পাকিস্তান মধ্যস্থতা

ছবি: সংগৃহীত
পরমাণু ইস্যুতে ছাড়ের ইঙ্গিত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির আশা ইরানের

তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ হয়েছে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানি কর্মকর্তারা। যুদ্ধবিরতি টেকসই করতে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হওয়ায় নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।   কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনার পথ সুগম করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে পাকিস্তান। এর অংশ হিসেবে দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল তেহরান সফর করেছে।   ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তেহরানে পৌঁছানোর পর প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি সংলাপ আয়োজনের জন্য পাকিস্তানের ভূমিকাকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেন এবং আলোচনায় অগ্রগতির আশা প্রকাশ করেন।   কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মূলত তিনটি ইস্যুতে সমঝোতার চেষ্টা চলছে—ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতির প্রশ্ন। এর মধ্যে সবচেয়ে জটিল বিষয় হয়ে উঠেছে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত ও তার ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা।   জানা গেছে, ইরানের কাছে থাকা প্রায় ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে বিভিন্ন বিকল্প আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো, সমৃদ্ধির মাত্রা কমিয়ে আনা অথবা প্রাকৃতিক পর্যায়ে ফিরিয়ে নেওয়া। একই সঙ্গে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার সময়সীমা নিয়েও মতপার্থক্য রয়েছে—ইরান ৫ বছর এবং যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছর পর্যন্ত সময়সীমা চায়। তবে মাঝামাঝি কোনো সমাধানের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।   গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে প্রথম দফার আলোচনা সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলেও এরপর থেকে ‘শাটল কূটনীতি’ চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। একদিকে তেহরানের সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ, অন্যদিকে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের সঙ্গে রাজনৈতিক সমন্বয়—এই দ্বিমুখী কৌশলের মাধ্যমে সম্ভাব্য চুক্তির পথ প্রশস্ত করার চেষ্টা চলছে।   এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরানে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। যদিও ৮ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা কমেছে, লেবাননে সংঘাত এখনো অব্যাহত রয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষেরই সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। বিশেষ করে পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান কিছুটা নমনীয় হলে একটি চুক্তির সম্ভাবনা আরও জোরালো হতে পারে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের সঙ্গে বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত নেবে ইরান: পরবর্তী সংলাপ ঘিরে নতুন শর্ত

পাকিস্তানের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী দফার সংলাপ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট তাসনিম সংবাদ সংস্থা এক অবহিত সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা এগিয়ে নিতে আগ্রহী তেহরান। তবে পরবর্তী ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপে বসার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণের ওপর জোর দিচ্ছে ইরান।   তাসনিম জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি লেবাননের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায়, সেটিকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখবে ইরান। এমন কোনো অগ্রগতি হলে তা ভবিষ্যৎ আলোচনায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।   একই সঙ্গে ইরান স্পষ্ট করেছে, সংলাপের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘যৌক্তিক কাঠামো’ অনুসরণ করতে হবে। অতিরিক্ত দাবি চাপিয়ে দেওয়া বা পূর্বের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে আলোচনার পরিবেশ নষ্ট হবে বলে সতর্ক করেছে তেহরান।   ইরানি সূত্রগুলো বলছে, কেবল আলোচনা শুরু করাই নয়, বরং তা ফলপ্রসূ করতে পারস্পরিক আস্থা ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা জরুরি। এ কারণে নতুন দফার সংলাপের আগে কিছু নীতিগত বিষয় নিশ্চিত করতে চায় তারা।   অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রও নতুন করে আলোচনায় বসতে আগ্রহী। তবে এখনো পর্যন্ত দ্বিতীয় দফার সংলাপের তারিখ নির্ধারণ হয়নি।   বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান এই কূটনৈতিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সমঝোতার ওপর।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
তেহরানে ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির; ট্রাম্পের বার্তায় কি তবে থামতে যাচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ?

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিরসনে এবং দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার পথ সুগম করতে উচ্চপর্যায়ের এক প্রতিনিধিদল নিয়ে তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) আল-জাজিরা ও ডন নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মূলত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকার অংশ হিসেবেই এই ঝটিকা সফর।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই আলোচনার বিষয়ে ইতিবাচক সংকেত দিয়েছেন। নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আগামী দুই দিনের মধ্যে বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে। ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির অসাধারণ কাজ করছেন এবং পাকিস্তানই এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার যোগ্য।” এমনকি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ‘প্রায় শেষের পথে’।   এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি জানিয়েছিলেন, গত রবিবারের বৈঠকটি অমীমাংসিত থাকলেও পাকিস্তানের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে। বাঘায়ি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইরানের ‘অনস্বীকার্য অধিকার’। তবে তিনি একটি সমঝোতার সুযোগ রেখে জানান যে, সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ও ধরণ নিয়ে তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার চূড়ান্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি। ফাইল ছবি: রয়টার্স
আলোচনা ব্যর্থ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত: ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই শেষ হলেও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত রবিবার ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধি দলের বৈঠকটি ফলপ্রসূ না হলেও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষ নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান করছে।   বাঘায়ি বলেন, “ইসলামাবাদ আলোচনায় ইরানের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে এবং পরবর্তী বার্তাগুলোতেও তা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।” তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আজই পাকিস্তানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল তেহরান সফর করতে পারে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে।   ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের আশঙ্কার জবাবে মুখপাত্র আবারও দাবি করেন, তাদের এই প্রকল্প সম্পূর্ণ ‘শান্তিপূর্ণ’। তবে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ নমনীয়তার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ইরান নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যেতে চায়, কিন্তু সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ও সময়সীমা নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত অমীমাংসিত থেকে যায়।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ৪৫ দিন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। ছবি: সংগৃহীত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ: ৪৫ দিন যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর চেষ্টা, ভেন্যু নিয়ে মতভেদ

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে এবং একটি টেকসই সমঝোতায় পৌঁছাতে নেপথ্যে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলো। গত ৭ এপ্রিল কার্যকর হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিটি বজায় রাখতে এবং এর মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়ানোর জন্য জোর কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। তবে আলোচনার পরবর্তী ভেন্যু কোথায় হবে, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।   কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীরা তেহরান ও ওয়াশিংটনকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে নিরলস কাজ করছেন। এই প্রচেষ্টার কেন্দ্রে রয়েছে পাকিস্তান, যাদের সমর্থন দিচ্ছে তুরস্ক ও মিসর। আপাতত লক্ষ্য হলো আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হতে যাওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অন্তত দেড় মাস বাড়ানো।   পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে জানিয়েছেন, চরম উত্তেজনার মধ্যেও যুদ্ধবিরতি এখনো টিকে আছে। তিনি বলেন, "ইসলামাবাদে একটানা ২১ ঘণ্টা সরাসরি আলোচনা হয়েছে, যার সাক্ষী আমি নিজে। কিছু বাধা থাকলেও সেগুলো নিরসনের চেষ্টা চলছে।" জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে আলাপকালেও তিনি শান্তি প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার বিষয়ে ইসলামাবাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।   গত কয়েক সপ্তাহের সংঘাতের পর কার্যকর হওয়া এই যুদ্ধবিরতি এখন অনিশ্চয়তার মুখে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ আরোপের পরিকল্পনাকে 'যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন' বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি না হলেও আলোচনা পুরোপুরি ভেস্তে যায়নি। যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ-চলাচলের নিশ্চয়তা চায়।   অন্যদিকে, ইরান চাইছে আন্তর্জাতিক কাঠামোর অধীনে সার্বভৌম অধিকারের স্বীকৃতি, ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্য গ্যারান্টি। তেহরানের দাবি, কোনো ছাড় দেওয়ার আগে ওয়াশিংটনকে আগে আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।   পরবর্তী দফার আলোচনার জন্য ইরান আবারও ইসলামাবাদকে পছন্দ করছে। ভৌগোলিক নৈকট্য এবং পাকিস্তানের ওপর আস্থার কারণে তারা এখানেই ফিরতে চায়। তবে যুক্তরাষ্ট্র লজিস্টিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে বিকল্প কোনো দেশের কথা ভাবছে। কূটনীতিকদের মতে, মূল ইস্যুগুলোতে একমত হতে পারলে ভেন্যু নিয়ে এই মতবিরোধ বড় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।   পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার চীন, ব্রিটেন, তুরস্ক, সৌদি আরব ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেছেন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এই সংলাপকে 'ভঙ্গুর' হিসেবে বর্ণনা করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শান্তি প্রক্রিয়ায় সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।   বর্তমানে মধ্যস্থতাকারীরা ২২ এপ্রিলের সময়সীমার আগে একটি 'টেকনিক্যাল উইন্ডো' তৈরির চেষ্টা করছেন, যাতে অন্তত ৪৫ দিনের অতিরিক্ত সময় পাওয়া যায় এবং দ্বিতীয় দফার রাজনৈতিক আলোচনার পথ প্রশস্ত হয়।  

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
প্রতীকী ছবি
ইসলামাবাদে শেষ হলো প্রথম দফার ঐতিহাসিক আলোচনা; বরফ গলছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কে

দীর্ঘ ৪৭ বছরের শীতল সম্পর্কের অবসান ঘটিয়ে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সফলভাবে সম্পন্ন হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার প্রথম দফার উচ্চপর্যায়ের ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনা। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি কূটনৈতিক বৈঠক, যা বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ বদলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।   সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রথম দফার এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী হয় এবং এর পরিবেশ ছিল বেশ ইতিবাচক। যদিও আলোচনার প্রতিটি বিন্দু অত্যন্ত গোপনীয় রাখা হয়েছে, তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রগতির আভাস পাওয়া গেছে। বিশেষ করে লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে একটি সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে; যেখানে ইসরায়েলি অভিযান কেবল দক্ষিণ লেবাননের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা এবং বৈরুতে আর কোনো হামলা না চালানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে।   পাশাপাশি, ইরানের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী তাদের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়েও প্রাথমিক কিছু অগ্রগতির খবর পাওয়া গেছে। যদিও এটি আলোচনার শুরু মাত্র, তবুও দুই দেশের প্রতিনিধিদের পুনরায় নৈশভোজে মিলিত হওয়ার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। পাকিস্তান সরকারের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও মধ্যস্থতায় এই আলোচনার সফলতার ওপরই এখন নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা।   সূত্র: আলজাজিরা

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ১০, ২০২৬ ১৪:০ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । ছবি: রয়টার্স
ট্রাম্প কি সত্যিই যুদ্ধ চেয়েছিলেন, নাকি যুদ্ধবিরতি? পর্দার আড়ালের কূটনীতি গল্প!

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নিলেও পর্দার আড়ালে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতেই বেশি তৎপর ছিলেন এমন তথ্য উঠে এসেছে এক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানকে বেছে নেয় এবং ইসলামাবাদের মাধ্যমে তেহরানকে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে রাজি করানোর চেষ্টা চালায়। কয়েক সপ্তাহ ধরে এই কূটনৈতিক তৎপরতা চলতে থাকে।   এই উদ্যোগ এমন সময়ে নেওয়া হয়, যখন ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিচ্ছিলেন এবং দাবি করছিলেন, ইরান যুদ্ধবিরতির জন্য আগ্রহী। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রই দ্রুত যুদ্ধ থামাতে আগ্রহী হয়ে ওঠে।   মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া ছিল এই আলোচনার অন্যতম প্রধান শর্ত। বিশ্ববাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য এই প্রণালির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি হওয়ায় বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চালানো হয়।   পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা ইরানের কাছে পৌঁছে দিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। একাধিক পর্যায়ে উচ্চপর্যায়ের ফোনালাপ ও যোগাযোগের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে প্রস্তাব আদান-প্রদান হয়। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান দুই সপ্তাহের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।   প্রতিবেদন বলছে, ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্বেগের অন্যতম কারণ ছিল বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তার অর্থনৈতিক প্রভাব। একই সঙ্গে ইরানের প্রতিরোধ সক্ষমতা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে নতুন করে মূল্যায়ন তৈরি হয়।   আলোচনার অংশ হিসেবে বিভিন্ন সময়সীমার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং উভয় পক্ষই কিছু শর্তে নমনীয়তা দেখাতে শুরু করে। যদিও ইরানের ভেতরে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় কিছু জটিলতা ছিল, শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।   এই পুরো প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান নিজেকে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থাপন করলেও বাস্তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইসলামাবাদকে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার স্থান হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।   শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষ আলোচনায় বসতে সম্মত হওয়ায় সাময়িক যুদ্ধবিরতির পথ তৈরি হয়, যা পরবর্তী কূটনৈতিক সমাধানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

গ্রিন কার্ড পাওয়া আরো কঠিন হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিজ দেশে গিয়ে আবেদন করতে হবে অভিবাসীদের

ইসতিয়াক আহমেদ মে ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0