‘ডিপ স্টেট’ নামে পরিচিত শক্তিশালী একটি মহল অন্তর্বর্তী সরকারকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব দিয়েছিল বলে দাবি করেছেন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তবে ওই প্রস্তাবে সরকার সায় দেয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ। ‘রক্তে ভেজা স্বাধীনতা থেকে সংস্কার ও গণভোট: বাস্তবায়নের রাজনৈতিক কর্তব্য’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটি। আসিফ মাহমুদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার শুরুর দিকেই কিছু প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান তাদের কাছে একটি প্রস্তাব দেয়। সেখানে বলা হয়, শেখ হাসিনার নির্ধারিত মেয়াদ অনুযায়ী ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে এবং সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, ওই প্রস্তাবের সঙ্গে কিছু শর্তও ছিল। বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত করতে আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আদালতের তারিখ পেছানোসহ বিভিন্ন উপায়ে বিরোধী নেতাদের নির্বাচনের বাইরে রাখার কৌশল সাজানো হয়েছিল। তবে এসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি অঙ্গীকার বজায় রাখা হয় বলে দাবি করেন তিনি। আসিফ মাহমুদ বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার নিজেরাই পদত্যাগ করে নির্বাচনের পথ সুগম করেছে, যাতে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন এনসিপির এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ব্যক্তি বর্তমানে বিএনপি সরকারের অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা নির্বাচনের সময় সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রশ্ন তৈরি করে। বিএনপি সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসার পর তারা জুলাইয়ের গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও চুক্তিকে উপেক্ষা করছে। গণরায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, অতীতেও এমন অবস্থানের ফল ভালো হয়নি। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপি নেতা সারোয়ার তুষার এবং জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলামসহ অন্যরা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া–এর ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে দেশের ৫৬টি তফসিলি ব্যাংক ও বিভিন্ন নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাঁর ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য, লেনদেন বিবরণী ও সংশ্লিষ্ট নথি বিএফআইইউতে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছাত্রজীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আসিফ মাহমুদ। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবে তিনি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সামনের সারিতে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠকদের মধ্যেও তিনি ছিলেন অন্যতম। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে যুব ও ক্রীড়া এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও তাঁর ওপর ন্যস্ত হয়। তবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিলাসী জীবনযাপনের অভিযোগে একাধিকবার সমালোচনার মুখে পড়েন আসিফ মাহমুদ। নিজ জেলা কুমিল্লার মুরাদনগর এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা নিয়ে বিতর্কও তৈরি হয়। স্থানীয়ভাবে তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। ঢাকা-১০ আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেননি। বর্তমানে এনসিপির মুখপাত্র হিসেবে দলীয় নির্বাচন-সংক্রান্ত কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এ বিষয়ে তাঁর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ জমা দেয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। অভিযোগটি দাখিল করেন বাংলাদেশের ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসানের একদল ভক্ত। দুদক সূত্র জানায়, দুপুরে ২০-৩০ জনের একটি দল সাকিব আল হাসানের পক্ষে স্লোগান দিতে দিতে সেগুনবাগিচার প্রধান কার্যালয়ে প্রবেশ করে। তারা কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার দাবি জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট বিভাগ অভিযোগটি গ্রহণ করে। দুদকের কর্মকর্তা জানান, বেনামে দাখিল করা অভিযোগ সরাসরি তদন্ত বা মামলার পর্যায়ে যায় না। অভিযোগের সত্যতা যাচাই-বাছাই করা হবে এবং যথাযথ তথ্য প্রমাণ না পাওয়া গেলে তা বাতিল করা হবে। পরবর্তী প্রক্রিয়া অভিযোগের বৈধতা নিশ্চিত হওয়ার পর গ্রহণ করা হবে।
ইন্টেরিম সরকারকে ‘বিনাভোটের সরকার’ বলে সমালোচনা করা বিএনপি এখন দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিনাভোটে মেয়র দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সোমবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন। পোস্টে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘শহরগুলোতে ভোটের অঙ্ক দেখে নির্বাচন দিতে সাহস পাচ্ছে না সরকারি দল। ইন্টেরিমকে সকাল-বিকেল বিনাভোটের সরকার বলে গালি দেওয়া দলটি এখন বিনাভোটের মেয়র দিচ্ছে সব জায়গায়।’ তিনি আরও লেখেন, ‘আপকামিং: বিনাভোটের উপজেলা চেয়ারম্যান, বিনাভোটের ইউপি চেয়ারম্যান, বিনাভোটের মেম্বার, বিনাভোটের ওয়ার্ড কাউন্সিলর।’ সম্প্রতি ক্ষমতা গ্রহণের এক সপ্তাহের মাথায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) স্থানীয় সরকার প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল করেছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিসহ দেশের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশনে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তাদের সরিয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তরা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতা বলে জানা গেছে। রোববার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়-এর সিটি করপোরেশন-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অথবা নতুন নির্বাচিত পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসকরা দায়িত্ব পালন করবেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক মেয়রদের সরিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। পরে বিএনপি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর আবার রাজনৈতিক ব্যক্তিদের এসব পদে বসানো হলো। দায়িত্ব গ্রহণের পর স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘যত দ্রুত সম্ভব’ নির্বাচন দেওয়ার আশ্বাস দিলেও, তার আগেই এসব প্রশাসক নিয়োগ সম্পন্ন হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ক্রীড়া খাতে কাজ করার সময়ে কিছু নেতার পক্ষ থেকে তার কার্যক্রমে অবাধ্যতা, বাধা ও অপপ্রচারের চেষ্টা হয়েছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তিনি সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসনে পরাজিত এক প্রার্থীকে ইঙ্গিত করে বলেন, গত দেড় বছরে ফুটবল ও ক্রিকেট বোর্ডে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা, সার্চ কমিটির সদস্য ব্যবহার করে ফেডারেশন কার্যালয় দখলের প্রচেষ্টা, এবং পরবর্তীতে তার নামে মামলা করার ঘটনা ঘটেছে। আসিফ মাহমুদ দাবি করেছেন, ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘদিনের ‘মাফিয়া চক্র’ সরিয়ে সংস্কার কার্যক্রম চালানো হয়েছে এবং এর সুফল ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান। তবে কিছু স্পোর্টস মিডিয়া অংশকে ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, দেড় বছর ভদ্রতা ও নীরবতার সঙ্গে কাজ করেছি। আপনাদের নোংরামিতে নিজেকে জড়াতে চাই না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করার চেষ্টা করেছিলেন। সার্চ কমিটির মাধ্যমে বিভিন্ন ফেডারেশনের কার্যালয় দখলের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সেই ব্যক্তিকে অপসারণ করা হয়, এরপর তার নামে মামলা করা হয়। এছাড়া তিনি অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে পরাজিত হওয়া এই ব্যক্তি ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসহযোগিতা এবং বাধা সৃষ্টি করছেন। আসিফ মাহমুদের পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে এবং ক্রীড়াঙ্গনে রাজনৈতিক ও প্রভাবসংক্রান্ত বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।
নির্বাচন মানেই জনগণের ম্যান্ডেট, আর সেই ম্যান্ডেট রক্ষায় এবার কঠোর অবস্থানে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলা মোটরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এক বিস্ফোরক বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানান, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে মাঠ পর্যায়ে সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার যথাযথ প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি। সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাকে ব্যবহার করে প্রার্থী নির্বাচনের মাধ্যমে অনেকটা 'কিংস পার্টি'র মতো ভূমিকা পালন করছে। নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ বিবেচনা করে প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগের মাধ্যমে একটি 'দায়সারা' নির্বাচনের নীল নকশা করা হচ্ছে। এই অনিয়মের দায়ভার শুধু কমিশনের নয়, বরং ইউনূস সরকারের ওপরও বর্তাবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। এ সময় বিএনপি-র সমালোচনা করে তিনি বলেন, গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দলটি 'মুনাফিকি' আচরণ করছে। সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মনিরা শারমিনসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে এনসিপির এই কঠোর অবস্থান রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নির্বাচন আসলেই কিছু রাজনৈতিক দল বিদেশি নাগরিকদের প্রার্থী করে দেশে ‘অতিথি পাখি’র রাজনীতি শুরু করে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেন, শীতকালে যেমন সাইবেরিয়া থেকে অতিথি পাখি আসে, তেমনি ভোটের মৌসুমে কিছু মানুষ বিদেশ থেকে এসে প্রার্থী হয় এবং ভোট শেষ হলে আবারও বিদেশে পাড়ি জমায়। এদের বর্জন করার সময় এসেছে। আজ রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর বিসিক বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আসিফ মাহমুদ শাহজাদপুরের ঐতিহাসিক তাঁতশিল্পের দুরবস্থার কথা তুলে ধরে বলেন, "ব্রিটিশ আমল থেকে শাহজাদপুরের তাঁতশিল্পের খ্যাতি থাকলেও বুর্জোয়া শাসনের কারণে প্রান্তিক শ্রমিকরা এর সুফল পাননি। মধ্যস্বত্বভোগীরা আপনাদের পরিশ্রমের ফসল লুটে নিয়েছে। এনসিপি ক্ষমতায় আসলে শোষণের এই ধারা বন্ধ করে যার পরিশ্রম তাকেই ন্যায্য মূল্য বুঝিয়ে দেওয়া হবে।" প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এনসিপি ক্ষমতায় আসলে সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণের মান বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ করা হবে। সীমান্তে ফেলানী হত্যার মতো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বড় বড় দলগুলোর নীরবতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, "বাংলাদেশের মানুষ এখন আর ব্যক্তিগত হিসাব করে না, বরং দেশের সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা চায়। আপনারা ঋণ খেলাফিদের টাকা নিলেও ভোট দিবেন দেশপ্রেমিক ও আগ্রাসনবিরোধীদের।" সাবেক এই উপদেষ্টা আসন্ন গণভোট বা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "হাসিনার মতো আর কোনো ফ্যাসিস্ট শাসক যেন বাংলাদেশে ফিরে আসতে না পারে, সেজন্য আপনাদের অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করতে হবে।" তিনি একটি বিশেষ দলের দ্বিচারিতার সমালোচনা করে বলেন, "তাদের নেতারা মঞ্চে এক কথা বলে আর কর্মীরা মাঠে ‘না’ ভোটের প্রচারণা চালায়। যারা এমন মুনাফেকি করছে, তাদের চিনতে ভুল করবেন না।" পথসভায় এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিন বলেন, "ঋণ খেলাফি আর বিদেশি নাগরিকরা সংসদে গেলে তারা সাধারণ মানুষের জন্য নয়, বরং বিদেশের বেগম পাড়ার স্বার্থে আইন তৈরি করবে। তাই সচেতনভাবে আপনাদের সঠিক প্রতিনিধি বেছে নিতে হবে।" জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক এডভোকেট তারিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন শাহজাদপুর উপজেলা জামায়াতের আমির সহকারী অধ্যাপক মিজানুর রহমান এবং এনসিপির মিডিয়া সেক্রেটারি ইয়াসির আরাফাতসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সংস্কারের প্রশ্নে এতোদিন কিছু না বললেও দুই মাস পর এস একটা দলের প্রধান হ্যাঁ ভোটের পক্ষে বলছে। নেতা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে বললেও কর্মীরা না ভোট চাইতেছে। এখন কর্মীরা যদি না ভোট চায় তাহলে তাদেরকে বলবেন গুপ্ত গুপ্ত। এইভাবে না ভোট চাওয়াও গুপ্ত কাজ। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) টাঙ্গাইলের ঘাঁটাইল উপজেলার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, সাইফুল্লাহ হায়দারের আবেদনের প্রেক্ষিতে তিন কোটি চল্লিশ লক্ষ টাকার বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছিলাম। বিভিন্ন রাস্তাঘাটের উন্নয়নে বরাদ্দ দিয়েছি। আপনারা যদি তাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে আপনাদের জন্য সে আরও বেশি করে কাজ করতে পারবে। তিনি বলেন, আমরা দুই হাজার নয় সালের বিডিআর বিদ্রোহ থেকে শাপলা চত্বর হয়ে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের হত্যার বিচার করব ইনশাআল্লাহ। আমরা সরকার গঠন করলে হিসাব দাও নামে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারীদের আয় ব্যায়ের হিসাব সাধারণ মানুষের কাছে প্রকাশ করব ইনশাআল্লাহ। আমি উপদেষ্টা থেকে বিদায় নেওয়ার সময় সরকারি একটা বাড়ি, একটা খাট ও মেট্রিক্স ফেরত দিয়েছি। ভারতের বড় ভাই সুলভ আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেন, আমরা তিন দিক দিয়ে একটা দেশ দ্বারা ঘেরাওয়ের মধ্যে আছি। তাদের কাছে প্রত্যাশা ছিল ভালো প্রতিবেশি হওয়ার কিন্তু তারা আমাদের ছোট প্রতিবেশি হিসেবে ট্রিট করতে চায়। এগারো দলীয় ঐক্য জোট সরকার গঠন করলে, আমরা যুবকদের সামরিক ট্রেনিং দেওয়ার ব্যবস্থা করব। সামরিক বাহিনীর অধীনে সামরিক ট্রেনিং সদস্য দ্বিগুণ করা হবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সংস্কারের জন্য কৃতজ্ঞ। কিন্তু শহীদ জিয়া জীবনে একটা ভুল করেছিলেন। বাকশাল গঠনের পরও শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে নিয়ে এসে। হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার ফল হিসেবে বেগম খালেদা জিয়াকে বাড়িছাড়াসহ বিভিন্ন নির্যাতনের স্বীকার হতে হয়েছে। দেশের মানুষ নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে। একটা দল আওয়ামীলীগকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। আপনারা যদি নির্যাতিত হতে চান! দেশ ছেড়ে যেতে চান। তাহলে আমরা আর আপনাদের পাশে থাকব না। তারেক রহমানের কৃষক ঋণ মওকুফের বিষয়ে নাম ধরে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, একটি দল কৃষকদের ঋণ মওকুফ করার কথা বলছে। ২০০১ সালেও তারা কৃষকদের ঋণ মওকুফের কথা বলেছিল কিন্তু করে নাই। আবারও একই কথা বলছে কিন্তু ২৫ বছরেও মাফ করে নাই। এবার আবার বললে জিজ্ঞেস করবেন এইবার মাফ করবে কবে? টাঙ্গাইল তিন ঘাটাইল আসনের এগারো দলীয় ঐক্য জোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সাইফুল্লাহ হায়দার বলেন, আমি আমার নেতাকর্মী, আত্মীয়স্বজন এক টাকার চাঁদাবাজি করলে আমি আপনাদের কাছে একটা ভোটও চাইব না। অথচ গত সতেরো মাসে একটা দলের নেতাকর্মীরা ঘাঁটাইলের বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি করেছে। আমাদের আগামীর আন্দোলন হবে চাঁদাবাজ, ঘুষ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে। আমরা এই ঘাঁটাইলে উইড়া আইসা জুইড়া বসি নাই। পাহাড় কেটে কলকারখানা করা হচ্ছে। আমরা কলকারখানা করার বিরুদ্ধে নয়। কিন্তু আমাদের পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে পারে এমন কলকারখানা স্থাপন করা হবে। আমরা সারাজীবন দুইটা পরিবারের কাছে বর্গা দিছি। আমরা এমন বাংলাদেশ চাই, যেন কৃষকের সন্তানও যেন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারে। পাহাড়ে সাদিকের নামে ২৫ শয্যা হাসপাতাল তৈরি করব ইনশাআল্লাহ। প্রতিটা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে দুর্নীতির বক্স স্থাপন করব। আপনারা অন্যায়ের স্বীকার হলে আপনারা সেই বিষয়ে তথ্য দিবেন। আমরা ব্যবস্থা নিব। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে বেতনের বাহিরে এক টাকাও নিবনা ইনশাআল্লাহ। জাতীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক এডভোকেট তারিকুল ইসলাম বলেন, যারা ভাবছেন ভোটকেন্দ্র দখল করে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার বন্ধ করে দিবে। তাদের স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, এগারো দলীয় ঐক্য জোট সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। একটি দলের চেয়ারম্যান বার বার তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্রে চলে যাবেন। আমরা ফ্যাসিস্ট হাসিনাকেও দেখেছি তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে ভোটকেন্দ্র দখল করতে। আমরা তখন স্লোগান দিতাম তাহাজ্জুদের আউলিয়া দেশ করেছে দেউলিয়া। আপনাদের বিরুদ্ধেও একই স্লোগান দিতে বাধ্য করবেন না। এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত বলেন, ২০২৪ সালে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে হাজার হাজার মানুষ মাঠে নেমেছিলাম। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেখা গেল একটি দল চাঁদাবাজি, দখলবাজি শুরু করে দিয়েছে। আমরা চব্বিশের ছাত্র-জনতার সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে এগারো দলী ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোট গড়ে তুলেছি। ৯৯৯ একটি নাম্বারের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশ থেকে চাঁদাবাজদের বিপক্ষে সেবা পাওয়া যাবে। স্বাস্থ্যসেবা শুধুমাত্র ধনীদের জন্য নয় সাধারণ মানুষের জন্যও নিশ্চিত করব। পথসভায় আরও বক্তব্য , এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিন, টাঙ্গাইল জেলা এনসিপির আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাবলু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নেতা মুফতি মাশরুর আহমেদ, টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী অধ্যক্ষ হোসনে মোবারক বাবুল প্রমুখ।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews