- প্রচ্ছদ
- Topic
শ্রমিক সংকট
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন শহরে অভিবাসনবিরোধী তৎপরতা জোরদার হওয়ার মধ্যে নির্মাণশ্রমিকের সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। নির্মাণকাজে যুক্ত অনেক শ্রমিক কর্মস্থলে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন, আবার কেউ কেউ কাজ ছেড়ে অন্য অঙ্গরাজ্যে চলে যাচ্ছেন। এতে নতুন বাড়ি নির্মাণের কাজ চালিয়ে যেতে শ্রমিকের দল ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন ঠিকাদারেরা। দেশটির অন্যতম ব্যস্ত আবাসন বাজার হিসেবে পরিচিত হিউস্টনে এই সংকট বাড়ির নির্মাণকাজের সময় ও ব্যয়ের ওপর চাপ তৈরি করছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেপিআরসি ২। শহরের উত্তরাঞ্চলে সূর্য ওঠার আগেই নতুন বাড়ির কাঠামো তৈরির কাজে নেমে পড়েন নির্মাণকর্মীরা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে প্রয়োজনীয় শ্রমিক পাওয়া এবং একই কর্মীদল ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নির্মাতারা। বৃহত্তর হিউস্টন অঞ্চলের কয়েকজন ঠিকাদার কেপিআরসি ২-কে জানিয়েছেন, গত এক বছরে অভিবাসন আইন প্রয়োগের তৎপরতার কারণে তাঁদের একাধিক কর্মী হারাতে হয়েছে। কেউ কর্মস্থলে আসা বন্ধ করেছেন, আবার কেউ টেক্সাস ছেড়ে অন্য অঙ্গরাজ্যে কাজ খুঁজছেন। ফলে চলমান প্রকল্পের কাজের গতি ধরে রাখা নির্মাণ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গৃহনির্মাতা সমিতির (এনএএইচবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশটির নির্মাণশ্রমিকদের চারজনের মধ্যে একজনেরও বেশি অভিবাসী। আবাসন চাহিদা মেটাতে এই কর্মীদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে নির্মাণশিল্পের সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলো। তবে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অভিযান ও কর্মস্থলে তল্লাশির আশঙ্কা শ্রমিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এমনকি বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি থাকা কিছু শ্রমিকও কর্মস্থলে যেতে ভয় পাচ্ছেন বলে জানিয়েছে সমিতিটি। এর ফলে নির্মাণ খাতে আগে থেকেই থাকা কর্মীসংকট আরও জটিল হয়ে উঠছে। বৃহত্তর হিউস্টন গৃহনির্মাতা সমিতির প্রধান নির্বাহী অ্যাইমি বার্ট্রান্ড বলেন, নতুন বাড়ি নির্মাণের বাজারের আকার বিবেচনায় হিউস্টন এই সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে হিউস্টন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বাজারগুলোর একটি, যেখানে ডালাসের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েক মাসে শ্রমিকসংকট নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলেও জানান তিনি। বার্ট্রান্ডের মতে, নির্মাতারা তাঁদের কর্মীদলের নিরাপত্তা ও কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শ্রমিক পাওয়া নিয়ে চিন্তিত। কারণ, শ্রমিকের অভাবে নির্মাণকাজ ব্যাহত হলে নতুন বাড়ির সরবরাহেও তার প্রভাব পড়তে পারে। জাতীয় গৃহনির্মাতা সমিতির হিসাব অনুযায়ী, নির্মাণশ্রমিকের ঘাটতির কারণে একটি বাড়ি নির্মাণে গড়ে প্রায় দুই মাস বেশি সময় লাগতে পারে। একই সংকটের কারণে বছরে প্রায় ১৯ হাজার বাড়ি কম নির্মিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নির্মাতা ও ক্রেতাদের সম্মিলিত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ১ হাজার কোটি ডলার বলে সমিতিটি জানিয়েছে। শ্রমিকের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে নির্মাণকাজের সময় বাড়ার পাশাপাশি শ্রম ব্যয়ও বাড়তে পারে। এর প্রভাব নতুন বাড়ির দাম এবং বাড়ি কেনার অপেক্ষায় থাকা ক্রেতাদের ওপরও পড়তে পারে। শ্রমিকের ঘাটতি সবচেয়ে বেশি বেড়েছে বাড়ির কাঠামো তৈরির কাজে নিয়োজিত কর্মী, বাগান ও বাইরের জায়গা পরিচর্যার শ্রমিক এবং ছাদ নির্মাণকর্মীদের মধ্যে। জাতীয় গৃহনির্মাতা সমিতির ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের জরিপে দেখা গেছে, কাঠামো তৈরির শ্রমিকের সংকটের কথা জানিয়েছেন ৫৭ শতাংশ নির্মাতা, যা আগের জরিপের তুলনায় ৯ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। বাগান পরিচর্যার শ্রমিকের ক্ষেত্রে এই হার ৩৯ শতাংশ, আর ছাদ নির্মাণকর্মীদের ক্ষেত্রে ৩৬ শতাংশ। সংশ্লিষ্ট খাতের নিয়োগদাতাদের মতে, এসব কাজে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মী পাওয়া কঠিন হয়ে পড়লে নির্মাণের বিভিন্ন ধাপ একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় না। শ্রমিকসংকটের কারণ হিসেবে শুধু অভিবাসন অভিযানকেই দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। নির্মাণ খাতে কর্মীর চাহিদা, অন্যান্য শিল্পের সঙ্গে শ্রমিক পাওয়ার প্রতিযোগিতা এবং শ্রম ব্যয় বৃদ্ধিও পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে। তবে জাতীয় গৃহনির্মাতা সমিতির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসন তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ শ্রমিকসংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। কর্মস্থলে তল্লাশি হলে কী করতে হবে, সে বিষয়ে ঠিকাদারদের জন্য নির্দেশিকাও প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও ব্যবসায়ীদের জন্য এ ধরনের প্রস্তুতি জরুরি হয়ে উঠেছে, কারণ একটি কর্মীদল থেকে কয়েকজন শ্রমিক হারালেও পুরো প্রকল্পের সময়সূচি ব্যাহত হতে পারে। হিউস্টনের নির্মাণশিল্পে এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের আবাসনসংকট নিয়ে চলমান উদ্বেগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। জাতীয় গৃহনির্মাতা সমিতির হিসাবে, দেশটিতে প্রায় ১২ লাখ বাড়ির ঘাটতি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন বাড়ি তৈরির গতি কমে গেলে সরবরাহ বাড়ানোর প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। শ্রমিকসংকটের কারণে নির্মাণ ব্যয় বাড়লে তার চাপ শেষ পর্যন্ত বাড়ি কিনতে আগ্রহী পরিবারগুলোর ওপরও পড়তে পারে। তবে হিউস্টনে ঠিক কতটি প্রকল্পের কাজ বিলম্বিত হয়েছে বা সাম্প্রতিক অভিবাসন অভিযানের কারণে মোট কতজন শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি। সূত্র: কেপিআরসি ২, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গৃহনির্মাতা সমিতি (এনএএইচবি)।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মী সংকট অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় শ্রমবাজারে প্রয়োজনীয় কর্মী খুঁজে না পাওয়ার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থানীয় এলাকার বাইরে গিয়ে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার থেকেও দক্ষ কর্মী খোঁজার বিষয়টি বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন অভিবাসন ও আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগ বিশেষজ্ঞ কার্লোস গনজালেজ। তার এক মতামতধর্মী লেখায় গনজালেজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক সংকটের একটি অংশ এমন একটি সমস্যার ফল, যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো একই সীমিত ভৌগোলিক এলাকার মধ্যে কর্মী খুঁজতে থাকে। ফলে প্রয়োজনীয় কর্মী না পেয়ে একই নিয়োগ প্রক্রিয়া বারবার চালাতে হয়। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানেও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে কর্মী ঘাটতির চিত্র উঠে এসেছে। ন্যাশনাল ফেডারেশন অব ইন্ডিপেনডেন্ট বিজনেস বা এনএফআইবির আগস্ট ২০২৬ সালের জরিপ অনুযায়ী, ছোট ব্যবসার ৩৫ শতাংশ মালিক এমন পদে নিয়োগ দিতে পারেননি যেগুলোতে কর্মী প্রয়োজন ছিল। এই হার জুলাইয়ের তুলনায় ১ শতাংশ পয়েন্ট কম হলেও দীর্ঘমেয়াদি গড়ের চেয়ে ১১ পয়েন্ট বেশি। একই জরিপে দেখা যায়, আগস্টে ৫৬ শতাংশ ছোট ব্যবসার মালিক কর্মী নিয়োগ করেছেন বা নিয়োগের চেষ্টা করেছেন। তাদের মধ্যে ৮২ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা যে পদগুলোতে কর্মী খুঁজছিলেন সেসব পদের জন্য যোগ্য আবেদনকারী খুব কম পেয়েছেন অথবা কোনো যোগ্য আবেদনকারীই পাননি। এনএফআইবির হিসাবে, ২৯ শতাংশ মালিক অল্পসংখ্যক যোগ্য আবেদনকারী পেয়েছেন এবং ১৮ শতাংশ কোনো যোগ্য আবেদনকারী পাননি। শ্রমবাজারের সামগ্রিক চিত্রও সংকটের বিষয়টি স্পষ্ট করে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর জুলাই ২০২৬ সালের চাকরির সুযোগ ও শ্রমিক বদলসংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই মাসের শেষ কর্মদিবসে দেশটিতে প্রায় ৭৩ লাখ চাকরির পদ খোলা ছিল। একই সময়ে নিয়োগ হয়েছে প্রায় ৫১ লাখ কর্মী। গনজালেজের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি বারবার একই পদে কর্মী নিয়োগ করে এবং কয়েক মাস পর আবার সেই পদ খালি হয়ে যায়, তাহলে প্রতিষ্ঠানটির সময় ও অর্থ দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কর্মীদের প্রশিক্ষণ, কাজের সময়সূচি পুনর্বিন্যাস, নতুন কর্মী খোঁজা এবং কর্মী ধরে রাখার ব্যয় বারবার বহন করতে হয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের বিভিন্ন ব্যবস্থা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কার্যকর হলেও কোনো প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন মেটাতে বারবার অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ করা স্থায়ী সমাধান নাও হতে পারে। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের কর্মীর প্রয়োজন বছরের পর বছর থাকে, সেখানে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানভিত্তিক স্থায়ী অভিবাসনের পথগুলোর কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থানভিত্তিক তৃতীয় অগ্রাধিকার বা ইবি-৩ কর্মসূচি এমন একটি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট যোগ্যতার বিদেশি কর্মীরা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ ও বসবাসের সুযোগের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে এ ধরনের প্রক্রিয়ায় যোগ্যতা, নিয়োগকর্তার ভূমিকা এবং অভিবাসন আইনের বিভিন্ন শর্ত পূরণ করতে হয়। গনজালেজ মনে করেন, আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগকে শুধু জরুরি পরিস্থিতির অস্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে না দেখে দীর্ঘমেয়াদি জনবল পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তার মতে, কর্মী সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে একটি প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগকে স্থানীয় নিয়োগের পাশাপাশি বৈধ আন্তর্জাতিক নিয়োগের সুযোগগুলোও মূল্যায়ন করা উচিত। তবে বিদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। সমর্থকদের মতে, আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও শ্রমশক্তি পেতে পারে। অন্যদিকে সমালোচকেরা মনে করেন, কিছু ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মী নিয়োগ স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা বাড়াতে এবং মজুরির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। এই কারণে আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগকে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিক সংকটের একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ, মজুরি, কর্মপরিবেশ, পরিবহন, আবাসন এবং কর্মী ধরে রাখার নীতির পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাও শ্রমবাজারের সামগ্রিক পরিকল্পনার অংশ হতে পারে। এনএফআইবির আগস্টের তথ্য বলছে, ছোট ব্যবসার ২৩ শতাংশ মালিক শ্রমিকের মান বা প্রাপ্যতাকে তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিচালনাগত সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যদিও জুলাইয়ের তুলনায় এ হার ৪ পয়েন্ট কমেছে, এটি দীর্ঘমেয়াদি গড়ের চেয়ে ১১ পয়েন্ট বেশি। একই সময়ে ৩১ শতাংশ ছোট ব্যবসায় দক্ষ কর্মীর জন্য পদ খালি ছিল এবং ১৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে অদক্ষ কর্মীর পদ খালি ছিল। গনজালেজের প্রস্তাবিত পদ্ধতির মূল বিষয় হলো, যেসব পদ একই প্রতিষ্ঠানে বারবার খালি হচ্ছে সেগুলোকে আলাদা করে পর্যালোচনা করা। কোনো পদ প্রকৃতপক্ষে অস্থায়ী প্রয়োজনের জন্য, আর কোনটি প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী জনবল কাঠামোর অংশ, তা নির্ধারণের পর নিয়োগের পথ ঠিক করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তার মতে, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি একই পদে বারবার একই পদ্ধতিতে কর্মী খোঁজে এবং কর্মী ধরে রাখতে না পারে, তাহলে শুধু শ্রমিকের ঘাটতিকে সমস্যার কারণ হিসেবে দেখলে বিষয়টির পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। নিয়োগ পদ্ধতি, কর্মপরিবেশ, মজুরি, প্রশিক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের সুযোগও তখন বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তবে এই মতামতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা হলো, লেখক নিজেই আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগে সহায়তাকারী একটি প্রতিষ্ঠানের আইনবিষয়ক পরিচালক। গ্লোবাল এক্সপ্রেস রিক্রুটিং নামের প্রতিষ্ঠানটি কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসন কর্মসূচির মাধ্যমে নিয়োগকর্তাদের আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগে সহায়তা করে এবং এ থেকে আয় করে। ফলে তার প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক নিয়োগের মডেলকে ব্যবসায়িক স্বার্থের প্রেক্ষাপটেও দেখা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে খালি পদ ও যোগ্য কর্মী খুঁজে পাওয়ার সমস্যাটি এখনও গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী জুলাইয়ে ৭৩ লাখ চাকরির সুযোগ খোলা ছিল এবং ছোট ব্যবসার একটি বড় অংশ আগস্টেও প্রয়োজনীয় কর্মী খুঁজে পেতে সমস্যার কথা জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন মতের মধ্যে একটি বিষয় স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে কর্মী চাহিদা পূরণে স্থানীয় নিয়োগের পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মী ধরে রাখা এবং আইনসম্মত আন্তর্জাতিক নিয়োগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। সূত্র: ইউএস ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস, ন্যাশনাল ফেডারেশন অব ইন্ডিপেনডেন্ট বিজনেস, ইউএসসিআইএস
শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের নিয়ে নতুন একটি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করেছে রাশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বিদেশি শ্রমিকদের নির্দিষ্ট কাজের জন্য রাশিয়ায় আনা হবে এবং কাজের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।. রাশিয়ার প্রথম উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অভিবাসনবিষয়ক বিভাগের প্রধান আন্দ্রেই কিকোত বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে এ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। পুতিন প্রস্তাবিত ব্যবস্থাটিকে ‘সভ্য পদ্ধতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন বলে নিউজউইকের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় কোনো রুশ প্রতিষ্ঠান বিদেশি শ্রমিকের প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রীয় অভিবাসন পরিষেবার সঙ্গে যোগাযোগ করবে। এরপর বিশেষায়িত একটি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় শ্রমিক খুঁজে দেবে। কর্মীর সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁকে রাশিয়ায় নিয়ে আসা হবে এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হবে। কর্মীদের জন্য নির্ধারিত আবাসনের ব্যবস্থা করবে নিয়োগকর্তা। কর্মস্থলে যাতায়াতের ব্যবস্থাও থাকবে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে কর্মীকে আবার রাশিয়ার বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। কিকোত এই ব্যবস্থাকে ‘বাড়ি, কাজ, বাড়ি’ মডেল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পরিকল্পনাটি আগামী বছর থেকে ধাপে ধাপে চালু করার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে প্রস্তাবটি এখনো রুশ পার্লামেন্টে অনুমোদিত হয়নি। রাশিয়ায় বর্তমানে শ্রমিকের ঘাটতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশটির বেকারত্বের হার মে মাসে ঐতিহাসিকভাবে কমে ২ দশমিক ১ শতাংশে নেমেছিল। বর্তমানে তা প্রায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থনৈতিক উন্নয়নমন্ত্রী মাকসিম রেশেতনিকভ চলতি মাসের শুরুতে রাশিয়াকে ‘শ্রমিক ঘাটতির অর্থনীতি’ হিসেবে বর্ণনা করেন। এই সংকটের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিপুলসংখ্যক রুশ নাগরিক সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট পুতিন জুনে জানিয়েছিলেন, ৭ লাখের বেশি রুশ সেনা যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন রয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে প্রায় ২ লাখ মানুষ সামরিক বাহিনীতে চুক্তিভিত্তিকভাবে যোগ দিয়েছেন। একই সময়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের সম্প্রসারণও বেসামরিক খাত থেকে কর্মী টেনে নিচ্ছে। ফলে বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় কর্মী পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন। রাশিয়ার কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ দ্রুত কমে যাচ্ছে। ৩০ থেকে ৩৯ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা চলতি দশকের শেষ নাগাদ প্রায় ৬৩ লাখ কমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী তাতিয়ানা গোলিকোভা জানিয়েছেন, ২০৩২ সালের মধ্যে অবসর নেওয়া প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ কর্মীর জায়গা পূরণ করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে বিদেশি শ্রমিক আনা রাশিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হতে পারে। তবে অভিবাসন নীতিতে মস্কোর সাম্প্রতিক অবস্থান তুলনামূলকভাবে কঠোর। পুতিনের একটি ডিক্রিতে রাশিয়ার জনসংখ্যা ও শ্রমবাজার বৃদ্ধির প্রধান উৎস হিসেবে দেশের নিজস্ব জনসংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশটির পার্লামেন্ট জানিয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে অভিবাসন নিয়ে ২২টি পৃথক আইন পাস করা হয়েছে। কিকোত পুতিনকে জানিয়েছেন, গত ১৮ মাসে প্রায় ১ লাখ বিদেশিকে রাশিয়া থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৭৫ হাজারকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হয়েছে। নতুন প্রস্তাবের মাধ্যমে রাশিয়া একদিকে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মী নিতে চায়, অন্যদিকে তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসনে উৎসাহিত করতে চায় না। ফলে বিদেশি শ্রমিকদের নির্দিষ্ট চাকরি ও চুক্তির সঙ্গে যুক্ত রেখে কাজ শেষ হওয়ার পর দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও এ ব্যবস্থার কিছু মিল রয়েছে। দেশটিতে নির্দিষ্ট খাতের জন্য এইচ-২ ভিসায় বিদেশি অস্থায়ী কর্মীরা কাজ করতে পারেন। ২০২৬ অর্থবছরের জন্য মার্কিন সরকার অতিরিক্ত ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি অস্থায়ী কর্মী ভিসার অনুমতি দিয়েছে। এর কারণ হিসেবে কর্মী সংকটের কথা জানিয়েছে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তবে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান হারানো বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু বিদেশি কর্মীর জন্য তুলনামূলক বেশি সুযোগ রয়েছে। বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু হওয়া নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ভিসায় থাকা কর্মীরা চাকরি হারানোর পর সাধারণত ৬০ দিন পর্যন্ত নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার সুযোগ পেতেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রেও সম্প্রতি এ বিষয়ে পরিবর্তনের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ১১ সেপ্টেম্বর মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বিভিন্ন ভিসা শ্রেণির কর্মীদের জন্য ৬০ দিনের এই সময়সীমা বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের চাকরির ভিত্তি শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে। তবে এইচ-২ ভিসার কর্মীদের জন্য ৬০ দিনের সুরক্ষা বহাল রাখার কথা প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের জন্য ইতিমধ্যে আরও কিছু কঠোর নিয়ম চালু হয়েছে। ২০২৭ সাল থেকে অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর করের বোঝা বাড়ানোর একটি আইন পুতিন জুলাইয়ে স্বাক্ষর করেছেন। রাশিয়ায় থাকা নির্ভরশীল প্রতিটি সন্তানের জন্য সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের মাসিক করের পরিমাণ আরও ৫০ শতাংশ বাড়ানোর বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া অভিবাসী শ্রমিকদের সন্তানদের রুশ স্কুলে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রেও গত বছর থেকে কঠোর নিয়ম চালু করা হয়েছে। রুশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এসব নিয়ম চালুর পর কর্মহীন অভিবাসীদের সংখ্যা কমেছে। তবে নতুন প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে রাশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের ধরন আরও নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। কর্মীদের নিজস্বভাবে চাকরি খোঁজা বা এক নিয়োগকর্তা থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা বাড়লেও রাশিয়া একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসন কমিয়ে রাখতে চাইছে। প্রস্তাবিত ‘বাড়ি, কাজ, বাড়ি’ মডেল সেই দুই নীতির মধ্যে সমন্বয় করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র: নিউজউইক
মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন খাতে বিরাজমান তীব্র শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় ১৫ হাজার বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম। বুধবার (৫ আগস্ট) মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠক শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের মুখপাত্র ও যোগাযোগমন্ত্রী দাতুক সেরি ফাহমি ফাদজিল এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে এবং বিভিন্ন শিল্প ও সেবাখাতে শ্রমিক চাহিদা দ্রুত পূরণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়কে এই ১৫ হাজার আবেদন অবিলম্বে প্রক্রিয়াকরণের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে গত ২৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছিলেন যে, মালয়েশিয়ার ভারতীয় মুসলিম রেস্তোরাঁ খাত বিদেশি কর্মীর চরম ঘাটতিতে ভুগছে। এই সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাগুলোকে এক মাসের মধ্যে কার্যকর সমাধান বের করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। রেস্তোরাঁ মালিকদের শ্রমিক সংকটের বিষয়টি বর্তমান সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, বিদেশি কর্মী নিয়োগের এই পুরো প্রক্রিয়াটি অবশ্যই সুশৃঙ্খলভাবে এবং দেশের বিদ্যমান অভিবাসন নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করে সম্পন্ন করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।