সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
আমেরিকা

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য স্বস্তি, ট্রাম্পের ভিসা স্থগিতাদেশ বাতিল মার্কিন আদালতে

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ২০:৪৬
৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল করেছেন নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালত। ছবি: সংগৃহীত
৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা স্থগিতের নীতি বাতিল করেছেন নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালত। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরেকটি উদ্যোগ আদালতে বড় ধাক্কা খেয়েছে। ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার প্রশাসনিক নীতি বাতিল করে দিয়েছেন নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত। শুক্রবার, ২১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের জেলা জজ জেনেট ভার্গাস এই রায় দেন।

 

রায়ের ফলে আফগানিস্তান, ইরান, রাশিয়া, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়ায় জাতীয়তার ভিত্তিতে আর ওই সামগ্রিক স্থগিতাদেশ প্রয়োগ করা যাবে না। আদালত বলেছে, কেবল কোনো ব্যক্তির জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসন ভিসা আটকে দেওয়ার এই নীতি ফেডারেল অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এই নীতি কার্যকর করেছিলেন।

 

জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই নীতি চালু করে। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, নির্দিষ্ট ৭৫টি দেশের সম্ভাব্য অভিবাসীদের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। সে কারণে এসব দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল।

 

তবে আদালত মনে করেছে, অভিবাসন ভিসার যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রত্যেক আবেদনকারীর পরিস্থিতি আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। একজন আবেদনকারী সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন কি না, তা তাঁর জাতীয়তার ভিত্তিতে একযোগে ধরে নেওয়া আইনসম্মত নয়।

 

জজ ভার্গাস তাঁর রায়ে বলেন, ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসন ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা কংগ্রেসের নির্ধারিত আইনি কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। আদালতের মতে, অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের অধীনে কনস্যুলার কর্মকর্তাদেরই ব্যক্তিভিত্তিকভাবে ভিসা আবেদনের যোগ্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব রয়েছে।

 

আদালতের সিদ্ধান্তের আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ রয়েছে। তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তান, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, উরুগুয়ে, বসনিয়া, আলবেনিয়া, আফগানিস্তান, ইরান, রাশিয়া ও সোমালিয়ার মতো দেশও রয়েছে।

 

বাংলাদেশের জন্যও এই সিদ্ধান্তটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া স্থগিতাদেশের আওতায় বাংলাদেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়াও পড়েছিল। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারভিত্তিক বা কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসনের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশিদের জন্য আদালতের রায়টি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে ভিসা পাওয়ার অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিশ্চয়তা নয়। সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রচলিত অভিবাসন আইন অনুযায়ী ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত বিবেচনা করা হবে।

 

এই নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুটি অলাভজনক সংগঠন এবং ১১ জন ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের পরিবারের সদস্যদের ভিসা আবেদন স্থগিত বা প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। অন্যরা কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় ছিলেন। মামলাকারীদের মধ্যে ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক এবং আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদারও ছিল।

 

মামলাকারীরা আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্কের নির্বাহী পরিচালক আনা গ্যালাঘার বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে ভিসা স্থগিতের কারণে আলাদা হয়ে থাকা কিছু পরিবার আবার তাদের অভিবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদারও রায়টিকে আইনের শাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেছে।

 

অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন ভিসা নীতির পক্ষে যুক্তি দিয়ে আসছিল যে সম্ভাব্য অভিবাসীদের মধ্যে যারা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন, তাঁদের প্রবেশ সীমিত করা প্রয়োজন। পররাষ্ট্র দপ্তর এর আগে জানিয়েছিল, সরকারি সম্পদের ওপর সম্ভাব্য চাপ কমানো এবং আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করাই এই নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য। কর্মকর্তারা এমন তথ্যও তুলে ধরেছিলেন যে নির্দিষ্ট দেশগুলোর অভিবাসী-অধ্যুষিত ৩০ শতাংশের বেশি পরিবার কোনো না কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা পেয়ে থাকে।

 

তবে আদালতের মূল আপত্তি ছিল, এই পরিসংখ্যান ব্যবহার করে একটি দেশের সব নাগরিককে একই ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ফেলা যায় কি না। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভিসার যোগ্যতা ব্যক্তির নিজস্ব আর্থিক অবস্থা, পারিবারিক পরিস্থিতি ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করে নির্ধারণ করার আইনি কাঠামো রয়েছে।

 

এটি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আদালতের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এসেছে। এর আগে জুনে আরেকটি ফেডারেল আদালত এমন একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ আটকে দেয়, যার মাধ্যমে অভিবাসীদের আশ্রয়, কাজের অনুমতি, গ্রিন কার্ড ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত কিছু সুবিধা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। ফলে দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বাস্তবায়ন বারবার আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

 

তবে আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর পররাষ্ট্র দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে জানায়নি, ঠিক কত দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হবে। প্রশাসন চাইলে উচ্চ আদালতে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিষয়টি আবারও উচ্চতর আদালতের বিবেচনায় যেতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের অভিবাসন নীতিতে ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন আইনি লড়াই শুরু হতে পারে।

 

আদালতের বর্তমান রায়ে মূলত জাতীয়তার ভিত্তিতে আরোপ করা সামগ্রিক স্থগিতাদেশ বাতিল হয়েছে। যেসব ভিসা প্রত্যাখ্যান শুধুমাত্র ওই নীতির ভিত্তিতে করা হয়েছিল, সেগুলোও পুনর্বিবেচনার আওতায় আসতে পারে। ফলে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অভিবাসনের প্রক্রিয়া আবার ব্যক্তিভিত্তিক মূল্যায়নের দিকে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সংবাদসূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, ওয়াশিংটন পোস্ট, এবিসি নিউজ

জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

আমেরিকা

View more
মাত্র দুই সপ্তাহেই মেরিল্যান্ড-ভার্জিনিয়ায় ১,৩২৮ জনকে আটক করেছে আইসিই
মাত্র দুই সপ্তাহেই মেরিল্যান্ড-ভার্জিনিয়ায় ১,৩২৮ জনকে আটক করেছে আইসিই

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়ায় দুই সপ্তাহের বিশেষ ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট অভিযানে ১ হাজার ৩২৮ জনকে আটক করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। ১ থেকে ১৪ আগস্ট পরিচালিত ‘অপারেশন সেফ কমিউনিটি - ওয়াশিংটন, ডি.সি.’ অভিযানের তথ্য সোমবার জানিয়েছে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৪০০ জনের যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রেকর্ড অথবা চলমান ফৌজদারি অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন, অপহরণ, ডাকাতি, পরিচয় চুরি, মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং হিট অ্যান্ড রানসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ বা রেকর্ড রয়েছে।   অভিযানটির মূল লক্ষ্য ছিল ওয়াশিংটন ডিসির আশপাশের মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়ার বিভিন্ন এলাকা। তবে আইসিই কর্মকর্তারা দুই অঙ্গরাজ্যের অন্যান্য এলাকাতেও অভিযান চালান। ডিএইচএস জানিয়েছে, কিছু এলাকায় স্থানীয় পর্যায়ে স্যাংচুয়ারি নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও এসব আটক করা হয়।   আটকদের মধ্যে এমএস-১৩, ১৮থ স্ট্রিট গ্যাং এবং ট্রেন দে আরাগুয়া নামে পরিচিত ট্রান্সন্যাশনাল গ্যাংয়ের সদস্যরাও ছিলেন বলে ডিএইচএস দাবি করেছে।   অভিযানে ভার্জিনিয়ার চেস্টারফিল্ড কাউন্টিতে এল সালভাদরের নাগরিক এয়গনার উইলফ্রেডো হুয়েজো-মোরানকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে রিচমন্ডে হত্যা ও আগ্নেয়াস্ত্রসংক্রান্ত মামলায় স্থানীয় পুলিশের ওয়ারেন্ট রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফৌজদারি মামলার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর তাকে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়ার কথা জানিয়েছে আইসিই।   মেরিল্যান্ডের উইকোমিকো কাউন্টিতে আটক হন হাইতির নাগরিক অ্যাকশনেল পিয়ের। ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, হামলা ও বেপরোয়া কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধের আগের রেকর্ড রয়েছে। ভার্জিনিয়ার হ্যারিসনবার্গে আটক হন্ডুরাসের নাগরিক এসত্রেয়া রেয়েস-ফুনেজের বিরুদ্ধে ফেলোনি হিট অ্যান্ড রান মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে।   এ ছাড়া ম্যানাসাসে এল সালভাদরের নাগরিক জার্মান মেহিয়া-বাইরেসকে আটক করা হয়। তাকে এমএস-১৩-এর সদস্য বলে দাবি করেছে ডিএইচএস। হায়াটসভিলে আটক এল সালভাদরের নাগরিক মাউরিসিও আন্তোনিও বারেরা-নাভিদাদকেও এমএস-১৩-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   আইসিইর এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশন্স বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক প্যাট্রিসিয়া হাইড বলেন, দুই সপ্তাহের অভিযানে কর্মকর্তারা ইমিগ্রেশন আইন লঙ্ঘনকারীদের শনাক্ত ও আটক করতে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছেন।   তবে অভিযান নিয়ে ইমিগ্রেশন অ্যাটর্নিদের মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে। অ্যাটর্নি কার্লোস জুরাদো বলেন, বড় আকারের অভিযান আগের তুলনায় কমলেও কিছু আটক অভিযান এখন কম দৃশ্যমানভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং এসব ঘটনায় বলপ্রয়োগের মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।   জুরাদো তার এক মক্কেল হোসে মেহিয়া হার্নান্দেজের ঘটনা তুলে ধরে দাবি করেন, আইসিই তাকে আটক করার সময় অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পরে হার্নান্দেজ হাসপাতালে জ্ঞান ফিরে পান এবং তার মুখে গুরুতর আঘাত ও ফোলা ছিল। হার্নান্দেজের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়ার এই অভিযান জুলাইয়ে জর্জিয়ায় চালানো একই ধরনের ‘অপারেশন সেফ কমিউনিটি’ অভিযানের পরপরই হয়েছে। জর্জিয়ায় ওই অভিযানে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৫, ২০২৬ ০:৪২
আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম রেকর্ড উচ্চতায়

আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম রেকর্ড উচ্চতায়, ইউক্রেন-ইরান সংঘাতে বাড়ছে চাপ

ম্যানহাটন ক্রিমিনাল কোর্টের বাইরে আলোচিত স্কাইওয়াকার্স যুগল অ্যাঞ্জেলা নিকোলাউ ও ইভান কুজনেটসভ। ছবি: সংগৃহীত

মামলার শুনানির পর আদালতের বাইরে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের সেই দম্পতি, মিলতে পারে আইনি ছাড়

মুসলিম ও ফিলিস্তিনি শিকড় নিয়ে নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতা ও আক্ষেপের কথা বলেছেন মডেল বেলা হাদিদ। ছবি: সংগৃহীত

‘মুসলিম সংস্কৃতির মধ্যে বড় হতে না পারা আমার বড় আফসোসগুলোর একটি’: বেলা হাদিদ

দক্ষিণ ক্যারোলিনায় পিঁপড়ার কামড় ও দংশনের পর ৮৩ বছর বয়সী শেলবা ক্যাটারটনের মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
১ হাজারের বেশি পিঁপড়ার কামড়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নার্সিংহোমে ৮৩ বছরের বৃদ্ধার মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনায় একটি নার্সিং হোমের চরম অবহেলায় এক বৃদ্ধার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ৮৩ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধা আলঝেইমার রোগে ভুগছিলেন। নার্সিং হোমের খোলা দরজা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার পর তাকে আক্রমণ করে অসংখ্য বিষ পিঁপড়া বা ফায়ার অ্যান্ট। তার শরীরে এক হাজারেরও বেশি কামড়ের দাগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় ওই নার্সিং হোমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে নিহতের পরিবার।   আইন ও অপরাধ বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ল অ্যান্ড ক্রাইমের হাতে আসা মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, নিহত বৃদ্ধার নাম শেলবা ক্যাটারটন। তিনি কথা বলতে পারতেন না এবং অ্যাডভান্সড ডিমেনশিয়া বা চরম স্মৃতিভ্রম রোগে ভুগছিলেন। গত ২৩ জুলাই রাত ১০টার পর নার্সিং হোমের এক কর্মীর ভুলে খোলা থাকা একটি দরজা দিয়ে তিনি একা বাইরে বেরিয়ে যান। এরপরই তিনি পিঁপড়ার আক্রমণের শিকার হন।   কয়েক ঘণ্টা পর চার্লসটনের হারমনি অ্যাট ওয়েস্ট অ্যাশলে নামের ওই নার্সিং হোমের একটি সুরক্ষিত আঙিনায় পিঁপড়ার ঢিবির ওপর তাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। অসুস্থতার কারণে তিনি চিৎকার করতে বা শরীর থেকে পিঁপড়াগুলো সরিয়ে ফেলতে পারেননি।   এক কর্মী তাকে ওই অবস্থায় দেখে জরুরি সেবা ৯১১ নম্বরে কল করেন। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ওই কর্মী কল রিসিভারকে জানিয়েছিলেন, বৃদ্ধার শরীরে অসংখ্য পিঁপড়া ছেঁকে ধরেছিল। তার পিঠে এবং মুখে প্রচুর ফোসকা পড়েছিল। চার্লসটন পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করছে এবং তাদের ধারণা, এক কর্মীর খোলা রাখা দরজা দিয়েই ক্যাটারটন বাইরে গিয়েছিলেন।   মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, হারমনির কর্মীরা যখন তাকে উদ্ধার করেন, ততক্ষণে তার শরীরে অন্তত এক হাজারবার কামড় ও হুল ফোটানো হয়েছে। তার মুখ, চোখ, মাথা, পিঠ, বুক, হাত ও পায়ে ছিল অসংখ্য কামড়ের দাগ। উদ্ধারের পর ক্যাটারটনের চিকিৎসা করা চিকিৎসকরা জানান, তিনি হাইপোথার্মিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন। তার শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক করার পর তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। তবে শেষ রক্ষা হয়নি, ৭ আগস্ট ওই বৃদ্ধা মারা যান।   এই ঘটনায় নিহতের পরিবার অবহেলা, অস্বাভাবিক মৃত্যু এবং আলঝেইমার রোগীদের যত্নের বিষয়ে রাজ্যের আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। পরিবারের দাবি, ঘটনার পর ৩৬ ঘণ্টা পার হলেও কর্মীরা তাদের কিছু জানাননি। পরিবারের আইনজীবী নেট হিউই স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউসিবিডিকে জানান, গত ২৫ বছরে বয়স্কদের ওপর নির্যাতনের যতগুলো মামলা তিনি পরিচালনা করেছেন, এটি তার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ। ক্যাটারটনের মেয়ে জ্যান বুইস ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তিনি এই ঘটনায় আতঙ্কিত। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে কারও যাওয়া উচিত নয়।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফায়ার অ্যান্ট বা বিষ পিঁপড়ার কামড়ে মৃত্যুর ঘটনা বিরল হলেও শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে একাধিক কামড়ে অ্যানাফিল্যাকটিক শকসহ মারাত্মক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এদিকে হারমনি নার্সিং হোমের একজন মুখপাত্র ডব্লিউসিবিডিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তবে বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় তারা বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। দ্য ইনডিপেনডেন্ট এ বিষয়ে আরও জানতে নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে।   তথ্যসূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ২২:১
চিকিৎসার পর শিশুটিকে আবার মায়ের গর্ভে ফিরিয়ে দিয়ে আরও কয়েক সপ্তাহ গর্ভাবস্থা চালিয়ে নেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

২৫ সপ্তাহে গর্ভের বাইরে এনে শিশুর ফুসফুসের চিকিৎসা, এরপর আবার গর্ভেই ফিরিয়ে দিলেন চিকিৎসকেরা

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থীদের ভিসা বাতিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভিসা বাতিলের পথে ট্রাম্প প্রশাসন, ঝুঁকিতে ২ লাখ আশ্রয়প্রার্থী

স্পেসএক্সের রকেট উৎক্ষেপণের সময় উচ্চ আকাশে সূর্যের আলোয় তৈরি হতে পারে জেলিফিশের মতো উজ্জ্বল ধোঁয়ার মেঘ। ছবি: সংগৃহীত

নিউইয়র্ক-নিউজার্সির আকাশে দেখা যেতে পারে ‘জেলিফিশ মেঘ’, ভোরে চোখে পড়তে পারে বিরল দৃশ্য

মুসলিম অধিকারকর্মী জাহরা বিলুর
ক্যালিফোর্নিয়ায় মসজিদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন মুসলিম অধিকারকর্মী, এবার ফেডারেল মামলা

ক্যালিফোর্নিয়ার পালো আল্টো হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষামূলক সফরে মসজিদে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলার পর ফেডারেল মামলায় নাম এসেছে মুসলিম অধিকারকর্মী জাহরা বিলুর। ২০২৫ সালের শরতে স্কুলের ‘সোশ্যাল জাস্টিস পাথওয়ে’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের সান্তা ক্লারার মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশনের মসজিদে নেওয়া হয়েছিল। ওই সফরকে কেন্দ্র করে পালো আল্টো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট ও স্কুলের প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন একদল অভিভাবক ও সাবেক শিক্ষার্থী। মামলায় বিলুর ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ তোলা হয়েছে।    ৮ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল কোর্টে মামলাটি দায়ের করা হয়। ‘কমিউনিটি মেম্বার্স ফর রিলিজিয়াস নিউট্রালিটি ইন পাবলিক স্কুলস’ নামে একটি গ্রুপের সঙ্গে কয়েকজন অভিভাবক ও বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী মামলাটি করেছেন। তাদের অভিযোগ, স্কুলের ওই সফরে শিক্ষার্থীদের কোরআন দেওয়া হয়, মেয়েদের হিজাব পরতে উৎসাহিত করা হয় এবং তারা মুসলিমদের নামাজ পর্যবেক্ষণ করে। শিক্ষার্থীদের ইসলামি ধর্মীয় যুব কর্মসূচির সঙ্গেও পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।    মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের এমন ধারণার সঙ্গে পরিচয় করানো হয়েছিল যে ইসলাম বিশেষভাবে সামাজিক ন্যায়বিচারের সঙ্গে সম্পর্কিত। সফরের সময় শিক্ষার্থীদের ছবি তোলা এবং অভিভাবকদের যথাযথ অনুমতি ছাড়া সেসব ছবি অনলাইনে প্রকাশের অভিযোগও রয়েছে। মামলাকারীদের দাবি, স্কুল কর্তৃপক্ষ ধর্মীয় নিরপেক্ষতা, শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা এবং বিভিন্ন ধর্মের প্রতি সমান আচরণ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।    এই মামলায় জাহরা বিলুর নাম আসার কারণ হলো, তিনি ওই সফরের সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। বিলু কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস বা CAIR-এর সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া অফিসের নির্বাহী পরিচালক। নিজের বক্তব্যে তিনি জানান, তাকে একজন আমেরিকান মুসলিম নারী হিসেবে তার নাগরিক অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।    বিলু মামলাটিকে ভুলভাবে উপস্থাপিত বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, পাবলিক স্কুলে ধর্ম নিয়ে শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা থাকা প্রয়োজন, কিন্তু নিরপেক্ষতার অর্থ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধর্ম ও ধর্মীয় সম্প্রদায় সম্পর্কে জানার সুযোগ থেকে দূরে রাখা নয়। তিনি বলেন, মসজিদ পরিদর্শন, মুসলিমদের নামাজ দেখা কিংবা ইসলাম সম্পর্কে শেখা আর শিক্ষার্থীদের ইসলাম ধর্ম পালনে বাধ্য করা এক বিষয় নয়।    পালো আল্টো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট জেসন গ্লাস জানিয়েছেন, ধর্ম বিষয়ে স্কুলের শিক্ষা একাডেমিক হতে হবে, ধর্মীয় আচার পালনের উদ্দেশ্যে নয়। কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে প্রচার বা অবমূল্যায়ন করাও স্কুলের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মামলা চলমান থাকায় ডিস্ট্রিক্ট এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি এবং জানিয়েছে, তারা নিজেদের প্রক্রিয়াগুলো পর্যালোচনা করছে।    অন্যদিকে, মামলাকারীরা বলছেন, সফরটি শুধু ধর্ম সম্পর্কে জানার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না এবং ইসলামকে অন্য ধর্মের তুলনায় বিশেষভাবে সামাজিক ন্যায়বিচারের সঙ্গে যুক্ত করে উপস্থাপন করা হয়েছিল। তাদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড পাবলিক স্কুলের ধর্মীয় নিরপেক্ষতার সীমা লঙ্ঘন করতে পারে।    তবে সফরে অংশ নেওয়া অন্তত একজন শিক্ষার্থী ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তার মতে, এটি ছিল ধর্ম সম্পর্কে একটি বৃহত্তর শিক্ষামূলক ইউনিটের অংশ, যেখানে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধর্ম ও স্থানীয় ধর্মীয় সম্প্রদায় সম্পর্কে জানানো হচ্ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মসজিদ সফরের উদ্দেশ্য ছিল ইসলাম সম্পর্কে শেখা, কাউকে ধর্মান্তরিত করা নয়।    ফলে মামলাটিকে ঘিরে মূল প্রশ্ন এখন দাঁড়িয়েছে, পাবলিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায় সম্পর্কে সরাসরি শেখানোর ক্ষেত্রে শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা এবং ধর্মীয় অনুশীলনে সম্পৃক্ত করার মধ্যে আইনগত সীমারেখা কোথায়। ফেডারেল আদালতে মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রমে সেই প্রশ্নই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৯:৪৯
আটক ব্যক্তি লুইস ম্যানুয়েল অ্যাভিলেস রোয়া

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ৯ মাস সমুদ্রে মার্কিন নৌসেনা, দেশে ফেরার আগেই বাবাকে আটক করল আইসিই

লং আইল্যান্ডে একটি প্রকৃতি সংরক্ষণ এলাকা

লং আইল্যান্ডের সংরক্ষিত এলাকায় ১৪ বছরের কিশোরীর সঙ্গে নগ্ন অবস্থায় যুবক আটক

নিহত শিক্ষার্থী অ্যালি রেনি সিং

ক্যালিফোর্নিয়ায় ক্লিফ থেকে সাগরে গাড়ি পড়ে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর মৃত্যু

0 Comments