সামরিক ব্যয়

ইরানের তৈরি ড্রোনগুলো প্রদর্শনীতে রাখা হয়েছে। ফাইল ছবি: এএফপি
সস্তা ড্রোন, ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা: ইরানি হামলা ঠেকাতে চাপে উপসাগরীয় দেশগুলো

ইরান থেকে ছোড়া সস্তা ড্রোন মোকাবিলায় অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ব্যবহার করতে হচ্ছে উপসাগরীয় দেশগুলোকে—যা সামরিকভাবে কার্যকর হলেও অর্থনৈতিকভাবে হয়ে উঠছে বড় চ্যালেঞ্জ। চলমান সংঘাতে ড্রোন প্রতিরোধে ব্যয়বহুল এই কৌশল নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্লেষকদের মধ্যে।   পশ্চিমা কর্মকর্তারা বলছেন, নিচু দিয়ে ধীরগতিতে উড়ে আসা ইরানি ড্রোন ধ্বংস করতে যুদ্ধবিমান এখন প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। তবে এই পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। ওয়াশিংটনভিত্তিক Center for Security and Emerging Technology-এর গবেষক লরেন কান এ প্রসঙ্গে বলেন, এই ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় ধরে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।   বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরানের ব্যবহৃত Shahed-136 ড্রোনের প্রতিটির দাম মাত্র ২০ থেকে ৫০ হাজার ডলার। বিপরীতে একটি F-16 Fighting Falcon যুদ্ধবিমান আকাশে এক ঘণ্টা ওড়াতেই খরচ হয় ২৫ হাজার ডলারের বেশি। শুধু তাই নয়, এসব ড্রোন ভূপাতিত করতে যে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে, তার খরচ আরও বেশি। যেমন, আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য AIM-9X Sidewinder ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিটির দাম প্রায় ৪ লাখ ৮৫ হাজার ডলার। আর AIM-120 AMRAAM ক্ষেপণাস্ত্রের দাম ১০ লাখ ডলারেরও বেশি। ফলে তুলনামূলক সস্তা ড্রোন ঠেকাতে ব্যয়বহুল অস্ত্র ব্যবহারের এই সমীকরণকে অনেকেই ‘মশা মারতে কামান দাগানো’র সঙ্গে তুলনা করছেন।   Center for Strategic and International Studies-এর তথ্য অনুযায়ী, এই ধরনের ব্যয়বৈষম্য দীর্ঘমেয়াদে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিতে পারে। একই মত দিয়েছেন Center for Naval Analyses-এর গবেষক স্যামুয়েল বেন্ডেট। তার মতে, সস্তা হুমকি মোকাবিলায় তুলনামূলক কম খরচের বিকল্প ব্যবস্থাই বেশি কার্যকর। বর্তমানে উপসাগরীয় দেশগুলো যুদ্ধবিমান থেকে ভারী গুলি ব্যবহার করে ড্রোন ভূপাতিত করার চেষ্টা করছে, যা ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় সস্তা। তবে এতে ঝুঁকিও রয়েছে—কারণ লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি যেতে হয় এবং জনবহুল এলাকায় ব্যবহারে বেসামরিক হতাহতের আশঙ্কা থাকে।   এদিকে, ইসরায়েল তাদের Iron Dome প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি লেজারভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে, যেখানে প্রতি ড্রোন ধ্বংসে খরচ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। সংযুক্ত আরব আমিরাতও এ ধরনের প্রযুক্তি কেনার কথা ভাবছে। পরিস্থিতির জটিলতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইরানের ব্যাপক ড্রোন হামলা। গত ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে দেশটি তিন হাজারের বেশি ড্রোন ছুড়েছে বলে জানা গেছে। যদিও অধিকাংশই প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে, তবুও কিছু ড্রোন সামরিক ঘাঁটি ও জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হেনেছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ব্যয় নয়—এই ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিমানবাহিনীর ওপর অতিরিক্ত চাপও তৈরি করছে। Stimson Center-এর গবেষক কেলি গ্রিকো মনে করেন, দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধবিমান সর্বোচ্চ সক্ষমতায় ব্যবহার করলে রক্ষণাবেক্ষণের চাপ বাড়বে এবং কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলো এখন বিকল্প পথ খুঁজছে। ইউক্রেনের অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ইন্টারসেপ্টর ড্রোন, হেলিকপ্টার এবং সাশ্রয়ী প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে তারা। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ইউক্রেনের তৈরি প্রায় ১০ হাজার ইন্টারসেপ্টর ড্রোন মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়েছে বলেও জানা গেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে শুধু ড্রোন ঠেকানোর ওপর নয়, বরং ইরানের ড্রোন উৎক্ষেপণ সক্ষমতা কত দ্রুত কমানো যায়, তার ওপর। দীর্ঘমেয়াদে শুধু প্রতিরোধ নয়—হুমকির উৎস নিয়ন্ত্রণই হবে মূল কৌশল।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি সংগৃহীত
২০ দিনে ৭৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ইসরাইলের; মার্কিন খরচ ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে

ইরানে সামরিক আগ্রাসন চালাতে গিয়ে প্রথম ২০ দিনেই প্রায় ৬৪০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় করেছে ইসরাইল, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭৭ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকার সমান। ইসরাইলি দৈনিক পত্রিকা 'হারেতজ'-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি ডলারের বিনিময় হার ১২১.৮৬৭ টাকা ধরে এই হিসাব পাওয়া গেছে।   তথ্যমতে, এই যুদ্ধে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩২ কোটি ডলার বা ১০০ কোটি শেকেল ব্যয় করছে ইসরাইল। দেশটির সরকার যুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ২৫০ কোটি ডলারের বাজেট বরাদ্দ করলেও বর্তমান ব্যয়ের হার সেই সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ফলে সেনাবাহিনী অতিরিক্ত অর্থায়নের আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যেই ইন্টারসেপ্টর মিসাইলসহ জরুরি সামরিক সরঞ্জাম কেনাকাটার জন্য রোববার ৮২৫ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ বাজেট অনুমোদন দিয়েছে ইসরাইল সরকার।   এদিকে সংঘাতের আর্থিক বোঝা কেবল ইসরাইলের ওপরই নয়, বড় ধরনের ব্যয়ের মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। হোয়াইট হাউসের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কেভিন হ্যাসেট জানিয়েছেন, অভিযান শুরুর পর থেকে ওয়াশিংটন এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি (১২ বিলিয়ন) ডলার ব্যয় করেছে। পেন্টাগন ইতিমধ্যে কংগ্রেসের কাছে ২০ হাজার কোটি ডলারের বেশি একটি সম্পূরক অর্থায়ন প্যাকেজ অনুমোদনের অনুরোধ জানিয়েছে।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীয়সহ প্রায় ১ হাজার ৩০০ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে এই ক্রমবর্ধমান সংঘাত কেবল প্রাণহানিই নয়, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অর্থনীতিতেও ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই ৬ বিলিয়ন ডলার খরচ যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রথম সপ্তাহেই প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগনের কর্মকর্তারা কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, এর মধ্যে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবারুদ এবং উন্নত প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর ব্যবস্থার পেছনে।   তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে ব্যবহৃত উন্নত ইন্টারসেপ্টর এবং বিভিন্ন ধরনের মিউনিশনেই সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে। কংগ্রেসে আলোচনার সময় প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, অভিযান চালিয়ে যেতে হলে আরও অর্থের প্রয়োজন হবে এবং ব্যবহৃত অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করতে হবে।   মার্কিন বাহিনী এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, নৌযান এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, যা ধ্বংস হওয়ায় ইরানের পাল্টা আক্রমণের সক্ষমতা কমে গেছে বলে দাবি করছে যুক্তরাষ্ট্র।   মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান ব্র্যাড কুপার  জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনের তুলনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ৯০ শতাংশ কমেছে এবং ড্রোন হামলা কমেছে প্রায় ৮৩ শতাংশ।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মতে, এখনও ইরানের হাতে শক্তিশালী অস্ত্রভাণ্ডার রয়েছে এবং দেশটির প্রায় ৫০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অক্ষত আছে, যা ভবিষ্যতে সংঘাতকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধে প্রথম ১০০ ঘণ্টাতেই ৩৭০ কোটি ডলার ছাড়াল যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়

ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খরচের এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্ক-ট্যাঙ্ক ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (CSIS)-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণা অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম ১০০ ঘণ্টাতেই পেন্টাগনের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩.৭ বিলিয়ন (৩৭০ কোটি) মার্কিন ডলার। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে খরচ হচ্ছে প্রায় ৯০ কোটি ডলার। গবেষক মার্ক কানসিয়ান এবং ক্রিস পার্কের বিশ্লেষণ বলছে, এই বিশাল ব্যয়ের সিংহভাগই (প্রায় ৩.৫ বিলিয়ন ডলার) নিয়মিত বাজেটের বাইরে। মূলত অত্যাধুনিক স্টিলথ বোমারু বিমান পরিচালনা এবং বিপুল পরিমাণ উন্নতমানের যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহারের কারণেই এই উচ্চ ব্যয় হচ্ছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুদ্ধের প্রথম চার দিনে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন ধরনের ২ হাজারেরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমা ব্যবহার করেছে, যা পুনরায় মজুত করতে খরচ হবে আরও ৩.১ বিলিয়ন ডলার। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধের এই উচ্চ ব্যয় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। পেন্টাগনকে শীঘ্রই অতিরিক্ত তহবিলের জন্য কংগ্রেসের দ্বারস্থ হতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং তেলের দাম বাড়তে থাকায় এই যুদ্ধ দেশীয় রাজনীতিতে জনরোষ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অনুসারীরা, যারা বিদেশের যুদ্ধে জড়ানোর বিরোধী, তাদের মধ্যেও এই ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে। আল জাজিরার ওয়াশিংটন প্রতিনিধি রোজিল্যান্ড জর্ডান জানিয়েছেন, টমাহক (Tomahawk), প্যাট্রিয়ট (Patriot) এবং থাড (THAAD) ইন্টারসেপ্টরের মতো ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি মেটাতে পেন্টাগন ইতিমধ্যে ৫০ বিলিয়ন ডলারের একটি সম্পূরক বাজেট অনুরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অর্থনৈতিক ব্যয়ের পাশাপাশি এই যুদ্ধের মানবিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্রও অত্যন্ত ভয়াবহ। ইরানের রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার হামলা শুরুর পর থেকে ইরানে শিশুসহ অন্তত ১,৩৩২ জন নিহত হয়েছেন। লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১২৩ জন। এছাড়া যুদ্ধে ৬ মার্কিন সেনাসহ ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতেও বেশ কিছু প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ইরানের ওপর হামলা আরও জোরালো করার ঘোষণা দেয়ায় আগামী দিনগুলোতে যুদ্ধের খরচ এবং ক্ষয়ক্ষতি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৬, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0