সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

#আমেরিকারইতিহাস

২৩৪ বছরের ইতিহাস পেরিয়ে বিদায়ের পথে আমেরিকার চেনা এক সেন্টের পেনি
২৩৪ বছরের পথ পেরিয়ে এবার বিদায়ের পথে আমেরিকার পকেটের চেনা প্রিয় পেনি

একসময় আমেরিকার প্রায় প্রতিটি পকেট, কয়েনের জার কিংবা শিশুর পিগি ব্যাংকে দেখা যেত ছোট্ট এক সেন্টের মুদ্রা—পেনি। দোকানের কাউন্টারে খুচরা ফেরত, ছোটখাটো কেনাকাটা কিংবা সঞ্চয়ের প্রথম ধাপ—দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে মিশে ছিল এই ছোট্ট মুদ্রাটি। কিন্তু ২৩৪ বছরের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এবার সেই পরিচিত পেনি বিদায়ের পথে।   মার্কিন সিনেটে পেনি তৈরির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির বিল পাস হয়েছে। ‘কমন সেন্টস অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত এই বিল এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য যাচ্ছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রচলনের জন্য নতুন পেনি তৈরির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।   তবে পেনির গল্প আজকের নয়। ১৭৯২ সালের ‘কয়েনেজ অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে এক সেন্টের মুদ্রা তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর পর ১৭৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টাকশাল প্রথম পেনি তৈরি করে। সেই সময়ের পেনি ছিল বর্তমান মুদ্রার তুলনায় বড় এবং মূলত তামা দিয়ে তৈরি।   এরপর আমেরিকার ইতিহাসের নানা অধ্যায়ের নীরব সাক্ষী হয়ে থেকেছে পেনি। ১৯০৯ সালে মুদ্রাটিতে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের ছবি যুক্ত করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তামার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ১৯৪৩ সালে পেনির একটি সংস্করণ তামার পরিবর্তে ইস্পাত দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এর ধাতব উপাদানও পরিবর্তিত হয়েছে।   দীর্ঘ এই যাত্রার পর ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর ফিলাডেলফিয়া টাকশালে প্রচলনের জন্য শেষ পেনিটি তৈরি করা হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রচলিত পেনির নিয়মিত উৎপাদনের দীর্ঘ ইতিহাসের অবসান ঘটে। তবে মানুষের হাতে থাকা পেনিগুলো এখনো বৈধ মুদ্রা হিসেবে থাকবে এবং সেগুলো দিয়ে লেনদেন করা যাবে।   পেনি তৈরির খরচই মূলত এর বিদায়ের অন্যতম বড় কারণ। মার্কিন টাকশালের হিসাবে, ২০২৪ সালে একটি পেনি তৈরি করতে প্রায় ৩ দশমিক ৬৯ সেন্ট খরচ হয়েছে। অথচ মুদ্রাটির মূল্য মাত্র ১ সেন্ট। একই বছরে প্রায় ৩২০ কোটি পেনি তৈরি করা হয়েছিল।   এর পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে নগদ অর্থের ব্যবহারও কমেছে। কার্ড, মোবাইল পেমেন্ট ও অন্যান্য ডিজিটাল লেনদেন জনপ্রিয় হওয়ায় এক সেন্টের মতো ছোট মূল্যমানের মুদ্রার ব্যবহার আগের তুলনায় অনেক কমেছে।   পেনি সরবরাহ ধীরে ধীরে কমে গেলে নগদ লেনদেনে নতুন নিয়ম চালু হতে পারে। ‘কমন সেন্টস অ্যাক্ট’-এ মোট বিলের অঙ্ক কাছের পাঁচ সেন্টে সমন্বয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনো মোট বিলের শেষ অঙ্ক ১, ২, ৬ বা ৭ হলে তা নিচের পাঁচ সেন্টে নামিয়ে নেওয়া হবে। আর শেষ অঙ্ক ৩, ৪, ৮ বা ৯ হলে তা ওপরের পাঁচ সেন্টে নেওয়া হবে।   এই নিয়ম শুধু নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। কার্ড বা ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে আগের মতোই নির্দিষ্ট সেন্ট পর্যন্ত সঠিক মূল্য পরিশোধ করা যাবে।   অর্থাৎ, আমেরিকার পকেট থেকে পেনি হয়তো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে। কিন্তু দোকানের কাউন্টারে খুচরা হিসেবে পাওয়া সেই ছোট্ট কয়েন, শিশুর পিগি ব্যাংকে জমিয়ে রাখা প্রথম সঞ্চয় কিংবা পুরোনো কয়েনের জারে পড়ে থাকা এক সেন্ট—এসব স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ২৩৪ বছরের ইতিহাস সহজে মুছে যাওয়ার নয়।

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
১৯১৩ সালে আয়কর, সিনেট নির্বাচন ও ফেডারেল রিজার্ভ ব্যবস্থায় আসে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন
১৯১৩ সালে নেওয়া তিন সিদ্ধান্ত যেভাবে বদলে দেয় পুরো আমেরিকাকে

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ১৯১৩ সালকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর হিসেবে দেখেন অনেক ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। ওই বছর সংবিধানের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত হয় ফেডারেল রিজার্ভ ব্যবস্থা। এসব পরিবর্তন যুক্তরাষ্ট্রের করব্যবস্থা, সিনেট নির্বাচন এবং আর্থিক ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে।   মতামতধর্মী এই নিবন্ধের লেখকের মতে, ১৯১৩ সাল থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে সীমিত সরকারের ধারণা ধীরে ধীরে দুর্বল হতে শুরু করে। তবে এই ব্যাখ্যাটি লেখকের নিজস্ব রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক দৃষ্টিভঙ্গি।   ১৯১৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ১৬তম সংশোধনী অনুমোদিত হয়। এর মাধ্যমে কংগ্রেস রাজ্যগুলোর মধ্যে জনসংখ্যার অনুপাতে ভাগ না করেই আয় থেকে ফেডারেল কর আদায়ের সাংবিধানিক ক্ষমতা পায়। ন্যাশনাল আর্কাইভসের তথ্য অনুযায়ী, সংশোধনীটি ১৯০৯ সালে কংগ্রেসে পাস হওয়ার পর ১৯১৩ সালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক রাজ্যের অনুমোদন পায়।   এরপর ৮ এপ্রিল ১৯১৩ অনুমোদিত হয় ১৭তম সংশোধনী। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটররা জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হতেন না; রাজ্য আইনসভাগুলো সিনেটর নির্বাচন করত। ১৭তম সংশোধনীর মাধ্যমে এই ব্যবস্থা বদলে যায় এবং জনগণ সরাসরি সিনেটর নির্বাচনের অধিকার পায়।   লেখকের দৃষ্টিতে, এই পরিবর্তনের ফলে ফেডারেল সরকারের ওপর রাজ্য আইনসভাগুলোর সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব কমে যায়। তবে ১৭তম সংশোধনীর পেছনে অন্য কারণও ছিল। ন্যাশনাল আর্কাইভস বলছে, বিভিন্ন রাজ্যে সিনেটর নির্বাচন নিয়ে দীর্ঘ অচলাবস্থা, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতির অভিযোগ সরাসরি নির্বাচনের দাবিকে জোরালো করেছিল।   ১৯১৩ সালের তৃতীয় বড় পরিবর্তন আসে ২৩ ডিসেম্বর। প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন ফেডারেল রিজার্ভ আইন স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থা হিসেবে ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেম প্রতিষ্ঠিত হয়।   ফেডারেল রিজার্ভ প্রতিষ্ঠার পেছনে ১৯০৭ সালের আর্থিক সংকট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ফেডারেল রিজার্ভের নিজস্ব ইতিহাস অনুযায়ী, ওই সংকটের পর আর্থিক ব্যবস্থাকে আরও স্থিতিশীল করার প্রয়োজনীয়তা থেকে নতুন কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থার উদ্যোগ জোরালো হয়।   বর্তমানে ফেডারেল রিজার্ভ যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতি পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুদের হার, অর্থ ও ঋণের প্রবাহসহ অর্থনীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এর সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়ে।   নিবন্ধের লেখক প্রশ্ন তুলেছেন, অর্থনীতি ও সরকারের এত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা কতটা এমন প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকা উচিত, যেগুলো সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নিয়ন্ত্রণে আসে না। একই সঙ্গে তিনি আয়কর ব্যবস্থা, সরকারি ব্যয় এবং সরকারের আকার নিয়েও নতুন করে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন।   লেখকের মতে, ১৯১৩ সালের পরিবর্তনগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকারকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং রাজ্যগুলোর ভূমিকার ভারসাম্য বদলে দিয়েছে। তিনি ১৬তম ও ১৭তম সংশোধনী নিয়ে পুনর্বিবেচনার কথাও বলেছেন।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান পরিবর্তনের বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক মতামতের নয়, বরং একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার বিষয়। ১৬তম ও ১৭তম সংশোধনী বর্তমানে সংবিধানের অংশ এবং এগুলো পরিবর্তন করতে আবারও সংবিধান সংশোধনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৪:০ 0
Ota Benga was put on display at the Bronx Zoo in 1906.
১৯০৬ সালে চিড়িয়াখানার বানরের খাঁচায় বন্দী করা হয়েছিল যে কৃষ্ণাঙ্গ যুবককে

আজ থেকে ১২০ বছর আগে, ১৯০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস চিড়িয়াখানায় একজন কৃষ্ণাঙ্গ তরুণকে মানুষের মতো নয়, বরং প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে রাখা হয়েছিল। কঙ্গো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা মবুটি জনগোষ্ঠীর এই তরুণের নাম ছিল ওটা বেঙ্গা। তাকে চিড়িয়াখানার মাঙ্কি হাউসে ওরাংওটান ও শিম্পাঞ্জির সঙ্গে দর্শনার্থীদের সামনে প্রদর্শন করা হয়েছিল। ঘটনাটি পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণবাদী ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হয়ে ওঠে।   ওটা বেঙ্গার জন্ম আনুমানিক ১৮৮৩ সালের দিকে কঙ্গো অঞ্চলে। ১৯০৪ সালে মার্কিন অভিযাত্রী ও মিশনারি স্যামুয়েল ফিলিপস ভার্নার তাকে কঙ্গো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসেন। সেন্ট লুইস ওয়ার্ল্ডস ফেয়ারে তাকে আরও কয়েকজন আফ্রিকান মানুষের সঙ্গে একটি নৃতাত্ত্বিক প্রদর্শনীতে রাখা হয়। পরে তিনি আফ্রিকায় ফিরে গেলেও ১৯০৬ সালে ভার্নারের সঙ্গে আবার যুক্তরাষ্ট্রে আসেন।   নিউইয়র্কে ফিরে প্রথমে তাকে আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রির সঙ্গে রাখা হয়েছিল। এরপর ১৯০৬ সালের আগস্টের শেষ দিকে বা সেপ্টেম্বরের শুরুতে তাকে ব্রঙ্কস চিড়িয়াখানায় নেওয়া হয়। শুরুতে চিড়িয়াখানার বিভিন্ন জায়গায় তাকে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে দেওয়া হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে মাঙ্কি হাউসে দর্শনার্থীদের সামনে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়।   ওটা বেঙ্গাকে একটি খাঁচায় ওরাংওটান ও শিম্পাঞ্জির সঙ্গে রাখা হয়েছিল। খাঁচার ভেতরে তার জন্য ধনুক ও তীরও রাখা হয়। বাইরে একটি সাইনবোর্ডে তার বয়স, উচ্চতা ও ওজনের তথ্য দেওয়া হয়েছিল। সেখানে সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে প্রতিদিন বিকেলে তাকে দর্শনার্থীদের সামনে প্রদর্শনের কথা জানানো হয়।   ঘটনাটি দ্রুতই বিপুল দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। ১৯০৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বরের নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের দিন ব্রঙ্কস চিড়িয়াখানায় প্রায় ৪০ হাজার দর্শনার্থী এসেছিলেন। তাদের বড় একটি অংশ মাঙ্কি হাউসে ওটা বেঙ্গাকে দেখতে ভিড় করেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দর্শনার্থীদের কেউ তাকে অনুসরণ করছিলেন, কেউ উপহাস করছিলেন এবং কেউ তাকে উত্যক্তও করছিলেন।   তবে এই প্রদর্শনী নিয়ে দ্রুতই তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। আফ্রিকান আমেরিকান ধর্মীয় নেতা ও বিভিন্ন সংগঠন একজন মানুষকে প্রাণীর সঙ্গে প্রদর্শন করার প্রতিবাদ জানান। তাদের আপত্তি ছিল, একজন মানুষকে প্রাণীর পাশে রেখে প্রদর্শন করা শুধু অপমানজনকই নয়, বরং তৎকালীন বর্ণবাদী চিন্তাধারা ও মানুষের তথাকথিত জাতিগত শ্রেণিবিন্যাসেরও প্রতিফলন।   সমালোচনা বাড়তে থাকায় শেষ পর্যন্ত ১৯০৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ব্রঙ্কস চিড়িয়াখানা থেকে ওটা বেঙ্গাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তিনি একটি অনাথ আশ্রমে এবং পরে ভার্জিনিয়ার লিঞ্চবার্গের একটি সেমিনারিতে থাকেন। তার ইচ্ছা ছিল আফ্রিকায় ফিরে যাওয়ার, কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ায় সেই সুযোগ আর হয়নি।   ১৯১৬ সালে ভার্জিনিয়ায় ওটা বেঙ্গার মৃত্যু হয়। তার বয়স তখন আনুমানিক ৩২ থেকে ৩৩ বছর। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি আফ্রিকায় ফিরে যাওয়ার আশা করেছিলেন বলে ঐতিহাসিক নথিতে উল্লেখ পাওয়া যায়।   ওটা বেঙ্গার ঘটনা এক শতাব্দীরও বেশি সময় পরও যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বর্ণবাদ, ঔপনিবেশিকতা এবং মানুষের মর্যাদা অস্বীকারের এক বেদনাদায়ক উদাহরণ হিসেবে আলোচিত। ২০২০ সালে ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি, যার সঙ্গে ব্রঙ্কস চিড়িয়াখানা যুক্ত, ওটা বেঙ্গাকে প্রদর্শনীতে রাখার ঘটনা এবং তার প্রতি অমানবিক আচরণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে।

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০