ইসরায়েলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বেন গুরিয়ান এবং হাইফা বন্দর এলাকায় ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ এই দুই স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-এর প্রতিবেদকদের বরাতে বলা হয়েছে, ভোররাত থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরের অবকাঠামো—বিশেষ করে বিমানে জ্বালানি সরবরাহ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করা হয়। ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি, হামলার লক্ষ্য ছিল বিমানবন্দরসংলগ্ন সামরিক ও মহাকাশ শিল্প সংশ্লিষ্ট স্থাপনা এবং হাইফা বন্দর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এদিকে একই দিনে মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছে ইরান। বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন ঘাঁটি লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়। বাহরাইনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান হামলার ঘটনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। এই হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে দেশটি। তবে এসব হামলার বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধে নিজের নিরপেক্ষ অবস্থান রক্ষার জন্য সুইজারল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রসহ যুদ্ধে জড়িত সব দেশের কাছে অস্ত্র রপ্তানি স্থগিত করেছে। শুক্রবার দেশটির সরকার এক বিবৃতিতে জানায়, বর্তমান সংকটজনক পরিস্থিতির কারণে কোনো ধরনের যুদ্ধ সরঞ্জাম রপ্তানি অনুমোদন দেওয়া হবে না। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল উদ্দেশ্য সুইজারল্যান্ডের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা। যুক্তরাষ্ট্রকেও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাখা হয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে একটি মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রে বিমান হামলার ঘটনায় শতাধিক মানুষের হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করেছে তালেবান সরকার, যদিও ইসলামাবাদ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তালেবান সরকারের এক মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, সোমবার সন্ধ্যায় কাবুলের ওমিদ নামে একটি আসক্তি চিকিৎসা হাসপাতালে হামলা চালানো হয়। এতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। তাদের অভিযোগ, পাকিস্তানি বিমানবাহিনীর হামলায় চিকিৎসাধীন রোগীরাই হতাহতের শিকার হয়েছেন। প্রায় দুই হাজার শয্যার এই হাসপাতালটি মাদকাসক্তদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হতো। হামলার ফলে হাসপাতালের বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং হতাহতের সংখ্যা কয়েকশ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, কাবুল ও পূর্ব আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশে “সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সহায়তাকারী অবকাঠামো” লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে, কোনো হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলা করা হয়নি। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অন্তত ৩০টি মরদেহ দেখা গেছে এবং তখনও ভবনের কিছু অংশে আগুন জ্বলছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে প্রায় দুই হাজার রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শারাফাত জামান আমরখাইল জানান, হাসপাতালের আশপাশে কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না। তালেবান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত দাবি করেন, এ হামলায় প্রায় ৪০০ জন নিহত এবং ২৫০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার নিন্দা জানিয়ে আফগানিস্তানের সাবেক কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ বলেন, এটি আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের পরিপন্থী। একই সঙ্গে আফগান ক্রিকেটার রশিদ খানও হামলাকে “অত্যন্ত লজ্জাজনক” বলে মন্তব্য করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত সাড়ে আটটার দিকে কাবুলজুড়ে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, পরে আকাশে বিমান ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তান জঙ্গি গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তুললেও তালেবান তা অস্বীকার করে আসছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে ইতোমধ্যে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
ডুবে যাওয়া একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ থেকে জীবিতদের এবং শ্রীলঙ্কার হেফাজতে থাকা আরেকটি ইরানি জাহাজের ক্রুদের ইরানে ফেরত না পাঠাতে শ্রীলঙ্কার সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার রয়টার্সের দেখা যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের একটি অভ্যন্তরীণ তারবার্তায় এ তথ্য জানা গেছে। খবরে বলা হয়, বুধবার শ্রীলঙ্কার দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর শহর গ্যাল থেকে প্রায় ১৯ নটিক্যাল মাইল দূরে ভারত মহাসাগরে একটি মার্কিন সাবমেরিন ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস ডেনাকে টর্পেডো হামলায় ডুবিয়ে দেয়। এতে কয়েক ডজন নাবিক নিহত হন। এরপর বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ইরানি জাহাজ নৌ-সহায়ক আইআরআইএস বুশেহর থেকে ২০৮ জন ক্রু সদস্যকে নামানো শুরু করে। জাহাজটি শ্রীলঙ্কার একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে আটকে পড়েছিল, যদিও তা দেশটির সামুদ্রিক সীমানার বাইরে অবস্থান করছিল। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকে বলেন, বিপদে পড়া নাবিকদের গ্রহণ করা তার দেশের জন্য একটি মানবিক দায়িত্ব। তবে কলম্বোর মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জেইন হাওয়েল জানান, ৬ মার্চের একটি অভ্যন্তরীণ পররাষ্ট্র দপ্তরের বার্তায় শ্রীলঙ্কা সরকারকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, বুশেহরের ক্রু সদস্য বা ডেনা জাহাজ থেকে বেঁচে যাওয়া ৩২ জন ব্যক্তিকে ইরানে ফেরত পাঠানো উচিত নয়। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ করা হলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এদিকে শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যম বিষয়ক উপমন্ত্রী হানসাকা উইজেমুনি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তেহরান ডেনা জাহাজে নিহত নাবিকদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নিতে কলম্বোর কাছে সহায়তা চেয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। উল্লেখ্য, ডেনা যুদ্ধজাহাজটি গত মাসে বঙ্গোপসাগরে ভারতের আয়োজিত একটি নৌ-মহড়ায় অংশ নিয়েছিল এবং ইরানে ফেরার পথে মার্কিন টর্পেডোর আঘাতে ডুবে যায়। সূত্র: রয়টার্স
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে একটি সামরিক হামলার ভিডিও ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভিডিওটি প্রকাশ করেছে Israel Defense Forces (আইডিএফ)। সেখানে দাবি করা হয়, ইরানের একটি Mil Mi-17 helicopterসহ কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X (Twitter)-এ প্রকাশিত ইনফ্রারেড ফুটেজে ওই হামলার দৃশ্য দেখানো হয়। তবে ভিডিওটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক মাধ্যমে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। অনেক ব্যবহারকারীর দাবি, ভিডিওতে যে লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা হয়েছে সেটি প্রকৃত কোনো হেলিকপ্টার নয়; বরং মাটিতে আঁকা একটি হেলিকপ্টারের ছবি হতে পারে। তাদের যুক্তি, যদি এটি বাস্তব হেলিকপ্টার হতো, তাহলে হামলার পর এর কাঠামো বা পাখায় দৃশ্যমান পরিবর্তন হওয়ার কথা ছিল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম NDTV জানিয়েছে, ভিডিওটি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কেউ কেউ ইসরাইলি বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্যের নির্ভুলতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে বিপরীত মতও রয়েছে। কিছু ব্যবহারকারী ভিডিওতে ধোঁয়ার গতিপথ ও তাপমাত্রার পার্থক্য বিশ্লেষণ করে বলছেন, এটি কোনো ভুয়া লক্ষ্যবস্তু নয়; বরং প্রকৃত সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই হামলা চালানো হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি Israel Defense Forces। ফলে ঘটনাটি নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়ছে। এদিকে Iran ও Israel-এর মধ্যে চলমান সংঘাতে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে Iranian Red Crescent Society জানিয়েছে, চলমান সংঘাতে ইরানে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৩৩২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট Pir Hossein Kolivand বলেন, সংঘাতের কারণে ৩ হাজার ৬৪৩টি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ৯০টি সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews