যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড স্পনসরদের জন্য নতুন নিয়ম: এখন থেকে যাচাই হবে ক্রেডিট স্কোর
যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যদের গ্রিন কার্ডের জন্য আর্থিক স্পনসরদের ক্রেডিট রিপোর্ট ও ক্রেডিট স্কোর যাচাইয়ের সুযোগ পেয়েছে দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএস। ৩১ আগস্ট ২০২৬ থেকে নতুন সংস্করণের Form I-864, Affidavit of Support কার্যকর করার মাধ্যমে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নতুন Form I-864-এর সংস্করণ তারিখ ২৪ আগস্ট ২০২৬। এতে ‘Privacy Release’ নামে নতুন একটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে। ফর্মে স্বাক্ষর করার মাধ্যমে আর্থিক স্পনসর ইউএসসিআইএস এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে এক বা একাধিক ক্রেডিট রিপোর্টিং সংস্থার কাছ থেকে তাঁর ভোক্তা-ঋণসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের অনুমতি দিচ্ছেন। এর মধ্যে ক্রেডিট রিপোর্ট ও ক্রেডিট স্কোরও থাকতে পারে। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, এই তথ্য Form I-864-এর আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
Form I-864 হলো গ্রিন কার্ডের জন্য আর্থিক সহায়তার অঙ্গীকারপত্র। পরিবারভিত্তিক অভিবাসনসহ নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্পনসরকে এই ফর্মের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হয় যে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মতো সক্ষমতা তাঁর রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই অঙ্গীকার আইনগতভাবে কার্যকর এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্পনসরের আর্থিক দায়ও তৈরি করতে পারে।
নতুন নিয়মে ক্রেডিট ইতিহাস যাচাইয়ের সুযোগ যুক্ত হলেও ইউএসসিআইএস কোনো নির্দিষ্ট ন্যূনতম ক্রেডিট স্কোর নির্ধারণ করেনি। অর্থাৎ একজন স্পনসরের ক্রেডিট স্কোর নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যার নিচে থাকলেই তাঁর আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে, এমন কোনো প্রকাশিত নিয়ম নেই। একইভাবে শুধু কম ক্রেডিট স্কোর, ঋণ, ক্রেডিট ইতিহাসে নেতিবাচক তথ্য বা অতীতের দেউলিয়াত্বের ভিত্তিতে স্পনসরশিপ বাতিলের স্বয়ংক্রিয় বিধানও প্রকাশ করা হয়নি।
স্পনসরদের আর্থিক যোগ্যতা নির্ধারণে মূল বিষয়গুলোও বহাল রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবারের সদস্যসংখ্যা, আয়, সম্পদ এবং করসংক্রান্ত তথ্য। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, স্পনসরের আয় সংশ্লিষ্ট পরিবারের আকারের জন্য নির্ধারিত ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার অন্তত ১২৫ শতাংশ হতে হয়। তবে নির্দিষ্ট শর্তে সক্রিয় সামরিক বাহিনীর সদস্যরা স্বামী, স্ত্রী বা সন্তানের জন্য স্পনসর করলে ১০০ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান নির্দেশনাতেও স্পনসরদের আয় ও করসংক্রান্ত নথি জমা দেওয়ার বিষয়টি বহাল রয়েছে। সাধারণত সাম্প্রতিক কর বছরের আইআরএস ট্যাক্স ট্রান্সক্রিপ্ট, প্রয়োজন অনুযায়ী আয় প্রমাণের কাগজপত্র এবং সম্পদ ব্যবহার করলে তার প্রমাণ জমা দিতে হয়। আয় নির্ধারিত সীমার নিচে হলে অতিরিক্ত আর্থিক প্রমাণ বা যৌথ স্পনসরের প্রয়োজন হতে পারে।
নতুন নিয়মে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ক্রেডিট বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ‘ফ্রিজ’। কোনো স্পনসরের ক্রেডিট রিপোর্টে এমন ফ্রিজ চালু থাকলে ইউএসসিআইএস প্রয়োজনীয় তথ্য দেখতে না পারায় আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ে বিলম্ব হতে পারে। তবে আবেদন জমা দেওয়ার আগেই প্রত্যেক স্পনসরকে বাধ্যতামূলকভাবে ক্রেডিট ফ্রিজ তুলে ফেলতে হবে, এমন নির্দেশনা নেই। ইউএসসিআইএস তথ্য চাইলে দ্রুত সাড়া দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন ফর্মের ক্ষেত্রে সংস্করণ-তারিখ নিয়েও স্পনসরদের সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। ইউএসসিআইএস ৩১ আগস্ট ২০২৬ নতুন 08/24/26 সংস্করণ প্রকাশ করেছে। তবে সংস্থার প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, পুরোনো 10/17/24 সংস্করণের জন্য ৩০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে। ফলে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পুরোনো সংস্করণ গ্রহণ করা হবে। ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে 08/24/26 সংস্করণই ব্যবহার করতে হবে।
বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের অনেকে পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার ক্ষেত্রে Form I-864-এর মাধ্যমে আর্থিক স্পনসর হয়ে থাকেন। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের বর্তমান নির্দেশনাতেও পরিবারভিত্তিক অভিবাসী ভিসা আবেদনে প্রতিটি আর্থিক স্পনসরের Form I-864 এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তাই নতুন আবেদন প্রস্তুত করার সময় ফর্মের নিচে থাকা সংস্করণ-তারিখ, আয়সংক্রান্ত তথ্য, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, সাম্প্রতিক কর নথি এবং প্রয়োজনীয় সম্পদের প্রমাণ ভালোভাবে মিলিয়ে দেখা জরুরি। বিশেষ করে ১ অক্টোবরের পর পুরোনো সংস্করণের ফর্ম ব্যবহার করলে আবেদন প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হতে পারে।
ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত জটিলতা বা স্পনসরের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে আবেদন জমা দেওয়ার আগে লাইসেন্সধারী ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। কারণ নতুন ফর্মে ক্রেডিট তথ্য যাচাইয়ের অনুমতি যুক্ত হলেও ক্রেডিট স্কোর কীভাবে প্রতিটি মামলার মূল্যায়নে প্রভাব ফেলবে, সে বিষয়ে ইউএসসিআইএস এখনো কোনো নির্দিষ্ট স্কোর-ভিত্তিক মানদণ্ড প্রকাশ করেনি।
সূত্র: ইউএসসিআইএস ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
© America Bangla | All Rights Reserved. আমেরিকা বাংলার পূর্বানুমতি ছাড়া এই প্রতিবেদনের লেখা, ছবি, গ্রাফিক্স বা অন্যান্য মৌলিক কনটেন্ট সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে কপি বা পুনঃপ্রকাশ করা নিষিদ্ধ। অনুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমেরিকা বাংলা কে স্পষ্টভাবে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের বার্ষিক সেরা ৫০ রেস্তোরাঁর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে নিউজার্সির একটি বাংলাদেশি রেস্তোরাঁ। জার্সি সিটিতে অবস্থিত এই রেস্তোরাঁটির নাম কড়াই কিচেন। সম্পূর্ণ বাংলাদেশি ঘরানার খাবার পরিবেশনের জন্য ব্যাপক পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন মা ও মেয়ের একটি সফল জুটি। হাডসন কাউন্টির এই জনপ্রিয় রেস্তোরাঁটি নূর-ই গুলশান রহমান এবং তার মেয়ে নূর-ই ফারহানা রহমানের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে। ২০১৮ সালে সাধারণ বুফে চালুর মাধ্যমে তারা এই রেস্তোরাঁর যাত্রা শুরু করেন। শুরুর দিকে মায়ের হাতের রান্না করা খাঁটি বাংলাদেশি খাবারগুলো স্থানীয় মানুষদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে রেস্তোরাঁটিতে সপ্তাহের কর্মব্যস্ত দিনগুলোতে খাবার কিনে নিয়ে যাওয়ার বা টেকআউট এবং ডেলিভারির সুবিধা রয়েছে। তবে শুক্র ও শনিবার রাতে তারা আম্মাস দাওয়াত নামে তাত্ত্বিকভাবে আট পদের একটি বিশেষ ভোজের আয়োজন করে থাকেন। তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এই আয়োজনে রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়ার সুযোগ পান ভোজনরসিকরা। রেস্তোরাঁটির এই বড় স্বীকৃতি অবশ্য স্থানীয় ভোজনরসিকদের কাছে একেবারেই অপ্রত্যাশিত নয়। গত বছর স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনজে ডটকমের করা নিউজার্সির সেরা ৯৯টি রেস্তোরাঁর তালিকাতেও শীর্ষস্থান দখল করেছিল কড়াই কিচেন। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে কড়াই কিচেন সম্পর্কে ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে এই ছোট্ট বাংলাদেশি রেস্তোরাঁটির একটি মজার স্লোগান হলো নো চিকেন টিক্কা মাসালা। অর্থাৎ এখানে গতানুগতিক ভারতীয় খাবার পরিবেশন করা হয় না বরং সম্পূর্ণ নিজস্ব ধারায় রান্না হয়। কাঁচা মরিচ এবং খাঁটি সরিষার তেলের ব্যবহার এখানকার খাবারের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে এখানকার রান্নায় প্রতিটি ভাতের দানা থেকে শুরু করে সব উপাদানের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়। এই রেস্তোরাঁ থেকে খাবার খেয়ে বের হওয়ার পর পেট যেমন ভরে ঠিক তেমনি মানুষের হৃদয়ও তৃপ্ত হয়। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এর আগেও গার্ডেন স্টেট খ্যাত নিউজার্সির বিভিন্ন রেস্তোরাঁকে তাদের মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় স্থান দিয়েছে। ফ্র্যাঙ্কলিন পার্কের চটপটি দিল্লি ২০২৫ সালে এবং নিউফিল্ডের সুইট অ্যামালিয়া মার্কেট অ্যান্ড কিচেন ২০২৪ সালের তালিকায় জায়গা পেয়েছিল। এ বছরের তালিকায় কড়াই কিচেন ছাড়াও শিকাগোর ক্রিপিস এবং ফিলাডেলফিয়ার বোম বোম নামের রেস্তোরাঁগুলো স্থান করে নিয়েছে। তথ্যসূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও এনজে ডটকম
অপরিষ্কার থাকার অভিযোগে চাকরিতে যোগ দেওয়ার আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই চাকরি গেল নিউইয়র্কের প্রযুক্তিকর্মীর
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত, হাসপাতালে পাইলট
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড স্পনসরদের জন্য নতুন নিয়ম: এখন থেকে যাচাই হবে ক্রেডিট স্কোর
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে চুরির দায়ে গ্রেপ্তার হওয়া এক নারীর ছবি বা 'মগশট' অনলাইনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কারণ নেটিজেনদের অনেকেই প্রথম দেখায় তাকে বিখ্যাত মার্কিন পপ তারকা ও অভিনেত্রী জেনিফার লোপেজ ভেবে ভুল করেছেন। সাইরেনা অ্যান কোয়াস্ট নামের ওই নারীকে গত ৩০ আগস্ট মিনেসোটার মন্টিসেলো শহরের একটি দোকান থেকে ব্যাটারি চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর নিয়ম অনুযায়ী পুলিশের তোলা তার ছবিটিই মূলত ইন্টারনেট দুনিয়ায় এই তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মার্কিন বিনোদন বিষয়ক সংবাদমাধ্যম টিএমজেড-এর প্রাপ্ত পুলিশি অভিযোগপত্র অনুযায়ী, সাইরেনা প্রায় ৫৮০ ডলার বা প্রায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের পাওয়ার টুলের দুটি ডাবল প্যাক ব্যাটারি চুরি করেছিলেন। ঘটনার দিন ওই দোকানের এক কর্মী তাকে চিনতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন। ওই কর্মীর দাবি, সাইরেনা কয়েক দিন আগেও তাদের দোকানে এসে একই ধরনের একটি চুরির ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। পরে পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করে রাইট কাউন্টি জেলে পাঠায় এবং তার বিরুদ্ধে 'গ্রস মিসডিমিনর' বা গুরুতর চুরির অভিযোগ দায়ের করা হয়। গ্রেপ্তারের খবরের চেয়েও অনলাইনে নেটিজেনদের বেশি মনোযোগ কেড়েছে সাইরেনার মগশটটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তার সাথে জেনিফার লোপেজের চেহারার অদ্ভুত মিল খুঁজে পেয়েছেন। একজন নেটিজেন বিস্ময় প্রকাশ করে মন্তব্য করেছেন, “অবিশ্বাস্য! তাদের চেহারার এই মিল সত্যিই অবাক করার মতো!” আরেকজন আবার অন্যদের প্রতি প্রশ্ন রেখে লিখেছেন, “কীভাবে মানুষ এই দুজনের মধ্যে মিল দেখতে পাচ্ছে না!” এমনকি লোপেজের ২০০২ সালের জনপ্রিয় গান 'জেনি ফ্রম দ্য ব্লক'-এর সূত্র ধরে এক মন্তব্যকারী সাইরেনাকে "আসল জেনি ফ্রম দ্য ব্লক" বলেও আখ্যা দিয়েছেন। তবে সবাই যে এই তুলনার সাথে একমত হয়েছেন, এমনটা নয়। অন্তত একজন মন্তব্যকারী এর চরম বিরোধিতা করে লিখেছেন যে, এই দুজনের চেহারার মধ্যে বিন্দু পরিমাণও মিল নেই।
এবার মামদানিকে গ্রেপ্তারের আহ্বান ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের, নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের আগে উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্রের পর অস্ট্রেলিয়াতেও অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি, উদ্বেগে অভিবাসী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা
মার্কিন অবরোধে ধসে পড়ছে ইরানের অর্থনীতি, সীমান্তে আটকা হাজারো ট্রাক
যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যে ১৮ মাস বয়সী এক কন্যাশিশুকে আবর্জনায় ভরা দোলনায় (ক্রিব) অবহেলা ও অনাহারে ফেলে রেখে হত্যার দায়ে এক পাষণ্ড বাবা-মাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত শুক্রবার বিচারক ক্যারি মেরি মারে এবং মিচেল চেস্টনাট মারে (উভয়ের বয়স ৩২) নামের ওই দম্পতিকে এক থেকে ১৫ বছরের পরপর দুটি মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। ২০২৫ সালের মার্চে শিশু রুবি মেরি মারেকে অমানবিক অবস্থায় হত্যার ঘটনায় গত জুলাই মাসে শিশু নির্যাতনজনিত হত্যা ও গুরুতর শিশু নির্যাতনের অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছিলেন তারা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আদালত এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেছেন। আদালতের নথিতে শিশুটির প্রতি এই দম্পতির চরম নিষ্ঠুরতার লোমহর্ষক চিত্র উঠে এসেছে। মৃত্যুর আগের রাতে শিশুটি যখন শ্বাসকষ্টে ভুগে কাঁদছিল, তখন সেই শব্দ ঢাকতে ক্যারি ও মিচেল উচ্চশব্দে গান বাজিয়েছিলেন। পরের দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দোলনার ভেতর থেকে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। মর্মান্তিক বিষয় হলো, মা ক্যারি নিজে একজন পেশাদার নিবন্ধিত নার্স (RN) হওয়া সত্ত্বেও সন্তানকে মৃত অবস্থায় দেখার পর জীবন বাঁচানোর কোনো প্রাথমিক চেষ্টাই করেননি। উল্টো তদন্তকারীদের কাছে তিনি নির্লজ্জভাবে দাবি করেন, এ ঘটনায় তার কোনো অপরাধবোধ নেই এবং এটি তার মেয়ের ‘মারা যাওয়ারই সময়’ ছিল। রায় ঘোষণার সময় ক্ষুব্ধ ডিস্ট্রিক্ট জজ স্পেন্সর ওয়ালশ এই চরম অবহেলাকে 'ভয়াবহ ও বিস্ময়কর' বলে আখ্যা দেন। উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানান, শিশু রুবির ঘরে স্পেস হিটার চালিয়ে তাপমাত্রা ৭৭ ডিগ্রি ফারেনহাইট রাখা হয়েছিল। তীব্র গরমের মধ্যেও তাকে ফুলহাতা পাজামা, স্লিপ স্যাক ও একাধিক কম্বল দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়েছিল। তার দোলনায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল বেশ কয়েকটি সিপি কাপ, নষ্ট হয়ে যাওয়া ওয়াফেলস এবং বিছানার নিচে ছিল প্রচুর আবর্জনা। উটাহ স্টেট মেডিকেল এক্সামিনার অফিস নিশ্চিত করেছে যে, চরম অপুষ্টি এবং পানিশূন্যতার কারণেই রুবির মৃত্যু হয়েছে; মৃত্যুর সময় তার ওজন ছিল মাত্র ১৭ পাউন্ড। পুলিশের কাছে মিচেল স্বীকার করেছিলেন যে, তারা সপ্তাহে এক-দুদিন শিশুটিকে সারাদিনের জন্য দোলনাতেই ফেলে রাখতেন, যাকে তারা 'ক্রিব ডেজ' (দোলনার দিন) বলতেন। জানা যায়, মৃত্যুর আগের চার দিনের মধ্যে শিশুটিকে মাত্র ছয় ঘণ্টার জন্য দোলনা থেকে বের করা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রে ২৫ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে নতুন জীবন পেল মাথা জোড়া লাগানো দুই বোন, প্রথমবার দেখল একে অপরকে
পোষা কুকুরের ১৮০ বার কামড়ে নবজাতকের মৃ ত্যু, বাবার ১৬ বছরের কারাদণ্ড