সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

মিসর

মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশ মিসর, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে বিপুল অস্ত্র বিক্রি করছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত
মিসর, কুয়েত ও আমিরাতকে ২০০ কোটি ডলারের অস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মিসর, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে মোট প্রায় ২ দশমিক ২৭ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষা সহায়তা বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশ তিনটির জন্য আলাদা তিনটি সম্ভাব্য বিদেশি সামরিক বিক্রির বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেসকে জানিয়েছে। প্রস্তাবিত প্যাকেজে মিসরের জন্য জ্যাভেলিন ক্ষেপণাস্ত্র, কুয়েতের জন্য প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং আমিরাতের জন্য নির্ভুল নিশানার অস্ত্র ব্যবস্থা রয়েছে।   তিনটি চুক্তির মধ্যে সবচেয়ে বড়টি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে। দেশটি সর্বোচ্চ ১০ হাজার অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেম-২ বা এপিকেডব্লিউএস-২-এর নির্দেশনা ব্যবস্থা কিনতে পারবে। এর সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ১ দশমিক ০৪১ বিলিয়ন ডলার। এসব নির্দেশনা ব্যবস্থা আকাশ থেকে আকাশে এবং আকাশ থেকে স্থলে ব্যবহারের উপযোগী করে চাওয়া হয়েছে।   এপিকেডব্লিউএস-২ মূলত সাধারণ রকেটকে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদী অস্ত্রে রূপান্তরের একটি নির্দেশনা ব্যবস্থা। এতে লেজার-নির্দেশনা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। প্রস্তাবিত প্যাকেজে নির্দেশনা ব্যবস্থার পাশাপাশি ওয়ারহেড, রকেট মোটর, ফিউজ, প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম এবং কারিগরি ও সরবরাহ সহায়তাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশেষ করে তুলনামূলক কম খরচে ড্রোনের মতো লক্ষ্যবস্তু মোকাবিলায় এ ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগ থাকায় উপসাগরীয় অঞ্চলে এর কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।   মিসরের জন্য প্রস্তাবিত অস্ত্র প্যাকেজের মূল্য ৮৩২ মিলিয়ন ডলার। এর আওতায় কায়রো সর্বোচ্চ ২ হাজার ২০টি এফজিএম-১৪৮এফ জ্যাভেলিন অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র এবং সর্বোচ্চ ২০০টি জ্যাভেলিন লাইটওয়েট কমান্ড লঞ্চ ইউনিট কিনতে পারবে। এর মধ্যে ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রে পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য রাখা হবে। প্যাকেজে প্রশিক্ষণ, সিমুলেশন সরঞ্জাম, খুচরা যন্ত্রাংশ, কারিগরি সহায়তা ও অন্যান্য সহায়ক ব্যবস্থাও রয়েছে।   জ্যাভেলিন একটি বহনযোগ্য অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, যা সাঁজোয়া যান ও ট্যাংকের মতো লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য তৈরি। মিসরের জন্য এই প্রস্তাবিত বিক্রিটি দেশটির সামরিক বাহিনীর জন্য জ্যাভেলিন ব্যবস্থার প্রথম সম্ভাব্য অধিগ্রহণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অনুমোদন মানেই চূড়ান্ত চুক্তি হয়ে গেছে এমন নয়। আলোচনার পর অস্ত্রের চূড়ান্ত সংখ্যা, মূল্য ও সরবরাহের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।   কুয়েতের জন্য অনুমোদিত প্যাকেজটির ধরন কিছুটা ভিন্ন। দেশটি নতুন করে বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র না কিনে বিদ্যমান প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মেরামত ও পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করার সেবা এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম পাবে। এ প্যাকেজের আনুমানিক মূল্য ৪০০ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে পরিবহন, মেরামতের যন্ত্রাংশ, সহায়ক সরঞ্জাম, পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণের সরঞ্জাম, কারিগরি তথ্য, প্রশিক্ষণ এবং মার্কিন সরকারের ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশল ও কারিগরি সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, কুয়েতের এই সহায়তা দেশটির নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে ব্যবহার করা হবে। মধ্যপ্রাচ্যে কুয়েত দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করছে এবং দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষায় প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যকর রাখার জন্য ক্ষেপণাস্ত্র মেরামত ও সংশ্লিষ্ট কারিগরি সহায়তার প্রয়োজনীয়তাই এই প্যাকেজের মূল বিষয়।   যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনটি সম্ভাব্য বিক্রিই দেশগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে এসব অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা সরবরাহের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে মৌলিক পরিবর্তন হবে না বলেও মার্কিন কর্তৃপক্ষের মূল্যায়ন রয়েছে। তবে এই বিক্রিগুলো চূড়ান্ত করতে কংগ্রেসের পরবর্তী প্রক্রিয়া এবং ক্রেতা দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।   এই ঘোষণার সময়টিও মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। আঞ্চলিক সংঘাত ও ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার ঝুঁকির মধ্যে উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে। বিশেষ করে কুয়েতের প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা সচল রাখা এবং আমিরাতের জন্য তুলনামূলক কম ব্যয়ের নির্ভুল অস্ত্র ব্যবস্থা সংগ্রহের উদ্যোগ সেই বৃহত্তর নিরাপত্তা বাস্তবতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   সব মিলিয়ে মিসর, কুয়েত ও আমিরাতের জন্য অনুমোদিত তিনটি প্যাকেজের সম্ভাব্য মূল্য দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২ দশমিক ২৭৩ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে আমিরাতের প্যাকেজ ১ দশমিক ০৪১ বিলিয়ন, মিসরের ৮৩২ মিলিয়ন এবং কুয়েতের ৪০০ মিলিয়ন ডলার। তবে এগুলো সম্ভাব্য বিদেশি সামরিক বিক্রির অনুমোদন হওয়ায় চূড়ান্ত চুক্তির পরিমাণ ও সরঞ্জামের সংখ্যা কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, আনাদোলু এজেন্সি ও ডিফেন্স নিউজ।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৪:০
নিউইয়র্কে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর খোকনের মৃ ত্যুর খবর পাওয়া গেছে
নিউইয়র্কে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর বাংলাদেশি খোকনের মৃ ত্যুর খবর

নিউইয়র্কে নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর বাংলাদেশি ও শ্রমিক লীগ নেতা আজিজুল হক খোকনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সময় বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার নিখোঁজ হওয়ার দিনই খোকনের মৃত্যু হয়।   সিদ্দিকুর রহমান জানান, গত শনিবার থেকে খোকনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর বুধবার রাতে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারেন তাঁরা। খোকনকে নিউইয়র্ক সিটির একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান তিনি।   সিদ্দিকুর রহমানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরিচয় ও স্বজনদের সন্ধান নিশ্চিত করতে না পারায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ খোকনের মরদেহ ব্রুকলিনের উইনথ্রপ স্ট্রিটে চিফ মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয়ে পাঠায়। তাঁর মরদেহ সেখানে রয়েছে। তবে কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।   খোকন নিউইয়র্কের খামারবাড়ি গ্রোসারি ও নবান্ন রেস্টুরেন্টের পাশের অবকাশ স্টোরে কাজ করতেন। কিউ গার্ডেনসের বাসায় একা থাকতেন তিনি। তাঁর গ্রামের বাড়ি বাংলাদেশের মাগুরায়।   প্রায় ৩০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন খোকন। তিনি শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ ছিলেন বলে জানা গেছে। শ্রমিক লীগের রাজনীতির পাশাপাশি আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি।    

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১৪:০
মিসরে দীর্ঘ ছয় সপ্তাহ ধরে আটক রয়েছেন ৪৫ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক ইমান এল-শাজলি। ছবি: সংগৃহীত
'সে মারাও যেতে পারে', মিসরে আটক ব্রিটিশ নাগরিককে ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্বামীর আকুতি

মিসরে ছয় সপ্তাহ ধরে আটক ব্রিটিশ নাগরিক ইমান এল-শাজলির মুক্তিতে যুক্তরাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তাঁর স্বামী জিশার্ন মোস্তফা। চার সন্তানের মা ৪৫ বছর বয়সী ইমান অসুস্থ মাকে দেখতে কায়রো গিয়েছিলেন। স্বামীর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৭ আগস্ট মিসরের নিরাপত্তা বাহিনী তাঁকে আটক করে।    ইন্ডিপেনডেন্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মোস্তফা বলেন, মাকে ছাড়া নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু করতে হয়েছে তাঁদের সন্তানদের। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তায় তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। পরিবারটির আশঙ্কা, যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ইমানের বোন মোনা এল-শাজলির সরকারবিরোধী বক্তব্যের কারণে ইমানকে আটক রাখা হয়েছে। এটি পরিবারের অভিযোগ; আটকের কারণ হিসেবে তা স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।    ইমানের স্বামীর আইনজীবী আরফান রশিদ জানান, ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর তাঁদের জানিয়েছে, মিসরীয় কর্তৃপক্ষ ইমানের বিরুদ্ধে একটি সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগদান ও অর্থায়ন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো এবং বিক্ষোভে আহ্বানের অভিযোগ এনেছে। ইমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আইনজীবীর দাবি, মিসরে তাঁর আইনজীবী অভিযোগগুলোর পক্ষে কোনো প্রমাণ পাননি।    মিসরের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কৌঁসুলির কার্যালয় আগস্টে তদন্ত চলাকালে ইমানকে ১৫ দিনের জন্য হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল বলে জানিয়েছে দেশটির অ্যাসোসিয়েশন অব ফ্রিডম অব থট অ্যান্ড এক্সপ্রেশন। একই মামলায় তাঁর দুই ভাইও আটক আছেন। গ্রেপ্তার বা তদন্তাধীন থাকা দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সমান নয়।    ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর ইন্ডিপেনডেন্টকে জানিয়েছে, মিসরে আটক এক ব্রিটিশ নাগরিকের পরিবারকে তারা সহায়তা করছে এবং মিসরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। ইমানের স্বামী চান, কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে তাঁকে দ্রুত পরিবারের কাছে ফিরিয়ে আনা হোক।

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ ১৪:০
প্রায় ৭ কোটি বছর আগের এক সমুদ্রজগতের অস্তিত্বের প্রমাণ
মরুভূমির নিচে ৭ কোটি বছরের প্রাচীন হাঙরের জগতের সন্ধান

মিসরের পশ্চিম মরুভূমির আবু-তারতুর মালভূমির নিচে প্রায় ৭ কোটি বছর আগের এক সমুদ্রজগতের অস্তিত্বের প্রমাণ পেয়েছেন গবেষকেরা। সেখানে পাওয়া জীবাশ্ম হাঙরের দাঁত বিশ্লেষণ করে অন্তত পাঁচটি বিলুপ্ত প্রজাতির হাঙরের উপস্থিতির তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, বর্তমানের শুষ্ক মরুভূমি একসময় ছিল উষ্ণ ও জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি সামুদ্রিক পরিবেশ।    কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণাটি সম্প্রতি গবেষণাপত্র প্রকাশকারী সাময়িকী ক্রিটেশিয়াস রিসার্চে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকেরা আবু-তারতুর এলাকার ডুই গঠনের ফসফেটসমৃদ্ধ স্তর থেকে হাঙরের জীবাশ্ম দাঁত সংগ্রহ করেন। এসব দাঁতের আকার ও গঠন বিশ্লেষণ করে বিলুপ্ত ল্যামনিফর্ম গোত্রের বিভিন্ন হাঙর শনাক্ত করা হয়।    গবেষণায় শনাক্ত প্রজাতিগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্রেটালামনা, স্ক্যাপানোরাইনকাস, সেরাটালামনা ও স্কোয়ালিকোরাক্স গোত্রের হাঙর। গবেষকদের মতে, স্ক্যাপানোরাইনকাসের একটি প্রজাতির জীবাশ্ম দাঁত আফ্রিকায় এ ধরনের প্রথম আবিষ্কার হতে পারে। পাশাপাশি অন্তত দুটি প্রজাতির জীবাশ্ম এর আগে মিসরে নথিভুক্ত হয়নি।    হাঙরের দাঁতের বৈচিত্র্যও গবেষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কিছু দাঁত সরু ও সূচালো, আবার কিছু ছিল তুলনামূলক চওড়া ও করাতের মতো ধারযুক্ত। দাঁতের এই পার্থক্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ওই প্রাচীন সমুদ্রে বিভিন্ন প্রজাতির হাঙর ভিন্ন ধরনের খাবার ও পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে বেঁচে ছিল। কেউ গভীর পানিতে শিকার করত, আবার কেউ অপেক্ষাকৃত অগভীর বা উপকূলীয় এলাকায় বিচরণ করত।    গবেষণায় পাওয়া জীবাশ্মগুলো যে স্তর থেকে এসেছে, সেটি ডুই গঠনের অংশ। গবেষকদের মতে, প্রায় ৭ কোটি বছর আগে ক্রিটেশিয়াস যুগের শেষভাগে ওই অঞ্চল ছিল উষ্ণমণ্ডলীয় সামুদ্রিক পরিবেশ। তখন পৃথিবীর তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি ছিল এবং সমুদ্রপৃষ্ঠও আজকের তুলনায় অনেক উঁচু ছিল। ফলে বর্তমানে উত্তর আফ্রিকার যে বিস্তীর্ণ এলাকা মরুভূমি, তার কিছু অংশ তখন সমুদ্রের নিচে ছিল।    ওই প্রাচীন সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ হওয়ার পেছনে পানির গভীর স্তর থেকে পুষ্টি উপাদানসমৃদ্ধ পানি ওপরে উঠে আসার প্রক্রিয়া বা আপওয়েলিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষকেরা মনে করছেন। এতে সমুদ্রের ওপরের স্তরে পুষ্টি বাড়ত এবং ছোট সামুদ্রিক প্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেত, যা পুরো খাদ্যশৃঙ্খলকে সমৃদ্ধ করত।    আবু-তারতুরের এই আবিষ্কার মিসরের মরুভূমিতে প্রাচীন সামুদ্রিক জীবনের অস্তিত্বের নতুন প্রমাণ যোগ করেছে। এর আগে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে বিভিন্ন সময় হাঙর, রে মাছ, কুমির এবং প্রাচীন তিমির জীবাশ্মও পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ফায়ুম অঞ্চলের ওয়াদি আল-হিতান প্রাচীন তিমির জীবাশ্মের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত এবং ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ।    নতুন গবেষণার গুরুত্ব শুধু কয়েকটি বিলুপ্ত হাঙরের প্রজাতি শনাক্ত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জীবাশ্মগুলো বিজ্ঞানীদের প্রায় ৭ কোটি বছর আগের উত্তর আফ্রিকার সামুদ্রিক পরিবেশ, খাদ্যশৃঙ্খল এবং জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে। একই সঙ্গে সময়ের সঙ্গে কীভাবে সমুদ্র সরে গিয়ে ওই অঞ্চল আজকের শুষ্ক মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে, সেই দীর্ঘ ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রেও এসব আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ।

বায়জিদ হাসান আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৪:০
সমুদ্রসৈকতে বসার জায়গা নিয়ে বিবাদ, সৈকতকর্মীর হা মলায় প্রাণ গেল ২৭ বছরের তরুণীর
সমুদ্রসৈকতে বসার জায়গা নিয়ে বিবাদ, সৈকতকর্মীর হা মলায় প্রাণ গেল ২৭ বছরের তরুণীর

মিসরের আলেকজান্দ্রিয়ায় সমুদ্রসৈকতে বসার জায়গা নিয়ে বিতর্কের জেরে মর্মান্তিক এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিজের ১৫ বছর বয়সী ছোট ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে এক সৈকতকর্মীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৭ বছর বয়সী এক নারী।   ছুটির দিনে পরিবারের সঙ্গে সাগরের তীরে কাটানো আনন্দঘন মুহূর্তটি মুহূর্তেই রূপ নেয় এক বিষাদময় ট্র্যাজেডিতে। এই ঘটনার পরপরই আলেকজান্দ্রিয়া শহরের সমুদ্রসৈকতগুলোর নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।   প্রাথমিক তদন্তের তথ্যানুযায়ী, পশ্চিম আলেকজান্দ্রিয়ার আগামি এলাকার ক্যানারি বিচে পানির কাছাকাছি বসার জায়গা নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। নিহতের ১৫ বছর বয়সী ছোট ভাইয়ের সঙ্গে ১৭ বছর বয়সী এক সৈকতকর্মীর বসার স্থান নিয়ে তর্কাতর্কি শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।   ওই নারী তার সন্তান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে সৈকতে অবস্থান করছিলেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি দুইজনকে ছাড়াতে এগিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, এ সময় অভিযুক্ত কর্মী ওই নারীর চুল ধরে টান দেন এবং বুকে ধাক্কা মারেন। এতে তিনি উপুড় হয়ে পড়ে গেলে, সৈকতের ছাতার একটি কাঠের খুঁটি দিয়ে তার মাথায় সজোরে আঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।   ঘটনার পরপরই নিহতের মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং তার মৃত্যুর পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছেন সরকারি কৌঁসুলিরা। আলেকজান্দ্রিয়ার প্রসিকিউটররা সন্দেহভাজন ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোর কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।   তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়াগুলো সতর্কতার সঙ্গে পালন করা হচ্ছে। এছাড়া একটি সরকারি হাসপাতালে সন্দেহভাজনের শারীরিক পরীক্ষা ও নিহতের চূড়ান্ত ফরেনসিক রিপোর্ট দ্রুত জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং সৈকতের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছে।   এই মর্মান্তিক ঘটনার পর আলেকজান্দ্রিয়া গভর্নরেট ওই সৈকত পরিচালনাকারীর চুক্তি বাতিলের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আলেকজান্দ্রিয়ার গভর্নর আহমেদ খালেদ হাসান সাঈদ শহরের সব সৈকতে নজরদারি ও নিরাপত্তা কঠোর করার নির্দেশ দিয়েছেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সৈকত পরিচালনাকারীদের তাদের কর্মীদের অনুমোদিত তালিকা জমা দিতে হবে।   পাশাপাশি, নিয়োগের আগেই কর্মীদের অপরাধের রেকর্ড বা ব্যাকগ্রাউন্ড চেক এবং স্বাস্থ্যগত সনদ থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে সৈকতগুলোতে আকস্মিক পরিদর্শন বাড়ানোরও নির্দেশ দিয়েছেন শীর্ষ কর্মকর্তারা।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ২২, ২০২৬ ১৪:০
উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের হামলা
উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইরানের হামলা: কড়া নিন্দা জানাল মিসর

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কুয়েত ও বাহরাইনসহ আরব দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মিসর। কায়রো এই হামলাকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের ‘চরম লঙ্ঘন’ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ‘অগ্রহণযোগ্য উসকানি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।   আল জাজিরার প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, বুধবার (৮ জুলাই) মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, আরব ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলে— এমন যেকোনো পদক্ষেপকে মিসর দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে। একই সঙ্গে অঞ্চলে উত্তেজনা কমিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।   বিবৃতিতে কুয়েত ও বাহরাইনের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে মিসর জানায়, তাদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় যেকোনো হুমকির মোকাবিলায় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হচ্ছে। মিসরের দৃষ্টিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা কেবল ওই দেশগুলোর জন্যই নয়, বরং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং মিসরের নিজস্ব জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।   ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, এ ধরনের পুনরাবৃত্ত হামলার পক্ষে কোনো যৌক্তিক কারণ বা গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা থাকতে পারে না। এসব কর্মকাণ্ড পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এ ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। এমন পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসছে বিভিন্ন মহল থেকে।

নীলুফা নিশাত জুলাই ৮, ২০২৬ ১৪:০
মিসরের সেনাবাহিনীর একটি দল। ছবি: এএফপি
মিসরের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগে ইসরায়েল

মিসরের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতা এবং সিনাই উপদ্বীপে সামরিক উপস্থিতি জোরদারের পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক মহলে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রতিবেদনে এ বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।   মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি প্ল্যাটফর্ম নিউজ–১ দেশটির নিরাপত্তা মূল্যায়নের সূত্র উল্লেখ করে দাবি করেছে যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিসরীয় সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও সামরিক উন্নয়ন কর্মসূচি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন তেল আবিবের নীতিনির্ধারকেরা।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের কিছু নিরাপত্তা মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে, মিসরের সামরিক ক্রয়, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিসর দেশটির পশ্চিম ও দক্ষিণ সীমান্তের প্রচলিত নিরাপত্তা চাহিদার তুলনায় বেশি। ফলে ইসরায়েলের নিরাপত্তা মহলে প্রশ্ন উঠেছে, এই সক্ষমতা বৃদ্ধির পেছনে কায়রোর দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত লক্ষ্য কী হতে পারে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ শুরুর পর এবং আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তারের প্রেক্ষাপটে সিনাই উপদ্বীপে মিসরের সামরিক তৎপরতা আরও ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। বিশেষ করে অঞ্চলটিতে অবকাঠামো উন্নয়ন, লজিস্টিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সামরিক স্থাপনা শক্তিশালী করার বিভিন্ন উদ্যোগ তেল আবিবের নজরে রয়েছে।   ইসরায়েলি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নিজেদের সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় যেকোনো সামরিক পরিবর্তনকে অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে বিবেচনা করে দেশটি। বিশেষ করে সিনাই উপদ্বীপের ক্ষেত্রে এ সংবেদনশীলতা আরও বেশি, কারণ অঞ্চলটি ১৯৭৯ সালের মিসর-ইসরায়েল শান্তিচুক্তির আওতায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত।   তবে একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিনাই অঞ্চলে উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কায়রো ও তেল আবিবের মধ্যে বিস্তৃত নিরাপত্তা সমন্বয় ও সহযোগিতা বজায় রয়েছে।   মধ্যপ্রাচ্যের দ্রুত পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যেই এই আলোচনা সামনে এসেছে। আঞ্চলিক উত্তেজনা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য নতুন হুমকির প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দেশ নিজেদের প্রতিরক্ষা কৌশল পুনর্মূল্যায়ন করছে এবং সামরিক সক্ষমতা আরও জোরদারে পদক্ষেপ নিচ্ছে।  

Unknown জুন ২৪, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদারে যৌথ যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ শুরু করেছে মিশর ও তুরস্ক

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দূরত্ব কাটিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়ার মধ্যে এবার সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে মিসর ও তুরস্ক। দুই দেশ যৌথ বিমান বাহিনীর মহড়া শুরু করেছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   মিসরের সশস্ত্র বাহিনী বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির একাধিক বিমানঘাঁটিতে তুরস্কের বিমান বাহিনীর অংশগ্রহণে যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা এবং যৌথ অভিযানে সমন্বয় সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই মহড়ার আয়োজন করা হয়েছে।   মিসরের সামরিক মুখপাত্র জানান, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে উভয় দেশের বহুমুখী যুদ্ধবিমান অংশ নিচ্ছে। কয়েক দিনব্যাপী চলা এই মহড়ায় আধুনিক নিরাপত্তা ও যুদ্ধক্ষেত্রের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মহড়ার প্রথম ধাপে দুই দেশের পাইলট ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে তাত্ত্বিক আলোচনা, পেশাগত মতবিনিময় এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে যৌথ অভিযানের ধারণা ও কৌশলগত সমন্বয় আরও সুসংহত করার চেষ্টা চলছে।   পরবর্তী ধাপে বাস্তব প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। এতে মিসর ও তুরস্কের পাইলটরা যৌথভাবে প্রশিক্ষণ উড্ডয়ন পরিচালনা করছেন এবং বিভিন্ন কল্পিত সামরিক পরিস্থিতিতে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার অনুশীলন করছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এসব কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো যৌথ অভিযানে পারস্পরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত সমন্বয় আরও কার্যকর করা। মিসরের সামরিক বাহিনী বলেছে, এই মহড়া অংশগ্রহণকারী সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়ন, যুদ্ধ প্রস্তুতি বৃদ্ধি এবং ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে যৌথ বিমান অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই যৌথ মহড়া শুধু সামরিক প্রশিক্ষণ নয়, বরং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এক সময় আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যুতে কায়রো ও আঙ্কারার মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য ছিল। বিশেষ করে ২০১৩ সালে মিসরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে শীতল হয়ে পড়ে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উভয় দেশ সম্পর্ক পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়। কূটনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, রাষ্ট্রদূত বিনিময় এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে ধীরে ধীরে সম্পর্ক স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে।   মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় মিসর ও তুরস্কের এই ঘনিষ্ঠতা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি আঞ্চলিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা কৌশল এবং রাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমান যৌথ বিমান মহড়া সেই পরিবর্তিত সম্পর্কেরই একটি বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। উভয় দেশই আশা করছে, এই ধরনের সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত সামরিক ও নিরাপত্তা অংশীদারিত্বের পথ সুগম করবে।  

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

এক ঠিকানায় ৫০টি পার্সেল, ওয়ালমার্ট চালকের সন্দেহেই ধরা পড়ল ১৪ লাখ ডলারের জালিয়াতি

এক ঠিকানায় ৫০টি পার্সেল, ওয়ালমার্ট চালকের সন্দেহেই ধরা পড়ল ১৪ লাখ ডলারের জালিয়াতি

অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ১৪:০