- প্রচ্ছদ
- Topic
অ্যামাজন
২৭ বছর বয়সেই বছরে প্রায় ৪৬ লাখ রুপির চাকরি ছেড়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন ভারতের লখনউয়ের তরুণ শারদেন্দু তিওয়ারি। অ্যামাজনে ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি বৈশ্বিক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসেও কাজের সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তারপরও ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণে করপোরেট চাকরি ছেড়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শারদেন্দু তিওয়ারি এখন গয়ার অফিসার্স ট্রেনিং একাডেমি থেকে প্রশিক্ষণ শেষ করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে কমিশন পেয়েছেন। বড় অঙ্কের বেতন ও ভালো ক্যারিয়ার ছেড়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে তার গল্পটি আলোচনায় এসেছে। লখনউতে বেড়ে ওঠা তিওয়ারি কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। পরে চণ্ডীগড়ের পিইসি থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে প্রযুক্তি খাতে ক্যারিয়ার শুরু করেন। অ্যামাজনে ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার সময় তার ক্যারিয়ার দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল। পরে এয়ারবাসেও সুযোগ পান তিনি। তবে প্রযুক্তি খাতে সফল ক্যারিয়ার গড়ে উঠলেও সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা তার কখনো হারিয়ে যায়নি। ছোটবেলা থেকেই সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি তার আগ্রহ ছিল। এর পেছনে বড় ভূমিকা ছিল তার বাবা অনারারি ক্যাপ্টেন রাজ কুমার তিওয়ারির। তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর আর্মি সার্ভিস কোরে ৩৬ বছর দায়িত্ব পালন করে অবসর নেন। বাবার সামরিক জীবনের প্রভাবেই তিওয়ারির মধ্যেও সেনাবাহিনীতে কাজ করার আগ্রহ তৈরি হয়। চাকরি ও আর্থিকভাবে ভালো অবস্থানে পৌঁছানোর পরও তিনি সেই স্বপ্ন থেকে সরে আসেননি। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা হওয়ার বাছাই প্রক্রিয়ায় কয়েকবার ব্যর্থ হলেও তিনি চেষ্টা চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত টেকনিক্যাল এন্ট্রি রুটে গয়ার অফিসার্স ট্রেনিং একাডেমিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পান তিওয়ারি। প্রযুক্তি খাতে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে সেনাবাহিনীতে নতুন ক্যারিয়ার শুরু করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। প্রশিক্ষণের সময়ও তার পারফরম্যান্স ছিল উল্লেখযোগ্য। একাধিক ক্যাডেট দায়িত্বের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিনিয়র আন্ডার অফিসার পদে দায়িত্ব পান তিনি, যা একাডেমিতে ক্যাডেটদের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রায় ৪৬ লাখ রুপির চাকরি ছেড়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না। তবে তিওয়ারির কাছে অর্থনৈতিক সুবিধার চেয়ে দেশের সেবা করার দীর্ঘদিনের স্বপ্নই শেষ পর্যন্ত বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মায়ামি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে অ্যামাজনের একটি কার্গো বিমান দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচজনের পরিচয় প্রকাশ করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত আরও জোরদার করেছে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড বা এনটিএসবি। রোববার দুপুরে পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মায়ামিতে আসা বোয়িং ৭৬৭-৩০০ বিমানটি রানওয়েতে অবতরণের সময় নির্ধারিত অংশের বাইরে চলে যায়। বিমানটি রানওয়ের শেষ প্রান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ ফুট এগিয়ে গিয়ে প্রথমে একটি ভ্যানে ধাক্কা দেয়। পরে বিমানবন্দরের সীমানার বেড়া ভেঙে পাশের সড়কে গিয়ে একটি গাড়িতেও আঘাত করে। মায়ামি-ডেড শেরিফ রোজি কর্দেরো-স্টুটজ মঙ্গলবার নিহত পাঁচজনের পরিচয় প্রকাশ করেন। তারা হলেন ৫৫ বছর বয়সী রোলান্ডো আলেমান লিওন, ৫৩ বছর বয়সী ইয়োয়েল রদ্রিগেজ নারানহো, ৭৫ বছর বয়সী হুলিও সি. পিনেদা, ৫৩ বছর বয়সী কার্লোস আকোস্তা ফাহার্দো এবং ৪৭ বছর বয়সী হাভিয়েরকিস রেইস কেভেদো। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচজনই প্রফেশনাল ওশান সার্ভিস কর্পোরেশনের কর্মী ছিলেন। বিমান পরিষ্কার করার কাজে ব্যবহৃত একটি ভ্যানে তারা ছিলেন। ওই ভ্যানে মোট সাতজন ছিলেন। দুর্ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হন। তাদের মধ্যে তিনজন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দুইজনের অবস্থা গুরুতর বা সংকটজনক। আরেকজনের অবস্থা স্থিতিশীল। বিমানে থাকা পাইলট ও সহকারী পাইলটও আহত হয়েছিলেন। তবে চিকিৎসার পর তাদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। এনটিএসবি’র ৩২ সদস্যের একটি তদন্তকারী দল বিমানটির গতি, আবহাওয়া, বিমানের যান্ত্রিক অবস্থা, পাইলটদের সিদ্ধান্ত এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে। তদন্তে বিমানের ফ্লাইট ডাটা রেকর্ডার এবং ককপিট ভয়েস রেকর্ডার উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো সাধারণভাবে ব্ল্যাক বক্স নামে পরিচিত। এসব রেকর্ডার বিশ্লেষণ করে দুর্ঘটনার ঠিক আগে বিমানের গতি, অবস্থান এবং ককপিটে কী ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সে সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। রানওয়ের শেষ প্রান্তে বিমান থামানোর জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। মায়ামি বিমানবন্দরে ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যাটেরিয়ালস অ্যারেস্টিং সিস্টেম বা ইমাস নেই। রানওয়ের শেষে থাকা এই বিশেষ ব্যবস্থাটি দ্রুতগতির বিমানকে থামাতে সাহায্য করতে পারে। তবে মায়ামি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বিমানবন্দরটি বর্তমানে ফেডারেল নিরাপত্তা নিয়ম মেনেই পরিচালিত হচ্ছে। তদন্তকারীরা এখনো দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ ঘোষণা করেননি। তাই পাইলটের ভুল, আবহাওয়া বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কারণকে এখনই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা হচ্ছে না। ব্ল্যাক বক্সের তথ্যসহ তদন্তের পরবর্তী ধাপগুলো থেকেই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অ্যামাজন প্রাইম এয়ারের একটি বোয়িং ৭৬৭ কার্গো বিমান রানওয়ে ছাড়িয়ে দুর্ঘটনায় পড়েছে। স্থানীয় সময় রোববার দুপুর ২টার দিকে অবতরণের পর বিমানটি রানওয়ের শেষ প্রান্ত পেরিয়ে যায়। ভয়াবহ দুর্ঘটনার ভিডিওতে বিমান থেকে আগুন ও ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, এটি ২১ এয়ার ফ্লাইট ৭৫৯৮, একটি বোয়িং ৭৬৭-৩০০ কার্গো বিমান। বিমানটি পুয়ের্তো রিকোর সান হুয়ান থেকে মিয়ামির উদ্দেশে উড়েছিল। অবতরণের সময় বিমানটি রানওয়ে ছাড়িয়ে বিমানবন্দরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে গিয়ে অচল হয়ে পড়ে। মিয়ামি-ডেড ফায়ার রেসকিউ জানিয়েছে, রানওয়ে ছাড়িয়ে যাওয়ার পর বিমানটি একাধিক গাড়িতে আঘাত করে এবং আগুন ধরে যায়। দুর্ঘটনাস্থলে ৬০টির বেশি ফায়ার-রেসকিউ ইউনিট পাঠানো হয়। একাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার কথা জানানো হলেও, তাদের আঘাতের মাত্রা বা প্রাণহানির বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদনে বিস্তারিত নিশ্চিত করা হয়নি। দুর্ঘটনার পর মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব রানওয়ে ও ট্যাক্সিওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং উড্ডয়ন-অবতরণে গ্রাউন্ড স্টপ জারি করা হয়। এতে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং ফ্লাইটে বিলম্বের আশঙ্কা তৈরি হয়। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিমানটিকে সড়কের পাশে আগুনে জ্বলতে এবং আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। এফএএ ঘটনাটি তদন্ত করছে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট | রয়টার্স| অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে অ্যামাজনের একটি বিশেষায়িত স্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য বই স্ক্যান করে পরে সেগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে বলে এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ৪০৪ মিডিয়ার অনুসন্ধানে এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। অনুসন্ধানটি শুরু হয় বিরল ও পুরোনো বইয়ের বড় পরিমাণে অস্বাভাবিক কেনাকাটা নিয়ে সন্দেহ থেকে। ৪০৪ মিডিয়ার সাংবাদিকেরা এক স্বাধীন বই বিক্রেতার সহায়তায় প্রায় ১ হাজার বইয়ের একটি চালানের একটি বইয়ের ভেতরে অ্যাপলের এয়ারট্যাগ বসান। এরপর বইটির গতিপথ অনুসরণ করে দেখা যায়, চালানটি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত লাস ভেগাসের একটি অ্যামাজন স্থাপনায় পৌঁছেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, লাস ভেগাসের ওই অ্যামাজন স্থাপনায় ভিজিটি৩ নামে একটি বিশেষায়িত কার্যক্রমে বই স্ক্যান করা হয়। সেখানে কর্মীরা বইয়ের বাঁধাই কেটে পৃষ্ঠাগুলো আলাদা করেন, এরপর সেগুলো দ্রুত স্ক্যান করে ডিজিটাল তথ্য হিসেবে সংগ্রহ করা হয়। বাঁধাই কাটার ফলে মূল বইটি আর অক্ষত থাকে না। ৪০৪ মিডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুসরণ করা বইটি প্রথমে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি বিমানবন্দরে যায়। সেখান থেকে উইসকনসিনের মিলওয়াকি, পরে কেনোশার একটি বিতরণকেন্দ্র এবং এরপর ট্রাকে করে কলোরাডো হয়ে লাস ভেগাসে পৌঁছায়। শেষ পর্যন্ত বইটি অ্যামাজনের এলএএস৮ নামের একটি বড় স্থাপনায় যায়, যার একটি অংশে ভিজিটি৩ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে অনুসন্ধানে জানা যায়। অ্যামাজনের ওই কার্যক্রমে কর্মরত ব্যক্তিদের অনলাইন আলোচনার তথ্যও অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে। সেখানে কর্মীরা বইয়ের বারকোড বা আইএসবিএন স্ক্যান এবং বই কাটার কাজের কথা উল্লেখ করেছেন। আইএসবিএন হলো প্রকাশিত বই শনাক্ত করার জন্য ব্যবহৃত একটি অনন্য নম্বর। এআই কোম্পানিগুলোর জন্য পুরোনো বই গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ উপাদান হয়ে উঠেছে। কারণ এসব বইয়ের অনেক লেখা ইন্টারনেটে সহজে পাওয়া যায় না। বিশেষ করে ২০২২ সালের আগে প্রকাশিত বইগুলো এআই-নির্মিত লেখা থেকে মুক্ত থাকার সম্ভাবনা বেশি হওয়ায় প্রশিক্ষণ ডেটা হিসেবে এগুলোর আলাদা মূল্য রয়েছে। এর আগে লেখকদের করা একটি মামলায় অ্যানথ্রপিকের বই সংগ্রহ ও স্ক্যান করার একটি প্রকল্পের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। ওই প্রকল্পেও বইয়ের বাঁধাই কেটে দ্রুত স্ক্যান করার পদ্ধতি ব্যবহারের কথা উঠে এসেছিল। আদালতের রায়ে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বই স্ক্যান করে প্রশিক্ষণ ডেটা তৈরির বিষয়টিকে ন্যায্য ব্যবহারের আওতায় বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে বই কেটে ধ্বংস করার এই প্রক্রিয়া নিয়ে কপিরাইট, নৈতিকতা এবং মানবিক জ্ঞান সংরক্ষণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে বিরল বইয়ের ক্ষেত্রে একটি মুদ্রিত কপি ধ্বংস হয়ে গেলে সেটি পুনরুদ্ধারের সুযোগ সীমিত হতে পারে। অ্যামাজন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গ্রাহকদের ব্যবহৃত পণ্য ও সেবা উন্নয়নে তারা বাণিজ্যিক চ্যানেলের মাধ্যমে বই কেনে। তবে ৪০৪ মিডিয়ার পক্ষ থেকে বই কাটার কারণ, এ ধরনের আরও কতটি স্থাপনা রয়েছে এবং বই ধ্বংস নিয়ে ওঠা সমালোচনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলেও অ্যামাজন সেসব প্রশ্নের উত্তর দেয়নি। এ অনুসন্ধান দেখাচ্ছে, এআই মডেলকে আরও বড় ও বৈচিত্র্যময় মানব-লিখিত ডেটা দিয়ে প্রশিক্ষিত করতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এখন শুধু অনলাইন কনটেন্টের ওপর নির্ভর করছে না। মুদ্রিত বই সংগ্রহ, ডিজিটাইজ করা এবং প্রয়োজনে মূল কপি ধ্বংস করার মতো প্রক্রিয়াও সেই প্রতিযোগিতার অংশ হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের লেক কাউন্টিতে অ্যামাজনের একটি ডেলিভারি ভ্যানের ভেতর থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া নারীর পরিচয় শনাক্ত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। নিহত নারীর নাম জেলিন ভার্গাস গঞ্জালেজ। তিনি ওই অ্যামাজন ডেলিভারি গাড়িটির চালক ছিলেন। লেক কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের (LCSO) বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গত ১০ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটের দিকে ক্লার্ক রোড এলাকায় একটি সন্দেহজনক পরিস্থিতির খবর পেয়ে সেখানে যায় পুলিশ। একটি অ্যামাজন ডেলিভারি গাড়ি দীর্ঘ সময় ধরে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকার বিষয়টি নজরে আসার পর জরুরি সহায়তার জন্য খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্যানটির ভেতরে গঞ্জালেজকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পায়। পরে লেক কাউন্টি ফায়ার রেসকিউ ও জরুরি চিকিৎসা বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে তার মৃত্যুর কারণ জানাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। লেক কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, ঘটনাটি এখনো সক্রিয় তদন্তাধীন। তাই ঠিক কী কারণে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি পুলিশ। এর আগে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ভ্যানটি বেশ কিছু সময় ধরে একই স্থানে দাঁড়িয়ে থাকায় বিষয়টি নিয়ে আশপাশের লোকজনের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয় এবং কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে ভ্যানের ভেতর অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। ঘটনার পর অ্যামাজনও ওই নারী তাদের প্রতিষ্ঠানের ডেলিভারি চালক ছিলেন বলে নিশ্চিত করে। প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে এবং নিহতের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানায়। একই সঙ্গে তদন্তে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছে অ্যামাজন। তবে নিহত গঞ্জালেজের বয়স, ব্যক্তিগত পরিচয় বা মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তার মৃত্যুকে কোনো নির্দিষ্ট কারণের সঙ্গে যুক্ত করাও হচ্ছে না। লেক কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, মৃত্যুর কারণ নির্ধারণসহ ঘটনাটির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইনে কেনাকাটার সময় কোনো পণ্যে ‘যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি’ লেখা দেখেই অনেক ক্রেতা ধরে নেন সেটি দেশেই উৎপাদিত হয়েছে। কিন্তু নতুন এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, অ্যামাজন ও ওয়ালমার্টের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কেনাকাটার সহকারীরা ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর ‘যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি’ দাবির অসঙ্গতি শনাক্ত করতে পারলেও সেই তথ্য ক্রেতাদের সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে না। এতে ভোক্তারা পণ্যের প্রকৃত উৎপত্তি সম্পর্কে বিভ্রান্ত হতে পারেন বলে গবেষকদের আশঙ্কা। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলাম্বিয়া ল স্কুলের সেন্টার ফর ল অ্যান্ড দ্য ইকোনমি প্রকাশিত এক গবেষণায় অ্যামাজনের ‘অ্যালেক্সা শপিং সহকারী’ এবং ওয়ালমার্টের ‘স্পার্কি’ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কেনাকাটার সহকারীর কার্যক্রম বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণার নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের (এফটিসি) সাবেক চেয়ার লিনা খান। গবেষণায় বলা হয়েছে, দুটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের উৎপত্তি-সংক্রান্ত অসঙ্গতি শনাক্ত করতে সক্ষম হলেও সেই তথ্য ব্যবহার করে ক্রেতাদের সতর্ক করার পরিবর্তে প্রায়ই নিরপেক্ষ বা এড়িয়ে যাওয়ার মতো উত্তর দেয়। গবেষকদের দাবি, এর ফলে যেসব ক্রেতা সচেতনভাবে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পণ্য কিনতে চান, তারা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। বিশেষ করে অনলাইনে কেনাকাটায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়তে থাকায় এ ধরনের তথ্য উপস্থাপনের ধরন ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশ্ন করার ধরন পরিবর্তন করলে একই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিন্ন ধরনের উত্তর দিচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পণ্যের তালিকা জানতে চাইলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জানায় যে তাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য নেই। কিন্তু একই প্রশ্ন অন্যভাবে করলে সেই ব্যবস্থাই যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পণ্যের তথ্য দেখাতে সক্ষম হয়। গবেষকদের মতে, এটি তথ্যের অভাব নয়; বরং তথ্য উপস্থাপনের পদ্ধতির সমস্যা নির্দেশ করে। অ্যামাজনের পক্ষ থেকে গবেষণার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রস্তুতকারক বা তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতারা উৎপত্তি-সংক্রান্ত তথ্য দিলে তা পণ্যের তথ্য পাতায় প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি গ্রাহকদের কাছে এসব তথ্য আরও সহজে পৌঁছে দিতে তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কেনাকাটার সেবার উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, এ বিষয়ে ওয়ালমার্ট তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ‘যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি’ লেবেল নিয়ে দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নজরদারি নতুন নয়। ২০২৫ সালে ফেডারেল ট্রেড কমিশন অ্যামাজন ও ওয়ালমার্টকে চিঠি দিয়ে তাদের অনলাইন বিক্রয় প্ল্যাটফর্মে তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতাদের বিভ্রান্তিকর ‘যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি’ দাবির বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানায়। কমিশন জানায়, কোনো পণ্যকে ‘যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি’ হিসেবে প্রচার করতে হলে সেটি ‘সম্পূর্ণ বা কার্যত সম্পূর্ণ’ যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হতে হবে। অন্যথায় এমন দাবি ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, অনলাইন কেনাকাটায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার যত বাড়বে, এই প্রযুক্তি কোন তথ্য ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরবে আর কোন তথ্য আড়াল করবে, সেটিও ভোক্তা অধিকার ও বাজারের স্বচ্ছতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠবে। ফলে ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কেনাকাটার প্ল্যাটফর্মগুলোর তথ্য উপস্থাপন নিয়েও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নজরদারি আরও বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন অবৈধ ঘোষিত ট্রাম্প প্রশাসনের আমদানি শুল্ক থেকে প্রায় ৬০ কোটি ডলার ফেরত পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যেসব গ্রাহক ওই শুল্কজনিত অতিরিক্ত খরচ বহন করেছিলেন এবং যাদের ক্ষেত্রে তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে, তাদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। অ্যামাজনের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) ব্রায়ান ওলসাভস্কি কোম্পানির আয়-সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে বলেন, যেসব লেনদেনে অতিরিক্ত শুল্কের প্রভাব সরাসরি নির্ধারণ করা যাবে, সেসব ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠান নিজেই যোগাযোগ করবে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থ ফেরত দেবে। আর যেসব ক্ষেত্রে তা সম্ভব হবে না, সেখানে ফেরত পাওয়া অর্থ কম দামে পণ্য সরবরাহ ও গ্রাহকসেবায় বিনিয়োগে ব্যবহার করা হবে। তবে ঠিক কতজন গ্রাহক এই অর্থ ফেরত পাবেন, কোন সময়ের কেনাকাটা এর আওতায় পড়বে বা কীভাবে ফেরতের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানায়নি অ্যামাজন। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের অধীনে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে ব্যাপক আমদানি শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। ওই রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন ক্ষতিগ্রস্ত আমদানিকারকদের শুল্ক ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। অ্যামাজন জানিয়েছে, তারা তুলনামূলক কম অর্থ ফেরত পেয়েছে, কারণ নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগেই প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্য মজুত করেছিল। এছাড়া তাদের প্ল্যাটফর্মে বিক্রি হওয়া অধিকাংশ পণ্যের আমদানিকারক ছিল তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতারা, ফলে সেসব পণ্যের শুল্ক ফেরতের দাবিদারও অ্যামাজন নয়। প্রতিষ্ঠানটি আরও দাবি করেছে, অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত ব্যয় গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে নিজেই বহন করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বড় খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে গ্রাহকদের কাছে শুল্ক ফেরতের অর্থ সরাসরি ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা বিরল। যদিও অন্যান্য বড় খুচরা প্রতিষ্ঠানও শুল্ক ফেরতের আবেদন করেছে, তাদের সবাই এখনো গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স শহরে গতি সীমা লঙ্ঘনের একটি জরিমানার নোটিশ পৌঁছে দিতে অ্যামাজনের ডেলিভারি কর্মীর মতো পোশাক পরা এক প্রসেস সার্ভারের উপস্থিতি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ফিনিক্সের বাসিন্দা মাইরান্ডা ইয়াং, যিনি প্রথমে ভেবেছিলেন তার বাড়িতে কোনো পার্সেল পৌঁছে দিতে এসেছেন একজন অ্যামাজন ডেলিভারি কর্মী। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেপিএনএক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় দুই মাস আগে ফিনিক্স শহরের একটি ফটো এনফোর্সমেন্ট ক্যামেরায় অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর অভিযোগে মাইরান্ডা ইয়াংয়ের নামে একটি ট্রাফিক টিকিট ইস্যু হয়। গত সপ্তাহে নীল রঙের ভেস্ট পরা এক ব্যক্তি তার বাড়িতে এসে নিজেকে সিটির পক্ষে কাজ করা একজন প্রসেস সার্ভার হিসেবে পরিচয় দেন এবং ২৫০ ডলারের স্পিডিং টিকিটের নোটিশ হাতে তুলে দেন। ইয়াং জানান, ওই ব্যক্তির পোশাক অ্যামাজনের ডেলিভারি কর্মীদের ইউনিফর্মের সঙ্গে এতটাই মিল ছিল যে তিনি প্রথমে এটিকে একটি পার্সেল ডেলিভারি বলেই মনে করেছিলেন। অ্যারিজোনার আইন অনুযায়ী, ডাকযোগে পাঠানো ফটো এনফোর্সমেন্ট ট্রাফিক টিকিটের ক্ষেত্রে অনেক সময় প্রাপককে সাড়া দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে একই নোটিশ ব্যক্তিগতভাবে হাতে পৌঁছে দেওয়া হলে সেটি আইনগতভাবে কার্যকর হয়ে যায় এবং জরিমানা পরিশোধের বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি হয়। মাইরান্ডা ইয়াংয়ের দাবি, প্রসেস সার্ভার তাকে জানান যে ডাকযোগে আগেই নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। পরে তিনি সেটি বাড়ির দরজায় রেখে চলে যান। ব্যক্তিগতভাবে নোটিশ পাওয়ার পর এখন তাকে ২৫০ ডলারের জরিমানা পরিশোধ করতে হবে। ফিনিক্স সিটি কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের মার্চের শেষ দিকে শহরের ১৭টি ফটো এনফোর্সমেন্ট ক্যামেরার মাধ্যমে ধরা পড়া গতি সীমা লঙ্ঘনের ঘটনায় জরিমানার নোটিশ দেওয়া শুরু করে। এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শহর কর্তৃপক্ষ মেসাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ভেরা মোবিলিটির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। সিটি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আদায় হওয়া প্রতিটি জরিমানার জন্য প্রতিষ্ঠানটি ২০ ডলার পায়। তবে পৃথক প্রসেস সার্ভারদের কীভাবে পারিশ্রমিক দেওয়া হয়, তা চুক্তিতে উল্লেখ নেই। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সরকারি নোটিশ পৌঁছে দিতে কোনো প্রসেস সার্ভারের এমন পোশাক ব্যবহার করা বিভ্রান্তিকর কি না। যদিও এ বিষয়ে ফিনিক্স সিটি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ২৩ বছর বয়সী এক তরুণ অ্যামাজন জঙ্গলের অত্যন্ত দুর্গম এলাকায় গিয়ে এক আদিবাসী নারীর প্রেমে পড়েন। কিন্তু সেখানকার জীবনযাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। আবেগের বশে করা একটিমাত্র ভুলের কারণে তাকে সম্প্রদায়ের অন্তঃসত্ত্বা নারীদের কাছ থেকে দূরে থাকার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। জাস্টিন আলভো নামের ওই তরুণের বাবা ছিলেন অ্যামাজনের আদিবাসী, যদিও জাস্টিন বড় হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। জীবনের অপূর্ণতা ঘোচাতে তিনি বাবার জন্মভূমি ইকুয়েডরের পূর্ব অ্যামাজনের ‘ত্রেস দে নোভিয়েম্ব্রে’ নামের দুর্গম অঞ্চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। নিজের ইউটিউব চ্যানেলের জন্য শুয়ার (Shuar) সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র বানাতে গিয়েই মারিয়া নামের এক স্থানীয় রেস্তোরাঁকর্মীর সঙ্গে তার পরিচয় ও প্রেম হয়। পরবর্তীতে এই মারিয়াই তার জীবনসঙ্গী হন। যদিও জাস্টিনের শরীরে আদিবাসী রক্ত ছিল, তবুও জঙ্গলের জীবন তার কাছে আক্ষরিক অর্থেই ছিল সম্পূর্ণ অচেনা এক জগতের মতো। স্থানীয়রা তাকে বিষধর সাপ ও পোকামাকড় থেকে বেঁচে থাকার নানা কৌশল শিখিয়েছিলেন। কিন্তু একদিন প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের সময় তিনি একটি মারাত্মক ভুল করে বসেন। স্থানীয়দের কঠোর নিষেধ অমান্য করে ফিল্মমেকিংয়ের নেশায় তিনি একটি প্রাণঘাতী বোয়া (boa) সাপ ধরে ফেলেন। শুয়ার সম্প্রদায়ের মানুষ বোয়া সাপকে অত্যন্ত আধ্যাত্মিক প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করে। সাপটি স্পর্শ করার কারণে স্থানীয়রা ধরে নেয় যে, জাস্টিনের ওপর ‘খারাপ শক্তি’ বা অশুভ প্রভাব ভর করেছে। এর জের ধরেই তাকে ওই সম্প্রদায়ের যেকোনো অন্তঃসত্ত্বা নারীর কাছাকাছি যাওয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এই অশুভ প্রভাব থেকে মুক্ত হতে এবং পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পরবর্তীতে তাকে একটি বিশেষ ‘শুদ্ধি’ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল। বর্তমানে শুদ্ধি প্রক্রিয়া শেষে জাস্টিন সেই বিচ্ছিন্ন আদিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিজেকে বেশ ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছেন। মারিয়াকে বিয়ে করে তিনি এখন সুখে সংসার করছেন এবং চলতি বছরের শুরুতেই এই দম্পতির ঘরে একটি নতুন সন্তানের আগমন ঘটেছে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি ও ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজনে গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে কর্মী ছাঁটাই অব্যাহত রয়েছে। ২০২২ সাল থেকে শুরু হওয়া পুনর্গঠন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত ৫৭ হাজারের বেশি করপোরেট কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। এর মধ্যে চলতি বছরের জানুয়ারিতেই প্রায় ১৬ হাজার কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, শুধু চাকরি হারানো কর্মীরাই নন, প্রতিষ্ঠানে থেকে যাওয়া কর্মীরাও এখন বাড়তি কাজের চাপ, মানসিক ক্লান্তি এবং অনিশ্চয়তার মুখোমুখি। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য নেক্সট ওয়েব (টিএনডব্লিউ)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মী ছাঁটাইয়ের ফলে আগের সমপরিমাণ কাজ এখন কমসংখ্যক কর্মীকে সামলাতে হচ্ছে। অনেক কর্মী একাধিক দলের দায়িত্ব পালন করছেন, ফলে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, অতিরিক্ত দায়িত্ব এবং কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ বেড়েছে। অনেকের মতে, চাকরি টিকে থাকলেও কাজের পরিবেশ আগের তুলনায় অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। একই সময়ে প্রযুক্তি খাতের অন্যান্য বড় প্রতিষ্ঠান—মেটা, মাইক্রোসফট, সিসকো ও ওরাকল—এছাড়াও হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। ফলে প্রযুক্তি খাতে নতুন চাকরির সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে এবং প্রতিযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আগে যেখানে একজন প্রযুক্তি পেশাজীবীর নতুন চাকরি পেতে গড়ে চার মাস সময় লাগত, এখন অনেকের ক্ষেত্রে সেই সময় বেড়ে ১৮ মাস পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি খাতে নিয়োগের ধীরগতি এবং ব্যাপক ছাঁটাইয়ের কারণে অভিজ্ঞ পেশাজীবীরাও দীর্ঘ সময় ধরে চাকরি খুঁজতে বাধ্য হচ্ছেন। এর প্রভাব পড়ছে বেতন, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও। অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী অ্যান্ডি জ্যাসি এর আগে জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানকে আরও দক্ষ, দ্রুতগতির এবং কম প্রশাসনিক স্তরবিশিষ্ট করতে পুনর্গঠন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে বড় বিনিয়োগের ফলে অনেক ক্ষেত্রে কর্মীসংখ্যা পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে কিছু ধরনের করপোরেট চাকরির চাহিদা আরও কমতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যামাজনের এই পরিস্থিতি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সংকট নয়; বরং পুরো প্রযুক্তি শিল্পের পরিবর্তিত বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। মহামারির সময় দ্রুত সম্প্রসারণের পর এখন অধিকাংশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং এআই-নির্ভর কার্যক্রমে জোর দিচ্ছে। এর ফলে একদিকে কর্মী ছাঁটাই অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে যারা চাকরিতে রয়েছেন তাদের ওপরও বাড়ছে কাজের চাপ ও কর্মদক্ষতার প্রত্যাশা। শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক বছরে প্রযুক্তি খাতের চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে। তাই বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাকরিপ্রার্থীদের নতুন প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার নিরাপত্তা এবং ডেটা-সংশ্লিষ্ট দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন প্রযুক্তির গুরুত্ব বাড়তে থাকায় সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে মার্কিন সেনাবাহিনী। এ লক্ষ্যে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন-এর সঙ্গে যৌথভাবে একটি ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে অ্যামাজনের ক্লাউড সেবা ইউনিট অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস এবং আর্মি এন্টারপ্রাইজ ক্লাউড ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি একসঙ্গে কাজ করছে। ‘ইউএএস মার্কেটপ্লেস’ নামে এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট, সরকারি অংশীদার এবং মিত্রদেশগুলো সহজেই ড্রোন প্রযুক্তি সংগ্রহ করতে পারবে। প্ল্যাটফর্মটিতে ব্যবহারকারীরা যাচাইকৃত ড্রোন সিস্টেমগুলোর তুলনা করতে পারবেন, সরাসরি অর্ডার দিতে পারবেন এবং ব্যবহারের পর মতামত ও রেটিং প্রদান করতে পারবেন—যা অনেকটা অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্মের অভিজ্ঞতার মতো। মার্কিন সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই উদ্যোগ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করবে। ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রযুক্তি উদ্ভাবকদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং ড্রোন প্রযুক্তির উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। সেনাবাহিনীর সরঞ্জাম সংগ্রহ–বিষয়ক প্রধান ব্রেন্ট ইনগ্রাম বলেন, প্রতিরক্ষা খাতে প্রবেশের বাধা কমিয়ে উদ্ভাবকদের সঙ্গে অংশীদারত্ব বাড়ানো হচ্ছে, যাতে দ্রুত ও কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়। এ ছাড়া ইউএএস প্রকল্প ব্যবস্থাপক কর্নেল ড্যানিয়েল মেদাগ্লিয়া জানান, এই প্ল্যাটফর্ম প্রতিযোগিতা ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করবে। এর ফলে সেনারা তাদের মিশনের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি দ্রুত পাবে। সাধারণত নতুন সামরিক প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও বাজেট অনুমোদনের ধাপ অতিক্রম করতে হয়। নতুন এই ডিজিটাল উদ্যোগ সেই জটিলতা কমিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্ল্যাটফর্ম শুধু ড্রোন সংগ্রহ ব্যবস্থাকে আধুনিক করবে না, ভবিষ্যতের যুদ্ধ কৌশলেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।