- প্রচ্ছদ
- Topic
সাইবার হামলা
ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের একটি সাইবার হামলায় যুক্তরাজ্যের একটি ছোট বিদ্যুৎকেন্দ্র চার দিন বন্ধ ছিল বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ঘটনাটি গত মাসে ঘটলেও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে ২২ আগস্ট। এটিকে যুক্তরাজ্যের জ্বালানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রথম সফল সাইবার হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। তবে ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, আক্রান্ত স্থাপনাটি ছোট হওয়ায় এই হামলায় দেশটির সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ বা জাতীয় গ্রিডে কোনো প্রভাব পড়েনি। নিরাপত্তার কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নামও প্রকাশ করা হয়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হ্যাকাররা সাইবার হামলার মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে সক্ষম হয়। কর্মীরা সিস্টেম পুনরায় চালু করতে কাজ করার পর প্রায় চার দিন পর কেন্দ্রটির কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়। ঘটনার পর যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার-কে বিষয়টি জানানো হয়। একই সঙ্গে দেশটির জ্বালানি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের হামলার বিষয়ে সতর্ক করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা সরাসরি হামলার জন্য ইরান সরকারকে দায়ী করে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের এই হামলার সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে। ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলো ইরান-সংশ্লিষ্ট সাইবার হামলার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে আসছে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একটি সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে ইরানকে যুক্তরাজ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও অনির্দেশ্য রাষ্ট্রীয় হুমকির অন্যতম উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে যুক্তরাজ্য সরকার বিদ্যুৎ খাতের সাইবার নিরাপত্তা আরও জোরদারের পরিকল্পনা করছে। সরকারের কৌশলপত্রে বিদ্যুৎ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে সফিস্টিকেটেড সাইবার অ্যাটাক প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্ত এবং হামলার পর ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-হামলাটি জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো সংকট তৈরি না করলেও, একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন স্থাপনার কার্যক্রম চার দিন বন্ধ করে দিতে সক্ষম হওয়া যুক্তরাজ্যের জ্বালানি অবকাঠামোর সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পানি সরবরাহ, বর্জ্যপানি, বিদ্যুৎ ও রাসায়নিক স্থাপনাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বিদেশি সাইবার হামলাকারীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে দেশটির সাইবার নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে শিল্পকারখানা ও পানি শোধনাগারে ব্যবহৃত স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতা খুঁজতে হামলাকারীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-নির্ভর সরঞ্জাম ব্যবহার করছে বলে সতর্ক করা হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা ও অবকাঠামো নিরাপত্তা সংস্থা (সিআইএসএ), এফবিআই, এনএসএ এবং অন্যান্য অংশীদার সংস্থার সতর্কতার ভিত্তিতে বিষয়টি সামনে এসেছে। এতে সিমেন্সের এস৭ সিরিজের প্রোগ্রামেবল লজিক কন্ট্রোলার বা পিএলসিকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পানি শোধনাগার, বিদ্যুৎকেন্দ্র, রাসায়নিক কারখানা ও বিভিন্ন শিল্প স্থাপনার স্বয়ংক্রিয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের যন্ত্র ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। সিমেন্সের নিজস্ব নিরাপত্তা সতর্কতাতেও বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে তাদের এস৭ পিএলসি চলমান সাইবার হুমকি অভিযানের সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। জুলাইয়ের হালনাগাদ সতর্কতায় এস৭-১২০০ পিএলসিকেও নির্দিষ্ট লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে সিমেন্স জানিয়েছে, তাদের শিল্প নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় এ হুমকির মাধ্যমে সফলভাবে হামলা চালানোর কোনো ঘটনা এখনো তারা শনাক্ত করেনি। সতর্কতায় বলা হয়েছে, হামলাকারীরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে উন্মুক্ত থাকা এমন পিএলসি খুঁজছে, যেগুলো পুরোনো সফটওয়্যার ব্যবহার করছে অথবা যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই অনলাইনে সংযুক্ত রয়েছে। এসব যন্ত্রে প্রবেশাধিকার পাওয়া গেলে হামলাকারীরা সংশ্লিষ্ট শিল্প নিয়ন্ত্রণ নেটওয়ার্কে আরও গভীরভাবে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। বিষয়টি বিশেষভাবে উদ্বেগের কারণ, এসব নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শুধু কম্পিউটারে তথ্য সংরক্ষণ করে না। এগুলো বাস্তব জগতের যন্ত্রপাতি ও শিল্প প্রক্রিয়া পরিচালনা করে। ফলে কোনো সিস্টেমে সফলভাবে অনুপ্রবেশ করা গেলে পানি শোধনের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া, বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা তৈরি হওয়া কিংবা রাসায়নিক উৎপাদন ব্যবস্থায় নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি হওয়ার মতো পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। এই সতর্কতার মূল লক্ষ্য পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর পরিচালকদের। কোনো নির্দিষ্ট এলাকার পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে বা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পানি ব্যবস্থা আক্রান্ত হয়েছে, এমন তথ্যও প্রকাশিত হয়নি। সাইবার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলছেন, এআই ব্যবহারের কারণে সম্ভাব্য দুর্বলতা শনাক্ত করা এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে হামলার প্রস্তুতি নেওয়া তুলনামূলক সহজ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে পুরোনো প্রযুক্তি, ভুলভাবে কনফিগার করা যন্ত্র এবং সরাসরি ইন্টারনেটে যুক্ত শিল্প নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হামলাকারীদের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হতে পারে। কারণ এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য সেবা এবং অনেক পানি ব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের পুরোনো যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি এখনো ব্যবহৃত হয়। এসব ব্যবস্থা আধুনিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনা ব্যয়বহুল ও জটিল হতে পারে। সিআইএসএ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইন্টারনেটে অপ্রয়োজনীয়ভাবে উন্মুক্ত পিএলসি বিচ্ছিন্ন করা, প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ও ফার্মওয়্যার হালনাগাদ করা এবং নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছে। সিমেন্সও গ্রাহকদের সর্বশেষ সংস্করণ ব্যবহার, শক্তিশালী ও আলাদা পাসওয়ার্ড এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফায়ারওয়ালসহ অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। এদিকে সিমেন্সের কয়েকটি এস৭-সংশ্লিষ্ট পণ্যের নিরাপত্তা দুর্বলতা নিয়ে ২০২৬ সালেও একাধিক সতর্কতা প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে কিছু ত্রুটির ক্ষেত্রে সফটওয়্যার হালনাগাদ করে নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাইবার হামলার ঝুঁকি শুধু বড় অবকাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সাধারণ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রেও এ ধরনের পরিস্থিতিতে সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বাড়ির রাউটার ও স্মার্ট ডিভাইসে শক্তিশালী আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা, সম্ভব হলে বহুস্তরীয় যাচাই চালু রাখা এবং নিয়মিত সফটওয়্যার হালনাগাদ করা উচিত। এ ছাড়া অচেনা ই-মেইল, খুদে বার্তা বা ফোনে দেওয়া সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। এআইয়ের সাহায্যে তৈরি করা বিশ্বাসযোগ্য দেখতে বার্তা ব্যবহার করে প্রতারণার চেষ্টা বাড়তে পারে বলে ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে ঘিরে সাইবার হুমকি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে এখন পর্যন্ত বিষয়টি মূলত সম্ভাব্য হামলা ও প্রস্তুতি শনাক্ত হওয়ার পর্যায়ে রয়েছে। সিআইএসএ ও অন্যান্য সংস্থার সতর্কতার পাশাপাশি সিমেন্সও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে শত শত বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি সংস্থা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক সাইবার হামলা চালিয়ে বিপুল পরিমাণ তথ্য চুরির দায়ে ১৭ জন ইরানি নাগরিকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে মার্কিন প্রশাসন। 'মাবনা ইনস্টিটিউট' নামের একটি ইরানি হ্যাকিং গ্রুপের সদস্য এই অভিযুক্তরা অন্তত ২০১৩ সাল থেকে এই সুসংগঠিত সাইবার অপরাধের সাথে যুক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্কের মার্কিন অ্যাটর্নি, বিচার বিভাগ এবং ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) কর্মকর্তারা সম্প্রতি ১৪-দফার এই সংশোধিত অভিযোগপত্র বা ইনডিক্টমেন্ট প্রকাশ করেছেন। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, অভিযুক্তরা মূলত ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এবং অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার হয়ে এই বৈশ্বিক গুপ্তচরবৃত্তি ও তথ্য চুরির মিশন পরিচালনা করেছিল। হ্যাকারদের এই সংঘবদ্ধ চক্রটি যুক্তরাষ্ট্রের ১৪৪টি এবং অন্যান্য দেশের ১৭৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিস্টেম হ্যাক করে বিশ্বজুড়ে এক লাখেরও বেশি অধ্যাপকের অ্যাকাউন্ট টার্গেট করেছিল, যার মধ্যে প্রায় ৮ হাজার অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ নিতে তারা সক্ষম হয়। এর পাশাপাশি অন্তত ৪২টি মার্কিন বেসরকারি কোম্পানি, ইউরোপের বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক এনজিও এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বেশ কয়েকটি সংস্থাও তাদের হামলার শিকার হয়। হ্যাকাররা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন গবেষণার অন্তত ৩১.৫ টেরাবাইট অ্যাকাডেমিক ডেটা ও মহামূল্যবান ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি (মেধাস্বত্ব) চুরি করে। এই চুরি করা তথ্যগুলো তারা কেবল আইআরজিসি-র হাতেই তুলে দেয়নি, বরং 'মেগাপেপার' ও 'গিগাপেপার' নামক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তা ইরানি বিশ্ববিদ্যালয় ও গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। এই সাইবার অপরাধের ভয়াবহতা কেবল তথ্য চুরিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; অভিযুক্তরা বিখ্যাত মার্কিন মিডিয়া ও এন্টারটেইনমেন্ট কোম্পানি এইচবিও (HBO)-এর সার্ভারেও বেআইনিভাবে অনুপ্রবেশ করেছিল। বেহজাদ মেসরি এবং তার সহযোগীরা এইচবিও-র গোপন ও সংবেদনশীল ডেটা চুরি করে তা ফাঁসের হুমকি দিয়ে প্রায় ৬০ লাখ মার্কিন ডলার সমমূল্যের বিটকয়েন মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করে। সামগ্রিকভাবে এই হ্যাকিংয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কর্পোরেট ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সিস্টেম পুনরুদ্ধারে দুই কোটি ডলারেরও বেশি আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই সাইবার অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের 'রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস' (RFJ) প্রোগ্রাম ইতোমধ্যেই পাঁচজন শীর্ষ হ্যাকারের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার জন্য ১ কোটি ডলার (১০ মিলিয়ন ডলার) পর্যন্ত বিশাল অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ৩০টিরও বেশি পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক সাইবার হামলার জন্য ইরানকে নয়, স্থানীয় ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বকে দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার এই মন্তব্য দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর চলমান তদন্ত ও প্রাথমিক মূল্যায়নের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে এক মন্ত্রিসভা বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, মিনেসোটার পানি ব্যবস্থায় হামলার জন্য ইরানকে দোষারোপ করা হলেও তিনি তা বিশ্বাস করেন না। তার দাবি, অঙ্গরাজ্যটির প্রশাসনিক অদক্ষতাই এ ঘটনার জন্য দায়ী। এ সময় তিনি মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট গভর্নর টিম ওয়ালজেরও সমালোচনা করেন। তবে নিজের দাবির পক্ষে ট্রাম্প কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। অন্যদিকে, মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তারা এবং ফেডারেল তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হামলার উৎস নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে। এর আগে প্রকাশিত একাধিক গোয়েন্দা মূল্যায়ন ও সাইবার নিরাপত্তা সতর্কতায় বলা হয়েছিল, হামলার ধরন ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের পূর্ববর্তী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মিল রয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেনি। ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) জানিয়েছে, মিনেসোটাসহ অন্তত সাতটি অঙ্গরাজ্যে পানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে একই ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। কিছু এলাকায় স্বল্প সময়ের জন্য পানি সরবরাহ ব্যবস্থার স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণে বিঘ্ন ঘটলেও পানির নিরাপত্তা বা মানের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনি। ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে গভর্নর টিম ওয়ালজ বলেন, প্রেসিডেন্ট হামলার সম্ভাব্য উৎস সম্পর্কে অবগত রয়েছেন এবং এটি শুধু মিনেসোটায় সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা দুর্বল হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো আরও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই, সাইবারসিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সি (সিআইএসএ), ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি (এনএসএ) এবং জ্বালানি বিভাগ যৌথভাবে সতর্ক করে জানিয়েছিল যে, ইরান-সমর্থিত হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রের পানি ও জ্বালানি অবকাঠামোর শিল্প নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর চেষ্টা করছে। তবে মিনেসোটার ঘটনায় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দায়ীদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।
মার্কিন অঙ্গরাজ্য মিনেসোটার ৩০টির বেশি পৌর পানি সরবরাহ ও বর্জ্যপানি ব্যবস্থাপনাকেন্দ্রে সমন্বিত সাইবার হামলার ঘটনা তদন্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলার পেছনে ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়ী করা হচ্ছে না। মিনেসোটা ইনফরমেশন টেকনোলজি সার্ভিসেস জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা ও অবকাঠামো নিরাপত্তা সংস্থা (সিসা), পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (ইপিএ) এবং এফবিআইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। তদন্তকারীরা হামলার সময়, লক্ষ্যবস্তু এবং ব্যবহৃত প্রযুক্তির মধ্যে একাধিক মিল খুঁজে পেয়েছেন, যা সমন্বিত পরিকল্পনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। হামলাগুলো ২৬ ও ২৭ জুলাই সংঘটিত হয়। সাইবার হামলার লক্ষ্য ছিল পানি সরবরাহ ব্যবস্থার প্রোগ্রামেবল লজিক কন্ট্রোলার (পিএলসি) এবং হিউম্যান মেশিন ইন্টারফেস (এইচএমআই)। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে পানি শোধনাগার ও সরবরাহ ব্যবস্থার যন্ত্রপাতি নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ করা হয়। কয়েকটি শহরে সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়লেও দ্রুত সিস্টেম পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত পানীয় পানির মান বা জনস্বাস্থ্যের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক ঝুঁকির প্রমাণ মেলেনি। তবে ব্রাহাম ও প্লাইমাউথসহ কয়েকটি এলাকায় বাসিন্দাদের সাময়িকভাবে পানি ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানানো হয়েছিল, কারণ কিছু স্থানে পানির চাপ কমে গিয়েছিল এবং স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার কয়েক দিন আগেই সিসা, এফবিআই, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) এবং ইপিএ যৌথভাবে সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছিল, ইরান-সংশ্লিষ্ট সাইবার গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পানি, জ্বালানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ব্যবহৃত শিল্প নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করছে। বিশেষ করে ইন্টারনেটের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত পিএলসি ডিভাইসগুলোকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এফবিআইয়ের সাইবার বিভাগের সহকারী পরিচালক ব্রেট লেদারম্যান বলেছেন, ইরান-সংশ্লিষ্ট সাইবার গোষ্ঠীগুলো যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং নাগরিকদের নির্ভরশীল জরুরি সেবা ব্যাহত করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। ফেডারেল সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে পানি ও বর্জ্যপানি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে ইন্টারনেটে উন্মুক্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করা, দূরবর্তী প্রবেশাধিকার সীমিত করা, বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম দ্রুত রিপোর্ট করার নির্দেশনা দিয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে পরিচালিত সাইবার হামলা এবং র্যানসমওয়্যার আক্রমণের সংখ্যা বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এসব হামলায় প্রতিষ্ঠানের সংবেদনশীল তথ্য চুরি হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়িক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। সর্বশেষ কোকা-কোলার মালিকানাধীন ডেইরি কোম্পানি ফেয়ারলাইফ জানিয়েছে, তাদের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার একটি অংশে অননুমোদিত প্রবেশের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িকভাবে উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং সিস্টেম স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন খাতের প্রতিষ্ঠান এ ধরনের সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় সাইবার হামলাগুলো আরও দ্রুত, জটিল এবং লক্ষ্যভিত্তিক হয়ে উঠছে। এর ফলে তথ্য চুরি, মুক্তিপণ দাবি এবং সেবা ব্যাহত হওয়ার ঘটনা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে হোয়াইট হাউস একটি নতুন সমন্বয় উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে। এর আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিচালনাকারী সংস্থাগুলো একসঙ্গে কাজ করবে। লক্ষ্য হচ্ছে, উন্নত এআই ব্যবস্থায় শনাক্ত হওয়া সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতাগুলো দ্রুত শনাক্ত করা, তথ্য বিনিময় করা এবং সমন্বিতভাবে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাইবার নিরাপত্তা জোরদার না করলে ভবিষ্যতে সরকারি ও বেসরকারি—উভয় খাতেই আরও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন মডেলের আইফোনের সংবেদনশীল যন্ত্রাংশের তালিকা, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নাম এবং গোপন ছবি ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হয়ে গেছে। অ্যাপলের অন্যতম প্রধান ভারতীয় যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী ও চুক্তিভিত্তিক নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ডাটাবেজ হ্যাক করে এই গোপন নথিগুলো হাতিয়ে নিয়েছে একটি হ্যাকার চক্র। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হওয়া ২ লাখেরও বেশি ফাইলের মধ্যে অন্তত ছয়টি বিশেষ ফাইল রয়েছে, যাতে নতুন আইফোনের সার্কিট বোর্ডের চিপ, ব্যাটারি এবং ক্যামেরার বিভিন্ন যন্ত্রাংশের সুনির্দিষ্ট বিবরণ রয়েছে। সাধারণত অ্যাপল তাদের কোন যন্ত্রাংশ কোন কোম্পানি তৈরি করে, তা কঠোরভাবে গোপন রাখে। এই তথ্যগুলো ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বাজারে অ্যাপলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান, নকল মোবাইল প্রস্তুতকারক এবং নিজস্ব বিক্রেতারা আইফোনের অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তির নকশা সহজেই জেনে যাওয়ার বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ফাঁস হওয়া নথিগুলোর মধ্যে অ্যাপলের অত্যন্ত গোপনীয় বিশেষ জলছাপযুক্ত কিছু ফাইল এবং কারখানায় নতুন আইফোনের ওপর চালানো আছাড় পরীক্ষার বাস্তব ছবিও রয়েছে। ছবিতে ধূসর রঙের একটি হ্যান্ডসেটের পেছনে তিনটি ক্যামেরা এবং অ্যাপলের লোগো দেখা গেছে। টাটা ইলেকট্রনিক্সের নেটওয়ার্ক হ্যাক করা হ্যাকার চক্রটি আইফোনের পাশাপাশি বিশ্ববিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা এবং বড় বড় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মতো আমেরিকান ও তাইওয়ানিজ গ্রাহকদের গোপন নথিও ডার্ক ওয়েবে প্রকাশ করে দিয়েছে। চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভারতকে একটি বড় ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ভারতের সরকারের যে বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে, এই তথ্য ফাঁসের ঘটনা তার ওপর একটি বড় ধাক্কা। বর্তমানে বৈশ্বিক বাজারে মোট আইফোন উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশই ভারতে তৈরি হচ্ছে, যা মাত্র চার বছর আগেও ছিল মাত্র ৬ শতাংশ। এমন সময়ে এই বিপর্যয়টি ঘটল যখন অ্যাপল আগামী সেপ্টেম্বর মাসেই তাদের এই নতুন ফ্ল্যাগশিপ ফোনটি বাজারে ছাড়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই বড় ধরনের সাইবার হামলার পর অ্যাপল ও টাটা ইলেকট্রনিক্স যৌথভাবে ঘটনার দীর্ঘমেয়াদি তদন্ত শুরু করেছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের অভ্যন্তরীণ সংবেদনশীল সিস্টেমে কর্মীদের প্রবেশাধিকার সীমিত করেছে এবং একটি বৈশ্বিক পরামর্শক সংস্থাকে দিয়ে পুরো ব্যবস্থার ফরেনসিক অডিট বা চুলচেরা বিশ্লেষণ করাচ্ছে। তবে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে রয়টার্সের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে কোনো প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্রই আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সাইবার অঙ্গনেও সংঘাত দ্রুত তীব্র হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের জুন মাসে ইসরাইলের ওপর ইরানি সাইবার হামলার সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা। সোমবার (২৯ জুন) জার্মান সংবাদপত্র ডাই ভেল্ট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরাইলের ন্যাশনাল সাইবার ডিরেক্টরেটের মহাপরিচালক ইয়োসি কারাদি এ তথ্য জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলি সামরিক অভিযানের সময় প্রায় ১ হাজার ৬০০টি শত্রুভাবাপন্ন সাইবার হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু ঠিক এক বছর পর, ২০২৬ সালের একই সময়ে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৮০০-তে। কারাদি বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িত কিছু সাইবার গোষ্ঠী অত্যন্ত দক্ষ ও সুসংগঠিত। যদিও ইসরাইল এ ধরনের আক্রমণ প্রতিহত করার সক্ষমতা রাখে, তবুও পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের মতো সাইবার জগতে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই—এখানে হুমকি সবসময়ই সক্রিয় থাকে। তার দেওয়া তথ্যমতে, সাম্প্রতিক এসব সাইবার হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, সরকারি সংস্থা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ নাগরিকদের ডিজিটাল ব্যবস্থা। বিশেষ করে আইনজীবী প্রতিষ্ঠান ও হিসাবরক্ষণ সংস্থাগুলোর মতো ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলক বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তবে আশাবাদ ব্যক্ত করে কারাদি জানান, দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর পরিচালিত বড় ধরনের হামলাগুলো এখন পর্যন্ত সফলভাবে প্রতিহত করা গেছে। যদিও দুর্বল সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে কিছু প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেমে সংরক্ষিত তথ্য সম্পূর্ণ মুছে ফেলা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হয়নি। সাধারণত ইরান অন্য দেশের বিরুদ্ধে সাইবার হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে থাকে। তবে দেশটি প্রায়ই দাবি করে, তারা নিজেরাও নিয়মিত সাইবার হামলার শিকার হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুদ্ধের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে সাইবার হামলা, যেখানে সরাসরি সংঘর্ষ ছাড়াই প্রতিপক্ষকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলা সম্ভব। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরাইল উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই অদৃশ্য যুদ্ধও আরও জটিল ও বিস্তৃত হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইসরানি সাইবার হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। দেশটির এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত এক বছরে এসব হামলার সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) জার্মানির প্রভাবশালী সংবাদপত্র ডাই ওয়েল্ট-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান ইসরায়েলের ন্যাশনাল সাইবার ডিরেক্টরেটের মহাপরিচালক ইয়োসি কারাদি। তার দাবি, ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান চলাকালে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি শত্রুভাবাপন্ন সাইবার হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৪ হাজার ৮০০টিতে পৌঁছেছে। ইয়োসি কারাদি বলেন, “কিছু হ্যাকিং গোষ্ঠী প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত দক্ষ। আমরা তাদের মোকাবিলা করতে সক্ষম হলেও বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের মতো সাইবার জগতেও কোনো যুদ্ধবিরতি বা শান্তি চুক্তি নেই।” তিনি জানান, এসব হামলার মূল লক্ষ্য ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো, সরকারি সংস্থা, বিভিন্ন পাবলিক সেক্টর এবং ছোট ও মাঝারি আকারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে আইন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও হিসাবরক্ষণ সংস্থাগুলো উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তার দাবি, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল জাতীয় অবকাঠামোর বিরুদ্ধে চালানো সব সাইবার হামলা এখন পর্যন্ত প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তবে যেসব ছোট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল ছিল, সেসব প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার সিস্টেমে প্রবেশ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পূর্ণ মুছে ফেলেছে হ্যাকাররা। ইসরায়েলের এ দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সর্বাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সাইবার হামলার ধরন ও সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে জরুরি প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়েছে ফাইভ আইজ জোটভুক্ত দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের সমন্বয়ে গঠিত এই গোয়েন্দা জোট বলছে, এআইভিত্তিক নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি সাইবার নিরাপত্তার প্রচলিত কাঠামোকে দ্রুত অচল করে দিতে পারে। সোমবার প্রকাশিত তিন পৃষ্ঠার এক যৌথ বিবৃতিতে জোটটির কর্মকর্তারা জানান, উন্নত এআই মডেলগুলো শিল্পখাতের বর্তমান প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। এসব প্রযুক্তি আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক—উভয় ক্ষেত্রেই সাইবার সক্ষমতাকে মৌলিকভাবে বদলে দেবে। তাদের ভাষ্য, এই পরিবর্তন ঘটতে কয়েক বছর নয়, বরং কয়েক মাসই যথেষ্ট হতে পারে। বিবৃতিতে বিশদ প্রযুক্তিগত তথ্য খুব বেশি না থাকলেও সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের জন্য পরিচিত কিছু করণীয় আবারও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সফটওয়্যারের ত্রুটি দ্রুত সংশোধন করা, অপ্রয়োজনীয় সিস্টেম অনলাইনে না রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ প্রবেশপথগুলো দ্রুত বন্ধ করা। একই সঙ্গে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রতিরক্ষা জোরদারে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, সিস্টেমের দুর্বলতা দ্রুত শনাক্ত করা এবং সাইবার হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষেত্রে এআই কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়। এই সতর্কবার্তায় স্পষ্ট হয়েছে যে, নতুন প্রজন্মের এআই মডেল নিয়ে নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগ বাড়ছে। উদাহরণ হিসেবে অ্যানথ্রপিক-এর ‘মিথোস’ এবং ওপেনএআই-এর ‘জিপিটি–৫.৫ সাইবার’ মডেলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে তুলনামূলক সহজে জটিল এবং সম্ভাব্য ক্ষতিকর সাইবার হামলা পরিচালনা করা যেতে পারে। এরই মধ্যে জাতীয় নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিদেশি নাগরিকদের জন্য অ্যানথ্রপিকের ‘মিথোস’ ব্যবহারে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি মডেলটির একটি সংস্করণ বন্ধ করতে বাধ্য হয়। একই দিনে বিবৃতিতে সহস্বাক্ষরকারী যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার প্রতিরক্ষা সংস্থা সাইসা (সিআইএসএ) সরকারি নেটওয়ার্কে গুরুতর ডিজিটাল দুর্বলতা দূর করার সময়সীমা কমিয়ে তিন দিনে নামিয়ে আনে। সংস্থাটি জানায়, এআই–সম্পর্কিত ঝুঁকি দ্রুত বাড়তে থাকায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতি যেমন নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে, তেমনি তা সাইবার নিরাপত্তার জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে। ফলে প্রযুক্তির এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা এখন সময়ের দাবি।
ইরানের অন্তত চারটি প্রধান বাণিজ্যিক ব্যাংকে সীমিত আকারের সাইবার হামলা চালানো হয়েছে। আকস্মিক এই সাইবার আক্রমণের কারণে সাময়িকভাবে ব্যাংকগুলোর কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সেবা ব্যাহত হলেও কোনো গ্রাহকের ব্যক্তিগত বা আর্থিক তথ্য চুরি বা খোয়া যায়নি বলে জোরালোভাবে নিশ্চিত করেছে দেশটির ব্যাংকিং সমন্বয় পরিষদ। রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য বিশ্ববাসীকে জানিয়েছে। ইরানের ব্যাংকিং সমন্বয় পরিষদ তাদের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, মূলত ব্যাংকগুলোর একটি যৌথ যোগাযোগ অবকাঠামো এবং কেন্দ্রীয় নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে এই সাইবার হামলাটি চালানো হয়েছিল। আকস্মিক এই সাইবার হামলার শিকার হওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে—ব্যাংক মেল্লি, ব্যাংক তেজারত, ব্যাংক সাদোরাত এবং এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক অব ইরান। সাইবার আক্রমণের বিষয়টি টের পাওয়ার পরপরই ইরানের বিশেষ কারিগরি ও তথ্যপ্রযুক্তি দলগুলো দ্রুত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে, যার ফলে সাময়িকভাবে কিছু ব্যাংকিং পরিষেবা কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয়। বিবৃতিতে গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে আরও বলা হয়েছে যে, এই সাইবার হামলার মাধ্যমে হ্যাকাররা গ্রাহকদের কোনো ব্যক্তিগত বা গোপনীয় তথ্যে অননুমোদিত প্রবেশাধিকার পায়নি। অত্যন্ত সুরক্ষিত নেটওয়ার্ক ব্যবস্থার কারণে মূল ডেটাবেজ থেকে কোনো তথ্য মুছে ফেলাও সাইবার অপরাধীদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর সার্বিক অনলাইন কার্যক্রম ও গ্রাহক সেবা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য কারিগরি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত গতিতে চলছে। দেশটির ব্যাংকিং সমন্বয় পরিষদ গ্রাহকদের লেনদেনের নিরাপত্তা বজায় রাখতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করেছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
শ্রীলংকার অর্থ মন্ত্রণালয়ের কম্পিউটার সিস্টেমে ভয়াবহ সাইবার হামলা চালিয়ে ২.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার চুরি করেছে সাইবার অপরাধীরা। এটি এখন পর্যন্ত দেশটির কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানে ঘটা সবচেয়ে বড় সাইবার অর্থচুরির ঘটনা। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) শ্রীলঙ্কা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনায় দেশটির পাবলিক ডেট ম্যানেজমেন্ট অফিসের চারজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব হার্শানা সুরিয়াপেরুমা জানান, চুরি হওয়া এই অর্থটি মূলত অস্ট্রেলিয়ার একটি ঋণ পরিশোধের জন্য পাঠানোর কথা ছিল। তবে নিয়মিত তদন্তের সময় দেখা যায়, নির্ধারিত সেই অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব থেকে হঠাৎ করেই গায়েব হয়ে গেছে। তদন্তে আরও উঠে আসে যে, অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার আগে অপরাধীরা প্রথমে মন্ত্রণালয়ের ই-মেইল সার্ভারে অনুপ্রবেশ করেছিল। বর্তমানে এই ঘটনা নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক ফৌজদারি তদন্ত চলছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে বিদেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সহায়তাও চেয়েছে শ্রীলঙ্কা। এদিকে অস্ট্রেলিয়ার কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তারা এই রহস্যজনক অর্থ লেনদেনের বিষয়ে অবগত আছেন এবং লঙ্কান কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করছেন। ২০২২ সালের চরম অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে দেশটি যখন ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল, ঠিক সেই সময়ে এই বিশাল অংকের অর্থ চুরি লঙ্কান অর্থনীতির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার পর দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক নাগরিকদের সতর্ক করে জানিয়েছে, জাতীয় আর্থিক ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে সাইবার হামলার ঝুঁকি বর্তমানে আগের চেয়ে অনেক বেশি বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।