- প্রচ্ছদ
- Topic
আইনজীবী
নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে দুই আইনজীবীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই একই আইন প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে নতুন দাবি সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াচটেল, লিপটন, রোজেন অ্যান্ড কাটজের সাবেক জ্যেষ্ঠ অংশীদার উইলিয়াম "বিল" স্যাভিট এবং প্রতিষ্ঠানটির আরেক জ্যেষ্ঠ অংশীদার সারাহ এডির মধ্যেও একসময় পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। তবে স্যাভিট এ সম্পর্ককে "পরকীয়া" হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটিতে সহকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিরুদ্ধে কোনো নীতিমালা ছিল না। এছাড়া সারাহ এডি স্যাভিটের সরাসরি অধীনস্থ কর্মী ছিলেন না। ফলে অভিযোগে উল্লিখিত সম্পর্কটি প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। উইলিয়াম স্যাভিট সম্প্রতি ওয়াচটেল ছেড়ে প্রতিদ্বন্দ্বী আইন প্রতিষ্ঠান গিবসন ডানে যোগ দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রতিষ্ঠানের আরও পাঁচজন অংশীদারকে সঙ্গে নিয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেন। এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের করপোরেট আইন অঙ্গনে বড় ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিউইয়র্ক পোস্ট দাবি করেছে, স্যাভিটের নতুন চুক্তির আর্থিক মূল্য তিন বছরে প্রায় ৯ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার হতে পারে। তবে এ বিষয়ে স্যাভিট প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি। একই প্রতিবেদনে স্যাভিটের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এই অঙ্ক সঠিক নয় বলেও দাবি করেছে। ফলে পারিশ্রমিকের প্রকৃত পরিমাণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্যাভিট ও এডি দুজনই ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের পক্ষে ইলন মাস্কের করা বহুল আলোচিত মামলায় কাজ করেছিলেন। ওই মামলায় তাদের ভূমিকার জন্য তারা আইনি অঙ্গনে প্রশংসাও পেয়েছিলেন। নতুন এই দাবি এমন সময় সামনে এলো, যখন একই প্রতিষ্ঠানের দুই আইনজীবী ন্যাথানিয়েল কালারটন ও কেলসি বোরেনজওয়েইগের সেন্ট্রাল পার্কের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ওই ঘটনার পর কালারটনকে সাময়িক ছুটিতে পাঠানো হয় এবং গিবসন ডানে তার সম্ভাব্য নিয়োগও বাতিল হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সিদ্ধান্তের পেছনে তাদের কর্মস্থলের দায়িত্বগত সম্পর্ক একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রশ্নের জবাবে স্যাভিট বলেন, সারাহ এডির সঙ্গে তার সম্পর্ককে "পরকীয়া" হিসেবে বর্ণনা করা সঠিক নয়। অন্যদিকে গিবসন ডান, ওয়াচটেল লিপটন এবং সারাহ এডির কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এ প্রতিবেদনটি মূলত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। সম্পর্কসংক্রান্ত দাবিগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য বা স্বাধীন যাচাই এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে আরও তথ্য সামনে আসার অপেক্ষায় রয়েছে আইন অঙ্গন।
নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে এক সহকর্মীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ম্যানহাটনের প্রভাবশালী আইন প্রতিষ্ঠান ওয়াচটেল, লিপটন, রোজেন অ্যান্ড ক্যাটজ-এর অংশীদার ন্যাথানিয়েল ডি. কালারটনকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ তদন্তও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৪৫ বছর বয়সী কালারটন ওই প্রতিষ্ঠানের একজন অংশীদার। ভাইরাল ভিডিওকে ঘিরে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এ তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কালারটন চলতি সপ্তাহে আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান গিবসন ডান-এ যোগ দেওয়ার কথা ছিল। তবে ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর সেই পরিকল্পনা স্থগিত হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওতে কালারটনকে তার ২৯ বছর বয়সী সহকর্মী কেলসি বোরেনজওয়াইগের সঙ্গে সেন্ট্রাল পার্কের একটি বেঞ্চে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যায়। ভিডিওটি টিকটকে প্রকাশের পর কয়েক দিনের মধ্যেই প্রায় ৪০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। ভিডিও ধারণকারী টিকটক নির্মাতা তাদের উদ্দেশে বলেন, "একটি ব্যক্তিগত জায়গায় যান, এখানে শিশুরা রয়েছে।" এ সময় দুই আইনজীবী ক্যামেরা দেখতে পেয়ে কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন। ভিডিওতে দেখা যায়, কালারটন ক্যামেরাধারীকে সরে যেতে বলার চেষ্টা করেন, আর বোরেনজওয়াইগ শান্তভাবে তাকে মোবাইল ফোন নামিয়ে রাখতে অনুরোধ করেন। তবে বোরেনজওয়াইগের বিরুদ্ধেও কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, কিংবা তিনি তদন্তের আওতায় আছেন কি না এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। মঙ্গলবার পর্যন্ত দুজনেরই প্রোফাইল সংশ্লিষ্ট আইন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে সক্রিয় ছিল। চলতি বছর ওপেনএআই ও এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের পক্ষে ইলন মাস্কের করা বহুল আলোচিত মামলায় কাজ করা আইনি দলের সদস্য ছিলেন কালারটন ও বোরেনজওয়াইগ। ফলে ভিডিওটি প্রকাশের পর বিষয়টি আইন অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কালারটন ২০১৬ সাল থেকে আরেকটি বড় আইন প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ময়রা পেনজার সঙ্গে বিবাহিত। অন্যদিকে, একটি সূত্রের বরাত দিয়ে একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোরেনজওয়াইগ সম্প্রতি একজন সহকর্মী আইনজীবীর সঙ্গে সম্পর্কের ইতি টেনেছেন। এদিকে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, ওয়াচটেল, লিপটন, রোজেন অ্যান্ড ক্যাটজ, গিবসন ডান এবং ন্যাথানিয়েল কালারটনের কাছে এ বিষয়ে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলমান থাকায় আইন প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত বা বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ করেনি।
আইনজীবী হওয়ার কোনো বৈধ অনুমতি বা সনদ না থাকলেও আদালতে দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তি সফলভাবে ২৬টি মামলা পরিচালনা করে জয় পেয়েছিলেন। পরে তার পরিচয় ফাঁস হয়ে গ্রেপ্তার হলে ঘটে আরও অবাক করা ঘটনা—নিজের মামলাতেই তিনি নিজেই নিজের পক্ষে সওয়াল করেন এবং সেখানেও জয় পান। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রচারিত এই গল্পের বিস্তারিত তথ্য, ব্যক্তির পরিচয়, স্থান ও আদালতের নথি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটিকে একটি আলোচিত আইন-সংক্রান্ত ঘটনা হিসেবে দেখা হলেও এর সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। প্রচলিত আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি আদালতে আইনজীবী হিসেবে কাজ করতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, প্রশিক্ষণ ও নিবন্ধন প্রয়োজন। ভুয়া পরিচয়ে আইন পেশায় যুক্ত হওয়া অনেক দেশে প্রতারণা ও আদালত অবমাননার মতো অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত আদালত ওই ব্যক্তির পেশাগত যোগ্যতা যাচাই করে এবং পূর্বে পরিচালিত মামলাগুলোর বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট মামলার ক্ষেত্রে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও আদালতের নির্দেশনার ওপর। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতে সঠিক তথ্য ও যোগ্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা বিচারব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কেউ মিথ্যা পরিচয়ে আইনজীবীর ভূমিকা নিলে তা শুধু আদালতের নিয়ম ভঙ্গ নয়, বরং বিচারপ্রার্থীদের অধিকারও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তবে এই ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো—যদি দাবিটি সত্য হয়, তাহলে একজন ব্যক্তি কীভাবে দীর্ঘ সময় ধরে আদালতে আইনজীবীর ভূমিকা পালন করলেন এবং একাধিক মামলায় সাফল্য পেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একই সঙ্গে এটি আইন পেশায় যাচাই-বাছাই ব্যবস্থার গুরুত্বও সামনে নিয়ে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের হিউস্টনে আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) এজেন্টের গুলিতে নিহত নির্মাণশ্রমিক লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোকে ঘিরে চলমান আলোচিত ঘটনার মধ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে তার সহকর্মীদের আইনজীবীকে নিয়ে ওঠা অভিযোগ। নিহতের সঙ্গে থাকা এবং বর্তমানে অভিবাসন হেফাজতে থাকা দুই ব্যক্তির আইনজীবী হুগো বালদেরাস-ইবারার বিরুদ্ধে তারই সাবেক এক কর্মী পেশাগত আচরণ ও মামলার পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একই সময়ে ওই আইনজীবীর বিরুদ্ধে চলমান ফৌজদারি মামলাগুলোও আবার আলোচনায় এসেছে। ঘটনার সূত্রপাত ৭ জুলাই। সেদিন ভোরে হিউস্টনের ম্যাগনোলিয়া পার্ক এলাকায় আইসিই এজেন্টরা লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোকে আটক করতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আইসিইর দাবি, আরাউহো নিজের গাড়ি দিয়ে তাদের একটি গাড়িকে ধাক্কা দেন এবং এক কর্মকর্তার ওপর গাড়ি তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। আত্মরক্ষার্থে এজেন্ট গুলি চালান, যাতে তিনি নিহত হন। তবে নিহতের পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, ঘটনাটির সরকারি বর্ণনার সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে অসঙ্গতি রয়েছে। এজন্য তারা স্বাধীন ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন। এই ঘটনায় নিহতের সঙ্গে থাকা দুই ব্যক্তি—ড্যানিয়েল তিরাদো পান্তোজা এবং ভিক্টর হুগো সালগাদো আরাউহো—আইসিই হেফাজতে রয়েছেন। তাদের পক্ষে আইনি লড়াই করছেন অভিবাসন আইনজীবী হুগো বালদেরাস-ইবারা। তিনি শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন, তার মক্কেলদের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তারা কেবল কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ছিলেন। এদিকে বালদেরাস-ইবারার সাবেক প্যারালিগ্যাল টিনামারি হার্নান্দেজ গণমাধ্যমকে বলেন, তার অভিজ্ঞতায় অনেক ক্লায়েন্ট নিজেদের নামে জমা দেওয়া অভিবাসন আবেদন সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। শুনানির আগে আবেদনপত্র দেখালে অনেকে বিস্মিত হতেন বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া জটিল পরিস্থিতিতে আইনজীবী অনেক সময় নিজে সামনে না এসে দায়িত্ব কর্মীদের ওপর ছেড়ে দিতেন বলেও অভিযোগ করেন হার্নান্দেজ। এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং আইনজীবী এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। হার্নান্দেজ আরও জানান, বর্তমানে যেহেতু বালদেরাস-ইবারার বিরুদ্ধে টেক্সাস ও ফ্লোরিডায় পৃথক ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন, তাই তিনি আশঙ্কা করছেন ভবিষ্যতে যদি আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং আইন পেশায় নিষেধাজ্ঞা আসে, তাহলে আইসিই হেফাজতে থাকা তার বর্তমান মক্কেলদের মামলাও জটিলতায় পড়তে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, কেবল অভিযোগ বা অভিযুক্ত হওয়া মানেই কোনো আইনজীবীর লাইসেন্স বাতিল হয় না; আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইন পেশা চালিয়ে যেতে পারেন। অন্যদিকে লরেঞ্জো সালগাদো আরাউহোর মৃত্যুর পর হিউস্টনে বিক্ষোভ, শোকসভা এবং স্বাধীন তদন্তের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। কংগ্রেস সদস্য সিলভিয়া গার্সিয়াসহ একাধিক স্থানীয় নেতা বলেছেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ এবং তদন্তের সব তথ্য জনসম্মুখে আনা উচিত, যাতে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হয় এবং জনমনে আস্থা ফিরে আসে। আইসিই গুলিকাণ্ডের তদন্ত যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মামলায় সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে ঘিরে ওঠা অভিযোগও নতুন আইনি প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে উভয় বিষয়েই এখনো কোনো চূড়ান্ত বিচারিক সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে আইনজীবীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং আইসিইর গুলিকাণ্ড—দুই ক্ষেত্রেই তদন্ত ও আদালতের রায়ের ওপরই পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় চার বছর ধরে প্রায় ১৫ লাখ ডলারের ফেডারেল আয়কর ফাঁকি দেওয়ার অপরাধে আমজাদ ইব্রাহিম নামের এক লাইসেন্সধারী আইনজীবীকে এক বছরেরও বেশি সময় কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। মামলার রায় ঘোষণা করতে গিয়ে মার্কিন অ্যাটর্নি থিওডোর এস হার্টজবার্গ জানান, একজন পেশাদার আইনজীবী হিসেবে নিজের আইনি ও সাংবিধানিক দায়িত্ব সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন থাকা সত্ত্বেও আমজাদ ইব্রাহিম সরকারকে ট্যাক্স না দিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে নিজের বিপুল আয় গোপন করেছিলেন। মার্কিন কর বিভাগ বা আইআরএস-এর অপরাধ তদন্ত শাখার বিশেষ কর্মকর্তা ডিমেট্রিয়াস হার্ডেম্যান এই বিষয়ে বলেন, এই মামলার রায় দেশের সব কর ফাঁকিবাজদের জন্য একটি কঠোর বার্তা। কেউ যদি অবৈধভাবে আয় গোপন করে কর ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে আইআরএস-এর দক্ষ গোয়েন্দারা জটিল সব জালিয়াতি উন্মোচন করে তাদের আইনের আওতায় এনে সম্পূর্ণ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সক্ষম। আদালতে উপস্থাপিত নথিপত্র ও অভিযোগ থেকে জানা যায়, ৬০ বছর বয়সী আমজাদ ইব্রাহিম ১৯৯৪ সাল থেকে ওকালতি পেশার সাথে যুক্ত আছেন। তিনি মূলত ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮ এবং ২০১৯ কর বছরে জর্জিয়ার জনস ক্রিক এলাকায় বসবাসকালীন ইচ্ছাকৃতভাবে এই বিপুল পরিমাণ ফেডারেল আয়কর ফাঁকি দেন। যার ফলে সরকারের প্রায় ১৪ লাখ ৮০ হাজার ডলারের ব্যক্তিগত ট্যাক্স বকেয়া পড়ে যায়, যা তিনি পরিশোধ করেননি। তদন্তে দেখা গেছে, কর ফাঁকি দেওয়া ওই চার বছরে আইনজীবী আমজাদ ইব্রাহিম অন্তত সাতটি পৃথক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেছিলেন। এই কোম্পানিগুলো থেকে নিজের আসল আয় গোপন করার জন্য তিনি অত্যন্ত চতুরতার সাথে নিজের নামে কমপক্ষে ৭০টি চেক ইস্যু করেছিলেন, যার মোট আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ৭ লাখ মার্কিন ডলার। গত ১২ জুন, ২০২৬ তারিখে মার্কিন জেলা আদালতের প্রধান বিচারক লেই মার্টিন মে এক শুনানির মাধ্যমে আমজাদ ইব্রাহিমকে এক বছর তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। কারাভোগের পর আরও দুই বছর তাঁকে প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে বা সুপারভাইজড রিলিজে থাকতে হবে। একই সাথে আদালত তাঁকে আইআরএস-এর বকেয়া বাবদ ১৯ লাখ৩৪ হাজার১১৫ ডলার ক্ষতিপূরণ এবং আলাদাভাবে ৩৫ হাজার ডলার জরিমানা প্রদানের নির্দেশ দেন। এর আগে ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমজাদ ইব্রাহিম আদালতের কাছে নিজের অপরাধ স্বীকার করার পর কর ফাঁকির তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। সেই সময় করা অপরাধ স্বীকার চুক্তির অংশ হিসেবে আমজাদ ইব্রাহিম ২০১৬ থেকে ২০২৩ কর বছর পর্যন্ত তাঁর সমস্ত বকেয়া ট্যাক্স রিটার্ন ফাইল জমা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের অপরাধ তদন্ত শাখা এই পুরো জালিয়াতির বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।