সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার

#এমআইটি

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য ১০টি গুরুত্বপূর্ণ স্কলারশিপ!
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার জন্য ১০টি গুরুত্বপূর্ণ স্কলারশিপ: দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীরা কীভাবে ও কখন আবেদন করবেন?

যুক্তরাষ্ট্রে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার খরচ অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ। তবে শিক্ষার্থীর একাডেমিক যোগ্যতা, পরিবারের আর্থিক অবস্থা, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং নাগরিকত্ব বা অভিবাসন অবস্থার ওপর নির্ভর করে বিভিন্ন স্কলারশিপ ও আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। হার্ভার্ড, এমআইটি ও ইয়েলের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্য শিক্ষার্থীদের আর্থিক প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ফুলব্রাইট, নাইট-হেনেসি এবং বিশ্বব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানের কর্মসূচি স্নাতকোত্তর ও পেশাগত পর্যায়ে পড়াশোনার খরচ বহনে সহায়তা করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সব স্কলারশিপের নিয়ম এক নয়। কিছু সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন বাসিন্দাদের জন্য, কিছু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য, আবার কিছু কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকত্ব, পড়াশোনার বিষয় বা কাজের অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক। কোনো স্কলারশিপ সম্পূর্ণ খরচ বহন করতে পারে, আবার কোনোটি কেবল আংশিক অর্থায়ন দেয়। তাই আবেদন করার আগে যোগ্যতা, সহায়তার পরিমাণ এবং আবেদনের সময়সীমা যাচাই করা জরুরি।   হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তা : যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, স্থায়ী বাসিন্দা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে আর্থিক সহায়তার সুযোগ রয়েছে। এখানে সাধারণ বৃত্তির মতো শুধু পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে অর্থ দেওয়া হয় না; পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য ও শিক্ষার খরচ বহনের সক্ষমতা বিবেচনা করে সহায়তা নির্ধারণ করা হয়। যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তার মধ্যে টিউশনসহ অন্যান্য শিক্ষাব্যয়ের বড় অংশ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক, আর সহায়তার পরিমাণ নির্ভর করে প্রতিটি পরিবারের পরিস্থিতির ওপর।   আবেদনের সময়: ২০২৭ সালের শরৎকালীন ভর্তি প্রক্রিয়ায় আগাম আবেদনের সময়সীমা সাধারণত ১ নভেম্বর এবং নিয়মিত আবেদনের সময়সীমা ১ জানুয়ারি। আর্থিক সহায়তার কাগজপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা ভর্তির ধরন অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। আবেদনকারীদের সংশ্লিষ্ট বছরের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।   এমআইটি (ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি) আর্থিক সহায়তা : বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে পড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের কাছে এমআইটি অন্যতম আকর্ষণীয় প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়টি স্নাতক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আর্থিক প্রয়োজন বিবেচনা করে সহায়তা দেয়। ভর্তির সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আবেদনকারীর আর্থিক সামর্থ্যকে বাধা হিসেবে বিবেচনা না করার নীতি অনুসরণ করে এমআইটি। যোগ্য শিক্ষার্থীদের প্রমাণিত আর্থিক প্রয়োজন অনুযায়ী টিউশন, আবাসন, খাবার ও অন্যান্য শিক্ষাব্যয়ের জন্য সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে এ ধরনের সহায়তা পেতে হলে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হবে এবং নির্ধারিত আর্থিক নথি জমা দিতে হবে।   আবেদনের সময়: আগাম ও নিয়মিত ভর্তি প্রক্রিয়ার সময়সীমা আলাদা। সাধারণত আগাম আবেদনের সময় নভেম্বরের শুরু এবং নিয়মিত আবেদনের সময়সীমা জানুয়ারির শুরুতে থাকে। আর্থিক সহায়তার আবেদনও সংশ্লিষ্ট ভর্তি সময়সূচি অনুসারে সম্পন্ন করতে হয়।   ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তা : ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের জন্যও আর্থিক সহায়তার সুযোগ রাখে। স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষার্থীর পরিবারের আর্থিক অবস্থা মূল্যায়ন করে সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির নীতিমালা অনুযায়ী, ভর্তি ও আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে পরিবারের আর্থিক সামর্থ্যকে বাধা হিসেবে বিবেচনা করা হয় না এবং যোগ্য শিক্ষার্থীদের প্রমাণিত আর্থিক প্রয়োজন পূরণের লক্ষ্য রাখা হয়। সহায়তা সাধারণত ঋণের পরিবর্তে বৃত্তির মাধ্যমে দেওয়া হয়। ফলে উচ্চশিক্ষার ব্যয় নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবারগুলোর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে।   আবেদনের সময়: সাধারণত আগাম আবেদনের সময়সীমা ১ নভেম্বর এবং নিয়মিত আবেদনের সময়সীমা ২ জানুয়ারির কাছাকাছি থাকে। প্রতিবছর তারিখ পরিবর্তিত হতে পারে, তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষের সময়সূচি যাচাই করতে হবে।   ফুলব্রাইট ফরেন স্টুডেন্ট প্রোগ্রাম :  যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাসরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ফুলব্রাইট ফরেন স্টুডেন্ট প্রোগ্রাম একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এ কর্মসূচির আওতায় বিদেশি শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা ও গবেষণার জন্য অনুদান পেতে পারেন। সাধারণত ভালো একাডেমিক ফল, ইংরেজিতে দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং নিজ দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হয়। অনুদানের মধ্যে অর্থায়ন, স্বাস্থ্যসুবিধা ও অন্যান্য সহায়তা থাকতে পারে। তবে প্রতিটি দেশের জন্য যোগ্যতা, নির্বাচনপদ্ধতি এবং অর্থায়নের পরিমাণ এক নয়; সব নির্বাচিত শিক্ষার্থীর সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করা হবে, এমন নিশ্চয়তাও নেই।   আবেদনের সময়: সময়সীমা আবেদনকারীর নাগরিকত্বের দেশের ওপর নির্ভর করে। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের নিজ দেশে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট ফুলব্রাইট কর্তৃপক্ষের ঘোষিত সময়সূচি অনুসরণ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কেউ শুধু বাংলাদেশি পরিচয়ের কারণে এই কর্মসূচিতে যোগ্য হয়ে যাবেন না; নাগরিকত্ব, বসবাস ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।   নাইট-হেনেসি স্কলারস, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় : স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নাইট-হেনেসি স্কলারস কর্মসূচি স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়তে আগ্রহী মেধাবী ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এতে আবেদন করতে পারেন। নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের স্ট্যানফোর্ডের অনুমোদিত পূর্ণকালীন স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে হয়। কর্মসূচিটি সাধারণত টিউশন, জীবনযাপনের ব্যয় এবং শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কিছু অন্যান্য খরচের জন্য অর্থায়ন দেয়। তবে স্কলারশিপে নির্বাচিত হওয়া এবং স্ট্যানফোর্ডের নির্দিষ্ট ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া দুটি পৃথক প্রক্রিয়া। তাই উভয় আবেদনের শর্ত পূরণ করা জরুরি।   আবেদনের সময়: ২০২৭ সালের শিক্ষার্থী গোষ্ঠীর জন্য আবেদন ৬ অক্টোবর ২০২৬-এ বন্ধ হয়েছে। পরবর্তী ২০২৮ সালের গোষ্ঠীর আবেদন ২০২৭ সালের গ্রীষ্মে শুরু হওয়ার কথা। আগ্রহীদের স্কলারশিপের পাশাপাশি পছন্দের ডিগ্রি প্রোগ্রামের সময়সীমাও যাচাই করতে হবে।   এএইউডব্লিউ আন্তর্জাতিক ফেলোশিপ : যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে আসা নারী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় সহায়তার জন্য আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটি উইমেনের আন্তর্জাতিক ফেলোশিপ কর্মসূচি রয়েছে। যোগ্য আন্তর্জাতিক নারী শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে মাস্টার্স, ডক্টরাল বা নির্দিষ্ট পোস্টডক্টরাল পর্যায়ে পড়াশোনা ও গবেষণার জন্য অর্থায়নের আবেদন করতে পারেন। একাডেমিক যোগ্যতা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নিজ দেশ বা সমাজে অবদানের সম্ভাবনা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে এটি সব নারী শিক্ষার্থী বা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত সাধারণ বৃত্তি নয়; নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত শর্ত রয়েছে।   আবেদনের সময়: ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য আবেদন ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ বন্ধ হয়েছে। পরবর্তী চক্রের নতুন সময়সূচি প্রকাশিত হলে তা অনুসরণ করতে হবে। আবেদনকারীদের আগে থেকেই একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, সুপারিশপত্র ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথি প্রস্তুত রাখা উচিত।   হুবার্ট এইচ. হামফ্রে ফেলোশিপ : হুবার্ট এইচ. হামফ্রে ফেলোশিপ অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে এক বছরের পেশাগত ও একাডেমিক উন্নয়নের সুযোগ। এটি সাধারণ ডিগ্রি প্রদানকারী স্কলারশিপ নয়; বরং নেতৃত্ব, জনসেবা ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেয়। যোগ্য হতে হলে সাধারণত স্নাতক ডিগ্রি, অন্তত পাঁচ বছরের পূর্ণকালীন পেশাগত অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের প্রমাণ, জনসেবায় অবদান এবং ইংরেজিতে দক্ষতা থাকতে হয়। নির্বাচিত ফেলোদের জন্য টিউশন ও ফি, জীবনযাপনের ভাতা, স্বাস্থ্যসুরক্ষা এবং যাতায়াতসহ বিভিন্ন খাতে সহায়তা দেওয়া হতে পারে।   আবেদনের সময়: সময়সীমা দেশভেদে আলাদা। আবেদনকারীদের নিজ দেশের যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বা দ্বিপক্ষীয় ফুলব্রাইট কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। সাধারণত পরবর্তী বছরের কর্মসূচির জন্য আগের বছরই আবেদন ও বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়। তাই আগ্রহী পেশাজীবীদের আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।   রোটারি পিস ফেলোশিপ : শান্তি প্রতিষ্ঠা, সংঘাত নিরসন, মানবাধিকার ও সামাজিক উন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহী পেশাজীবীদের জন্য রোটারি পিস ফেলোশিপ একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ। কর্মসূচিটির আওতায় নির্বাচিত প্রার্থীরা অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয় বা রোটারি পিস সেন্টারে মাস্টার্স ডিগ্রি অথবা পেশাগত সার্টিফিকেট কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন। অর্থায়নের মধ্যে টিউশন, আবাসন, যাতায়াত এবং প্রোগ্রাম-সংশ্লিষ্ট কিছু খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে এটি সাধারণ স্নাতক পর্যায়ের বৃত্তি নয়; সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা, নেতৃত্ব এবং সামাজিক প্রভাব তৈরির সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ।   আবেদনের সময়: ২০২৭-২৮ চক্রের আবেদন বন্ধ হয়েছে। ২০২৮-২৯ চক্রের আবেদন ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়ার কথা। আগ্রহীদের আবেদনপত্র, সুপারিশপত্র, প্রবন্ধ এবং প্রয়োজনীয় একাডেমিক নথি আগেভাগে প্রস্তুত রাখতে হবে।   জয়েন্ট জাপান-ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ প্রোগ্রাম : বিশ্বব্যাংক ও জাপান সরকারের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই কর্মসূচি উন্নয়নশীল দেশের যোগ্য পেশাজীবীদের নির্দিষ্ট মাস্টার্স প্রোগ্রামে পড়াশোনার জন্য অর্থায়ন দেয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ননীতি, অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে পড়ার সুযোগ থাকতে পারে। সাধারণত যোগ্য দেশের নাগরিকত্ব, স্নাতক ডিগ্রি, উন্নয়নসংশ্লিষ্ট কাজে অন্তত তিন বছরের বেতনভুক্ত অভিজ্ঞতা এবং অংশগ্রহণকারী মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার শর্ত রয়েছে। সহায়তার মধ্যে টিউশন, মাসিক জীবনযাপনের ভাতা, যাতায়াত ও স্বাস্থ্যবিমা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। পড়াশোনা শেষে নিজ দেশে ফিরে উন্নয়নে অবদান রাখার প্রত্যাশাও এই কর্মসূচির অংশ।   আবেদনের সময়: ২০২৭ সালের প্রথম আবেদনপর্ব ১৮ জানুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ২৯ মার্চ থেকে ২১ মে পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছে। তবে আবেদন করার আগে দেখতে হবে, পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় ও মাস্টার্স প্রোগ্রাম ওই বছরের অনুমোদিত তালিকায় রয়েছে কি না। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য এটি সাধারণ দেশীয় শিক্ষার্থী বৃত্তি নয়; যোগ্য উন্নয়নশীল দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে কর্মসূচিটি পরিচালিত হয়।   এমপাওয়ার গ্লোবাল সিটিজেন স্কলারশিপ : যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে পড়াশোনা করতে পারবেন এমন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এমপাওয়ার ফাইন্যান্সিংয়ের গ্লোবাল সিটিজেন স্কলারশিপ একটি বিকল্প। এটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার নির্দিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি বা অধ্যয়নরত যোগ্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য। নির্বাচনে প্রার্থীর প্রবন্ধ, ভবিষ্যৎ লক্ষ্য, পড়াশোনার বিষয়ের সঙ্গে পেশাগত পরিকল্পনার সম্পর্ক এবং সমাজে ইতিবাচক প্রভাব তৈরির সম্ভাবনা বিবেচনা করা হয়। ২০২৬ সালের ঘোষিত কর্মসূচিতে প্রথম পুরস্কার ৮ হাজার ডলার, দ্বিতীয় পুরস্কার ২ হাজার ডলার এবং তৃতীয় পুরস্কার ১ হাজার ডলার। এটি সম্পূর্ণ শিক্ষাব্যয় মেটানোর নিশ্চয়তা নয়; বরং নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক সহায়তা।   আবেদনের সময়: বর্তমান চক্রের শেষ সময় ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬। আবেদনকারীকে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে এবং সময়সীমার মধ্যে প্রয়োজনীয় আবেদন ও প্রবন্ধ জমা দিতে হবে। এই স্কলারশিপটি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য নয়; আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন ডিএসিএ সুবিধাভোগীরা আবেদন করতে পারেন।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য কোন বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ : এই দশটি সুযোগের মধ্যে সবগুলো একই ধরনের নয়। হার্ভার্ড, এমআইটি ও ইয়েলের আর্থিক সহায়তা মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং পরিবারের আর্থিক প্রয়োজন বিবেচনা করে নির্ধারিত হয়। অন্যদিকে ফুলব্রাইট, নাইট-হেনেসি, এএইউডব্লিউ, হামফ্রে, রোটারি ও বিশ্বব্যাংকের কর্মসূচিগুলোর নিজস্ব যোগ্যতা, শিক্ষার স্তর এবং পেশাগত শর্ত রয়েছে। এমপাওয়ারের বৃত্তি আবার নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থায়ন দেয়। তাই শুধু স্কলারশিপের নাম দেখে আবেদন না করে নিজের নাগরিকত্ব, অভিবাসন অবস্থা, শিক্ষার স্তর, পছন্দের বিষয় এবং আর্থিক প্রয়োজনের সঙ্গে মিলিয়ে সুযোগ বেছে নেওয়া উচিত।   যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন অ-নাগরিক শিক্ষার্থীরা ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের জন্য যোগ্য হতে পারেন। তবে শুধু এফ-১ বা এম-১ স্টুডেন্ট ভিসা থাকলেই সাধারণত ফেডারেল স্টুডেন্ট এইড পাওয়া যায় না। গ্রিন কার্ডধারীসহ নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসন অবস্থার শিক্ষার্থীরা যোগ্য হতে পারেন। অন্যদিকে ডিএসিএ সুবিধাভোগী ও অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীরা ফেডারেল সহায়তার জন্য যোগ্য না হলেও কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আর্থিক সহায়তা, রাজ্যভিত্তিক কর্মসূচি বা বেসরকারি স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারেন। এ কারণে প্রতিটি শিক্ষার্থীর অবস্থার ভিত্তিতে নিয়ম যাচাই করা জরুরি।   স্কলারশিপের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, পরীক্ষার ফল, সুপারিশপত্র, ব্যক্তিগত প্রবন্ধ, পারিবারিক আয়ের নথি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ইংরেজি দক্ষতার পরীক্ষার ফল প্রস্তুত রাখা ভালো। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও আর্থিক সহায়তার আবেদন আলাদাভাবে জমা দিতে হয়। কিছু কর্মসূচিতে আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হয়, আবার কিছু কর্মসূচিতে নিজ দেশের যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। আবেদনের সময়সীমা প্রতিবছর পরিবর্তিত হতে পারে, তাই পুরোনো তারিখের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবর্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।   সবশেষে, যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার খরচ কমানোর জন্য শুধু বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের ওপর নির্ভর না করে শিক্ষার্থীর যোগ্যতা ও আর্থিক পরিস্থিতির সঙ্গে মানানসই সুযোগ খোঁজা গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আর্থিক সহায়তা, বেসরকারি স্কলারশিপ, পেশাগত ফেলোশিপ এবং নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক অনুদান একসঙ্গে বিবেচনা করলে বিকল্পের পরিসর বাড়তে পারে। সঠিক সময়ে প্রস্তুতি নেওয়া এবং যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে যাচাই করাই আবেদন প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নুরুল্লাহ সাইদ অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ১৪:০ 0
স্বাস্থ্যসেবায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নির্ভরযোগ্যতা ও ন্যায্যতা নিয়ে গবেষণা করছেন এমআইটির অধ্যাপক মারজিয়েহ ঘাসেমি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
সংখ্যালঘু রোগীদের চিকিৎসায় বৈষম্য কমাতে এআই নিয়ে গবেষণা করছেন এমআইটির ইরানি বংশোদ্ভূত অধ্যাপক

চিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার সিদ্ধান্তে বৈষম্যের ঝুঁকিও সামনে আসছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর রোগীদের ক্ষেত্রে এআইয়ের ভুল পূর্বাভাস বা পক্ষপাতপূর্ণ সুপারিশ ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ ঝুঁকি কমিয়ে চিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে আরও নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ করতে গবেষণা করছেন ইরানি-আমেরিকান গবেষক মারজিয়েহ ঘাসেমি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) অধ্যাপক এবং স্বাস্থ্যসেবায় যন্ত্রশিক্ষার ব্যবহার নিয়ে কাজ করছেন।   এমআইটির ইনস্টিটিউট ফর মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্সের মূল অনুষদ সদস্য এবং ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ঘাসেমি হেলদি এমএল ল্যাবের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁর গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো, চিকিৎসায় ব্যবহৃত এআই মডেলগুলো কীভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, কোন তথ্যের ওপর নির্ভর করছে এবং সেসব সিদ্ধান্তে রোগীভেদে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে কি না, তা শনাক্ত করার পদ্ধতি তৈরি করা।   এমআইটির ইনস্টিটিউট ফর মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সায়েন্স ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ঘাসেমির গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছে। সেখানে বলা হয়েছে, চিকিৎসায় এআইয়ের কার্যকারিতা শুধু গড় নির্ভুলতার ওপর নির্ভর করে না। বিভিন্ন হাসপাতাল ও জনগোষ্ঠীর রোগীদের ক্ষেত্রে মডেলটি সমানভাবে নির্ভরযোগ্য কি না, ভুল তথ্য থেকে ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত শিখছে কি না এবং বাস্তবে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করছে কি না, সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ।   ঘাসেমির গবেষণাগারে এআই মডেলের ব্যর্থতা শনাক্ত করা, পূর্বাভাসের অনিশ্চয়তা পরিমাপ করা, পক্ষপাত কমানো এবং চিকিৎসক ও রোগীদের জন্য প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করার পদ্ধতি তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে চিকিৎসায় এআইয়ের সম্ভাব্য সুবিধা কাজে লাগানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিটির সীমাবদ্ধতাও বোঝার চেষ্টা করছেন গবেষকেরা।   চিকিৎসার তথ্য বিশ্লেষণে নতুন চ্যালেঞ্জ: ঘাসেমির গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা-তথ্য একত্র করে রোগীর কখন গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা বা জরুরি হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হতে পারে, তা আগেভাগে অনুমান করা। এ কাজে রোগীর শারীরিক অবস্থার ধারাবাহিক পরিমাপ, পরীক্ষাগারের ফলাফল, চিকিৎসকদের লিখিত নোট এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে জিনগত ও পরিবেশগত তথ্য ব্যবহার করা হয়।   তবে এসব তথ্য এক ধরনের নয়। কোনো তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করা হয়, আবার কোনো পরীক্ষা করা হয় নির্দিষ্ট প্রয়োজন দেখা দিলে। চিকিৎসকদের নোটও বিভিন্ন সময়ে তৈরি হয়। পাশাপাশি সব রোগীর ক্ষেত্রে সমান পরিমাণ বা একই ধরনের তথ্য পাওয়া যায় না। এসব সীমাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন উৎসের তথ্য একত্র করে নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়া একটি জটিল প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ।   এই সমস্যা মোকাবিলায় গবেষকেরা পুনরাবৃত্ত নিউরাল নেটওয়ার্ক এবং কনভল্যুশনাল নিউরাল নেটওয়ার্কের মতো যন্ত্রশিক্ষা পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এসব পদ্ধতির সাহায্যে রোগীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে কখন চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে, তা অনুমান করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে মডেল কোনো পূর্বাভাস দিতে পারলেই সেটিকে সরাসরি চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করা নিরাপদ হয়ে যায় না।   ঘাসেমির মতে, বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা-তথ্য একত্র করে তৈরি মডেল পূর্বাভাসের কার্যকারিতা বাড়াতে পারে। কিন্তু চিকিৎসার বাস্তব পরিবেশে ব্যবহারের আগে মডেলটি কী শিখেছে এবং কোন বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা পরীক্ষা করা জরুরি। চিকিৎসায় এআইয়ের একটি বড় উদ্বেগ হলো, প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত তথ্যের মধ্যেই যদি বৈষম্য থাকে, তাহলে মডেলও সেই বৈষম্য শিখে নিতে পারে। কোনো রোগী গোষ্ঠীর তথ্য পর্যাপ্ত না থাকলে অথবা তথ্যের মধ্যে বিদ্যমান অসমতা যথাযথভাবে বিবেচনা না করা হলে, মডেলটি এক গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে ভালো ফল দিলেও অন্য গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে কম নির্ভুল হতে পারে।   এ ধরনের সমস্যা রোগ শনাক্তকরণ, রোগের ঝুঁকি নির্ধারণ কিংবা চিকিৎসার সুপারিশে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে শুধু সামগ্রিকভাবে একটি মডেল কতটা নির্ভুল, তা যাচাই করাই যথেষ্ট নয়। বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর রোগীদের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা এবং ভুলের ধরনও আলাদাভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।   ঘাসেমির গবেষণা এই ঝুঁকিগুলো শনাক্ত ও কমানোর উপায় খুঁজছে। তাঁর নেতৃত্বাধীন গবেষক দল এমন পদ্ধতি তৈরি করছে, যার মাধ্যমে এআইয়ের সিদ্ধান্তের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করা এবং সম্ভাব্য ক্ষতিকর পক্ষপাত সম্পর্কে আগেই ধারণা পাওয়া সম্ভব হতে পারে।   চিকিৎসায় এআইয়ের ব্যবহার যত বাড়বে, প্রযুক্তির নির্ভুলতার পাশাপাশি এর নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করাও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। ঘাসেমির গবেষণা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে। তবে গবেষণার উদ্দেশ্য সব ধরনের বৈষম্য ইতিমধ্যে দূর করা নয়; বরং চিকিৎসায় ব্যবহারের আগে এআই মডেলের সীমাবদ্ধতা শনাক্ত করা এবং রোগীদের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানোর কার্যকর পদ্ধতি তৈরি করা।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম অক্টোবর ১২, ২০২৬ ১৪:০ 0
আলেকজান্ডার ওয়াং
১৯ বছরে এমআইটি ছেড়ে ২৪ বছরেই বিলিয়নিয়ার হওয়া ওয়াং এখন মেটার প্রযুক্তি নেতৃত্বে

বিশ্বখ্যাত ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এমআইটিতে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন আলেকজান্ডার ওয়াং। কিন্তু প্রথম বর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে আর ফিরে যাননি। মাত্র ১৯ বছর বয়সে সহপ্রতিষ্ঠা করেন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্কেল এআই। সেই প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় বিশের কোঠাতেই বিলিয়নিয়ার হন তিনি। বর্তমানে মেটার চিফ এআই অফিসার হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কার্যক্রমের নেতৃত্বে রয়েছেন ওয়াং।   তাঁর ব্যবসায়িক যাত্রায় বড় পরিবর্তন আসে ২০২৫ সালের জুনে। ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা স্কেল এআইয়ে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করে এবং ওয়াংকে নিজেদের প্রযুক্তি কার্যক্রমে নিয়ে আসে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৪৯ শতাংশ মালিকানার জন্য মেটার বিনিয়োগ ছিল ১৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। সে সময় ওয়াংয়ের বয়স ছিল ২৮ বছর। ফলে মেটার এই বিনিয়োগের পর তিনি ২৪ বছর বয়সে বিলিয়নিয়ার হয়েছেন, এমন বর্ণনা সঠিক নয়।  ওয়াংয়ের বিলিয়নিয়ার হওয়ার ইতিহাস আরও আগের। ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে বিনিয়োগকারীরা স্কেল এআইয়ের মূল্য নির্ধারণ করেন ৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। প্রতিষ্ঠানে তাঁর মালিকানার আনুমানিক মূল্য তখন তাঁকে বিলিয়নিয়ারদের কাতারে নিয়ে যায়। বয়স ছিল ২৪ বছর। ফোর্বস পরবর্তী প্রতিবেদনে তাঁকে সে সময়ের বিশ্বের সবচেয়ে কমবয়সী নিজের উদ্যোগে সম্পদ গড়া বিলিয়নিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে।   এই সম্পদের হিসাব মূলত প্রতিষ্ঠানে তাঁর শেয়ারের আনুমানিক বাজারমূল্যের ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ কোম্পানির মূল্যায়ন বাড়লে তাঁর সম্পদের হিসাবও বাড়ে। আবার মূল্যায়ন কমলে সেই হিসাব বদলে যায়। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন কমে যাওয়ার মধ্যে ২০২৩ সালে তিনি বিলিয়নিয়ার তালিকা থেকে বাদ পড়েছিলেন। পরে স্কেল এআইয়ের মূল্যায়ন বাড়লে আবার তালিকায় ফেরেন।  ওয়াংয়ের বেড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর লস আলামোসে। তাঁর মা ও বাবা দুজনই পদার্থবিজ্ঞানী। ছোটবেলা থেকেই গণিত ও প্রোগ্রামিংয়ে আগ্রহ ছিল তাঁর। জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায়ও অংশ নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার আগেই পেশাগতভাবে প্রোগ্রামিংয়ের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে প্রশ্নোত্তরভিত্তিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কোরায় ফুলটাইম কাজ শুরু করেন তিনি।   কোরাতেই তাঁর পরিচয় হয় লুসি গুওয়ের সঙ্গে। পরবর্তী সময়ে তাঁরা দুজন মিলে স্কেল এআই গড়ে তোলেন। ফলে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে ওয়াংয়ের পাশাপাশি গুওয়ের ভূমিকাও রয়েছে। এমআইটিতে প্রথম বর্ষ শেষ করার পর গ্রীষ্মের ছুটিতে ব্যবসার কাজ শুরু করেছিলেন ওয়াং। ফোর্বসকে তিনি জানিয়েছিলেন, মা ও বাবাকে বলেছিলেন এটি শুধু গ্রীষ্মের ছুটির কাজ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যাননি।  ২০১৬ সালে যাত্রা শুরু করা স্কেল এআইয়ের ব্যবসার কেন্দ্রে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য ব্যবহারযোগ্য ডেটা তৈরি ও প্রস্তুত করা। কোনো মডেলকে ছবি, লেখা বা অন্য তথ্য বুঝতে শেখানোর জন্য সঠিকভাবে চিহ্নিত ও যাচাই করা বিপুল পরিমাণ ডেটা প্রয়োজন হয়। স্কেল সেই কাজের সেবা দিয়ে প্রযুক্তি খাতে নিজের অবস্থান তৈরি করে। মানুষের মাধ্যমে তথ্য যাচাই ও চিহ্নিত করার কাজও এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।   শুরুর দিকে স্বয়ংচালিত গাড়ির প্রযুক্তির জন্য ডেটা প্রস্তুতের কাজ ছিল প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্র। গাড়ির ক্যামেরায় ধরা পড়া দৃশ্য থেকে বিভিন্ন উপাদান শনাক্ত করার মতো কাজে এমন ডেটা প্রয়োজন হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়। বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি কোম্পানির পাশাপাশি মার্কিন প্রতিরক্ষা খাতেও কাজ শুরু করে স্কেল। ফোর্বসের ২০২২ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন বিমানবাহিনী ও সেনাবাহিনীকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে সহায়তার জন্য স্কেল তিনটি চুক্তি পেয়েছিল। সরকারি প্রয়োজন অনুযায়ী এসব চুক্তির সর্বোচ্চ সম্মিলিত মূল্য ছিল ১১ কোটি ডলার। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ডেটা প্রস্তুত করার ব্যবসা থেকে সরকারি কাজেও প্রতিষ্ঠানটির বিস্তার ঘটে।   ২০২৫ সালের ১২ জুন নিজেদের ঘোষণায় স্কেল জানায়, মেটার নতুন বিনিয়োগে প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন ২৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে। একই ঘোষণায় ওয়াংয়ের মেটায় যোগ দেওয়ার কথা নিশ্চিত করা হয়। তাঁর জায়গায় অন্তর্বর্তী প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পান জেসন ড্রোগ। ওয়াং স্কেলের পরিচালনা পর্ষদে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। স্কেল আরও জানায়, মেটা সংখ্যালঘু মালিকানা পেয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি স্বাধীনভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। চুক্তির অর্থের একটি অংশ শেয়ারহোল্ডার ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করা শেয়ারধারীদের দেওয়ার কথাও জানানো হয়। ফলে লেনদেনটি স্কেলকে পুরোপুরি কিনে নেওয়ার ঘটনা ছিল না। একই সঙ্গে দুই প্রতিষ্ঠানের ডেটাসংক্রান্ত বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়।    বর্তমানে ওয়াং মেটা সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবসের নেতৃত্বে রয়েছেন। ২০২৬ সালের অক্টোবরের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও তাঁকে মেটার চিফ এআই অফিসার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। উনিশ বছর বয়সে শুরু করা একটি ডেটাভিত্তিক ব্যবসা থেকে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে পৌঁছানোর এই যাত্রায় তাঁর উদ্যোগ, সহপ্রতিষ্ঠাতার ভূমিকা, বিনিয়োগ এবং প্রযুক্তি খাতের বাড়তে থাকা চাহিদা একসঙ্গে কাজ করেছে।   

সামিয়া ইসলাম অক্টোবর ১১, ২০২৬ ১৪:০ 0
নিজের আইকিউ সবচেয়ে বেশি বলে দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
‘আমার আইকিউ সবচেয়ে বেশি, চাচার কাছ থেকেই বুদ্ধিমত্তা পেয়েছি’: ট্রাম্প

নিজের বুদ্ধিমত্তার মান বা আইকিউ ‘সবচেয়ে বেশি’ বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে আলোচনার সময় নিজের চাচা ও এমআইটির সাবেক অধ্যাপক জন ট্রাম্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ দাবি করেন। সাক্ষাৎকারের প্রকাশিত ট্রান্সক্রিপ্টেও তাঁর এই বক্তব্যের উল্লেখ রয়েছে।   সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানকে তিনি বিশ্বাস করেন কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, অল্টম্যানকে তিনি পছন্দ করেন এবং তাঁকে বুদ্ধিমান মনে করেন। এআই নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের উচ্চ আইকিউয়ের অধিকারী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   এরপর নিজের প্রসঙ্গ তুলে ট্রাম্প বলেন, “আমার আইকিউ সবচেয়ে বেশি। একেবারে সর্বোচ্চ।” তবে নিজের আইকিউয়ের কোনো নির্দিষ্ট স্কোর তিনি উল্লেখ করেননি। তাঁর এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে—এমন কোনো তথ্যও সাক্ষাৎকারে দেওয়া হয়নি।   নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ট্রাম্প তাঁর চাচা জন জি. ট্রাম্পের কথা বলেন। তাঁর দাবি, জন ট্রাম্প ৪১ বছর এমআইটিতে ছিলেন এবং প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কারণে তিনি নিজেও এসব বিষয় বুঝতে পারেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি বংশগত বৈশিষ্ট্যে বিশ্বাস করেন এবং এ বিষয়ে তাঁর একটি বিশেষ সক্ষমতা রয়েছে বলে মনে করেন।   জন ট্রাম্প অবশ্য নিজেই ছিলেন একজন স্বীকৃত বিজ্ঞানী। এমআইটির তথ্য অনুযায়ী, জন জি. ট্রাম্প ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যাপক এবং তাঁর নাম ন্যাশনাল মেডেল অব সায়েন্স পাওয়া এমআইটির বিজ্ঞানীদের তালিকায় রয়েছে। ১৯৮৩ সালের পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে তাঁর নামও উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে পরিবারের কোনো সদস্যের মেধা, শিক্ষা বা বৈজ্ঞানিক সাফল্য দিয়ে অন্য একজনের আইকিউ নির্ধারণ করা যায় না। মেডলাইনপ্লাসের তথ্য অনুযায়ী, মানুষের বুদ্ধিমত্তা একটি জটিল বৈশিষ্ট্য, যার ওপর জেনেটিক ও পরিবেশগত—দুই ধরনের প্রভাবই রয়েছে। জিনের পাশাপাশি শিক্ষা, পারিবারিক পরিবেশ, শেখার সুযোগ, স্বাস্থ্য ও পুষ্টিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   এ ছাড়া আইকিউ পরীক্ষাও বুদ্ধিমত্তা পরিমাপের একমাত্র পদ্ধতি নয়। মেডলাইনপ্লাস বলছে, বিভিন্ন আইকিউ পরীক্ষা নির্দিষ্ট কিছু সক্ষমতা পরিমাপ করে এবং এগুলো একজন মানুষের সব ধরনের প্রতিভা বা ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা পুরোপুরি তুলে ধরতে নাও পারে।   ফলে ট্রাম্পের ‘সবচেয়ে বেশি আইকিউ’ থাকার দাবি আপাতত তাঁর নিজের বক্তব্য হিসেবেই থাকছে। কোনো নির্দিষ্ট পরীক্ষার স্কোর বা স্বাধীন বৈজ্ঞানিক যাচাই ছাড়া এই দাবিকে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

অলিনা রহমান অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:০ 0
হ্যাকএমআইটি ২০২৬-এ অংশ নেওয়া দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও তাঁদের প্রকল্পের সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত
এমআইটির হ্যাকাথনে স্পেসএক্সএআই চ্যালেঞ্জ জিতলেন দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) আয়োজিত হ্যাকএমআইটি ২০২৬ হ্যাকাথনের স্পেসএক্সএআই চ্যালেঞ্জে সাফল্য পেয়েছেন ট্রুম্যান স্টেট ইউনিভার্সিটির দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম ও মো. তানভীর ইবনে আলম। তাঁদের তৈরি মহাকাশ নিরাপত্তাবিষয়ক প্রকল্প ‘স্কুটারিস’ স্পেসএক্সএআই চ্যালেঞ্জের পুরস্কারজয়ী প্রকল্পগুলোর একটি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।   হ্যাকএমআইটির প্রকাশ্য প্রকল্প গ্যালারি অনুযায়ী, এবারের আয়োজনে ৩০১টি প্রকল্প জমা পড়ে এবং ৯১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮৮৩ জন হ্যাকার এতে অংশ নেন। স্পেসএক্সএআইয়ের ‘মেক ইট লেজেন্ডারি’ চ্যালেঞ্জে ৫০টি প্রকল্প অংশ নেয়। প্রকাশ্য বিজয়ী তালিকায় ‘স্কুটারিস’-এর নামও রয়েছে।   আশরাফুল ও তানভীরের প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা কৃত্রিম উপগ্রহ ও মহাকাশের আবর্জনা বা স্পেস ডেব্রিসের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘর্ষের ঝুঁকি শনাক্ত করা। প্রকল্পটির মাধ্যমে মহাকাশে সক্রিয় স্যাটেলাইট পরিচালনাকারীদের সম্ভাব্য ঝুঁকি বুঝতে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করার একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।   আশরাফুল ইসলামের বর্ণনা অনুযায়ী, ‘স্কুটারিস’ একটি এআইচালিত কক্ষপথ নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্ম। এতে সেলেসট্র্যাক থেকে সংগৃহীত ৯ হাজারের বেশি বাস্তব কক্ষপথের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যবহারকারী সাধারণ ভাষায় কোনো প্রশ্ন করলে ইলাস্টিকসার্চ সেই তথ্যভান্ডার থেকে সংশ্লিষ্ট ঝুঁকির তথ্য খুঁজে বের করে। এরপর এআই ব্যবস্থার মাধ্যমে ঝুঁকিটি কয়েকটি ধাপে বিশ্লেষণ করা হয় এবং সম্ভাব্য করণীয় তুলে ধরা হয়।   প্রকল্পটিতে তথ্যকে শুধু লিখিত আকারে উপস্থাপন না করে দৃশ্যমান করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ত্রিমাত্রিক পৃথিবীর মডেলে বিভিন্ন স্যাটেলাইটের অবস্থান, তাদের কক্ষপথ, সম্ভাব্য সংঘর্ষের দূরত্ব এবং ঝুঁকির মাত্রা দেখানো যায়। ফলে মহাকাশের জটিল কক্ষপথ-সংক্রান্ত তথ্য তুলনামূলক সহজভাবে বোঝার সুযোগ তৈরি হয়।   তানভীর ইবনে আলম জানান, হ্যাকএমআইটির বিভিন্ন চ্যালেঞ্জে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে নির্দিষ্ট প্রযুক্তি ও তথ্য ব্যবহার করে প্রকল্প তৈরি করতে হয়। পরে বিচারকেরা প্রকল্পের সরাসরি প্রদর্শন বা ডেমো মূল্যায়ন করেন। তাঁদের দল স্পেসএক্সএআইয়ের চ্যালেঞ্জটি বেছে নেয় এবং বাস্তব মহাকাশ-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে একটি কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরির দিকে মনোযোগ দেয়।   হ্যাকএমআইটির এবারের আয়োজনে স্পেসএক্সএআই ছাড়াও ওপেনএআই, মেটা, মাইক্রোসফট, এনভিডিয়া, গুগলসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের চ্যালেঞ্জ ছিল। আয়োজকদের প্রকাশ্য পরিসংখ্যানে দেখা যায়, স্পেসএক্সএআই চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়া প্রকল্পের সংখ্যা ছিল ৫০।   আশরাফুল ইসলাম ট্রুম্যান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স ও ডেটা সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করছেন। তাঁর নিজস্ব পোর্টফোলিওতে তাঁকে এআই গবেষক ও সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। সেখানে কম খরচের মাইক্রোস্কোপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণ নিয়ে তাঁর গবেষণার তথ্যও রয়েছে।   অন্যদিকে তানভীর ইবনে আলম ডেটা সায়েন্স ও জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি নাসার কেপলার ও টিইএসএস মিশন থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে গ্রহণকারী যুগল নক্ষত্র বা ইক্লিপসিং বাইনারি স্টার নিয়ে গবেষণা করছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি দুজনই বিভিন্ন গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রকল্পে সক্রিয়।   আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই সাফল্যকে নিজেদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন দুই শিক্ষার্থী। আশরাফুল বলেন, বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে স্বীকৃতি পাওয়া তাঁদের জন্য আনন্দের। বাস্তব মহাকাশের তথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একসঙ্গে ব্যবহার করে স্যাটেলাইট সংঘর্ষের ঝুঁকি শনাক্ত ও বিশ্লেষণের একটি ব্যবহারিক উদাহরণ দেখানোই ছিল তাঁদের প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।   হ্যাকএমআইটির প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, ‘স্কুটারিস’ পুরস্কারজয়ী প্রকল্পগুলোর তালিকায় রয়েছে। তবে প্রকাশ্য পরিসংখ্যান পাতায় প্রকল্পটির নির্দিষ্ট পুরস্কারের ধরন বা পুরস্কারের বিস্তারিত তথ্য আলাদাভাবে দেখা যাচ্ছে না।   সূত্র: প্রথম আলো, হ্যাকএমআইটি ২০২৬-এর প্রকাশ্য প্রকল্প গ্যালারি

মোহাম্মদ ইব্রাহিম সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬ ১৪:০ 0
২০২৭ সালের সেরা মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে এমআইটি
যুক্তরাষ্ট্রের সেরা কলেজ-ইউনিভার্সিটি কোনগুলো? প্রকাশ হলো ২০২৭ সালের তালিকা

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৭ সালের র‌্যাংকিং প্রকাশ করেছে ইউএস নিউজ অ্যান্ড ওয়ার্ল্ড রিপোর্ট। এবারের তালিকায় বড় পরিবর্তন এসেছে শীর্ষস্থান নিয়ে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রথম অবস্থানে থাকা প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়কে সরিয়ে ১ নম্বরে উঠে এসেছে এমআইটি। প্রিন্সটন এবার দ্বিতীয় এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।   ন্যাশনাল লিবারেল আর্টস কলেজগুলোর মধ্যে আবারও শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে উইলিয়ামস কলেজ। ২০২৭ সালের এই র‌্যাংকিংয়ের ৪২তম সংস্করণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১ হাজার ৭০০ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় মূল্যায়ন করা হয়েছে। শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের সাফল্য বিবেচনায় নিয়ে সর্বোচ্চ ১৭টি সূচকের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।   র‌্যাংকিং তৈরিতে শিক্ষার্থীদের স্নাতক হওয়ার হার, পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার হার, নিম্ন আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং পড়াশোনা শেষে আয়সহ বিভিন্ন বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি একাডেমিক পর্যায়ে সহকর্মীদের মূল্যায়ন এবং শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা ও অন্যান্য সম্পদও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।   ইউএস নিউজ জানিয়েছে, প্রতিটি ক্যাটাগরির শীর্ষ ৯০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের পৃথক অবস্থান প্রকাশ করা হয়েছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অবস্থানের পরিবর্তে র‌্যাংকের একটি পরিসীমা দেওয়া হয়েছে। তবে শুধু র‌্যাংকিং দেখে কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় বেছে না নিয়ে শিক্ষার্থী ও পরিবারগুলোকে অবস্থান, মোট খরচ, আর্থিক সহায়তা, ক্যাম্পাস জীবন এবং পছন্দের একাডেমিক প্রোগ্রামের মতো বিষয়ও বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   কলেজের খরচ ও শিক্ষাঋণের চাপ   যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার খরচের পাশাপাশি শিক্ষাঋণও বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত খেলাপি শিক্ষাঋণগ্রহীতার সংখ্যা ৪২ লাখের বেশি বেড়েছে। মহামারির সময় স্থগিত থাকা ঋণের কিস্তি ২০২৪ সালে আবার চালু হওয়ার পর অনেক ঋণগ্রহীতা আর নিয়মিত পরিশোধ করতে পারেননি।   এদিকে আরও কয়েক লাখ ঋণগ্রহীতা কয়েক মাস ধরে কিস্তি পরিশোধে পিছিয়ে রয়েছেন। সরকারের তুলনামূলক কম খরচের আয়ভিত্তিক ঋণ পরিশোধ ব্যবস্থা ‘সেভ প্ল্যান’ বাতিলের প্রক্রিয়ায় থাকায় অনেকের মাসিক কিস্তিও বাড়তে পারে। ঋণের কিস্তি টানা নয় মাস পরিশোধ না করলে একজন ঋণগ্রহীতা খেলাপি হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন।   খেলাপি শিক্ষাঋণের কারণে ঋণগ্রহীতার ক্রেডিট স্কোর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং ঋণ আদায়ের জন্য তা কালেকশন সংস্থার কাছে পাঠানো হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ফেডারেল সরকার খেলাপি ঋণগ্রহীতার বেতন ও সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্ট থেকেও অর্থ কেটে নিতে পারে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়ার সময় শুধু র‌্যাংকিং নয়, শিক্ষার মোট খরচ ও ভবিষ্যতের ঋণের বোঝাও বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

অলিনা রহমান সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ১৪:০ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডে বড় পরিবর্তন, পরিবারভিত্তিক ভিসা আবেদনকারীদের জন্য সুখবর

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।   নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে।   এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে।   ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে।   অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর।   যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক।   হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।   গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।

Top week

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক রাইয়ান আবদুল বাতেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা

প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তার বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

নভেম্বর ২, ২০২৬ ১৩:০