যুক্তরাষ্ট্রে ১৫টি মাকড়সার কামড়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন নারী, স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে চাকরি হারিয়ে নিঃস্ব স্বামী
পরিবারের সবাইকে নিয়ে লেকের ধারে গ্রীষ্মকালীন তাঁবু খাটিয়ে ঘুরতে যাওয়ার আনন্দে হঠাৎ নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা ও চার সন্তানের জননী ব্রিটেনি মিলার এখন নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। পরিবার নিয়ে ঘুরতে গিয়ে অন্তত ১৫টি বিষাক্ত মাকড়সার কামড়ে আক্রান্ত হওয়ার পর তার শরীরে রক্ত জমাট বাঁধার মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং পরিবারের তৈরি করা একটি অনুদান সংগ্রহের পাতায় প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, গত মে মাসের শেষের দিকে কানসাসের উইচিতা শহর থেকে ৩৫ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত চিনি স্টেট পার্কে ক্যাম্পিংয়ে যায় মিলার পরিবার। রাতের বেলা ক্যাম্পফায়ারের পাশে বসে থাকার সময় হঠাৎ ব্রিটেনি টের পান তার কাপড়ের ভেতর ও পায়ে একাধিক মাকড়সা উঠে এসেছে। মাকড়সার ভয়ে আতকে ওঠার আগেই অন্তত ১৫টি মাকড়সা তার পায়ের দুই পাশে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে দংশন করে।
ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর থেকে ব্রিটেনির ডান পায়ে প্রচণ্ড যন্ত্রণা শুরু হয়। সেই ব্যথাকে তিনি তীব্র ছুরিকাঘাতের অনুভূতির সঙ্গে তুলনা করেন। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে ৪ জুন তাকে উইচিতার ওয়েসলি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে দেখেন, মাকড়সার কামড়ের স্থানে বিষক্রিয়া থেকে তার পায়ের মাংসপেশিতে বিশালাকার রক্ত জমাট বেঁধে রক্তপিণ্ড তৈরি হয়েছে। জমাট বাঁধা রক্ত অপসারণ ও সংক্রমিত স্থান পরিষ্কার করতে জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন পড়ে।
তবে অস্ত্রোপচারটি চিকিৎসকদের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। ব্রিটেনি দীর্ঘদিন ধরে যকৃৎ বা লিভারের জটিল রোগে ভুগছিলেন, যা শেষ ধাপে পৌঁছে গিয়েছিল। একই সঙ্গে তার রক্ত জমাট বাঁধা সংক্রান্ত দুটি বিরল শারীরিক জটিলতাও ছিল। ফলে অস্ত্রোপচার করতে গেলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার প্রাণহানির চরম ঝুঁকি তৈরি হয়। চিকিৎসকেরা দুই সপ্তাহের মাথায় আশা ছেড়ে দিয়ে জানিয়েছিলেন যে, তার হাতে হয়তো আর মাত্র কয়েক দিন থেকে সর্বোচ্চ এক মাসের আয়ু বাকি রয়েছে।
চিকিৎসকদের এই পূর্বাভাস সত্ত্বেও ৯ থেকে ১৫ বছর বয়সী চার সন্তান ও স্বামীর মুখে চেয়ে লড়াই থামাননি ব্রিটেনি। তিনি চিকিৎসকদের স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে পরিবারের জন্য তিনি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বেঁচে থাকার চেষ্টা করবেন। টানা ১০ দিন মেডিকেল আইসিইউ এবং পরবর্তীতে কার্ডিও আইসিইউতে রেখে তাকে রক্ত, প্লাজমা, অণুচক্রিকা ও উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়।
কঠিন চিকিৎসাপদ্ধতি অতিক্রম করে শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল মনে হলেও নতুন করে এক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। তার অস্ত্রোপচারের স্থানে ব্যাকটেরিয়াজনিত চরম সংক্রমণ দেখা দেয়, যার ফলে সেখানের টিস্যু বা তন্তুর মৃত্যু ঘটতে শুরু করে। পচে যাওয়া চামড়া ও মাংস ফেলে দিতে শয্যাশায়ী অবস্থাতেই তার শরীরে আরও দুটি অস্ত্রোপচার চালাতে হয়। বর্তমানে ব্রিটেনির বেঁচে থাকার জন্য জরুরিভিত্তিতে যকৃৎ প্রতিস্থাপন প্রয়োজন, তবে সেই বড় অস্ত্রোপচারের জন্য তার শরীর উপযোগী হতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই মানবিক সংকটে পরিবারটিতে আর্থিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। অসুস্থ স্ত্রীর পাশে সারাক্ষণ হাসপাতালে অবস্থান করার কারণে চাকরি হারিয়েছেন তার স্বামী জেইক মিলার। উপার্জন ও স্বাস্থ্যবিমা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে চার সন্তানকে নিয়ে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পরবর্তীতে চিকিৎসার খরচ জোগাতে জেইক মিলার সাধারণ মানুষের কাছে সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।
চিকিৎসকদের ধারণামতে, তাকে কামড়ানো মাকড়সাগুলো কানসাস অঞ্চলে পাওয়া যাওয়া অত্যন্ত বিষাক্ত 'ব্রাউন রিক্লুস' প্রজাতির হতে পারে। আকারে অত্যন্ত ছোট এই মাকড়সার বিষ মানবদেহে প্রবেশ করলে চামড়ায় পচন এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে রক্ত জমাট বাঁধার মতো মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
আমেরিকা
View moreযুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে এক ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বাড়ির দাম এখনও তুলনামূলক বেশি থাকলেও বিক্রির জন্য বাজারে বাড়ির সরবরাহ সীমিত। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো ‘লক-ইন ইফেক্ট’—অর্থাৎ কম সুদের মর্টগেজ ধরে রাখতে বাড়ির মালিকদের অনীহা। সাম্প্রতিক আবাসন বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে যাদের সক্রিয় হোম মর্টগেজ রয়েছে, তাদের বড় একটি অংশ ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে নেওয়া ঋণের সুবিধা ভোগ করছেন। সে সময় মর্টগেজ সুদের হার ছিল ঐতিহাসিকভাবে কম, অনেক ক্ষেত্রে ৩ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে। এমনকি অধিকাংশ ঋণগ্রহীতার সুদের হার এখনও ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে নতুন ৩০ বছরের ফিক্সড-রেট মর্টগেজের সুদের হার ৬ থেকে ৭ শতাংশের বেশি পর্যায়ে অবস্থান করছে। ফলে কেউ যদি এখন নিজের পুরনো বাড়ি বিক্রি করে নতুন বাড়ি কেনেন, তবে তাকে আগের তুলনায় অনেক বেশি সুদে নতুন ঋণ নিতে হবে। এতে মাসিক কিস্তির পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। এই কারণেই অনেক বাড়ির মালিক বর্তমান বাড়ি বিক্রি না করে সেটিতেই বসবাস চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। আবাসন বাজারে এই প্রবণতাকে ‘লক-ইন ইফেক্ট’ নামে অভিহিত করা হয়। এর ফলে বিক্রির জন্য নতুন বাড়ির সংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং বাজারে সরবরাহ সংকুচিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে ইচ্ছুক ক্রেতাদের ওপর। বাজারে বিক্রির জন্য বাড়ি কম থাকায় প্রতিযোগিতা বেড়েছে এবং অনেক এলাকায় মূল্যও উচ্চ পর্যায়ে রয়ে গেছে। অন্যদিকে, যাদের আগে থেকেই কম সুদের মর্টগেজ রয়েছে, তারা নতুন ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে বিদ্যমান ঋণ ধরে রাখছেন। অনেক পরিবার নতুন বাড়ি কেনার বদলে বর্তমান বাড়ি সংস্কার বা সম্প্রসারণের পথ বেছে নিচ্ছেন। অর্থনীতিবিদদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ ভবিষ্যতে সুদের হার কমালে আবাসন বাজারে কিছুটা গতি ফিরতে পারে। তবে ২০২১-২২ সালের মতো ৩ থেকে ৪ শতাংশের অত্যন্ত কম মর্টগেজ সুদের হার অদূর ভবিষ্যতে ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই সীমিত বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যারা এখন বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, তারা আগে থেকেই স্থানীয় ঋণদাতার কাছ থেকে প্রি-অ্যাপ্রুভাল নিয়ে রাখুন এবং ভালো ক্রেডিট স্কোর বজায় রাখুন। এতে অনুকূল সুদে ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে এবং প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়াও সহজ হবে।
ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে কুকুরদের বিশ্ব সার্ফিং প্রতিযোগিতা
'ভারতে ফিরে যাও': যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী ও তার সন্তানকে গাড়ি নিয়ে ধাওয়া
যুক্তরাষ্ট্রে ১৫টি মাকড়সার কামড়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন নারী, স্ত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে চাকরি হারিয়ে নিঃস্ব স্বামী
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ফেডারেল বিচারকদের একটি অংশ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিচার বিভাগের (ডিওজে) আইনজীবীদের আচরণ ও আদালতে দেওয়া তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলছেন। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন মামলায় সরকারের আইনজীবীরা এমন আচরণ করেছেন, যা আদালতের ভাষায় "অবৈধ", "অনৈতিক", "অশোভন" বা বিভ্রান্তিকর। এর ফলে সরকারের বক্তব্যকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশ্বাস করার দীর্ঘদিনের বিচারিক নীতি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম প্রোপাবলিকার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকে শত শত মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ৪০টিরও বেশি মামলায় বিচারকেরা সরাসরি সরকারের প্রতি প্রচলিত বিচারিক আস্থার নীতি বা "প্রিজাম্পশন অব রেগুলারিটি" নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এই নীতির অর্থ হলো, আদালত সাধারণভাবে ধরে নেয় যে সরকারি কর্মকর্তারা আইন ও নীতিমালা মেনেই দায়িত্ব পালন করেছেন, যদি না তার বিপরীত প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিচারকদের সমালোচনার বড় অংশই অভিবাসন অভিযান, ব্যাপক বহিষ্কার, সরকারি কর্মী ছাঁটাই এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যান্য নীতিগত পদক্ষেপসংক্রান্ত মামলাগুলোকে ঘিরে। অনেক বিচারক মন্তব্য করেছেন, সরকারের আইনজীবীদের বক্তব্য এখন আর আগের মতো বিনা প্রশ্নে গ্রহণ করা যাচ্ছে না। রোড আইল্যান্ডে ট্রাম্প মনোনীত ফেডারেল বিচারক মেরি ম্যাকএলরয় একটি মামলায় অভিযোগ করেন, বিচার বিভাগ তথ্য গোপন করেছে এবং আদালতের কাছে ভুল তথ্য উপস্থাপন করেছে। হাসপাতালের বিরুদ্ধে তদন্তে সংবেদনশীল চিকিৎসা নথি সংগ্রহের জন্য সরকারের কৌশল নিয়ে তিনি কড়া ভাষায় প্রশ্ন তোলেন এবং বলেন, বিচার বিভাগের প্রতি যে আস্থা এতদিন ছিল, তা এই মামলায় আর বজায় নেই। নিউ জার্সির ফেডারেল বিচারক ক্রিস্টিন ও'হার্ন এক অভিবাসন মামলায় মন্তব্য করেন, ব্যক্তিগতভাবে দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা শপথ নিয়ে তথ্য না দিলে তিনি আর সরকারের বক্তব্য অন্ধভাবে গ্রহণ করবেন না। তার অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে এক আটক ব্যক্তিকে অন্য একটি কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছিল। মিনেসোটার একটি মামলায় বিচারক প্যাট্রিক শিল্টজও সরকারের পদক্ষেপকে "ভিত্তিহীন" বলে সমালোচনা করেন। তার ভাষায়, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি বা চাপ সৃষ্টি করতে ফৌজদারি তদন্তের ব্যবহার আইনের সুস্পষ্ট অপব্যবহার এবং অনৈতিক আচরণ। অন্যদিকে বিচার বিভাগ সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। বিভাগের মুখপাত্র কিয়ারস্টেন পেলস এক বিবৃতিতে বলেন, ডিওজের আইনজীবীরা সততা, পেশাদারিত্ব এবং আইনগত দায়িত্ব মেনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সঙ্গে বিভাগ একমত নয়। প্রোপাবলিকার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন মামলায় বিচারকেরা সরকারের নথিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি অস্তিত্বহীন মামলার নজির, ভুল তারিখ, তথ্যগত অসঙ্গতি এবং বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনার উদাহরণও উল্লেখ করেছেন। এসব ঘটনার কারণে সরকারের প্রতি আদালতের আস্থায় ধীরে ধীরে ভাঙন তৈরি হচ্ছে বলে আইন বিশেষজ্ঞদের মত। সাবেক ফেডারেল বিচারক জন ই. জোনস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এমন পরিস্থিতি আগে দেখা যায়নি। তার মতে, বর্তমানে অনেক বিচারকই সরকারি কৌঁসুলিদের বক্তব্যকে আগের মতো নির্ভরযোগ্য বলে মনে করছেন না। আইন বিশেষজ্ঞ জেরেমি ফোগেলের ভাষায়, আদালতে যা ঘটছে তা এখন শুধু আইনি বিরোধ নয়, বরং সরকারের একটি শাখা আরেকটি শাখার বৈধতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। অন্যদিকে ন্যাচারাল রিসোর্সেস ডিফেন্স কাউন্সিলের প্রধান আইনজীবী মিচ বার্নার্ড বলেন, বিচার বিভাগের বর্তমান আচরণের কারণে সরকার ভবিষ্যতে আরও বেশি মামলায় পরাজিত হতে পারে।
সিএনএনের লাইভ অনুষ্ঠানে সঞ্চালক ও মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তুমুল ঝগড়া
ভিডিও বানাতে গিয়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রাকৃতিক ওয়াটারস্লাইডে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাথরে আছড়ে পড়লেন তরুণী
অভিবাসনে কড়াকড়ি আরও বেড়েছে, জুলাইয়ে আইস এর হাতে আটক ৪৬ হাজারের বেশি অভিবাসী
গাড়ি বিমার খরচ প্রতিনিয়ত বাড়ছে, আর তাই প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে চান না কেউই। সাশ্রয়ী মূল্যে সঠিক কভারেজ পেতে বিভিন্ন কোম্পানির বিমার হারের মধ্যে তুলনা করা অত্যন্ত জরুরি। গ্রাহকদের এই তুলনা করার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করতে স্যাভি ইন্স্যুরেন্স সলিউশনস (Savvy Insurance Solutions)-এর ডেটার ওপর ভিত্তি করে ২০২৬ সালের সবচেয়ে সাশ্রয়ী গাড়ি বিমা কোম্পানিগুলোর একটি তালিকা তৈরি করেছে ইয়াহু ফাইন্যান্স। এতে বয়স, ড্রাইভিং রেকর্ড এবং কভারেজের ধরনের ওপর ভিত্তি করে বিমা কোম্পানিগুলোর রেট বিশ্লেষণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্পূর্ণ কভারেজ বা ফুল কভারেজ বিমার ক্ষেত্রে ‘আমেরিকান ফ্যামিলি’ এবং ‘ফার্ম ব্যুরো’ মাসিক মাত্র ১৫১ ডলারে সবচেয়ে সাশ্রয়ী সুবিধা দিচ্ছে। ফুল কভারেজ বলতে সাধারণত লায়াবিলিটি, কলিশন এবং কমপ্রিহেনসিভ বিমার সমন্বয়কে বোঝায়। অন্যদিকে, শুধুমাত্র লায়াবিলিটি বা দায়বদ্ধতা বিমার ক্ষেত্রেও এই দুটি কোম্পানি যথাক্রমে ৮৯ ও ৯০ ডলারে সবচেয়ে সস্তা প্রিমিয়াম অফার করছে। বয়স ও রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করেও বিমার হার পরিবর্তিত হয়; যেমন—কিশোর চালকদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি থাকায় তাদের প্রিমিয়াম বেশি হয়, যেখানে ‘দ্য হার্টফোর্ড’ মাসিক ২৩৬ ডলারে তাদের জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী প্যাকেজ দিচ্ছে। আবার ৫০ থেকে ৭০ বছর বয়সী প্রবীণ চালক এবং যাদের বিগত তিন বছরে কোনো দুর্ঘটনা বা ট্রাফিক আইন ভঙ্গের রেকর্ড নেই, তাদের জন্য এই কোম্পানিগুলো তুলনামূলক অনেক কম খরচে বিমা সুবিধা প্রদান করে থাকে। এমনকি একবার দুর্ঘটনা বা স্পিডিং টিকিট পেলেও তুলনামূলক সাশ্রয়ী রেট পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিমার মাসিক খরচ কমানোর জন্য বেশ কিছু কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে গ্রাহকদের। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, তাৎক্ষণিক খরচ বাঁচাতে শুধু লায়াবিলিটি কভারেজ না নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষার জন্য কলিশন ও কমপ্রিহেনসিভ বিমা যুক্ত করা উচিত। এছাড়া বিমার ডিডাক্টিবল বা নিজের পকেট থেকে প্রাথমিক খরচের পরিমাণ ২০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৫০০ ডলার করলে প্রিমিয়ামের হার প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে একাধিক কোম্পানির রেট যাচাই করা, মাল্টি-পলিসি, নিরাপদ চালক, ভালো শিক্ষার্থী বা কম মাইলেজের মতো বিভিন্ন ডিসকাউন্ট সুবিধা গ্রহণ করার মাধ্যমে খরচ কমানো সম্ভব। শুধুমাত্র মাসিক প্রিমিয়ামের দিকে নজর না দিয়ে প্রতি বছর পলিসি নবায়নের আগে বর্তমান কভারেজ পর্যালোচনা করলে গ্রাহকরা সহজেই তাদের বিমার খরচ দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবেন।
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী সেজে ২৫ হাজার ডলার প্রতারণা, নিউ জার্সিতে গ্রেপ্তার দুই বাংলাদেশি
যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ সুদ কমেছে, কিন্তু রিফাইন্যান্সিংয়ের আগে জেনে নিন ৫ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়