সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

ঋণ

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রেজারি বন্ডের সুদ বাড়ছে
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রেজারি বন্ডের সুদ বাড়ছে, আরও ব্যয়বহুল হতে পারে বাড়ি-গাড়ির ঋণ

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রেজারি বন্ডের ইয়িল্ড দ্রুত বাড়ায় সাধারণ আমেরিকানদের ঋণের খরচ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়তে পারে বাড়ি ও গাড়ির ঋণে, এমনকি শেয়ারবাজারেও।   বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছরের ট্রেজারি ইয়িল্ড বেড়ে ৪ দশমিক ৭৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২৩ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ। এর এক দিন আগেই ১০ বছরের ইয়িল্ড ৪ দশমিক ৭৯৬ শতাংশে উঠেছিল। একই সময়ে ৩০ বছরের ট্রেজারি ইয়িল্ড ৫ দশমিক ২৮৬ শতাংশে পৌঁছে প্রায় দুই দশকের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি চলে যায়।     বন্ড বাজারে এই বিক্রির পেছনে বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তেলের সরবরাহ ও দাম আরও বাড়তে পারে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ফেডারেল রিজার্ভকে সুদের হার বাড়ানোর কথা বিবেচনা করতে হতে পারে।   ট্রেজারি বন্ডের দাম ও ইয়িল্ড পরস্পর বিপরীতমুখী। বিনিয়োগকারীরা বন্ড বিক্রি করলে এর দাম কমে এবং ইয়িল্ড বেড়ে যায়। এখন সেই ইয়িল্ডের দ্রুত উত্থান শুধু ওয়াল স্ট্রিটের বিষয় হয়ে থাকছে না, এর প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ মানুষের ঋণের খরচেও।   বিশেষ করে মর্টগেজের সুদের হার ১০ বছরের ট্রেজারি ইয়িল্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। ফলে ট্রেজারি ইয়িল্ড আরও বাড়লে বাড়ি কেনার জন্য নতুন করে ঋণ নিতে যাওয়া মানুষের মাসিক কিস্তি ও মোট সুদের খরচ বাড়তে পারে।   এমনিতেই যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে চাপ রয়েছে। অনেক এলাকায় বাড়ির সরবরাহ কম এবং দাম অনেক ক্রেতার নাগালের বাইরে। বিশেষ করে তরুণ ও প্রথমবার বাড়ি কিনতে যাওয়া ক্রেতারা উচ্চ ঋণখরচের কারণে বাজার থেকে পিছিয়ে পড়ছেন।   গত কয়েক বছর ধরে তুলনামূলক বেশি সুদের হারও আবাসন বাজারকে অনেকটা স্থবির করে রেখেছে। কম সুদের সময়ে মর্টগেজ নেওয়া বাড়ির মালিকদের অনেকে বাড়ি বদলাতে চাইছেন না, কারণ নতুন বাড়ি কিনলে তাদের পুরোনো কম সুদের ঋণ ছেড়ে বেশি সুদের ঋণ নিতে হবে।   প্রভাব পড়তে পারে অটো লোন ও ক্রেডিট কার্ডের ঋণেও। ট্রেজারি ইয়িল্ড বাড়ার সঙ্গে অর্থনীতিজুড়ে ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়লে গাড়ি কেনা বা ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া বহন করাও আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে।   অন্যদিকে উচ্চ ইয়িল্ড শেয়ারবাজারের জন্যও চাপ তৈরি করতে পারে। কারণ ১০ বছরের ট্রেজারি থেকে যখন বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৫ শতাংশের কাছাকাছি রিটার্ন পেতে পারেন, তখন ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারের তুলনায় নিরাপদ সরকারি বন্ড আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।   বিশেষ করে বেশি মূল্যায়নে থাকা টেকনোলজি ও এআই কোম্পানির শেয়ারে এর প্রভাব পড়তে পারে। কারণ সুদের হার বাড়লে ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত আয়কে বর্তমান মূল্যে হিসাব করার সময় সেই কোম্পানিগুলোর মূল্যায়নে চাপ পড়ে।   বাজার বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ইরান সংঘাতের কারণে তেলের দাম বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। অর্থাৎ তেলের দাম বাড়া থেকে মূল্যস্ফীতির চাপ, সেখান থেকে সুদের হার ও ট্রেজারি ইয়িল্ড বাড়া - শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়তে পারে সাধারণ মানুষের ঋণ এবং বিনিয়োগে।

নীলুফা নিশাত সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬ ১৪:০
ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রবার্ট কিয়োসাকি। দুজন মিলে দুটি বইও লিখেছেন। ছবি: সংগৃহীত
মানুষকে ধনী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া ‘রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড’ বইয়ের লেখক নিজেই ১২০ কোটি ডলার ঋণে

‘রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড’ বইয়ের লেখক রবার্ট কিয়োসাকি ১২০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণের কথা জানিয়েছেন। অর্থ নিয়ে পরামর্শ দিয়ে বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই লেখকের বিপুল ঋণের খবর সামনে আসার পর প্রশ্ন উঠেছে, এত বড় ঋণের পরও কীভাবে তিনি নিজেকে সফল বিনিয়োগকারী হিসেবে উপস্থাপন করছেন।   তবে বিষয়টি যতটা সরলভাবে শোনা যাচ্ছে, বাস্তবতা ততটা নয়। কিয়োসাকি নিজে এবং তার সাবেক স্ত্রী ও ব্যবসায়িক অংশীদার কিম কিয়োসাকির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ১২০ কোটি ডলারের পুরো অর্থ কিয়োসাকির ব্যক্তিগত ঋণ নয়। এর বড় অংশ বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে করা আবাসন বিনিয়োগের ঋণ। অর্থাৎ ঋণের বিপরীতে রয়েছে সম্পদ ও আয় তৈরি করা সম্পত্তি। সম্প্রতি মার্কিন সাময়িকী ভ্যানিটি ফেয়ারে প্রকাশিত ক্রিস্টোফার কক্সের দীর্ঘ প্রতিবেদনে কিয়োসাকির অর্থনৈতিক দর্শন, ব্যক্তিজীবন এবং ‘রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড’ বইয়ের পেছনের গল্প উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের জন্য অ্যারিজোনায় কিয়োসাকির সঙ্গে দেখা করেন কক্স। সেখানে ৭৯ বছর বয়সী এই লেখক তার বিপুল ঋণ, বিনিয়োগ এবং জীবনের নানা অধ্যায় নিয়ে কথা বলেন।   ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত ‘রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড’ কিয়োসাকিকে ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশ্বের অন্যতম পরিচিত লেখকে পরিণত করে। বইটি ৪ কোটি ৪০ লাখের বেশি কপি বিক্রি হয়েছে বলে ভ্যানিটি ফেয়ার ও প্রকাশনা-সংক্রান্ত সূত্রগুলো জানিয়েছে। বইটি বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং ব্যক্তিগত অর্থ ও বিনিয়োগ নিয়ে সাধারণ মানুষের ধারণায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। বইটির মূল ধারণা ছিল, শুধু চাকরি করে বেতন পাওয়ার ওপর নির্ভর না করে সম্পদ তৈরি করা এবং আয় সৃষ্টি করতে পারে এমন সম্পদে বিনিয়োগ করা। কিয়োসাকি বিশেষ করে আবাসন, ব্যবসা ও অন্যান্য সম্পদ কেনার ক্ষেত্রে ঋণকে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের পক্ষে কথা বলেছেন। তিনি ঋণকে ভালো ও খারাপ, এই দুই ভাগে দেখেন। তার মতে, যে ঋণ আয় তৈরি করা সম্পদ কেনার কাজে ব্যবহৃত হয়, সেটি সম্পদ তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।   এই দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই কিয়োসাকি নিজের বিনিয়োগে বড় অঙ্কের ঋণ ব্যবহার করেছেন। ভ্যানিটি ফেয়ারের প্রতিবেদনে তার সাবেক স্ত্রী কিম জানান, তাদের অংশীদারদের সঙ্গে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি আবাসন ইউনিট রয়েছে। এসব সম্পত্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঋণ মিলিয়েই ১২০ কোটি ডলারের অঙ্কটি দাঁড়িয়েছে। কিমের ভাষ্য অনুযায়ী, এর বড় অংশ কিয়োসাকির ব্যক্তিগত দায় হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।   কিয়োসাকি নিজেও দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, বিপুল ঋণ থাকা তার কাছে অস্বাভাবিক কিছু নয়। ২০২৪ সালেও তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন যে তার ঋণের পরিমাণ ১০০ কোটি ডলারের বেশি। সে সময় তিনি বলেছিলেন, তিনি নগদ অর্থ জমিয়ে রাখার বদলে ঋণ ব্যবহার করে সম্পদ কেনার কৌশলে বিশ্বাস করেন। তার যুক্তি হলো, কোনো সম্পত্তির মূল্য বাড়লে সেই সম্পত্তির বিপরীতে আরও ঋণ নেওয়া যায়। সেই অর্থ আবার নতুন সম্পদ কেনার কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। তার ভাষায়, ধনীরা ঋণকে সম্পদ তৈরির জন্য ব্যবহার করেন। তবে এই কৌশল একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণও হতে পারে, কারণ সম্পত্তির মূল্য কমে গেলে বা আয় কমে গেলে ঋণের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে যেতে পারে।   কিয়োসাকির নিজের দাবি অনুযায়ী, তার মাসিক আয় একসময় প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত ছিল। ভ্যানিটি ফেয়ারের প্রতিবেদনে অবশ্য তিনি বার্ষিক আয় প্রায় ৩০ লাখ ডলার বলে উল্লেখ করেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার ব্যক্তিগত ঋণের অংশ মোট ১২০ কোটি ডলারের তুলনায় অনেক কম হতে পারে। কিমের হিসাব অনুযায়ী, তা আনুমানিক ৩ কোটি থেকে ৬ কোটি ডলারের মধ্যে হতে পারে। তবে কিয়োসাকির আর্থিক কর্মকাণ্ডের ইতিহাস সবসময় মসৃণ ছিল না। ২০১২ সালে ‘রিচ ড্যাড’ নামের সেমিনারভিত্তিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রিচ গ্লোবাল এলএলসি দেউলিয়া সুরক্ষার জন্য আবেদন করেছিল। এর আগে এক ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে বিরোধে আদালত ২ কোটি ৪০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। তার আর্থিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নিয়েও বিভিন্ন সময়ে সমালোচনা ও মামলা হয়েছে।   তারপরও ‘রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড’ বইয়ের জনপ্রিয়তা কমেনি। প্রথম দিকে বইটি নিজ উদ্যোগে প্রকাশ করা হয়েছিল। পরে এটি বেস্টসেলার তালিকায় জায়গা করে নেয় এবং ‘দ্য অপরাহ উইনফ্রে শো’তে কিয়োসাকির উপস্থিতির পর বইটির বিক্রি আরও বেড়ে যায়। কিয়োসাকির নিজের জীবনও বইটির দর্শনের মতোই নানা বাঁকে ভরা। ১৯৪৭ সালে হাওয়াইয়ের হিলোতে জন্ম নেওয়া কিয়োসাকি জাপানি-আমেরিকান পরিবারের সন্তান। তার বাবা রালফ কিয়োসাকি ছিলেন উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি এবং হাওয়াইয়ের শিক্ষা প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কিয়োসাকি বইটিতে নিজের বাবাকে ‘পুওর ড্যাড’ হিসেবে উপস্থাপন করেন, যদিও বাস্তব জীবনে বাবার প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা ছিল।   অন্যদিকে বইয়ের ‘রিচ ড্যাড’ চরিত্রটি পুরোপুরি তার নিজের বাবার বিপরীত এক অর্থনৈতিক দর্শনের প্রতীক। ২০১৮ সালে কিয়োসাকি জানান, এই চরিত্রের পেছনে হাওয়াইয়ের হোটেল ব্যবসায়ী রিচার্ড কিমির প্রভাব ছিল। ভ্যানিটি ফেয়ারের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বইয়ে তার বাবাকে ব্যর্থতার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরলেও বাস্তবে রালফই একসময় ছেলের ব্যবসায়িক উদ্যোগে ১ লাখ ডলার ঋণ দিয়েছিলেন। বাবার সঙ্গে এই জটিল সম্পর্কই সম্ভবত কিয়োসাকির আর্থিক দর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পটভূমি। তার বোন তেনজিনও মনে করেন, বাবার শিক্ষা ও মূল্যবোধ তার ভাইয়ের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। কিয়োসাকি নিজেও স্বীকার করেছেন, তার বাবা তাকে নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের শিক্ষা দিয়েছিলেন।   কিয়োসাকির জীবনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল ভিয়েতনাম যুদ্ধ। তিনি মার্কিন মেরিন বাহিনীতে যোগ দিয়ে হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধের অভিজ্ঞতা তার জীবন ও চিন্তাভাবনায় বড় প্রভাব ফেলে। পরে তিনি ব্যক্তিগত উন্নয়ন, দর্শন ও আর্থিক শিক্ষা নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিতে যুক্ত হন। ১৯৮০-এর দশকে তিনি ভবিষ্যৎচিন্তক ও স্থপতি বাকমিনস্টার ফুলারের সঙ্গে পরিচিত হন। ফুলারের চিন্তাধারা কিয়োসাকির ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। কিয়োসাকি পরে উপলব্ধি করেন, তার লক্ষ্য শুধু নিজে ধনী হওয়া নয়, বরং অন্যদের অর্থনৈতিক শিক্ষা দেওয়া। এরই ধারাবাহিকতায় তৈরি হয় ‘ক্যাশফ্লো’ নামের বোর্ড গেম এবং পরে সেই গেমকে বোঝাতে গিয়ে জন্ম নেয় ‘রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড’ বইয়ের ধারণা।   কিয়োসাকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে বলেছেন। দুজন মিলে ‘হোয়াই উই ওয়ান্ট ইউ টু বি রিচ’ এবং ‘মিডাস টাচ’ নামে দুটি বই লিখেছেন। ভ্যানিটি ফেয়ারের প্রতিবেদনে কিয়োসাকির ট্রাম্পের প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও ঘনিষ্ঠতার কথাও উঠে এসেছে। তবে কিয়োসাকির জনপ্রিয়তার পাশাপাশি বিতর্কও কম নয়। বাজার ধস, স্বর্ণের দাম ও অর্থনীতি নিয়ে তার বিভিন্ন পূর্বাভাস অনেক সময় বাস্তবতার সঙ্গে মেলেনি। তার উচ্চমূল্যের আর্থিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। ২০১৮ সালে রিচ ড্যাড এডুকেশনের বিরুদ্ধে একটি শ্রেণি-আদালত মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ও ব্যয়বহুল কোর্স ও পরামর্শ সেবায় যুক্ত করাই ছিল কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। মামলাটি অবশ্য কারিগরি কারণে খারিজ হয়ে যায়।   সব মিলিয়ে ১২০ কোটি ডলারের ঋণের খবর কিয়োসাকির ক্ষেত্রে প্রচলিত অর্থে দেউলিয়াত্বের গল্প নয়। বরং এটি তার দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ দর্শনেরই একটি চরম উদাহরণ। তিনি যে ধরনের ঋণকে সম্পদ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে দেখান, তার নিজের ব্যবসায়ও সেই কৌশলের প্রয়োগ রয়েছে। তবে বিপুল ঋণের সঙ্গে বিপুল সম্পদ থাকলেও ঝুঁকি যে থাকে, সেটিও এই ঘটনা নতুন করে সামনে এনেছে।   সূত্র: ভ্যানিটি ফেয়ার, ফরচুন

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আগস্ট ২৬, ২০২৬ ১৪:০
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় ঋণ ছাড়িয়েছে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ঋণের বোঝা, আজ জন্ম নেওয়া শিশুর মাথাপিছু হিসাবেও প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। দেশটির জাতীয় ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের অবিশ্বাস্য সীমা অতিক্রম করেছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশটির মোট জাতীয় ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০ ট্রিলিয়ন ৪৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।   এই বিশাল অঙ্কের ঋণকে যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার ডলার। এর মানে হলো, দেশটিতে আজ যে শিশুটি জন্মগ্রহণ করছে, তার নামে আলাদা করে কোনো ঋণ তৈরি না হলেও, গাণিতিক হিসাবে তার কাঁধেও প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার ডলারের ঋণের বোঝা চেপে যাচ্ছে।   ঋণের এই উল্লম্ফন বেশ দ্রুতগতিতেই ঘটছে। মাত্র কয়েক মাস আগে, চলতি বছরের মার্চেই যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল এবং এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে তা ছিল ৩৮ ট্রিলিয়ন ডলার। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ হলো দীর্ঘদিনের ফেডারেল বাজেট ঘাটতি।   সরকারের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হওয়ায় ঘাটতি মেটাতে প্রতিনিয়ত ঋণ নিতে হচ্ছে, যার ফলে এই ঋণের সুদ পরিশোধের চাপও ক্রমাগত বাড়ছে। পাশাপাশি, জনসংখ্যার বয়স বাড়ার কারণে সোশ্যাল সিকিউরিটি ও মেডিকেয়ারের মতো খাতে সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি ভবিষ্যৎ বাজেটের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে।   কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও)-এর সাম্প্রতিক পূর্বাভাস বলছে, বর্তমান আইন ও নীতিগুলো অপরিবর্তিত থাকলে ২০২৬ অর্থবছরে ফেডারেল বাজেট ঘাটতি প্রায় ১ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে, যা ২০৩৬ সাল নাগাদ বেড়ে ৩ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে। শুধু তাই নয়, অর্থনীতির আকারের তুলনায় ঋণের এই বোঝা আরও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।   সিবিও ধারণা করছে, জনসাধারণের হাতে থাকা ফেডারেল ঋণ ২০২৬ সালে জিডিপির ১০১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০৩৬ সালে ১২০ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াবে, যা ১৯৪৬ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রেকর্ড হওয়া ১০৬ শতাংশের সর্বোচ্চ মাত্রাকেও ছাড়িয়ে যাবে।   যদিও বাস্তবে এই মাথাপিছু ১ লাখ ১৭ হাজার ডলার কোনো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক দায় নয়, তবে এই হিসাব থেকে দেশটির সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর ঋণের বিশালত্ব ও ভবিষ্যৎ চাপ সহজেই অনুমান করা যায়। ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের এই মাইলফলক মূলত যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি বাজেট ঘাটতি, মাত্রাতিরিক্ত সুদ ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য এক বিশাল সতর্কবার্তা হিসেবেই সামনে এসেছে।

ইসতিয়াক আহমেদ আগস্ট ১৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবিঃ ডেইলি মেইল
শিক্ষার্থীদের ঋণের সুদ কমালে ভাতার টাকা কোথায় পাবো? প্রশ্ন ব্রিটিশ মন্ত্রীর

যুক্তরাজ্যের এক শীর্ষ মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ঋণের সুদের হারের বিষয়ে একটি অভাবনীয় যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, স্নাতকদের ঋণের চাপ কমানোর বদলে সরকারের জনকল্যাণমূলক ভাতা (বেনেফিট) পরিশোধের জন্য সরকারি তহবিলের অর্থ বেশি প্রয়োজন। যুক্তরাজ্যের ট্রেজারি চিফ সেক্রেটারি লুসি রিগবি সম্প্রতি তরুণদের 'প্ল্যান বি' লোনের ওপর নির্ধারিত ৬ শতাংশ সুদের হারের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন। তিনি জানান, দুই-সন্তান নীতির ভাতা সীমা বাতিলের মতো খাতে অর্থায়নের জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   সম্প্রতি স্কিলস মিনিস্টার ব্যারনেস স্মিথের সাথে এমপিদের সামনে উপস্থিত হয়ে ট্রেজারি চিফ সেক্রেটারি গত এপ্রিলে চ্যান্সেলর র‍্যাচেল রিভসের আনা এই সুদের হারের সীমার পক্ষে অবস্থান নেন। আগের ব্যবস্থার তুলনায় বর্তমানে সুদের হার কিছুটা কম হলেও সমালোচকরা বলছেন, এটি এখনও অনেক বেশি এবং এর ফলে দরিদ্র পরিবারের চেয়ে আর্থিকভাবে সচ্ছল স্নাতকরাই বেশি লাভবান হবেন। এ বিষয়ে ট্রেজারি কমিটিকে লুসি রিগবি বলেন, "সামগ্রিকভাবে করদাতাদের প্রতি ন্যায্যতার বিষয়টি আমাদের মাথায় রাখতে হবে, কারণ দেশের বেশিরভাগ তরুণই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে যায় না।" তিনি আরও বলেন, রাজনীতি হলো মূলত অগ্রাধিকার বেছে নেওয়ার বিষয়; আর বর্তমান চ্যান্সেলর দুই-সন্তান নীতির ভাতা সীমা তুলে নেওয়া, ফ্রি ব্রেকফাস্ট ক্লাবে অর্থায়ন এবং এসইএনডি (SEND) সংস্কারের মতো বিষয়গুলোকে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছেন।   যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে কল্যাণ ভাতা এবং কর ব্যবস্থা নিয়ে বর্তমানে ব্যাপক অস্থিরতা চলছে। লেবার পার্টির ব্যাকবেঞ্চারদের বড় ধরনের বিদ্রোহের পর চলতি বছরের শুরুতে দুই-সন্তান সীমার ভাতা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশন সেক্রেটারি প্যাট ম্যাকফ্যাডেন সম্প্রতি অভিযোগ করেছেন যে, দলীয় এমপিরা আরও বেশি ভাতার ব্যবস্থা করতে নতুন কর আরোপের দাবি জানিয়ে তাকে রীতিমতো অতিষ্ঠ করে তুলছেন। এর পাশাপাশি, সামরিক খাতে ব্যয় বাড়াতে কল্যাণ ভাতার বাজেট কমানোর যে দাবি উঠেছিল, নতুন করে বিদ্রোহের আশঙ্কায় সরকার তা-ও প্রত্যাখ্যান করেছে। এর প্রতিবাদে কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক প্রতিরক্ষা খাতে অর্থায়নের জন্য ভাতা সংকোচনের দাবি জানিয়েছেন এবং কর বাড়ানোর সরকারি ইঙ্গিতের তীব্র নিন্দা করেছেন।   প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু করে ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নেওয়া ঋণগুলো 'প্ল্যান টু' (Plan 2) লোন হিসেবে পরিচিত। এই ঋণগুলোর ওপর খুচরা মূল্য সূচকের (আরপিআই) মুদ্রাস্ফীতির সাথে আয়ের ওপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ পর্যন্ত সুদ দিতে হতো। নতুন সীমার আগে সর্বোচ্চ সুদের হার ছিল ৬.২ শতাংশ। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতির জেরে সেপ্টেম্বরে এটি ৭.১ শতাংশে পৌঁছানোর কথা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত সরকারের হস্তক্ষেপে তা ৬ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ জুন ৯, ২০২৬ ১৪:০
ছবি: সংগৃহীত
১১ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ বর্তমান সংসদ সদস্যদের; অর্থমন্ত্রী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বর্তমান সংসদ সদস্যদের ঋণের পাহাড় নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার (৬ এপ্রিল) সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে তিনি জানান, বর্তমান সংসদ সদস্যদের মোট ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ হওয়ার কথা থাকলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে তা খেলাপি হিসেবে দেখানো হয়নি।   কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এই তথ্য সংসদে উপস্থাপন করেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সংসদ সদস্য এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে বিভিন্ন ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিতে এই বিশাল অঙ্কের ঋণ রয়েছে।   অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও স্পষ্ট করেন যে, মোট ঋণের একটি বড় অংশ অর্থাৎ ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা প্রকৃত অর্থে খেলাপি। তবে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ বা বিশেষ নির্দেশনার কারণে বর্তমানে এগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘খেলাপি’ হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। এই আইনি মারপ্যাঁচের কারণে বিশাল অঙ্কের অনাদায়ী ঋণ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট সদস্যরা তাদের পদ ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারছেন।   সংসদে অর্থমন্ত্রীর এই তথ্য প্রদানের পর রাজনৈতিক ও সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে যেখানে সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সামান্য ঋণের দায়ে হয়রানির শিকার হন, সেখানে জনপ্রতিনিধিদের হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ এবং আইনি প্রক্রিয়ায় খেলাপি তকমা এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে।

তাবাস্সুম এপ্রিল ৫, ২০২৬ ১৪:০
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর
বিদেশে উচ্চশিক্ষায় বড় সুখবর: শিক্ষার্থীদের ১০ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের পথে ব্যাংক গ্যারান্টি বা সলভেন্সি সার্টিফিকেট নিয়ে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা দূর হতে চলেছে। উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে শিক্ষার্থীদের সাপোর্ট হিসেবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।  আজ মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানান, বিশেষ করে যারা জাপান, কোরিয়া, চীন বা জার্মানির মতো দেশগুলোতে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চান, তাদের ব্যাংক গ্যারান্টির সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী এই ঋণের ব্যবস্থা করতে বলেছেন। এই ঋণ কার্যক্রমটি পরিচালিত হবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে। প্রতিমন্ত্রীর ব্রিফিংয়ের মূল পয়েন্টগুলো: শিক্ষার্থীদের জন্য ঋণ: বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের ব্যাংক সলভেন্সি সহায়তায় ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি: চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে শ্রমবাজারে বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। বরং যুদ্ধ পরবর্তী পুনর্গঠন কাজে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ভাষার দক্ষতা: প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের জন্য তৃতীয় ভাষা শেখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন, যাতে তারা বিদেশের মাটিতে দক্ষ কর্মী হিসেবে ভালো বেতনে কাজ করতে পারেন। ভিসা জটিলতা নিরসন: ইউরোপের দেশগুলোর কনস্যুলার সেবা বা ভিসা অফিস যেন বাংলাদেশেই নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন বাজার অনুসন্ধান: মালয়েশিয়াসহ বন্ধ থাকা শ্রমবাজারগুলো দ্রুত চালুর পাশাপাশি থাইল্যান্ড ও ইউরোপের দেশগুলোতে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

নীলুফা নিশাত মার্চ ২৩, ২০২৬ ১৪:০
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

পাঁচ সন্তানকে এতিম করে মাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তারের সময়ও হাসছিল ঘাতক দুই বোন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার   পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন।   পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন।   ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে |   এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে মন্দার প্রভাবে আগস্টে বড় ৫০টি মহানগরের ৩৬টিতেই বাড়ির দাম কমেছে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ১০ শহরে সবচেয়ে দ্রুত কমছে বাড়ির দাম, ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি

তাবাস্সুম সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ১৪:০