ইসলামাবাদ সংলাপ

ছবি: সংগৃহীত
ইসলামাবাদে ফের সংলাপের আভাস: ইরান সংকটে কূটনীতির দৌড়, যুদ্ধের শঙ্কা কাটেনি

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই আবারও আলোচনার টেবিলে ফেরার ইঙ্গিত মিলছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। সাম্প্রতিক ব্যর্থ সংলাপের পর নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান। একই সময়ে যুদ্ধবিরতি বজায় থাকলেও সামরিক প্রস্তুতি ও অবরোধের কারণে পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।   কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, ওয়াশিংটন ও তেহরানের প্রতিনিধিরা চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠকে বসেন। যদিও সেই আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়, তবে উভয় পক্ষকে আবার আলোচনায় ফিরিয়ে আনতে সক্রিয় রয়েছে পাকিস্তান। ইতোমধ্যে দেশটির সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল তেহরানে গিয়ে সংলাপ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও শিগগিরই যুদ্ধের অবসান হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি বিশ্বকে ‘অসাধারণ দুটি দিনের’ জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, নতুন করে আলোচনা শুরু হলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টিও সামনে আসতে পারে, যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।   এদিকে কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি সামরিক উত্তেজনাও কমেনি। হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে ইরানের সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মার্কিন বাহিনী একাধিক তেলবাহী জাহাজকে ফিরিয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৯৫ ডলারে পৌঁছেছে।   অন্যদিকে ইরানও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির সামরিক কমান্ড সতর্ক করে বলেছে, অবরোধ অব্যাহত থাকলে উপসাগরীয় অঞ্চলসহ গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে বাণিজ্য প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা হতে পারে।   আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ হামলায় শিশুসহ অন্তত ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।   এ অবস্থায় বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে কূটনৈতিক আলোচনা এগোলেও অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি ‘ভঙ্গুর ভারসাম্যে’ রয়েছে। সংলাপ সফল না হলে যে কোনো সময় নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৫, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
তেহরানে ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির; ট্রাম্পের বার্তায় কি তবে থামতে যাচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ?

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিরসনে এবং দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার পথ সুগম করতে উচ্চপর্যায়ের এক প্রতিনিধিদল নিয়ে তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) আল-জাজিরা ও ডন নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মূলত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকার অংশ হিসেবেই এই ঝটিকা সফর।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই আলোচনার বিষয়ে ইতিবাচক সংকেত দিয়েছেন। নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আগামী দুই দিনের মধ্যে বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে। ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির অসাধারণ কাজ করছেন এবং পাকিস্তানই এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার যোগ্য।” এমনকি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ‘প্রায় শেষের পথে’।   এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি জানিয়েছিলেন, গত রবিবারের বৈঠকটি অমীমাংসিত থাকলেও পাকিস্তানের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে। বাঘায়ি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইরানের ‘অনস্বীকার্য অধিকার’। তবে তিনি একটি সমঝোতার সুযোগ রেখে জানান যে, সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ও ধরণ নিয়ে তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার চূড়ান্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
হরমুজ প্রণালির ফুজাইরাহ উপকূলের কাছে একটি কার্গো জাহাজ। ফাইল ছবি: এএফপি
তিন সাগরে জাহাজ চলাচলে বাধার হুমকি ইরানের; যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ-অবরোধ অব্যাহত রাখলে পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর এবং ওমান সাগরে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার কঠোর হুমকি দিয়েছে ইরান। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়কারী সর্বোচ্চ অপারেশনাল কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’র কমান্ডার আলি আবদুল্লাহি এই হুঁশিয়ারি দেন।   তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অবরোধের মাধ্যমে ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাংকারের জন্য নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করা হলে সেটি চলমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের শামিল হবে। ৮ এপ্রিল শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা। তার আগেই আবদুল্লাহির এই মন্তব্য দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিল।   ইরানের এই হুমকি এমন সময়ে এলো যখন দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় সংলাপের প্রস্তুতি চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে ইসলামাবাদে ‘কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে’ এবং ইরান যুদ্ধ প্রায় শেষের পথে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান হলেও নতুন বৈঠকের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নয়। ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তেহরান এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ এপ্রিল ১৪, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইসলামাবাদে ২০ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক: ৮০ শতাংশ কাজের পরও চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র

ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে কাটল এক নির্ঘুম ও চরম উত্তেজনাপূর্ণ রাত। কয়েক দশকের বৈরিতা কাটিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা এক টেবিলে বসলেও শেষ পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে ঐতিহাসিক এই সংলাপ। তবে আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রায় ‘৮০ শতাংশ কাজ’ সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও চূড়ান্ত মুহূর্তে কিছু অমীমাংসিত বিষয়ে মতভেদের কারণে চুক্তিটি স্বাক্ষর করা সম্ভব হয়নি।   ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই ছিল দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের সরাসরি সম্পৃক্ততা। মঙ্গলবার যুদ্ধবিরতি ঘোষণার চার দিন পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। হোটেলের তিনটি পৃথক উইংয়ে চলেছে এই কূটনৈতিক লড়াই—একপাশে মার্কিন প্রতিনিধি দল, অন্যপাশে ইরানিরা এবং মাঝে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা।   মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে চলা এই আলোচনায় ফোনের ব্যবহার ছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ফলে গুরুত্বপূর্ণ বার্তার জন্য প্রতিনিধিদের বারবার মূল কক্ষের বাইরে আসতে হয়েছে।   আলোচনার সাথে পরিচিত ১১টি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, দুই পক্ষই চুক্তির অত্যন্ত কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে শেষ মুহূর্তে অচলাবস্থা তৈরি হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল, ইরানকে সব ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে হবে এবং হরমুজ প্রণালী কোনো টোল ছাড়াই উন্মুক্ত করে দিতে হবে। অন্যদিকে, ইরানের দাবি ছিল জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করা, সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা হবে না—এমন নির্ভরযোগ্য গ্যারান্টি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মার্কিন উদ্দেশ্য নিয়ে গভীর অবিশ্বাস প্রকাশ করেন, বিশেষ করে অতীতে আলোচনার মধ্যেই মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি কড়া অবস্থান নেন।   বৈঠকের এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় এবং চিৎকার শোনা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার কয়েক দফায় ‘চা-বিরতি’ ডাকেন এবং উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সোমবার জানিয়েছেন, সমস্যা সমাধানের জন্য এখনো পূর্ণ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।   এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, সোমবার সকালে ইরান থেকে ফোন করা হয়েছে এবং তারা একটি চুক্তিতে আসতে আগ্রহী। যদিও হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস জানিয়েছেন, মার্কিন অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি—ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে পারবে না।   বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুই দেশেরই এখন উত্তেজনা কমানো প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি বড় চ্যালেঞ্জ, আর ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দেশটিকে চাপের মুখে রেখেছে।   জেডি ভ্যান্স আলোচনার সমাপ্তি টেনে সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা একটি সমঝোতার পদ্ধতি দিয়ে এসেছি যা আমাদের চূড়ান্ত অফার। দেখা যাক ইরানিরা এটি গ্রহণ করে কি না।”

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র–ইরানের ঐতিহাসিক বৈঠক যেকোনো মুহূর্তে শুরু হচ্ছে আলোচনা, নজর বিশ্বরাজনীতিতে

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত যুদ্ধবিরতি আলোচনা আজ শনিবার রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হচ্ছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় সকালেই আলোচনার প্রথম দফা শুরু হবে।   এই বৈঠককে ঘিরে ইতিমধ্যে দুই দেশের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং উপদেষ্টা জারেড কুশনার।   অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তাঁর সঙ্গে আছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলায় ইরানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। পরবর্তী পাঁচ সপ্তাহে সংঘাতে তিন হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে।   পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই দেশ। এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হবে ২২ এপ্রিল।   মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনাটি পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ—দুইভাবেই হতে পারে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় প্রথমে আলোচনার কাঠামো নির্ধারণ করা হবে, এরপর সরাসরি বৈঠক হতে পারে। বৈঠকের আগে ট্রাম্প তাঁর প্রধান শর্ত পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ইরানের সঙ্গে যে কোনো চুক্তির মূল ভিত্তি হবে দেশটির কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র না থাকা।   তিনি আরও বলেন, কার্যকর চুক্তি হলে হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিকভাবে খুলে যাবে। তবে এখনো দুই পক্ষের অবস্থানে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতায় সীমাবদ্ধতা এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া।   অন্যদিকে, ইরান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান এবং হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি দাবি করছে। এই আলোচনাকে ‘সিদ্ধান্তমূলক মুহূর্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি দেশবাসীকে সংলাপের সফলতার জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের রাজধানী পৌঁছেছে ইরানি প্রতিনিধিদল

যুদ্ধবিরতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিতে ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। শুক্রবার রাতে তারা সেখানে পৌঁছায় বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম।   ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের খবরে বলা হয়েছে, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এবং কয়েকজন জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা।   একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও এই আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুতি নিয়েছে। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং উপদেষ্টা জারেড কুশনার।   পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আয়োজিত এই বৈঠকে চলমান উত্তেজনা নিরসন এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার উপায় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংলাপ ঘিরে ইসলামাবাদে লকডাউন, কড়া নিরাপত্তা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা ঘিরে পাকিস্তানের রাজধানী  ইসলামাবাদ-এ জারি করা হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ও আংশিক লকডাউন। শহরজুড়ে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যেই শনিবার ইসলামাবাদে এ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে দুই দেশের প্রতিনিধিরা সেখানে পৌঁছেছেন।   নিরাপত্তার স্বার্থে শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো ফাঁকা রাখা হয়েছে।   উচ্চ নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বৈঠকের জন্য তিন থেকে চারটি সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত স্থান হলো Serena Hotel Islamabad। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিনিধিদলগুলো এই হোটেলেই অবস্থান করতে পারেন।   এ কারণে হোটেলটির আশপাশের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে।   তবে কূটনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশে অনীহা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানি কর্মকর্তারা। তাদের ভাষ্য, আলোচনাটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করাই এখন প্রধান লক্ষ্য এবং পাকিস্তান এখানে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।   এই আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকার কথা রয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের। আর ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।   যুদ্ধবিরতির পর এমন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজনকে পাকিস্তান বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এই সংলাপ কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১০, ২০২৬ ১৪:০ 0
ছবি: সংগৃহীত
আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানে ফের হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

পাকিস্তানের রাজধানী Islamabad-এ অনুষ্ঠেয় শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানে আবারও হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি হিসেবে মার্কিন রণতরিগুলোকে অত্যাধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ দিয়ে সজ্জিত করা হচ্ছে।   তিনি বর্তমান সামরিক প্রস্তুতিকে ‘নতুন বিন্যাস’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন আগের চেয়েও শক্তিশালী অস্ত্রসজ্জা নিয়ে প্রস্তুত হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, আগে ব্যবহৃত অস্ত্র দিয়েই বড় ধরনের ক্ষতি করা হয়েছিল, আর এবার তার চেয়েও উন্নত অস্ত্র প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, “যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো না যায়, তাহলে এই অস্ত্র ব্যবহার করা হবে—এবং তা অত্যন্ত কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হবে।”   ইসলামাবাদের এই আলোচনার ফলাফল নিয়ে তিনি বলেন, খুব শিগগিরই পরিস্থিতি পরিষ্কার হবে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জানা যাবে আলোচনা সফল হচ্ছে কি না। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর শনিবার ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার।   তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এই কড়া অবস্থান আলোচনার পরিবেশে নতুন করে চাপ তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকেও শর্ত দেওয়া হয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, লেবাননে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের জব্দ করা অর্থ ছাড় না হলে কার্যকর কোনো অগ্রগতি সম্ভব নয়।

শাহারিয়া নয়ন এপ্রিল ১০, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

দেশের প্রথম ৪০ তলা ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর সম্পন্ন

বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নাহিদা বৃষ্টির লাশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কা কেন? দুই কারণ জানাল পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না।   নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার।   তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।

Top week

ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা

গ্রিন কার্ড পাওয়া আরো কঠিন হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিজ দেশে গিয়ে আবেদন করতে হবে অভিবাসীদের

ইসতিয়াক আহমেদ মে ২২, ২০২৬ ১৪:০ 0