দীর্ঘ তিন দশক ধরে বিশ্বজুড়ে সামরিক অভিযানে আকাশপথে প্রায় একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ২০২৬ সালের ইরান সংঘাত সেই আধিপত্যের ধারণাকে নতুনভাবে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পশ্চিম ইরানে একটি অত্যাধুনিক এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল ধ্বংস হওয়ার ঘটনাকে বিশ্লেষকেরা প্রতীকী দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন। যদিও পরবর্তীতে চালককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তবুও ঘটনাটি ওয়াশিংটনের জন্য কৌশলগত ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করেছে। একই দিনে পারস্য উপসাগর সংলগ্ন কুয়েত এলাকায় আরও একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ বিমান ধ্বংস হওয়ার খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এতে বোঝা যাচ্ছে, স্টেলথ সুবিধাবিহীন এবং নিম্ন উচ্চতায় উড্ডয়নকারী বিমানগুলো আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মুখে বাড়তি ঝুঁকিতে রয়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস দাবি করেছে, উদ্ধার অভিযানের সময় আরও কিছু মার্কিন উড়োজাহাজ লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। যদিও এসব দাবির সবকিছু স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও এটি স্পষ্ট যে সংঘাতের প্রকৃতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের দাবি—তারা ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বড় ধরনের ক্ষতি করেছে এবং বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনায় সফল হামলা চালাচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আংশিক দুর্বল করা আর সম্পূর্ণ অকার্যকর করে দেওয়া এক বিষয় নয়। ইরানের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামো এখনও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হচ্ছে। সংঘাতের শুরুর দিকেই ইসফাহান ও বুশেহর এলাকায় একাধিক এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাও মার্কিন বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। যদিও ড্রোন ক্ষয়ক্ষতি রাজনৈতিকভাবে কম সংবেদনশীল, তবুও গোয়েন্দা নজরদারি ও লক্ষ্য নির্ধারণে এর প্রভাব পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আধুনিক যুদ্ধে কেবল প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বই বিজয়ের নিশ্চয়তা দেয় না। বরং সক্ষম প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই মানেই দীর্ঘস্থায়ী চাপ, অনিশ্চয়তা এবং ক্ষয়ক্ষতি। সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ-এর বাস্তবতার সঙ্গেও মিল খুঁজে দেয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যৎ কৌশলে স্টেলথ প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ড্রোন ব্যবহারে আরও গুরুত্ব দিতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, আকাশ শক্তির পাশাপাশি সাইবার সক্ষমতা, গোয়েন্দা তথ্য ও কূটনৈতিক তৎপরতার সমন্বয়ই নির্ধারণ করবে যুদ্ধের ফলাফল। সব মিলিয়ে, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতাকে পুরোপুরি দুর্বল না করলেও ‘অপ্রতিদ্বন্দ্বী আধিপত্য’-এর ধারণাকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করছেন, ইরান-এর সঙ্গে চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে এবং দ্রুতই এর সমাপ্তি ঘটতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম The New York Post-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপে ইরানের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর দীর্ঘ সময় অবস্থান করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। ট্রাম্পের ভাষ্য, “আমরা সেখানে আর খুব বেশিদিন থাকব না।” তবে তিনি স্বীকার করেন, ইরানের অবশিষ্ট সামরিক শক্তি মোকাবিলায় এখনো কিছু কার্যক্রম বাকি রয়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, এই নৌপথ ব্যবহারকারী দেশগুলো চাইলে নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে এটি সচল করতে পারে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে প্রণালিটি “স্বয়ংক্রিয়ভাবে” খুলে যেতে পারে। তার দাবি, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ায় তারা আর আগের মতো নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারছে না। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনো জটিল এবং সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা অনিশ্চিত।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে ইরান-এর রাজধানী তেহরান এখন ভয়, অনিশ্চয়তা ও ধ্বংসস্তূপের এক বাস্তবতার মুখোমুখি। সামরিক সাফল্যের দাবির বিপরীতে সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ ও ক্ষয়ক্ষতি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক বিমান হামলায় বেসামরিক এলাকাগুলোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যদিও হামলাকারী পক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করছে তারা কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। তেহরানের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আহমদ রেজা জানান, দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা তার চশমার দোকান এক হামলায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। তার ভাষায়, “বছরের পর বছর ধরে যা গড়ে তুলেছিলাম, সবকিছু এক মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে।” তিনি বলেন, দোকানে থাকা আমদানিকৃত পণ্য সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে এবং এখন তিনি দেনার চাপে দিশেহারা। তার দাবি, দোকানের আশপাশে কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না, তবুও কেন এটি লক্ষ্যবস্তু হলো—সে প্রশ্নের উত্তর তার কাছে নেই। অন্যদিকে, তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলে একটি বিউটি পারলারে কর্মরত মিনা জানান, বিমান হামলার আগের রাত থেকেই আতঙ্কে কাটিয়েছেন তারা। পরদিন কর্মস্থলে গিয়ে দেখেন পুরো ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। “সব আয়না ভেঙে গেছে, যন্ত্রপাতি ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন আমরা কেউই কাজ করার মতো অবস্থায় নেই,” বলেন তিনি। যুদ্ধের কারণে শুধু ব্যবসা নয়, ভেঙে পড়ছে তরুণ উদ্যোক্তাদের স্বপ্নও। ২৯ বছর বয়সী নাগমেহ ও তার সহকর্মীরা মিলে একটি পোশাকের ব্র্যান্ড শুরু করেছিলেন। কিন্তু একটি বিস্ফোরণের আগুনে তাদের স্টুডিও ও পণ্য সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। নাগমেহ বলেন, “আমরা নিজেদের জন্য নতুন কিছু গড়ে তুলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন সবকিছুই শেষ।” একইভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন উত্তর তেহরানের এক রেস্তোরাঁ মালিকও। তার পারিবারিক ব্যবসা, যা কয়েক দশক ধরে চালু ছিল, এক হামলায় ধ্বংস হয়ে গেছে। স্থানীয়দের মতে, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই বেসামরিক এলাকায় হামলার মাত্রা বাড়ছে। এতে মানুষের মধ্যে বাড়ছে আতঙ্ক ও ক্ষোভ। অনেকেই বলছেন, এই সংঘাত এখন আর কৌশল বা রাজনীতির বিষয় নয়; বরং এটি তাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। তেহরানের বাসিন্দাদের কণ্ঠে এখন একটাই আকুতি—এই যুদ্ধের দ্রুত অবসান। তাদের ভাষায়, “আমরা এই যুদ্ধ চাইনি, কিন্তু তবুও আমাদের এর মধ্যেই বেঁচে থাকতে হচ্ছে।”
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক গোলাবারুদের মজুত নিয়ে চাপে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের জন্য বরাদ্দ কিছু অস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে পেন্টাগন—এমন তথ্য জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের ভেতরের আলোচনায় থাকা এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ দেশটির ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্যমতে, ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর গত চার সপ্তাহে ৯ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এতে ব্যবহৃত হয়েছে বিপুল পরিমাণ উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গোলাবারুদ। ফলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে আসছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিষয়ে অবগত সূত্রগুলো জানায়, ইউক্রেনের জন্য বরাদ্দ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—বিশেষ করে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র—অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এসব অস্ত্র মূলত পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো-এর একটি কর্মসূচির আওতায় সংগ্রহ করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে মিত্রদেশগুলো ইউক্রেনের জন্য মার্কিন অস্ত্র কিনে থাকে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সরাসরি সামরিক সহায়তার বড় অংশ সীমিত করলেও ‘ইউক্রেনের অগ্রাধিকারমূলক তালিকা’ কর্মসূচির মাধ্যমে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার মতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে ইউক্রেনের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য অংশের গোলাবারুদ সরবরাহ করা হচ্ছে। এদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দুইজন ইউরোপীয় কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে দ্রুতগতিতে গোলাবারুদ ব্যবহার করছে, তাতে ইউরোপের নিজস্ব অস্ত্র সরবরাহও বিলম্বিত হতে পারে। একই সঙ্গে ইউক্রেনে চলমান সরঞ্জাম সহায়তা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। রাশিয়ার হামলার মুখে ইউক্রেনের জন্য এই আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে সরবরাহে কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি হলে দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো স্পষ্ট করে জানায়নি—এই অস্ত্রগুলো পরে সরবরাহ করা হবে, নাকি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জরুরি সামরিক প্রয়োজন দেখা দিলে পেন্টাগন সরবরাহের অগ্রাধিকার পরিবর্তন করতে পারে। এদিকে সংঘাত শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রতিরক্ষা উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায়। বিশেষ করে কাতার ও ইরানের গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসক্ষেত্রে হামলার ঘটনায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা এবং জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলার কারণে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম ইতোমধ্যেই ঊর্ধ্বমুখী। এতে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশ চাপের মুখে পড়তে পারে। সম্প্রতি কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি এবং ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্র-এ হামলার ফলে বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহের একটি বড় অংশ ব্যাহত হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই দুটি স্থাপনা বিশ্ব এলএনজি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও উৎপাদন হয় প্রায় ১৭০ থেকে ১৮০ কোটি ঘনফুট। বাকি ঘাটতি আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়, যার বড় অংশই আসে কাতার থেকে। এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তেল ছাড়াও এলএনজি ও এলপিজির সরবরাহ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, স্পট মার্কেট থেকে গ্যাস কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং অন্যান্য উৎস থেকেও আমদানি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, স্পট মার্কেট থেকে কেনা সাময়িক সমাধান হলেও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানির বিকল্প উৎস নিশ্চিত করা জরুরি। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এদিকে শিল্প খাতেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। গ্যাস সংকট দেখা দিলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে, যা রপ্তানিমুখী শিল্পসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সরকার ইতোমধ্যে জ্বালানি সাশ্রয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আপাতত মজুত জ্বালানি ব্যবহার করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং বিকল্প উৎস খোঁজার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।