স্কটল্যান্ড

স্কটল্যান্ডে শিশু স্কাউটদের মসজিদ সফরের ভিডিও ঘিরে বিভ্রান্তিকর প্রচার, ছড়ানো হয়েছে সম্পাদিত ও এআই ছবি
স্কটল্যান্ডে শিশু স্কাউটদের মসজিদ সফরের ভিডিও ঘিরে বিভ্রান্তিকর প্রচার, ছড়ানো হয়েছে সম্পাদিত ও এআই ছবি

স্কটল্যান্ডের একটি মসজিদে শিশু স্কাউটদের শিক্ষামূলক সফরের বাস্তব ভিডিওকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে বিভ্রান্তিকর দাবি। কোথাও ঘটনাটিকে স্কুলের ফিল্ড ট্রিপ, কোথাও শিশুদের বাধ্য করে নামাজ পড়ানো এবং একটি শিশুর সেই নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করার ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এর সঙ্গে ছড়ানো হয়েছে সম্পাদিত ছবি এবং পরে একই ঘটনার নামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি সম্পূর্ণ ভুয়া ছবিও।   ব্রিটিশ ফ্যাক্টচেক সংস্থা ফুল ফ্যাক্টের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মূল ভিডিওটি বাস্তব। এটি স্কটল্যান্ডের একটি বিভার স্কাউট দলের মসজিদ পরিদর্শনের সময় ধারণ করা হয়েছিল। ভিডিওতে কয়েকজন শিশুকে মুসলিমদের নামাজের বিভিন্ন শারীরিক ভঙ্গি অনুসরণ করতে এবং একটি শিশুকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বেশ কিছু পোস্টে ঘটনাটিকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তার সঙ্গে যাচাই করা তথ্যের গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।   ভাইরাল পোস্টগুলোর একটিতে দাবি করা হয়, একজন শিক্ষক তার শিক্ষার্থীদের স্কুলের ফিল্ড ট্রিপে মসজিদে নিয়ে যান। সেখানে একজন ইমাম শিশুদের ইসলাম সম্পর্কে শিক্ষা দেন, মেয়েদের বোরকা পরার পদ্ধতি দেখান এবং সবাইকে নামাজের জন্য নত হতে বলেন। পোস্টটিতে আরও দাবি করা হয়, শুধু একটি ছেলে নত হতে অস্বীকৃতি জানায়।   কিন্তু যাচাই করা তথ্য অনুযায়ী, এটি কোনো স্কুলের শিক্ষার্থীদের ফিল্ড ট্রিপ ছিল না। শিশুরা যুক্তরাজ্যের স্কাউট আন্দোলনের বিভার স্কাউট দলের সদস্য হিসেবে মসজিদটি পরিদর্শন করেছিল।   শিশুদের বাধ্য করে নামাজ পড়ানোর দাবিও অস্বীকার করেছে স্কাউট কর্তৃপক্ষ।   ফুল ফ্যাক্টকে স্কাউটসের একজন মুখপাত্র জানান, শিশুরা প্রকৃত নামাজে অংশ নিচ্ছিল না। ইমাম মুসলমানরা নামাজের সময় যেসব শারীরিক ভঙ্গি করেন, সেগুলো দেখাচ্ছিলেন। শিশুদের ইচ্ছা হলে সেই ভঙ্গি অনুসরণ করার সুযোগ ছিল। এতে অংশ নেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না।   ভিডিওতে একটি শিশুকে অন্যদের মতো নত না হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এই দৃশ্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ইসলামি প্রার্থনায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানো শিশু হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।   তবে শিশুটি কেন দাঁড়িয়ে ছিল কিংবা সে প্রতিবাদ হিসেবে নামাজের ভঙ্গি অনুসরণ করেনি কি না, তা নিশ্চিত করার মতো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। শুধু ভিডিওর দৃশ্য দেখে শিশুটির উদ্দেশ্য সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।   ঘটনাটি নিয়ে বিভ্রান্তি আরও বাড়ে একটি ছবি ভাইরাল হওয়ার পর। ছবিটিতে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুটির পাশে সাদা পোশাক ও টুপি পরা লম্বা দাড়িওয়ালা একজন ব্যক্তিকে দেখা যায়। ছবিটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যেন ওই ব্যক্তিই শিশুদের সামনে দাঁড়িয়ে নামাজের নির্দেশনা দিচ্ছেন।   কিন্তু স্কাউট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি মূল ভিডিওতে ছিলেনই না।   ফুল ফ্যাক্ট মূল ভিডিওর সঙ্গে ভাইরাল ছবিটি তুলনা করে আরও কিছু অসঙ্গতি শনাক্ত করে। স্কাউটসের মুখপাত্রও নিশ্চিত করেন, সাদা পোশাকের দাড়িওয়ালা ব্যক্তিকে পরবর্তীতে ছবিতে যোগ করা হয়েছে। অর্থাৎ বাস্তব ভিডিও থেকে নেওয়া একটি দৃশ্য ডিজিটালি পরিবর্তন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে।   এর কয়েক দিনের মধ্যেই একই মসজিদ সফরের ঘটনা দাবি করে নতুন কিছু ছবিও ছড়িয়ে পড়ে। এবার ছবিগুলো শুধু সম্পাদিত নয়, পুরোপুরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি।   ১০ জুন প্রকাশিত আরেকটি যাচাই প্রতিবেদনে ফুল ফ্যাক্ট জানায়, এসব ছবির শিশু, পোশাক ও কক্ষের সঙ্গে প্রকৃত ভিডিওর দৃশ্যের মিল নেই। ছবিগুলোতে এমন ডিজিটাল চিহ্নও পাওয়া গেছে যা সেগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি হওয়ার বিষয়টি নির্দেশ করে।   ফলে পুরো ঘটনাটিতে বাস্তব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য আলাদা করা গুরুত্বপূর্ণ। স্কটল্যান্ডে বিভার স্কাউটদের একটি দলের মসজিদ পরিদর্শন বাস্তব। সেখানে মুসলমানদের নামাজের ভঙ্গি শিশুদের দেখানো হয়েছিল এবং কয়েকজন শিশু তা অনুসরণ করেছিল। একটি শিশুকে দাঁড়িয়ে থাকতেও দেখা গেছে।   কিন্তু শিশুদের বাধ্য করে নামাজ পড়ানোর দাবি যাচাই করা যায়নি। বরং স্কাউট কর্তৃপক্ষ বলেছে, অংশগ্রহণ ছিল ঐচ্ছিক। একইভাবে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুটি ধর্মীয় কারণে প্রতিবাদ করেছিল, এমন দাবিরও স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   ঘটনাটিকে স্কুলের শিক্ষার্থীদের ফিল্ড ট্রিপ হিসেবে উপস্থাপন করাও সঠিক নয়। আর ভাইরাল হওয়া দাড়িওয়ালা ব্যক্তিসহ ছবিটি সম্পাদিত বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।   এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাও নয়। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রিটেনে ইসলাম ও মুসলিমদের ঘিরে আরও বেশ কয়েকটি বিভ্রান্তিকর ছবি, ভিডিও ও দাবি শনাক্ত করেছে ফুল ফ্যাক্ট। এর মধ্যে ব্রিটেনে শরিয়াহ আইন চালুর দাবি, হালাল নীতির কারণে যুক্তরাজ্যের স্টারবাকসে কুকুর নিষিদ্ধ করার দাবি এবং লন্ডনে হালাল খাদ্যের দাবিতে মুসলিমদের বিশাল মিছিলের নামে ছড়ানো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ভিডিও রয়েছে।   এসব ঘটনার মধ্যে কোনো সংগঠিত যোগসূত্র রয়েছে কিংবা নির্দিষ্ট কোনো পক্ষ সমন্বিতভাবে ইসলামবিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ইসলাম ও মুসলিমদের ঘিরে বাস্তব ঘটনার সঙ্গে বিভ্রান্তিকর বর্ণনা, সম্পাদিত ছবি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি কনটেন্ট যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার একাধিক ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে নথিবদ্ধ হয়েছে।   স্কটল্যান্ডের শিশু স্কাউটদের মসজিদ সফরের ঘটনাটি দেখায়, একটি বাস্তব ভিডিওর সঙ্গে অযাচাইকৃত ব্যাখ্যা এবং পরিবর্তিত বা কৃত্রিম ছবি যুক্ত হলে মূল ঘটনা কত দ্রুত ভিন্ন বর্ণনায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। ধর্মের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে তাই ভাইরাল ছবি বা ভিডিওর ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে মূল ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।

ইসতিয়াক আহমেদ জুলাই ২৬, ২০২৬ ১৪:০
স্বপ্নের বাড়ি কিনলেও অতিরিক্ত ব্যয় ও নানা সমস্যার কারণে শেষ পর্যন্ত সেটি বিক্রি করে দেন এই দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত
স্বপ্নের বাড়ি কেনাই ডেকে আনল বিপত্তি: দুই বছরের মাথায় ফ্ল্যাটে ফিরতে বাধ্য হলেন এডিনবার্গের দম্পতি

নিজস্ব একটি বাড়ি কেনার স্বপ্ন অনেকেরই থাকে। বড় উঠান, ব্যক্তিগত বাগান, আলাদা কাজের ঘর কিংবা প্রকৃতির কাছাকাছি থাকার আকাঙ্ক্ষা মানুষকে বাড়ি কেনার সিদ্ধান্তে উৎসাহিত করে। কিন্তু বাস্তবে সেই স্বপ্ন অনেক সময় অতিরিক্ত খরচ, নিয়মিত মেরামত এবং জীবনযাপনের বাস্তবতার সঙ্গে মিল খুঁজে পায় না।   স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় বসবাসকারী সাংবাদিক ও লেখক সিওভান বল এবং তার স্ত্রীও এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই গেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডারে প্রকাশিত এক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাভিত্তিক লেখায় তিনি জানিয়েছেন, বহু প্রত্যাশা নিয়ে কেনা বাড়িতে দুই বছরের কিছু বেশি সময় থাকার পর তারা সেটি বিক্রি করে আবার একটি আধুনিক অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে গেছেন। তার ভাষায়, সিদ্ধান্তটি ছিল আর্থিক ও ব্যক্তিগত, দুই দিক থেকেই সঠিক।   সিওভান জানান, ১৯৮০-এর দশকে নির্মিত প্রায় ৯৫০ বর্গফুটের দুই তলা বাড়িটি প্রথম দেখাতেই তাদের ভালো লেগে যায়। বাড়িটিতে ছিল ব্যক্তিগত ছোট একটি বাগান, একটি চিলেকোঠা, আলাদা কাজের ঘর এবং গাছপালা রাখার জন্য কাচঘেরা একটি কক্ষ। শহরের কেন্দ্র থেকে কিছুটা দূরে হলেও বাজেটের মধ্যে এমন বাড়ি পাওয়ায় তারা সেটিই কেনার সিদ্ধান্ত নেন।   তবে সেখানে বসবাস শুরু করার পরই বাস্তবতা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে থাকে। বাড়িটির বয়স প্রায় ৫০ বছর হওয়ায় নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের মেরামতের প্রয়োজন পড়তে থাকে। এক ঝড়ে ছাদের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে টালি বদলাতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়। এছাড়া বয়লার মেরামত, দেয়ালের ফাটল ঠিক করা এবং ছোটখাটো নানা সংস্কারের কাজ প্রায় নিয়মিতই চলতে থাকে।   শুধু মেরামতের খরচই নয়, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিলও তাদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি আসে। আগে অ্যাপার্টমেন্টে থাকার সময় নিচের তলার বাসিন্দাদের তাপ উপরের ফ্ল্যাটেও পৌঁছাত, ফলে আলাদা করে বেশি গরম করার প্রয়োজন হতো না। কিন্তু আলাদা বাড়িতে সেই সুবিধা ছিল না। বাড়ির নকশার কারণে ওপরের তলা গরম থাকলেও নিচের তলা অনেকটাই ঠান্ডা থেকে যেত। এই সমস্যা সমাধানে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন ছিল, যা ব্যয়বহুল।   এরই মধ্যে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় সিওভানের শারীরিক অবস্থা। তিনি জানান, আগে থেকেই চলাফেরা-সংক্রান্ত একটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা ছিল। বাড়িতে ওঠার কয়েক মাসের মধ্যেই তার চলাচলের সক্ষমতা দ্রুত কমতে শুরু করে।   দুই তলা বাড়ির সিঁড়িই তখন তার জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে ওঠে। কারণ রান্নাঘর ও বাথরুম ছিল ভিন্ন ভিন্ন তলায়। প্রতিদিন কয়েকবার সিঁড়ি ব্যবহার করতে গিয়ে তাকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হতো। ভবিষ্যতে হুইলচেয়ার ব্যবহারের প্রয়োজন হতে পারে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন। কিন্তু বাড়ির নকশার কারণে সেখানে সিঁড়িতে লিফট বসানোও সহজ ছিল না।   শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে ব্যক্তিগত বাগানটিও আর পরিচর্যা করা সম্ভব হচ্ছিল না। অন্যদিকে তার স্ত্রীও কর্মব্যস্ত থাকায় নিয়মিত বাগানের দেখাশোনা করা সম্ভব হচ্ছিল না।   এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তারা বাড়িটি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেন। বাড়ি বিক্রির ছয় সপ্তাহের মধ্যেই এডিনবরার শহরের কেন্দ্রের কাছাকাছি একটি আধুনিক অ্যাপার্টমেন্ট কিনে সেখানে চলে যান।   নতুন অ্যাপার্টমেন্টে সব প্রয়োজনীয় কক্ষ একই তলায় হওয়ায় চলাফেরা অনেক সহজ হয়েছে বলে জানান সিওভান। পাশাপাশি বাড়িটির জ্বালানি দক্ষতা বেশি হওয়ায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিলও আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ভবনের বাইরের রক্ষণাবেক্ষণের খরচও অন্য ফ্ল্যাট মালিকদের সঙ্গে ভাগাভাগি হওয়ায় বড় ধরনের ব্যয়ের ঝুঁকি নেই।   এছাড়া গণপরিবহন, রেস্তোরাঁ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বন্ধুদের বাসার কাছাকাছি থাকায় তাদের সামাজিক জীবনও আগের তুলনায় অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়েছে।   সিওভানের মতে, একটি বাড়ি কাগজে-কলমে যতই আকর্ষণীয় মনে হোক না কেন, সেটি সবার জীবনধারা বা শারীরিক অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে যাবে, এমন নয়। তাই বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট কেনার আগে শুধু সৌন্দর্য বা আকার নয়, দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের খরচ, জ্বালানি ব্যয়, অবস্থান এবং নিজের জীবনযাপনের বাস্তব চাহিদাও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ২৩, ২০২৬ ১৪:০
শিশুকন্যার মৃত্যুর ঘটনায় আদালতে দোষী সাব্যস্ত কোর্টনি গার্টশোর। ছবি: সংগৃহীত
হেয়ার ড্রায়ারের তাপে ৩ মাসের শিশুর মৃত্যু, মাকে দোষী সাব্যস্ত করল আদালত

স্কটল্যান্ডে তিন মাস বয়সী নিজের শিশুকন্যার মৃত্যুর ঘটনায় ২৮ বছর বয়সী এক মাকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। অভিযোগ, তার অসতর্ক আচরণে হেয়ার ড্রায়ার থেকে বের হওয়া অতিরিক্ত গরম বাতাসে শিশুটি মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয় এবং পরে তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত ঘটনাটিকে 'কালপেবল হোমিসাইড' বা অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে রায় দিয়েছে।   স্কটল্যান্ড পুলিশের এক বিবৃতি এবং বিবিসি নিউজ-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দোষী সাব্যস্ত হওয়া ওই নারীর নাম কোর্টনি গার্টশোর। তার তিন মাস বয়সী মেয়ে ডালিয়া-রোজ ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর স্কটল্যান্ডের পিটারহেডে মারা যায়। সম্প্রতি অ্যাবারডিনের আদালতে মামলার বিচার শেষে জুরি গার্টশোরকে দোষী সাব্যস্ত করেন।   বিচার চলাকালে আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, শিশুটি মায়ের তত্ত্বাবধানে থাকা অবস্থায় গার্টশোর একটি হেয়ার ড্রায়ার চালু করেন। সেখান থেকে বের হওয়া অতিরিক্ত গরম বাতাসে শিশুটির শরীরের প্রায় ১৮ শতাংশ অংশ দগ্ধ হয়। গুরুতর দগ্ধ হওয়ার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, পরে গার্টশোর জরুরি সেবায় ফোন করে জানান, তিনি তার ঘুমন্ত শিশুকে অস্বাভাবিক বেগুনি বর্ণের অবস্থায় দেখতে পেয়েছেন। জরুরি সেবা কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ডালিয়া-রোজকে মৃত ঘোষণা করেন।   শিশুটির মৃত্যুর পর পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত শুরু করে। তদন্তে বিভিন্ন আলামত, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের পর ২০২৩ সালের নভেম্বরে কোর্টনি গার্টশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে বিচার চলাকালে তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। বিবিসি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, জুরি রায় ঘোষণার পর আদালতকক্ষে গার্টশোরকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। তবে জুরির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে তাকে অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ডের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়।   স্কটল্যান্ড পুলিশের গোয়েন্দা কর্মকর্তা জেমস ক্যালেন্ডার এক বিবৃতিতে বলেন, শিশুরা সম্পূর্ণ অসহায় এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বড়দের দায়িত্ব। কোনো শিশুর মৃত্যু সবসময়ই অত্যন্ত মর্মান্তিক, তবে একজন অভিভাবকের অবহেলায় শিশুর মৃত্যু আরও বেশি উদ্বেগজনক ও বেদনাদায়ক। আদালত জানিয়েছেন, আগামী ১৪ আগস্ট কোর্টনি গার্টশোরের সাজা ঘোষণা করা হবে। তখন আদালত মামলার সব দিক বিবেচনা করে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত শাস্তি নির্ধারণ করবেন।   ঘটনাটি স্কটল্যান্ডে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শিশুদের নিরাপত্তা, অভিভাবকের দায়িত্ব এবং ঘরে ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির নিরাপদ ব্যবহার নিয়ে নতুন করে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে এসেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় মুসলিমদের ওপর হামলা, আহত ৫—কড়া প্রতিক্রিয়া ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর

স্কটল্যান্ডের এডিনবরা শহরে মুসলিমদের লক্ষ্য করে চালানো এক ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর দেশটির কাউন্টার-টেরোরিজম বা সন্ত্রাসবাদ দমন শাখার গোয়েন্দারা জোর তদন্ত শুরু করেছেন। শুক্রবার গভীর রাতে শহরের পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলে একাধিক হামলার খবর পাওয়ার পর স্কটল্যান্ড পুলিশ ৩৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।   পুলিশ জানিয়েছে, এই হামলায় আহত পাঁচজনের বয়স যথাক্রমে ২২, ২৪, ২৭ এবং ৩৯ বছর। তাদের বিভিন্ন ধরনের জখম হয়েছে এবং তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। তবে কারও আঘাতই জীবনসংকটাপন্ন নয়। এদিকে, 'মুসলিম এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট' নামের একটি দাতব্য সংস্থা এবং 'স্কটিশ অ্যাসোসিয়েশন অফ মস্কস' জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে অনেকেই মুসলিম এবং স্থানীয় মসজিদে নামাজ পড়ে ফেরার পথে তাদের ওপর এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়।   যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, এই হামলাটি স্পষ্টতই মুসলিম-বিরোধী বিদ্বেষ থেকে অনুপ্রাণিত। তিনি এমন ঘটনা কোনোভাবেই বরদাস্ত করবেন না জানিয়ে অভিযুক্তকে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তির মুখোমুখি করার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদও এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, দেশে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও সহিংসতার কোনো স্থান নেই এবং এটি যুক্তরাজ্যের প্রকৃত রূপ নয়।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দেখা যায়, শার্টবিহীন এক ব্যক্তি হাতে লম্বা একটি অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং একটি রেস্তোরাঁর দরজায় আঘাত করছে। অন্য একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ ওই ব্যক্তিকে মাটিতে চেপে ধরে রেখেছে এবং সে 'দেশ রক্ষার' কথা বলে চিৎকার করছে। যুক্তরাজ্যের মুসলিম কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ঘটনায় পুরো মুসলিম সম্প্রদায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এবং এটি বিদ্বেষমূলক রাজনৈতিক প্রচারণার প্রত্যক্ষ ফলাফল।   পুলিশ স্কটল্যান্ডের অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ কনস্টেবল ক্যাট্রিওনা প্যাটন এই ঘটনাকে 'মর্মান্তিক' আখ্যা দিয়ে আশ্বস্ত করেছেন যে, স্কটল্যান্ডে বর্ণবাদ বা ধর্মভিত্তিক বিদ্বেষের কোনো জায়গা নেই।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ২০, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
স্কটল্যান্ডের নির্বাচনে ইসরায়েলি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনলাইন হস্তক্ষেপের অভিযোগ

স্কটল্যান্ডের সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনলাইন হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাককোরের বিরুদ্ধে। ফ্রান্সের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ভিজিনাম দাবি করেছে, প্রতিষ্ঠানটি সমন্বিত ভুয়া অনলাইন প্রচারণার মাধ্যমে স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি, স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি (এসএনপি) এবং স্কটিশ সরকারকে লক্ষ্য করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়েছে।   ফরাসি সংস্থাটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বিভিন্ন প্রক্সি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে একাধিকবার স্কটিশ সরকার, এসএনপি এবং জন সুইনির বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক প্রচারণা পরিচালিত হয়। একই ধরনের কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের পৌর নির্বাচন, ফ্রান্স, টোগো এবং অ্যাঙ্গোলার নির্বাচনী প্রক্রিয়াতেও পরিচালিত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।   ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নুর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ভিজিনামের ডিজিটাল হস্তক্ষেপ বিভাগের প্রধান মার্ক-অঁতোয়ান ব্রিলাঁ বলেন, তদন্তে ব্ল্যাককোরকে এই কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে এসব অপারেশনের পেছনে কারা ছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে মে মাস পর্যন্ত স্কটল্যান্ডের আঞ্চলিক নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনী সময়জুড়ে একটি সমন্বিত অনলাইন প্রচারণা চালানো হয়। এ উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অন্তত ২৫৬টি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয় এবং প্রায় ১ হাজার ৪০০টি মন্তব্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়।   প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জন সুইনিকে লক্ষ্য করে ৬৫২ বার, এসএনপিকে লক্ষ্য করে ৩৩৮ বার এবং স্কটিশ সরকারকে লক্ষ্য করে ১১২ বার প্রচারণামূলক বার্তা ছড়ানো হয়েছে।   স্কটিশ সরকার ও ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি দীর্ঘদিন ধরে গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নীতির সমালোচনা করে আসছেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপও নিয়েছে স্কটিশ প্রশাসন।   ব্ল্যাককোর নিজেদেরকে “আধুনিক তথ্যযুদ্ধের জন্য নির্মিত একটি অভিজাত ইনফ্লুয়েন্স ও সাইবার প্রযুক্তি কোম্পানি” হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অভিযোগ প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট সরিয়ে ফেলা হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েল সরকার জানিয়েছে, ফরাসি প্রতিবেদনের বিস্তারিত পর্যালোচনার পর বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তবে বিদেশি নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।   এদিকে জন সুইনি বলেছেন, অনলাইন বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা গণতন্ত্রের জন্য একটি বাস্তব ও তাৎক্ষণিক হুমকি। এ ধরনের হস্তক্ষেপ মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য সরকারের আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।   ফ্রান্সের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও বিদেশি প্রভাব বিস্তারের অনুরূপ ঝুঁকি রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইউরোপীয় রাজনৈতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ১২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

US Releases Official 10-Step Guide to Becoming an American Citizen Through Naturalisation

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেতে ১০ ধাপের সরকারি নির্দেশনা প্রকাশ, গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য যা জানা জরুরি

বায়জিদ হাসান জুলাই ২৪, ২০২৬ ১৪:০