- প্রচ্ছদ
- Topic
পার্ক
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে গাড়ি পার্কিংয়ের খরচ কমানোর সুযোগ রয়েছে, যদি চালকেরা নির্দিষ্ট সময় ও পার্কিংয়ের নিয়ম সম্পর্কে সচেতন থাকেন। শহরের মিটারযুক্ত পার্কিং স্পটগুলোতে সাধারণত রবিবার পার্কিং ফি দিতে হয় না। পাশাপাশি অনেক আবাসিক এলাকায় মিটারবিহীন স্ট্রিট পার্কিংয়ের সুযোগ রয়েছে। তবে ফ্রি পার্কিং মানেই সব ধরনের পার্কিং নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় নয়। রাস্তার সাইনবোর্ড ও নির্ধারিত নিয়ম না মানলে জরিমানা কিংবা গাড়ি টো করার ঝুঁকি রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশন এবং এনওয়াইসি ৩১১-এর পার্কিং নির্দেশনা অনুযায়ী, শহরের পার্কিং মিটারগুলো রবিবার কার্যকর থাকে না। ফলে যেসব জায়গায় অন্য কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, সেখানে রবিবার মিটার ফি ছাড়াই গাড়ি রাখা যায়। তবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নো স্ট্যান্ডিং, নো স্টপিং কিংবা অন্য কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকলে তা মেনে চলতে হবে। নিউইয়র্কে গাড়ি চালানো বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ম্যানহাটন, কুইন্স, ব্রুকলিন ও ব্রঙ্কসে বসবাসকারী কিংবা কাজের প্রয়োজনে নিয়মিত যাতায়াতকারীরা পার্কিংয়ের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করেন। ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় গ্যারেজের খরচ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অনেকে স্ট্রিট পার্কিংয়ের ওপর নির্ভর করেন। সঠিক নিয়ম জানা থাকলে অপ্রয়োজনীয় পার্কিং ফি এড়ানো সম্ভব। শহরের পার্কিং ব্যবস্থায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অল্টারনেট সাইড পার্কিং বা এএসপি। মূলত রাস্তা পরিষ্কারের জন্য নির্দিষ্ট দিন ও সময়ে রাস্তার এক পাশ থেকে গাড়ি সরিয়ে রাখতে হয়। কোন দিন এবং কতক্ষণ এই নিয়ম কার্যকর থাকবে, তা সংশ্লিষ্ট ব্লকের সাইনবোর্ডে উল্লেখ থাকে। এএসপি কার্যকর থাকা অবস্থায় নিয়ম না মানলে চালককে পার্কিং টিকিট দেওয়া হতে পারে। রবিবার সাধারণত নিউইয়র্ক সিটিতে অল্টারনেট সাইড পার্কিং কার্যকর থাকে না। তবে এটি অন্যান্য পার্কিং বিধিনিষেধ বাতিল করে না। একইভাবে শহরের নির্ধারিত ছুটির দিনগুলোতে এএসপি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হলেও সব ছুটিতে মিটার পার্কিং ফ্রি হয় না। ফলে কোনো ছুটির দিনে গাড়ি পার্ক করার আগে সেদিন মিটার ও অন্যান্য পার্কিং বিধিনিষেধ কার্যকর আছে কি না, তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। নিউ ইয়ার্স ডে, মেমোরিয়াল ডে, ইন্ডিপেন্ডেন্স ডে, লেবার ডে, থ্যাংকসগিভিং ডে এবং ক্রিসমাস ডের মতো প্রধান ছুটির দিনগুলোতে নিউইয়র্ক সিটির পার্কিং নিয়মে বিশেষ ছাড় থাকে। এসব দিনে এএসপি স্থগিত থাকার পাশাপাশি মিটার পার্কিং এবং নির্দিষ্ট স্ট্রিট ক্লিনিং বিধিনিষেধেও ছাড় প্রযোজ্য হতে পারে। তবে সব ধরনের নো পার্কিং, নো স্ট্যান্ডিং বা নো স্টপিং নিষেধাজ্ঞা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না। রবিবারের বাইরে ফ্রি পার্কিংয়ের আরেকটি উপায় হলো মিটারবিহীন আবাসিক রাস্তা খুঁজে নেওয়া। ম্যানহাটনের ইনউড, ওয়াশিংটন হাইটস এবং ব্রুকলিনের বে রিজসহ বিভিন্ন এলাকায় মিটারবিহীন স্ট্রিট পার্কিং পাওয়া যেতে পারে। কুইন্স ও ব্রঙ্কসের অনেক আবাসিক এলাকাতেও একই ধরনের সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট রাস্তার সব ব্লকে কিংবা সব সময় ফ্রি পার্কিং পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে ইনউডের ওয়েস্ট ২১৮তম স্ট্রিট, ওয়াশিংটন হাইটসের ১৮৭তম স্ট্রিট এবং বে রিজের ৭২তম স্ট্রিটের মতো এলাকায় পার্কিং খোঁজার আগে স্থানীয় সাইনবোর্ড যাচাই করা জরুরি। একই রাস্তার এক ব্লকে মিটার না থাকলেও পাশের ব্লকে আলাদা নিয়ম থাকতে পারে। রাস্তা পরিষ্কার, নির্মাণকাজ, স্কুল জোন কিংবা অন্যান্য কারণে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পার্কিং নিষিদ্ধ থাকতে পারে। নিউইয়র্কে পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে ফায়ার হাইড্র্যান্টের নিয়ম বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শহরের নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণভাবে ফায়ার হাইড্র্যান্টের দুই পাশে ১৫ ফুটের মধ্যে গাড়ি পার্ক করা যায় না। তবে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে লাইসেন্সধারী চালক গাড়ির ভেতরে থেকে প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে নেওয়ার শর্তে সাময়িকভাবে দাঁড়াতে পারেন। নিয়ম না মেনে গাড়ি রেখে চলে গেলে জরিমানা হতে পারে। এ ছাড়া নিউইয়র্ক সিটির রাস্তায় একই স্থানে টানা সাত দিনের বেশি গাড়ি পার্ক করে রাখা নিষিদ্ধ। গাড়িটি মিটারবিহীন কোনো বৈধ পার্কিং স্পটে রাখা হলেও এই সময়সীমা প্রযোজ্য হতে পারে। তাই দীর্ঘদিনের জন্য গাড়ি রেখে বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে আগে বিকল্প ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। রাতের পার্কিংয়ের ক্ষেত্রেও সময়ভিত্তিক সাইনবোর্ড গুরুত্বপূর্ণ। কোনো এলাকায় রাত দুইটা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত নো পার্কিং নির্দেশনা থাকলে ওই সময় গাড়ি রাখা যাবে না। তবে বাকি সময় পার্কিং বৈধ কি না, তা নির্ভর করবে একই স্থানে থাকা অন্যান্য নির্দেশনার ওপর। শুধু একটি নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ হয়েছে বলেই জায়গাটি ফ্রি বা সীমাহীন সময়ের জন্য ব্যবহারযোগ্য হয়ে যায় না। যাঁরা নিয়মিত ম্যানহাটনে যাতায়াত করেন, তাঁদের জন্য পার্ক অ্যান্ড রাইড ব্যবস্থা খরচ কমানোর একটি বিকল্প হতে পারে। শহরের বাইরে বা ট্রানজিট স্টেশনের কাছে গাড়ি রেখে বাস কিংবা ট্রেনে গন্তব্যে যাওয়া যায়। নিউইয়র্ক স্টেটের বিভিন্ন পার্ক অ্যান্ড রাইড লোকেশনে বিনামূল্যে পার্কিংয়ের সুযোগ থাকলেও সব জায়গায় একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। কোনো স্থানে সময়সীমা, পারমিট কিংবা নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীদের জন্য আলাদা শর্ত থাকতে পারে। নিউ জার্সির হোবোকেন ও জার্সি সিটি থেকেও পাথ ট্রেনে ম্যানহাটনে যাতায়াত করা যায়। তবে এসব এলাকার পার্কিং স্পট সব সময় সস্তা বা বিনামূল্যের নয়। গ্যারেজের ফি, স্ট্রিট পার্কিংয়ের নিয়ম এবং ট্রেনভাড়া হিসাব করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। শুধু ম্যানহাটনের বাইরে গাড়ি রাখলেই খরচ কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। পার্কিংয়ের নিয়ম যাচাই করতে এনওয়াইসি ৩১১ এবং নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশনের প্রকাশিত তথ্য ব্যবহার করা যায়। এনওয়াইসি ৩১১ থেকে অল্টারনেট সাইড পার্কিং স্থগিত থাকার ঘোষণা এবং ছুটির দিনের নিয়ম জানা যায়। পার্কএনওয়াইসি অ্যাপ মূলত নির্ধারিত মিটার পার্কিংয়ের ফি পরিশোধে ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে স্পটহিরো ও বেস্টপার্কিংয়ের মতো সেবায় বিভিন্ন পেইড পার্কিংয়ের বিকল্প ও মূল্য তুলনা করা যায়। নিউইয়র্ক সিটিতে পার্কিং টিকিটের জরিমানা নিয়মভেদে ভিন্ন হয়। সব ধরনের ভুল পার্কিংয়ের জন্য একই অঙ্কের জরিমানা ধার্য করা হয় না। কোথাও নির্ধারিত সময়ের বেশি গাড়ি রাখা, কোথাও স্ট্রিট ক্লিনিংয়ের নিয়ম ভঙ্গ করা কিংবা নিষিদ্ধ স্থানে পার্কিংয়ের কারণে আলাদা অঙ্কের টিকিট দেওয়া হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে গাড়ি টো করার অতিরিক্ত খরচও যোগ হতে পারে। নিউইয়র্কে গাড়ি ব্যবহারকারী বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো পার্কিংয়ের আগে সংশ্লিষ্ট ব্লকের সব সাইনবোর্ড ভালোভাবে পড়া, রবিবার ও ছুটির দিনের নিয়ম যাচাই করা এবং এএসপি সাসপেনশনের সর্বশেষ ঘোষণা দেখে নেওয়া। এতে পার্কিং খরচ কমানোর পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় জরিমানা এড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
গাড়ি পার্কিং নিয়ে বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে একই পরিবারের তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে। হামলার ২২ সেকেন্ডের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ভারতের উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌয়ে গাড়ি পার্কিং নিয়ে বিরোধের জেরে একই পরিবারের তিন সদস্যকে গুলি করে হত্যার ঘটনা সামনে এসেছে।হত্যাকাণ্ডের নতুন একটি ভিডিও প্রকাশের পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, মাত্র ২২ সেকেন্ডের মধ্যে পাঁচবার গুলি চালানো হয়। মাঝপথে পিস্তলে নতুন করে গুলি ভরেও হামলা চালান অভিযুক্ত ব্যক্তি। ঘটনাটি ঘটে গত ২৬ অক্টোবর সকালে লক্ষ্ণৌয়ের সাদাতগঞ্জ এলাকায়। একটি খালি জায়গায় গাড়ি পার্কিং করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে সেই বিরোধ প্রাণঘাতী সহিংসতায় রূপ নেয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রথমে পরপর দুটি গুলি ছোড়েন। এরপর পিস্তলে নতুন করে গুলি ভরে আরও তিনটি গুলি চালান। পুরো ঘটনাটি আশপাশের মানুষের সামনে ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে অভিযুক্তকে বলতে শোনা যায়, ইট দিয়ে আঘাত করার কারণেই তিনি গুলি চালিয়েছেন। তবে এটি অভিযুক্তের নিজের বক্তব্য; ঘটনার পূর্ণ প্রেক্ষাপট তদন্তের বিষয়। নিহত ব্যক্তিরা হলেন শিবাজি তিওয়ারি, শিবেন্দ্র তিওয়ারি এবং সুয়াশ তিওয়ারি। তাঁরা একই পরিবারের সদস্য। শিবাজি ও শিবেন্দ্র ছিলেন দুই ভাই এবং সুয়াশ ছিলেন শিবাজির ছেলে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে কিং জর্জ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়। নিহত সুয়াশের একটি বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ব্যবসা ছিল। আগামী ৫ ডিসেম্বর তাঁর বিয়ের তারিখ নির্ধারিত ছিল বলে জানিয়েছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। পুলিশের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, হামলায় অভিযুক্ত শুক্লাকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়। তাঁর কাছ থেকে হামলায় ব্যবহৃত পিস্তল এবং চারটি খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে তাঁকে মার্চেন্ট নেভিতে নেভিগেশন কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করা ব্যক্তি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহত শিবেন্দ্র তিওয়ারির স্ত্রী রুচি তিওয়ারির অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হয়েছে। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা ও দাঙ্গাসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্তের পরিবারের পাঁচ সদস্যকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন তাঁর বাবা, বোন ও তিন আত্মীয়ের মধ্যে চারজনের পরিচয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। পুলিশ আরও একজন অভিযুক্তের সন্ধান করছে।এদিকে লক্ষ্ণৌ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তের বাড়ির একটি অননুমোদিত অংশ ভেঙে ফেলার কাজ শুরু করেছে। হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নিহতদের পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং এ বিষয়ে আগেও পুলিশকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে তাঁদের দাবি। এ ঘটনার পর সাদাতগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার আর্য এবং কাশ্মীরি মহল্লা পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক অজয় চৌরাসিয়াকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনজনের মৃত্যুর পর স্বজনেরা বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। উত্তর প্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। মামলাটি দ্রুত বিচার আদালতে নেওয়ার বিষয়েও তিনি কথা বলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় প্রচণ্ড গরমে পার্ক করে রাখা একটি গাড়ির ভেতর আটকা পড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে টাম্পা শহরের অদূরে রিভারভিউ এলাকার একটি বাড়িতে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, শিশুটির বাবা তাকে গাড়ির ভেতর অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে জরুরি সেবায় খবর দেন। পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। শনিবার রিভারভিউ এলাকার তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট, যা অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে ১০০ ডিগ্রির চেয়েও বেশি অনুভূত হচ্ছিল। তবে শিশুটি ঠিক কতক্ষণ ওই উত্তপ্ত ও বদ্ধ গাড়িতে আটকে ছিল, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। হিলসবরো কাউন্টির শেরিফ চ্যাড ক্রনিস্টার এই ঘটনাকে একটি ‘মারাত্মক ট্র্যাজেডি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি সবাইকে সতর্ক করে বলেন, মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই রোদে থাকা একটি গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা প্রাণঘাতী পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। শেরিফ তার এক বিবৃতিতে স্থানীয় সকল অভিভাবক এবং শিশুদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের প্রতি গাড়ির নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "এমনকি এক মুহূর্তের জন্যও কোনো শিশুকে গাড়িতে একা ফেলে রাখা উচিত নয়।" শেরিফের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কারো বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি এবং পুরো বিষয়টির তদন্ত চলমান রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় অলাভজনক সংস্থা ‘কিডস অ্যান্ড কারস ডট ওআরজি’-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে চলতি বছর এখন পর্যন্ত বদ্ধ ও উত্তপ্ত গাড়িতে আটকা পড়ে অন্তত আটজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সংস্থাটির দেওয়া পরিসংখ্যান মতে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে একইভাবে অন্তত ৩৭ জন শিশু মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।