সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ইউএসসিআইএস

নতুন অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের জন্য নতুন সুযোগ ও কাট-অফ ডেট ঘোষণা করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীদের জন্য নতুন সুযোগ, অক্টোবরেই কার্যকর হচ্ছে যেসব নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ অর্থবছর শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। নতুন অর্থবছরে অভিবাসী ভিসার সংখ্যা পুনর্বণ্টন হওয়ায় পারিবারিক ও কর্মভিত্তিক বিভিন্ন শ্রেণিতে আবেদন করার সুযোগ এবং কাট-অফ তারিখে পরিবর্তন দেখা গেছে। একই সময়ে গ্রিন কার্ড আবেদনের ক্ষেত্রে সরকারি সুবিধা গ্রহণের প্রভাব এবং বিনিয়োগভিত্তিক ইবি-৫ কর্মসূচির ফি নিয়েও পরিবর্তন সামনে এসেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অক্টোবর ২০২৬ ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে নতুন অর্থবছর ২০২৭ শুরু হয়েছে। প্রতি অর্থবছরের শুরুতে নির্দিষ্ট অভিবাসী ভিসা শ্রেণির জন্য নতুন ভিসা সংখ্যা পাওয়া যায়। এর ফলে কয়েকটি ক্যাটাগরিতে কাট-অফ তারিখ এগিয়েছে, আবার কিছু কর্মভিত্তিক শ্রেণিতে চাহিদা ও বার্ষিক সীমার কারণে তারিখ পিছিয়েও দেওয়া হয়েছে।   সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলোর একটি দেখা গেছে ভারতীয় আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে। সেপ্টেম্বরে বার্ষিক সীমা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় ভারতের ইবি-২ শ্রেণি সাময়িকভাবে অনুপলব্ধ ছিল। অক্টোবরের নতুন বুলেটিনে এই শ্রেণি আবার চালু হয়েছে এবং এর চূড়ান্ত অনুমোদনের কাট-অফ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১ নভেম্বর ২০১৩। ভারতের অনির্ধারিত ইবি-৫ শ্রেণিও আবার চালু হয়েছে, যার চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০২৩। ভারতের ইবি-১ শ্রেণির তারিখও ১৫ অক্টোবর ২০২২ থেকে এগিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ হয়েছে।   তবে সব শ্রেণিতে অগ্রগতি হয়নি। বেশিরভাগ দেশ, মেক্সিকো ও ফিলিপাইনের জন্য ইবি-২ শ্রেণির চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ ‘কারেন্ট’ অবস্থা থেকে ১ জানুয়ারি ২০২৫ করা হয়েছে। একইভাবে বেশিরভাগ দেশ ও মেক্সিকোর ইবি-৩ শ্রেণির তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে পিছিয়ে ১৫ মে ২০২৪ করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অর্থবছরের ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক ভিসা সীমার মধ্যে সংখ্যা রাখতে কিছু শ্রেণিতে এই ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন হয়েছে।   চীনা আবেদনকারীদের জন্যও কর্মভিত্তিক কিছু শ্রেণিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ইবি-৩-এর আবেদন করার তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০২২ থেকে এগিয়ে ১ এপ্রিল ২০২৪ হয়েছে। অনির্ধারিত ইবি-৫ শ্রেণির তারিখও ১ মার্চ ২০১৭ থেকে এগিয়ে ১ মার্চ ২০২১ হয়েছে। পারিবারিক অভিবাসনের ক্ষেত্রে স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানদের জন্য এফ-২এ শ্রেণির চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখ বেশিরভাগ দেশের ক্ষেত্রে ২২ আগস্ট ২০২৬ থেকে এগিয়ে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ হয়েছে।   গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘ডেটস ফর ফাইলিং’ এবং ‘ফাইনাল অ্যাকশন ডেট’-এর পার্থক্য। ডেটস ফর ফাইলিং নির্ধারণ করে কখন যোগ্য আবেদনকারী প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারবেন। অন্যদিকে ফাইনাল অ্যাকশন ডেট নির্ধারণ করে কখন অভিবাসী ভিসা নম্বর পাওয়া গেলে গ্রিন কার্ডের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া সম্ভব। তাই আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া মানেই সঙ্গে সঙ্গে গ্রিন কার্ড অনুমোদিত হওয়া নয়।   অক্টোবর ২০২৬-এর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএস কোন চার্ট ব্যবহার করে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন গ্রহণ করবে, সেটি আবেদনকারীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ভিসা বুলেটিনের চার্ট এবং ইউএসসিআইএসের সংশ্লিষ্ট মাসের নির্দেশনা মিলিয়ে দেখে আবেদন করার যোগ্যতা নির্ধারণ করতে হয়।   এদিকে গ্রিন কার্ড আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘পাবলিক চার্জ’ নীতিতেও পরিবর্তন এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আওতায় নির্দিষ্ট কিছু আবেদনকারীর ক্ষেত্রে তারা ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর প্রধানত নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে কি না, তা মূল্যায়নের সময় বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক পরিস্থিতি, আর্থিক অবস্থা, সম্পদ ও দায়, শিক্ষা এবং দক্ষতার মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। তবে সরকারি সুবিধা ব্যবহার করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো ব্যক্তি গ্রিন কার্ডের জন্য অযোগ্য হয়ে যান না। কোন আবেদনকারীর ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে, তা তার অভিবাসন শ্রেণি ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।   অন্যদিকে ইবি-৫ বিনিয়োগভিত্তিক অভিবাসন কর্মসূচিতে আবেদন ফিও বাড়ানোর কথা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০ নভেম্বর থেকে মূল বিনিয়োগকারীর আবেদনের ফি ৩ হাজার ৬৭৫ ডলার থেকে বেড়ে ৭ হাজার ৬১৫ ডলার হবে। আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে আবেদনকারী বিনিয়োগকারীদের জন্য ফি বেড়ে ৭ হাজার ৮৫০ ডলার হবে। ইউএসসিআইএসের ভাষ্য অনুযায়ী, আবেদন প্রক্রিয়াকরণ, পটভূমি যাচাই এবং কর্মসূচির তদারকির ব্যয় মেটাতেই এই ফি পরিবর্তন করা হচ্ছে।   ইবি-৫ কর্মসূচির কিছু পুরোনো বিনিয়োগকারীর জন্য নতুন ধরনের আবেদনে ১০ হাজার ৩৩০ ডলারের ফি নির্ধারণের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের হিসাব অনুযায়ী, ফি পরিবর্তনের প্রভাব বছরে প্রায় ১৬ হাজার ৬০০ আবেদনকারীর ওপর পড়তে পারে। অভিবাসন আইনজীবী জ্ঞানামুকান সেন্টুরজোথি নিউজউইককে বলেন, অক্টোবরের ভিসা বুলেটিন বিশেষ করে ভারতীয় গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য কিছু নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তবে তার মতে, নতুন অর্থবছরে ভিসা সংখ্যা আবার পাওয়া এবং দীর্ঘদিনের গ্রিন কার্ড জট কমে যাওয়া এক বিষয় নয়। অন্যদিকে সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা রিকি মারে অক্টোবরের পরিবর্তনের পাশাপাশি নতুন বুলেটিন প্রকাশের সময় নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।   ফলে গ্রিন কার্ডপ্রত্যাশীদের জন্য অক্টোবর মাসটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি আলাদা। পারিবারিক বা কর্মভিত্তিক কোন শ্রেণিতে আবেদন করা হয়েছে, অগ্রাধিকারের তারিখ কী এবং কোন দেশের জন্য চার্জযোগ্য হিসেবে আবেদনটি বিবেচিত হচ্ছে, এসব তথ্যের ওপর আবেদন করার সময় নির্ভর করে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট মাসের ভিসা বুলেটিন ও ইউএসসিআইএসের ফাইলিং নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।   সূত্র: নিউজউইক

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ২, ২০২৬ ১৪:০
অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ায় আসছে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পরিবর্তন
গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, অক্টোবর থেকে যেসব নিয়মে আসছে নতুন সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের জন্য অপেক্ষারত আবেদনকারীদের জন্য অক্টোবর মাসটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন অর্থবছর ২০২৭ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন অভিবাসন ক্যাটাগরিতে ভিসা নম্বরের নতুন বরাদ্দ এসেছে এবং কয়েকটি কাট-অফ তারিখে পরিবর্তন হয়েছে। একই সঙ্গে পাবলিক চার্জের নিয়মে পরিবর্তন এবং ইবি-৫ বিনিয়োগকারী ভিসার ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্তও কার্যকর হচ্ছে।   প্রথম বড় পরিবর্তন এসেছে নতুন অর্থবছরের ভিসা নম্বর নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ অর্থবছর শুরু হয়েছে ১ অক্টোবর। আগের অর্থবছরে যেসব ক্যাটাগরির বার্ষিক ভিসা সীমা পূরণ হয়ে গিয়েছিল, নতুন অর্থবছরে সেগুলোতে আবার ভিসা নম্বর পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে বিশেষ করে ভারতের কিছু কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ড ক্যাটাগরিতে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।   ভারতের ক্ষেত্রে অক্টোবরের ভিসা বুলেটিনে ইবি-২-এর ফাইনাল অ্যাকশন ডেট ১ নভেম্বর ২০১৩ নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইবি-১ এগিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ এবং আনরিজার্ভড ইবি-৫-এর তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০২৩ হয়েছে। তবে অন্য অনেক দেশের ক্ষেত্রে কিছু কর্মভিত্তিক ক্যাটাগরিতে তারিখ পিছিয়েও দেওয়া হয়েছে। যেমন, অধিকাংশ দেশের ইবি-২-এর ফাইনাল অ্যাকশন ডেট ১ জানুয়ারি ২০২৫ এবং ইবি-৩-এর ডেট ১৫ মে ২০২৪ করা হয়েছে।   দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অক্টোবর ২০২৬-এ যুক্তরাষ্ট্রে থাকা যোগ্য আবেদনকারীদের অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাসের জন্য ইউএসসিআইএস ডেটস ফর ফাইলিং চার্ট ব্যবহার করছে। অর্থাৎ কিছু আবেদনকারী তাদের প্রাইওরিটি ডেট অনুযায়ী ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দিতে পারবেন, যদিও চূড়ান্ত গ্রিন কার্ড অনুমোদনের জন্য ফাইনাল অ্যাকশন ডেট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।   তৃতীয় পরিবর্তন এসেছে পাবলিক চার্জ নিয়মে। ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২২ সালের পাবলিক চার্জ বিধি বাতিল করে নতুন কাঠামো কার্যকর হয়েছে। এতে আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক পরিস্থিতি, আর্থিক অবস্থা, সম্পদ ও দায়, শিক্ষা এবং দক্ষতার মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এই নিয়ম সব গ্রিন কার্ড আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় এবং সরকারি সুবিধা গ্রহণ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবেদন বাতিল হবে—এমন নয়।   চতুর্থ পরিবর্তন ইবি-৫ বিনিয়োগকারী ভিসায়। ৩০ নভেম্বর থেকে প্রধান বিনিয়োগ আবেদন ফি ৩ হাজার ৬৭৫ ডলার থেকে বেড়ে ৭ হাজার ৬১৫ ডলার হবে। আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে করা বিনিয়োগকারীদের ফিও বেড়ে ৭ হাজার ৮৫০ ডলার হবে। নতুন একটি নির্দিষ্ট আবেদনের জন্য ১০ হাজার ৩৩০ ডলারের ফিও নির্ধারণ করা হয়েছে।   তাই গ্রিন কার্ডপ্রার্থীদের জন্য অক্টোবরের ভিসা বুলেটিনে নিজের ক্যাটাগরি, দেশভিত্তিক প্রাইওরিটি ডেট এবং ইউএসসিআইএসের ফাইলিং নির্দেশনা মিলিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী নিয়ম ভিন্ন হতে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থীদের গ্রিন কার্ড আবেদনের শর্তগুলো স্পষ্ট করেছে ইউএসসিআইএস
এক বছর পর গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারবেন শরণার্থীরা, মানতে হবে যেসব শর্ত

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় পাওয়া শরণার্থীদের জন্য গ্রিন কার্ড বা স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে, তা স্পষ্ট করেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)। দেশটিতে শরণার্থী হিসেবে প্রবেশের পর নির্দিষ্ট সময় পূর্ণ হলে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।   ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, শরণার্থীদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের এক বছর পর স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার জন্য আবেদন করা আইনগতভাবে প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’। এর জন্য ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দিতে হয়।   গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে শরণার্থীকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। প্রথমত, যথাযথভাবে ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, আবেদনকারীকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের ২০৭ ধারার অধীনে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে ভর্তি হতে হবে।   তৃতীয়ত, আবেদন জমা দেওয়ার সময় আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে। চতুর্থত, শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর অন্তত এক বছর দেশটিতে শারীরিকভাবে অবস্থান করতে হবে। ইউএসসিআইএসের নীতিমালা অনুযায়ী, এই এক বছরের শারীরিক উপস্থিতির বিষয়টি আবেদন নিষ্পত্তির সময়ও বিবেচনা করা হয়।   পঞ্চমত, আবেদনকারীর শরণার্থী হিসেবে ভর্তির মর্যাদা বাতিল বা সমাপ্ত হয়ে যাওয়া যাবে না। ষষ্ঠত, অন্য কোনো উপায়ে এরই মধ্যে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ড পাওয়া থাকলে এই একই ভিত্তিতে আবার আবেদন করা যাবে না।   সপ্তমত, আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। কোনো কারণে আবেদনকারী গ্রহণযোগ্য না হলে এবং আইনের আওতায় সেই অযোগ্যতার জন্য ছাড় পাওয়ার সুযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট ওয়েভারের মাধ্যমে যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ থাকতে পারে।   ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, শরণার্থীদের ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দেওয়ার জন্য সাধারণত কোনো ফাইলিং ফি দিতে হয় না। বায়োমেট্রিক সেবার ক্ষেত্রেও শরণার্থীদের জন্য ফি নেওয়া হয় না।   গ্রিন কার্ড পাওয়ার মাধ্যমে একজন শরণার্থী যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে বসবাস ও কাজ করার অধিকার পান। যারা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, তাদের জন্য এই মর্যাদা ভবিষ্যতে আরও স্থায়ীভাবে দেশটিতে থাকার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে।   তবে যোগ্যতা পূরণ করলেই গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীর পরিস্থিতি, প্রয়োজনীয় নথি এবং গ্রহণযোগ্যতার বিষয়গুলো ইউএসসিআইএস যাচাই করে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা ও ফর্মের সর্বশেষ তথ্য দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০
মার্কিন নাগরিকত্বের ৭ লাখ ৪২ হাজার আবেদন অপেক্ষমাণ
মার্কিন নাগরিকত্বের ৭ লাখ ৪২ হাজার আবেদন অপেক্ষমাণ, নিউইয়র্কেও চাপ

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের জন্য করা ৭ লাখ ৪২ হাজার ১৩৮টি এন-৪০০ আবেদন গত ৩০ জুন পর্যন্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ছিল। এপ্রিল থেকে জুন - এই তিন মাসে ইউএসসিআইএস নতুন আবেদন পেয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৭২টি, আর অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত দিয়েছে ৭০ হাজার ৫৩৯টির। সংস্থাটির ২০২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের তথ্য নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ হিসাব উঠে এসেছে।   অপেক্ষমাণ ৭ লাখ ৪২ হাজার আবেদন শুধু ওই তিন মাসে জমা পড়েনি। এটি জুনের শেষ দিনে আগের আবেদনসহ মোট অনিষ্পন্ন আবেদনের সংখ্যা। প্রান্তিকটিতে নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনগুলোর মধ্যে ৫৭ হাজার ৬৯৭টি অনুমোদিত এবং ১২ হাজার ৮৪২টি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।   অফিসভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি আবেদন অপেক্ষমাণ ছিল টেক্সাসের হিউস্টনে - ৩১ হাজার ৫৭টি। এরপর ডালাসে ২৮ হাজার ৬৬২টি, শিকাগোতে ২৩ হাজার ৬২৩টি, স্যান হোসেতে ২০ হাজার ৮৯৯টি এবং স্যান অ্যান্টোনিওতে ১৮ হাজার ৯৯৯টি। এসব সংখ্যায় সাধারণ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের নাগরিকত্বের আবেদনও একসঙ্গে ধরা হয়েছে।    নিউইয়র্ক অঞ্চলেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আবেদন অপেক্ষমাণ। শুধু সাধারণ নাগরিকত্বের আবেদন ধরলে নিউইয়র্ক অফিসে ১৭ হাজার ২৮টি, ব্রুকলিনে ১৫ হাজার ৬২৭টি, কুইন্সে ১১ হাজার ৯০৮টি এবং লং আইল্যান্ডে ৯ হাজার ৮০৩টি আবেদন জুনের শেষে অনিষ্পন্ন ছিল। নিউ জার্সির নিউয়ার্ক অফিসে এই সংখ্যা ১৭ হাজার ৬৭০।   সাধারণ নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তিতে দেশজুড়ে মধ্যম সময় ছিল ৯ দশমিক ৫ মাস। এটি জাতীয় হিসাব, কোনো নির্দিষ্ট অফিস বা আবেদনকারীর জন্য প্রতিশ্রুত সময়সীমা নয়। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত যোগ্য বাংলাদেশি গ্রিন কার্ডধারীদের ক্ষেত্রেও একই এন-৪০০ আবেদনপ্রক্রিয়া প্রযোজ্য; প্রকাশিত পরিসংখ্যানে বাংলাদেশিদের আবেদন আলাদা করে দেখানো হয়নি। 

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
চাকরির প্রস্তাব ছাড়াই নির্দিষ্ট শর্তে EB-1A শ্রেণিতে গ্রিন কার্ডের আবেদন করা যায়। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের EB-1A ভিসায় গ্রিন কার্ড, যে ৫ ক্ষেত্রে যোগ্যতা থাকলে আবেদন করা যায়

ক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ডের প্রথম অগ্রাধিকার শ্রেণি EB-1-এর আওতায় অসাধারণ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য রয়েছে বিশেষ একটি পথ। EB-1A নামে পরিচিত এই শ্রেণিতে আবেদনকারীর কোনো নির্দিষ্ট চাকরির প্রস্তাব বা নিয়োগকর্তার পৃষ্ঠপোষকতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তবে আবেদনকারীকে নিজের পেশাগত ক্ষেত্রে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিক স্বীকৃতি ও অসাধারণ সাফল্যের প্রমাণ দিতে হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা, ইউএসসিআইএসের সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, EB-1A শ্রেণিতে যোগ্যতার ক্ষেত্র পাঁচটি। এগুলো হলো বিজ্ঞান, শিল্প, শিক্ষা, ব্যবসা এবং ক্রীড়া। অর্থাৎ এসব ক্ষেত্রের কোনো একটিতে অসাধারণ দক্ষতা ও স্বীকৃতির প্রমাণ থাকলে একজন বিদেশি নাগরিক EB-1A শ্রেণিতে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন।   তবে শুধু এই পাঁচ ক্ষেত্রের কোনো একটিতে কাজ করলেই EB-1A-এর জন্য যোগ্য হওয়া যায় না। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীকে নিজের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক জাতীয় বা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন এবং তার সাফল্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত হয়েছে, এমন প্রমাণ দিতে হয়। অর্থাৎ পেশার ক্ষেত্রের পাশাপাশি ব্যক্তির অর্জন, পরিচিতি এবং সেই অর্জনের স্বীকৃতিও গুরুত্বপূর্ণ।   EB-1A আবেদনের ক্ষেত্রে সাধারণত বিভিন্ন ধরনের প্রমাণ বিবেচনা করা হয়। ইউএসসিআইএসের Form I-140 নির্দেশনায় পুরস্কার বা সম্মাননা, পেশাগত সংগঠনের সদস্যপদ, আবেদনকারীকে নিয়ে প্রকাশিত উপাদান, অন্যদের কাজ মূল্যায়নের দায়িত্ব, মৌলিক গুরুত্বপূর্ণ অবদান, বৈজ্ঞানিক বা একাডেমিক লেখা, প্রদর্শনী বা শিল্পকর্ম, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বমূলক ভূমিকা, তুলনামূলকভাবে উচ্চ পারিশ্রমিক এবং পারফর্মিং আর্টসে বাণিজ্যিক সাফল্যের মতো বিষয়গুলোর প্রমাণের কথা উল্লেখ রয়েছে।   নির্ধারিত প্রমাণের কাঠামোর ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে সাধারণত ১০টি নির্ধারিত মানদণ্ডের মধ্যে অন্তত তিনটি পূরণ করার প্রমাণ দিতে হয়, অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তুলনীয় প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেন। তবে অন্তত তিনটি মানদণ্ড পূরণ করলেই আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হয় না। ইউএসসিআইএস পরে পুরো প্রমাণপত্র বিবেচনা করে আবেদনকারী সত্যিই সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতার পর্যায়ে রয়েছেন কি না, সেটিও মূল্যায়ন করে।   EB-1A-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, আবেদনকারী নিজেই নিজের হয়ে Form I-140, Petition for Alien Worker জমা দিতে পারেন। অর্থাৎ এই নির্দিষ্ট শ্রেণিতে কোনো মার্কিন নিয়োগকর্তাকে আবেদনকারীর পক্ষে পিটিশন দাখিল করতে হয় না। একই কারণে EB-1A-এর জন্য সাধারণ কর্মভিত্তিক শ্রম সনদ বা শ্রমবাজার পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। ইউএসসিআইএসের নীতিমালাতেও বিজ্ঞান, শিল্প, শিক্ষা, ব্যবসা ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের স্ব-আবেদনের এই সুযোগের কথা বলা হয়েছে।   তবে EB-1-এর সব শ্রেণির নিয়ম এক নয়। প্রথম অগ্রাধিকার কর্মভিত্তিক অভিবাসন শ্রেণির মধ্যে EB-1A ছাড়াও অসাধারণ অধ্যাপক বা গবেষক এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপক বা নির্বাহী কর্মকর্তাদের জন্য আলাদা দুটি শ্রেণি রয়েছে। অসাধারণ অধ্যাপক বা গবেষক শ্রেণিতে আবেদনকারীর সংশ্লিষ্ট একাডেমিক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত তিন বছরের শিক্ষকতা বা গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকতে হয় এবং সাধারণত একজন মার্কিন নিয়োগকর্তাকে আবেদন করতে হয়।   অন্যদিকে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক বা নির্বাহী কর্মকর্তাদের শ্রেণিতেও মার্কিন নিয়োগকর্তার পিটিশন প্রয়োজন হয়। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে একই প্রতিষ্ঠান, তার মূল প্রতিষ্ঠান, শাখা, সহযোগী বা অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানে গত তিন বছরের মধ্যে অন্তত এক বছর ব্যবস্থাপক বা নির্বাহী হিসেবে কাজ করার প্রমাণ দিতে হয়।   EB-1-এর আওতায় আবেদন অনুমোদিত হলে পরিবারের নির্দিষ্ট সদস্যরাও অভিবাসনের সুযোগ পেতে পারেন। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, প্রধান আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত ২১ বছরের কম বয়সী সন্তানরা সংশ্লিষ্ট অভিবাসী মর্যাদায় যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন।   তবে EB-1A কোনো স্বয়ংক্রিয় গ্রিন কার্ড ব্যবস্থা নয়। আবেদনকারীকে নিজের যোগ্যতা, অর্জন এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে স্বীকৃতির বিষয়ে যথেষ্ট নথি দিতে হয়। ইউএসসিআইএসের মূল্যায়নে শুধু প্রমাণের সংখ্যা নয়, সেগুলোর মান এবং পুরো আবেদনের সামগ্রিক চিত্রও গুরুত্বপূর্ণ।   যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের জন্য EB-1A বিবেচনা করছেন এমন ব্যক্তিদের তাই শুধু নিজের পেশার ক্ষেত্রটি পাঁচটি নির্ধারিত বিভাগের মধ্যে পড়ে কি না, সেটি দেখলেই হবে না। সেই ক্ষেত্রের মধ্যে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্জিত স্বীকৃতি, পেশাগত অবদান এবং তা প্রমাণ করার মতো নথিপত্রও প্রস্তুত করতে হয়। অভিবাসন আইনের জটিলতা বিবেচনায় ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য অনুমোদিত অভিবাসন আইনজীবী বা স্বীকৃত আইনগত সহায়তাকারীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।   সূত্র: ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS)

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের আবেদন ও ন্যাচারালাইজেশন প্রক্রিয়ার প্রতীকী ছবি
আমেরিকান নাগরিকত্বের আবেদনেই বড় সুবিধা, ফি দিতে হবে না যাদের

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির মানুষের জন্য ফি ছাড়ের সুযোগ রয়েছে। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা বা ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, কিছু সামরিক সদস্য ও যোগ্য সাবেক সামরিক সদস্য ন্যাচারালাইজেশনের আবেদন করার সময় নির্ধারিত ফি থেকে পুরোপুরি অব্যাহতি পেতে পারেন। বর্তমানে এন-৪০০ ন্যাচারালাইজেশন আবেদনের সাধারণ ফি ৭৬০ ডলার।   প্রথমত, যারা সক্রিয়ভাবে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে কর্মরত এবং অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ৩২৮ বা ৩২৯ ধারার অধীনে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন, তাদের এন-৪০০ আবেদনের জন্য কোনো ফি দিতে হয় না। এই ক্ষেত্রে আইনের অধীনেই ফি মওকুফ হয়ে যায় এবং আলাদাভাবে ফি মওকুফের আবেদন করার প্রয়োজন নেই।   দ্বিতীয়ত, যোগ্য সাবেক সামরিক সদস্যরাও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে নাগরিকত্বের আবেদন ফি থেকে পুরোপুরি অব্যাহতি পেতে পারেন। শান্তিকালীন সময়ে বা নির্ধারিত শত্রুতাপূর্ণ পরিস্থিতিতে সম্মানের সঙ্গে সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হতে পারে। এ জন্য সামরিক বা নৌবাহিনীতে দায়িত্ব পালনের প্রমাণ হিসেবে এন-৪২৬ ফরম জমা দিতে হয়।   ইউএসসিআইএস আরও জানিয়েছে, নির্দিষ্ট সামরিক শ্রেণির আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার কিছু সাধারণ শর্তেও ছাড় থাকতে পারে। যেমন, নির্ধারিত শত্রুতার সময় সম্মানের সঙ্গে সামরিক দায়িত্ব পালনকারীদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের আবেদনের আগে সাধারণ আবাসন বা যুক্তরাষ্ট্রে শারীরিক উপস্থিতির কিছু শর্ত প্রযোজ্য নাও হতে পারে।   তবে সামরিক সদস্যদের জন্য নির্ধারিত এই ফি ছাড়ের ক্ষেত্রে সাধারণ ফি মওকুফের জন্য ব্যবহৃত আই-৯১২ ফরম জমা দেওয়া উচিত নয়। কারণ সামরিক আইনের অধীনে যোগ্য হলে ফি ছাড় স্বয়ংক্রিয়ভাবেই প্রযোজ্য হয়।   সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত নন এমন ব্যক্তিদের জন্যও আর্থিক সংকটের ভিত্তিতে নাগরিকত্বের আবেদন ফি কমানোর বা পুরোপুরি মওকুফের সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আই-৯১২ ফরম জমা দিতে হয়। যাদের পরিবারের আয় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ১৫০ শতাংশের মধ্যে, যারা নির্দিষ্ট আয়ভিত্তিক সরকারি সুবিধা পান অথবা যারা গুরুতর আর্থিক সংকটে রয়েছেন, তারা পুরো ফি মওকুফের জন্য আবেদন করতে পারেন।   এ ছাড়া পরিবারের আয় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ১৫০ শতাংশের বেশি কিন্তু ৪০০ শতাংশের মধ্যে হলে কাগজে আবেদন করার ক্ষেত্রে ৩৮০ ডলারের কমানো ফি প্রযোজ্য হতে পারে। অর্থাৎ যোগ্যতা ও আয়ের ভিত্তিতে কিছু আবেদনকারীকে পুরো ফি না দিয়ে কম ফিতে নাগরিকত্বের আবেদন করার সুযোগও রয়েছে।   তবে এসব সুবিধা পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনি ও যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। বিশেষ করে সামরিক সদস্যদের অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ৩২৮ বা ৩২৯ ধারার অধীনে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকতে হবে। নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুযায়ী নিজের যোগ্যতা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।  

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ১৪:০
পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ডে স্পনসরদের জন্য ২০২৬ সালের নতুন আয়সীমা প্রকাশ করেছে ইউএসসিআইএস
পরিবারের সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে আনতে নতুন আয়সীমা, যা জানাল ইউএসসিআইএস

পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে স্বজনকে গ্রিন কার্ডে আনতে স্পনসরদের জন্য ২০২৬ সালের নতুন আয়সীমা প্রকাশ করেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস বা ইউএসসিআইএস। ফর্ম আই-৮৬৪, অর্থাৎ অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্টের ক্ষেত্রে স্পনসরকে সাধারণত পরিবারের আকার অনুযায়ী ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার অন্তত ১২৫ শতাংশ আয় দেখাতে হয়।   ৪৮টি কনটিগুয়াস স্টেট, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া, পুয়ের্তো রিকো, ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ডস, গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা আইল্যান্ডসে ২০২৬ সালের হিসাবে দুই সদস্যের পরিবারের জন্য ন্যূনতম আয় ২৭ হাজার ৫০ ডলার। তিন সদস্যের জন্য ৩৪ হাজার ১৫০ ডলার, চার সদস্যের জন্য ৪১ হাজার ২৫০ ডলার এবং পাঁচ সদস্যের জন্য ৪৮ হাজার ৩৫০ ডলার আয় দেখাতে হবে।   ছয় সদস্যের পরিবারের ক্ষেত্রে প্রয়োজন ৫৫ হাজার ৪৫০ ডলার, সাত সদস্যের জন্য ৬২ হাজার ৫৫০ ডলার এবং আট সদস্যের জন্য ৬৯ হাজার ৬৫০ ডলার। আটজনের বেশি হলে প্রতি অতিরিক্ত সদস্যের জন্য আরও ৭ হাজার ১০০ ডলার যোগ করতে হবে।   হাওয়াইয়ের ক্ষেত্রে আয়সীমা তুলনামূলক বেশি। সেখানে দুই সদস্যের পরিবারের জন্য ন্যূনতম আয় ৩১ হাজার ১১৩ ডলার, তিন সদস্যের জন্য ৩৯ হাজার ২৭৫ ডলার, চার সদস্যের জন্য ৪৭ হাজার ৪৩৮ ডলার এবং পাঁচ সদস্যের জন্য ৫৫ হাজার ৬০০ ডলার। আট সদস্যের পরিবারের জন্য প্রয়োজন ৮০ হাজার ৮৮ ডলার। এরপর প্রতি অতিরিক্ত সদস্যের জন্য ৮ হাজার ১৬৩ ডলার করে যোগ হবে।   স্পনসরের আয় নির্ধারিত সীমার নিচে থাকলেও সব ক্ষেত্রে আবেদন শেষ হয়ে যায় না। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে একজন জয়েন্ট স্পনসর যুক্ত করা যেতে পারে, পরিবারের অন্য সদস্যের যোগ্য আয় ফর্ম আই-৮৬৪এ-এর মাধ্যমে হিসাব করা যেতে পারে অথবা নির্দিষ্ট যোগ্য সম্পদ ব্যবহার করে আয়ের ঘাটতি পূরণ করা যেতে পারে।   ফর্ম আই-৮৬৪ মূলত এমন একটি আর্থিক অঙ্গীকার, যার মাধ্যমে স্পনসর যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে জানান যে তিনি স্পনসর করা অভিবাসীকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দিতে সক্ষম। কিছু ক্ষেত্রে স্পনসর করা ব্যক্তি নির্দিষ্ট আয়ভিত্তিক সরকারি সুবিধা নিলে সেই সুবিধার খরচ ফেরত দেওয়ার দায়ও স্পনসরের ওপর আসতে পারে।   তবে সামরিক বাহিনীর কিছু স্পনসরের জন্য ব্যতিক্রম রয়েছে। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, সক্রিয় দায়িত্বে থাকা মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী বা কোস্ট গার্ডের সদস্য যদি নিজের স্বামী/স্ত্রী বা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে স্পনসর করেন, তাহলে সাধারণ ১২৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০০ শতাংশ ফেডারেল দারিদ্র্যসীমা প্রযোজ্য হতে পারে।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ১৪:০
ব্যাচেলর ডিগ্রিধারীদের গ্রিন কার্ডে ৮ শর্ত জানাল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যাচেলর ডিগ্রিধারীদের গ্রিন কার্ড, পূরণ করতে হবে যে ৮ শর্ত

ব্যাচেলর ডিগ্রিধারী বিদেশি পেশাজীবীদের যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ বা গ্রিন কার্ড পেতে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। কর্মসংস্থানভিত্তিক তৃতীয় পছন্দ বা ইবি-৩ ক্যাটাগরির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত যোগ্য আবেদনকারীরা ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দিয়ে স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্টের মাধ্যমে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার জন্য আবেদন করতে পারেন।   ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীর প্রথমে সঠিকভাবে ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দিতে হবে। তাকে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিদর্শিত ও যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া, অথবা প্যারোল করা হয়ে থাকতে হবে। ফর্ম জমা দেওয়ার সময় তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে।   এ ছাড়া আবেদনকারীকে অভিবাসী ভিসা পাওয়ার যোগ্য হতে হবে এবং ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দেওয়ার সময় ও ইউএসসিআইএসের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সময়—দুই সময়েই তার জন্য অভিবাসী ভিসা অবিলম্বে পাওয়ার মতো অবস্থায় থাকতে হবে।   আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, যে নিয়োগকর্তা আবেদনকারীর জন্য ফর্ম আই-১৪০ জমা দিয়েছেন, তার দেওয়া চাকরির অফারটি তখনও বহাল থাকতে হবে এবং আই-৪৮৫ অনুমোদিত হলে আবেদনকারীকে সেই চাকরি গ্রহণের ইচ্ছা থাকতে হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য তাকে গ্রহণযোগ্য হতে হবে অথবা অগ্রহণযোগ্যতার কোনো শর্ত থাকলে সংশ্লিষ্ট ওয়েইভার বা আইনি সুবিধার জন্য যোগ্য হতে হবে।   সবশেষে, ইউএসসিআইএসকে আবেদনকারীর পক্ষে গ্রিন কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক বিবেচনা করতে হবে। অর্থাৎ তালিকাভুক্ত সব শর্ত পূরণ করলেও আবেদনটি অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই ও সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।   চাকরি পরিবর্তন করলে কী হবে? ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, আই-১৪০ অনুমোদনের পর চাকরি পরিবর্তন করলেই আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য হয়ে যান না। ফর্ম আই-৪৮৫ অন্তত ১৮০ দিন মুলতবি থাকার পর নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে নতুন চাকরিতে যাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। নতুন চাকরিটি আগের চাকরির মতো বা একই ধরনের পেশাগত শ্রেণিতে হতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে চাকরি পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়।   ইউএসসিআইএসের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ইবি-৩সহ কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রে চাকরির অফার ও সংশ্লিষ্ট আবেদনপত্রের শর্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই আবেদনকারীদের ফর্ম আই-৪৮৫, আই-১৪০ এবং প্রয়োজনীয় সাপ্লিমেন্টসহ সব নথি সঠিকভাবে জমা দেওয়া এবং নিজেদের পরিস্থিতি অনুযায়ী যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
পরিবারের সম্পর্কের ভিত্তিতে গ্রিন কার্ডের ৫ ক্যাটাগরি
গ্রিন কার্ডের আবেদন করতে পারবেন পরিবারের কারা, স্পষ্ট করল যুক্তরাষ্ট্র

পরিবারের সম্পর্কের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে কোন কোন আত্মীয় যোগ্য হতে পারেন, তা স্পষ্ট করেছে দেশটির ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস বা ইউএসসিআইএস। ফ্যামিলি-স্পনসর্ড প্রেফারেন্স প্রোগ্রামের আওতায় মার্কিন নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের নির্দিষ্ট কিছু আত্মীয় গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে এসব ক্যাটাগরিতে বার্ষিক ভিসা সংখ্যার সীমা রয়েছে।   এই ব্যবস্থায় মোট পাঁচটি প্রধান ক্যাটাগরি রয়েছে—এফ১, এফ২এ, এফ২বি, এফ৩ এবং এফ৪। কোন ক্যাটাগরি প্রযোজ্য হবে, তা নির্ভর করে আবেদনকারী ও যুক্তরাষ্ট্রে থাকা পরিবারের সদস্যের সম্পর্ক এবং স্পনসর মার্কিন নাগরিক নাকি গ্রিন কার্ডধারী, তার ওপর।   এফ১: ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী অবিবাহিত ছেলে-মেয়েরা এই ক্যাটাগরির আওতায় পড়েন, যদি তাদের স্পনসর মার্কিন নাগরিক হন।   এফ২এ: যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা এই ক্যাটাগরির জন্য বিবেচিত হন।   এফ২বি: গ্রিন কার্ডধারীর ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী অবিবাহিত ছেলে-মেয়েরা এই ক্যাটাগরির আওতায় পড়েন।   এফ৩: মার্কিন নাগরিকের বিবাহিত ছেলে-মেয়েরা এই ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে পারেন। তাদের স্বামী বা স্ত্রী এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতার অধীনে সন্তানরাও সংশ্লিষ্ট পারিবারিক ইমিগ্রেশন সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।   এফ৪: অন্তত ২১ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিকের ভাই-বোন এই ক্যাটাগরির আওতায় পড়েন। যোগ্যতার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভাই বা বোনের স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের জন্যও ডেরিভেটিভ সুবিধা থাকতে পারে।   তবে এসব ক্যাটাগরিতে পড়লেই সঙ্গে সঙ্গে গ্রিন কার্ড পাওয়া যায় না। সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরিতে অভিবাসী ভিসা নম্বর পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীর প্রেফারেন্স ক্যাটাগরি ও অগ্রাধিকার তারিখের ওপর ভিসা পাওয়ার সময় নির্ভর করে। ভিসা নম্বর পাওয়া গেলে যোগ্য আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দিয়ে স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্টের মাধ্যমে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার প্রক্রিয়ায় যেতে পারেন।   এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের নিজেদের পারিবারিক সম্পর্ক অনুযায়ী সঠিক ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এফ১, এফ২এ, এফ২বি, এফ৩ ও এফ৪—প্রতিটি ক্যাটাগরির জন্য আলাদা যোগ্যতা ও ভিসা-সংক্রান্ত অপেক্ষার নিয়ম রয়েছে।    

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
চাকরির অফার ছাড়াই গ্রিন কার্ডের সুযোগ, রয়েছে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত
গ্রিন কার্ড পেতে চাকরির অফার বাধ্যতামূলক নয়, যে ৩ শর্ত জানাল ইউএসসিআইএস

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির অফার বা নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপ ছাড়াই গ্রিন কার্ড পাওয়ার একটি সুযোগ রয়েছে বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য। ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার বা এনআইডব্লিউ নামের এই প্রক্রিয়াটি ইবি-২ ইমিগ্রেশন শ্রেণির আওতায় পড়ে। এর মাধ্যমে যোগ্য আবেদনকারীরা নিজেরাই আবেদন করতে পারেন এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে চাকরির অফার ও পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশনের শর্ত মওকুফের আবেদন করতে পারেন।   তবে এনআইডব্লিউর জন্য আবেদন করলেই সরাসরি গ্রিন কার্ড পাওয়া যায় না। প্রথমে আবেদনকারীকে ইবি-২ শ্রেণির মৌলিক যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। অর্থাৎ তাকে অ্যাডভান্সড ডিগ্রিধারী পেশাজীবী হতে হবে অথবা বিজ্ঞান, শিল্পকলা কিংবা ব্যবসায় অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে। এই প্রাথমিক যোগ্যতা পূরণ না হলে ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার বিবেচনাই করা হয় না।   ইউএসসিআইএসের নীতিমালা অনুযায়ী, ইবি-২ যোগ্যতা প্রমাণের পর এনআইডব্লিউ পেতে তিনটি শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রথমত, আবেদনকারীর প্রস্তাবিত কাজের যথেষ্ট গুরুত্ব এবং জাতীয় গুরুত্ব থাকতে হবে। অর্থাৎ শুধু ব্যক্তিগত ক্যারিয়ার নয়, ওই কাজের সম্ভাব্য প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে হবে।   দ্বিতীয়ত, আবেদনকারীকে প্রস্তাবিত কাজ এগিয়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সক্ষম অবস্থানে থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে তার শিক্ষা, দক্ষতা, জ্ঞান, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে আগের সাফল্য, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং কাজটি বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে করা অগ্রগতি বিবেচনা করতে পারে ইউএসসিআইএস।   তৃতীয়ত, সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চাকরির অফার এবং সংশ্লিষ্ট লেবার সার্টিফিকেশনের শর্ত মওকুফ করা লাভজনক হবে—এটি প্রমাণ করতে হবে। ইউএসসিআইএসের মূল্যায়নে আবেদনকারীর কাজ, যোগ্যতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে তার সম্ভাব্য অবদানসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হতে পারে।   অর্থাৎ এনআইডব্লিউর ক্ষেত্রে তিনটি শর্তই পূরণ করা প্রয়োজন। ইউএসসিআইএস প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে মূল্যায়ন করে এবং আবেদনকারীকে প্রয়োজনীয় প্রমাণের মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করতে হয়।   চাকরির অফারের শর্ত মওকুফ হলেও আবেদন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিতে হয়। এনআইডব্লিউ আবেদনের ক্ষেত্রে লেবার সার্টিফিকেশনের কিছু আবেদনকারী-সংক্রান্ত অংশ জমা দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে, যদিও নিয়োগকর্তার মাধ্যমে ওই সার্টিফিকেশনের অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন থাকে না।   এই পথটি বিশেষ করে গবেষক, বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা এবং অন্যান্য দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য প্রাসঙ্গিক হতে পারে, যারা যুক্তরাষ্ট্রে এমন কোনো কাজ করতে চান যার সম্ভাব্য গুরুত্ব বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং যারা নিয়োগকর্তার স্পনসরশিপ ছাড়াই নিজেদের পেশাগত উদ্যোগ এগিয়ে নিতে চান।  

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৪:০
গ্রিন কার্ডের আর্থিক স্পনসরদের ক্রেডিট তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ পেয়েছে ইউএসসিআইএস। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড স্পনসরদের জন্য নতুন নিয়ম: এখন থেকে যাচাই হবে ক্রেডিট স্কোর

যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যদের গ্রিন কার্ডের জন্য আর্থিক স্পনসরদের ক্রেডিট রিপোর্ট ও ক্রেডিট স্কোর যাচাইয়ের সুযোগ পেয়েছে দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএস। ৩১ আগস্ট ২০২৬ থেকে নতুন সংস্করণের Form I-864, Affidavit of Support কার্যকর করার মাধ্যমে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।   নতুন Form I-864-এর সংস্করণ তারিখ ২৪ আগস্ট ২০২৬। এতে ‘Privacy Release’ নামে নতুন একটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে। ফর্মে স্বাক্ষর করার মাধ্যমে আর্থিক স্পনসর ইউএসসিআইএস এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে এক বা একাধিক ক্রেডিট রিপোর্টিং সংস্থার কাছ থেকে তাঁর ভোক্তা-ঋণসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের অনুমতি দিচ্ছেন। এর মধ্যে ক্রেডিট রিপোর্ট ও ক্রেডিট স্কোরও থাকতে পারে। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, এই তথ্য Form I-864-এর আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।   Form I-864 হলো গ্রিন কার্ডের জন্য আর্থিক সহায়তার অঙ্গীকারপত্র। পরিবারভিত্তিক অভিবাসনসহ নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্পনসরকে এই ফর্মের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হয় যে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মতো সক্ষমতা তাঁর রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই অঙ্গীকার আইনগতভাবে কার্যকর এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্পনসরের আর্থিক দায়ও তৈরি করতে পারে।   নতুন নিয়মে ক্রেডিট ইতিহাস যাচাইয়ের সুযোগ যুক্ত হলেও ইউএসসিআইএস কোনো নির্দিষ্ট ন্যূনতম ক্রেডিট স্কোর নির্ধারণ করেনি। অর্থাৎ একজন স্পনসরের ক্রেডিট স্কোর নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যার নিচে থাকলেই তাঁর আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে, এমন কোনো প্রকাশিত নিয়ম নেই। একইভাবে শুধু কম ক্রেডিট স্কোর, ঋণ, ক্রেডিট ইতিহাসে নেতিবাচক তথ্য বা অতীতের দেউলিয়াত্বের ভিত্তিতে স্পনসরশিপ বাতিলের স্বয়ংক্রিয় বিধানও প্রকাশ করা হয়নি।   স্পনসরদের আর্থিক যোগ্যতা নির্ধারণে মূল বিষয়গুলোও বহাল রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবারের সদস্যসংখ্যা, আয়, সম্পদ এবং করসংক্রান্ত তথ্য। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, স্পনসরের আয় সংশ্লিষ্ট পরিবারের আকারের জন্য নির্ধারিত ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার অন্তত ১২৫ শতাংশ হতে হয়। তবে নির্দিষ্ট শর্তে সক্রিয় সামরিক বাহিনীর সদস্যরা স্বামী, স্ত্রী বা সন্তানের জন্য স্পনসর করলে ১০০ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান নির্দেশনাতেও স্পনসরদের আয় ও করসংক্রান্ত নথি জমা দেওয়ার বিষয়টি বহাল রয়েছে। সাধারণত সাম্প্রতিক কর বছরের আইআরএস ট্যাক্স ট্রান্সক্রিপ্ট, প্রয়োজন অনুযায়ী আয় প্রমাণের কাগজপত্র এবং সম্পদ ব্যবহার করলে তার প্রমাণ জমা দিতে হয়। আয় নির্ধারিত সীমার নিচে হলে অতিরিক্ত আর্থিক প্রমাণ বা যৌথ স্পনসরের প্রয়োজন হতে পারে।   নতুন নিয়মে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ক্রেডিট বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ‘ফ্রিজ’। কোনো স্পনসরের ক্রেডিট রিপোর্টে এমন ফ্রিজ চালু থাকলে ইউএসসিআইএস প্রয়োজনীয় তথ্য দেখতে না পারায় আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ে বিলম্ব হতে পারে। তবে আবেদন জমা দেওয়ার আগেই প্রত্যেক স্পনসরকে বাধ্যতামূলকভাবে ক্রেডিট ফ্রিজ তুলে ফেলতে হবে, এমন নির্দেশনা নেই। ইউএসসিআইএস তথ্য চাইলে দ্রুত সাড়া দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   নতুন ফর্মের ক্ষেত্রে সংস্করণ-তারিখ নিয়েও স্পনসরদের সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। ইউএসসিআইএস ৩১ আগস্ট ২০২৬ নতুন 08/24/26 সংস্করণ প্রকাশ করেছে। তবে সংস্থার প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, পুরোনো 10/17/24 সংস্করণের জন্য ৩০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে। ফলে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পুরোনো সংস্করণ গ্রহণ করা হবে। ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে 08/24/26 সংস্করণই ব্যবহার করতে হবে।   বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের অনেকে পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার ক্ষেত্রে Form I-864-এর মাধ্যমে আর্থিক স্পনসর হয়ে থাকেন। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের বর্তমান নির্দেশনাতেও পরিবারভিত্তিক অভিবাসী ভিসা আবেদনে প্রতিটি আর্থিক স্পনসরের Form I-864 এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।   তাই নতুন আবেদন প্রস্তুত করার সময় ফর্মের নিচে থাকা সংস্করণ-তারিখ, আয়সংক্রান্ত তথ্য, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, সাম্প্রতিক কর নথি এবং প্রয়োজনীয় সম্পদের প্রমাণ ভালোভাবে মিলিয়ে দেখা জরুরি। বিশেষ করে ১ অক্টোবরের পর পুরোনো সংস্করণের ফর্ম ব্যবহার করলে আবেদন প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হতে পারে।   ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত জটিলতা বা স্পনসরের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে আবেদন জমা দেওয়ার আগে লাইসেন্সধারী ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। কারণ নতুন ফর্মে ক্রেডিট তথ্য যাচাইয়ের অনুমতি যুক্ত হলেও ক্রেডিট স্কোর কীভাবে প্রতিটি মামলার মূল্যায়নে প্রভাব ফেলবে, সে বিষয়ে ইউএসসিআইএস এখনো কোনো নির্দিষ্ট স্কোর-ভিত্তিক মানদণ্ড প্রকাশ করেনি।   সূত্র: ইউএসসিআইএস ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ ১৪:০
ছবি:সংগৃহীত
গ্রিন কার্ড বিক্রির অভিযোগে সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

ঘুষের বিনিময়ে গ্রিন কার্ডসহ বিভিন্ন অভিবাসন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা ইউএসসিআইএস- এর সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম লুকমান ওলাবি গানিউ। তবে তার আইনজীবী এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।   প্রসিকিউটরদের তথ্যমতে, গানিউ ইউএসসিআইএস-এ তার পদের অপব্যবহার করে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বসবাস (গ্রিন কার্ড) ও নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদন করতেন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত তিনি প্রয়োজনীয় সরকারি যাচাই-বাছাই এড়িয়ে বিভিন্ন আবেদন দ্রুত অনুমোদন করেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। এসবের মধ্যে গ্রিন কার্ডের জন্য ব্যবহৃত ‘আই-৪৮৫’ ফর্ম ছাড়াও পারিবারিক স্পনসরশিপ ও নাগরিকত্বের আবেদন অন্তর্ভুক্ত ছিল। আদালতের নথি থেকে জানা যায়, এই দুর্নীতি চক্রে আদেনিই আকিম সোমোয়ে নামে আরেকজন সহযোগী যুক্ত ছিলেন। গত ২ সেপ্টেম্বর গানিয়ু ও সোমোয়ে উভয়কেই গ্রেফতার করা হয়। হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের মাধ্যমে তারা আবেদনকারীদের কাছ থেকে লাখ লাখ ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন বলে তদন্তকারীরা জানান। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, গানিয়ুর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৩০ ডলারের অজ্ঞাত নগদ জমা এবং জেলি ও ক্যাশ অ্যাপের মাধ্যমে প্রায় ৬ লাখ ৭১ হাজার ৪৩৮ ডলার লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। অথচ ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সরকারি চাকরি থেকে তার বৈধ বেতন ছিল প্রায় ৪ লাখ ৭ হাজার ৮৩৮ ডলার। ২০২৫ সালের মে মাসে একটি গোপন অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। উল্লেখ্য, গানিউ ২০১৮ সালের নভেম্বরে ইউএসসিআইএস-এ যোগ দেন এবং ক্যানসাস, টেক্সাস ও নর্থ ক্যারোলাইনায় দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২৪ সালের এপ্রিলে তিনি ডালাসে জ্যেষ্ঠ অভিবাসন সেবা কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি পান। অন্যদিকে, গানিয়ুর আইনজীবী আলফনসো কাবানাস নিউজউইককে জানান, তার মক্কেল কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না এবং সরকারের আনা অর্থনৈতিক লেনদেনের বিবরণীকে তারা চ্যালেঞ্জ করছেন।

বায়জিদ হাসান সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
অর্থের বিনিময়ে ইমিগ্রেশন সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা গ্রেপ্তার
১০ লাখ ডলার ঘুষ নিয়ে গ্রিন কার্ড দেওয়ার অভিযোগে সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন আবেদনের অনুমোদন ও দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে ইউএসসিআইএসের সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি পদ ব্যবহার করে ইমিগ্রেশন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার একটি দুর্নীতি চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা লুকমান ওওলাবি গানিউ, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের সাবেক সিনিয়র ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস অফিসার। তাঁর সঙ্গে আদেনিই আকিম সোমোয়ে নামের আরেক ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুজনকেই ২ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়। ফেডারেল আদালতে ৩১ আগস্ট দাখিল করা ফৌজদারি অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত গানিউ তাঁর সরকারি পদ ব্যবহার করে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ইমিগ্রেশন আবেদন অনুমোদন ও দ্রুত নিষ্পত্তি করতেন বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ। এর মধ্যে ছিল পরিবারের সদস্যদের জন্য ইমিগ্রেশন আবেদন, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের আবেদন, গ্রিন কার্ডের শর্ত তুলে নেওয়ার আবেদন এবং নাগরিকত্বের আবেদন। এসব আবেদনের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারীরা ফেডারেল আইনের অধীনে যোগ্য ছিলেন না বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, গানিউ স্বাভাবিক ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার একাধিক ধাপ পাশ কাটিয়ে আবেদন অনুমোদন করতেন। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় সাক্ষাৎকার, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পর্যালোচনা, নির্ধারিত এখতিয়ার, ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই এবং ইউএসসিআইএসের নিয়মিত প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের দাবি, গানিউ ও সোমোয়ে মিলে আবেদনকারীদের কাছ থেকে কয়েক লাখ ডলার অর্থ নিয়েছেন। তদন্তে তাদের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে হাজার হাজার বার্তা এবং শত শত ফোনকলের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কিছু অর্থপ্রদানের সঙ্গে নির্দিষ্ট ইমিগ্রেশন আবেদন অনুমোদনের সরাসরি যোগসূত্রও তদন্তকারীরা পেয়েছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। গানিউয়ের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ হলো সরকারি কর্মকর্তাকে অবৈধ অর্থ দেওয়ার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রতিটি আসামির সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত ফেডারেল কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা হতে পারে। মামলাটি তদন্ত করেছে ইউএসসিআইএসের তদন্ত বিভাগ, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয় এবং এফবিআইয়ের ডালাস ফিল্ড অফিস। ফেডারেল প্রসিকিউটর রায়ান রেবোল্ড বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তার হাতে বৈধ ইমিগ্রেশন সুবিধার বিনিময়ে অর্থ নেওয়া জনগণের আস্থার গুরুতর অপব্যবহার। এ ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এগুলো এখনো অভিযোগ, আদালতে প্রমাণিত অপরাধ নয়। ফেডারেল বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, ফৌজদারি অভিযোগপত্রে থাকা তথ্যগুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে এবং আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিরা নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বপ্রত্যাশীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হলো নাগরিকত্ব পরীক্ষা। ছবি: সংগৃহীত
সিটিজেনশিপ টেস্টে ফেল করার ৪টি কারণ জানাল মার্কিন সরকার

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ইংরেজি ভাষার লিখিত পরীক্ষায় কিছু নির্দিষ্ট ভুল করলে আবেদনকারীকে ব্যর্থ হিসেবে গণ্য করা হতে পারে। দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএসের (ইউএসসিআইএস) সরকারি নির্দেশিকায় লিখিত পরীক্ষায় কোন ধরনের উত্তর গ্রহণযোগ্য হবে না, তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।   ইউএসসিআইএসের স্কোরিং নির্দেশিকা অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীকে কর্মকর্তার বলা একটি বাক্য লিখতে হয়। নির্ধারিত বাক্যটি সঠিকভাবে এবং বোঝা যায় এমনভাবে লিখতে পারলেই লিখিত ইংরেজির দক্ষতা প্রদর্শন করা সম্ভব। তবে উত্তরটি যদি নির্দেশিত বাক্যের অর্থ স্পষ্টভাবে প্রকাশ না করে, সেটি ব্যর্থ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।   লিখিত পরীক্ষায় প্রথম যে ভুলটি ব্যর্থতার কারণ হতে পারে, সেটি হলো কর্মকর্তার বলা বাক্য বা শব্দের পরিবর্তে অন্য কোনো বাক্য বা শব্দ লেখা। অর্থাৎ পরীক্ষার্থীকে যে বাক্যটি লিখতে বলা হয়েছে, সেটির পরিবর্তে নিজের মতো করে অন্য কিছু লিখলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।   দ্বিতীয়ত, নির্দেশিত কোনো শব্দের পরিবর্তে সংক্ষিপ্ত রূপ ব্যবহার করলেও উত্তরটি ব্যর্থ হিসেবে গণ্য হতে পারে। ইউএসসিআইএসের নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কর্মকর্তার বলা শব্দের জায়গায় সংক্ষিপ্ত রূপ লিখলে সেটি ভুল উত্তর হিসেবে বিবেচিত হবে।   তৃতীয়ত, পরীক্ষার্থী কিছু না লিখলে অথবা মাত্র এক-দুটি বিচ্ছিন্ন শব্দ লিখলে সেটিও ব্যর্থতার কারণ হতে পারে। তাই পরীক্ষার্থীর উচিত কর্মকর্তার নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য লেখার চেষ্টা করা।   চতুর্থত, হাতের লেখা এতটাই অস্পষ্ট হলে যে কর্মকর্তা সেটি পড়তে বা বুঝতে না পারেন, সেই উত্তরও ব্যর্থ হিসেবে গণ্য হবে। ইউএসসিআইএসের সরকারি স্কোরিং গাইডলাইনে সম্পূর্ণ অপাঠ্য লিখিত উত্তরকে সরাসরি ব্যর্থতার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   এর পাশাপাশি, লিখিত বাক্যটি এমনভাবে লেখা হলে যাতে নির্দেশিত বাক্যের অর্থ বোঝা না যায়, সেটিও ব্যর্থতার কারণ। ফলে শুধু বানান বা লেখার সৌন্দর্য নয়, পরীক্ষার্থীর লেখা বাক্যটি কর্মকর্তার কাছে অর্থবোধক ও বোধগম্য কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।   ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, নাগরিকত্বের ইংরেজি পরীক্ষার তিনটি অংশ রয়েছে, কথা বলা, পড়া এবং লেখা। লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ তিনটি বাক্য দেওয়া হতে পারে এবং এর মধ্যে একটি বাক্য সঠিকভাবে লিখতে পারলেই এই অংশে ইংরেজিতে লেখার সক্ষমতা প্রমাণ করা যায়। পরীক্ষার জন্য ইউএসসিআইএস একটি নির্দিষ্ট লিখিত শব্দভান্ডারের তালিকাও প্রকাশ করে, যার শব্দগুলো নাগরিকত্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।   নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকারের সময় আবেদনকারীকে ইংরেজি ও নাগরিকত্ববিষয়ক পরীক্ষা দিতে হয়, যদি তিনি কোনো ছাড় বা অব্যাহতির যোগ্য না হন। ইংরেজি পরীক্ষার ফলাফলের পাশাপাশি নাগরিকত্ব পরীক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস ও সরকারব্যবস্থা সম্পর্কিত জ্ঞানও যাচাই করা হয়।   ইউএসসিআইএসের নির্দেশিকা অনুযায়ী, কেউ প্রথম পরীক্ষায় ইংরেজি বা নাগরিকত্ব পরীক্ষার কোনো অংশে ব্যর্থ হলে তাকে সাধারণত দ্বিতীয়বার পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রথম পরীক্ষার পর ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় পরীক্ষার আয়োজন করা হয় এবং আগেরবার যে অংশে ব্যর্থ হয়েছেন, সাধারণত সেই অংশেই আবার পরীক্ষা নেওয়া হয়।   তাই নাগরিকত্বের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া আবেদনকারীদের শুধু প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করার পাশাপাশি কর্মকর্তার বলা বাক্য মনোযোগ দিয়ে শোনা, পূর্ণ বাক্য লেখা এবং হাতের লেখা স্পষ্ট রাখার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। ইউএসসিআইএসের প্রকাশিত প্রস্তুতি উপকরণ ব্যবহার করে আগে থেকেই লিখিত অংশের অনুশীলন করাও গুরুত্বপূর্ণ।   সূত্র: ইউএসসিআইএস, লেজিট.এনজি।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপে নতুন পরিবর্তন, ক্রেডিট রিপোর্টেও নজর ইউএসসিআইএসের
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপে নতুন পরিবর্তন, ক্রেডিট রিপোর্টেও নজর ইউএসসিআইএসের

যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) পরিবারের সদস্যদের গ্রিন কার্ড স্পনসর করার নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা স্পনসরদের ক্রেডিট রিপোর্ট যাচাই করার ক্ষমতা পাবেন।   আগস্টে আই-৮৬৪ (I-864) ফর্মে এই আপডেট আনার পর তা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। এই ফর্মটি মূলত 'অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট' হিসেবে পরিচিত, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতে আসা আবেদনকারীর আর্থিক দায়িত্ব গ্রহণ করেন।   ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, ফর্মের নতুন সংস্করণে একটি 'প্রাইভেসি রিলিজ' যুক্ত করা হয়েছে, যা কর্তৃপক্ষকে কনজ্যুমার রিপোর্টিং এজেন্সি থেকে স্পনসরের তথ্য সংগ্রহের অনুমতি দেয়। তবে এই সংগৃহীত তথ্য ঠিক কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে তারা বিস্তারিত কোনো নির্দেশনা দেয়নি।   গ্রিন কার্ড স্পনসর করার ক্ষেত্রে আগে থেকেই নির্দিষ্ট আর্থিক শর্ত পূরণের নিয়ম রয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো স্পনসরকে প্রমাণ করতে হয় যে তার পরিবারের আয় যুক্তরাষ্ট্রের দারিদ্র্যসীমার ১২৫ শতাংশ বা তার বেশি। তবে সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ব্যক্তিরা তাদের স্বামী, স্ত্রী বা সন্তানের স্পনসর করলে এই সীমা ১০০ শতাংশ হিসেবে ধরা হয়।   আগে শুধু ট্যাক্স রিটার্ন, পাসপোর্ট বা অন্যান্য নথির মাধ্যমে আর্থিক সচ্ছলতা প্রমাণ করতে হতো। কিন্তু নতুন পরিবর্তনের ফলে স্পনসরদের ক্রেডিট রেকর্ডে কোনো ধরনের 'ফ্রিজ' বা বিধিনিষেধ থাকলে তা দ্রুত তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইউএসসিআইএস।   সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, ক্রেডিট ফ্রিজ থাকলে তারা ফর্মের যথার্থতা মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হতে পারে। তবে স্পনসরদের নির্দিষ্ট কোনো ন্যূনতম ক্রেডিট স্কোর থাকতে হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি।   নতুন এই নিয়মের কারণে অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও সমালোচকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মার্কিন ইমিগ্রেশন সার্ভিস প্রোভাইডার প্রতিষ্ঠান 'বাউন্ডলেস'-এর সিইও জিয়াও ওয়াং বলেন, আয় ও সম্পদের সুনির্দিষ্ট নিয়ম থাকায় পরিবারগুলোর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া সহজ ছিল, কিন্তু এখন কী মানদণ্ড ব্যবহার করা হবে তা না জানিয়েই ক্রেডিট রিপোর্ট যাচাইয়ের পথ উন্মুক্ত করা হলো।   সামান্য ক্রেডিট কার্ডের বিল বকেয়া থাকা বা ফাইলে ভুলের কারণে বৈধ দম্পতিদের আলাদা থাকার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উচিত নয় বলে তিনি মনে করেন। অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান ফ্রাগোমেন-এর এক আইনজীবী জানিয়েছেন, আবেদন করার সময় এখন থেকে ইউএসসিআইএসকে ক্রেডিট স্কোর যাচাইয়ের আইনি অনুমতি দিতেই হবে।   ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকেই গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়াকে কঠিন করার যে প্রবণতা শুরু হয়েছিল, এই পদক্ষেপকে তার একটি ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন সমালোচকরা।

ইসতিয়াক আহমেদ সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ১৪:০
গ্রিন কার্ড স্পনসরদের ক্রেডিট তথ্য যাচাইয়ের নতুন সুযোগ পেল ইউএসসিআইএস
গ্রিন কার্ড স্পনসরশিপে ইউএসসিআইএসের নতুন পদক্ষেপ, বাড়ছে যাচাই

যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যের গ্রিন কার্ডের জন্য স্পনসর করা ব্যক্তিদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস বা ইউএসসিআইএস। নতুন ব্যবস্থায় গ্রিন কার্ড স্পনসরদের ক্রেডিট-সংক্রান্ত তথ্য ভোক্তা রিপোর্টিং এজেন্সির কাছ থেকে সংগ্রহ করার সুযোগ পেয়েছে সংস্থাটি। পরিবর্তনটি মূলত ফর্ম আই-৮৬৪, অর্থাৎ অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্টকে ঘিরে। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো পরিবারের সদস্যকে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য স্পনসর করার ক্ষেত্রে এই ফর্মে স্বাক্ষর করে স্পনসরকে ওই অভিবাসীর আর্থিক দায়িত্ব নেওয়ার অঙ্গীকার করতে হয়। নতুন ফর্মে যুক্ত করা হয়েছে একটি প্রাইভেসি রিলিজ বা তথ্য সংগ্রহের অনুমতিসংক্রান্ত ধারা। এর মাধ্যমে ইউএসসিআইএস এক বা একাধিক কনজিউমার রিপোর্টিং এজেন্সির কাছ থেকে স্পনসরের তথ্য চাইতে পারবে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব তথ্য কীভাবে ব্যবহার করা হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনো দেওয়া হয়নি। নতুন ব্যবস্থাটি ৩১ আগস্ট ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। ফলে যারা এখন পরিবারের সদস্যের গ্রিন কার্ডের জন্য অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট জমা দিচ্ছেন, তাদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট শুধু একটি সাধারণ ফর্ম নয়। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, এটি স্পনসর ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মধ্যে একটি আইনগতভাবে কার্যকর চুক্তি। স্পনসরকে নির্দিষ্ট শর্তে অভিবাসীর আর্থিক সহায়তার দায়িত্ব নিতে হয়। স্পনসরকে সাধারণত নির্দিষ্ট আয়ের যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। কেউ সেই আয়সীমা পূরণ করতে না পারলে যোগ্য জয়েন্ট স্পনসর ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, জয়েন্ট স্পনসরকে নিজস্ব আয়ের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আর্থিক যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। স্পনসরশিপের দায়িত্বও দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। সাধারণভাবে স্পনসর করা ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া, ৪০টি কোয়ালিফাইং কোয়ার্টারের কাজের ক্রেডিট অর্জন করা, স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতি না হওয়া পর্যন্ত এই দায়িত্ব বহাল থাকতে পারে। শুধু বিবাহবিচ্ছেদ হলে স্পনসরশিপের দায়িত্ব শেষ হয় না। নতুন ক্রেডিট-তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ ভবিষ্যতে গ্রিন কার্ড স্পনসরদের আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ে আরও তথ্য ব্যবহারের পথ তৈরি করতে পারে। তবে বর্তমানে ইউএসসিআইএস প্রতিটি স্পনসরের ক্রেডিট রিপোর্ট কীভাবে বা কোন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশ করেনি। ফলে গ্রিন কার্ডের জন্য পরিবারের সদস্যকে স্পনসর করতে যাওয়া ব্যক্তিদের নতুন ফর্মের সর্বশেষ সংস্করণ এবং ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

অলি উল্লাহ আল মাসুদ সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৪:০
নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ পুনরায় চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
নাগরিকত্বপ্রত্যাশীদের তথ্য যাচাইয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলবে মার্কিন ইমিগ্রেশন, ফিরল ৩৫ বছর আগের নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়াটি আরও কঠোর হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ৩৫ বছর বন্ধ থাকার পর নাগরিকত্ব প্রত্যাশীদের চরিত্র ও অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ে আবারও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করার নিয়ম চালু করেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস বা ইউএসসিআইএস। সম্প্রতি সংস্থাটির প্রকাশিত এক নীতিমালায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।   ১৯৯১ সালের পর থেকে এই পদ্ধতিটি পুরোপুরি স্থগিত ছিল। সেই সময় ইউএসসিআইএস, যা আগে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাচারালাইজেশন সার্ভিস নামে পরিচিত ছিল, সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে আবেদনকারীর নৈতিক চরিত্র যাচাইয়ের জন্য মূলত এফবিআই এর অপরাধমূলক ইতিহাস এবং অন্যান্য সংস্থার রেকর্ডের ওপরই নির্ভর করা হবে। তবে দীর্ঘ সময় পর সেই অবস্থান থেকে সরে এসে আবারও পুরোনো পদ্ধতিতে ফিরল সংস্থাটি।   গত ২৫ আগস্ট থেকে এই নতুন নীতি কার্যকর করা হয়েছে। এরপর ২৯ আগস্ট সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইউএসসিআইএস জানায়, প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আবেদনকারীর বসবাস, উত্তম নৈতিক চরিত্র, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রতি আনুগত্য এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা ও মঙ্গলের প্রতি তার মনোভাব গভীরভাবে যাচাই করা হবে। সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া একটি বিরল সুযোগ, যা কেবল তাদেরই পাওয়া উচিত যারা জাতির জন্য ইতিবাচক অবদান রাখবেন।   এই তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা আবেদনকারীর পরিচিত ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নেবেন। এর মধ্যে থাকতে পারেন প্রতিবেশী, বাড়ির মালিক, চাকরিদাতা, সহকর্মী এবং আশপাশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। মূলত ব্যাকগ্রাউন্ড চেকে যেসব তথ্য সাধারণত উঠে আসে না, সেসব বিষয়ে ধারণা পেতেই এই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।   তবে সব আবেদনকারীর জন্য এই তদন্ত বাধ্যতামূলক নয়। কেউ চাইলে এই প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। এ জন্য আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছ থেকে প্রশংসাপত্র বা চরিত্র সনদ জমা দিতে হবে, যেখানে তার যোগ্যতা, চরিত্র, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য এবং সংবিধানের নীতিগুলোর প্রতি তার শ্রদ্ধার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। এই ধরনের চিঠিপত্র জমা দিলে ইউএসসিআইএস চাইলে প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি মওকুফ করতে পারে, যদিও তা সব ক্ষেত্রে নিশ্চিত নয়।   এই নীতির পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন ইউএসসিআইএস পরিচালক জোসেফ বি এডলো। ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিষয়ক কমিটির এক শুনানিতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা, আমেরিকান মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির সঙ্গে যথাযথভাবে মিশে যাওয়া নিশ্চিত করা এবং নাগরিকত্বের মর্যাদা ও বিশেষ সুবিধা সুরক্ষার জন্য প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত জরুরি।   শুধু প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদই নয়, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব প্রত্যাশীদের জন্য আরও কিছু নিয়মে পরিবর্তন এনেছে ইউএসসিআইএস। গত ২০২৫ সালের অক্টোবরে নাগরিকত্বের জন্য নির্ধারিত সিভিকস বা পৌরনীতি পরীক্ষাকে আরও দীর্ঘ ও কঠিন করা হয়েছে। আগে যেখানে ১০০টি প্রশ্নের একটি ব্যাংক থেকে প্রশ্ন করা হতো, তা বাড়িয়ে ১২৮টি করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মকর্তারা এখন ১০টির বদলে সর্বোচ্চ ২০টি প্রশ্ন করতে পারবেন।   পরীক্ষায় পাসের জন্য আগে ৬টি সঠিক উত্তরের প্রয়োজন হলেও এখন তা বাড়িয়ে ১২টি করা হয়েছে। তবে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সি এবং যারা ২০ বছরের বেশি সময় ধরে গ্রিন কার্ডধারী, তাদের জন্য এই নিয়মে শিথিলতা রয়েছে। তবে পাসের জন্য সব আবেদনকারীকেই আগের মতো কমপক্ষে ৬০ শতাংশ প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে হবে।   সংবাদসূত্র: ইউএসসিআইএস পলিসি অ্যালার্ট

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ৩১, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের আবেদন ফি বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের আবেদন ফি বাড়ানোর প্রস্তাব, দিতে হতে পারে ১,৩৩০ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে আগের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ গুনতে হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন প্রস্তাবে নাগরিকত্বের আবেদনপত্র Form N-400-এর কাগজে জমা দেওয়ার ফি ৭৬০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলার করার কথা বলা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করলে বর্তমান ৭১০ ডলারের পরিবর্তে দিতে হবে ১ হাজার ২৮০ ডলার।   তবে এটি এখনো কার্যকর হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবং ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) ২৩ জুন প্রস্তাবটি প্রকাশ করেছে। আগামী ২৪ আগস্ট পর্যন্ত এ বিষয়ে জনসাধারণের মতামত নেওয়া হবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   প্রস্তাব অনুযায়ী, কাগজে Form N-400 জমা দেওয়ার ফি ৭৬০ থেকে বেড়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলার হলে আবেদনকারীর খরচ বাড়বে ৫৭০ ডলার বা প্রায় ৭৫ শতাংশ। অনলাইনে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ৭১০ থেকে ১ হাজার ২৮০ ডলারে বেড়ে প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।   এখানে বিষয়টি পাসপোর্টের আবেদন ফি নিয়ে নয়। Form N-400 হলো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদনপত্র। নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদিত হওয়ার পর একজন ব্যক্তি মার্কিন পাসপোর্টের জন্য আলাদাভাবে আবেদন করতে পারেন। ফলে নতুন প্রস্তাবটি সরাসরি পাসপোর্টের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নয়।   শুধু মূল নাগরিকত্বের আবেদন নয়, আবেদন প্রত্যাখ্যানের পর শুনানির অনুরোধ করার Form N-336-এর ফিও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। কাগজে এই ফি ৮৩০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৪৭৫ ডলার এবং অনলাইনে ৭৮০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৪২৫ ডলার হতে পারে।   সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে কম আয়ের আবেদনকারীদের ওপর। বর্তমানে নির্দিষ্ট আয়সীমার মধ্যে থাকা যোগ্য আবেদনকারীরা ৩৮০ ডলারের কম ফিতে Form N-400 জমা দিতে পারেন। নতুন প্রস্তাবে এই কম ফি ব্যবস্থাটি বাতিল করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে N-400 ও N-336-এর জন্য বর্তমানে থাকা ফি মওকুফের ব্যবস্থাও তুলে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।   তবে সামরিক বাহিনীর নির্দিষ্ট বর্তমান ও সাবেক সদস্যদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব আবেদনের ফি থেকে অব্যাহতি বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের যুক্তি, নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়ার প্রকৃত ব্যয় মেটানোর জন্য আবেদনকারীদের কাছ থেকেই পুরো খরচ নেওয়া হলে ইউএসসিআইএসের আর্থিক কাঠামো আরও টেকসই হবে। সংস্থাটি ফি থেকে প্রাপ্ত অর্থের ওপর নির্ভর করেই মূলত তার কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের কাছ থেকে প্রক্রিয়াকরণের প্রকৃত ব্যয়ের কাছাকাছি অর্থ নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।   সরকারের নথিতে আরও বলা হয়েছে, কম ফি ও ফি মওকুফের আবেদন আলাদাভাবে যাচাই করতে ইউএসসিআইএসের অতিরিক্ত প্রশাসনিক সময় ও সম্পদ ব্যয় হয়। এসব ব্যবস্থা বাদ দিলে আবেদন গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণ সহজ হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।   অন্যদিকে, অভিবাসন অধিকারকর্মী ও নাগরিকত্ব নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো প্রস্তাবটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, কয়েকশ ডলার অতিরিক্ত খরচ এবং কম আয়ের মানুষের জন্য ছাড়ের সুযোগ কমে গেলে অনেক যোগ্য গ্রিন কার্ডধারীর জন্য নাগরিকত্বের আবেদন করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।   ভার্জিনিয়ায় নাগরিকত্বের আবেদন প্রস্তুতিতে সহায়তা করা রেবেকা থমাস স্থানীয় এনবিসি অ্যাফিলিয়েট WVIR-কে বলেন, তার শিক্ষার্থীদের অনেকের পক্ষেই প্রস্তাবিত বাড়তি ফি বহন করা সম্ভব নাও হতে পারে।   বর্তমানে Form N-400-এর সাধারণ ফি কাগজে ৭৬০ ডলার এবং অনলাইনে ৭১০ ডলার। কম আয়ের যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য ৩৮০ ডলারের বিকল্প এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ফি মওকুফের ব্যবস্থাও রয়েছে।   নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে নাগরিকত্বের আবেদন করতে যাওয়া অনেক অভিবাসীর জন্য আর্থিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর নাগরিকত্ব নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য আবেদন করার সময় ও সম্ভাব্য খরচ নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা করতে হতে পারে।   তবে এখনই বাড়তি টাকা দেওয়ার নিয়ম চালু হচ্ছে না। প্রস্তাবটি বর্তমানে জনমত পর্যায়ে রয়েছে এবং ২৪ আগস্টের পর সরকার প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৪:০
ভুয়া পরিচয়ে মার্কিন নাগরিকত্ব নেওয়ার অভিযোগে কানসাসে মামলা। ছবি: সংগৃহীত
ভুয়া পরিচয়ে মার্কিন নাগরিকত্ব নেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা

যুক্তরাষ্ট্রে ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে মার্কিন নাগরিকত্ব নেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের (ডিন্যাচারালাইজেশন) মামলা করেছে মার্কিন সরকার। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবর্তন করে গ্রিন কার্ড ও পরে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেন।   যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস জেলার অ্যাটর্নি কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কানসাস অঙ্গরাজ্যের ওলেথ শহরের বাসিন্দা হরিন্দর সিং, যিনি হরিন্দর সিং সাংহেরা ও রুশপাল সিং নামেও পরিচিত, তার বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে। তদন্তে সহায়তা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস)।   মার্কিন সরকারের অভিযোগ অনুযায়ী, হরিন্দর সিং বেআইনিভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। তাই আদালতের কাছে তার নাগরিকত্ব বাতিল এবং নাগরিকত্বের সনদ (সার্টিফিকেট অব ন্যাচারালাইজেশন) বাতিলের আবেদন করা হয়েছে। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ১৯৯১ সালে নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথমবার অভিবাসন কর্মকর্তাদের নজরে আসেন তিনি। সে সময় তিনি নিজের নাম রুশপাল সিং বলে পরিচয় দেন।   পরে ১৯৯৫ সালের আগস্টে একজন অভিবাসন বিচারক তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের (ডিপোর্টেশন) নির্দেশ দেন। তবে সরকারি নথিতে এমন কোনো তথ্য নেই, যা থেকে বোঝা যায় তিনি কখনো যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছিলেন। এর এক বছর পর, ১৯৯৬ সালের জুনে তিনি 'হরিন্দর সিং' নামে নতুন পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি আবেদন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই আবেদনে তিনি শুধু নামই পরিবর্তন করেননি, নিজের জন্মতারিখ, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের তারিখ এবং আবেদন করার ভিত্তিও পরিবর্তন করেছিলেন।   সেই আবেদন অনুমোদনের পর ২০০০ সালের অক্টোবরে তিনি একই পরিচয়ে গ্রিন কার্ড পান। এরপর প্রায় আট বছর পর 'হরিন্দর সিং' পরিচয়েই তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেন। তদন্তকারীদের দাবি, নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সময় তিনি আগের পরিচয়, বহিষ্কারের আদেশ এবং পূর্বের অভিবাসন-সংক্রান্ত ইতিহাসের কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।   মার্কিন অভিবাসন ও নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, যদি কেউ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে বা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন করেন, তাহলে আদালতের মাধ্যমে সেই নাগরিকত্ব বাতিল করা যেতে পারে। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, তারা অভিবাসন-সংক্রান্ত জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে। সংস্থাটি জনগণকে এ ধরনের প্রতারণার তথ্য থাকলে নির্ধারিত অভিযোগপত্রের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে।   মামলাটি বর্তমানে কানসাসের ফেডারেল আদালতে বিচারাধীন। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে গণ্য করা হবে না। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ইউএস অ্যাটর্নি'স অফিস, ডিস্ট্রিক্ট অব কানসাস) ও ইউএসসিআইএস

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ১২, ২০২৬ ১৪:০
গ্রিন কার্ড আবেদনের নিয়মে পরিবর্তন আনছে ট্রাম্প প্রশাসন। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তন, ‘পাবলিক চার্জ’ নীতিতে কঠোর হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি আর্থিক সহায়তা বা কল্যাণমূলক কর্মসূচি ব্যবহারের ইতিহাস গ্রিন কার্ড আবেদন মূল্যায়নে আগের তুলনায় বেশি গুরুত্ব পাবে। এর ফলে আবেদনকারীর আর্থিক সক্ষমতা এবং ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা আরও গভীরভাবে যাচাই করবেন অভিবাসন কর্মকর্তারা।   মার্কিন স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অধীনস্থ ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) জানিয়েছে, ২০২২ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন যে নীতিমালা চালু করেছিল, সেটি বাতিল করে নতুন নিয়ম কার্যকর করা হবে। প্রশাসনের দাবি, আগের নীতির কারণে অভিবাসন কর্মকর্তারা আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত আর্থিক অবস্থা ও সরকারি সহায়তা গ্রহণের ইতিহাস যথাযথভাবে মূল্যায়নের সুযোগ পাচ্ছিলেন না।   মার্কিন অভিবাসন আইনে 'পাবলিক চার্জ' বা 'সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন ব্যক্তি' ধারণাটি বহুদিন ধরেই রয়েছে। কোনো ব্যক্তি ভবিষ্যতে নিজের আয়ের পরিবর্তে প্রধানত সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর করবেন বলে মনে হলে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তার গ্রিন কার্ড আবেদন প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে। আবেদন মূল্যায়নের সময় বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মসংস্থানের ইতিহাস, দক্ষতা, সম্পদ ও আর্থিক সামর্থ্যসহ একাধিক বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়।   নতুন নীতির ফলে মেডিকেইড, খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি (এসএনএপি), আবাসন সহায়তাসহ আয়ভিত্তিক সরকারি সুবিধা গ্রহণের তথ্যও কর্মকর্তাদের মূল্যায়নে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে কোনো একটি সুবিধা গ্রহণ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড আবেদন বাতিল হবে, এমন নয়। বরং প্রতিটি আবেদনকারীর সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।   ইউএসসিআইএসের মুখপাত্র জ্যাক কাহলার এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মার্কিন করদাতাদের অর্থ সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার প্রত্যাশাই এই নীতির মূল ভিত্তি। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অ্যাডাম ক্লেইনের মতে, ইউএসসিআইএস থেকে অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ও নীতিনির্ধারণী কর্মীদের একটি অংশ ইতোমধ্যে বিদায় নিয়েছেন। একই সময়ে কর্মকর্তাদের হাতে আরও বেশি বিবেচনাধিকার দেওয়া হলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তার মতে, কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা ও কার্যকর তদারকি ছাড়া অতিরিক্ত বিবেচনাধিকার সমস্যার কারণ হতে পারে।   নতুন নীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সরকারি সহায়তা কর্মসূচিতে অভিবাসীদের অংশগ্রহণ কমে যাবে বলে ধারণা করছে মার্কিন প্রশাসন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এর ফলে প্রতিবছর ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য সরকার মিলিয়ে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার সরকারি ব্যয় কমতে পারে। তবে প্রশাসন স্বীকার করেছে, এতে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, মুদি দোকান, বাড়িওয়ালাসহ বিভিন্ন খাতেও অর্থনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে।   এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য আরও একটি নতুন ব্যবস্থা বিবেচনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বড় অঙ্কের জামানত বা বন্ড জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বন্ডের পরিমাণ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। প্রশাসনের ভাষ্য, এর মাধ্যমে আবেদনকারীরা প্রমাণ করতে পারবেন যে তারা ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হবেন না। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।   অভিবাসন নীতি নিয়ে কাজ করা গবেষকেরা বলছেন, এত বড় অঙ্কের অর্থ জামানত হিসেবে জমা দেওয়া অধিকাংশ আবেদনকারীর জন্য বাস্তবসম্মত হবে না। ফলে এটি অনেকের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের পথ আরও কঠিন করে তুলতে পারে। সমালোচকদের মতে, নতুন নীতির কারণে বৈধভাবে সরকারি সুবিধা পাওয়ার অধিকার থাকা অনেক অভিবাসীও ভবিষ্যতে গ্রিন কার্ডের আশঙ্কায় এসব সুবিধা গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে পারেন।   ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, নতুন 'পাবলিক চার্জ' নীতি আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। ওই দিন বা তার পর থেকে যারা স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার জন্য আবেদন করবেন, তাদের নতুন সংস্করণের আই-৪৮৫ আবেদনপত্র ব্যবহার করতে হবে এবং নতুন নিয়ম অনুযায়ী আবেদন মূল্যায়ন করা হবে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১৬, ২০২৬ ১৪:০
H-1B ও গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
গ্রিন কার্ড ও H-1B আবেদনকারীদের সতর্কতা, যে ভুলে বাতিল হতে পারে আবেদন

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS) ১০ জুলাই থেকে আবেদনপত্রে স্বাক্ষর সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা কার্যকর করেছে। নতুন নীতির ফলে H-1B ভিসা, গ্রিন কার্ড, নাগরিকত্বসহ বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন আবেদনে টাইপ করা নাম, অটো-জেনারেটেড বা কপি-পেস্ট করা ডিজিটাল স্বাক্ষর ব্যবহার করলে আবেদন প্রত্যাখ্যাত হতে পারে।   ইউএসসিআইএসের হালনাগাদ নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনপত্রে অবশ্যই আবেদনকারীর নিজ হাতে করা স্বাক্ষর অথবা সেই হাতে করা স্বাক্ষরের আসল কপি থাকতে হবে। স্ক্যান করা বা ফটোকপি করা স্বাক্ষর গ্রহণযোগ্য হতে পারে, যদি সেটি মূল হাতে করা স্বাক্ষরের সঠিক অনুলিপি হয়। তবে কেবল নাম টাইপ করে লেখা, কম্পিউটার-জেনারেটেড সিগনেচার, ফন্টভিত্তিক স্বাক্ষর বা কপি-পেস্ট করা ডিজিটাল সিগনেচার বৈধ হিসেবে গণ্য হবে না।   সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আবেদনপত্রে সঠিক স্বাক্ষর না থাকলে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আবেদনকারীকে নতুন করে আবেদন জমা দিতে হতে পারে, যার ফলে অতিরিক্ত সময়, অর্থ এবং অভিবাসন প্রক্রিয়ায় বিলম্বের ঝুঁকি তৈরি হবে।   এই নির্দেশনা H-1B কর্মভিসা, স্থায়ী বাসিন্দার জন্য গ্রিন কার্ড, মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদন, কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত ফর্ম এবং ইউএসসিআইএসে জমা দেওয়া অন্যান্য অধিকাংশ কাগজপত্রের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।   অভিবাসন আইনজীবীরা আবেদনকারীদের কাগজপত্র জমা দেওয়ার আগে স্বাক্ষর সংক্রান্ত বিষয়টি বিশেষভাবে যাচাই করার পরামর্শ দিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে আবেদন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়া ডিজিটাল সিগনেচারের কারণে আবেদন বাতিলের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   ইউএসসিআইএসের এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য হলো আবেদনপত্রের সত্যতা নিশ্চিত করা, জালিয়াতি প্রতিরোধ করা এবং আবেদনকারীর পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়াকে আরও নির্ভরযোগ্য করা।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বা নতুন করে ভিসা, গ্রিন কার্ড কিংবা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের জন্য নতুন এই নির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবেদন জমা দেওয়ার আগে স্বাক্ষর সংক্রান্ত ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ নিয়ম অনুসরণ করলে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা ও আবেদন বাতিলের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম জুলাই ১২, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট চার ধরনের আত্মীয়কে পরিবারভিত্তিক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে

ফ্যামিলি ভিসায় পরিবারের ৪ সদস্যকে যুক্তরাষ্ট্রে নিতে পারেন মার্কিন নাগরিকরা, জানুন বিস্তারিত নিয়ম

অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০