জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে বিশ্বের ৬০টি বাণিজ্য অংশীদারের অধিকাংশ পণ্যে নতুন করে ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে আমদানিনির্ভর ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোক্তাপণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাণিজ্য বিশ্লেষকেরা। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর জানিয়েছে, নতুন শুল্কব্যবস্থা দেশটির মোট আমদানির ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ সরবরাহকারী শীর্ষ ৬০ বাণিজ্য অংশীদারকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বা এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে, তাদের পণ্যে সাধারণভাবে ১০ শতাংশ শুল্ক বসানো হচ্ছে। অন্য দেশগুলোর ক্ষেত্রে হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, কানাডা, মেক্সিকো, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও শ্রীলঙ্কাসহ কয়েকটি দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সর্বাধিক সুবিধাপ্রাপ্ত দেশের শুল্কের সঙ্গে সমন্বয় করে মোট হার ১০ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশে সীমিত রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সব পণ্য এ শুল্কের আওতায় পড়বে না। যুক্তরাষ্ট্রে পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎপাদিত হয় না—এমন কিছু কাঁচামাল, অর্থনীতিতে বড় ধরনের সরবরাহ সংকট তৈরি করতে পারে এমন পণ্য, তথ্যসামগ্রী, অনুদান ও যাত্রীর ব্যক্তিগত ব্যাগেজসহ নির্দিষ্ট পণ্যকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। নতুন শুল্ক ৩১ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভোগের জন্য প্রবেশ করা বা গুদাম থেকে ছাড়া পণ্যের ওপর কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার জন্য সিদ্ধান্তটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ক্যালিফোর্নিয়া চেম্বার অব কমার্সের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে অঙ্গরাজ্যটি বিদেশ থেকে ৪৮৮ দশমিক ২১৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে। এর প্রধান উৎস ছিল চীন, তাইওয়ান, মেক্সিকো, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ কোরিয়া। এত বড় আমদানি বাজার হওয়ায় শুল্কের বাড়তি ব্যয় শেষ পর্যন্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ভোক্তাদের ওপর চাপানো হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে ইলেকট্রনিকস, পোশাক, যন্ত্রাংশ, গৃহস্থালি পণ্য এবং বিভিন্ন উৎপাদন উপকরণের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমদানিনির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসাগুলোর মুনাফাও কমে যেতে পারে। তবে শুল্ক আরোপের পক্ষে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন বলছে, সংশ্লিষ্ট দেশগুলো কার্যকরভাবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করলে ভবিষ্যতে শুল্ক পরিবর্তন বা প্রত্যাহার করা হতে পারে। বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার পোশাক ও বস্ত্রপণ্যের জন্য আলাদা শুল্কমুক্ত কোটা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ও বস্ত্র উপকরণ ব্যবহার করলে নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য অতিরিক্ত শুল্ক ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। তবে সেই ব্যবস্থা চালু না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পণ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকবে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, নতুন শুল্কের প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে আমদানিকারকেরা কতটা অতিরিক্ত ব্যয় নিজেরা বহন করেন এবং কতটা পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত করেন তার ওপর। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার বিপুল আমদানি নির্ভরতা বিবেচনায় এখানকার ভোক্তা ও ব্যবসার ওপর এর প্রভাব অন্য অনেক অঙ্গরাজ্যের তুলনায় বেশি হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান কেন্দ্রিক ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে। দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) বর্তমানে ইতিহাসের অন্যতম বড় তেল সংকটের মুখোমুখি। অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েলের অভাবে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত মার্চ ও এপ্রিলের জন্য নির্ধারিত ক্রুড অয়েলের চালানগুলো যথাসময়ে পৌঁছাতে পারেনি। বর্তমানে রিফাইনারির স্টোরেজ ট্যাংকে থাকা জরুরি মজুত বা 'ডেড স্টক' ব্যবহার করে কোনোভাবে দুটি ইউনিট চালু রাখা হয়েছে। বাকি দুটি ইউনিটকে রক্ষণাবেক্ষণের (মেইনটেনেন্স) কথা বলে বন্ধ রাখা হয়েছে। বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ চালানের পর থেকে আর কোনো তেল আসেনি। হরমুজ প্রণালীতে সৃষ্ট জটিলতায় মার্চ মাসের প্রায় দুই লাখ টন তেলের চালান আটকে আছে। তবে আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে নতুন একটি চালান আসার আশা করছে কর্তৃপক্ষ। রিফাইনারির উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসলেও দেশে তেলের সংকট হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত ডিজেল ও অকটেন সরাসরি আমদানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। চেয়ারম্যানের মতে, এ মাসে আসার কথা থাকা ১৭টি কার্গোর মধ্যে ১৪টি নিয়ে নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে। ১৯৬৮ সালে নির্মিত এই পুরনো শোধনাগারটি কেবল মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চমানের ক্রুড পরিশোধন করতে পারে। এই সীমাবদ্ধতা কাটাতে এবং উৎপাদন সক্ষমতা বছরে ১৫ লাখ থেকে ৪৫ লাখ টনে উন্নীত করতে ৩১ হাজার কোটি টাকার একটি সম্প্রসারণ প্রকল্প অনুমোদন করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ যে কোনো দেশের সস্তা ক্রুড অয়েল পরিশোধন করতে পারবে, যা জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা এই বিশাল বিনিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ড. ইজাজ হোসেন ও অধ্যাপক ম তামিমের মতে, বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপট ও ডলার সংকটের সময়ে এত ব্যয়বহুল প্রকল্প কতটা লাভজনক হবে তা দেখার বিষয়। এছাড়া অতিরিক্ত পেট্রোল উৎপাদনের ফলে তা রপ্তানির প্রয়োজন হতে পারে, যার বাজার ধরা চ্যালেঞ্জিং। অন্যদিকে সিপিডির গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ফসিল ফুয়েলে এত বড় বিনিয়োগ না করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সব বাধা পেরিয়ে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিপিসি। মহেশখালীতে এসপিএম টার্মিনাল ও পাইপলাইন নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ায় তেল খালাসের অবকাঠামো এখন প্রস্তুত।
ভারত-এর ভূগর্ভে প্রায় ৫০ কোটি টন স্বর্ণ আকরিক মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু এত বড় সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দেশটি এখনো স্বর্ণের জন্য ব্যাপকভাবে আমদানির ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে শশী থারুর এই পরিস্থিতিকে ভারতের জন্য এক ধরনের ‘স্বেচ্ছায় তৈরি সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, ভারতে স্বর্ণ শুধু গয়না নয়—এটি সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রতীক। কিন্তু এই বিশাল চাহিদা মেটাতে দেশীয় উৎপাদন অত্যন্ত সীমিত, বছরে আনুমানিক দেড় টনের মতো। ফলে অস্ট্রেলিয়া, ঘানা এবং পেরুসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ আমদানি করতে হচ্ছে, যার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার বড় অংশ বাইরে চলে যাচ্ছে। কেন পিছিয়ে খনি খাত? শশী থারুরের বিশ্লেষণে ভারতের খনি শিল্প পিছিয়ে থাকার কয়েকটি প্রধান কারণ তুলে ধরা হয়েছে— জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া: খনি চালুর জন্য দীর্ঘ ও জটিল অনুমোদন প্রক্রিয়া বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করে। উচ্চ করের চাপ: খনি খাতে কর ও রয়্যালটির পরিমাণ বেশি হওয়ায় অনেক কোম্পানির জন্য এই খাতে বিনিয়োগ লাভজনক হয় না। নীতিগত সীমাবদ্ধতা: খনিজ সম্পদ ব্যবস্থাপনায় এখনও রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গি প্রাধান্য পাচ্ছে, যা শিল্পের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। কী করা যেতে পারে? এই পরিস্থিতি বদলাতে কয়েকটি সংস্কারের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে— সহজ অনুমোদন ব্যবস্থা: দীর্ঘমেয়াদী নিশ্চয়তা দিয়ে ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ পদ্ধতিতে দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা করা। কর ছাড়: নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে প্রাথমিক পর্যায়ে কর সুবিধা দেওয়া। আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি: আন্তর্জাতিক মানের কোম্পানিগুলোকে যুক্ত করে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে নিরাপদ খনন নিশ্চিত করা। বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূরাজনীতির অস্থিরতায় স্বর্ণকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ধরা হয়। এমন পরিস্থিতিতে নিজের ভূগর্ভস্থ সম্পদ কাজে লাগাতে না পারলে ভারতের আমদানিনির্ভরতা আরও বাড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, সঠিক নীতি ও সংস্কারের মাধ্যমে এই লুকিয়ে থাকা সম্পদকে কাজে লাগানো গেলে দেশটির অর্থনৈতিক শক্তি অনেকটাই বাড়তে পারে। সূত্র: এনডিটিভি
যুক্তরাষ্ট্র সরকার ঘোষণা দিয়েছে, আমদানিকৃত পেটেন্ট করা বিদেশি ওষুধের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তবে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করে এই শুল্ক এড়ানোর সুযোগ পাবেন। হোয়াইট হাউসের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য দেশীয় ওষুধ উৎপাদন বাড়ানো এবং জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানো। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তাৎক্ষণিক প্রভাব সীমিত হবে, কারণ এই শুল্ক জেনেরিক ওষুধের ওপর প্রযোজ্য নয়, যা মার্কিন বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। বিশাল ওষুধ প্রস্তুতকারী অনেক প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ২০২৯ সালের জানুয়ারির মধ্যে যদি কোনো কোম্পানি মার্কিন উৎপাদন শুরু করার প্রতিশ্রুতি দেয়, তাহলে তাদের শুল্ক ২০ শতাংশে নেমে আসবে। চুক্তি অনুযায়ী যদি ওষুধের দাম সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়, তাহলে শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হবে। কিছু চুক্তিতে দেখা গেছে, কোম্পানিগুলো সরকারি স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচি যেমন মেডিকেইডের সঙ্গে সমপর্যায়ের দাম ধরে বিদেশি ওষুধ সরবরাহে সম্মত হয়েছে। গত বছরের ইউরোপ, যুক্তরাজ্য, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় কম শুল্কের সুবিধা বহাল থাকবে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য থেকে রপ্তানিকৃত কিছু ওষুধ তিন বছর শুল্কমুক্ত থাকবে। বিশ্লেষকরা বলেন, ছোট ও মাঝারি ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোর জন্য এই শুল্ক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে। তবে হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, এই নীতির প্রভাবে প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ইতোমধ্যেই এসেছে। একই সময়ে, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার ওপর আরোপিত শুল্ক নীতিতেও কিছু পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। ধাতব উপাদান কম থাকা পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ হবে না।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে যখন অস্থিরতার কালো মেঘ, ঠিক তখনই বাংলাদেশের জন্য এলো স্বস্তির খবর। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনায় হরমুজ প্রণালি নিয়ে শঙ্কা থাকলেও বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত রয়েছে স্থিতিশীল। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত ৩ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত মাত্র ২৫ দিনেই দেশে পৌঁছেছে ৩০টি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ। এরই মধ্যে ২৭টি জাহাজ থেকে তেল খালাস সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে দুটি জাহাজে খালাস প্রক্রিয়া চলছে। স্বস্তির খবর এখানেই শেষ নয়; আগামী ৪ এপ্রিলের মধ্যে আরও ৬টি জ্বালানি জাহাজ বন্দরে ভিড়তে যাচ্ছে। যার মধ্যে থাকবে এলএনজি, গ্যাস অয়েল এবং এলপিজি। সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরান বাংলাদেশকে ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ হিসেবে বিশেষ অভয় দিয়েছে। তালিকায় বাংলাদেশের সাথে আরও রয়েছে ভারত, চীন, রাশিয়া, ইরাক ও পাকিস্তান। মূলত কাতার, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ওমান থেকে নিয়মিত আসছে এলএনজি ও জ্বালানি তেল। তবে পরিশোধিত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েল নিয়ে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর নতুন কোনো ক্রুড অয়েলের চালান বন্দরে পৌঁছায়নি। তবে আশার কথা হলো, দেশের মোট চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ ক্রুড অয়েল আর বাকি ৮০ শতাংশই পরিশোধিত তেল, যা বর্তমানে নিরবচ্ছিন্নভাবে দেশে আসছে। ফলে বড় কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই বললেই চলে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।