‘আওয়ামী লীগের চেয়েও খারাপ পরিণতি হবে বিএনপির’: এটিএম আজহারুল
প্রশাসনে দলীয়করণ, চাঁদাবাজি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন বিএনপি বিগত আওয়ামী লীগের অনুসৃত পথে হাঁটছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম। তাঁর দাবি, এই ধারা অব্যাহত থাকলে বিএনপিকে আওয়ামী লীগের চেয়েও খারাপ রাজনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। এটি আজহারুল ইসলামের রাজনৈতিক বক্তব্য ও মূল্যায়ন; অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিএনপির প্রতিক্রিয়া সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলনটির আয়োজন করা হয়। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন জামায়াতের এই নেতা। বিশেষ করে প্রশাসনে দলীয় প্রভাব বিস্তার এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তিনি বিএনপির বর্তমান কার্যক্রমের সঙ্গে আওয়ামী লীগের শাসনামলের তুলনা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ক্ষমতায় থাকার সময় আওয়ামী লীগ যে ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে জনগণের বিরোধিতার মুখে পড়েছিল, বিএনপিও একই ধরনের পথে এগোচ্ছে।
এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের মতামত উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সংবিধান সংস্কার নিয়েও সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং সংস্কার প্রক্রিয়াকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করছে।
জামায়াত নেতা আরও অভিযোগ করেন, বিএনপি জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষাকেও যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য ও জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করা উচিত। কোনো একক দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার শক্তিতে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এটি অবশ্য বিএনপির বিরুদ্ধে আজহারুল ইসলামের সাম্প্রতিক প্রথম এমন বক্তব্য নয়। গত ১৫ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ উপলক্ষে আরেক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেছিলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে বিএনপি জনগণের সঙ্গে ‘প্রতারণা’ করছে। তাঁর দাবি ছিল, বিষয়টি নিয়ে জামায়াত সংসদেও প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং একাধিকবার ওয়াকআউট করেছে।
পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর বগুড়ায় আয়োজিত আরেক সংবাদ সম্মেলনেও বিএনপির বিরুদ্ধে একই ধরনের কঠোর বক্তব্য দেন আজহারুল ইসলাম। সেখানে তিনি দাবি করেন, গণভোটের রায় উপেক্ষা করে বিএনপি আওয়ামী লীগের পথ অনুসরণ করছে। জনগণের দাবি উপেক্ষা করা অব্যাহত থাকলে বিএনপির পরিণতি আওয়ামী লীগের মতো হতে পারে বলেও তখন মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার রংপুরের সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের দাবিগুলোও তুলে ধরেন আজহারুল ইসলাম। তাঁর দাবি, কর্মসূচিতে উত্থাপিত বিষয়গুলো কোনো একটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব দাবি নয়; বরং এগুলো জনস্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব দাবি বাস্তবায়নের জন্য নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষকে লংমার্চে অংশ নিয়ে কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানান তিনি।
লংমার্চকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি বলেন, কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বাধা দেওয়া হলে তা অতিক্রম করে রংপুরের দিকে লংমার্চ এগিয়ে নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের চলমান সার সংকট নিয়েও কথা বলেন এ টি এম আজহারুল ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে সংকটের সমাধান হচ্ছে না। একই সঙ্গে সরকারদলীয় ব্যক্তিদের মধ্যে সারের ডিলার নিয়োগ ভাগাভাগির চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে কী প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ কী বলেছে, প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে তার বিস্তারিত উল্লেখ নেই।
তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিও জানান জামায়াতের নায়েবে আমির। উত্তরাঞ্চলের মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট এই প্রকল্পসহ ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
লংমার্চের কর্মসূচিতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের পাশাপাশি জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মতো বিষয় রাখা হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আব্দুল হালিম, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল এবং রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এ টি এম আজম খানসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, শনিবার ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ রংপুর জিলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ও মামুনুল হকসহ জোটের কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
আজহারুল ইসলামের বক্তব্য মূলত বিএনপি সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে জামায়াতের রাজনৈতিক সমালোচনা ও ১১ দলীয় জোটের চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এসেছে। তাঁর উত্থাপিত দলীয়করণ, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অভিযোগকে স্বাধীনভাবে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে নয়, জামায়াত নেতার অভিযোগ হিসেবেই দেখা প্রয়োজন। অনুসন্ধানে পাওয়া আজকের সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোতে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির পাল্টা বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
বিষয়
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
রাজনীতি
View moreরাজধানীতে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত মালিবাগ, মহাখালী, আগারগাঁও ও যাত্রাবাড়ীতে পৃথক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। একই দিনে ঢাকার চারটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এমন ঘটনা ঘটলেও এগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না কিংবা কারা এর পেছনে রয়েছে—তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দিনের প্রথম বিস্ফোরণের খবর আসে মালিবাগ থেকে। জুমার নামাজের পর মালিবাগ রেলগেটসংলগ্ন প্রধান সড়কে সোহাগ পরিবহনের কাউন্টারের পাশে দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ফ্লাইওভারের ওপর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ককটেল দুটি নিচে ছুড়ে দেয়। এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। জড়িতদের শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করছে পুলিশ। মালিবাগের ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর সন্ধ্যায় মহাখালীতে পরপর দুটি বিস্ফোরণের খবর আসে। প্রায় একই সময়ে আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ বেতার ভবনসংলগ্ন সড়কেও একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। দুটি এলাকায় বিস্ফোরণের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করে। দিন গড়িয়ে রাত নামতেই বিস্ফোরণের খবর আসে যাত্রাবাড়ী থেকে। সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে যাত্রাবাড়ী থানার প্রধান ফটকের সামনে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে তৎপরতা শুরু করেন। যাত্রাবাড়ী থানার কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিস্ফোরণকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওপর থেকে ককটেল নিচে ছুড়ে দেওয়া হয়েছিল এবং পুলিশের দল ঘটনাস্থলে কাজ করছিল। একই দিনে রাজধানীর ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে এসব বিস্ফোরণ ঘটায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—ঘটনাগুলো কি বিচ্ছিন্ন, নাকি একই পরিকল্পনার অংশ? এখন পর্যন্ত পুলিশের প্রকাশিত বক্তব্যে এমন কোনো যোগসূত্র নিশ্চিত করা হয়নি। কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীও এসব ঘটনার দায় স্বীকার করেছে বলে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নেপথ্যে কারা ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। তবে রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা শুধু শুক্রবারেই সীমাবদ্ধ নয়। এর তিন দিন আগে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতেও একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে। জগন্নাথ হলের গেট এলাকায় দুটি এবং পরে টিএসসি এলাকায় আরেকটি ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। একই দিন সুপ্রিম কোর্ট এলাকাতেও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ফলে কয়েক দিনের ব্যবধানে রাজধানীর আদালত এলাকা, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং থানার সামনের মতো স্থানে বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে শুক্রবার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে বিস্ফোরণের খবর আসায় ঘটনাগুলোর উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য যোগসূত্র খুঁজে বের করাই এখন তদন্তকারীদের সামনে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। মালিবাগের ঘটনায় পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা করছে। মহাখালী, আগারগাঁও ও যাত্রাবাড়ীর ঘটনাতেও পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে বিস্ফোরণগুলোর সময়গত নৈকট্য থাকলেও তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক পক্ষকে দায়ী করেনি। তাই এসব ঘটনাকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ঘটনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে উপস্থাপন করার মতো যাচাইকৃত তথ্যও এখনো নেই। রাজধানীর চার এলাকায় একই দিনে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণগুলো তাই আপাতত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে—কারা ককটেলগুলো ছুড়েছে, তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় ছিল কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে পুলিশের তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের ওপর।
জামায়াতের আন্দোলনেই আওয়ামী লীগের ফেরার পথ তৈরি হচ্ছে: রাশেদ খাঁন
‘আওয়ামী লীগের চেয়েও খারাপ পরিণতি হবে বিএনপির’: এটিএম আজহারুল
যে কোনো নাগরিক যে কোনো সময় দেশ ছাড়তে ও ফিরতে পারেন: রুমিন ফারহানা
আসন্ন ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ঢাকা উত্তরে দলটির প্রার্থী হয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। আর ঢাকা দক্ষিণে প্রার্থী করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েমকে। সোমবার বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ ঘোষণা দেন। ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত সীরাতুন্নবী (সা.) কনফারেন্সে যোগ দিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার ঢাকার দুই সিটির প্রার্থীদের নাম জানান। দলীয় ঘোষণায় উত্তর সিটিতে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণ সিটিতে আবু সাদিক কায়েমের নাম উঠে আসে। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো জোটবদ্ধভাবে অংশ নিলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তারা পৃথকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। সেই নীতির অংশ হিসেবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও জামায়াতে ইসলামী নিজস্ব প্রার্থী নিয়ে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আমির। তিনি এর আগে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে তাকে বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় দেখা গেছে। অন্যদিকে আবু সাদিক কায়েম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি। তরুণ নেতৃত্বের প্রতিনিধি হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তার পরিচিতি বেড়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাকে প্রার্থী করার বিষয়টি নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছিল। এর আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছিলেন, স্থানীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো জোটের পরিবর্তে নিজ নিজ প্রার্থী নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ফলে ঢাকার দুই সিটিতে জামায়াতের এই প্রার্থী ঘোষণা স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে দলগুলোর পৃথক নির্বাচনী প্রস্তুতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। অনুষ্ঠানে ডাকসু সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ভাঙচুরের প্রসঙ্গও তোলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি এ ঘটনাকে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক জ্ঞানসম্পর্কিত প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করে মন্তব্য করেন।
‘আমরা ছাত্র হওয়ার জন্য সংসদে আসিনি’, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জামায়াত আমির
বিএনপির বাইরে মির্জা ফখরুলের পক্ষে পড়েছে ১১ ভোট
হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে মিশিগানে মুনার দাওয়াহ কনফারেন্স
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীর বিক্রমকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের পর রোববার রাজধানীতে এ ঘোষণা দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। জোটের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছাড়াও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায়সহ চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ১১ দলের নেতারা সর্বসম্মতিক্রমে অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মন্ত্রী হিসেবে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ও রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ তথ্যেও অলি আহমদকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দলটির নিবন্ধন নম্বর ০০১ এবং নির্বাচনী প্রতীক ‘ছাতা’। প্রার্থী ঘোষণার পর অলি আহমদ বলেন, ১১ দলের নেতারা তাকে একজন মুক্তিযোদ্ধা ও পরীক্ষিত রাজনীতিবিদ হিসেবে বিবেচনা করে এই দায়িত্ব দিয়েছেন। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, দেশের মানুষের সঙ্গে তারা কখনো বেইমানি করবেন না। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে জোটের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। সংস্কার পরিষদের শপথ ও অধিবেশনও হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট এর আগেও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করেছে। গত এপ্রিলে জোট ঢাকাসহ বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে মিছিল-সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে। সে সময়ও জোটের বৈঠকে শফিকুর রহমান, নাহিদ ইসলাম ও অলি আহমদসহ শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, জোটের প্রত্যাশা ছিল জুলাই সনদ অনুযায়ী সংস্কার করা সংবিধানের অধীনে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। বর্তমান প্রক্রিয়ায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। এর মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মাঠে নিজেদের প্রার্থী দিয়ে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিল ১১ দলীয় জোট। অলি আহমদ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয়। তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন, একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন এবং বিভিন্ন সময় মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তার নেতৃত্বাধীন এলডিপি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় রাজনৈতিক জোটের অংশ। ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এই জোটের হয়ে অংশ নিয়েছিল এলডিপি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলি আহমদকে প্রার্থী করার মধ্য দিয়ে জুলাই সনদ নিয়ে সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের পাশাপাশি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ নিয়েও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।
মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী, ঘোষণা বুধবার
তারেক রহমান–মোদি একসঙ্গে বসলে বাংলাদেশ-ভারতের অনেক সমস্যার সমাধান হবে: দীনেশ ত্রিবেদী