যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় কয়েক দফা ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসের মধ্যে প্রাণঘাতী আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, হিল কান্ট্রি, ইন্টারস্টেট-৩৫ করিডর, সাউদার্ন এডওয়ার্ডস প্ল্যাটো ও রিও গ্র্যান্ডে প্লেইনসের কিছু অংশে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বন্যা পর্যবেক্ষণ সতর্কতা কার্যকর থাকবে। মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ভোরে হালনাগাদ করা পূর্বাভাসে সংস্থাটি বলেছে, সতর্কতার আওতাভুক্ত কোনো কোনো এলাকায় মানুষের জীবন হুমকিতে ফেলতে পারে—এমন বন্যা দেখা দিতে পারে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বারবার বৃষ্টি ও বজ্রঝড় হওয়ার আশঙ্কা থাকায় একই জায়গায় অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক দফা বৃষ্টি হতে পারে। এতে মাটি পানি ধারণের ক্ষমতা হারালে নদী, খাল, শহরের সড়ক ও নিচু এলাকায় পানি দ্রুত বাড়তে পারে। সতর্কতার আওতাভুক্ত এলাকাগুলোতে মোট দুই থেকে ছয় ইঞ্চি বৃষ্টি হতে পারে। তবে রিও গ্র্যান্ডে প্লেইনস, সাউদার্ন এডওয়ার্ডস প্ল্যাটো এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় হিল কান্ট্রির বিচ্ছিন্ন কিছু স্থানে ১০ থেকে ১৫ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এত বেশি বৃষ্টি অল্প সময়ের মধ্যে হলে ছোট নদী, নালা ও পাহাড়ি জলপথ মুহূর্তের মধ্যে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। দক্ষিণ-পশ্চিম টেক্সাসের শুষ্ক নদীখাত বা স্থানীয়ভাবে ‘অ্যারোইয়ো’ নামে পরিচিত জলপথগুলো নিয়েও বিশেষ উদ্বেগ রয়েছে। সাধারণ সময়ে এসব খাত প্রায় শুকনো থাকলেও উজানে ভারী বৃষ্টি হলে কোনো পূর্বসংকেত ছাড়াই সেখানে প্রবল স্রোত নেমে আসতে পারে। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস সতর্ক করেছে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আকস্মিক বন্যার পাশাপাশি এ ধরনের জলপথেও প্রাণঘাতী প্লাবন দেখা দিতে পারে। ক্যারভিল এলাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত বন্যা পর্যবেক্ষণ সতর্কতা জারি রয়েছে। মঙ্গলবার সেখানে বৃষ্টির সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ এবং ভারী বৃষ্টিসহ বজ্রঝড় হতে পারে। বুধবার ও বৃহস্পতিবারও ধারাবাহিকভাবে বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস রয়েছে। তবে বৃষ্টির পরিমাণ স্থানভেদে ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হতে পারে বলে আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন। ভারী বৃষ্টির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হবে নিচু সড়ক, কালভার্ট, ছোট সেতু, নদীতীর, পার্বত্য খাত ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা দুর্বল শহুরে এলাকায়। সড়কের ওপর পানি জমে গেলে নিচে রাস্তা ধসে গেছে কি না অথবা পানির স্রোত কতটা শক্তিশালী, গাড়ির ভেতর থেকে তা বোঝা কঠিন। অল্প গভীর মনে হওয়া পানিও একটি গাড়িকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যেতে পারে। বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট অঙ্গরাজ্যের জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থাকে প্রয়োজনীয় উদ্ধার ও সহায়তা সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। ১২ জুলাই গভর্নরের কার্যালয় জানায়, ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি থাকা এলাকাগুলোয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করতে রাজ্যের একাধিক সংস্থার জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা সম্পদের মধ্যে রয়েছে দ্রুত প্রবাহিত পানিতে উদ্ধারকারী দল, নৌকা, প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী, উঁচু চাকার যানবাহন এবং ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার। টেক্সাস ন্যাশনাল গার্ড, ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটি, পার্কস অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ ডিপার্টমেন্ট এবং টেক্সাস এঅ্যান্ডএম-এর অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলকে প্রয়োজন অনুযায়ী মোতায়েন করা হতে পারে। সড়ক ও সেতুর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্টেশনকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট, প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ, পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য সংস্থাগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জরুরি চিকিৎসা সহায়তার জন্য অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসাকর্মী ও দুর্গম এলাকায় চলাচল উপযোগী যানবাহনও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গভর্নর অ্যাবট বাসিন্দাদের স্থানীয় আবহাওয়া সতর্কতা নিয়মিত অনুসরণ, পারিবারিক জরুরি পরিকল্পনা প্রস্তুত এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি পানিতে তলিয়ে যাওয়া সড়ক দিয়ে গাড়ি না চালানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, ‘ফ্লাড ওয়াচ’ জারি হওয়ার অর্থ সংশ্লিষ্ট এলাকায় বন্যার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তবে সব জায়গায় বন্যা হবেই—এমন নয়। পরিস্থিতি আরও গুরুতর হলে নির্দিষ্ট এলাকার জন্য ‘ফ্ল্যাশ ফ্লাড ওয়ার্নিং’ জারি করা হতে পারে। এমন সতর্কতা পাওয়ার পর নিচু এলাকা ছেড়ে দ্রুত উঁচু ও নিরাপদ স্থানে যেতে হবে। রাতে আকস্মিক বন্যা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। অন্ধকারে সড়কের পানি, স্রোতের গতি ও ভাঙা অবকাঠামো শনাক্ত করা কঠিন হয়। মোবাইল ফোনে জরুরি আবহাওয়া সতর্কতা চালু রাখা, প্রয়োজনীয় ওষুধ, চার্জার, পরিচয়পত্র, খাবার ও পানিসহ জরুরি ব্যাগ প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। টেক্সাসে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং যাত্রার আগে স্থানীয় সড়কের অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে হিল কান্ট্রি, সান অ্যান্টোনিওর পশ্চিমাঞ্চল, রিও গ্র্যান্ডে প্লেইনস ও দক্ষিণ-পশ্চিম টেক্সাসে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে। বাসা বা কর্মস্থলের কাছে ছোট নদী, শুকনো খাল কিংবা নিচু সড়ক থাকলে পানি বাড়ার আগেই বিকল্প নিরাপদ পথ নির্ধারণ করা জরুরি। আবহাওয়ার পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে। তাই সাধারণ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেখে ঝুঁকি কম ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। সতর্কতার মূল বার্তা হলো—পানিতে ঢাকা রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা নয়; গাড়ি ঘুরিয়ে নিরাপদ পথে ফিরে যেতে হবে।
শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী ‘হিট ডোম’-এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিপজ্জনক তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। দেশটির মূল ভূখণ্ডের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে ১৫ থেকে ২৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেশি তাপমাত্রা অনুভূত হতে পারে। বুধবার পর্যন্ত বিভিন্ন শহরে ৯০টির বেশি স্থানীয় তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙা অথবা ছোঁয়ার আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদেরা। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তাপপ্রবাহের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক শুধু দিনের উচ্চ তাপমাত্রা নয়, বরং অস্বাভাবিক উষ্ণ রাত। সম্ভাব্য রেকর্ডগুলোর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড হতে পারে। রাতেও পর্যাপ্ত ঠান্ডা না হলে মানুষের শরীর দিনের তাপের ধকল কাটিয়ে উঠতে পারে না। এতে হিট এক্সহশন, হিট স্ট্রোক ও হৃদ্রোগজনিত জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। উচ্চচাপের একটি শক্তিশালী বলয় প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন প্লেইনস অঞ্চলের ওপর অবস্থান করছে। পরে এটি দিক পরিবর্তন করে আরও বড় এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, আগামী ১০ দিন বা তারও বেশি সময় ধরে এই ব্যবস্থার প্রভাব থাকতে পারে এবং কোনো কোনো এলাকায় মাসের শেষ পর্যন্ত অস্বাভাবিক গরম অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। হিট ডোম হলো বায়ুমণ্ডলের উচ্চচাপের এমন একটি ব্যবস্থা, যা ঢাকনার মতো গরম বাতাসকে একটি অঞ্চলের ওপর আটকে রাখে। এতে ঠান্ডা বাতাস, মেঘ ও বৃষ্টির প্রবেশ বাধাগ্রস্ত হয়। একই বাতাস বারবার নিচের দিকে নেমে আরও উষ্ণ হতে থাকায় তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ে এবং কয়েক দিন বা সপ্তাহ ধরে একই ধরনের আবহাওয়া স্থায়ী হতে পারে। নেভাদা, ইউটাহ, কলোরাডো, ওয়াইয়োমিং, আইডাহো, মন্টানা, নর্থ ডাকোটা ও সাউথ ডাকোটার বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবার সতর্কতায় উত্তর-পূর্ব মন্টানার কোনো কোনো স্থানে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১১০ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত এবং উত্তর ইউটাহর কিছু উপত্যকায় ১০৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি রাজ্যে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কম হলেও উচ্চ আর্দ্রতার কারণে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। টেক্সাস ও ফ্লোরিডার কিছু এলাকায় রাতের তাপমাত্রা ৮০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা প্রায় ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে না-ও নামতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ সুবিধা নেই—এমন বাড়িতে বসবাসকারী প্রবীণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। প্রবীণ, শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং গৃহহীন মানুষের পাশাপাশি বাইরে কাজ করা কর্মীরা এই তাপপ্রবাহে বিশেষ ঝুঁকিতে রয়েছেন। ডেলিভারি চালক, নির্মাণশ্রমিক, ল্যান্ডস্কেপিং কর্মী, স্ট্রিট ভেন্ডর, কৃষিশ্রমিক এবং গুদাম বা রান্নাঘরের মতো অতিরিক্ত গরম পরিবেশে কাজ করা ব্যক্তিদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা জানিয়েছে, চরম তাপের সতর্কতা কার্যকর থাকা অবস্থায় দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে বাইরের কাজ ও ব্যায়াম এড়িয়ে চলা উচিত। বাইরে কাজ করতেই হলে নিয়মিত পানি পান, ছায়া বা শীতাতপনিয়ন্ত্রিত স্থানে বিরতি এবং হালকা পোশাক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে অতিরিক্ত পরিশ্রম না করার নির্দেশনা রয়েছে। তাপজনিত অসুস্থতার প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে অতিরিক্ত ঘাম, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, মাথাব্যথা ও পেশিতে টান থাকতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত ঠান্ডা স্থানে নিয়ে পানি দিতে হবে। তবে শরীর অত্যন্ত গরম হয়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি, অজ্ঞান হওয়া বা খিঁচুনি হিট স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে। এ অবস্থায় জরুরি চিকিৎসা সহায়তা প্রয়োজন। তীব্র গরমের পাশাপাশি পশ্চিমাঞ্চলের শুষ্ক এলাকাগুলোতে দাবানলের ঝুঁকিও বাড়ছে। উচ্চ তাপমাত্রা মাটি ও গাছপালার আর্দ্রতা দ্রুত কমিয়ে দেয়। এর সঙ্গে বজ্রপাত ও শুষ্ক বাতাস যুক্ত হলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির একটি শুষ্ক মরু এলাকায় সম্প্রতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়া দাবানলের কারণে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি অধ্যুষিত নিউইয়র্কসহ পূর্ব উপকূলের কিছু এলাকা শুরুতে হিট ডোমের কেন্দ্রের বাইরে থাকলেও আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, উচ্চচাপের বলয়টি অবস্থান পরিবর্তন করলে এর প্রভাব উপকূল থেকে উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। ফলে স্থানীয় আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও জরুরি সতর্কতা নিয়মিত অনুসরণ করা প্রয়োজন। বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলো একা বসবাসকারী প্রবীণ স্বজন, অসুস্থ প্রতিবেশী এবং শীতাতপনিয়ন্ত্রণ সুবিধা না থাকা ব্যক্তিদের খোঁজ নেওয়া। কোনো বাড়িতে পর্যাপ্ত ঠান্ডা পরিবেশ না থাকলে স্থানীয় লাইব্রেরি, কমিউনিটি সেন্টার বা নগর কর্তৃপক্ষ পরিচালিত কুলিং সেন্টার ব্যবহার করা যেতে পারে। বন্ধ গাড়ির ভেতরে শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি বা পোষা প্রাণীকে অল্প সময়ের জন্যও রেখে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বাইরের তাপমাত্রা তুলনামূলক কম মনে হলেও বন্ধ গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রাণঘাতী পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, এই তাপপ্রবাহের আকার, তীব্রতা ও স্থায়িত্ব একে বিশেষভাবে বিপজ্জনক করে তুলেছে। দিনের পাশাপাশি রাতেও স্বস্তি না মিললে শরীরের ওপর তাপের প্রভাব জমতে থাকে। তাই তাপমাত্রা কিছুটা কম মনে হলেও সরকারি সতর্কতা উপেক্ষা না করে পানি পান, বিশ্রাম এবং ঠান্ডা পরিবেশে থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।