- প্রচ্ছদ
- Topic
বাংলাদেশের
যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অনুমতিপত্র নবায়নের নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসীদের জন্য শুধু নবায়নের আবেদন জমা দেওয়ার ভিত্তিতে আগের মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজের অনুমতিপত্রের মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা আর থাকছে না। আবেদন নিষ্পত্তিতে দেরি হলে কারও কারও কাজের অনুমতিতে সাময়িক বিরতি তৈরি হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর এই পরিবর্তন কার্যকর করে। ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত চূড়ান্ত বিধিতেও পরিবর্তনটি বহাল রাখা হয়েছে। এই নিয়মের প্রভাব পড়তে পারে এমন অভিবাসীদের ওপর, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার জন্য নির্দিষ্ট মেয়াদের কর্ম-অনুমতিপত্র বা এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন ডকুমেন্ট—ইএডি ব্যবহার করেন। আগে যোগ্য আবেদনকারীরা সময়মতো নবায়নের আবেদন করলে শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ৫৪০ দিন পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা পেতে পারতেন। নতুন বিধি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর বা তার পরে জমা দেওয়া সংশ্লিষ্ট নবায়ন আবেদনের ক্ষেত্রে শুধু আবেদন জমা দেওয়ার কারণে এই সুবিধা আর পাওয়া যাবে না। নিয়মটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাঁদের জন্য, যাঁদের বর্তমান কাজের অনুমতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি, অথচ নবায়নের সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। কোনো কর্মীর ইএডির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে এবং তাঁর ক্ষেত্রে অন্য কোনো বৈধ ব্যতিক্রম প্রযোজ্য না হলে, নতুন অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত তাঁকে কাজ বন্ধ রাখতে হতে পারে। তবে সবার পরিস্থিতি এক নয়। কারও কাজের অনুমতি তাঁর অভিবাসন-অবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, আবার কারও আলাদা ইএডি প্রয়োজন হয়। তাই এই পরিবর্তন প্রত্যেক অভিবাসী বা প্রত্যেক ভিসাধারীর ওপর একইভাবে প্রযোজ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্যও খবরটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যাঁরা ইএডির মাধ্যমে কাজের অনুমতি পেয়েছেন, তাঁদের বর্তমান কার্ডের মেয়াদ, নবায়নের আবেদনের তারিখ এবং আবেদন কোন শ্রেণির অধীনে করা হয়েছে, তা যাচাই করা দরকার। বিশেষ করে যাঁরা রেস্তোরাঁ, হোটেল, দোকান, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে অনুমতির ধারাবাহিকতা চাকরি ও নিয়মিত আয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হতে পারে। তবে পেশা বা নাগরিকত্বের কারণে নয়, মূলত ব্যক্তির অনুমতিপত্রের শ্রেণি ও প্রযোজ্য বিধানের ভিত্তিতেই নিয়মটি নির্ধারিত হবে। কাজের অনুমতিতে বিরতি তৈরি হলে তার প্রভাব কর্মীর বাইরেও পড়তে পারে। অনেক পরিবার মাসিক বেতন দিয়ে বাড়িভাড়া, গাড়ির কিস্তি, স্বাস্থ্যবিমা, সন্তানের শিক্ষা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বহন করে। কাজ বন্ধ রাখতে হলে সঞ্চয় কমে যাওয়া বা জরুরি ব্যয় মেটাতে সমস্যার আশঙ্কা থাকে। তবে এটি সম্ভাব্য প্রভাব; প্রত্যেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি ঘটবেই, এমন নয়। আবেদন দ্রুত অনুমোদিত হলে বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে অন্য কোনো বৈধ অনুমতি কার্যকর থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো নতুন মেয়াদের কাজের অনুমতি দেওয়ার আগে আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই ও নিরাপত্তা পরীক্ষা সম্পন্ন করার সুযোগ নিশ্চিত করা। বিভাগটির মতে, নবায়নের সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগে যোগ্যতা পুনরায় যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হলে কর্মী ও নিয়োগকর্তাদের জন্য কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হতে পারে।
বাংলাদেশের পর্যটন ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, যিনি ডাল্টন জহির নামে পরিচিত, আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসব কমিটির (সিআইএফএফটি) এশিয়া অঞ্চলের দূত হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা থেকে ২০২৬ সালের ৬ অক্টোবর এ নিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়। সংস্থাটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশনা অনুযায়ী, পর্যটন, আতিথেয়তা ও গণমাধ্যমে ২৫ বছরের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ডাল্টন জহির এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পর্যটন সংস্থা, চলচ্চিত্র নির্মাতা, সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সহযোগিতা সম্প্রসারণে কাজ করবেন। এই নিয়োগের মাধ্যমে এশিয়ার পর্যটনকেন্দ্র ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে চলচ্চিত্র, ভিডিও এবং অন্যান্য দৃশ্যভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে তুলে ধরার উদ্যোগে নতুন দায়িত্ব পেলেন তিনি। একই সঙ্গে এশিয়ার পর্যটন খাতের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীদের আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসব এবং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে উৎসাহিত করাও তাঁর কাজের অংশ হবে। সিআইএফএফটির পরিচালক আলেকজান্ডার ভি. কামেল জানিয়েছেন, ডাল্টন জহিরের নিয়োগ এশিয়ায় সংস্থাটির কার্যক্রম বিস্তৃত করা এবং মানসম্মত পর্যটন চলচ্চিত্র নির্মাণ ও প্রচারের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ। ডাল্টন জহিরের নতুন দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পর্যটন বোর্ড, সরকারি প্রতিষ্ঠান, চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা, সৃজনশীল প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতায় এশিয়ার নির্মাতা ও পর্যটন প্রচারক প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়াতে কাজ করবেন তিনি। ভিয়েনায় অবস্থিত সিআইএফএফটির প্রধান কার্যালয় এবং এশিয়ার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগের সেতু হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন। ডাল্টন জহিরের পেশাগত অভিজ্ঞতা পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের পাশাপাশি গণমাধ্যম এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমেও বিস্তৃত। তিনি ব্র্যাক সার্ভিসেস লিমিটেডের হোটেল গোষ্ঠীতে বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ, ওশান প্যারাডাইস, লেকশোর হোটেল এবং রোজ ভিউ হোটেলের মতো প্রতিষ্ঠানে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। পর্যটন ও গণমাধ্যমভিত্তিক উদ্যোগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। ট্রাভেলারকি, ইউরোপকি, ট্রাভেলারটাইমস ও ওয়েলকাম বাংলাদেশ নামের উদ্যোগগুলোর প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে তিনি রয়েছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়নকারীদের সংগঠনের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত সিআইএফএফটি আন্তর্জাতিক পর্যটন ও বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলোর মধ্যে যোগাযোগ এবং সহযোগিতা গড়ে তোলার জন্য কাজ করে। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা, যা বর্তমানে ‘ইউএন ট্যুরিজম’ নামে পরিচিত, তার সহযোগী সদস্য হিসেবে সংস্থাটি আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্রের প্রচার ও স্বীকৃতি নিয়ে কাজ করছে। এর কার্যক্রমের সঙ্গে বিশ্ব পর্যটন চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্র উৎসবের নেটওয়ার্ক যুক্ত রয়েছে। বর্তমানে পর্যটন প্রচারে চলচ্চিত্র ও ডিজিটাল ভিডিও গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। একটি দেশের সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, বনাঞ্চল, ঐতিহাসিক স্থাপনা, খাবার ও স্থানীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে আকর্ষণীয় দৃশ্যভিত্তিক উপস্থাপনা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে দেশটিকে পরিচিত করতে পারে। বাংলাদেশের কক্সবাজার, সুন্দরবন, পার্বত্য অঞ্চল, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও এ ধরনের প্রচারপদ্ধতি প্রাসঙ্গিক। তবে ডাল্টন জহিরের এই নিয়োগের ফলে বাংলাদেশে কতসংখ্যক বিদেশি পর্যটক বাড়বে, কী পরিমাণ বিনিয়োগ আসবে কিংবা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে—এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান বা নিশ্চিত ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর নতুন দায়িত্বের বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে ভবিষ্যতের কর্মসূচি, আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব এবং পর্যটন প্রচারে অর্জিত ফলাফলের ওপর। আন্তর্জাতিক পর্যটন চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত এশীয় প্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর এই উদ্যোগে বাংলাদেশের একজন পর্যটন পেশাজীবী গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক দায়িত্ব পেয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে তুলে ধরতে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ইয়েমেনের হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আহত বাংলাদেশিরা সৌদি চিকিৎসক ও নার্সদের সেবায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁদের কয়েকজনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তবে কয়েকজন এখনো নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন এবং অন্তত একজনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত আরব নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। হামলার সময় বিমানবন্দরে ছিলেন ৩৮ বছর বয়সী বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রী আবুল মনসুর রিয়াজ। তিনি বোর্ডিং পাস সংগ্রহের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বিস্ফোরণের পর তাঁর মনে হয়েছিল, হয়তো আর বেঁচে ফিরতে পারবেন না। সেই মুহূর্তে তাঁর চোখের সামনে ভেসে উঠেছিল দেশে থাকা তিন বছর বয়সী মেয়ে, স্ত্রী ও বৃদ্ধ মায়ের মুখ। পরে আরব নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ওই কয়েকটি মুহূর্তে তাঁর মনে হয়েছিল, প্রিয়জনদের স্মরণ করার এটাই হয়তো শেষ সুযোগ। রিয়াদের একটি হাসপাতালে রিয়াজের পা, কোমর ও মাথায় আঘাতের চিকিৎসা চলছে। তাঁকে একাধিক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তিনি জানান, সৌদি চিকিৎসক ও নার্সরা অত্যন্ত আন্তরিকভাবে তাঁর সেবা করছেন। হাসপাতালে কর্মরত বাংলাদেশিরাও তাঁকে পরিবারের সদস্যের মতো সহযোগিতা করছেন। সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দেলওয়ার হোসেন বুধবার তাঁকে দেখতে গিয়ে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন। আহত আরেক বাংলাদেশি কুমিল্লার দাউদ বিন মুহিব। তিনি রিয়াদের কিং ফাহাদ হাসপাতালে শরীরে ধাতব টুকরোর আঘাত ও পোড়া ক্ষতের চিকিৎসা নিচ্ছেন। আরব নিউজকে তিনি জানিয়েছেন, হামলার স্মৃতি এখনো তাঁকে কষ্ট দেয়। তবে চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তিনি চিকিৎসক ও সেবাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী এবং ১৩ জন ওমরাহ পালন করতে যাওয়া যাত্রী। তাঁদের রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ দূতাবাস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। এই হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তাঁরা হলেন বগুড়ার শাহেদ আহমেদ ও কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের নাসরুল্লাহ বাদরপুরী। শাহেদ সৌদি আরবে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফেরার পথে রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার শিকার হন তিনি। অন্যদিকে নাসরুল্লাহ ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে গিয়েছিলেন এবং রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সৌদি আরবের সহযোগিতা চেয়েছেন। ১৪ অক্টোবর ঢাকায় সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে তিনি আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান এবং সংঘাত কমাতে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন। হামলার পর বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রী আটকা পড়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ওমরাহযাত্রী, প্রবাসী কর্মী এবং বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা ছিলেন। বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে কিছু যাত্রীর জন্য হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়, অন্যদের বিকল্প পথে গন্তব্যে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিদেশে নির্মাণশ্রমিকের চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাংলাদেশিদের রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার পর দেশটির সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষায়িত প্রতিক্রিয়া বাহিনীর (এসআরবি) প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে, এভাবে রাশিয়ায় নেওয়া ৩০ বাংলাদেশির মধ্যে অন্তত ২০ জন ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে প্রাণ হারিয়েছেন। ঢাকা ট্রিবিউনের ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসআরবি-১০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ঢাকার কারওয়ান বাজারে সংবাদ সম্মেলনে তদন্তের প্রাথমিক তথ্য তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশিরা ২১ দিনের সামরিক প্রশিক্ষণের পর যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসআরবির তথ্য অনুসারে, গত ৭ মে জাবালে নূর, আরএস ইন্টারন্যাশনাল ও টিএস গ্রুপ নামের তিনটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ওই বাংলাদেশিরা রাশিয়ায় যান। নির্মাণকাজের চাকরির আশ্বাসে প্রত্যেকের কাছ থেকে গড়ে ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুত চাকরি না দিয়ে তাঁদের সামরিক বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে তদন্তকারীদের দাবি। এরপর তাঁদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দিনেই ড্রোন হামলায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়; পরে আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এসআরবি জানিয়েছে, বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন আহত অবস্থায় বাংলাদেশে ফিরেছেন।তাঁদের একজন রাজন ড্রোন হামলায় কোমরে গুরুতর আঘাত পেয়ে শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও দুজন মস্কোর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং ছয়জন এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন বলে বাহিনীটি জানিয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা মিজানুর রহমান ও আবু তাহের ওরফে লেন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া বাকি। বিদেশে চাকরির নামে বিপুল অর্থ নেওয়া, চুক্তির বাইরে কাজে নিয়োগ এবং যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগ আন্তর্জাতিক শ্রম অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধের ক্ষেত্রে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিদেশে কাজের জন্য টাকা দেওয়ার আগে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের বৈধতা, কাজের চুক্তি, ভিসার ধরন এবং গন্তব্য দেশের শ্রম আইন যাচাই করা জরুরি।
বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান শনিবার দুপুরে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুক্রবার রাত প্রায় ১১টা ৪৪ মিনিটে বিশেষ কার্গো বিমানে ইউরেনিয়াম চালানটি পৌঁছায়। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে শনিবার সকাল প্রায় ৭টা ১৫ মিনিটে তিনটি লরিতে করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে পাবনার রূপপুরের উদ্দেশে চালানটি রওনা হয়। পরিবহনের সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলেন। রাশিয়া থেকে আসা বিশেষজ্ঞদের একটি দলও চালানের সঙ্গে ছিল। দুপুর প্রায় ১২টা ২৫ মিনিটে তিনটি ইউরেনিয়ামবাহী লরি রূপপুর প্রকল্প এলাকায় পৌঁছে। এটি রূপপুর প্রকল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য মোট সাতটি ইউরেনিয়াম চালান এবং প্রথম ইউনিটের জ্বালানি পুনঃসংযোজনের জন্য আরও দুটি চালান আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব চালান ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা। চালানটি এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসার কথা থাকলেও পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় এর আগমন পিছিয়ে যায়। পরে নতুন ব্যবস্থায় এটি বাংলাদেশে পৌঁছায়। রূপপুর প্রকল্পে রাশিয়ার সহায়তায় দুটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৩ সালে এবং এর আনুমানিক ব্যয় ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। এদিকে প্রকল্পে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে। প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্প্রতি রিঅ্যাক্টর সুরক্ষা ও নিরাপত্তাব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উচ্চচাপ ব্যবস্থার ১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র শান্তিপূর্ণভাবে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার এবং বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বাড়াতে একটি কৌশলগত সমঝোতা স্মারক (MoU) সই করেছে। ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে দুই দেশের মধ্যে এ সমঝোতা সই হয়। বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ এতে স্বাক্ষর করেন। নতুন এই সমঝোতার মূল লক্ষ্য হলো শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক প্রযুক্তির ব্যবহার, পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক সেফগার্ড ও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধে সহযোগিতা জোরদার করা। দুই দেশই বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও সুরক্ষা মান অনুসরণের বিষয়ে একমত হয়েছে। সমঝোতা অনুযায়ী, পারমাণবিক শক্তি দুই দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দিয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্ব এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তার সম্পর্কের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণের চেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসেবে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে দুটি ১২০০ মেগাওয়াটের ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে। পারমাণবিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও বাড়াতে চাইছে ঢাকা। নতুন সমঝোতায় পারমাণবিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর সেফগার্ড ব্যবস্থার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। দুই দেশই পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধসংক্রান্ত চুক্তি বা NPT-এর সদস্য এবং উভয়েরই IAEA safeguards agreement ও Additional Protocol কার্যকর রয়েছে বলে সমঝোতায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটিকে সরাসরি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বা পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহের চুক্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মূলত দুই দেশের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতার একটি কাঠামো তৈরির সমঝোতা। যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ম অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক ‘123 Agreement’ হলে সেটি পারমাণবিক উপকরণ, জ্বালানি, রিঅ্যাক্টর ও সরঞ্জাম স্থানান্তরের জন্য আইনি কাঠামো তৈরি করতে পারে; কিন্তু MoU নিজে সেই ধরনের স্থানান্তরের অনুমতি দেয় না। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এর আগে বৃহত্তর জ্বালানি সহযোগিতা নিয়েও সমঝোতা হয়েছিল। চলতি বছরের মে মাসে দুই দেশ দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা ও উৎস বহুমুখীকরণ নিয়ে একটি কৌশলগত জ্বালানি সহযোগিতা সমঝোতা সই করে। নতুন চুক্তিটি বিশেষভাবে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতাকে কেন্দ্র করে। নতুন এই সমঝোতা এমন সময়ে হলো, যখন বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা বাড়ছে এবং দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক শক্তির গুরুত্বও বাড়ছে। ফলে পারমাণবিক নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে রূপপুর প্রকল্পের বিদ্যমান প্রযুক্তি ও সরবরাহ কাঠামো এবং নতুন মার্কিন সহযোগিতার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। রূপপুর প্রকল্পে রুশ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। চলতি বছরের বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিতেও ভবিষ্যৎ পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর, ফুয়েল রড ও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংক্রান্ত একটি বিধান রাখা হয়েছে। নতুন সমঝোতাটি বাংলাদেশের পারমাণবিক কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার একটি নতুন ভিত্তি তৈরি করেছে। এর বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে ভবিষ্যতে দুই দেশ কী ধরনের প্রযুক্তিগত, নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ ও বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করে তার ওপর।
পোস্টের শুরুতেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার পঙ্ক্তি—“যেতে নাহি দিব! হায়, তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়”—উল্লেখ করে মির্জা ফখরুলকে বিদায় জানানোর অনুভূতি তুলে ধরেন তিনি। আমান লেখেন, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের স্মৃতিচারণের মতোই এই বিদায়ের মুহূর্তেও কান্না আসে। কারণ, এটি শুধু একটি নতুন দায়িত্বে যাওয়ার বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘদিনের অসংখ্য স্মৃতি, আনন্দ-বেদনা ও রাজনৈতিক পথচলার নানা অধ্যায়। মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও দলের নেতাকর্মীদের প্রতি তার আন্তরিকতার প্রশংসা করে তিনি লেখেন, “বিগত দুঃসহ দিনগুলোতে আপনার বিরতিহীন পথচলা আর কর্মীদের প্রতি নিখাঁদ দরদ যেমন আমাদের আন্দোলনে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে, তেমনি আপনি আমাদের মায়ার ডোরে বেঁধেছেন।” সভা-সমাবেশে মির্জা ফখরুলের গাম্ভীর্যময় কণ্ঠ ও বক্তব্যের ধরনও স্মরণ করেন আমান। তিনি লেখেন, “সভা-সমাবেশে আপনার সেই চিরচেনা গাম্ভীর্যময় কণ্ঠ আর দারুণ বাচনভঙ্গির বক্তব্য আর শুনতে পাবো না।” মির্জা ফখরুলের নতুন দায়িত্বের প্রসঙ্গ টেনে আমান আরও লেখেন, “আপনি ক্রমান্বয়ে বিএনপি মহাসচিব থেকে বাংলাদেশের মহাসচিব হয়ে গিয়েছেন স্যার।” রাষ্ট্রপতি পদ নিয়েও নিজের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অতীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি পদকে অনেকটা আনুষ্ঠানিক বা আলংকারিক পদ হিসেবে দেখা হলেও এবার দেশের মানুষ এই পদকে নতুন গুরুত্বে অনুধাবন করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। রাজনীতির মাঠে মির্জা ফখরুলকে হারানোর অনুভূতি তুলে ধরে আমান লেখেন, “রাজনীতির মাঠে আপনাকে অনেক বেশি মিস করবো স্যার।” পোস্টের শেষদিকে মির্জা ফখরুলের নতুন পথচলার জন্য দোয়া করেন এই ছাত্রদল নেতা। তিনি লেখেন, দলের হাইকমান্ড, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে মির্জা ফখরুল সফল হবেন—এমন প্রার্থনা করেন তিনি। সবশেষে আমান লেখেন, “আমরা মিস করবো কর্মীদের প্রতি একজন নিখাঁদ দরদীকে, আমরা মিস করবো বিএনপি মহাসচিব থেকে বাংলাদেশের মহাসচিব হয়ে যাওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে।” এরপর জিয়া পরিবারের প্রতি মির্জা ফখরুলের দীর্ঘদিনের আস্থা ও ভূমিকার কথা স্মরণ করে লেখেন, “আমরা মিস করবো সংগ্রাম-সংকটে জিয়া পরিবারের আস্থাভাজন এবং খালেদা জিয়ার লগের স্যারকে। অনেক বেশি মিস করবো স্যার…”
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং তাদের কারণে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য ২৫ দশমিক ২৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের নতুন মানবিক সহায়তা ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত এই সহায়তা খাদ্য, নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আশ্রয় ও সুরক্ষা সেবাকে আরও জোরদার করবে। সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে সই করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল এবং ইউএনএইচসিআর-এর ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জুলিয়েট মুরেকেইসোনি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং অস্ট্রেলিয়ার সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল উপস্থিত ছিলেন। নতুন অর্থায়নের আওতায় কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির এবং আশপাশের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি খাদ্য সহায়তা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ আশ্রয়, শিক্ষা এবং সুরক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে নারী, শিশু, প্রবীণ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রয়োজনের প্রতি। ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, এটি একটি বহু-বছর মেয়াদি অর্থায়ন, যার ফলে প্রতি বছর নতুন করে অর্থ বরাদ্দের অনিশ্চয়তা কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে মানবিক সেবাগুলো পরিচালনা করা সহজ হবে। সংস্থাটির মতে, দীর্ঘস্থায়ী শরণার্থী সংকটে টেকসই সহায়তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অর্থায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল বলেন, রোহিঙ্গা সংকট কেবল একটি মানবিক ইস্যু নয়, এটি একটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক দায়িত্বের বিষয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষকে আশ্রয় দিয়ে অসাধারণ মানবিক দায়িত্ব পালন করছে এবং এই দায়িত্ব পালনে অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। অস্ট্রেলিয়া সরকার জানায়, এই সহায়তা দেশটির ঘোষিত ৩৭০ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের তিন বছর মেয়াদি বৈশ্বিক মানবিক সহায়তা কর্মসূচির অংশ। এর মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন মানবিক সংকটের পাশাপাশি বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্যও অর্থ বরাদ্দ অব্যাহত থাকবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের পর কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বর্তমানে কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী শিবিরে প্রায় ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর থেকে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য দেশটি এখন পর্যন্ত ১ দশমিক ২৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের মানবিক ও উন্নয়ন সহায়তা প্রদান করেছে। নতুন অর্থায়নের মাধ্যমে সেই সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হলো। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার পরিমাণ কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়ার এই ঘোষণা রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় একটি ইতিবাচক বার্তা। তবে তারা মনে করেন, শুধু মানবিক সহায়তা নয়, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ সরকারও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে, যাতে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই রাজনৈতিক সমাধানে আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়া হয়।
বাংলাদেশের ই-পাসপোর্টের লেখা ও নকশায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে সরকার। নতুন সংস্করণে আবারও যুক্ত হচ্ছে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধ। একই সঙ্গে পাসপোর্টের জলছাপে স্থান পাচ্ছে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত আবু সাঈদ, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ও ওয়াসিম আকরামের প্রতীকী ছবি। এ বিষয়ে রোববার সরকারি আদেশ জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে বলা হয়েছে। আগে বাংলাদেশের পাসপোর্টে লেখা থাকত, ‘এই পাসপোর্ট বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ, ইসরায়েল ব্যতীত।’ ই-পাসপোর্ট চালুর পর ২০২১ সালে নতুন পাসপোর্ট থেকে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ অংশটি বাদ দেওয়া হয়। তখন সরকার জানিয়েছিল, আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতেই ভাষাগত পরিবর্তনটি করা হয়েছে। তবে ইসরায়েল ভ্রমণের ওপর বাংলাদেশের নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল। নতুন সিদ্ধান্তে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধটি পুনর্বহাল করা হচ্ছে। বাংলাদেশ এখনো ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না এবং দেশটির সঙ্গে ঢাকার কূটনৈতিক সম্পর্কও নেই। ফিলিস্তিনিদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকারের প্রতি বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে সমর্থন জানিয়ে আসছে। পাসপোর্টের জলছাপেও বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রতিফলন ঘটানো হচ্ছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রতীক হিসেবে রংপুরে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদ, উত্তরার আজমপুরে পানি হাতে মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ এবং জাতীয় পতাকার নকশার পোশাক পরা ওয়াসিম আকরামের ছবি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আবু সাঈদ ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রংপুরে পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন। আন্দোলনের মধ্যে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকার তাঁর ছবি দেশজুড়ে প্রতিবাদের অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠে। মুগ্ধ আন্দোলনকারীদের মধ্যে পানি বিতরণ করার সময় ঢাকার উত্তরায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। আর চট্টগ্রামে আন্দোলনের সময় নিহত হন শিক্ষার্থী ওয়াসিম আকরাম। নতুন জলছাপে তাঁদের তিনজনের প্রতীকী চিত্র একসঙ্গে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪’ নামে স্থান পাবে। পরিবর্তিত নকশায় জাতীয় ফুল শাপলা, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, দোয়েল, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, জাতীয় সংসদ ভবন, সুপ্রিম কোর্ট, লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, সুন্দরবন, টাঙ্গুয়ার হাওর, ইলিশ, পাট ও চা-বাগানের মতো জাতীয় ও ঐতিহাসিক নিদর্শনও রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া কান্তজিউ মন্দির, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, ষাটগম্বুজ মসজিদ এবং হলি রোজারি চার্চসহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনার ছবি থাকবে। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ‘সংগ্রাম’ চিত্রকর্মও নতুন জলছাপের নকশায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বর্তমানে যাঁদের বৈধ পাসপোর্ট রয়েছে, তাঁদের এখনই পাসপোর্ট পরিবর্তন করতে হবে না। বিদ্যমান পাসপোর্ট মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে। মেয়াদ শেষে নবায়ন কিংবা নতুন পাসপোর্টের আবেদন করলে পর্যায়ক্রমে পরিবর্তিত নকশার ই-পাসপোর্ট দেওয়া হবে।
মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) টহল দলের ওপর হামলার চেষ্টাকালে আত্মরক্ষার্থে বিজিবির ছোড়া গুলিতে এক ভারতীয় চোরাকারবারি আহত হয়েছেন। শনিবার (১৩ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে সীমান্ত এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। বিজিবির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ভারতীয় চোরাকারবারিদের দমনে বিজিবির পক্ষ থেকে প্রাণঘাতী অস্ত্র বা গুলি ব্যবহারের ঘটনা এটিই প্রথম। বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জেলার বড়লেখা সীমান্ত এলাকায় শনিবার রাতে বিজিবির একটি দল তাদের নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। টহল চলাকালে সন্দেহভাজন দুই ভারতীয় চোরাকারবারির গতিবিধি লক্ষ্য করে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করেন। এ সময় ওই চোরাকারবারিরা আত্মসমর্পণ না করে উল্টো ধারালো অস্ত্র নিয়ে টহল দলের ওপর আক্রমণের চেষ্টা চালায়। নিজেদের জীবন বাঁচাতে এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বিজিবি সদস্যরা তখন আত্মরক্ষার্থে গুলি চালাতে বাধ্য হন। বিজিবির ছোড়া গুলিতে ঘটনাস্থলেই এক চোরাকারবারি আহত হন। তবে গুলিবিদ্ধ অবস্থাতেই ওই ব্যক্তিসহ তার অপর সঙ্গী দ্রুত সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভূখণ্ডে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এই ঘটনার পর ওই সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার পর প্রয়োজনীয় গোয়েন্দা অনুসন্ধান ও অন্যান্য আইনানুগ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের চোরাচালান কঠোর হাতে দমন করতে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এর আগে বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে বিজিবি কখনো সরাসরি প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করেনি, ফলে আত্মরক্ষার্থে নেওয়া বিজিবির এই কঠোর পদক্ষেপটি সীমান্ত নিরাপত্তায় একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।