- প্রচ্ছদ
- Topic
কানসাস
শৈশবের ক্ষুধার কষ্ট হয়তো ভুলে যাননি তারা। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার স্কুলশিক্ষার্থীদের খাবারের বকেয়া পরিশোধে এগিয়ে এলেন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসের প্রায় ৩০ জন বন্দি। নিজেদের সীমিত অর্থ থেকে তারা সংগ্রহ করেছেন ৩ হাজার ৮১০ ডলার। কানসাসের নর্টন কারেকশনাল ফ্যাসিলিটির বন্দিদের এই উদ্যোগের সঙ্গে পরে যুক্ত হন কানসাস ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশন্সের কর্মীরাও। তারা আরও ৪৫৭ ডলার যোগ করায় মোট অনুদানের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬৭ ডলার। এই অর্থ দেওয়া হয়েছে নর্টন কমিউনিটি স্কুলস, ইউএসডি ২১১-এর শিক্ষার্থীদের খাবারের বকেয়া পরিশোধে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শেষে স্কুল ডিস্ট্রিক্টটির শিক্ষার্থীদের খাবারের হিসাবে প্রায় ৬ হাজার ডলার বকেয়া ছিল। আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারের সন্তানদের স্কুলে সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবার দেওয়া হলেও অনেক পরিবারের পক্ষে সেই খরচ পুরোপুরি পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি জানতে পারেন নর্টন কারেকশনাল ফ্যাসিলিটির ‘রিচিং আউট ফ্রম উইদিন’ বা আরওএফডব্লিউ কর্মসূচির সদস্যরা। এরপর নিজেদের মধ্যে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেন তারা। বন্দিদের নিজেদের অর্থ থেকেই আসে ৩ হাজার ৮১০ ডলার। পরে কারেকশনস বিভাগের কর্মীদের দেওয়া অর্থ যোগ হয়ে মোট অনুদান দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬৭ ডলারে। অর্থাৎ স্কুলের মোট বকেয়ার প্রায় ৭১ শতাংশই এই অনুদানের মাধ্যমে পরিশোধে সহায়তা করা সম্ভব হবে। গত ৩ আগস্ট নর্টন কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রায় ৩০ জন বন্দি স্কুলটির সুপারিনটেনডেন্ট কোরি রয়-এর হাতে অনুদানের অর্থ তুলে দেন। কোরি রয় জানান, বন্দিদের সঙ্গে কথা বলে স্থানীয় শিশুদের জন্য ইতিবাচক কিছু করার তাদের আগ্রহে তিনি অভিভূত হয়েছেন। অন্যদের জন্য কিছু করার সুযোগ তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়েও ইতিবাচকভাবে ভাবতে সাহায্য করেছে বলেও জানান তিনি। এই উদ্যোগের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক দিক হলো, সাহায্যের অর্থ এসেছে এমন মানুষদের কাছ থেকে যাদের নিজেদের আর্থিক সামর্থ্যও সীমিত। তারপরও স্থানীয় শিশুদের খাবারের বকেয়া মেটাতে নিজেদের হাতে থাকা অর্থের একটি অংশ তারা তুলে দিয়েছেন। নর্টনের এই ঘটনা শুধু স্কুলশিক্ষার্থীদের খাবারের খরচ নিয়ে পরিবারের আর্থিক সংকটের বিষয়টিই সামনে আনেনি, বরং কারাগারের পুনর্বাসনমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে বন্দিরাও কীভাবে সমাজের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন, তারও একটি অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করে মার্কিন নাগরিকত্ব নেওয়ার অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের (ডিন্যাচারালাইজেশন) মামলা করেছে মার্কিন সরকার। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবর্তন করে গ্রিন কার্ড ও পরে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস জেলার অ্যাটর্নি কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কানসাস অঙ্গরাজ্যের ওলেথ শহরের বাসিন্দা হরিন্দর সিং, যিনি হরিন্দর সিং সাংহেরা ও রুশপাল সিং নামেও পরিচিত, তার বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে। তদন্তে সহায়তা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস)। মার্কিন সরকারের অভিযোগ অনুযায়ী, হরিন্দর সিং বেআইনিভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন। তাই আদালতের কাছে তার নাগরিকত্ব বাতিল এবং নাগরিকত্বের সনদ (সার্টিফিকেট অব ন্যাচারালাইজেশন) বাতিলের আবেদন করা হয়েছে। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ১৯৯১ সালে নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথমবার অভিবাসন কর্মকর্তাদের নজরে আসেন তিনি। সে সময় তিনি নিজের নাম রুশপাল সিং বলে পরিচয় দেন। পরে ১৯৯৫ সালের আগস্টে একজন অভিবাসন বিচারক তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের (ডিপোর্টেশন) নির্দেশ দেন। তবে সরকারি নথিতে এমন কোনো তথ্য নেই, যা থেকে বোঝা যায় তিনি কখনো যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছিলেন। এর এক বছর পর, ১৯৯৬ সালের জুনে তিনি 'হরিন্দর সিং' নামে নতুন পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি আবেদন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই আবেদনে তিনি শুধু নামই পরিবর্তন করেননি, নিজের জন্মতারিখ, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের তারিখ এবং আবেদন করার ভিত্তিও পরিবর্তন করেছিলেন। সেই আবেদন অনুমোদনের পর ২০০০ সালের অক্টোবরে তিনি একই পরিচয়ে গ্রিন কার্ড পান। এরপর প্রায় আট বছর পর 'হরিন্দর সিং' পরিচয়েই তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেন। তদন্তকারীদের দাবি, নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সময় তিনি আগের পরিচয়, বহিষ্কারের আদেশ এবং পূর্বের অভিবাসন-সংক্রান্ত ইতিহাসের কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি। মার্কিন অভিবাসন ও নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, যদি কেউ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে বা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নাগরিকত্ব অর্জন করেন, তাহলে আদালতের মাধ্যমে সেই নাগরিকত্ব বাতিল করা যেতে পারে। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, তারা অভিবাসন-সংক্রান্ত জালিয়াতি ও প্রতারণার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে। সংস্থাটি জনগণকে এ ধরনের প্রতারণার তথ্য থাকলে নির্ধারিত অভিযোগপত্রের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে। মামলাটি বর্তমানে কানসাসের ফেডারেল আদালতে বিচারাধীন। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে গণ্য করা হবে না। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ইউএস অ্যাটর্নি'স অফিস, ডিস্ট্রিক্ট অব কানসাস) ও ইউএসসিআইএস
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যে মর্মান্তিক এক পারিবারিক হত্যাকাণ্ডে চার শিশু ও তাদের মায়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তদন্তকারীদের ধারণা, পরিবারের সদস্যদের গুলি করে হত্যার পর বাবা নিজেও আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কানসাস ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (কেবিআই) এবং উইনফিল্ড পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে ৫৩ বছর বয়সী রোনাল্ড উইলিয়ামস সিনিয়র নিজেই পুলিশে ফোন করেন। তিনি জানান, পরিবারের সবাইকে হত্যা করেছেন এবং এরপর নিজের জীবনও শেষ করতে যাচ্ছেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও বাড়ির ভেতর থেকে একটি গুলির শব্দ শোনা যায়। পরিস্থিতির ঝুঁকি বিবেচনায় কর্মকর্তারা সাময়িকভাবে সরে গিয়ে বাড়িটি ঘিরে ফেলেন এবং বিশেষায়িত সোয়াট (SWAT) দলের সহায়তা চান। সকাল প্রায় ১১টার দিকে সোয়াট সদস্যরা বাড়িতে প্রবেশ করে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৪৪ বছর বয়সী কেলি জর্জ এবং তার চার সন্তান। তাদের পরিচয় হলো ৯ বছর বয়সী ক্যারল উইলিয়ামস, ৭ বছর বয়সী রোনাল্ড উইলিয়ামস জুনিয়র, ৫ বছর বয়সী সারাহ উইলিয়ামস এবং ৩ বছর বয়সী কেলি ম্যাগি-উইলিয়ামস। এছাড়া রোনাল্ড উইলিয়ামস সিনিয়রের মরদেহও উদ্ধার করা হয়। উইনফিল্ড পুলিশের প্রধান রবি ডিলং সংবাদ সম্মেলনে বলেন, গত কয়েক সপ্তাহে রোনাল্ড উইলিয়ামসের অস্বাভাবিক ও আক্রমণাত্মক আচরণ সম্পর্কে একাধিক অভিযোগ পেয়েছিল পুলিশ। বিভিন্ন স্থানে মানুষকে ধমক দেওয়া বা চিৎকার করার মতো ঘটনার তথ্যও তাদের কাছে ছিল। তিনি আরও জানান, এর আগে ওই এলাকার আশপাশে গুলির শব্দ শোনার অভিযোগে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও গুলির উৎস শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে ডিলং বলেন, আগের অভিযোগগুলো এমন পর্যায়ের ছিল না, যাতে এত বড় একটি ট্র্যাজেডির আশঙ্কা করা যায়। তার ভাষায়, "২০ বছরের বেশি সময়ের চাকরি জীবনে এর কাছাকাছিও কোনো ঘটনার মুখোমুখি হইনি।" কানসাস ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন জানিয়েছে, কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা প্রতিবেশী, স্বজন ও পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলছেন এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রোনাল্ড উইলিয়ামস সিনিয়র পূর্বে যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। কানসাসের আদালতের নথিতে দেখা যায়, ১৯৯৯ সালে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে কেন্দ্র করে শিশু নির্যাতনের চেষ্টাসহ একাধিক অপরাধে তিনি দোষ স্বীকার করেছিলেন। এ কারণে তার নাম রাজ্যের যৌন অপরাধীর নিবন্ধন তালিকাতেও ছিল। এই ঘটনা ঘটল মাত্র দুই সপ্তাহ আগে মিশিগানে আরেকটি ভয়াবহ পারিবারিক হত্যাকাণ্ডের পর। সে ঘটনায় এক ব্যক্তি তার স্ত্রী ও ছয় সন্তানকে গুলি করে হত্যা করার পর আগুন লাগিয়ে দেন বলে তদন্তে উঠে আসে। গান ভায়োলেন্স আর্কাইভের তথ্য অনুযায়ী, কানসাসের এই ঘটনাসহ চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ১৫টি গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে অন্তত ৯টি ঘটনায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হয়েছেন। অপরাধবিশেষজ্ঞরা এ ধরনের ঘটনাকে 'ফ্যামিলি অ্যানাইহিলেশন' বা পুরো পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করে থাকেন। তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণের পর ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, কানসাস ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন
পরিবারের সবাইকে নিয়ে লেকের ধারে গ্রীষ্মকালীন তাঁবু খাটিয়ে ঘুরতে যাওয়ার আনন্দে হঠাৎ নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ও চার সন্তানের জননী ব্রিটেনি মিলার এখন নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। পরিবার নিয়ে ঘুরতে গিয়ে অন্তত ১৫টি বিষাক্ত মাকড়সার কামড়ে আক্রান্ত হওয়ার পর তার শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং পরিবারের তৈরি করা একটি অনুদান সংগ্রহের পাতায় প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, গত মে মাসের শেষের দিকে কানসাসের উইচিতা শহর থেকে ৩৫ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত চিনি স্টেট পার্কে ক্যাম্পিংয়ে যায় মিলার পরিবার। রাতের বেলা ক্যাম্পফায়ারের পাশে বসে থাকার সময় হঠাৎ ব্রিটেনি টের পান তার কাপড়ের ভেতর ও পায়ে একাধিক মাকড়সা উঠে এসেছে। মাকড়সার ভয়ে আতকে ওঠার আগেই অন্তত ১৫টি মাকড়সা তার পায়ের দুই পাশে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে দংশন করে। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর থেকে ব্রিটেনির ডান পায়ে প্রচণ্ড যন্ত্রণা শুরু হয়। সেই ব্যথাকে তিনি তীব্র ছুরিকাঘাতের অনুভূতির সঙ্গে তুলনা করেন। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে ৪ জুন তাকে উইচিতার ওয়েসলি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে দেখেন, মাকড়সার কামড়ের স্থানে বিষক্রিয়া থেকে তার পায়ের মাংসপেশিতে বিশালাকার রক্ত জমাট বেঁধে রক্তপিণ্ড তৈরি হয়েছে। জমাট বাঁধা রক্ত অপসারণ ও সংক্রমিত স্থান পরিষ্কার করতে জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে। তবে অস্ত্রোপচারটি চিকিৎসকদের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। ব্রিটেনি দীর্ঘদিন ধরে যকৃৎ বা লিভারের জটিল রোগে ভুগছিলেন, যা শেষ ধাপে পৌঁছে গিয়েছিল। একই সঙ্গে তার রক্ত জমাট বাঁধা সংক্রান্ত দুটি বিরল শারীরিক জটিলতাও ছিল। ফলে অস্ত্রোপচার করতে গেলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার প্রাণহানির চরম ঝুঁকি তৈরি হয়। চিকিৎসকেরা দুই সপ্তাহের মাথায় আশা ছেড়ে দিয়ে জানিয়েছিলেন যে, তার হাতে হয়তো আর মাত্র কয়েক দিন থেকে সর্বোচ্চ এক মাসের আয়ু বাকি রয়েছে। চিকিৎসকদের এই পূর্বাভাস সত্ত্বেও ৯ থেকে ১৫ বছর বয়সী চার সন্তান ও স্বামীর মুখে চেয়ে লড়াই থামাননি ব্রিটেনি। তিনি চিকিৎসকদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে পরিবারের জন্য তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বেঁচে থাকার চেষ্টা করবেন। টানা ১০ দিন মেডিকেল আইসিইউ এবং পরবর্তীতে কার্ডিও আইসিইউতে রেখে তাকে রক্ত, প্লাজমা, অণুচক্রিকা ও উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। কঠিন চিকিৎসাপদ্ধতি অতিক্রম করে শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল মনে হলেও নতুন করে এক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। তার অস্ত্রোপচারের স্থানে ব্যাকটেরিয়াজনিত চরম সংক্রমণ দেখা দেয়, যার ফলে সেখানের টিস্যু বা তন্তুর মৃত্যু ঘটতে শুরু করে। পচে যাওয়া চামড়া ও মাংস ফেলে দিতে শয্যাশায়ী অবস্থাতেই তার শরীরে আরও দুটি অস্ত্রোপচার চালাতে হয়। বর্তমানে ব্রিটেনির বেঁচে থাকার জন্য জরুরিভিত্তিতে যকৃৎ প্রতিস্থাপন প্রয়োজন, তবে সেই বড় অস্ত্রোপচারের জন্য তার শরীর উপযোগী হতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মানবিক সংকটে পরিবারটিতে আর্থিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। অসুস্থ স্ত্রীর পাশে সারাক্ষণ হাসপাতালে অবস্থান করার কারণে চাকরি হারিয়েছেন তার স্বামী জেইক মিলার। উপার্জন ও স্বাস্থ্যবিমা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে চার সন্তানকে নিয়ে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পরবর্তীতে চিকিৎসার খরচ জোগাতে জেইক মিলার সাধারণ মানুষের কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। চিকিৎসকদের ধারণামতে, তাকে কামড়ানো মাকড়সাগুলো কানসাস অঞ্চলে পাওয়া যাওয়া অত্যন্ত বিষাক্ত 'ব্রাউন রিক্লুস' প্রজাতির হতে পারে। আকারে অত্যন্ত ছোট এই মাকড়সার বিষ মানবদেহে প্রবেশ করলে চামড়ায় পচন এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে রক্ত জমাট বাঁধার মতো মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যে মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও বাবাকে হারিয়েছে দুই কিশোর। আরও মর্মান্তিক বিষয় হলো, দুই দুর্ঘটনাই ঘটেছে একই তারিখে, ২৭ জুলাই। এই ঘটনায় ১১ ও ১৪ বছর বয়সী দুই ভাই এখন বাবা-মা দুজনকেই হারিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম কেডব্লিউসিএইচ (KWCH)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে ৪৬ বছর বয়সী গুয়েরেরো মোরেনো জুনিয়র কানসাসের ভ্যালি সেন্টারের উত্তরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন। সেডগউইক কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, একটি এসইউভি গাড়ির সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে। এই দুর্ঘটনার ঠিক দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই, কানসাস টার্নপাইকে আরেকটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান তার স্ত্রী এরিন মোরেনো। তিনি ভ্যালি সেন্টার স্কুল জেলার একজন শিক্ষক ছিলেন। সেই দুর্ঘটনায় মোরেনো দম্পতির ১৭ বছর বয়সী এক ছেলেও নিহত হয়েছিল। ফলে দুই বছরের ব্যবধানে এই পরিবার চার সদস্য থেকে নেমে এসেছে মাত্র দুই সদস্যে। বর্তমানে পরিবারের বেঁচে থাকা দুই ছেলে, যাদের বয়স ১১ ও ১৪ বছর, বাবা-মা দুজনকেই হারিয়ে গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে। পরিবারটির সহায়তায় অনলাইনে একটি গোফান্ডমি তহবিল খোলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, অল্প বয়সেই এত বড় ক্ষতির মুখোমুখি হওয়া দুই শিশুর জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তহবিল সংগ্রহের বিবরণে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গুয়েরেরো মোরেনো জুনিয়রের জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ ছিল তার দুই ছেলে। এখন তারা এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি, যেখানে বাবা-মা দুজনকেই ছাড়াই বড় হতে হবে। এই তহবিল থেকে গুয়েরেরো মোরেনো জুনিয়রের শেষকৃত্যের ব্যয় বহনের পাশাপাশি দুই শিশুর তাৎক্ষণিক প্রয়োজন এবং ভবিষ্যতের শিক্ষা ও জীবনযাপনের খরচে সহায়তা করার পরিকল্পনা রয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। একই পরিবারের ওপর এত অল্প সময়ের ব্যবধানে এমন দুটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রজুড়েও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যে তীব্র গরমের মধ্যে ছয় শিশুকে একটি গাড়ির ভেতরে রেখে ফাস্টফুড রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে যাওয়ার অভিযোগে এক দম্পতির বিরুদ্ধে গুরুতর মামলা দায়ের হয়েছে। শিশুদের মধ্যে দুইজনের বয়স মাত্র সাত মাস। ঘটনাটি শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে কানসাসের স্যালিনা শহরের একটি উইংস্টপ রেস্টুরেন্টে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, ৫৩ বছর বয়সী মাইকেল ক্রুগার এবং ৪০ বছর বয়সী টিফানি ক্রুগারের বিরুদ্ধে প্রত্যেকের নামে ছয়টি করে ‘অ্যাগ্রাভেটেড চাইল্ড এন্ডেঞ্জারমেন্ট’ বা গুরুতরভাবে শিশুকে ঝুঁকিতে ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের তথ্যমতে, ওই দম্পতি প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট রেস্টুরেন্টের ভেতরে অবস্থান করেন। এ সময় তাদের ছয় সন্তান গাড়ির ভেতরে ছিল। গাড়ির মাত্র একটি জানালা সামান্য খোলা ছিল এবং এয়ার কন্ডিশনিং বন্ধ ছিল। গাড়িতে থাকা শিশুদের মধ্যে ছিল দুইজন সাত মাস বয়সী শিশু, একজন দুই বছরের, একজন চার বছরের, একজন পাঁচ বছরের এবং একজন ১৩ বছরের কিশোর। ঘটনার দিন স্যালিনায় তাপমাত্রা প্রায় ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছায়। আবহাওয়া দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, আর্দ্রতার কারণে অনুভূত তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রিরও বেশি ছিল। এমন পরিস্থিতিতে বন্ধ গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছাতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে থাকেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুদের উদ্ধার করে। পরে মাইকেল ও টিফানি ক্রুগারকে আটক করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে শিশুদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার অভিযোগে মামলা করা হয়। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালতে চলবে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর গরমের সময় বন্ধ গাড়ির ভেতরে শিশুদের রেখে যাওয়ার কারণে একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও শিশু নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের এ ধরনের অসতর্কতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।