ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে সমুদ্রপথে নৌ অবরোধ কার্যকর করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) গ্রিনিচ মান সময় রাত ৮টা থেকে এ অবরোধ শুরু হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার (জেএমআইসি)। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এ তথ্য প্রকাশ করেছে। জেএমআইসির জারি করা এক সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময় থেকে ইরানের সব সমুদ্রবন্দর, তেল টার্মিনাল এবং উপকূলীয় এলাকাকে এই অবরোধের আওতায় আনা হবে। বিশ্বের যেকোনো দেশের পতাকাবাহী জাহাজের ক্ষেত্রেই এ নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে, ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অনুমতি ছাড়া অবরুদ্ধ এলাকায় প্রবেশ কিংবা সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট জাহাজকে থামিয়ে দেওয়া, গতিপথ পরিবর্তনে বাধ্য করা বা প্রয়োজন হলে জব্দ করা হতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্দেশনা অমান্য করলে বলপ্রয়োগেরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে অন্য দেশের জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জেএমআইসি। সংস্থাটি বলেছে, ইরান ব্যতীত অন্য দেশের গন্তব্যে যাওয়া বা সেখান থেকে আসা জাহাজের স্বাভাবিক যাতায়াতে কোনো বাধা দেওয়া হবে না। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অবরোধ মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। কারণ, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল পরিবহন হয়ে থাকে। এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে এখনো ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া নতুন চুক্তির পর ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করেছে ওয়াশিংটন। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বিবৃতিতে জানায়, প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ইরানের বিরুদ্ধে কার্যকর থাকা নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি চুক্তি বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি জানান, চুক্তির কিছু বিষয় নিয়ে তার ব্যক্তিগত আপত্তি থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি এতে অনুমোদন দিয়েছেন। খামেনির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান তাকে আশ্বস্ত করার পরই তিনি চুক্তিতে সম্মতি দেন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ইরান তার নীতিগত অবস্থান থেকে সরে এসেছে বা যুক্তরাষ্ট্রের সব অবস্থান মেনে নিয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি খামেনির মন্তব্যের জবাব না দিলেও নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ এলাকাতেও শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প বিশেষভাবে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাতের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। এদিকে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, চুক্তি ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ৬০ দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পর্ব শুরু হয়েছে। এই সময়ে দুই দেশ বিভিন্ন কারিগরি ও রাজনৈতিক বিষয়ে সমঝোতার চেষ্টা করবে। ভ্যান্স জানান, আলোচনার পরবর্তী ধাপ পরিচালনার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে সুইজারল্যান্ড সফর করতে পারেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান চুক্তির সব শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত কোনো ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা বা নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণের সুযোগ পাবে না। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমুজ প্রণালির নিরাপদ ও স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করা। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দীর্ঘদিন ধরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। এ ছাড়া চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করবে না। একই সঙ্গে দেশটির অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে। তবে ওই তহবিলে অর্থায়নের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই বলে জানানো হয়েছে। চুক্তির আওতায় উভয় পক্ষ সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করবে। প্রয়োজন হলে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে। প্রাথমিকভাবে শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তি স্বাক্ষরের একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। তবে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান জানিয়েছে, দুই পক্ষ ইতোমধ্যে দূরবর্তী পদ্ধতিতে নথিতে স্বাক্ষর করায় অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, চুক্তি বাস্তবায়ন ও ভবিষ্যৎ সমঝোতার রূপরেখা নিয়ে আলোচনা চালাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা শিগগিরই সুইজারল্যান্ডে বৈঠকে বসতে পারেন। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ বৈরিতার পর এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করতে পারে। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে আগামী ৬০ দিনের আলোচনা কতটা কার্যকরভাবে এগিয়ে যায় এবং উভয় পক্ষ চুক্তির শর্তগুলো বাস্তবায়নে কতটা আন্তরিকতা দেখায় তার ওপর।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের আগেই তুলে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কূটনীতিক। মঙ্গলবার (১৬ জুন) ইরান সরকারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে নির্ধারিত সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের আগেই এই পদক্ষেপ কার্যকর হয়েছে। ওই কূটনীতিক বলেন, ইরানের বন্দর ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর আরোপিত প্রায় দুই মাসের অবরোধ প্রত্যাহার ছিল তেহরানের অন্যতম প্রধান দাবি। তার ভাষায়, “আমরা শুরু থেকেই অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। এখন তা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের আগেই অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে।” এর আগে রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে জানান, তিনি ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের অনুমোদন দিয়েছেন। তবে এই ঘোষণার পরও পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়। বহুজাতিক নৌ নিরাপত্তা সংস্থা জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার (জেএমআইসি) সোমবার জানায়, চলমান যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ শুক্রবার পর্যন্ত বহাল থাকার কথা। ফলে বাস্তবে অবরোধ কতটা প্রত্যাহার হয়েছে—তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিরসনে একটি সমঝোতা স্মারক ইতোমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে। এর আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। এর জবাবে ইরানও অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরাইলি স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালায়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন তেহরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়ও প্রভাব ফেলতে শুরু করে। সাম্প্রতিক আলোচনায় সেই অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে। বিশ্লেষকদের মতে, অবরোধ প্রত্যাহার কার্যকর হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে চূড়ান্ত সমঝোতা বাস্তবায়ন এবং যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্বের ওপরই নির্ভর করছে পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি।
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর থেকে কোনো জাহাজই এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পার হতে পারেনি বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বা দেশটির উপকূলে যাওয়া–আসা করা জাহাজগুলোকে আটকে দেওয়া হচ্ছে বা পথ পরিবর্তনে বাধ্য করা হচ্ছে। তবে অন্যান্য দেশের গন্তব্যে থাকা জাহাজগুলোকে নির্দিষ্ট শর্তে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক আপডেটে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০টি জাহাজকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কোনো জাহাজই এই অবরোধ ভেঙে যেতে পারেনি। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হিসেবে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি উল্লেখ করে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে জাহাজ থেকে ইরান যে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছিল, তা বন্ধ করা এবং একই সঙ্গে দেশটির তেল রপ্তানিতে চাপ সৃষ্টি করা। অন্যদিকে, ইরান এই অবরোধকে ‘সমুদ্র দস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। প্রতিক্রিয়ায় তারা পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর ও লোহিত সাগরে নৌ চলাচলে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকিও দিয়েছে। মার্কিন বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইরানি পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ বন্দর আব্বাস ত্যাগের পর অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস স্প্রুয়ান্স সেটিকে বাধা দিয়ে অন্যদিকে যেতে বাধ্য করে।
যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ-অবরোধ অব্যাহত রাখলে পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর এবং ওমান সাগরে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার কঠোর হুমকি দিয়েছে ইরান। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়কারী সর্বোচ্চ অপারেশনাল কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’র কমান্ডার আলি আবদুল্লাহি এই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অবরোধের মাধ্যমে ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাংকারের জন্য নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করা হলে সেটি চলমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের শামিল হবে। ৮ এপ্রিল শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা। তার আগেই আবদুল্লাহির এই মন্তব্য দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিল। ইরানের এই হুমকি এমন সময়ে এলো যখন দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় সংলাপের প্রস্তুতি চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে ইসলামাবাদে ‘কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে’ এবং ইরান যুদ্ধ প্রায় শেষের পথে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান হলেও নতুন বৈঠকের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নয়। ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তেহরান এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ইরানকে লক্ষ্য করে পূর্ণমাত্রার নৌ অবরোধ চালু হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এক বিবৃতিতে সেন্টকমের কমান্ডার ব্র্যাড কুপার জানান, অভিযান শুরুর মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় সব সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যত বন্ধ করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তার ভাষায়, ইরানের অর্থনীতি মূলত সমুদ্রপথে বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল, আর এই অবরোধ সেই প্রবাহকে দ্রুত থামিয়ে দিয়েছে। সেন্টকম আরও জানায়, মার্কিন নৌবাহিনীর গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারগুলো সরাসরি এই অভিযানে অংশ নিচ্ছে। ইরানের বন্দরমুখী বা সেখান থেকে বের হওয়া যেকোনো দেশের জাহাজের ক্ষেত্রেই একইভাবে এই নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করা হচ্ছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এসব যুদ্ধজাহাজে সাধারণত ৩০০-এর বেশি নাবিক থাকে, যারা আক্রমণ ও প্রতিরক্ষামূলক উভয় ধরনের সমুদ্র অভিযানে প্রশিক্ষিত। এর আগে সেন্টকম জানিয়েছিল, এই অভিযানে ১০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা—নৌবাহিনী, মেরিন ও বিমানবাহিনীর সদস্য—নিয়োজিত রয়েছে। তাদের সঙ্গে রয়েছে একাধিক যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান। অভিযান শুরুর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় কোনো জাহাজ অবরোধ ভাঙতে পারেনি বলেও দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ মার্কিন নির্দেশনা মেনে পথ পরিবর্তন করে ওমান উপসাগর সংলগ্ন ইরানি বন্দরে ফিরে যায়। এই অবরোধ পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগর ঘিরে ইরানের সব গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে কার্যকর করা হয়েছে। তবে সেন্টকম বলছে, অ-ইরানি বন্দরগুলোর ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তারা সহায়তা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ-অবরোধের মধ্যেই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে চীনের একটি তেলবাহী জাহাজ। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘটনা চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘রিচ স্টারি’ নামের জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়া বন্দর থেকে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল মিথানল নিয়ে যাত্রা করে। জাহাজটি চীনা মালিকানাধীন এবং এতে চীনা নাবিকরা কর্মরত রয়েছেন। জানা গেছে, জাহাজটি আগে ‘ফুল স্টার’ নামে পরিচিত ছিল এবং ইরানের ওপর জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তার অভিযোগে ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কালো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ তথ্য বলছে, প্রণালির কাছাকাছি এসে প্রথমে জাহাজটি ফিরে গেলেও কয়েক ঘণ্টা পর পুনরায় যাত্রা শুরু করে এবং হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে। এ সময় জাহাজটি তার অবস্থান ও চীনা মালিকানার তথ্য প্রকাশ করে, যা বিশ্লেষকদের মতে মার্কিন অবরোধ কার্যকারিতা পরীক্ষা করার একটি কৌশল হতে পারে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেন। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য ইরানের তেল রপ্তানি সীমিত করা। অন্যদিকে, চীন আগেই এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। তবে এই ঘটনার পর ওয়াশিংটন কী পদক্ষেপ নেয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে এ ধরনের ঘটনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন নৌ-অবরোধকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর ও ‘অবৈধ যুদ্ধনীতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বাঘাই প্রশ্ন তোলেন, একটি ‘অবৈধ ইচ্ছাকৃত যুদ্ধ’ কি বৈশ্বিক অর্থনীতির বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক সিদ্ধান্ত দিয়ে জয় করা সম্ভব? তিনি আরও বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত সবার জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে। তার এই মন্তব্য আসে এমন সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি জাহাজগুলোকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, ইরানি কোনো জাহাজ মার্কিন অবরোধের আওতাধীন এলাকায় কাছাকাছি এলে তা ‘তাৎক্ষণিকভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হবে’। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইতোমধ্যে ইরানের বহু নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট জাহাজগুলোর বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সমুদ্রপথে অবৈধ কার্যক্রম দমনে যে কৌশল ব্যবহার করা হয়, ইরানের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি এমন কড়া অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে টানা ২১ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পারস্য উপসাগরের প্রবেশপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানি জলযানের ওপর নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও পরবর্তীতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এই অবরোধ কেবল ইরানগামী জাহাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকবে। সোমবার পূর্বাঞ্চলীয় সময় সকাল ১০টা (বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা) থেকে এই অবরোধ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। নৌ অবরোধ কী আন্তর্জাতিক সামরিক নীতিমালা অনুযায়ী, নৌ অবরোধ হলো যুদ্ধকালীন একটি কৌশল, যার মাধ্যমে শত্রু রাষ্ট্রের বন্দর, উপকূল বা আকাশপথে প্রবেশ ও প্রস্থান সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে শত্রু ও নিরপেক্ষ—উভয় পক্ষের যানবাহনই বাধার মুখে পড়তে পারে। বাস্তব প্রয়োগ ও কৌশল ট্রাম্প প্রশাসন এই পদক্ষেপকে দ্রুত কার্যকর করার কথা বললেও বাস্তবে এটি সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়নে সময় লাগতে পারে। সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের আরব সাগর ও ওমান উপসাগরীয় বন্দরের দিকে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোই মূলত নজরদারিতে থাকবে।একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ন্যাটোসহ মিত্র দেশগুলোও এই উদ্যোগে সহযোগিতা করতে পারে। তবে যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, তারা নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করলেও সরাসরি অবরোধে অংশ নেবে না। জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২১ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। অবরোধের ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ থেকে ১৩০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এতে বিশ্বব্যাপী পরিবহন ব্যয় ও উৎপাদন খরচ বেড়ে মূল্যস্ফীতি ত্বরান্বিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শেয়ারবাজার ও বিনিয়োগে প্রভাব বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এশিয়ার শেয়ারবাজারে ইতোমধ্যে নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনা ও ডলারের চাহিদা বাড়ছে, যা উদীয়মান অর্থনীতির মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বৃদ্ধি এই অবরোধ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। ইরান সরাসরি সংঘাতে না গিয়েও সমুদ্রপথে মাইন পেতে বা ড্রোন হামলার মাধ্যমে পরিস্থিতি জটিল করতে পারে। ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালিকে উচ্চ ঝুঁকির এলাকা হিসেবে বিবেচনা করছে বিমা কোম্পানিগুলো, যার ফলে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে প্রশ্ন আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া বিতর্কিত এবং অনেক ক্ষেত্রে যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে এই অবরোধের বৈধতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। চীন ও ভারত বিকল্প জ্বালানি উৎসের দিকে ঝুঁকতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ডলারের আধিপত্যও চাপে পড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ একটি উচ্চ ঝুঁকির কৌশল, যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বদলে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।