যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটে ছয় অঙ্কের বেতনের চাকরি ছেড়ে নিজের পছন্দের পেশা হিসেবে শিক্ষকতাকে বেছে নিয়েছিলেন স্টিভ মেনকিং। এক দশক পর সেই সিদ্ধান্তই তাঁর জীবন বদলে দিয়েছে। বর্তমানে বাড়ি থেকেই ব্যক্তিগতভাবে পড়িয়ে তিনি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ এক হাজার মার্কিন ডলার পারিশ্রমিক নিচ্ছেন এবং বছরে পাঁচ লাখ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। সিএনবিসি মেক ইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই যাত্রার গল্প তুলে ধরেছেন তিনি। বর্তমানে ৩৬ বছর বয়সী স্টিভ মেনকিং কর্মজীবনের শুরুতে নিউইয়র্কভিত্তিক এসএমবি ক্যাপিটালে ইকুইটি ট্রেডার হিসেবে কাজ করতেন। উচ্চ বেতন থাকলেও দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং তীব্র মানসিক চাপ তাঁকে ধীরে ধীরে ক্লান্ত করে তোলে। ২৫ বছর বয়সের কিছুদিন পর তিনি উপলব্ধি করেন, এই জীবনধারা তাঁর জন্য নয়। এরপরই তিনি চাকরি ছেড়ে শিক্ষকতায় পূর্ণসময়ের ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্ত নেন। মেনকিং জানান, ওয়াল স্ট্রিটে যোগ দেওয়ার আগে তিনি শিক্ষক সহকারী ও ব্যক্তিগত টিউটর হিসেবে কাজ করেছিলেন। সেই সময় শিক্ষার্থীদের সহায়তা করার মধ্যেই তিনি প্রকৃত তৃপ্তি খুঁজে পেয়েছিলেন। পরে সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে আবার শিক্ষা পেশায় ফিরিয়ে আনে। চাকরি ছাড়ার পর শুরুটা সহজ ছিল না। স্বাধীনভাবে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন টিউটরিং প্রতিষ্ঠানে নিজের জীবনবৃত্তান্ত পাঠাতে হয়েছে। ধীরে ধীরে শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং পেশাজীবীদের মধ্যে তাঁর সুনাম তৈরি হয়। বর্তমানে তিনি শিক্ষার্থী, বিনিয়োগ ব্যাংকিংয়ে আগ্রহী তরুণ এবং আর্থিক খাতের পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। মেনকিং সপ্তাহে প্রায় ২০ থেকে ২৫ ঘণ্টা কাজ করেন। ব্যক্তিগত টিউটরিংয়ের পাশাপাশি অনলাইন কোর্স তৈরি, প্রশিক্ষণ পরিচালনা এবং আর্থিক পরামর্শ দিয়েও আয় করেন। তাঁর ভাষায়, আগের চাকরির তুলনায় এখন কাজের চাপ অনেক কম, তবে পেশাগত সন্তুষ্টি অনেক বেশি। শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে নিতে আগ্রহীদের জন্য তিনি তিনটি পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথমত, নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে এমনভাবে কাজে লাগাতে হবে, যা অন্যদের জন্য বাস্তব মূল্য তৈরি করে। দ্বিতীয়ত, শুরুতেই বড় আয়ের আশা না করে ধীরে ধীরে সুনাম ও দক্ষতা গড়ে তুলতে হবে। তৃতীয়ত, একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে উচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। স্টিভ মেনকিংয়ের এই গল্প দেখায়, শুধু উচ্চ বেতনের চাকরিই সফলতার একমাত্র পথ নয়। নিজের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং আগ্রহকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে ভিন্ন পেশাতেও আর্থিক সাফল্য এবং ব্যক্তিগত তৃপ্তি, দুটিই অর্জন করা সম্ভব।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান ম্যামদানি নিজেকে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে আবারও দৃঢ়ভাবে তুলে ধরে বলেছেন, তিনি যে আদর্শ নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন, সেই নীতিতেই নগর পরিচালনা করবেন। একই সঙ্গে তিনি ওয়াল স্ট্রিট ও বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নেতাদের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ম্যামদানি জানান, তিনি গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের আদর্শ থেকে সরে আসছেন না। তার ভাষায়, নির্বাচনের সময় ভোটারদের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, মেয়র হিসেবেও তিনি সেই নীতির ভিত্তিতেই কাজ করবেন। ম্যামদানি বলেন, নিউইয়র্কের অর্থনীতিতে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও ওয়াল স্ট্রিটের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই মতপার্থক্য থাকলেও শহরের উন্নয়নের স্বার্থে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে কাজ করতে তিনি প্রস্তুত। তার মতে, রাজনৈতিক মতাদর্শের পার্থক্য সহযোগিতার পথে বাধা হওয়া উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, তার প্রশাসনের মূল লক্ষ্য কর্মজীবী মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, আবাসন সংকট মোকাবিলা এবং নগরসেবা আরও সহজলভ্য করা। এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে সব পক্ষের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি। ম্যামদানির অর্থনৈতিক নীতির মধ্যে ধনীদের ওপর কর বৃদ্ধি, সাশ্রয়ী আবাসন সম্প্রসারণ, শিশু পরিচর্যা কর্মসূচি এবং জনসেবায় সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রস্তাব নিয়ে আগে থেকেই ওয়াল স্ট্রিটের একটি অংশ উদ্বেগ প্রকাশ করলেও মেয়র জানিয়েছেন, তিনি ব্যবসায়িক নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে চান। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ম্যামদানি নিউইয়র্কের কয়েকজন শীর্ষ ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে তিনি শহরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগের পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি নিজের নীতিগত অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন। ম্যামদানি বলেন, তার কাছে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের অর্থ হলো কর্মজীবী মানুষের জন্য কার্যকর ফল নিশ্চিত করা। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক বিতর্কের চেয়ে মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান করাই তার প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বিলাসবহুল উপকূলীয় এলাকা হাম্পটনস-এ বাড়ির দাম আবারও নতুন রেকর্ড গড়েছে। সীমিত সংখ্যক বাড়ি বিক্রির জন্য বাজারে থাকা, ধনীদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ওয়াল স্ট্রিটের উচ্চ বোনাসের প্রভাবে অঞ্চলটিতে আবাসন বাজারের মূল্য আরও বেড়েছে। সম্প্রতি নিউইয়র্কভিত্তিক আবাসন মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান জনাথন মিলার অ্যাপ্রেইজাল প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, হাম্পটনসে একটি বাড়ির গড় বিক্রয়মূল্য এখন প্রায় ৪৫ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেশি। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো গড় মূল্য ৪০ লাখ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজারের উচ্চমূল্যের আবাসন খাতে ক্রেতাদের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে বিলাসবহুল বাড়ির সরবরাহ সীমিত থাকায় দাম আরও দ্রুত বাড়ছে। প্রতিবেদনটির প্রস্তুতকারী জনাথন মিলার বলেন, বাজারে কিছু নতুন বাড়ি বিক্রির জন্য এলেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় সরবরাহ এখনও অনেক কম। ফলে ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তীব্র রয়েছে এবং অর্ধেকেরও বেশি বাড়ি বিক্রি হচ্ছে বিক্রেতার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও বেশি দামে। তার ভাষায়, "বর্তমান পরিস্থিতিতে দাম বাড়ার ধারা থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।" হাম্পটনসকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল আবাসিক এলাকা হিসেবে ধরা হয়। এই এলাকায় এখন ১৫ লাখ ডলারের কম দামে কার্যত কোনো বাড়িই পাওয়া যাচ্ছে না। সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন অবস্থান, বিলাসবহুল জীবনযাপন এবং নিউইয়র্ক শহরের নিকটবর্তী হওয়ায় বহু বছর ধরেই ধনী ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও হলিউড তারকাদের পছন্দের ঠিকানা এটি। পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, চলতি প্রান্তিকে হাম্পটনসের মধ্যম বাড়ির মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ লাখ ডলারে, যা গত বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি। গত পাঁচ প্রান্তিকের মধ্যে এটি তৃতীয়বারের মতো নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে হাম্পটনসের বাইরে লং আইল্যান্ডের বাকি অংশেও বাড়ির দাম বাড়ছে, যদিও সেই বৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে ধীর। সেখানে মধ্যম বাড়ির মূল্য গত বছরের ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার থেকে বেড়ে ৭ লাখ ৬১ হাজার ডলারের বেশি হয়েছে, অর্থাৎ প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে গড় বিক্রয়মূল্যও ৭ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৯ লাখ ২২ হাজার ডলারে পৌঁছেছে, যা নতুন রেকর্ড। বিশ্লেষকদের মতে, হাম্পটনসের বিলাসবহুল আবাসন বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হচ্ছে ওয়াল স্ট্রিটের রেকর্ড পরিমাণ বোনাস। নিউইয়র্ক স্টেট কম্পট্রোলার থমাস ডিনাপোলির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ওয়াল স্ট্রিট প্রতিষ্ঠানের মুনাফা ৩০ শতাংশের বেশি বেড়ে ৬৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে কর্মীদের গড় বার্ষিক বোনাস বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৯ শতাংশ বেশি। ফলে উচ্চ আয়ের ক্রেতারা এখন প্রচলিত গৃহঋণের ওপর নির্ভর না করে শেয়ারবাজারে অর্জিত সম্পদ এবং বোনাসের অর্থ ব্যবহার করে বাড়ি কিনছেন। এতে বিলাসবহুল আবাসনের বাজার আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হাম্পটনসে গত প্রান্তিকে ৫০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের বাড়ি বিক্রির হার ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে লং আইল্যান্ডজুড়ে বিক্রি হওয়া প্রতি দুইটির মধ্যে একটিরও বেশি বাড়ি বিক্রেতার চাওয়া মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে, যা বাজারে শক্তিশালী চাহিদারই প্রতিফলন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যতদিন উচ্চ আয়ের ক্রেতাদের চাহিদা অব্যাহত থাকবে এবং নতুন আবাসনের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়বে, ততদিন হাম্পটনসের আবাসন বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, জনাথন মিলার অ্যাপ্রেইজাল রিপোর্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।