- প্রচ্ছদ
- Topic
প্রবীণ নাগরিক
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার প্রবীণ নাগরিকদের কম্পিউটারে ভাইরাসের ভয় দেখিয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেওয়ার একটি প্রতারণা চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে জর্জিয়ার এক নারীকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। জর্জিয়ার গুইনেট কাউন্টির বুফোর্ড শহরের বাসিন্দা ৪৮ বছর বয়সী ফাতাউমাতা কেইতা সংঘবদ্ধ প্রতারণা-সংক্রান্ত রাজ্যের রিকো আইন লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। গুইনেট কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে শুরু হওয়া এই প্রতারণা কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার কয়েক ডজন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাঁদের বড় একটি অংশ ছিলেন প্রবীণ নাগরিক। প্রতারকেরা কম্পিউটারের পর্দায় ভুয়া সতর্কবার্তা দেখিয়ে ব্যবহারকারীদের বিশ্বাস করাতেন যে তাঁদের ডিভাইস বিপজ্জনক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এরপর সমস্যা সমাধানের জন্য একটি টোল-ফ্রি নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হতো। ওই নম্বরে ফোন করলে গ্রাহকসেবা প্রতিনিধি পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা কম্পিউটারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করতেন। তাঁরা ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন সফটওয়্যার ও প্রযুক্তিগত সহায়তা সেবা কিনতে রাজি করাতেন। কিন্তু তদন্তকারীদের মতে, এসব সেবার প্রকৃত কোনো প্রয়োজন ছিল না। পুরো কার্যক্রমের উদ্দেশ্য ছিল ভুয়া সমস্যার সমাধানের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা। প্রসিকিউটরদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের জর্জিয়ার বুফোর্ড শহরের একটি পোস্ট অফিস বক্সে চেক পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হতো। একেকটি চেকের পরিমাণ প্রায়ই ১ হাজার ৫০০ ডলারের বেশি ছিল। সংগৃহীত অর্থ চক্রের অন্য সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজে কেইতা সহযোগিতা করতেন বলে আদালতে তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এসব অর্থের একটি অংশ কানাডা, চীন ও ভারতে অবস্থানরত ব্যক্তিদের কাছেও পাঠানো হতো। বিচার চলাকালে প্রসিকিউটররা কেইতার নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোর আর্থিক লেনদেনের নথি আদালতে উপস্থাপন করেন। এসব নথিতে দেখা যায়, এক বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন অ্যাকাউন্টগুলোতে ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি অর্থ জমা হয়েছিল। তদন্তকারীদের মতে, পুরো প্রতারণা কার্যক্রমে কয়েক ডজন মানুষের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ করা হয়ে থাকতে পারে। গুইনেট কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি প্যাটসি অস্টিন-গ্যাটসন প্রবীণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে এ ধরনের প্রতারণার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রবীণদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত প্রতারণার বিরুদ্ধে তাঁর অফিস কঠোরভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেবে। মামলাটির প্রাথমিক তদন্ত পরিচালনা করে গুইনেট কাউন্টি পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ইলেকট্রনিক অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইমস ইউনিট। পরে তদন্তকারী ও প্রসিকিউটররা যৌথভাবে আদালতে প্রমাণ উপস্থাপন করেন। কেইতার সাজা ঘোষণার দিন নির্ধারিত রয়েছে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে। এই ঘটনা প্রবীণ কম্পিউটার ব্যবহারকারী ও তাঁদের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। কম্পিউটারের পর্দায় হঠাৎ ভাইরাস শনাক্তের বার্তা দেখা গেলে সেখানে দেওয়া অপরিচিত নম্বরে ফোন করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। একইভাবে পরিচয় যাচাই না করে কোনো প্রযুক্তিগত সহায়তাকারীকে ব্যাংক বা ক্রেডিট কার্ডের তথ্য দেওয়া উচিত নয়। সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে পরিবারের বিশ্বস্ত সদস্য কিংবা পরিচিত প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা প্রতারণা এড়াতে সহায়ক হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাস অঙ্গরাজ্যে মাত্র ১৯ বছর বয়সে প্রবীণদের আবাসনে উঠে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন ম্যাডিসন কহাউট। ওকলাহোমা থেকে আরকানসাসে যাওয়ার পর মাসে মাত্র ৩৫০ ডলারে দুই শোবার ঘরের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া পান তিনি। ভাড়া তুলনামূলক কম হওয়ায় সরেজমিনে বাসাটি না দেখেই চুক্তি করে ফেলেন। কিন্তু সেখানে ওঠার কয়েক দিন পরই বুঝতে পারেন, তাঁর প্রতিবেশীদের প্রায় সবাই ৬৫ বছরের বেশি বয়সী। প্রথমে বিষয়টি তাঁর কাছে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হলেও এর কারণ বুঝতে পারেননি ম্যাডিসন। নতুন বাসায় ওঠার পর কাজ খোঁজা এবং ঘর গোছানোর ব্যস্ততায় আশপাশের পরিবেশ ভালোভাবে খেয়াল করার সুযোগ হয়নি। প্রায় এক সপ্তাহ পর বাইরে বেরিয়ে আবাসিক ভবনের সামনে একটি সাইনবোর্ড দেখতে পান তিনি। সেখানে স্পষ্ট লেখা ছিল ‘সিনিয়র সিটিজেন অ্যাপার্টমেন্টস’। তখনই বুঝতে পারেন, অজান্তেই প্রবীণ নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত আবাসনে উঠে পড়েছেন তিনি। তবে বিষয়টি জানার পর বাসা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবেননি ম্যাডিসন। কারণ, কম ভাড়ায় পাওয়া দুই শোবার ঘরের বাসাটি তাঁর প্রয়োজনের সঙ্গে বেশ ভালোভাবেই মিলে গিয়েছিল। পাশাপাশি আবাসনটি সমান সুযোগের ভিত্তিতে ভাড়া দেওয়া হতো, যেখানে বয়সের কারণে কাউকে বসবাস থেকে বাদ দেওয়া হতো না। ফলে ১৯ বছর বয়সী ম্যাডিসনের সেখানে থাকার ক্ষেত্রে কোনো বাধা ছিল না। আবাসিক ভবনটিতে তিনিই ছিলেন একমাত্র তরুণ বাসিন্দা। ম্যাডিসনের কাছে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হয়ে ওঠে তাঁর বয়স্ক প্রতিবেশীদের আন্তরিকতা। তাঁরা তাঁকে আপনজনের মতো গ্রহণ করেন। কেউ বাড়িতে রান্না করা খাবার খেতে আমন্ত্রণ জানান, আবার কেউ তাঁর দরজার সামনে খাবার রেখে যান। প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এতটাই ভালো হয়ে ওঠে যে তাঁদের নিজের অতিরিক্ত দাদা-দাদি ও নানা-নানির মতো মনে করেন তিনি। নতুন পরিবেশে একাকিত্বের বদলে এভাবেই প্রতিবেশীদের স্নেহ ও সহযোগিতা পেয়েছেন তরুণী। ম্যাডিসনের এই অভিজ্ঞতা ২০২১ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় আসে। তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওও ব্যাপক সাড়া ফেলে। এনপিআরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন বাসার পরিবেশ ও প্রতিবেশীদের আন্তরিকতায় তিনি এতটাই সন্তুষ্ট ছিলেন যে দ্রুত সেখান থেকে চলে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাঁর ছিল না। অপ্রত্যাশিতভাবে প্রবীণদের আবাসনে উঠে পড়লেও শেষ পর্যন্ত সেটিই তাঁর কাছে হয়ে ওঠে ভালোবাসা ও আন্তরিকতার এক নতুন ঠিকানা। সংবাদসূত্র: এনপিআর, নিউজউইক ও শেয়ারেবলি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সমুদ্রতীরবর্তী এক চমৎকার ও সাশ্রয়ী আবাসন সুবিধা নিয়ে এসেছে 'লুনা গ্রিন' নামের একটি নতুন প্রকল্প। ব্রুকলিনের কোনি আইল্যান্ড এলাকার ৩০২৭ ওয়েস্ট ২১ নম্বর স্ট্রিটে অবস্থিত এই নবনির্মিত আবাসিক ভবনটি থেকে সমুদ্রসৈকত ও বিখ্যাত বোর্ডওয়াক মাত্র কয়েক ব্লকের দূরত্বে অবস্থিত। নিউইয়র্ক স্টেট হাউজিং সার্চ পোর্টালের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রকল্পের ওয়েটলিস্ট বা অপেক্ষমাণ তালিকার জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রবীণদের আরামদায়ক জীবনযাপনের কথা মাথায় রেখে নকশা করা এই ভবনে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাসহ আধুনিক নাগরিক জীবনের সব ধরনের সুবিধা রাখা হয়েছে। শতভাগ প্রবীণদের জন্য নিবেদিত এই প্রকল্পে থাকছে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা। বড় জানালা ও আধুনিক ফিনিশিংযুক্ত প্রশস্ত অ্যাপার্টমেন্টগুলো থেকে সমুদ্রের মনোরম দৃশ্য ও নির্মল বাতাস উপভোগ করা যায়। এছাড়া বাসিন্দাদের শারীরিক ও সামাজিক সুস্থতার জন্য ভবনের ভেতরেই থাকছে জিমনেসিয়াম, ফিজিক্যাল থেরাপি স্যুট, চমৎকার কমিউনিটি লাউঞ্জ এবং একটি উন্মুক্ত পাবলিক টেরেস। চলাচলের সুবিধার জন্য লিফট, কেন্দ্রীয় লন্ড্রি রুম এবং সার্বক্ষণিক ব্যবস্থাপনা সুবিধাও রয়েছে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বা শ্রবণ ও দৃষ্টিজনিত সমস্যা রয়েছে এমন প্রবীণদের জন্য এই ভবনে বিশেষায়িত অ্যাপার্টমেন্টও সংরক্ষিত রাখা হয়েছে। এই বিশেষ আবাসন প্রকল্পে আবেদনের প্রাথমিক শর্ত হলো, পরিবারের প্রধান বা যুগ্ম-প্রধানের বয়স অন্তত ৬২ বছর হতে হবে। এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর ভাড়া কাঠামো, যা নির্দিষ্ট বা সীমিত আয়ের প্রবীণদের জন্য ব্যাপকভাবে সহায়ক। এনওয়াইসিএইচএ সেকশন ৮ প্রজেক্ট-বেজড ভাউচার কাঠামোর আওতায় আবেদনকারীদের কোনো ক্রেডিট চেকের মধ্য দিয়ে যেতে হবে না। বাসিন্দাদের মাসিক আয়ের মাত্র ৩০ শতাংশ ভাড়া হিসেবে প্রদান করতে হবে। এর কোনো ন্যূনতম আয়ের বাধ্যবাধকতা নেই; অর্থাৎ কারও আয় শূন্য হলে তাঁর ভাড়াও শূন্য ডলার হতে পারে, যা ভাউচার সাবসিডির মাধ্যমে সমন্বয় করা হবে। তবে বিদ্যুৎ ও বৈদ্যুতিক চুলার খরচ বাসিন্দাদেরই বহন করতে হবে। যোগ্য প্রবীণরা নিউইয়র্ক স্টেট হাউজিং সার্চ পোর্টালের ওয়েবসাইটে গিয়ে অনলাইনে অথবা ডাকযোগে আবেদনপত্র সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট ঠিকানায় জমা দিতে পারবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ২ কোটির বেশি প্রবীণ নাগরিককে এককালীন ৯০ ডলার করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রবীণদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি 'মেডিকেয়ার'-এর মাসিক প্রিমিয়ামের খরচ কিছুটা লাঘব করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, এই অর্থায়নের জন্য কংগ্রেস মেডিকেয়ার ইমপ্রুভমেন্ট ফান্ডে ২ বিলিয়ন বা ২০০ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে। আসন্ন নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ মিডটার্ম নির্বাচনকে সামনে রেখে মার্কিন ভোটারদের আকৃষ্ট করতে রিপাবলিকান নেতার দেওয়া ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতির সর্বশেষ সংযোজন হলো এই ৯০ ডলারের অনুদান। বর্তমানে মার্কিন সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান দলের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি ভোটারদের অসন্তোষ রয়েছে। বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের রেটিং বেশ নিম্নমুখী। হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যমতে, যোগ্য প্রবীণরা অক্টোবরের শুরুতেই এই ৯০ ডলার সরাসরি তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে (ডাইরেক্ট ডিপোজিট) পেয়ে যাবেন। যাদের ডাইরেক্ট ডিপোজিট সুবিধা নেই, তাদের মেডিকেয়ারে নিবন্ধিত ঠিকানায় ডাকযোগে চেক পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এর আগে গত মাসে ট্রাম্প প্রস্তাব করেছিলেন, রিপাবলিকান দল মিডটার্ম নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে তিনি সব প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে চেক পাঠাবেন। যদিও অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের পাশাপাশি স্বয়ং কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও তাঁর ওই বিশাল প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। এছাড়া ‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’-এর অধীনে অতিরিক্ত ফি দেওয়া প্রায় ১০ লাখ মার্কিনিকে আলাদাভাবে ৫০০ ডলার করে ফেরত দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন, যা আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবীণ নাগরিকদের টার্গেট করে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের কৌশল নিয়ে টেক্সাসের ট্যারান্ট কাউন্টির তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, প্রতারকরা ব্যাংক কর্মকর্তা বা ফেডারেল এজেন্টের পরিচয়ে প্রবীণদের ফোন করে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকিতে রয়েছে বলে ভয় দেখাত। এরপর নিরাপত্তার কথা বলে তাদের সঞ্চয়ের টাকা তুলে সোনার বার, বিটকয়েন বা নগদ অর্থে রূপান্তর করতে বলা হতো। প্রতারণার পরের ধাপ ছিল আরও কৌশলী। ভুক্তভোগীদের বলা হতো, তাদের অর্থ নিরাপদ রাখতে একজন ফেডারেল এজেন্ট এসে সোনা বা নগদ অর্থ সংগ্রহ করবেন। পরে চক্রের কুরিয়াররা সরকারি কর্মকর্তা সেজে ভুক্তভোগীদের বাড়িতে গিয়ে সেই সোনা বা টাকা নিয়ে যেত বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ। কর্তৃপক্ষের মতে, চক্রটির একটি অংশ বিদেশি কল সেন্টার থেকে প্রবীণদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। ফোনে প্রথমে আতঙ্ক তৈরি করা হতো, এরপর দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হতো। এতে ভুক্তভোগীরা যাচাই করার সুযোগ না পেয়ে নিজেদের সঞ্চয় প্রতারকদের হাতে তুলে দিতেন। চুরি করা সোনা ও অর্থ এরপর চক্রটির অন্য সদস্যদের কাছে চলে যেত। তদন্তকারীদের অভিযোগ, সোনা বিভিন্ন জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নিয়ে গিয়ে গলিয়ে ব্রেসলেটসহ বিভিন্ন গয়নায় রূপান্তর করা হতো। এতে সোনার আসল উৎস আড়াল করা সহজ হতো। পরে এসব গয়না বা সোনা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হতো বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, চুরি করা অর্থ এবং সোনার মূল্য ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাঠানো হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এই অর্থ পাচার ব্যবস্থায় নিউ জার্সিতে থাকা ৩৫ বছর বয়সী মুজামিল আহমেদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে শেল কোম্পানি ব্যবহার করে চুরি করা অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। মুজামিল আহমেদকে গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি সৌদি আরবের জেদ্দাগামী একটি ফ্লাইটে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। পরে তাকে টেক্সাসে ফিরিয়ে ট্যারান্ট কাউন্টি জেলে নেওয়া হয়। তবে আহমেদই এই মামলায় একমাত্র গ্রেপ্তার ব্যক্তি নন। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই তদন্তে এখন পর্যন্ত ৪০টির বেশি ইনডাইটমেন্ট হয়েছে। এর মধ্যে এপ্রিলে ১৮টি ইনডাইটমেন্ট দেওয়া হয়েছিল এবং সেগুলোর ১২ জন আসামি সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ট্যারান্ট কাউন্টি জেলে আটক ছিলেন। এছাড়া বৃহস্পতিবার শিকাগো ও নিউয়ার্ক থেকে আরও দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা কানাডায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পুরো তদন্তে ২০০-এর বেশি প্রবীণ ভুক্তভোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। কর্মকর্তাদের হিসাবে, এই চক্রের মাধ্যমে চুরি হওয়া অর্থের পরিমাণ ২৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি। তদন্তের অংশ হিসেবে ১৩০ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের সোনাও জব্দ করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। একজন ভুক্তভোগী এই প্রতারণায় প্রায় ২ মিলিয়ন ডলার হারিয়েছেন। তদন্তকারীরা আশঙ্কা করছেন, আরও অনেক প্রবীণ এই প্রতারণার শিকার হলেও লজ্জা, ভয় বা বিভ্রান্তির কারণে এখনো বিষয়টি পুলিশকে জানাননি। কর্তৃপক্ষ বলছে, কোনো ব্যাংক কর্মকর্তা, পুলিশ বা ফেডারেল এজেন্ট ফোন করে সোনা, নগদ অর্থ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি হস্তান্তরের নির্দেশ দিলে সেটিকে বড় সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখতে হবে। সরকারি সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণত ফোনে কাউকে সোনা বা নগদ অর্থ কিনে দেওয়ার নির্দেশ দেয় না। সন্দেহ হলে ফোনে দেওয়া নির্দেশ অনুসরণ না করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা সরকারি সংস্থার অফিসিয়াল নম্বরে নিজে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করা উচিত। মুজামিল আহমেদসহ মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রবীণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত অন্তত ২২ লাখ ডলারের একটি প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিন চীনা নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, প্রতারণার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তা বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হতো। ফ্লোরিডার মিডল ডিস্ট্রিক্টের যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি গ্রেগরি কিহো এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ইয়ংবো লি, হুয়াশান লু এবং ইউশিয়াং ঝাওকে ডাকযোগে প্রতারণার ষড়যন্ত্রের (Conspiracy to Commit Mail Fraud) অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তারা বিচারিক হেফাজতে রয়েছেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনই যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থান করছিলেন না। তারা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশটিতে অবস্থান করছিলেন। এছাড়া এ মামলায় অভিযুক্ত আরেক ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দ্বৈত নাগরিক বলে জানিয়েছেন গ্রেগরি কিহো। ৬৭ পৃষ্ঠার ফৌজদারি অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ইয়ংবো লির নেতৃত্বে এই চক্রটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৭টি অঙ্গরাজ্যের প্রবীণ ব্যক্তিদের ফোন ও বার্তার মাধ্যমে প্রতারণার ফাঁদে ফেলত। পরে তাদের ভুয়া প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠাতে বাধ্য করা হতো। সেই অর্থ পরবর্তীতে চীন এবং কিছু ক্ষেত্রে বাহরাইনে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। এ মামলায় আরও তিনজন লিং ওয়াং, শৌশিন লুও এবং শিয়াওওয়েই লিন এখনও পলাতক। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের ধারণা, তারা বর্তমানে চীনে অবস্থান করছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। অভিযোগপত্রে এখন পর্যন্ত ২৮ জন ভুক্তভোগীর নাম রয়েছে। তবে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, প্রতিদিনই নতুন ভুক্তভোগীর সন্ধান মিলছে এবং প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। অভিযোগ অনুযায়ী, একজন ভুক্তভোগী একাই প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার হারিয়েছেন। তদন্তকারীদের হিসাবে, মোট প্রতারণার অর্থ অন্তত ২২ লাখ ডলার। গ্রেগরি কিহো বলেন, এই অর্থের বড় অংশই উদ্ধার করা কঠিন হবে। কারণ অর্থ বিভিন্ন দেশের একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে খুব অল্প সময়ের মধ্যে স্থানান্তর করা হয়েছে। তদন্তের সূত্রপাত হয় চলতি বছরের জুন মাসে। ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের এক প্রবীণ নারী অনলাইনে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করলে অরল্যান্ডো পুলিশ বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। পরে অরল্যান্ডো পুলিশের আর্থিক অপরাধ দমন ইউনিট যুক্তরাষ্ট্রের পোস্টাল ইন্সপেকশন সার্ভিসের সঙ্গে যৌথভাবে তদন্ত চালায়। তদন্তে অভিযুক্তদের একজনের নামে অরল্যান্ডোর একটি ইউপিএস স্টোরে নিবন্ধিত পোস্ট অফিস বক্সের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে নজরদারির মাধ্যমে তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের অরল্যান্ডোর একটি ব্যাংকে যাতায়াত করতে দেখেন এবং সেখান থেকে তদন্ত আরও এগিয়ে যায়। সংবাদ সম্মেলনে গ্রেগরি কিহো বলেন, প্রতারণার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ 'শূন্য সহনশীলতা' নীতি অনুসরণ করছে। তিনি বলেন, যেখানে প্রতারণা ঘটবে, সেখানেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ব্যবস্থা নেবে। তিনি আরও বলেন, প্রতারণার শিকার ব্যক্তির অর্থ উদ্ধারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দ্রুত অভিযোগ জানানো। কারণ অর্থ একবার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর হয়ে গেলে তা ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। অরল্যান্ডো পুলিশের প্রধান এরিক স্মিথও জনগণকে প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত অভিযোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন বা সন্দেহজনক কোনো ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন, তাহলে দ্রুত পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। মার্কিন অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, এই প্রতারণা চক্রটি কবে থেকে সক্রিয় ছিল এবং এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
নিউইয়র্কে প্রায় ৩০ লাখ গৃহস্থ ও প্রবীণ নাগরিকের জন্য মোট ২ বিলিয়ন ডলারের ট্যাক্স রিলিফ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন গভর্নর ক্যাথি হোকুল। চলতি গ্রীষ্মে স্টার (School Tax Relief) কর্মসূচির আওতায় এই অর্থ বিতরণ করা হবে বলে রাজ্য প্রশাসন জানিয়েছে। রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বছরে ৫ লাখ ডলারের কম আয় করা অধিকাংশ গৃহস্থ এই সুবিধার আওতায় পড়বেন। তারা সাধারণত ৩৫০ থেকে ৬০০ ডলার পর্যন্ত ট্যাক্স রিলিফ পাবেন। একই কর্মসূচির আওতায় প্রবীণ নাগরিকরা, যাদের বার্ষিক আয় প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ডলারের নিচে, তারা ৭০০ থেকে ১৫০০ ডলার পর্যন্ত সহায়তা পাবেন। গভর্নর ক্যাথি হোকুল বলেন, অনেক পরিবারের জন্য এই অর্থ দৈনন্দিন খরচ সামাল দিতে সহায়ক হবে। জ্বালানি, খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে এই সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, নির্দিষ্ট আয়ের ওপর নির্ভরশীল প্রবীণদের জন্য এই কর্মসূচি আর্থিক চাপ কিছুটা হলেও কমিয়ে আনবে। নিউইয়র্ক সিটির আইনপ্রণেতারা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে এই ধরনের সহায়তা সাধারণ পরিবারের জন্য স্বস্তি বয়ে আনবে। রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটিতে প্রায় ৪ লাখ ৭৪ হাজার গৃহস্থ এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছেন। তাদের জন্য মোট প্রায় ১৪৯.৭ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা বরাদ্দ করা হয়েছে। রাজ্য প্রশাসন জানিয়েছে, যোগ্য নাগরিকরা অনলাইনের মাধ্যমে তাদের স্টার চেক বা ডাইরেক্ট ডিপোজিটের অবস্থা ট্র্যাক করতে পারবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।