যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে এবং বিদেশি সস্তা শ্রমের ওপর নির্ভরতা কমাতে এইচ-১বি (H-1B) ভিসা কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের একটি গ্রুপ এই ভিসা কার্যক্রম তিন বছরের জন্য সম্পূর্ণ স্থগিত রাখার লক্ষ্যে একটি বিল উত্থাপন করেছে। 'এন্ড এইচ-১বি ভিসা অ্যাবিউজ অ্যাক্ট ২০২৬' (End H-1B Visa Abuse Act of 2026) শীর্ষক এই বিলটি উত্থাপন করেন অ্যারিজোনার রিপাবলিকান প্রতিনিধি এলি ক্রেন। তার সাথে আরও সাতজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা এই বিলে সমর্থন জানিয়েছেন। বিলের মূল প্রস্তাবনাসমূহ: ১. ভিসা স্থগিত: আগামী তিন বছরের জন্য নতুন কোনো এইচ-১বি ভিসা ইস্যু করা হবে না। ২. কোটা হ্রাস: বার্ষিক ভিসার সংখ্যা ৬৫ হাজার থেকে কমিয়ে মাত্র ২৫ হাজারে নামিয়ে আনা। ৩. ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধি: এইচ-১বি ভিসা পেতে হলে কর্মীর ন্যূনতম বার্ষিক বেতন হতে হবে ২ লাখ মার্কিন ডলার। ৪. নির্ভরশীলদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা: ভিসা ধারীরা তাদের পরিবারের সদস্যদের (H-4 ভিসা) যুক্তরাষ্ট্রে নিতে পারবেন না। ৫. লটারি প্রথার বিলুপ্তি: বর্তমান লটারি পদ্ধতির পরিবর্তে সর্বোচ্চ বেতনভোগী কর্মীদের অগ্রাধিকার দিয়ে ভিসা প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে। ৬. স্থায়ী বসবাসের সুযোগ বন্ধ: এইচ-১বি ভিসা থাকা অবস্থায় গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনের সুযোগ বন্ধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিলের উদ্যোক্তা এলি ক্রেন বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র সরকারের উচিত বড় কর্পোরেশনগুলোর মুনাফার দিকে না তাকিয়ে সাধারণ নাগরিকদের কর্মসংস্থানের দিকে নজর দেওয়া। এই বিলটি মার্কিন নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করবে।" বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিলটি পাশ হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ভারত ও বাংলাদেশের আইটি পেশাদাররা। বর্তমানে বিপুল সংখ্যক দক্ষ কর্মী এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিসহ বিভিন্ন বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। তবে বিলটি বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এটি আইনে পরিণত হতে কংগ্রেস ও সিনেটের দীর্ঘ প্রক্রিয়া পার করতে হবে। প্রযুক্তি খাতের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই কঠোর নিয়ম কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো মেধাবী কর্মী সংকটে পড়তে পারে।
এক গুরুতর যৌন কেলেঙ্কারি ও অসদাচরণের অভিযোগে পদত্যাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাটিক রিপ্রেজেন্টেটিভ এরিক সোয়ালওয়েল। সোমবার তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান, যা মার্কিন রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। সাত মেয়াদে নির্বাচিত এই প্রভাবশালী আইনপ্রণেতার বিরুদ্ধে চারজন নারী যৌন হেনস্তার অভিযোগ এনেছেন। সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকল ও সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, সোয়ালওয়েলের বিরুদ্ধে অন্তত এক নারীকে দুবার যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে, যিনি একসময় তার অধীনে কাজ করতেন। এছাড়া অন্য নারীরা তার বিরুদ্ধে অশালীন বার্তা ও নগ্ন ছবি পাঠানোর অভিযোগ করেছেন। প্রাথমিকভাবে অভিযোগগুলো অস্বীকার করলেও সোয়ালওয়েল সামাজিক মাধ্যমে এক বিবৃতিতে বলেন, "আমি আমার পরিবার, কর্মী এবং নির্বাচকদের কাছে অতীতের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের জন্য ক্ষমা চাচ্ছি। যদিও আমার বিরুদ্ধে আনা গুরুতর মিথ্যা অভিযোগগুলোর বিরুদ্ধে আমি লড়াই চালিয়ে যাব, তবুও আমি আমার ভুলের দায়ভার গ্রহণ করছি।" হাউস এথিক্স কমিটি ইতিমধ্যেই তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে, হাউস থেকে তাকে বহিষ্কারের জন্য দ্বিপক্ষীয় চাপ বাড়তে থাকায় তিনি এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জানান, নির্বাচকরা যাতে তার ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেজন্যই তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন। উল্লেখ্য, এই বিতর্কের জেরে মাত্র একদিন আগেই তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর হওয়ার দৌড় থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার পদত্যাগের ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম ডিস্ট্রিক্টে একটি বিশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে টেক্সাসের রিপাবলিকান রিপ্রেজেন্টেটিভ টনি গঞ্জালেসও (Tony Gonzales) যৌন কেলেঙ্কারির জেরে কংগ্রেস থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। দলের ভেতরে রক্ষণশীল এবং মধ্যপন্থী সদস্যদের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বের জেরে কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে কংগ্রেসের স্বাভাবিক কার্যক্রম। শুক্রবার পলিটিকো’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অচলাবস্থা কাটানোর কোনো লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না, যা মার্কিন আইনসভার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাজেট বরাদ্দ, বৈদেশিক সহায়তা এবং অভিবাসন নীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রিপাবলিকানরা নিজেদের মধ্যে একমত হতে পারছে না। বিশেষ করে কট্টর ডানপন্থী অংশটি স্পিকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ায় হাউজ ফ্লোরে কোনো বিল পাস করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক আইনপ্রণেতা একে ‘ফ্রিজিং পয়েন্ট’ বা হিমাঙ্ক অবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যেখানে কোনো আইনই সামনে এগোচ্ছে না। বিশ্লেষকরা বলছেন, রিপাবলিকান পার্টির একটি অংশ বর্তমান নেতৃত্বের ওপর থেকে আস্থা হারিয়েছে। তারা মনে করছেন, ডেমোক্র্যাটদের সাথে সমঝোতা করে দলের মূল আদর্শের বিচ্যুতি ঘটানো হচ্ছে। অন্যদিকে, মধ্যপন্থীরা বলছেন, কট্টরপন্থীদের জেদ আর একগুঁয়েমির কারণে সাধারণ মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা ও উন্নয়নমূলক কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কংগ্রেসের এই স্থবিরতার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে। সরকারি তহবিল পাসের প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হওয়ায় আবারও ‘শাটডাউন’-এর আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এছাড়া ইউক্রেন বা ইসরায়েলের মতো মিত্র দেশগুলোকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও ঝুলে আছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। স্পিকারের জন্য এই পরিস্থিতি সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজ দলের বিদ্রোহ দমনে ব্যর্থ হলে তার পদটিও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক রুদ্ধদ্বার বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান আসেনি। কংগ্রেসের এই অস্থিরতা কবে নাগাদ কাটবে তা নিয়ে খোদ রিপাবলিকান নেতারাই সন্দিহান। সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার দ্রুত অবসান চান, যাতে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সিদ্ধান্ত নিতে আর কোনো দেরি না হয়।
ইরানে সীমিত স্থল অভিযান পরিচালনার পেন্টাগনের পরিকল্পনা প্রকাশ হতেই মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে হাজারো মার্কিন সেনা মোতায়েনের মধ্যে এই পরিকল্পনার তথ্য প্রকাশ্যে আসায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, সম্ভাব্য অভিযান পূর্ণমাত্রার হবে না। এতে বিশেষ বাহিনী ও পদাতিক সৈন্যদের সমন্বয় থাকবে, তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কখন অনুমোদন দেবেন তা এখনও নিশ্চিত নয়। রিপাবলিকান সিনেটর জেমস ল্যাঙ্কফোর্ড বলেছেন, “সেনাদের উদ্দেশ্য এবং কার্যক্রম আমাদের স্পষ্টভাবে জানা প্রয়োজন। যদি এটি শুধু সীমিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য হয়, তা দীর্ঘস্থায়ী দখলের চেয়ে ভিন্ন।” তিনি আরও যোগ করেছেন, অসমাপ্ত যুদ্ধের ঝুঁকি সবচেয়ে বড় সমস্যা। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, পেন্টাগনের কাজ হলো সর্বোচ্চ বিকল্পের জন্য প্রস্তুত থাকা। এর মানে এই নয় যে প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যেই কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রোববার মধ্যপ্রাচ্যে ৩ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা পৌঁছেছে, যার মধ্যে মেরিন বাহিনীও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী ইউএসএস ত্রিপোলি নেতৃত্বে এই ইউনিটের সাথে আক্রমণ ও পরিবহন সরঞ্জামও মোতায়েন করা হয়েছে। সেনা সমাবেশের কারণে হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সুরক্ষার পাশাপাশি ইরানের তেল ও ইউরেনিয়াম স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের নেতা স্টিভ স্ক্যালিস বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে বিপদ তৈরি করছে। এই পরিস্থিতির মোকাবিলা শুধু ইসরায়েল নয়, প্রতিবেশী আরব দেশগুলোকেও একত্রিত করেছে। ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা এই পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক। নিউ জার্সির সিনেটর কোরি বুকার বলেছেন, কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া প্রেসিডেন্ট এমন সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন, যেখানে বের হওয়ার দৃশ্যমান পথ নেই। এটি আফগানিস্তানের পর সবচেয়ে বড় সামরিক সম্পৃক্ততা। মেরিল্যান্ডের সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন আশা প্রকাশ করেছেন, পেন্টাগনের অতিরিক্ত বরাদ্দ কংগ্রেসে অনুমোদিত হবে না। তিনি বলেন, এ যুদ্ধ মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা নয়, বরং বিপদ বাড়াচ্ছে। প্রতিদিন কোটি কোটি ডলার ব্যয় হচ্ছে এবং জ্বালানি খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক পরিণতির খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ জামিল লিমনের (২৭) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও, পুলিশ ধারণা করছে নাহিদা বৃষ্টিকেও (২৭) নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ঘাতক ও লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়ার ফ্ল্যাটে ‘প্রচুর রক্ত’ পাওয়ার পর পুলিশ জানিয়েছে, বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভবত আর কখনোই সম্ভব হবে না। নিহত বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘১০ টাম্পা বে নিউজ’-কে জানান, শুক্রবার গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা বাংলাদেশে তাদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, লিমন ও হিশামের শেয়ার করা ফ্ল্যাটে যে পরিমাণ রক্ত পাওয়া গেছে, তা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে বৃষ্টি আর বেঁচে নেই। পুলিশের আশঙ্কা, হত্যার পর মরদেহটি সম্ভবত ছিন্নবিচ্ছিন্ন বা টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়েছে, যার ফলে এটি খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। গত শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের পাশ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সকাল ৯টার দিকে ইউএসএফ ক্যাম্পাসের কাছে লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়ার বাড়িতে অভিযান চালায় হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। পুলিশ হিশামের বাড়িতে পৌঁছালে তিনি নিজেকে ঘরের ভেতর তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট ‘সোয়াট’ (SWAT) তলব করা হয়। প্রায় ২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির পর হিশাম আত্মসমর্পণ করেন। তার বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা এবং অবৈধভাবে মরদেহ সরানোর মতো ছয়টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিশাম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি লিমনের রুমমেট হিসেবে একই ফ্ল্যাটে থাকতেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি গবেষণারত নাহিদা বৃষ্টি গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। লিমনের সাথে তার আগে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বর্তমানে ছিল না বলে জানিয়েছেন বৃষ্টির পরিবার। তদন্তকারীরা লিমনের মৃত্যু নিশ্চিত করলেও বৃষ্টির নিখোঁজ রহস্য ও তাকে হত্যার নৃশংসতা এখন পুরো ফ্লোরিডা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া ফেলেছে।