- প্রচ্ছদ
- Topic
উত্তরবঙ্গ
টানা তিন দিন ও তিন রাতের অবিরাম মুষলধারে বৃষ্টিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলার জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত ও অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) থেকে শুরু হয়ে শনিবার (২০ জুন) পর্যন্ত চলা এই অতিবর্ষণের জেরে উত্তরবঙ্গের সমতল এবং পাহাড়ি অঞ্চলের সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত থমকে গেছে। যদিও শনিবার বিকেলের পর থেকে বৃষ্টিপাত সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে, তবে এর আগেই নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়ে এবং পাহাড়ে ধস নেমে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। টানা অতিবৃষ্টির কারণে উত্তরবঙ্গের প্রায় প্রতিটি পাহাড়ি নদীর পানিস্তর আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রবল বৃষ্টির জেরে বিশ্বখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র দার্জিলিং যাওয়ার প্রধান সড়কেও একাধিক জায়গায় বড় ধরণের ধস নেমেছে। অতিবর্ষণের কারণে মিরিক যাওয়ার পথে হিউম পাইপ দিয়ে তৈরি করা অস্থায়ী ‘দুধিয়া সেতুটি’ পাহাড়ি নদীর পানির তোড়ে সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। যার ফলে শিলিগুঁড়ি থেকে মিরিক যাওয়ার প্রধান সড়ক যোগাযোগ এই মুহূর্তে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ও ব্যাহত হয়ে পড়েছে। নদীর পানি উপচে পড়ার কারণে ইতিমধ্যেই ভারতের ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কটি পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং সেখানে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাস্তা থেকে দ্রুত পানি সরিয়ে নেওয়ার কাজ চালানো হচ্ছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, বর্তমানে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। প্রবল বৃষ্টির কারণে ফুঁসতে থাকা বালাসন নদীর পানির তোড়েই মূলত দুধিয়া সেতুটি ভেসে গেছে, যার ফলে শিলিগুঁড়ি থেকে সিকিম যাওয়ার সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে। এদিকে মহানন্দা নদীর তীব্র স্রোতের কারণে খারসাং থেকে শিলিগুঁড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত তিন লাইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পুরোপুরি ভেঙে গেছে। উত্তরবঙ্গের এই বন্যা পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মহানন্দা নদীর ফুলবাড়ী ব্যারাজের লকগেটগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ডুয়ার্সের অন্যতম প্রধান নদী তিস্তার পানির স্তরের ওপর স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড ২৪ ঘণ্টার কড়া নজরদারি চালাচ্ছে, যাতে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবেলা করা যায়। কলকাতার আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের প্রাদেশিক কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির কঠোর সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে শনিবার এবং রোববার উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর জন্য ‘রেড অ্যালার্ট’ বা সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার এবং জলপাইগুঁড়ি জেলায় আগামী কয়েকদিন আরও অতিভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
"গোলাপকে যে নামেই ডাকা হোক না কেন, সে সমভাবেই সুবাস ছড়াবে"—উইলিয়াম শেকসপিয়রের এই বিখ্যাত দর্শন যেন সম্পূর্ণ মার খেয়েছে উত্তরবঙ্গের জেলা বগুড়ায়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের কাছে কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম কেবল একটি পরিচয় নয়, বরং তা নিজের ক্ষমতা ও প্রভাব প্রদর্শনের এক অন্যতম হাতিয়ার। নিজের, স্ত্রীর এবং দুই ছেলের নাম রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন পাবলিক এবং প্রাইভেট স্থাপনায় খোদাই করার এক নজিরবিহীন ও দীর্ঘদিনের নেশা এখন দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ক্ষমতার এই দৃশ্যমান প্রদর্শনী নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বগুড়ার একজন প্রবীণ নাগরিক জানান, অনেকে নিজেদের সামাজিক মর্যাদা বাড়াতে সম্পদ দেখান, কিন্তু প্রতিমন্ত্রীর ধারণা নিজের নাম সব জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়াই আভিজাত্য প্রকাশের একমাত্র উপায়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রীর এই নামকরণের আগ্রাসন সাম্প্রতিক কোনো ঘটনা নয়, বরং এটি ২০০১ সাল থেকে শুরু হওয়া দুই দশকেরও বেশি সময়ের এক পরিকল্পিত প্রয়াস। তিনি নিজের দান করা জমিতে 'বেতগাড়ী মীর শাহে আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই ধারার সূচনা করেন। পরবর্তীতে সেই ক্যাম্পাসের একটি ভবনের নাম দেওয়া হয় তাঁর স্ত্রী লাবনী আক্তারের নামে। শুধু তা-ই নয়, সংলগ্ন এলাকায় 'বেতগাড়ী মীরবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়', 'বেতগাড়ী মীর শাহে আলম কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ', 'বেতগাড়ী মীর লাবনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়' এবং 'বেতগাড়ী মীর শাহে আলম মাদ্রাসা ও এতিমখানা' প্রতিষ্ঠা করে সবখানেই পারিবারিক নামের সিলমোহর বসানো হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর পদ পাওয়ার পর তিনি নতুন উপজেলা সদরে প্রতিষ্ঠা করেন 'মোকামতলা মীর শাহে আলম-সাত্তার তালুকদার মহাবিদ্যালয়' এবং সেখানে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিজের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) আতিকুর রহমানকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে নিজের বাণিজ্যিক তেলের ব্যবসার নামও তিনি রেখেছেন দুই ছেলের নামে 'মীর সীমান্ত-দিগন্ত ফিলিং স্টেশন' এবং স্ত্রী ও কন্যার নামে 'মীর লাবনী-নুসরাত ফিলিং স্টেশন'। তবে প্রতিমন্ত্রীর এই আত্মপ্রচারণার চরম রূপ প্রকাশ পায় শিবগঞ্জ উপজেলার সীমানা পুনর্গঠনের মাধ্যমে গঠিত চারটি নতুন ইউনিয়ন পরিষদের নামকরণে। প্রতিমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ি ‘মীরবাড়ী’র সাথে মিলিয়ে একটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয় 'বেতগাড়ী মীরবাড়ী ইউনিয়ন'। আর বাকি তিনটি ইউনিয়নের নাম রাখা হয় 'সীমান্ত', 'দিগন্ত' এবং 'স্বর্ণগ্রাম'। আশ্চর্যজনকভাবে প্রতিমন্ত্রীর দুই ছেলের নামও মীর সীমান্ত ও মীর দিগন্ত। এই "অলৌকিক মিল" নিয়ে জাতীয় সংসদে তীব্র সমালোচনা শুরু হলে প্রতিমন্ত্রী এক অদ্ভুত ভৌগোলিক তত্ত্ব দিয়ে দাবি করেন, উপজেলা সীমান্তে অবস্থিত হওয়ায় 'সীমান্ত' এবং দূরবর্তী হওয়ায় 'দিগন্ত' নাম রাখা হয়েছে, যার সাথে তাঁর সন্তানদের নামের মিল কেবলই কাকতালীয়। তবে নেপথ্যের সত্য হলো, নিয়ম অনুযায়ী গণশুনানি বা স্থানীয় মতামতের তোয়াক্কা না করে প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া একটি আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের ওপর ভিত্তি করেই এই নামকরণ চূড়ান্ত করা হয়েছিল। বগুড়ার জেলা প্রশাসক নিজেই গণমাধ্যমের কাছে ফাঁস করে দিয়েছেন যে, তাঁর দপ্তরে যখন প্রস্তাবটি পৌঁছায়, তখন প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য বিকল্প কোনো নাম ছাড়াই কেবল একটি করেই নাম জমা দেওয়া হয়েছিল। মীর শাহে আলমের এই একচ্ছত্র প্রভাব কেবল নামকরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, মন্ত্রণালয়ের ভেতরেও তিনি এক অলিখিত একনায়কতন্ত্র কায়েম করেছেন। ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হিসেবে রাজনীতি শুরু করা শাহে আলম ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে দ্রুত তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ বলয়ে জায়গা করে নেন। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা একাধিক চেক ডিজনার ও ফৌজদারি মামলা থেকে তিনি দ্রুত খালাস পান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ খোদ প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তাঁকে "সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রী" হিসেবে ঘোষণা করেন। মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কেবল নামেমাত্র প্রধান, কিন্তু বদলি, পদোন্নতি ও লাভজনক প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের সমস্ত সিদ্ধান্ত নেন শাহে আলম। এই চরম আধিপত্য ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে এক পর্যায়ে মির্জা ফখরুল রাজনীতি থেকে অবসরের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন বলে দলের নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। প্রতিমন্ত্রীর এই অসীম ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ নিয়ে রাতারাতি ভাগ্যবদল হয়েছে তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র মীর শাকরুল আলম সীমান্তের। লন্ডন থেকে পড়াশোনা শেষ করে ফেরার মাত্র এক বছরের মাথায় তিনি শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক পদ বাগিয়ে নেন। এরপর নাটকীয়ভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক পদ এবং বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি পদও পান। সবচেয়ে বড় অনিয়মটি ঘটেছে যখন দেখা যায়, সীমান্ত তাঁর বাবার নিজস্ব মন্ত্রণালয়ের অধীনেই ঠিকাদারি লাইসেন্স নিয়ে শিবগঞ্জ পৌরসভায় একটি আরসিসি রাস্তা নির্মাণের বড় কাজ বাগিয়ে নিয়েছেন, যা গত ২৬ এপ্রিল প্রতিমন্ত্রী নিজেই উদ্বোধন করেন। প্রতিমন্ত্রীর এই পারিবারিক স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, "এটি কেবল অশোভনই নয়, বরং স্বার্থের সংঘাত এবং ক্ষমতার চরম অপব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সুবিধা নেওয়ার একটি প্রকাশ্য উৎসব, যা জনপ্রতিনিধি হিসেবে নেওয়া শপথের সরাসরি লঙ্ঘন"।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।