- প্রচ্ছদ
- Topic
#জাতীয়নির্বাচন
আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জন্য মোট ১২০টি নির্বাচনী প্রতীক চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন তালিকায় বিভিন্ন পরিচিত প্রতীক রাখা হলেও বহুল আলোচিত ‘নৌকা’ প্রতীকটি স্থগিত অবস্থায় রাখা হয়েছে। ফলে তালিকায় নৌকার নাম থাকলেও বর্তমান অবস্থায় কোনো প্রার্থীকে এই প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া যাবে না। এ-সংক্রান্ত খবর ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রথম আলো প্রকাশ করেছে। এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) বিষয়টি জানায়। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮-এর সংশ্লিষ্ট বিধান সংশোধনের মাধ্যমে নতুন প্রতীক তালিকা চূড়ান্ত করেছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় এবং পরে তা বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। অর্থাৎ খবরটি আজ প্রকাশিত হলেও প্রতীক তালিকা-সংক্রান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও প্রজ্ঞাপন কয়েক দিন আগেই হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, Representation of the People Order, 1972-এর Article 94-এ নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া ক্ষমতা প্রয়োগ করে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮-এর বিধি ৯-এর উপবিধি (১)-এ সংশোধন আনা হয়েছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, স্থগিত থাকা প্রতীক বাদ দিয়ে তালিকাভুক্ত প্রতীকগুলোর মধ্য থেকে প্রাপ্যতা অনুসারে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ করা যাবে। চূড়ান্ত তালিকায় আনারস, আপেল, আম, কাঁঠাল, লিচু, ঈগল, উট, কবুতর, ঘোড়া, বাঘ, হাতি, সিংহ, চিংড়ি, ট্রাক, ট্র্যাক্টর, বাইসাইকেল, রিকশা, লাঙল, জাহাজ, হেলিকপ্টার, আলমিরা, বই, বটগাছ, কম্পিউটার, কলম, কলস, কাস্তে, কাপ-পিরিচ, কাঁচি, চশমা, চাকা, চাবি, চেয়ার, ছাতা, টেলিভিশন, সেলাই মেশিন, হাতুড়ি, হারিকেন, হ্যান্ডশেক, উদীয়মান সূর্যসহ বিভিন্ন প্রতীক রয়েছে। ‘না’ নামের প্রতীকও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই ১২০টি প্রতীকের তালিকায় নৌকার অবস্থান ৬৫ নম্বরে। তবে প্রতীকটির পাশে স্পষ্টভাবে ‘স্থগিত’ উল্লেখ করা হয়েছে। এর অর্থ নৌকা তালিকা থেকে পুরোপুরি মুছে ফেলা হয়নি; বরং সংরক্ষিত কিন্তু বরাদ্দের বাইরে রাখা হয়েছে। নতুন বিধিমালায় স্থগিত প্রতীক বাদ দিয়ে অন্য প্রতীক বরাদ্দের যে বিধান রাখা হয়েছে, তার ফলে নৌকা বর্তমান অবস্থায় কোনো প্রার্থীর নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ নেই। নৌকা প্রতীকের বর্তমান অবস্থার পেছনে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব ওয়েবসাইটে বর্তমানে ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ (স্থগিত)’ হিসেবে দলটির নাম দেখানো হচ্ছে এবং সেখানে দলটির প্রতীক দেখানো হচ্ছে না। ২০২৫ সালের ১২ মে নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন স্থগিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। বাসসের সেই সময়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পর নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর নৌকা প্রতীকের অবস্থান নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছিলেন, আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় নৌকা প্রতীক ইসির ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। তবে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার তফসিলে প্রতীকটি সংরক্ষিত থাকবে এবং অন্য কেউ সেটি ব্যবহার করতে পারবে না। বর্তমান সংশোধিত তালিকায় নৌকাকে ‘স্থগিত’ হিসেবে রাখার বিষয়টি সেই অবস্থানেরই আনুষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা। অর্থাৎ নৌকা অন্য কোনো দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়নি। আবার প্রতীকটিকে সাধারণ বরাদ্দযোগ্য প্রতীকের মতোও রাখা হয়নি। বরং তালিকায় রেখে তার ব্যবহার স্থগিত রাখা হয়েছে। নির্বাচনী প্রতীক বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর নির্ধারিত প্রতীক থাকে, আর নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রার্থী শনাক্ত করতে ব্যালটসহ সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী উপকরণে প্রতীক ব্যবহৃত হয়। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে বর্তমানে নিবন্ধিত দলগুলোর নামের পাশাপাশি তাদের জন্য নির্ধারিত প্রতীকও দেখানো হচ্ছে। যেমন বিএনপির পাশে ‘ধানের শীষ’, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির পাশে ‘ছাতা’, জাতীয় পার্টি-জেপির পাশে ‘বাইসাইকেল’ এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির পাশে ‘কাস্তে’ দেখানো হয়েছে। একই তালিকায় আওয়ামী লীগকে ‘স্থগিত’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রতীক নিয়ে এর আগেও রাজনৈতিক আলোচনা হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচন কমিশনের কাছে নৌকা প্রতীক তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। দলটির প্রতিনিধিরা সে সময় আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকার বিষয়টি তুলে ধরে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছিলেন। একই বৈঠকে এনসিপি নিজেদের জন্য ‘শাপলা’ প্রতীক অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানিয়েছিল। এটি ছিল এনসিপির রাজনৈতিক দাবি; নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নয়। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে নৌকা নিয়ে সেই বিতর্কের একটি প্রশাসনিক অবস্থান এখন স্পষ্ট হয়েছে—প্রতীকটি তালিকায় রয়েছে, কিন্তু ‘স্থগিত’। ফলে এটি বর্তমানে অন্য কোনো প্রার্থী বা দলের জন্য বরাদ্দযোগ্য নয়। প্রতীক তালিকা সংশোধনের পাশাপাশি নির্বাচনী ব্যয়ের তথ্য দেওয়ার নিয়মেও পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন। ১৭ সেপ্টেম্বর বাসস জানায়, নির্বাচনী ব্যয়ের তথ্য জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর পাশাপাশি নির্বাচনী এজেন্টের ব্যাংক হিসাব নম্বর উল্লেখ করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের ব্যাংক হিসাব যাচাইয়ের প্রক্রিয়ার সঙ্গে এই পরিবর্তন সম্পর্কিত। একই সঙ্গে প্রার্থীর হলফনামা-সংক্রান্ত বিধিতেও কিছু পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম চলছে। ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের নিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচন কমিশন আগামী বছরের ৬ জুনের আগেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শেষ করতে চায়। অর্থাৎ নির্বাচন কমিশনের সামনে এখন জাতীয় নির্বাচনের বিধি ও প্রতীকসংক্রান্ত কাজের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং উপনির্বাচনের প্রস্তুতিও রয়েছে। নতুন প্রতীক তালিকার সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে নৌকার অবস্থান। কমিশন মোট ১২০টি প্রতীক চূড়ান্ত করলেও নৌকাকে সাধারণভাবে বরাদ্দযোগ্য প্রতীক করা হয়নি। বর্তমান নিয়মে স্থগিত প্রতীক বাদ দিয়ে তালিকার অন্য প্রতীকগুলো প্রাপ্যতা অনুযায়ী প্রার্থীদের দেওয়া যাবে। আর নৌকা থাকবে সংরক্ষিত ও স্থগিত অবস্থায়। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও আওয়ামী লীগের নিবন্ধন এখনো ‘স্থগিত’ হিসেবেই দেখানো হচ্ছে। প্রজ্ঞাপনটিতে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষর করেছেন। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সংশোধিত বিধিমালা অনুসারেই সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ফলে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতিতে এই ১২০ প্রতীকের তালিকাই এখন নির্বাচন কমিশনের কার্যকর তালিকা, যেখানে ৬৫ নম্বরের নৌকা প্রতীকটি স্থগিত অবস্থায় রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।