- প্রচ্ছদ
- Topic
#চীনযুক্তরাষ্ট্র
চীনে তিন দিনের একটি কর্মশালায় অংশ নিতে গিয়ে আ ট ক হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও মিয়ানমারবিষয়ক গবেষক মিন জিন। চীনা কর্তৃপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ তুলেছে। তবে তাঁর পরিবার ও মার্কিন সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, অভিযোগটি ভিত্তিহীন। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩ জুন চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মিয়ানমার থেকে চীনের কুনমিংয়ে পৌঁছান মিন জিন। বিমানবন্দরে নামার পরপরই তিনি পরিবারের সদস্যদের বার্তা পাঠিয়ে জানান, তিনি কুনমিংয়ে পৌঁছেছেন। এরপরই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। মিন জিনকে চীনে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এক চীনা অধ্যাপক। অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে একটি কর্মশালায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল তাঁর। পরিবারও এ সফর নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল না। কারণ এর আগেও তিনি একাধিকবার একাডেমিক কাজে চীন সফর করেছিলেন। এমনকি ২০২৫ সালের অক্টোবরেও চীনা সরকারের সমর্থনে আয়োজিত একটি সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ৩ জুন দুপুরে কুনমিংয়ে পৌঁছানোর পর মিন জিন ওই অধ্যাপকসহ তাঁর পরিবার ও সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অধ্যাপককে পাঠানো এক বার্তায় তিনি লিখেছিলেন, ‘ল্যান্ডেড, ব্রো’। এরপর কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তাঁর কোনো সাড়া না পেয়ে অধ্যাপক তাঁকে একাধিকবার ফোন করেন এবং বার্তা পাঠান। সন্ধ্যার দিকে মিন জিনের পরিবারও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। তিনি যে হোটেল বুক করেছিলেন, সেখানেও তিনি ওঠেননি। তাঁর ফোনের অবস্থান পরে কুনমিং বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৪০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে আনিংয়ের লিয়ানরান এলাকায় দেখা যায়। এরপর ফোনটির অবস্থান শনাক্ত করার তথ্যও আর পাওয়া যায়নি। পরদিন মিন জিনের স্ত্রী সিলভিয়া জিন একটি চীনা নম্বর থেকে ফোন পান। ফোনে তিনি ‘বাধ্যতামূলক প্রাথমিক তদন্ত’ এবং চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের সম্ভাব্য উল্লেখ শুনতে পান। তিনি মিন জিন আ ট ক আছেন কি না জানতে চাইলে ফোনটি কেটে দেওয়া হয়। ৫ জুন যুক্তরাষ্ট্রের গুয়াংঝু কনস্যুলেট থেকে পরিবারকে জানানো হয়, মিন জিনকে চীনের ইউনান প্রদেশে আ ট ক করা হয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, তিনি দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করেছেন। বর্তমানে মিন জিনকে চীনের ‘নির্দিষ্ট স্থানে আবাসিক নজরদারি’ ব্যবস্থার আওতায় রাখা হয়েছে বলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই ব্যবস্থায় কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রে প্তার বা অভিযুক্ত করার আগেই গোপন কোনো স্থানে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়। চীনের আইনে এমন ব্যবস্থায় একজনকে সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত আ ট ক রাখা সম্ভব। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মিন জিনকে একটি ছোট জানালাবিহীন কক্ষে রাখা হয়েছে। সেখানে ২৪ ঘণ্টা আলো জ্বলে এবং সব সময় এক বা দুজন প্রহরী তাঁকে নজরদারিতে রাখেন। তিনি বাইরে যেতে বা সূর্যের আলো পেতে পারেন না। প্রতিদিন প্রায় চার থেকে ছয় ঘণ্টা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, কখনো এর চেয়েও বেশি সময় ধরে। গত তিন মাসে মিন জিন যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটের কর্মকর্তার সঙ্গে তিনবার দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। প্রতিবার প্রায় ৩০ মিনিট করে হোটেলের একটি কনফারেন্স রুমে তাঁদের দেখা হয়েছে এবং চীনা কর্মকর্তারা পুরো সময় উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিন জিনের শারীরিক অবস্থা মোটামুটি ভালো থাকলেও হাঁটুর ব্যথা রয়েছে। মিন জিন মিয়ানমারে জন্মগ্রহণ করেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নাগরিকত্ব পান। তিনি মিয়ানমারের গণতন্ত্রায়ন ও জাতিগত সংঘাত নিয়ে গবেষণা করেছেন। ১৯৮৮ সালে মিয়ানমারের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনেও অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর গবেষণার বিভিন্ন পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনুদানও ছিল বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার। মার্কিন কর্মকর্তারা এখনও নিশ্চিত নন, ঠিক কোন কারণে মিন জিনকে আ ট ক করা হয়েছে। তবে তাঁর সাবেক ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত একাডেমিক কাজ চীনা নিরাপত্তা সংস্থার নজরে আসতে পারে বলে ধারণা করছেন তাঁরা। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মিন জিনকে অন্যায়ভাবে আ ট ক করা হয়েছে বলে ঘোষণা করেছে। এক মুখপাত্র বলেছেন, চীনা সরকারি সংস্থাগুলো মিন জিনকে চীনে আমন্ত্রণ জানিয়ে পরে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থার মাধ্যমে তাঁকে ফাঁদে ফেলেছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ চ্যাং বলেছেন, মিন জিন ‘ফৌজদারি বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা’র আওতায় রয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তাঁর ‘বৈধ অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত করা হয়েছে’ বলেও দাবি করেছেন তিনি। চীনে বর্তমানে মিন জিনসহ দুই মার্কিন নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্র সরকার অন্যায়ভাবে আ ট ক হিসেবে চিহ্নিত করেছে। অন্যজন হলেন মার্কিন ভূকম্পবিদ ইউলিন চেন, যিনি ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে চীনে আ ট ক রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধেও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ রয়েছে, যা তাঁর পরিবার ও মার্কিন সরকার অস্বীকার করেছে। মিন জিনের পরিবার আশা করছে, চলতি মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকে তাঁর মুক্তির বিষয়টি উঠে আসবে। এর আগে ট্রাম্প ও শির বৈঠকের পর চীন যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্য থাকা চীনা যাজক এজরা জিনকে মুক্তি দিয়েছিল। মিন জিনের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সম্পর্কের আরেকটি স্পর্শকাতর দিক সামনে এনেছে। একদিকে চীন বিদেশি বিনিয়োগকারী, গবেষক ও পর্যটকদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে দেশটির কঠোর ও অনেক ক্ষেত্রে অস্পষ্ট নিরাপত্তা আইন নিয়ে বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের চীনে ভ্রমণ নিয়ে আরও কঠোর সতর্কতা জারি করা কিংবা চীনকে ‘অন্যায়ভাবে আ ট ক করার রাষ্ট্র’ হিসেবে চিহ্নিত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে ওয়াশিংটনের। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শির সঙ্গে সম্পর্ক সামলাতে ট্রাম্প প্রশাসন কতটা কঠোর অবস্থান নেবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানবজাতির জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে—এমন সতর্কবার্তাকে ‘হোক্স’ বা ভিত্তিহীন প্রচারণা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে এআই ডেটা সেন্টার নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ের উদ্বেগকেও তিনি আক্রমণ করেছেন। ১৪ সেপ্টেম্বর ট্রুথ সোশ্যাল-এ ধারাবাহিক পোস্টে এসব মন্তব্য করেন ট্রাম্প। এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যারা এআই পৃথিবী ধ্বংস করবে বলে সতর্ক করছেন এবং ডেটা সেন্টারকে নিজেদের এলাকার জন্য ক্ষতিকর বলছেন, তারা অতীতেও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে পৃথিবী ধ্বংসের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। ট্রাম্প তাদের বক্তব্যকে ‘হোক্স’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দাবি করেন, একই ধরনের লোকজন এখন নতুন একটি বিষয় নিয়ে এগিয়ে এসেছে। এটি ট্রাম্পের নিজের বক্তব্য; এর সত্যতা যাচাই না করে এটিকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, এআই ও ডেটা সেন্টার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে একটি ‘অসুস্থ ষড়যন্ত্র’ চলছে এবং এতে চীন লাভবান হবে। এর আগে তিনি বলেছিলেন, এআই নিয়ন্ত্রণে নতুন কোনো গার্ডরেল বা অতিরিক্ত বিধিনিষেধের প্রয়োজন নেই।তার ভাষ্য অনুযায়ী, এআইয়ের জন্য প্রয়োজন একজন ‘শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান প্রেসিডেন্ট’। ট্রাম্পের এই অবস্থান এসেছে এআই খাতের কয়েকজন শীর্ষ ব্যক্তির সতর্কবার্তার পর। অ্যানথ্রপিক-এর প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই সম্প্রতি এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, অত্যাধুনিক এআই এজেন্টের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে এবং যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান ও ইলন মাস্কও এআই উন্নয়নে আরও সতর্কতার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। এআই নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে শুধু মানবজাতির অস্তিত্বের ঝুঁকিই নয়, চাকরি, গোপনীয়তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং ডেটা সেন্টারের পরিবেশগত ও স্থানীয় প্রভাব নিয়েও আলোচনা বাড়ছে। ডেটা সেন্টার স্থাপনের কারণে বিদ্যুৎ ব্যবহার, পানি এবং স্থানীয় অবকাঠামোর ওপর চাপ তৈরি হতে পারে—এমন উদ্বেগও বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে। তবে ট্রাম্পের যুক্তির বিপরীতে এআই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগকে শুধু রাজনৈতিক প্রচারণা হিসেবে দেখছেন না প্রযুক্তি খাতের সবাই। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে এআইয়ের অপব্যবহার এবং দ্রুত উন্নয়ন নিয়ে শিল্পখাতের ভেতর থেকেই সতর্কতা বাড়ছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রযুক্তি প্রতিযোগিতাও এআই নীতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করেছে। এদিকে ট্রাম্পের অবস্থান হলো, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ এআই খাতে যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রগতি ধীর করে দিতে পারে এবং এতে চীন সুবিধা পেতে পারে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এআই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। ফলে ওয়াশিংটনে এখন মূল বিতর্ক দাঁড়িয়েছে—এআইয়ের দ্রুত উন্নয়ন অব্যাহত রাখা হবে, নাকি নিরাপত্তার জন্য নতুন বিধিনিষেধ আনা হবে। সোর্স: রয়টার্স ও ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যাল পোস্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।