ব্যাংক কর্মকর্তা সেজে প্রবীণদের ফাঁদে ফেলত, এরপর যেভাবে হাতিয়ে নিত সোনা ও লাখ লাখ ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবীণ নাগরিকদের টার্গেট করে পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের কৌশল নিয়ে টেক্সাসের ট্যারান্ট কাউন্টির তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, প্রতারকরা ব্যাংক কর্মকর্তা বা ফেডারেল এজেন্টের পরিচয়ে প্রবীণদের ফোন করে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকিতে রয়েছে বলে ভয় দেখাত।
এরপর নিরাপত্তার কথা বলে তাদের সঞ্চয়ের টাকা তুলে সোনার বার, বিটকয়েন বা নগদ অর্থে রূপান্তর করতে বলা হতো।
প্রতারণার পরের ধাপ ছিল আরও কৌশলী। ভুক্তভোগীদের বলা হতো, তাদের অর্থ নিরাপদ রাখতে একজন ফেডারেল এজেন্ট এসে সোনা বা নগদ অর্থ সংগ্রহ করবেন। পরে চক্রের কুরিয়াররা সরকারি কর্মকর্তা সেজে ভুক্তভোগীদের বাড়িতে গিয়ে সেই সোনা বা টাকা নিয়ে যেত বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ।
কর্তৃপক্ষের মতে, চক্রটির একটি অংশ বিদেশি কল সেন্টার থেকে প্রবীণদের সঙ্গে যোগাযোগ করত। ফোনে প্রথমে আতঙ্ক তৈরি করা হতো, এরপর দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হতো। এতে ভুক্তভোগীরা যাচাই করার সুযোগ না পেয়ে নিজেদের সঞ্চয় প্রতারকদের হাতে তুলে দিতেন।
চুরি করা সোনা ও অর্থ এরপর চক্রটির অন্য সদস্যদের কাছে চলে যেত। তদন্তকারীদের অভিযোগ, সোনা বিভিন্ন জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নিয়ে গিয়ে গলিয়ে ব্রেসলেটসহ বিভিন্ন গয়নায় রূপান্তর করা হতো। এতে সোনার আসল উৎস আড়াল করা সহজ হতো। পরে এসব গয়না বা সোনা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হতো বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, চুরি করা অর্থ এবং সোনার মূল্য ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাঠানো হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এই অর্থ পাচার ব্যবস্থায় নিউ জার্সিতে থাকা ৩৫ বছর বয়সী মুজামিল আহমেদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে শেল কোম্পানি ব্যবহার করে চুরি করা অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
মুজামিল আহমেদকে গত বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি সৌদি আরবের জেদ্দাগামী একটি ফ্লাইটে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। পরে তাকে টেক্সাসে ফিরিয়ে ট্যারান্ট কাউন্টি জেলে নেওয়া হয়।
তবে আহমেদই এই মামলায় একমাত্র গ্রেপ্তার ব্যক্তি নন। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই তদন্তে এখন পর্যন্ত ৪০টির বেশি ইনডাইটমেন্ট হয়েছে। এর মধ্যে এপ্রিলে ১৮টি ইনডাইটমেন্ট দেওয়া হয়েছিল এবং সেগুলোর ১২ জন আসামি সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ট্যারান্ট কাউন্টি জেলে আটক ছিলেন। এছাড়া বৃহস্পতিবার শিকাগো ও নিউয়ার্ক থেকে আরও দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা কানাডায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
পুরো তদন্তে ২০০-এর বেশি প্রবীণ ভুক্তভোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। কর্মকর্তাদের হিসাবে, এই চক্রের মাধ্যমে চুরি হওয়া অর্থের পরিমাণ ২৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি। তদন্তের অংশ হিসেবে ১৩০ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের সোনাও জব্দ করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
একজন ভুক্তভোগী এই প্রতারণায় প্রায় ২ মিলিয়ন ডলার হারিয়েছেন। তদন্তকারীরা আশঙ্কা করছেন, আরও অনেক প্রবীণ এই প্রতারণার শিকার হলেও লজ্জা, ভয় বা বিভ্রান্তির কারণে এখনো বিষয়টি পুলিশকে জানাননি।
কর্তৃপক্ষ বলছে, কোনো ব্যাংক কর্মকর্তা, পুলিশ বা ফেডারেল এজেন্ট ফোন করে সোনা, নগদ অর্থ বা ক্রিপ্টোকারেন্সি হস্তান্তরের নির্দেশ দিলে সেটিকে বড় সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখতে হবে।
সরকারি সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাধারণত ফোনে কাউকে সোনা বা নগদ অর্থ কিনে দেওয়ার নির্দেশ দেয় না। সন্দেহ হলে ফোনে দেওয়া নির্দেশ অনুসরণ না করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা সরকারি সংস্থার অফিসিয়াল নম্বরে নিজে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করা উচিত।
মুজামিল আহমেদসহ মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) পরিবারের সদস্যদের গ্রিন কার্ড স্পনসর করার নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা স্পনসরদের ক্রেডিট রিপোর্ট যাচাই করার ক্ষমতা পাবেন। আগস্টে আই-৮৬৪ (I-864) ফর্মে এই আপডেট আনার পর তা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। এই ফর্মটি মূলত 'অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট' হিসেবে পরিচিত, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতে আসা আবেদনকারীর আর্থিক দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, ফর্মের নতুন সংস্করণে একটি 'প্রাইভেসি রিলিজ' যুক্ত করা হয়েছে, যা কর্তৃপক্ষকে কনজ্যুমার রিপোর্টিং এজেন্সি থেকে স্পনসরের তথ্য সংগ্রহের অনুমতি দেয়। তবে এই সংগৃহীত তথ্য ঠিক কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে তারা বিস্তারিত কোনো নির্দেশনা দেয়নি। গ্রিন কার্ড স্পনসর করার ক্ষেত্রে আগে থেকেই নির্দিষ্ট আর্থিক শর্ত পূরণের নিয়ম রয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো স্পনসরকে প্রমাণ করতে হয় যে তার পরিবারের আয় যুক্তরাষ্ট্রের দারিদ্র্যসীমার ১২৫ শতাংশ বা তার বেশি। তবে সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ব্যক্তিরা তাদের স্বামী, স্ত্রী বা সন্তানের স্পনসর করলে এই সীমা ১০০ শতাংশ হিসেবে ধরা হয়। আগে শুধু ট্যাক্স রিটার্ন, পাসপোর্ট বা অন্যান্য নথির মাধ্যমে আর্থিক সচ্ছলতা প্রমাণ করতে হতো। কিন্তু নতুন পরিবর্তনের ফলে স্পনসরদের ক্রেডিট রেকর্ডে কোনো ধরনের 'ফ্রিজ' বা বিধিনিষেধ থাকলে তা দ্রুত তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইউএসসিআইএস। সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, ক্রেডিট ফ্রিজ থাকলে তারা ফর্মের যথার্থতা মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হতে পারে। তবে স্পনসরদের নির্দিষ্ট কোনো ন্যূনতম ক্রেডিট স্কোর থাকতে হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি। নতুন এই নিয়মের কারণে অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও সমালোচকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মার্কিন ইমিগ্রেশন সার্ভিস প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠান 'বাউন্ডলেস'-এর সিইও জিয়াও ওয়াং বলেন, আয় ও সম্পদের সুনির্দিষ্ট নিয়ম থাকায় পরিবারগুলোর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া সহজ ছিল, কিন্তু এখন কী মানদণ্ড ব্যবহার করা হবে তা না জানিয়েই ক্রেডিট রিপোর্ট যাচাইয়ের পথ উন্মুক্ত করা হলো। সামান্য ক্রেডিট কার্ডের বিল বকেয়া থাকা বা ফাইলে ভুলের কারণে বৈধ দম্পতিদের আলাদা থাকার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উচিত নয় বলে তিনি মনে করেন। অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান ফ্রাগোমেন-এর এক আইনজীবী জানিয়েছেন, আবেদন করার সময় এখন থেকে ইউএসসিআইএসকে ক্রেডিট স্কোর যাচাইয়ের আইনি অনুমতি দিতেই হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকেই গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়াকে কঠিন করার যে প্রবণতা শুরু হয়েছিল, এই পদক্ষেপকে তার একটি ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন সমালোচকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের মেইনে ঘুরে বেড়াচ্ছে লোমশ ‘দানব’ বিগফুট, আতঙ্কে ৯১১ নম্বরে একের পর এক কল
মিয়ামিতে আমাজনের পণ্যবাহী কার্গো বিমান রানওয়ে থেকে ছিটকে একাধিক গাড়িতে ধাক্কা, ভয়াবহ আগুনে নিহত ৫
ব্যাংক কর্মকর্তা সেজে প্রবীণদের ফাঁদে ফেলত, এরপর যেভাবে হাতিয়ে নিত সোনা ও লাখ লাখ ডলার
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন-স্ট্যাটাস প্রমাণ করতে না পারা ব্যক্তিদের ‘ড্রাইভ-অনলি’ ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার নীতি বন্ধে জাতীয় পর্যায়ে পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ওহাইওর দুই রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেড ও বার্নি মোরেনো। সাম্প্রতিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় ওহাইওর এক বাসিন্দার মৃত্যুর পর তারা এ দাবি তুলেছেন। গত ২৯ আগস্ট ওহাইওর ফুলটন কাউন্টিতে একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় ২৯ বছর বয়সী অস্টিন গ্রিমস নিহত হন। পুলিশ ও আদালতের নথি অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় জড়িত অপর চালক ওয়াশিংটন জি. নাউলা-ওচোয়ার বিরুদ্ধে গুরুতর যানবাহন হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। হাস্টেডের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নাউলা-ওচোয়ার কানেকটিকাটের ‘ড্রাইভ-অনলি’ লাইসেন্স ছিল। এই ঘটনার পর সিনেটর হাস্টেড মার্কিন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী মার্কওয়েইন মুলেনকে চিঠি দিয়ে এমন লাইসেন্স দেওয়ার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর প্রস্তাব, যেসব ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানের প্রমাণ দিতে পারবেন না, তাদের কোনো রাজ্য যেন ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে না পারে। মোরেনোও কানেকটিকাটের গভর্নর নেড ল্যামন্টের কাছে এ নীতির ব্যাখ্যা চেয়েছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, রাজ্যটিতে কতজনকে ‘ড্রাইভ-অনলি’ লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে এবং এসব লাইসেন্সধারীদের অপরাধ বা ভোটার নিবন্ধনের বিষয়ে কী তথ্য রয়েছে। তবে কানেকটিকাটের আইন অনুযায়ী এই ধরনের লাইসেন্স ভোট দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা যায় না। কানেকটিকাটসহ বর্তমানে ১৯টি রাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসি এমন ধরনের লাইসেন্সের সুযোগ দেয়। এসব রাজ্যের যুক্তি, বৈধভাবে গাড়ি চালানোর সুযোগ দিলে চালকদের পরীক্ষা, প্রশিক্ষণ ও বীমার আওতায় আনা যায় এবং সড়ক নিরাপত্তা বাড়তে পারে। কানেকটিকাটের গভর্নর ল্যামন্টও এই নীতির পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘ড্রাইভ-অনলি’ লাইসেন্সের মাধ্যমে অনথিভুক্ত অভিবাসীদেরও চালকের পরীক্ষা ও বীমার আওতায় আনা যায়, যা সড়ক নিরাপত্তার জন্য সহায়ক। তবে দুর্ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে লাইসেন্স নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হলেও, একটি দুর্ঘটনার ভিত্তিতে ‘ড্রাইভ-অনলি’ লাইসেন্স নীতিই দুর্ঘটনার কারণ - এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। কানেকটিকাটের সামগ্রিক দুর্ঘটনা-তথ্য নিয়েও এমন সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
বেশি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলেই কি বাড়ে ক্রেডিট স্কোর? প্রচলিত ভুল ধারণা জানুন
মিয়ামিতে অ্যামাজনের বোয়িংয়ের দুর্ঘটনা, একাধিক গাড়িতে ধাক্কা - বন্ধ সব রানওয়ে
কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধে ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারি
আটলান্টিক মহাসাগরে পশ্চিম আফ্রিকার উপকূলের কাছে কেপ ভার্দের ফোগো দ্বীপে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই শিশু, স্কুলশিক্ষার্থী ও কিশোর-কিশোরী বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ফোগো দ্বীপের উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি সড়কের ক্যাম্পানাস দে সিমা এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। যাত্রীবাহী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক থেকে ছিটকে প্রায় ৩০ মিটার গভীর খাদে পড়ে যায়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটায় উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাসটিতে থাকা অনেক যাত্রীই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের ফোগোর সাও ফ্রান্সিসকো দে আসিস আঞ্চলিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ভ্রমণের আয়োজন কোনো স্কুল কর্তৃপক্ষ করেনি। বাসচালক নিজ উদ্যোগে প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ ধরনের ভ্রমণের আয়োজন করতেন। এবারের দুর্ঘটনায় তিনিও নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কেপ ভার্দের প্রেসিডেন্ট জোসে মারিয়া নেভেস ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ বিপর্যয়’ হিসেবে উল্লেখ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। দুর্ঘটনার পর দেশটিতে দুই দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হা/ম/লায় আল-কায়েদার ব্যয়ের হিসাব জানাল তদন্ত কমিশন
যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ের অনুষ্ঠানে মেহেদি দিয়ে ঘণ্টায় ১০০ ডলার আয় ভারতীয় সফটওয়্যার প্রকৌশলীর