের শেষ দিনগুলোতে তিনি তার পাশে ছিলেন, তাকে কোলে নিয়েছেন এবং কথা বলেছেন। একপর্যায়ে শিশুটি তার বাবার কোলে থাকা অবস্থাতেই মারা যায়। প্যাট্রিক বলেন, ওই কয়েকটি দিন তার কাছে অত্যন্ত মূল্যবান ছিল, কারণ তিনি শেষ সময়টুকু সন্তানের সঙ্গে কাটাতে পেরেছিলেন।    সন্তানদের মৃত্যুর পর প্যাট্রিক তিন সন্তানের স্মৃতি ধরে রাখতে তাদের নিয়ে লিখতে শুরু করেন। ক্যালানের হাত ধরে এক হাতে লেখা এবং অন্য হাতে সন্তানের হাত ধরে থাকার সেই সময়ের কথাও তিনি সাক্ষাৎকারে জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সন্তানদের নিয়ে না লিখলে তাদের স্মৃতি হারিয়ে যাবে, এমন একটি ভয় তার মধ্যে কাজ করছিল।    এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্যাট্রিকের সাবেক স্ত্রী লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিরুদ্ধে তিন সন্তানকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। মামলায় তার আইনজীবীরা দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি গুরুতর প্রসব-পরবর্তী মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং তার মানসিক অবস্থার কারণে তিনি অপরাধের জন্য আইনগতভাবে দায়ী ছিলেন না। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া বিচার শেষে জুরি ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি এবং মামলাটি মিস্ট্রায়ালে শেষ হয়। পুনর্বিচার হবে কি না, সে বিষয়ে প্রসিকিউটররা এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেননি।    মামলার বিচার চলাকালে প্যাট্রিক নিজেও আদালতে সাক্ষ্য দেন। একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ঘিরে নানা অভিযোগ ও ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ে। ‘৬০ মিনিটস’-এর সাক্ষাৎকারে তিনি এসবকে নিজের ও সন্তানদের স্মৃতির জন্য ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেন। তার বক্তব্য, অনলাইনে ছড়ানো নানা দাবি মূল ঘটনার পরিবর্তে মানুষের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দিয়েছে।    প্যাট্রিক জানান, আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময়ও তিনি প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে গেছেন। একপর্যায়ে তার গুরুতর আতঙ্কের প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া হয়। এরপরও তিনি আদালতে ফিরে গিয়ে নিজের সাক্ষ্য শেষ করেন।    সন্তানদের হারানোর পর ডাক্সবারিতে থাকা কঠিন হয়ে পড়ায় প্যাট্রিক নিউইয়র্ক সিটিতে চলে যান। সেখানে তিনি নতুনভাবে জীবন গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ২০২৪ সালে নিউইয়র্কে চিকিৎসক র‍্যাচেল ড্যানিসের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। চলতি বছরের এপ্রিলে তারা বিয়ে করেন। ড্যানিসও ‘৬০ মিনিটস’-এ প্যাট্রিকের সঙ্গে তাদের জীবন ও সন্তানদের স্মৃতি নিয়ে কথা বলেছেন।    বর্তমানে প্যাট্রিক ও র‍্যাচেল নতুন করে পরিবার গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ভবিষ্যতে তাদের সন্তানকে কোরা, ডসন ও ক্যালানের কথা কীভাবে বলবেন, সে প্রশ্নের জবাবে প্যাট্রিক জানান, তিনি একদিন তাদের বড় ভাই ও বোনের গল্প অবশ্যই বলবেন। তার কাছে সন্তানদের স্মৃতি এখনো জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৪:০
রাত ১০টায় অসুস্থ স্বামীর ওষুধ পেয়ে ভারতের স্বাস্থ্যসেবার প্রশংসায় সাবেক ব্রিটিশ চিকিৎসক
রাত ১০টায় অসুস্থ স্বামীর ওষুধ পেয়ে ভারতের স্বাস্থ্যসেবার প্রশংসায় সাবেক ব্রিটিশ চিকিৎসক

ভারতে রাত ১০টার পরও অসুস্থ স্বামীর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ও শিরায় দেওয়ার ইনজেকশন সংগ্রহ করতে পারার অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক এনএইচএস চিকিৎসক দীপাঞ্জলি শর্মা। তার স্বামীও একজন চিকিৎসক। হঠাৎ মাথাব্যথা ও বারবার বমি শুরু হলে দ্রুত ওষুধের প্রয়োজন হয়। তখন রাতে বাইরে বেরিয়ে ওষুধ সংগ্রহ করেন তিনি।   ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দীপাঞ্জলি শর্মা জানান, স্বামীর প্রথমে মাথাব্যথা শুরু হয়। পরে তিনি একাধিকবার বমি করতে থাকেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাত প্রায় ১০টার দিকে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও শিরায় দেওয়ার ইনজেকশন সংগ্রহ করতে বাইরে যান তিনি। ভারতের রাতেও ওষুধ পাওয়ার এই সুযোগকে তিনি নিজের অভিজ্ঞতায় আশীর্বাদ হিসেবে উল্লেখ করেন।   নিজের যুক্তরাজ্যের অভিজ্ঞতার সঙ্গে ভারতের পরিস্থিতির তুলনাও করেন শর্মা। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ বা তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা পেতে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং প্রক্রিয়াটিও তুলনামূলক জটিল হতে পারে। বিশেষ করে রাতের সময়ে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন হলে দ্রুত সেবা পাওয়ার অভিজ্ঞতা ভারতের তুলনায় ভিন্ন বলে তিনি জানান।   শর্মার বক্তব্য মূলত তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া। এটিকে ভারত বা যুক্তরাজ্যের পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ চিকিৎসা পাওয়ার সময় ও সুযোগ নির্ভর করে রোগের ধরন, অবস্থান, হাসপাতাল, ওষুধের দোকান এবং জরুরি সেবার প্রাপ্যতার ওপর।   তবে তার মন্তব্য নতুন করে একটি বিষয় সামনে এনেছে। বিদেশে বসবাসের সময় নিজের দেশের কিছু দৈনন্দিন সুবিধার মূল্য অনেক বেশি করে উপলব্ধি হতে পারে। দেশে থাকাকালে যে বিষয়গুলো স্বাভাবিক বলে মনে হয়, বিদেশে গিয়ে সেগুলোই কখনো গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হিসেবে মনে হতে পারে বলে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন শর্মা।   দীপাঞ্জলি শর্মার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারত ও যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় ওষুধ ও চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে তার অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, একটি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে সামগ্রিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বৃহত্তর তথ্য ও বাস্তব পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬ ১৪:০
মর্গে ৫ দিন পড়ে ছিল মরদেহ
মর্গে ৫ দিন পড়ে ছিল মরদেহ, হঠাৎ জীবিত হয়ে ওঠেন খোরশেদ, চমকে যায় সবাই

২০০৯ সালের ঘটনা। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঁচ দিন পড়ে ছিল খোরশেদ আলমের মরদেহ। লিভারের জটিলতায় চিকিৎসাধীন খোরশেদকে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়। স্বজনেরা শোকাহত হয়ে দাফনের প্রস্তুতি নিলেও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কারণে মরদেহ কয়েক দিন মর্গে রাখা হয়। পঞ্চম দিন মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার সময় ঘটে অপ্রত্যাশিত ঘটনা।   পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, মরদেহ বহনের সময় হঠাৎ নড়েচড়ে ওঠেন খোরশেদ। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্বজনেরা দ্রুত তাকে আবার হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন বলে জানা যায়। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং খোরশেদ পরিচিত হয়ে ওঠেন ‘মৃত খোরশেদ’ নামে।   ঘটনাটি ২০০৯ সালের হলেও এত বছর পরও চট্টগ্রামের স্থানীয় মানুষের মধ্যে গল্পটি প্রচলিত রয়েছে। তবে ঘটনার চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা সে সময়ের হাসপাতাল-সংক্রান্ত নথি প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে তাকে কীভাবে মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল বা পরে তার নড়াচড়ার সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক কারণ কী ছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।   সম্প্রতি সেই খোরশেদ আলমের সঙ্গে দেখা করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসাইন। এ সময় খোরশেদের বর্তমান জীবনযাপন ও আর্থিক পরিস্থিতির কথা জানতে পারেন তিনি। খোরশেদের জন্য নিজের অর্থায়নে একটি দোকানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।   মেয়রের এই উদ্যোগে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন খোরশেদ। একপর্যায়ে তিনি মেয়রকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। দীর্ঘদিন পরও যে পুরোনো ঘটনাটি মানুষের মনে রয়ে গেছে, সেই খোরশেদের জীবনে নতুনভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করতেই দোকানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।   চট্টগ্রামের মানুষের কাছে খোরশেদের গল্প শুধু অস্বাভাবিক একটি ঘটনার স্মৃতি নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে বেঁচে থাকা একটি স্থানীয় কাহিনি। ২০০৯ সালের সেই ঘটনার পর কেটে গেছে বহু বছর। আর এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছেন খোরশেদ, তার সেই পুরোনো পরিচয়ের কারণে নয়, বরং জীবিকা গড়ার একটি নতুন সুযোগ পাওয়ার কারণে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো চিকিৎসকদের নজিরবিহীন ধর্মঘট
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো চিকিৎসকদের নজিরবিহীন ধর্মঘট, রোগীসেবায় প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের টুইন সিটিজ এলাকায় অলিনা হেলথের দুটি হাসপাতালে প্রায় ১৫০ জন ইউনিয়নভুক্ত চিকিৎসক সোমবার চার দিনের ধর্মঘট শুরু করেছেন। কুন র‍্যাপিডসের মার্সি হাসপাতাল এবং ফ্রিডলির ইউনিটি ক্যাম্পাসে কর্মরত এসব চিকিৎসকের এই কর্মবিরতিকে যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতের হাসপাতাল চিকিৎসকদের প্রথম ধর্মঘট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের ইউনিয়ন ডক্টরস কাউন্সিল-এসইআইইউ বলছে, দীর্ঘদিনের চুক্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর কর্মপরিবেশ, রোগীসেবায় চিকিৎসকদের ভূমিকা এবং কর্মীদের অধিকার নিয়ে এই ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   চিকিৎসকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত কাজের চাপ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ছুটির সুযোগের অভাব চিকিৎসকদের বার্নআউট বাড়াচ্ছে। তাদের দাবি, চিকিৎসকদের কাজের পরিবেশ সরাসরি রোগীসেবার মানের সঙ্গে যুক্ত। এ কারণে তারা শুধু বেতন ও বেনিফিট নয়, রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে চিকিৎসকদের আরও বেশি মতামতের সুযোগ, পেইড সিক ডে এবং ছুটির মতো বিষয়েও চুক্তিতে সুরক্ষা চান।   মার্সি হাসপাতালের কুন র‍্যাপিডস ও ফ্রিডলির ইউনিটি ক্যাম্পাসের চিকিৎসকদের প্রতিনিধিত্ব করছে ডক্টরস কাউন্সিল-এসইআইইউ। ইউনিয়নটি ২০২৪ সালের শুরুতে স্বীকৃতি পেলেও চিকিৎসকদের প্রথম চুক্তি নিয়ে অলিনা হেলথের সঙ্গে প্রায় তিন বছর ধরে আলোচনা চলছে। জুনে ইউনিয়নের সদস্যদের ৯১ শতাংশ ধর্মঘটের পক্ষে ভোট দেন। এরপর ৪ সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ ১০ দিনের নোটিশ দিয়ে জানায়, ১৪ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর্মবিরতি হবে।   এই ইউনিটে হাসপাতালিস্ট, অবসটেট্রিকস ও গাইনোকলজি বিশেষজ্ঞ, সাইকিয়াট্রিস্ট এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ার চিকিৎসক রয়েছেন। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় রোগীসেবার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় চিকিৎসকদের মতামত যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রেও চিকিৎসকদের আরও বেশি সম্পৃক্ততা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।   অলিনা হেলথ অবশ্য চিকিৎসকদের অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ইউনিয়নটি দুই হাসপাতালের চিকিৎসকদের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে এবং তাদের সবাই ধর্মঘটে অংশ নিচ্ছেন না। ধর্মঘটের সময় রোগীসেবা চালু রাখতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। অলিনার ভাষ্য অনুযায়ী, কুন র‍্যাপিডসের মার্সি হাসপাতাল ও ফ্রিডলির ইউনিটি ক্যাম্পাস স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং রোগীদের সেবায় কোনো বিঘ্ন ঘটার কথা নয়।   অলিনা হেলথ আরও বলেছে, চিকিৎসকদের সঙ্গে ন্যায্য চুক্তিতে পৌঁছাতে তারা আলোচনা চালিয়ে যেতে চায়। তবে বেতন ও বেনিফিট নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা খাতের বাড়তে থাকা ব্যয়, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ক্লেইম প্রত্যাখ্যানের চাপ এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, নতুন চুক্তির প্রভাব রোগীসেবার খরচ ও ভবিষ্যতে সেবার প্রাপ্যতার ওপরও পড়তে পারে।   ধর্মঘটটি এমন সময়ে শুরু হয়েছে, যখন অলিনা হেলথের প্রায় ৬০ জন হসপিস নার্সও আলাদা শ্রম বিরোধে কর্মসূচিতে রয়েছেন। তবে চিকিৎসকদের ধর্মঘট হাসপাতালের নার্সদের ওই কর্মসূচি থেকে আলাদা। চিকিৎসকদের চার দিনের কর্মবিরতি শেষ হওয়ার কথা ১৭ সেপ্টেম্বর। এদিকে অলিনা হেলথ ও ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক সাটার হেলথের মধ্যে সম্ভাব্য অধিগ্রহণ চুক্তির বিষয়টিও প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় রয়েছে।   মিনেসোটার এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা খাতে চিকিৎসকদের ইউনিয়নভিত্তিক শ্রম অধিকার ও কর্মপরিবেশ নিয়ে চলমান বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। একদিকে চিকিৎসকেরা বলছেন, পর্যাপ্ত ছুটি, কাজের পরিবেশ এবং রোগীসেবার সিদ্ধান্তে চিকিৎসকদের ভূমিকা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, স্বাস্থ্যসেবা খাতের বাড়তি ব্যয় ও আর্থিক চাপের মধ্যেই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে। ধর্মঘট চলাকালে রোগীসেবায় বাস্তবে কী ধরনের প্রভাব পড়ে, সেটিও এখন দুই পক্ষের দাবির গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬ ১৪:০
কলকাতা থেকে ২২ হাজার রুপিতে এমবিবিএস সনদ
কলকাতা থেকে ২২ হাজার রুপিতে এমবিবিএস সনদ, দেশে ভুয়া চিকিৎসকের ভয়াবহ চিত্র

বাংলাদেশে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়াই জাল সনদ নিয়ে এমবিবিএস চিকিৎসক পরিচয়ে রোগী দেখানোর একটি চক্রের চিত্র উঠে এসেছে যমুনা টিভির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অনুমোদনহীন বা অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের সনদ ব্যবহার করে অনেকে চিকিৎসক পরিচয়ে কাজ করছেন। এমনকি বিএমডিসির ভুয়া রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করেও রোগীদের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করা হচ্ছে।   যমুনা টিভির অনুসন্ধানে দেখানো হয়েছে, ভুয়া এমবিবিএস সনদ সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি কতটা সহজ হতে পারে। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে এক সাংবাদিক ছদ্মবেশে কলকাতার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ২২ হাজার ভারতীয় রুপির বিনিময়ে একটি এমবিবিএস সনদ সংগ্রহ করা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু সনদ সংগ্রহই নয়, ভুয়া চিকিৎসকের পরিচয়কে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে। কেউ অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করছেন, আবার কেউ এমন প্রতিষ্ঠানের পরিচয় দিচ্ছেন যার বাস্তবে অস্তিত্বই নেই। রোগীদের কাছে নিজেদের চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বিভিন্ন কাগজপত্র ও পরিচয়ও দেখানো হচ্ছে।   অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, দেশে প্রায় ১০ হাজার ভুয়া চিকিৎসক থাকতে পারেন। তবে এই সংখ্যাটি যমুনা টিভির প্রতিবেদনে উত্থাপিত একটি অনুমান বা দাবি হিসেবে এসেছে। এর স্বাধীন সরকারি যাচাই বা নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ্যে পাওয়া না গেলে সংখ্যাটিকে নিশ্চিত পরিসংখ্যান হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।   সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এসব ব্যক্তির কেউ কেউ সরাসরি রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। চিকিৎসা বিষয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ না থাকা কোনো ব্যক্তি চিকিৎসকের পরিচয়ে রোগী দেখালে ভুল রোগ নির্ণয়, ভুল ওষুধ দেওয়া কিংবা চিকিৎসা জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এতে সাধারণ রোগীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।   বাংলাদেশে বৈধভাবে চিকিৎসা পেশা পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল বা বিএমডিসির নিবন্ধন গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তি চিকিৎসক হিসেবে দাবি করলে তার শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি বিএমডিসির নিবন্ধন যাচাই করা যায়। তবে অনুসন্ধানে ভুয়া বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে।   স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞদের জন্য এই ধরনের প্রতারণা শুধু আর্থিক প্রতারণার বিষয় নয়, জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় ঝুঁকি। একজন রোগী চিকিৎসকের যোগ্যতা যাচাই না করে চিকিৎসা নিলে তার স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে জটিল রোগের ক্ষেত্রে অযোগ্য ব্যক্তির পরামর্শে চিকিৎসা নেওয়া পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলতে পারে।   যমুনা টিভির অনুসন্ধানে উঠে আসা এই চিত্রের পর ভুয়া চিকিৎসক শনাক্তকরণ, সনদের সত্যতা যাচাই এবং বিএমডিসি নিবন্ধন ব্যবস্থার কার্যকর তদারকির বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। তবে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: যমুনা টিভি

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
নিথর হয়ে পড়ে ছিল ৯ মাসের শিশু
নিথর হয়ে পড়ে ছিল ৯ মাসের শিশু, পিআইসিইউতে মেলেনি কোনো ডাক্তার! ফেসবুক লাইভে স্বজনের আহাজারি

রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নয় মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর পর চিকিৎসা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তার স্বজন। রোববার গভীর রাতে ফেসবুক লাইভে এসে আসিফ হাসান নামের এক যুবক দাবি করেন, হাসপাতালের পিআইসিইউতে চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি, অথচ শিশুটির চিকিৎসার জন্য ২ লাখ টাকার বেশি বিল করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।    কালবেলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুটিকে রাজধানীর বীর উত্তম সি আর দত্ত রোডের পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে গত ১ সেপ্টেম্বর ভর্তি করা হয়। আসিফ হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন শিশুটির রক্তে সুগারের মাত্রা কমে গেছে। এরপর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কথা জানানো হয় এবং কয়েক দিন এভাবেই চিকিৎসা চলতে থাকে।    আসিফের দাবি, ঘটনার দিন হাসপাতাল থেকে তাদের জানানো হয়, পরদিন শিশুটিকে রিলিজ দেওয়া হতে পারে। কিন্তু পরে বিকেলে পরিবারের সদস্যদের বলা হয়, শিশুটির লাইফ সাপোর্ট প্রয়োজন। এরপর তারা শিশুটিকে দেখতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমে দেখতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে জোর করে ভেতরে গিয়ে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন আসিফ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তখন চিকিৎসককে খুঁজেও পাওয়া যায়নি।    এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে রোববার রাত ১২টার দিকে ফেসবুক লাইভে আসেন আসিফ। লাইভে তিনি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং বিল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, শিশুটির চিকিৎসার নামে ২ লাখ টাকার বেশি বিল করা হয়েছে। তবে বিলের বিস্তারিত খাত, শিশুটির চিকিৎসার পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল রেকর্ড এবং মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।    আসিফ আরও অভিযোগ করেন, তার ফেসবুক লাইভের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে আসেন এবং তাকে শাসাতে থাকেন। পরে পুলিশও ঘটনাস্থলে আসে বলে জানান তিনি। তবে তার দাবি, পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট পুলিশের বক্তব্য কালবেলার প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য প্রয়োজন।    কালবেলার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শিশুটির চিকিৎসা ডা. আতিকুর রহমানের অধীনে চলছিল বলে আসিফ জানিয়েছেন। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত ওই চিকিৎসকের বিস্তারিত পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি সংবাদমাধ্যমটি। একইভাবে শিশুটির চিকিৎসার নথি, হাসপাতালের বিল এবং মৃত্যুর মেডিকেল কারণ সম্পর্কেও কোনো পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশ্যে আসেনি।    ঘটনাটি সামনে আসার পর মূল প্রশ্ন উঠেছে, শিশুটির চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা হয়েছিল কি না এবং হাসপাতালের বিলের সঙ্গে দেওয়া চিকিৎসাসেবার যথাযথ সামঞ্জস্য ছিল কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে চিকিৎসার নথি, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে চিকিৎসায় অবহেলা হিসেবে চূড়ান্তভাবে দেখার সুযোগ নেই। বর্তমানে বিষয়টি মূলত স্বজনের অভিযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে আলোচনায় এসেছে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৪:০
৫১ বছর বয়সে এমবিবিএস পাস হাবিবুল্লাহ
পড়াশোনা থেকে ২৪ বছরের বিরতি, ৫১ বছর বয়সে এমবিবিএস পাস হাবিবুল্লাহ

৫১ বছর বয়সে অবশেষে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেছেন মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ। ঢাকা মেডিকেল কলেজের কে-৫৩ ব্যাচের এই শিক্ষার্থী ২০০২ সালে এমবিবিএস শেষ করার কথা থাকলেও পড়াশোনায় ২৪ বছরের বিরতির পর ২০২৬ সালে চূড়ান্ত পেশাগত পরীক্ষায় পাস করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর চূড়ান্ত পেশাগত এমবিবিএস পরীক্ষার ফল ১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়।    হাবিবুল্লাহ ১৯৯৫-৯৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা মেডিকেল কলেজের কে-৫৩ ব্যাচে ভর্তি হন। শুরুতে পড়াশোনায় ভালো করলেও একপর্যায়ে নানা জটিলতায় তিনি পিছিয়ে পড়েন। এক শিক্ষকের সঙ্গে বিরোধ, জুনিয়রদের সঙ্গে ক্লাস করার অস্বস্তি এবং পারিবারিক নানা সংকট ধীরে ধীরে তার পড়াশোনায় ছেদ তৈরি করে। একসময় তিনি আর পড়াশোনায় ফিরবেন না বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।    এর সঙ্গে ছিল পারিবারিক ও আর্থিক চাপ। তাঁর বাবা আবু বকর সিদ্দিক ছিলেন চিকিৎসক এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় সিভিল সার্জনের দায়িত্ব পালন করেছেন। বড় পরিবারের দায়িত্ব ও সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের মধ্যেই হাবিবুল্লাহর বেড়ে ওঠা। তাঁর বাবা মারা যান ২০০০ সালে এবং মা মারা যান ২০১৬ সালে।    দীর্ঘ ২৪ বছর পর ২০২৩ সালে আবার পড়াশোনা শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন হাবিবুল্লাহ। সে সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ছিলেন অধ্যাপক আবদুল হানিফ টাবলু। তাঁর সঙ্গে দেখা করে পড়াশোনা শেষ করার ইচ্ছার কথা জানান হাবিবুল্লাহ।   দীর্ঘ বিরতির পর পুনরায় ভর্তি হতে প্রায় ২ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হয়। এর মধ্যে ১ লাখ টাকা নিজে দেন হাবিবুল্লাহ। বাকি টাকা জোগাড়ে পাশে দাঁড়ান তাঁর কে-৫৩ ব্যাচের বন্ধু, শিক্ষক ও অন্যরা। এরপর আবার পড়াশোনা শুরু করে শেষ পর্যন্ত এমবিবিএস সম্পন্ন করেন তিনি।    চূড়ান্ত পরীক্ষায় পাস করার পর হাবিবুল্লাহ তাঁর বন্ধু ও শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। দীর্ঘ বিরতির পরও তাদের সহযোগিতা ও নিজের দৃঢ় সংকল্পই তাকে স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করেছে বলে জানান তিনি।   অধ্যাপক আবদুল হানিফ টাবলুর মতে, হাবিবুল্লাহর দৃঢ় ইচ্ছাশক্তিই এই সাফল্যের অন্যতম বড় কারণ। মেডিকেল শিক্ষার্থীদের কেউ বিভিন্ন কারণে পিছিয়ে পড়লে তাদের প্রতি শিক্ষকদের আরও মনোযোগী হওয়া এবং কার্যকর মেন্টরশিপ ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।    এখন ইন্টার্নশিপ শুরু করার অপেক্ষায় আছেন হাবিবুল্লাহ। ভবিষ্যতে সাইকিয়াট্রিতে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার আগ্রহ থেকেই এই বিষয়ে এগোতে চান তিনি।   সূত্র: প্রথম আলো  

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
চিকিৎসক সংকট বাম হাতে স্যালাইন চলছে, ডান হাতে প্রেসক্রিপশন লিখছেন অসুস্থ ডা.
চিকিৎসক সংকট বাম হাতে স্যালাইন চলছে, ডান হাতে প্রেসক্রিপশন লিখছেন অসুস্থ ডা.

ভোলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন চিকিৎসক ডা. ইরফান মাহমুদ। কিন্তু জরুরি বিভাগে রোগীর চাপ থাকায় শরীরে স্যালাইন চলা অবস্থাতেই আবার চেয়ারে বসে রোগীদের চিকিৎসা দিতে দেখা গেছে তাকে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতের এ ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।   রাত প্রায় ১২টার দিকে জরুরি বিভাগে রোগীর চাপ ছিল। চিকিৎসকের কক্ষের সামনে রোগী ও স্বজনদের অপেক্ষার মধ্যে খবর আসে, দায়িত্বে থাকা ডা. ইরফান মাহমুদ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কর্তব্যরত নার্স তাকে ইনজেকশন ও স্যালাইন দেন। একপর্যায়ে হাতে ক্যানুলা লাগানো অবস্থাতেই জরুরি বিভাগের রোগীদের চিকিৎসা দিতে বসেন তিনি।   কালবেলার প্রতিবেদনে ডা. ইরফান মাহমুদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, রাত সাড়ে ১২টার দিকে দুই থেকে তিনবার বমি হওয়ার পর তিনি অসুস্থ বোধ করেন। তখন তার রক্তচাপ ৬০/৯০-এ নেমে যায় বলে জানান তিনি। পরে নার্সরা তাকে স্যালাইন দেন। তবে জরুরি বিভাগে কয়েকজন গুরুতর রোগী আসায় স্যালাইন চলা অবস্থাতেই তাদের চিকিৎসা দিতে হয়।   হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকের সংকট রয়েছে। ফলে সীমিতসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসকদের ওপর চাপ বেশি।   ডা. ইরফান মাহমুদ জানান, হাসপাতালে ৮৬ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ১৭ জন। কনসালট্যান্ট ছাড়া পাঁচজন চিকিৎসক দুই শিফটে জরুরি বিভাগের রোগীদের সেবা দিচ্ছেন।   পরে রাত প্রায় ৩টার দিকে অন্য একজন চিকিৎসক জরুরি বিভাগের দায়িত্ব নিলে ডা. ইরফান মাহমুদ বাসায় ফেরেন। তিনি বর্তমানে কিছুটা সুস্থ বোধ করছেন বলে জানিয়েছেন।   হাসপাতালে একজন চিকিৎসক নিজে অসুস্থ থাকা অবস্থায় স্যালাইন চলতে চলতেই রোগী দেখার ঘটনায় চিকিৎসক সংকট এবং জরুরি বিভাগে অতিরিক্ত কর্মচাপের বিষয়টি সামনে এসেছে।   সূত্র: সময় নিউজ ডট টিভি

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬ ১৪:০
হেয়ার ক্লিপেই লুকিয়ে বড় বিপদ! দুর্ঘটনায় খুলিতে ঢুকে যেতে পারে ক্লিপের দাঁত, চিকিৎসকদের সতর্কতা
হেয়ার ক্লিপেই লুকিয়ে বড় বিপদ! দুর্ঘটনায় খুলিতে ঢুকে যেতে পারে ক্লিপের দাঁত, চিকিৎসকদের সতর্কতা

ফ্যাশনে জনপ্রিয় ক্ল’ ক্লিপ গাড়ি দুর্ঘটনার সময় গুরুতর মাথা ও ঘাড়ের আঘাতের কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থ্রেডসে চিকিৎসকদের এক আলোচনায় বিষয়টি সামনে আসে। তাদের মতে, দুর্ঘটনার সময় মাথা জোরে সিটের হেডরেস্টে আঘাত করলে মাথার পেছনে লাগানো ক্ল’ ক্লিপের দাঁত বা শক্ত অংশ মাথার ত্বকে ঢুকে যেতে পারে।   জরুরি চিকিৎসক ডোরিয়ান ও’লিয়ারি জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় মাথা জোরে পেছনের দিকে ছিটকে গেলে ধাতব ক্ল’ ক্লিপ মাথা, ঘাড় ও মাথার ত্বরে গুরুতর আঘাত করতে পারে। এমনকি ক্লিপ মাথার ত্বকে আটকে গিয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে এবং সেটি অপসারণে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।   একজন অবসরপ্রাপ্ত আইসিইউ নার্সও একই ধরনের ঝুঁকির কথা জানিয়েছেন। দুর্ঘটনার সময় ক্ল’ ক্লিপ মাথার খুলিতে ঢুকে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। আর একজন ডেথ ইনভেস্টিগেটর জানিয়েছেন, গাড়ি চালানোর সময় তিনি নিজে কখনো ক্ল’ ক্লিপ পরেন না।   এই আশঙ্কার পেছনে বাস্তব ঘটনার উদাহরণও রয়েছে। ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যের ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জিনা পানেসার একটি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। তার গাড়ি উল্টে যাওয়ার সময় মাথায় থাকা চুলের ক্লিপটি মাথায় ঢুকে যায়। এতে তার মাথার খুলি, মুখ ও চোখের চারপাশে গুরুতর আঘাত লাগে।   অস্ট্রেলিয়াতেও একই ধরনের আরেকটি ঘটনা সামনে এসেছে। ২২ বছর বয়সী ফ্যাশন ইনফ্লুয়েন্সার এল্লা কার্টার গাড়ি দুর্ঘটনায় প্লাস্টিকের ক্ল’ ক্লিপ পরা অবস্থায় গুরুতর কনকাশনে আক্রান্ত হন। তিনি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করেন।   ক্ল’ ক্লিপ মূলত দ্রুত চুল বাঁধার সুবিধার জন্য ব্যবহৃত একটি জনপ্রিয় অনুষঙ্গ। ১৯৮০-এর দশক থেকেই এর ব্যবহার রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নব্বইয়ের দশক ও দুই হাজার দশকের ফ্যাশনের জনপ্রিয়তার সঙ্গে এটি আবারও তরুণদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ফিরে এসেছে।   তবে চিকিৎসকদের সতর্কতা মূলত গাড়িতে ক্ল’ ক্লিপ ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে। দুর্ঘটনার সময় মাথা ও হেডরেস্টের মাঝখানে শক্ত কোনো বস্তু থাকলে সেটি আঘাতের মাত্রা বাড়াতে পারে। তাই গাড়ি চালানো বা যাত্রার সময় এ ধরনের শক্ত ক্লিপের পরিবর্তে নিরাপদ বিকল্প ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৪:০
দুইদিন ধরে  হাঁটতে পারছেন না সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চু্প্পু
দুইদিন ধরে হাঁটতে পারছেন না সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চু্প্পু

ডান পায়ের পুরোনো সমস্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় তীব্র শারীরিক যন্ত্রণায় ভুগছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। গত দুদিন ধরে তিনি স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারছেন না। চিকিৎসকের পরামর্শে ইতোমধ্যে ইনজেকশন নেওয়া শুরু করেছেন এবং টানা তিন সপ্তাহ এই চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে বলে জানিয়েছেন তার এক স্বজন।   রোববার রাতে সাবেক রাষ্ট্রপতির ওই স্বজন জানান, গত দুদিন ধরে মো. সাহাবুদ্দিনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে ডান পায়ের পুরোনো সমস্যাটি নতুন করে তীব্র হয়েছে।   তিনি বলেন, ‘তিনি দুদিন ধরে খুবই অসুস্থ। ডান পায়ের পুরোনো সমস্যা বেড়েছে। ইতোমধ্যে ইনজেকশন নিয়েছেন।’   চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এই ইনজেকশন একবার নিয়েই শেষ হচ্ছে না। টানা তিন সপ্তাহ তাকে চিকিৎসার মধ্যে থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন ওই স্বজন। তিনি বলেন, ‘চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টানা তিন সপ্তাহ তাকে এই ইনজেকশন নিতে হবে। এখন স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারছেন না।’   তবে তার পায়ের সমস্যার সুনির্দিষ্ট রোগ নির্ণয়, কী ধরনের ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছে কিংবা নতুন করে কোনো হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। ফলে পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা তথ্যের বাইরে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে অন্য কোনো চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   এর আগে গুরুতর স্বাস্থ্যগত সমস্যার কথা জানিয়ে গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগপত্রে তিনি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছিলেন। সে সময় রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকেরা তার অটোনমিক নিউরোপ্যাথি শনাক্ত করেছিলেন। এই সমস্যার কারণে মাঝেমধ্যে তিনি সাময়িকভাবে জ্ঞান হারাতেন।   মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র ২৪ জুলাই বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পৌঁছানো হয়। বিকেল ৫টা ১ মিনিটে পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পরে সরকারিভাবে গেজেট প্রকাশ করে তার পদত্যাগ কার্যকর হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।   রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন।   মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিলে। কিন্তু স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি পদত্যাগ করেন।   পদত্যাগের পর বঙ্গভবন ছেড়ে রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসায় ওঠেন সাবেক রাষ্ট্রপতি। বর্তমানে সেখানেই অবস্থান করছেন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিচ্ছেন।   নতুন করে ডান পায়ের সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় আপাতত তার স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যাহত হচ্ছে। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন সপ্তাহ চিকিৎসকের নির্ধারিত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে তাকে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
নতুন আইন নিয়ে তুমুল আলোচনা
নিউইয়র্কে এখন নিজের মৃত্যুর সিদ্ধান্তও নেওয়া যাবে? নতুন আইন নিয়ে তুমুল আলোচনা

নিউইয়র্কে মরণব্যাধিতে আক্রান্ত এবং চিকিৎসকদের মতে ছয় মাসের কম আয়ু বাকি থাকা প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের জন্য ‘মেডিকেল এইড ইন ডাইং’ আইন কার্যকর হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) থেকে কার্যকর হওয়া এই আইনের আওতায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে রোগীরা চিকিৎসকের প্রেসক্রাইব করা ওষুধ স্বেচ্ছায় গ্রহণ করে জীবনের অবসান ঘটানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।    নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এই আইন কেবল সেইসব নিউইয়র্কবাসীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যাদের চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন যে তাদের জীবনসীমা ছয় মাস বা তার কম। আবেদনকারীকে অবশ্যই মানসিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে এবং ওষুধ নিজেকেই গ্রহণ করতে হবে; অন্য কেউ তা প্রয়োগ করতে পারবেন না।    আইন অনুযায়ী, রোগীকে প্রথমে মৌখিকভাবে আবেদন জানাতে হবে, পরে লিখিত আবেদন করতে হবে, যেখানে দুইজন সাক্ষীর স্বাক্ষর থাকবে। একজন চিকিৎসক ও একজন পরামর্শক চিকিৎসককে রোগীর অবস্থা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মনোবিজ্ঞানীর মূল্যায়নও বাধ্যতামূলক। প্রেসক্রিপশন দেওয়ার পর ওষুধ সংগ্রহের আগে অন্তত পাঁচ দিনের অপেক্ষার বিধান রাখা হয়েছে।    আইনটির সমর্থকদের দাবি, এটি মরণাপন্ন রোগীদের অসহনীয় কষ্ট থেকে মুক্তি এবং জীবনের শেষ সময়ে মর্যাদাপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেবে। অন্যদিকে বিরোধীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, এমন আইন দুর্বল ও অসহায় রোগীদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং এর অপব্যবহারের ঝুঁকিও রয়েছে।    গভর্নর ক্যাথি হোকুল চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আইনটিতে স্বাক্ষর করেন। তার ভাষ্য ছিল, এই আইন নিউইয়র্কবাসীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও জীবনের শেষ পর্যায়ে মর্যাদাপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা বিতর্ক ও আইন প্রণয়নের প্রচেষ্টার পর এটি কার্যকর হলো।   এই আইনের মাধ্যমে নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্রের সেই অঙ্গরাজ্যগুলোর তালিকায় যুক্ত হলো, যেখানে কঠোর আইনি শর্তের অধীনে ‘মেডিকেল এইড ইন ডাইং’ বা চিকিৎসকের সহায়তায় জীবনাবসানের সুযোগ রয়েছে।

নীলুফা নিশাত আগস্ট ৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আকিব খন্দকারের বিশেষ সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত

আপনার সন্তানকে হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ডের মতো বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর প্রস্তুতি কীভাবে নেবেন?

অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ১৪:০