সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

বিএনপির

রুমিন ফারহানা
‘আল্লাহর অশেষ রহমত’ আমার উপরে বিএনপির ট্যাগ নেই!রুমিন ফারহানার বিস্ফোরক মন্তব্য

বিএনপির সঙ্গে নিজের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, বিএনপির ‘ট্যাগ’ বহন করতে হচ্ছে না—এটিকে তিনি ‘আল্লাহর অশেষ রহমত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড শেয়ার করেন রুমিন ফারহানা। সেখানে লেখা ছিল, ‘আল্লাহর অশেষ রহমত যে আমাকে এই ট্যাগ অর্থাৎ বিএনপির ট্যাগ বহন করতে হচ্ছে না।’ পোস্টটির সঙ্গে তিনি ক্যাপশনে লেখেন, ‘আল্লাহর কসম।’   তার এই বক্তব্য প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিএনপির সঙ্গে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনা নতুন মন্তব্যটির প্রেক্ষাপটকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।   রুমিন ফারহানা দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি দলটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আন্তর্জাতিকবিষয়ক দায়িত্বেও ছিলেন। ২০২৫ সালের শেষ দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থানের বিরোধ তৈরি হয়। ওই আসনটি বিএনপি জোটের শরিক জামিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থীকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।   দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি তাকে বহিষ্কার করে। একই সময়ে আরও কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অমান্যের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।   এরপর ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন রুমিন ফারহানা। নির্বাচনী ফলাফলে তিনি জয়ী হন। নির্বাচনের আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের নির্বাচনী লড়াই এবং দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার বিষয়েও কথা বলেছিলেন।   নির্বাচনের সময়ও তার সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের বিষয়টি আলোচনায় ছিল। দ্য ডেইলি স্টারের নির্বাচনী প্রতিবেদনে তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।   রুমিন ফারহানার বর্তমান মন্তব্যটি মূলত তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান এবং বিএনপির সঙ্গে সম্পর্কের বর্তমান বাস্তবতার ওপর আলোকপাত করছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বিএনপির সঙ্গে ভবিষ্যতে তার রাজনৈতিক সম্পর্ক কী হবে, সে বিষয়ে নতুন কোনো বিস্তারিত পরিকল্পনা জানাননি।   এর আগে বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পরও রুমিন ফারহানা বিভিন্ন বক্তব্যে দলটির রাজনীতি, নেতৃত্ব এবং নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কথা বলেছেন। ২০২৬ সালের শুরুতে তিনি বলেছিলেন, দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও তিনি তার এলাকার মানুষের জন্য কাজ চালিয়ে যাবেন। একই সময়ে তিনি নিজের বিরুদ্ধে নেওয়া সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের ন্যায়সংগততা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন।   অন্যদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে তার বহিষ্কারের কারণ হিসেবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং নির্বাচনী সিদ্ধান্ত অমান্যের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছিল। ফলে রুমিন ফারহানার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে তার দলীয় রাজনীতির অতীত ও বর্তমান অবস্থানের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বক্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় রুমিন ফারহানার সর্বশেষ মন্তব্যও এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে। তবে তার বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য বা ভবিষ্যৎ অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে তার পরবর্তী বক্তব্য এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।   রুমিন ফারহানা বর্তমানে জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের নির্বাচিত স্বতন্ত্র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি ওই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয় পান।   তার সর্বশেষ বক্তব্যে বিএনপির সঙ্গে নিজের বর্তমান দূরত্বকে তিনি যে ভাষায় তুলে ধরেছেন, সেটিই মূলত রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ভবিষ্যতে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যোগ দেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো ঘোষণা দেননি।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০
যুবদল নেতা নয়ন
বিএনপির প্রশ্নে আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকুন: যুবদল নেতা নয়ন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির স্বার্থে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়ন। তিনি বলেছেন, দলের বৃহত্তর স্বার্থে মতপার্থক্য থাকলেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।    সম্প্রতি মাগুরার শালিখায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত র‍্যালি পরবর্তী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নয়ন এসব কথা বলেন। তিনি নেতাকর্মীদের জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।    নয়ন বলেন, বিএনপি জনগণের কল্যাণে কাজ করে এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়। তাই শান্তি ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকতে হবে। পাশাপাশি দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।    রবিউল ইসলাম নয়ন বর্তমানে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিবের পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৬ সালের জুনে অনুমোদিত ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটিতে তিনি এই পদ পান।    মাগুরা-২ আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে নয়নের বক্তব্য আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় বিএনপিতে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে দূরত্বের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আগস্টে এ বিরোধ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নয়ন জানিয়েছিলেন, সমঝোতার জন্য নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে তিনি বসতে চান না।    তবে পরবর্তী সময়ে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের মধ্যে ঐক্যের উদ্যোগ দেখা যায়। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মাগুরা-২ আসনে বিএনপির দুই পক্ষের নেতাদের নিয়ে সমন্বয় ও সম্প্রীতি সভা হয়। ওই সভায় বিভাজন দূর করে দলীয়ভাবে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। নয়নও সেখানে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।    শালিখার সাম্প্রতিক সভায় নয়নের বক্তব্যেও দলীয় ঐক্য ও সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় থাকার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সভায় স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দলকে আরও সংগঠিত করার বিষয়ে কথা বলেন।    বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও স্থানীয় পর্যায়ের সমন্বয় নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় আলোচনা থাকলেও নয়নের সর্বশেষ বক্তব্যে দলীয় স্বার্থে ঐক্য ধরে রাখার আহ্বানই প্রাধান্য পেয়েছে। তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল, মতপার্থক্য থাকলেও বিএনপির সাংগঠনিক স্বার্থে নেতাকর্মীদের একসঙ্গে কাজ করা।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬ ১৪:০
এটিএম আজহারুল
‘আওয়ামী লীগের চেয়েও খারাপ পরিণতি হবে বিএনপির’: এটিএম আজহারুল

প্রশাসনে দলীয়করণ, চাঁদাবাজি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন বিএনপি বিগত আওয়ামী লীগের অনুসৃত পথে হাঁটছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম। তাঁর দাবি, এই ধারা অব্যাহত থাকলে বিএনপিকে আওয়ামী লীগের চেয়েও খারাপ রাজনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। এটি আজহারুল ইসলামের রাজনৈতিক বক্তব্য ও মূল্যায়ন; অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিএনপির প্রতিক্রিয়া সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।    শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।    সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন জামায়াতের এই নেতা। বিশেষ করে প্রশাসনে দলীয় প্রভাব বিস্তার এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তিনি বিএনপির বর্তমান কার্যক্রমের সঙ্গে আওয়ামী লীগের শাসনামলের তুলনা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ক্ষমতায় থাকার সময় আওয়ামী লীগ যে ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে জনগণের বিরোধিতার মুখে পড়েছিল, বিএনপিও একই ধরনের পথে এগোচ্ছে।    এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের মতামত উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সংবিধান সংস্কার নিয়েও সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং সংস্কার প্রক্রিয়াকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করছে।    জামায়াত নেতা আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষাকেও যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য ও জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করা উচিত। কোনো একক দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার শক্তিতে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।    এটি অবশ্য বিএনপির বিরুদ্ধে আজহারুল ইসলামের সাম্প্রতিক প্রথম এমন বক্তব্য নয়। গত ১৫ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ উপলক্ষে আরেক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে বিএনপি জনগণের সঙ্গে ‘প্রতারণা’ করছে। তাঁর দাবি ছিল, বিষয়টি নিয়ে জামায়াত সংসদেও প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং একাধিকবার ওয়াকআউট করেছে।    পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর বগুড়ায় আয়োজিত আরেক সংবাদ সম্মেলনেও বিএনপির বিরুদ্ধে একই ধরনের কঠোর বক্তব্য দেন আজহারুল ইসলাম। সেখানে তিনি দাবি করেন, গণভোটের রায় উপেক্ষা করে বিএনপি আওয়ামী লীগের পথ অনুসরণ করছে। জনগণের দাবি উপেক্ষা করা অব্যাহত থাকলে বিএনপির পরিণতি আওয়ামী লীগের মতো হতে পারে বলেও তখন মন্তব্য করেন তিনি।    শুক্রবার রংপুরের সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের দাবিগুলোও তুলে ধরেন আজহারুল ইসলাম। তাঁর দাবি, কর্মসূচিতে উত্থাপিত বিষয়গুলো কোনো একটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব দাবি নয়; বরং এগুলো জনস্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব দাবি বাস্তবায়নের জন্য নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষকে লংমার্চে অংশ নিয়ে কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানান তিনি।    লংমার্চকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বাধা দেওয়া হলে তা অতিক্রম করে রংপুরের দিকে লংমার্চ এগিয়ে নেওয়া হবে।    সংবাদ সম্মেলনে দেশের চলমান সার সংকট নিয়েও কথা বলেন এ টি এম আজহারুল ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে সংকটের সমাধান হচ্ছে না। একই সঙ্গে সরকারদলীয় ব্যক্তিদের মধ্যে সারের ডিলার নিয়োগ ভাগাভাগির চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে কী প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ কী বলেছে, প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে তার বিস্তারিত উল্লেখ নেই।    তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও জানান জামায়াতের নায়েবে আমির। উত্তরাঞ্চলের মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট এই প্রকল্পসহ ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।    লংমার্চের কর্মসূচিতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের পাশাপাশি জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মতো বিষয় রাখা হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।    সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল এবং রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এ টি এম আজম খানসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।   ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ রংপুর জিলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ও মামুনুল হকসহ জোটের কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।    আজহারুল ইসলামের বক্তব্য মূলত বিএনপি সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে জামায়াতের রাজনৈতিক সমালোচনা ও ১১ দলীয় জোটের চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এসেছে। তাঁর উত্থাপিত দলীয়করণ, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অভিযোগকে স্বাধীনভাবে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে নয়, জামায়াত নেতার অভিযোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন। অনুসন্ধানে পাওয়া আজকের সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোতে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির পাল্টা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০