মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোন নৌযানের ঘাঁটি এবং একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কেন্দ্র ধ্বংসের দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তবে এই দাবির স্বাধীন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি এবং যুক্তরাষ্ট্র বা বাহরাইন কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। শনিবার (১৮ জুলাই) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অপারেশন নাসর-২’–এর ১৭তম ধাপে বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের মানববিহীন সারফেস ভেসেল (ইউএসভি) বা ড্রোন নৌযানের একটি ডিপোতে হামলা চালানো হয়েছে। একই অভিযানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে বাহরাইনের একটি প্রধান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কেন্দ্রও ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই এআই অবকাঠামো যুক্তরাষ্ট্র সামরিক লক্ষ্য নির্ধারণে ব্যবহার করত। আইআরজিসি দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের দক্ষিণাঞ্চল, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির আশপাশের সেতু ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে আরও সতর্ক করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মালিকানাধীন বা মার্কিন বিনিয়োগ রয়েছে—এমন শিল্প, প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তি–সম্পর্কিত স্থাপনাগুলোও ভবিষ্যতে লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা আরও তীব্র হয়েছে। ইরান বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি করেছে। তবে এসব দাবির অনেকগুলোরই স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, ইরানের সাম্প্রতিক কিছু দাবি "সত্য নয়"। তবে বাহরাইনের কথিত এআই কেন্দ্র বা ড্রোন ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের বড় একটি অংশ পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে সংঘাত বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের সামরিক দাবিকে স্বাধীনভাবে যাচাই না করে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। কারণ চলমান সংঘাতের মধ্যে তথ্যযুদ্ধও সমানভাবে তীব্র হয়ে উঠেছে এবং উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে নিয়মিত দাবি ও পাল্টা দাবি করছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের মানববিহীন সারফেস ভেসেল (ইউএসভি) বা ড্রোন নৌযানের একটি ঘাঁটি এবং একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সামরিক কেন্দ্র ধ্বংস হয়েছে। তবে এই দাবির স্বাধীন কোনো যাচাই এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি এবং যুক্তরাষ্ট্র বা বাহরাইন সরকারও তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। শনিবার (১৮ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের চলমান ‘অপারেশন নাসর-২’–এর ১৭তম ধাপে বাহরাইনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি ইউএসভি ডিপোতে হামলা চালানো হয়েছে। এতে স্থাপনাটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং সেখানে থাকা বিপুলসংখ্যক ড্রোন নৌযানে আগুন ধরে যায় বলে দাবি করা হয়। একই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় এমন একটি এআই কেন্দ্রও ধ্বংস করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র সামরিক লক্ষ্য নির্ধারণে ব্যবহার করত বলে আইআরজিসির দাবি। আইআরজিসি দাবি করেছে, আগের রাতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সেতু ও অন্যান্য বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটায় এর জবাব হিসেবেই এই প্রতিশোধমূলক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিবৃতিতে আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের পরিবহন অবকাঠামো ও সেতুগুলোতে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মালিকানাধীন বা মার্কিন বিনিয়োগ রয়েছে—এমন শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা–সম্পর্কিত স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। একই সঙ্গে আইআরজিসি দাবি করেছে, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে, তারা এসব সংঘাতের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে আইআরজিসির এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন), মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) কিংবা বাহরাইন সরকারের পক্ষ থেকেও এই নির্দিষ্ট হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চিত তথ্য বা প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও উল্লেখ করেছে যে, ইরানের দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হামলার অভিযোগ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে যেকোনো পক্ষের সামরিক দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করা জরুরি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে বাহরাইনকে লক্ষ্য করে কঠোর বার্তা দিয়েছে ইরান। তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কোনো ধরনের উসকানি বা চাপ সৃষ্টি করা হলে তার জবাব আরও শক্তি ও কঠোরতার সঙ্গে দেওয়া হবে। রোববার (২৮ জুন) ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রভাবশালী উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতি এই সতর্কবার্তা দেন। তিনি বাহরাইন প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন, নিজেদের সীমাবদ্ধতা মেনে চলা উচিত এবং এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়, যা পরিস্থিতিকে বিপজ্জনক দিকে ঠেলে দিতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, বাহরাইনের শাসকগোষ্ঠী যেন ইরানকে কোনো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য না করে। এর আগে, নিজের ভূখণ্ডে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে গত শুক্রবার ও শনিবার বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করে তেহরান। ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালাচ্ছে। তবে এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো। বাহরাইনের রাজধানী মানামা এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি তাদের সার্বভৌমত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সঙ্গে এমন পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলেও মন্তব্য করা হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-বাহরাইন সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাহরাইনে উল্লেখযোগ্য শিয়া মুসলিম জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি এবং তাদের সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়ে দেশটির সরকারের উদ্বেগ নতুন নয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের সঙ্গে গোপন সামরিক ও গোয়েন্দা যোগাযোগের অভিযোগে বাহরাইনে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলো দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, পারস্পরিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের এই ধারা অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য জরুরি নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দেশটিতে থাকা সকল মার্কিন নাগরিককে নিজ নিজ স্থানে অবস্থান করে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কড়া বার্তা দিয়ে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছেন। তিনি হরমুজ প্রণালী ঘিরে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার কথা উল্লেখ করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইরান শর্ত না মানলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তার এই বক্তব্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইরানের একটি পারমাণবিক স্থাপনা থেকে বিদেশি কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাহরাইনে মার্কিন নাগরিকদের ‘শেল্টার ইন প্লেস’ নির্দেশ এবং পারমাণবিক স্থাপনায় কর্মী সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা—দুটিই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে। তবে এখনো পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণা আসেনি। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সুরক্ষায় বাহরাইনের প্রস্তাবিত একটি খসড়া প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি করতে যাচ্ছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। শনিবার সকালে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য দেশ এই বৈঠকে বসবে বলে শুক্রবার আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা নিশ্চিত করেছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি কার্যত বন্ধ হয়ে রয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। রয়টার্সের দেখা খসড়া অনুযায়ী, বাণিজ্যিক জাহাজ রক্ষায় 'প্রয়োজনীয় সকল রক্ষণাত্মক ব্যবস্থা' গ্রহণের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে এই প্রস্তাবে। প্রাথমিকভাবে ছয় মাসের জন্য এই ব্যবস্থা কার্যকর রাখার কথা বলা হয়েছে, তবে স্থায়ী সদস্য চীন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে। চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এমন কোনো সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। চীন ছাড়াও রাশিয়া ও ফ্রান্সের আপত্তির মুখে প্রস্তাবের ভাষায় কিছুটা পরিবর্তন এনে চূড়ান্ত করা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদে কোনো প্রস্তাব পাস হতে অন্তত নয়টি ভোটের প্রয়োজন এবং স্থায়ী পাঁচ সদস্যের কারো ভেটো থাকা চলবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো এই প্রস্তাবের পক্ষে থাকলেও বেইজিং মনে করে, বলপ্রয়োগের বৈধতা দিলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। পুরো বিশ্ব এখন শনিবারের এই গুরুত্বপূর্ণ ভোটের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।
বাহরাইনে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুবিধার্থে দুটি বিশেষ রিটার্ন ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার (২৪ মার্চ) মানামার বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানায়। দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গালফ এয়ারের মাধ্যমে বাহরাইন থেকে বাংলাদেশে যাওয়া এবং বাংলাদেশ থেকে বাহরাইন ফেরার জন্য বিশেষ দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। প্রথম ফ্লাইটটি ২৭ মার্চ বাহরাইন থেকে দাম্মাম হয়ে ঢাকা পৌঁছাবে এবং একই দিনে ঢাকা থেকে দাম্মাম ফেরার ব্যবস্থা থাকবে। দ্বিতীয় ফ্লাইট ৩ এপ্রিল একই রুটে পরিচালিত হবে। ফ্লাইটের সুবিধা নিতে আগ্রহীরা গুগল ফর্মে নিবন্ধন করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। যাত্রী সংখ্যা পূর্ণ হলে পরবর্তী নির্দেশনা জানানো হবে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের দশম দিনে বাহরাইনের সিত্রা দ্বীপের মাহাজ্জা এলাকায় যে ভয়াবহ বিস্ফোরণে বহু বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছিলেন, তাতে মার্কিন বাহিনীর পরিচালিত একটি 'প্যাট্রিয়ট' ইন্টারসেপ্টর মিসাইল জড়িত থাকার উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স কর্তৃক পর্যালোচিত এবং একদল গবেষকের করা সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে। গত ৯ মার্চের ওই ভোরে হওয়া বিস্ফোরণে শিশুসহ অন্তত ৩২ জন আহত হন এবং অসংখ্য ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। শুরুতে বাহরাইন ও ওয়াশিংটন এই ঘটনার জন্য ইরানের ড্রোন হামলাকে দায়ী করলেও, এখন ঘটনার মোড় পরিবর্তন হচ্ছে। রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে বাহরাইন সরকার প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে যে, রাজধানী মানামার অদূরে অবস্থিত তেল শোধনাগার সংলগ্ন ওই এলাকায় প্যাট্রিয়ট মিসাইল সক্রিয় ছিল। তবে বাহরাইন সরকারের একজন মুখপাত্র দাবি করেছেন, প্যাট্রিয়ট মিসাইলটি সফলভাবে একটি ইরানি ড্রোন মাঝ আকাশে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছিল এবং এর মাধ্যমেই বড় ধরনের প্রাণহানি ঠেকানো গেছে। তার মতে, সরাসরি মিসাইল বা ড্রোন মাটিতে পড়ার কারণে ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত বাহরাইন বা যুক্তরাষ্ট্র—কোনো পক্ষই ওই ঘটনায় ইরানি ড্রোনের উপস্থিতির কোনো অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। গবেষকদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই বিস্ফোরণটি সম্ভবত মার্কিন পরিচালিত কোনো এয়ার ডিফেন্স ব্যাটারি থেকে ভুলবশত বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সৃষ্ট।
ইরান থেকে ছোড়া বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার দাবি করেছে বাহরাইন। দেশটির সামরিক বাহিনী জানায়, চলমান সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৪৩টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৪২টি ড্রোন ভূপাতিত ও ধ্বংস করা হয়েছে। শনিবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য প্রকাশ করে বাহরাইনের প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। এতে বলা হয়, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির সাধারণ জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে, রকেট বা ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এবং সন্দেহজনক বস্তু থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিরাপত্তার স্বার্থে সামরিক অভিযান বা হামলার স্থানের ভিডিও ধারণ না করার জন্য নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বাহরাইনের এই দাবি পরিস্থিতির গুরুত্ব ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রা তুলে ধরছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন জুফায়ার সামরিক ঘাঁটি-তে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বীপরাষ্ট্রটির বিভিন্ন স্থানে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা টেলিগ্রামের মাধ্যমে নাগরিকদের নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি সাইরেন বাজিয়ে সম্ভাব্য হামলার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তার ওপর উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। বাহরাইনের কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, তবে বিস্ফোরণের কারণ ও প্রভাব নিয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।