মার্কিন আদালত

স্টিভেন ফিলিপসের ক্ষতিপূরণের অর্থে সাবেক স্ত্রীর দাবি খারিজ করে দিয়েছে আদালত। ছবি: সংগৃহীত
২৪ বছর অন্যায় কারাভোগের পর পেলেন ৬ মিলিয়ন ডলার! ভাগ চেয়ে আদালতে সাবেক স্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ২৪ বছর অন্যায়ভাবে কারাভোগের পর ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ প্রমাণিত হওয়া স্টিভেন ফিলিপসকে দেওয়া প্রায় ৬ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণে সাবেক স্ত্রীর কোনো অধিকার নেই বলে রায় দিয়েছে টেক্সাসের আপিল আদালত। আদালত বলেছে, এই অর্থ হারানো আয়ের ক্ষতিপূরণ নয়; এটি ভুলভাবে কারাবন্দি থাকার কারণে ব্যক্তিগত ভোগান্তির জন্য আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ।    আদালতের নথি অনুযায়ী, স্টিভেন ফিলিপস ১৯৮০ সালে ট্রেসি টাকারকে বিয়ে করেন। ১৯৮২ সালে একাধিক যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার ও দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে তিনি প্রায় ২৪ বছর কারাগারে কাটান। ১৯৯২ সালে, ফিলিপস তখনও কারাবন্দি থাকা অবস্থায় তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। ২০০৮ সালে ডিএনএ পরীক্ষায় প্রকৃত অপরাধী শনাক্ত হওয়ার পর ফিলিপস নির্দোষ প্রমাণিত হন এবং মুক্তি পান। পরে টেক্সাসের টিম কোল অ্যাক্টের অধীনে তিনি ক্ষতিপূরণ পান, যার মোট মূল্য ছিল ৬ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি।    এরপর ট্রেসি টাকার আদালতে দাবি করেন, বিবাহিত জীবনের সময় ফিলিপস যে আয় করতে পারেননি, ক্ষতিপূরণের সেই অংশে তার অধিকার রয়েছে। একটি নিম্ন আদালত প্রথমে তাকে প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার ডলার দেওয়ার নির্দেশ দিলেও টেক্সাসের পঞ্চম আপিল আদালত সেই রায় বাতিল করে দেয়।    আপিল আদালত রায়ে উল্লেখ করে, টিম কোল অ্যাক্টে কোথাও নির্দোষ প্রমাণিত ব্যক্তির বর্তমান বা সাবেক স্বামী-স্ত্রীর জন্য ক্ষতিপূরণের কোনো বিধান রাখা হয়নি। আদালতের ভাষায়, আইনটি ভুলভাবে কারাবন্দি ব্যক্তির ব্যক্তিগত ক্ষতির স্বীকৃতি দেয়, হারানো বেতনের ক্ষতিপূরণ হিসেবে নয়। তাই এ অর্থ বৈবাহিক সম্পত্তি হিসেবে ভাগ করার সুযোগও নেই।    রায়ের মাধ্যমে নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত বাতিল করে ট্রেসি টাকারের সব দাবি খারিজ করা হয়। পরে এই সিদ্ধান্তই কার্যকর থাকে।  মামলাটির পর স্টিভেন ফিলিপস গণমাধ্যমকে নিজের অনুভূতি জানিয়ে বলেন, “যখন টেবিলে পনির রাখা হয়, তখন ইঁদুর বেরিয়ে আসে।” দীর্ঘ ২৪ বছরের অন্যায় কারাভোগের পর ক্ষতিপূরণ পাওয়ার লড়াই শেষ হলেও, সেই অর্থ রক্ষায় তাকে আবারও আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
মেইল-ইন ভোট সংক্রান্ত ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ২৩টি অঙ্গরাজ্যে আপাতত কার্যকর হচ্ছে না। ছবি: সংগৃহীত
২৩ অঙ্গরাজ্যে আটকে গেল ট্রাম্পের মেইল-ইন ভোট সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশ

যুক্তরাষ্ট্রে মেইল-ইন ভোটের নিয়ম কঠোর করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেওয়া উদ্যোগে ফের বাধা দিয়েছে ফেডারেল আদালত। বোস্টনভিত্তিক একটি ফেডারেল আপিল আদালত ২৩টি অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ কার্যকর করার অনুমতি দেয়নি। ফলে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এসব অঙ্গরাজ্যে আদেশটির বিতর্কিত বিধান কার্যকর করার ওপর নিম্ন আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে।   শনিবার ফার্স্ট ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলস ২-১ সিদ্ধান্তে ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। প্রশাসন চেয়েছিল, মামলার আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিম্ন আদালতের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখা হোক।   রয়টার্স জানিয়েছে, গত ২৫ জুন ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ ইন্দিরা তালওয়ানি ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অংশ অসাংবিধানিক বলে রায় দেন এবং সেগুলো কার্যকরের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে ট্রাম্প প্রশাসন।   বিচার বিভাগ আপিল আদালতে যুক্তি দেয়, নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট ফেডারেল সংস্থাগুলো এখনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেয়নি। সে কারণে আদেশটিকে চ্যালেঞ্জ করে করা মামলা সময়ের আগেই আনা হয়েছে। তবে আপিল আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারক সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি।   গত ৩১ মার্চ ট্রাম্প ‘এনশিওরিং সিটিজেনশিপ ভেরিফিকেশন অ্যান্ড ইন্টেগ্রিটি ইন ফেডারেল ইলেকশনস’ শীর্ষক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের ভোট দেওয়ার যোগ্য নিশ্চিত মার্কিন নাগরিকদের তালিকা তৈরিতে ফেডারেল তথ্য ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।   আদেশটিতে মেইল-ইন ব্যালট ব্যবস্থাপনায় ইউএস পোস্টাল সার্ভিসের ভূমিকা পরিবর্তনেরও নির্দেশনা ছিল। অঙ্গরাজ্যগুলোর দেওয়া তালিকার ভিত্তিতে মেইল-ইন ভোটারের যোগ্যতা যাচাইসহ ব্যালট পাঠানো ও নির্বাচনী ডাক ব্যবস্থাপনায় নতুন শর্ত আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হয়।   এ ছাড়া ভোট দেওয়ার যোগ্য নন এমন ব্যক্তিকে ব্যালট দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য বা স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচারের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে বিচার বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।   ক্যালিফোর্নিয়া, ম্যাসাচুসেটস, নেভাদা ও ওয়াশিংটনসহ ২৩টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া নির্বাহী আদেশটির বিভিন্ন অংশের বিরুদ্ধে আদালতে যায়। তাদের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা ও ভোটারদের যোগ্যতা নির্ধারণে অঙ্গরাজ্য ও কংগ্রেসের নির্দিষ্ট ক্ষমতা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সেই সাংবিধানিক কাঠামো অতিক্রম করতে পারেন না।   নিম্ন আদালতও এই যুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ গ্রহণ করে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলো অনুরোধ করলে বিদ্যমান ফেডারেল আইনের আওতায় ভোটারের নাগরিকত্ব বা যোগ্যতা যাচাইয়ে ফেডারেল সরকার সহায়তা করতে পারবে। তবে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের বিতর্কিত বিধান ব্যবহার করে অঙ্গরাজ্যগুলোর মেইল-ইন ভোট ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।   আপিল আদালতের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের ফলে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ২৩ অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের মেইল-ইন ভোট সংক্রান্ত পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ আপাতত কার্যকর হচ্ছে না।   তবে আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি। মূল আপিলের বিচার প্রক্রিয়া চলবে এবং ট্রাম্প প্রশাসন চাইলে পরবর্তী পর্যায়ে বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।   আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। ফলে নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মেইল-ইন ভোটের নিয়ম নিয়ে চলমান এই আইনি লড়াই জাতীয় রাজনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলারের অতিরিক্ত ফি পুনর্বহালের আবেদন খারিজ করেছে মার্কিন ফেডারেল আপিল আদালত। ছবি: সংগৃহীত
এইচ-১বি ভিসায় ১ লাখ ডলারের ফি আপাতত বহাল থাকছে না, ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ আপিল আদালতে

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আপিল আদালত উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের জন্য এইচ-১বি (H-1B) ভিসায় আরোপ করা ১ লাখ ডলারের অতিরিক্ত ফি পুনর্বহালের ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। ফলে নিম্ন আদালতের যে আদেশে এই ফি কার্যকর হওয়া স্থগিত করা হয়েছিল, সেটিই আপাতত বহাল থাকছে।   বোস্টনভিত্তিক ফার্স্ট ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলস গত ২৪ জুলাই দেওয়া এক আদেশে জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন আপিলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি দেখাতে পারেনি। তাই নিম্ন আদালতের রায় স্থগিত রাখার আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না।   এর আগে গত ৮ জুন ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক লিও সোরোকিন রায় দেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের ঘোষণার মাধ্যমে ১ লাখ ডলারের এই ফি আরোপ করা সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। আদালতের মতে, এটি কার্যত একটি কর, যা আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে।   তবে ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দেন, যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক বাণিজ্য ও অভিবাসনসংক্রান্ত প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতার আওতায় এই ফি আরোপ করা হয়েছে। তাদের দাবি ছিল, এইচ-১বি কর্মসূচির অপব্যবহার ঠেকানো এবং মার্কিন কর্মীদের কর্মসংস্থান রক্ষার স্বার্থে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আপিল আদালত বলেছে, এ পর্যায়ে প্রশাসন সেই যুক্তির পক্ষে যথেষ্ট আইনি ভিত্তি উপস্থাপন করতে পারেনি।   এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষায়িত জ্ঞান ও অন্তত স্নাতক ডিগ্রিধারী বিদেশি পেশাজীবীদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিয়োগ দিতে পারে। প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রকৌশল, গবেষণা এবং উচ্চশিক্ষা খাতে এই ভিসার ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। প্রতি বছর এ কর্মসূচির আওতায় ৬৫ হাজার সাধারণ ভিসা এবং উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার ভিসা দেওয়া হয়।   ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এক ঘোষণার মাধ্যমে নতুন এইচ-১বি আবেদনকারীদের জন্য এককালীন ১ লাখ ডলারের ফি নির্ধারণ করে। এর আগে আবেদনকারীর ধরন ও অন্যান্য বিষয়ের ওপর নির্ভর করে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি ফি পরিশোধ করত। নতুন নীতিতে সেই ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যায়।   প্রশাসনের দাবি ছিল, কিছু প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক কম বেতনে বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে মার্কিন কর্মীদের প্রতিস্থাপন করছে। এ ধরনের অপব্যবহার ঠেকানো এবং দেশীয় শ্রমবাজার সুরক্ষার লক্ষ্যেই উচ্চ ফি আরোপ করা হয়। তবে সমালোচকদের মতে, এত বড় অঙ্কের ফি প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও গবেষণাসহ বিভিন্ন খাতে দক্ষ কর্মী নিয়োগকে কঠিন করে তুলবে।   এই নীতির বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়াসহ ২০টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল মামলা করেন। তাদের অভিযোগ, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এত বড় অঙ্কের অর্থ আদায়ের ক্ষমতা প্রশাসনের নেই। পাশাপাশি তারা দাবি করেন, নতুন ফি চালুর ক্ষেত্রে প্রশাসনিক আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক বিধি প্রণয়নের প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হয়নি।   সর্বশেষ আপিল আদালতের আদেশের ফলে ১ লাখ ডলারের এই ফি আপাতত কার্যকর করা যাবে না। তবে মামলার মূল আপিলের শুনানি এখনো বাকি রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে উচ্চতর আদালতের রায়ের ওপর এই নীতির চূড়ান্ত পরিণতি নির্ভর করবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৫, ২০২৬ ১৪:০
৫ বছরের মেয়েকে তুরস্কে থাকা মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আইনি নির্দেশের মুখে পাদ্রি সাঈদ আবেদিনি। ছবি: সংগৃহীত
তুরস্কে থাকা মায়ের কাছেই ফিরবে ৫ বছরের শিশু, আদালতে হেরে গেলেন সাঈদ আবেদিনি

একসময় ইরানে খ্রিস্টান ধর্মবিশ্বাসের কারণে কারাবন্দি হয়ে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসা মার্কিন-ইরানি পাদ্রি সাঈদ আবেদিনিকে তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়েকে তুরস্কে থাকা মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। আন্তর্জাতিক শিশু হেফাজত বিরোধে দেওয়া এই আদেশে আদালত বলেছে, শিশুটিকে মায়ের অনুমতি ছাড়া তুরস্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা হয়েছিল।    ভার্জিনিয়ার ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের সিনিয়র ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ নরম্যান মুন গত সপ্তাহে এ আদেশ দেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, শিশুটির মা নিলুফার আরাগ, যিনি তুরস্কে বসবাসরত একজন ইরানি খ্রিস্টান শরণার্থী, অভিযোগ করেন যে ২০২৪ সালে তার অনুমতি ছাড়া মেয়েকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যান আবেদিনি। আদালত শুনানি শেষে অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে শিশুটিকে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।    আদালত আরও উল্লেখ করেন, অতীতে আদালতের নির্দেশ অমান্যের ইতিহাস এবং ভবিষ্যতেও হেফাজতের আদেশ না মানার ইঙ্গিত থাকায় শিশুটিকে দ্রুত মায়ের কাছে হস্তান্তর করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।    মামলার তথ্য অনুযায়ী, সাঈদ আবেদিনি ও নিলুফার আরাগ তুরস্কে পরিচিত হন এবং কয়েক বছর একসঙ্গে বসবাস করেন। আবেদিনি দাবি করেন, তারা ধর্মীয় রীতিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও আইনগতভাবে তাদের বিয়ে নিবন্ধিত ছিল না।    এর আগে চলতি বছরের জুনে নিলুফার আরাগ যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে অভিযোগ দায়ের করে বলেন, তার মেয়েকে অবৈধভাবে তুরস্ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সে সময় আদালত আবেদিনিকে শিশুটিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নেওয়া, অবস্থান গোপন করা এবং পাসপোর্ট ব্যবহার করার ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন।    সাঈদ আবেদিনি ২০১২ সালে ইরানে গৃহভিত্তিক খ্রিস্টান উপাসনালয়ে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন এবং কয়েক বছর কারাভোগের পর ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বন্দি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে মুক্তি পান। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসেন।    আদালতের সর্বশেষ আদেশের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্তর্জাতিক শিশু হেফাজত বিরোধে নতুন মোড় এলো। তবে মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এবং আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

তাবাস্সুম জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত এক ইরানি দম্পতি | ছবি: প্রতীকী ছবি
ইরানি আশ্রয়প্রার্থীদের গোপন তথ্য তেহরানকে দেওয়ার অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা

ইরানি আশ্রয়প্রার্থীদের গোপন তথ্য ইরান সরকারের কাছে সরবরাহ করে তাদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলার অভিযোগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে একটি ফেডারেল আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় দাবি করা হয়েছে, বহিষ্কারের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আশ্রয়প্রার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য তেহরানের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হয়েছে, যা তাদের দেশে ফিরে গেলে নিপীড়ন, নির্যাতন এমনকি প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।   মামলায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় চেয়েছিলেন এই আশঙ্কায় যে, ইরানে ফিরে গেলে তারা রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা অন্যান্য কারণে রাষ্ট্রের নিপীড়নের শিকার হতে পারেন। তাদের পরিচয় ও আশ্রয়-সংক্রান্ত তথ্য ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে গেলে সেই ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   বাদীপক্ষ আদালতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, এ ধরনের তথ্য আদান-প্রদান অবিলম্বে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হোক এবং বিষয়টি স্বাধীনভাবে তদন্তের ব্যবস্থা করা হোক। তাদের দাবি, আশ্রয়প্রার্থীদের গোপনীয়তা রক্ষা করা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন ও আন্তর্জাতিক সুরক্ষা নীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা অভিবাসন-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম মার্কিন আইন অনুযায়ী পরিচালনা করে এবং আশ্রয়প্রার্থীদের তথ্য সুরক্ষায় বিদ্যমান আইনি বিধান অনুসরণ করে।   মার্কিন আইন অনুযায়ী, আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন ও পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্য সাধারণত কঠোরভাবে গোপন রাখা হয়, যাতে তাদের বা তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছে, এ ধরনের তথ্য নিজ দেশের সরকারের হাতে পৌঁছালে আশ্রয়প্রার্থীরা গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।   এ মামলায় এখনো আদালতের কোনো রায় হয়নি। ফলে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলো বিচারিকভাবে প্রমাণিত নয়। বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিবেচনাধীন রয়েছে।

তাবাস্সুম জুলাই ৭, ২০২৬ ১৪:০
আইনজীবী আমজাদ ইব্রাহিম | ছবি: সংগৃহীত
ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ায় আমেরিকার জর্জিয়ায় এক আইনজীবীর ১ বছরের জেল

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় চার বছর ধরে প্রায় ১৫ লাখ ডলারের ফেডারেল আয়কর ফাঁকি দেওয়ার অপরাধে আমজাদ ইব্রাহিম নামের এক লাইসেন্সধারী আইনজীবীকে এক বছরেরও বেশি সময় কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। মামলার রায় ঘোষণা করতে গিয়ে মার্কিন অ্যাটর্নি থিওডোর এস হার্টজবার্গ জানান, একজন পেশাদার আইনজীবী হিসেবে নিজের আইনি ও সাংবিধানিক দায়িত্ব সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন থাকা সত্ত্বেও আমজাদ ইব্রাহিম সরকারকে ট্যাক্স না দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে নিজের বিপুল আয় গোপন করেছিলেন।   মার্কিন কর বিভাগ বা আইআরএস-এর অপরাধ তদন্ত শাখার বিশেষ কর্মকর্তা ডিমেট্রিয়াস হার্ডেম্যান এই বিষয়ে বলেন, এই মামলার রায় দেশের সব কর ফাঁকিবাজদের জন্য একটি কঠোর বার্তা। কেউ যদি অবৈধভাবে আয় গোপন করে কর ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে আইআরএস-এর দক্ষ গোয়েন্দারা জটিল সব জালিয়াতি উন্মোচন করে তাদের আইনের আওতায় এনে সম্পূর্ণ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সক্ষম।   আদালতে উপস্থাপিত নথিপত্র ও অভিযোগ থেকে জানা যায়, ৬০ বছর বয়সী আমজাদ ইব্রাহিম ১৯৯৪ সাল থেকে ওকালতি পেশার সাথে যুক্ত আছেন। তিনি মূলত ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮ এবং ২০১৯ কর বছরে জর্জিয়ার জনস ক্রিক এলাকায় বসবাসকালীন ইচ্ছাকৃতভাবে এই বিপুল পরিমাণ ফেডারেল আয়কর ফাঁকি দেন। যার ফলে সরকারের প্রায় ১৪ লাখ ৮০ হাজার ডলারের ব্যক্তিগত ট্যাক্স বকেয়া পড়ে যায়, যা তিনি পরিশোধ করেননি।   তদন্তে দেখা গেছে, কর ফাঁকি দেওয়া ওই চার বছরে আইনজীবী আমজাদ ইব্রাহিম অন্তত সাতটি পৃথক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেছিলেন। এই কোম্পানিগুলো থেকে নিজের আসল আয় গোপন করার জন্য তিনি অত্যন্ত চতুরতার সাথে নিজের নামে কমপক্ষে ৭০টি চেক ইস্যু করেছিলেন, যার মোট আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ৭ লাখ মার্কিন ডলার।   গত ১২ জুন, ২০২৬ তারিখে মার্কিন জেলা আদালতের প্রধান বিচারক লেই মার্টিন মে এক শুনানির মাধ্যমে আমজাদ ইব্রাহিমকে এক বছর তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। কারাভোগের পর আরও দুই বছর তাঁকে প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে বা সুপারভাইজড রিলিজে থাকতে হবে। একই সাথে আদালত তাঁকে আইআরএস-এর বকেয়া বাবদ ১৯ লাখ৩৪ হাজার১১৫ ডলার ক্ষতিপূরণ এবং আলাদাভাবে ৩৫ হাজার ডলার জরিমানা প্রদানের নির্দেশ দেন।   এর আগে ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমজাদ ইব্রাহিম আদালতের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করার পর কর ফাঁকির তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। সেই সময় করা অপরাধ স্বীকার চুক্তির অংশ হিসেবে আমজাদ ইব্রাহিম ২০১৬ থেকে ২০২৩ কর বছর পর্যন্ত তাঁর সমস্ত বকেয়া ট্যাক্স রিটার্ন ফাইল জমা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের অপরাধ তদন্ত শাখা এই পুরো জালিয়াতির বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে।

তাবাস্সুম জুন ১৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে এআই প্রযুক্তিতে কণ্ঠ নকল করে ফেঁসে গেলেন স্কুল কর্মকর্তা

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের পাইকসভিল হাই স্কুলের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষিকা ক্যাথরিন অ্যালবার্ট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা একটি বর্ণবাদী ও আপত্তিকর ‘ডিপফেক’ অডিও রেকর্ডিংয়ের ঘটনায় জালিয়াতির শিকার হয়েছেন। এই জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে নিজের সম্মান পুনরুদ্ধার করতে তিনি এখন আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষিকা তার নাম জড়ানো এই ভুয়া অডিওটি তৈরির অপরাধে স্কুলের সাবেক ক্রীড়া পরিচালক এবং একই সাথে যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ায় বাল্টিমোর কাউন্টি পাবলিক স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একটি আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করেছেন।   মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, এই সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রের পেছনে মূল কারিগর ছিলেন ওই স্কুলেরই সাবেক অ্যাথলেটিক ডিরেক্টর বা ক্রীড়া পরিচালক ড্যাঝন ড্যারিয়েন। তিনি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা থেকে স্কুলের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক এরিক আইসওয়ার্টের কণ্ঠ হুবহু নকল করে একটি নকল বা ডিপফেক অডিও ক্লিপ তৈরি করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ওই ভুয়া অডিও ক্লিপটিতে প্রধান শিক্ষকের কণ্ঠে অত্যন্ত আপত্তিকর বর্ণবাদী এবং ইহুদি-বিদ্বেষী মন্তব্য জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। ওই বানোয়াট আলাপে তৎকালীন সহকারী প্রধান শিক্ষিকা ক্যাথরিনের নামও মিথ্যাভাবে জড়িয়ে একটি কাল্পনিক কথোপকথন তৈরি করা হয়।   দায়ের করা নতুন এই মামলায় ক্যাথরিন অ্যালবার্ট অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করেছেন যে, অডিওটি যে সম্পূর্ণ ভিউ এবং কৃত্রিমভাবে সাজানো হয়েছিল, তা প্রমাণিত হওয়ার পরও স্কুল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। বাল্টিমোর কাউন্টি পাবলিক স্কুল সিস্টেম সত্য জানার পরও জনসমক্ষে বা সরকারি নথিতে তাদের ভুল রেকর্ড সংশোধন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এই চরম উদাসীনতার কারণে তার দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা জীবনের ক্যারিয়ার এবং সামাজিক সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন ও ধূলিসাৎ হয়েছে। উল্লেখ্য, এই একই ঘটনায় এর আগে প্রধান শিক্ষক এরিক আইসওয়ার্টও স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন, যা পরবর্তীতে একটি পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান করা হয়।   তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ওই এআই অডিওতে কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষার্থীদের মেধা নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল যে, আফ্রিকান-আমেরিকান শিক্ষার্থীরা সাধারণ পরীক্ষায় পাস করার যোগ্যতাও রাখে না। এর পাশাপাশি স্কুলের দুজন সম্মানিত শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়। এই ভুয়া অডিও ফাঁসের পর স্কুলে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের আন্দোলনের মুখে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষিকাকে চরম সামাজিক হেনস্থা ও মানসিক নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।   পরবর্তীতে এই ডিজিটাল জালিয়াতি ও জঘন্য অপরাধের বিষয়টি পুলিশের তদন্তে ও ফরেনসিক রিপোর্টে প্রমাণিত হলে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে মার্কিন আদালত ড্যারিয়েনকে চার মাসের কারাদণ্ড প্রদান করে। আদালতে ড্যারিয়েন একটি বিশেষ আইনি প্রক্রিয়া ‘অ্যালফোর্ড প্লী’ গ্রহণ করেন, যার অর্থ হলো তিনি নিজের মুখে অপরাধ স্বীকার না করলেও এটি মেনে নিয়েছেন যে তার বিরুদ্ধে আদালতে দোষী সাব্যস্ত করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কীভাবে মানুষের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন ধ্বংস করা যায়, এই ঘটনাটিকে যুক্তরাষ্ট্রে তার একটি অন্যতম বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তাবাস্সুম জুন ১১, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গরিবদের খাদ্য সহায়তায় ট্রাম্পের শর্ত আরোপ স্থগিত করলেন আদালত

যুক্তরাষ্ট্রে দরিদ্র নাগরিকদের জন্য বরাদ্দ ‘ফুড স্ট্যাম্প’ কর্মসূচির ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শর্ত আরোপের চেষ্টা স্থগিত করে দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। গত শুক্রবার ২০টি ডেমোক্রেটিক শাসিত অঙ্গরাজ্যের পক্ষে রায় দিয়ে আদালত এই স্থগিতাদেশ জারি করেন। সোমবার বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   বোস্টনের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট বিচারক মিয়ং জৌন ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগের বিরুদ্ধে একটি প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসন ফুড স্ট্যাম্প কর্মসূচির শত শত কোটি ডলারের তহবিল পাওয়ার ক্ষেত্রে অঙ্গরাজ্যগুলোর ওপর ‘লিঙ্গাদর্শন’, ‘অভিবাসন’ এবং ‘নারীদের খেলাধুলায় ন্যায্য সুযোগ’ সংক্রান্ত কিছু বিতর্কিত শর্ত জুড়ে দিতে চেয়েছিল।   মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলো আদালতে যুক্তি দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি মন্ত্রণালয় কংগ্রেসের তৈরি করা মূল কর্মসূচির মাঝে অবৈজ্ঞানিক ও বেআইনি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে। এর ফলে দেশের সাধারণ মানুষের জন্য জরুরি পুষ্টি সহায়তা, গুরুত্বপূর্ণ কৃষি গবেষণা এবং জাতীয় খাদ্য শৃঙ্খলের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।   অন্যদিকে সরকারের পক্ষে আইনজীবীরা এই নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে জানান, নতুন শর্তগুলো করদাতাদের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং সরকারি তহবিলের ওপর তদারকি বাড়াতে সাহায্য করত। তবে বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুক্তি নাকচ করে দিয়ে আপাতত তাদের এই উদ্যোগ স্থগিত করার নির্দেশ দেন।   ফুড স্ট্যাম্প হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, যার মাধ্যমে দেশটির প্রায় ৩ কোটি ৯০ লাখ দরিদ্র মানুষ মুদি কেনাকাটার জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকে। তবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, গত বছর রিপাবলিকানদের পাস করা একটি ব্যয় সংকোচন বিলের নতুন শর্তের কারণে এরই মধ্যে ৪৩ লাখেরও বেশি মানুষ এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

তাবাস্সুম জুন ৭, ২০২৬ ১৪:০
অভিবাসন-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ বাতিলের রায়ে ৩৯ দেশের আবেদনকারীদের জন্য স্বস্তি ফিরেছে ।  ছবি: সংগৃহীত
৩৯ দেশের অভিবাসীদের আশ্রয় আবেদন ও ভিসা প্রক্রিয়ায় নিষেধাজ্ঞা অবৈধ ঘোষণা মার্কিন আদালতের

যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন আবেদন প্রক্রিয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা কঠোর বিধিনিষেধ বাতিল করে দিয়েছেন একটি মার্কিন ফেডারেল আদালত। আদালত বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে নেওয়া এই পদক্ষেপের ফলে হাজারো অভিবাসী দীর্ঘ সময় আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছিলেন।   শুক্রবার (২৯ মে) ডিস্ট্রিক্ট জাজ জন ম্যাককনেল এ সংক্রান্ত রায় দেন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্য গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন ওই বিধিনিষেধ জারি করেছিল।   রায়ে বিচারক জন ম্যাককনেল উল্লেখ করেন, এই নীতির কারণে ৩৯টি দেশের নাগরিকদের রাজনৈতিক আশ্রয়, গ্রিন কার্ড, কাজের অনুমতি এবং নাগরিকত্বের আবেদন চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।   রায়ের পর্যবেক্ষণে তিনি বলেন, এই নীতি “যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অসংখ্য অভিবাসীর জীবনকে এক অনির্দিষ্ট আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।”   ট্রাম্প প্রশাসন জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই বিধিনিষেধের প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি। বিচারক ম্যাককনেল বলেন, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) জাতীয় নিরাপত্তার একটি ‘ভুয়া অজুহাত’ ব্যবহার করেছে, যা অভিবাসী-বিরোধী মনোভাবকে আড়াল করার চেষ্টা।   তিনি আরও বলেন, “ইউএসসিআইএস-এর এই সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে নয়, বরং তাদের জন্মগত পরিচয়ের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে।”   বিচারক রায়ে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “ছয় মাসেরও বেশি সময় পার হওয়ার পর অনেক আবেদনকারী কাজ করার সুযোগ হারিয়েছেন, আইনি মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করার সক্ষমতাও হারিয়েছেন।”   ভুক্তভোগী ৩৯টি দেশের অধিকাংশই আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়া অঞ্চলের দেশ।   নির্বাচনী প্রচারণায় অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর বৈধ অভিবাসনের বিভিন্ন পথও সীমিত করার পদক্ষেপ নেন বলে সমালোচকরা অভিযোগ করে আসছেন।   গত জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পৃথকভাবে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছিল। প্রশাসনের দাবি ছিল, এসব দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক ও সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে।   এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের পর অনুমোদিত শরণার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বার্ষিক কোটা কমিয়ে ৭ হাজার ৫০০-তে নামিয়ে আনে, যা পরে আরও ১০ হাজার বৃদ্ধি করা হয়।   একই সময়ে প্রশাসন ‘শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকান’দের পুনর্বাসনে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতিও গ্রহণ করে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনা দেখা দেয়।   আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে আইনি সহায়তাকারী সংস্থা ডেমোক্রেসি ফরওয়ার্ড। সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী স্কাই পেরিম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, “এই রায় একটি মৌলিক নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ফেডারেল সরকার কোনো আইনি অভিবাসন পথ বন্ধ করতে পারে না এবং কোনো ব্যক্তি কোথা থেকে এসেছেন তার ভিত্তিতে বৈষম্যও করতে পারে না।”   তিনি আরও বলেন, “এই বেআইনি নীতিগুলো সারা দেশে পরিবার, শ্রমিক, আশ্রয়প্রার্থী এবং বিভিন্ন কমিউনিটির ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলেছে। তারা দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন এবং কাজ করা, আইনি সুরক্ষা পাওয়া কিংবা স্বাভাবিক জীবনযাপন করা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।”

Unknown জুন ৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
আদালতের স্থগিতাদেশ, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের চেষ্টায় বড় ধাক্কা খেলেন ট্রাম্প

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার দীর্ঘদিনের আইনি অধিকার বা 'বার্থরাইট সিটিজেনশিপ' বাতিলের যে কঠোর অভিবাসন নীতি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন গ্রহণ করেছিল, তা বড় ধরনের আইনি বাধার মুখে পড়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্পের এই বিতর্কিত এজেন্ডার বিরুদ্ধে একটি বিরল স্থগিতাদেশ জারি করেছে দেশটির আদালত। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। ট্রাম্পের যুক্তি ছিল, এই প্রথাটি মার্কিন সংবিধানের সঠিক প্রতিফলন নয় এবং এটি 'বার্থ ট্যুরিজম' বা অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করছে। তবে আদালতের এই সাম্প্রতিক রুলিংয়ে বলা হয়েছে, মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্মগ্রহণকারী যেকোনো শিশু নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য, চাই তার বাবা-মায়ের আইনি অবস্থান যাই হোক না কেন। বিচারক তার পর্যবেক্ষণে জানান, কয়েক দশকের আইনি নজির এবং সাংবিধানিক সুরক্ষা কেবল একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন বিরোধী কঠোর অবস্থানের জন্য একটি বড় পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে হাজার হাজার অভিবাসী পরিবার, যারা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন, তারা আপাতত স্বস্তি পেলেন। তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হোয়াইট হাউস এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবে। ট্রাম্পের অভিবাসন এজেন্ডার অন্যতম মূল লক্ষ্য ছিল এই নাগরিকত্ব আইন পরিবর্তন করা, যা নিয়ে দেশটিতে দীর্ঘকাল ধরে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক চলছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছিল যে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়টি বন্ধ করলে তা সীমান্তে অনুপ্রবেশ কমাতে সহায়ক হবে। কিন্তু মানবাধিকার কর্মী এবং আইনবিদরা শুরু থেকেই একে অসাংবিধানিক বলে অভিহিত করে আসছিলেন। আদালতের এই নতুন আদেশের ফলে বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানেও যদি এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকে, তবে তা হবে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক ধাক্কা। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা এই খবরকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, কারণ এর ওপর নির্ভর করছে দেশটিতে জন্ম নেওয়া তাদের পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ।

তাবাস্সুম এপ্রিল ১, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

সাপ মারতে জাপানে নেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশি বেজি

সাপ মারতে জাপানে নেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশি বেজি, সেই বেজি নিধনেই লেগেছে ৪৫ বছর

নীলুফা নিশাত আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০