- প্রচ্ছদ
- Topic
খাদ্য নিরাপত্তা
ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফে গরুর মাংসের নামে শূকরের মাংস বিক্রির দায়ে এক কসাইকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দেশটির সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল জানিয়েছে, ওই কসাইয়ের কাছ থেকে ৭৫ কেজি শূকরের মাংস উদ্ধার করা হয়েছিল। তিনি মাংসটি গরুর মাংস হিসেবে বিক্রি করছিলেন বলে আদালতে বিষয়টি উঠে এসেছে। সোমবার নাজাফের ফৌজদারি আদালত ওই ব্যক্তিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। ইরাকের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানায়, মানবদেহের জন্য অনুপযোগী মাংস বিক্রির দায়ে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। আদালত ১৯৯৮ সালের একটি আইনের আওতায় এই রায় দিয়েছেন। ওই আইনে কুকুর, গাধা কিংবা অন্য কোনো প্রাণীর এমন মাংস বিক্রি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা মানুষের খাওয়ার উপযোগী নয়। আদালতের রায়ে মূলত মাংসটি মানুষের খাদ্য হিসেবে অনুপযোগী হওয়ার বিষয়টিকেই আইনি ভিত্তি হিসেবে নেওয়া হয়েছে। ইরাকে শূকরের মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ করার জন্য সরাসরি কোনো আইন নেই। দেশটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও সেখানে খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন। তবে মুসলিমদের জন্য শূকরের মাংস খাওয়া ইসলামে নিষিদ্ধ হওয়ায় দেশটির সামাজিক ও ধর্মীয় বাস্তবতায় বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। নাজাফ ইরাকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় নগরী। শহরটিতে শিয়া মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র স্থাপনা ইমাম আলীর মাজার অবস্থিত। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ সেখানে ধর্মীয় সফরে আসেন। ফলে শহরের খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের পাশাপাশি দর্শনার্থীদেরও উদ্বেগ রয়েছে। পুলিশ চলতি মাসে ওই কসাইকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তার কাছে বিপুল পরিমাণ শূকরের মাংস পাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, মাংসটি গরুর মাংস হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছিল। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ইরাকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কেউ কেউ খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজারে মাংসের উৎস যাচাইয়ের বিষয়ে আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন। আবার অনেকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রসিকতাও করেছেন এবং শূকরের ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন। নাজাফের বাসিন্দা আহমেদ আল-মানসুরি বার্তা সংস্থা এএফপিকে রসিকতা করে বলেছেন, গত কয়েক বছরে তিনি গরু বা খাসির মাংসের চেয়ে বেশি শূকরের মাংস খেয়ে থাকতে পারেন। তিনি জানান, নিয়মিত যে কসাইয়ের কাছ থেকে মাংস কিনতেন, সেখান থেকেই তিনি প্রতারিত হয়েছেন। মানসুরির ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় তিনি ওই দোকান থেকে এক কেজি কিমা করা মাংস কিনেছিলেন। মাংসটির মান ভালো এবং বাজারদরের তুলনায় দাম কম হওয়ায় তিনি সেটিকে গরুর মাংস হিসেবেই ধরে নিয়েছিলেন। মাংস পছন্দ হওয়ায় তিনি পরে ওই কসাইয়ের দোকানে আরও নিয়মিত যাতায়াত শুরু করেন। পরে কসাইকে শূকরের মাংস বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার করার খবর পেয়ে তিনি ও অন্য ক্রেতারা বিস্মিত হন। মানসুরি বলেন, তারা এতদিন যে মাংস কিনেছেন, সেটি আসলে কী ছিল তা জানতে পেরে বিষয়টি তাদের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল। ঘটনাটি খাদ্য বিক্রির ক্ষেত্রে পণ্যের পরিচয় ও মান নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বও সামনে এনেছে। বিশেষ করে গরু, খাসি বা অন্যান্য মাংসের নামে ভিন্ন প্রাণীর মাংস বিক্রি করা হলে তা শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয় নয়, ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা এবং খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নও তৈরি করে। ইরাকি আদালতের এই রায় এমন এক সময়ে এলো, যখন নাজাফে ধর্মীয় পর্যটন ও তীর্থযাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। শহরের খাবারের বাজারে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মানুষেরও নির্ভরতা রয়েছে। তাই খাদ্যপণ্যের উৎস ও মান নিয়ে আস্থা বজায় রাখা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: দ্য নিউ আরব ও এএফপি।
ইন্দোনেশিয়ায় সরকারের বিনা মূল্যের স্কুল খাবার কর্মসূচির খাবার খেয়ে চলতি সপ্তাহে পৃথক কয়েকটি ঘটনায় ২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অসুস্থ হয়েছেন। দেশটির অন্তত চারটি অঞ্চলে এসব ঘটনা ঘটেছে। বারবার খাবারজনিত অসুস্থতার ঘটনায় প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর শিশুদের অপুষ্টি দূর করার এই কর্মসূচি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশের তানা তোরাজায় প্রায় ১৭০ শিক্ষার্থী ও শিক্ষক অসুস্থ হন। স্থানীয় সরকারের প্রধান জাদরাক তমবেগ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে চলতি সপ্তাহে মধ্য জাভা, পূর্ব জাভা ও পশ্চিম সুমাত্রা প্রদেশে আরও ১ হাজার ৭০০ জনের বেশি অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পূর্ব জাভার আরেকটি এলাকায় এর আগে ২৫৬ শিক্ষার্থী স্কুলের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়েছিল। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, কমনাস হাম, পুলিশকে বিষয়গুলো তদন্ত করার আহ্বান জানিয়েছে। শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে কমিশন বলেছে, নিরাপদ খাবার পাওয়ার অধিকারও মানবাধিকারের অংশ। খাবার প্রস্তুত ও বিতরণে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা না গেলে সরকারের পরিচালিত পুষ্টি কর্মসূচি তার নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা হারাতে পারে বলেও সতর্ক করেছে কমিশন। কমিশন একই সঙ্গে যেসব রান্নাঘর থেকে দূষিত বা অনিরাপদ খাবার সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় পুষ্টি সংস্থা কর্মসূচিটি পরিচালনা করে। সংস্থাটির প্রধান সুদারিয়োনো বৃহস্পতিবার বলেছেন, খাবারজনিত অসুস্থতার ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তবে শুক্রবার নির্ধারিত একটি সংবাদ সম্মেলন কোনো কারণ না জানিয়ে স্থগিত করা হয় এবং নতুন তারিখও জানানো হয়নি। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো গত বছর বিনা মূল্যের পুষ্টিকর খাবার কর্মসূচি চালু করেন। শিশুদের অপুষ্টি কমানো এবং শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করাই এই কর্মসূচির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সরকার দেশজুড়ে বিপুলসংখ্যক শিশুকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা করেছে। তবে কর্মসূচি চালুর পর থেকেই খাবারের মান, সংরক্ষণ ও সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার মধ্যে মধ্য জাভার লাসেমে ৭৫২ শিক্ষার্থী ও ২৫ শিক্ষক অসুস্থ হওয়ার ঘটনা বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ঘটনায় খাবার হিসেবে দেওয়া ভাজা মুরগি নিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। খাবার ভোরে রান্না করে দুপুরে পরিবেশন করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। খাবার সংরক্ষণ ও পরিবেশনের সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পূর্ব জাভার সিদোয়ারজো এলাকায়ও ৫০০-এর বেশি শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে যায়। জাতীয় পুষ্টি সংস্থা জানিয়েছে, সন্দেহভাজন একটি রান্নাঘর ৩০ দিনের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে এবং তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে। এর আগে সরকারি কর্মসূচির খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনাগুলোর সঙ্গে খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা এবং রান্না করা খাবার দেরিতে স্কুলে পৌঁছানোর মতো কারণের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। তবে সমস্যার ব্যাপকতা সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার চেয়েও বেশি হতে পারে। ইন্দোনেশিয়ার পার্লামেন্ট সদস্য চার্লস হনোরিস স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য উদ্ধৃত করে জানিয়েছেন, ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এই সংখ্যা নিয়ে সরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। কমনাস হামও এর আগে কর্মসূচিটির পরিচালনব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জুনে প্রকাশিত এক পর্যালোচনায় সংস্থাটি বলেছিল, বিনা মূল্যের পুষ্টিকর খাবার কর্মসূচিতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়, খাবারের মান ও পুষ্টিগুণ এবং মানবাধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে আরও কার্যকর ব্যবস্থাপনার সুপারিশও করেছিল কমিশন। বারবার খাবারজনিত অসুস্থতার ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। তানা তোরাজার ঘটনায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক শিশুর মা এস্টার পাতানদুং রয়টার্সকে বলেছেন, একজন অভিভাবক হিসেবে তাঁর প্রত্যাশা হলো কেন্দ্রীয় বা আঞ্চলিক সরকার যেন বিনা মূল্যের খাবার কর্মসূচি বাতিল করে। জনসমর্থনের ওপরও এর প্রভাব পড়ছে। জুলাইয়ে সাইফুল মুজানি রিসার্চ অ্যান্ড কনসাল্টিং পরিচালিত এক জরিপে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ইন্দোনেশীয় এই কর্মসূচির কার্যক্রমে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছিলেন। অসন্তুষ্টদের অনেকেই খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। কর্মসূচিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তাই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। শিশুদের অপুষ্টি মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য সামনে রেখে চালু হওয়া উদ্যোগটি বড় পরিসরে পরিচালিত হওয়ায় খাবারের নিরাপত্তা, রান্নাঘরের স্বাস্থ্যবিধি, সংরক্ষণ এবং সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানবাধিকার কমিশনের তদন্তের আহ্বানের পর সরকার কী ব্যবস্থা নেয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।
রাস্তার ধারের একটি খাবারের দোকান থেকে ক্রেতাদের পরিবেশন করার আগে সেই মাংস খাচ্ছে একটি কুকুর। আরেকটি ফুড ট্রাক থেকে বেরিয়ে আসছে তেলাপোকা। খোলা সস বা চাটনির পাশ দিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে ইঁদুর। তীব্র গরমে রেফ্রিজারেটরের বাইরে রাখা আছে কাঁচা মাংস। এমনকি রান্নার সরঞ্জামের আশপাশেই লোকজন প্রস্রাব করছে। এগুলো কোনো কাল্পনিক হরর সিনেমার দৃশ্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির রাস্তার ধারের খাবার বা স্ট্রিট ফুডের বাস্তব চিত্র। ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে স্ট্রিট ফুড বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত ৯ হাজার ৭৪৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়া পোস্টের তথ্য অধিকার আইনের আওতায় করা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে ৬৬২ পৃষ্ঠার এক বিশাল নথিতে এই চাঞ্চল্যকর ও গা শিউরে ওঠা তথ্যগুলো উঠে এসেছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাস চলতি সপ্তাহে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্টকে নিয়ম ভঙ্গকারী স্ট্রিট ভেন্ডর বা রাস্তার বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ঠিক এমন একটি সময়ে এই ভয়াবহ অভিযোগের তালিকা জনসমক্ষে এল। সমালোচকরা মনে করছেন, মেয়রের এই পদক্ষেপের ফলে অনুমতিবিহীন খাবারের গাড়িগুলো শহরজুড়ে অবাধে ব্যবসা করার সুযোগ পাবে এবং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিভাগে জমা পড়া এই অভিযোগগুলোর বিপরীতে কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তার কোনো সুস্পষ্ট ধারণা নথিতে পাওয়া যায়নি। উদাহরণস্বরূপ, হাথর্ন বুলেভার্ডের কাছের একটি টাকো স্ট্যান্ডের বিরুদ্ধে করা অভিযোগে বলা হয়েছে, সেখানে কর্মীদের হাত ধোয়ার কোনো জায়গা ছিল না এবং তারা গ্লাভস পরিবর্তন করছিলেন না। অভিযোগে আরও বলা হয়, একটি কুকুর থলে থেকে মাংস খাচ্ছিল এবং বিক্রেতা সেই থলে থেকেই ক্রেতাদের মাংস পরিবেশন করছিলেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই অভিযোগের ফাইলটি কেবল বন্ধ বা ক্লোজড হিসেবে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা এলএএক্স এর কাছাকাছি এলাকার আরেকটি অভিযোগে বলা হয়, ময়লার ডাস্টবিনের পাশে খোলা অবস্থায় সালসা ও অন্যান্য মশলা রাখা ছিল এবং সেখানে ইঁদুর দৌড়াচ্ছিল। সেই অভিযোগটি বাতিল বা ক্যানসেলড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে ভেনিস সৈকত এলাকার একটি অভিযোগে বলা হয়, হট ডগ, বন রুটি এবং অন্যান্য খাবার সারাদিন রোদে ফেলে রাখা হয়েছিল। এই অভিযোগটিকে যৌক্তিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও পরবর্তীতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানানো হয়নি। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিভাগ এই সিদ্ধান্তগুলোর অর্থ বা এর ভিত্তিতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা এখন রাস্তার ধারের ক্ষুদ্র বিক্রেতাদের বদলে বড় সংগঠনগুলোর দিকে নজর দিচ্ছে, যারা মূলত এই ফুটপাতের ব্যবসাগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। লস অ্যাঞ্জেলেস বিজনেস ফেডারেশনের প্রধান নির্বাহী স্টুয়ার্ট ওয়াল্ডম্যান স্ট্রিট ভেন্ডরদের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের তালিকাকে ধারণার চেয়েও ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, একটি স্থায়ী রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে যদি তার কর্মীরা হাত না ধোয়, মাখন বাইরে ফেলে রাখে বা তাদের ফ্রিজ নির্ধারিত তাপমাত্রার চেয়ে সামান্য গরম থাকে। অথচ রাস্তার ধারের খাবার বিক্রেতাদের কোনো শৌচাগার নেই, কর্মীরা হাত ধুচ্ছেন না এবং তাদের কোনো রেফ্রিজারেশন ব্যবস্থাও নেই। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি বিজনেস ফেডারেশনের দায়িত্বশীল প্রশাসন কমিটির কো চেয়ারম্যান জর্জ ফ্রান্সিসকো জানান, এই অভিযোগগুলো তার কাছে মোটেও বিস্ময়কর নয়। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এর চেয়েও খারাপ পরিস্থিতি দেখেছেন। লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে ফুটপাতে ব্যবসা করার জন্য বিক্রেতাদের সিটি ভেন্ডিং পারমিট বা অনুমতিপত্রের প্রয়োজন হয়। যারা খাবার বিক্রি করেন, তাদের লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিষয়ক পারমিটও নিতে হয়। কাউন্টি মূলত খাদ্যের নিরাপত্তা তদারকি করে, আর শহর কর্তৃপক্ষ বিক্রেতারা কোথায় এবং কীভাবে কাজ করবেন, তা নির্ধারণ করে। হিসাব অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেসজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার বিক্রেতা ফুটপাতে ব্যবসা পরিচালনা করেন। তবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৬৮৭টি সক্রিয় ভেন্ডিং পারমিটের রেকর্ড পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মাত্র ৫৩টি পারমিট ছিল খাবার বিক্রেতাদের জন্য। মেয়র কারেন বাস জানিয়েছেন, তার প্রশাসন স্ট্রিট ভেন্ডরদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে। তিনি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন, লাইসেন্স না থাকলেও বা স্থায়ী দোকানের সামনে বসে ব্যবসা করলেও বিক্রেতাদের যেন অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করা না হয়। তবে তার এই অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন মেয়র পদের প্রতিদ্বন্দ্বী কাউন্সিলওম্যান নিথিয়া রমন। তিনি মনে করেন, শহর কর্তৃপক্ষের উচিত বিক্রেতাদের পারমিট পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং একইসাথে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা। পিকো ইউনিয়ন এলাকার এল সালভাদর করিডোরে গিয়ে দেখা যায়, অনেক বিক্রেতা নিষিদ্ধ এলাকায় দোকান বসিয়েছেন। রাস্তায় তেল ও নোংরা পানি গড়িয়ে পড়ছে। এল সালভাদর করিডোর অ্যাসোসিয়েশনের সহ প্রতিষ্ঠাতা রাউল ক্লারোস জানান, এই এলাকায় এখন ১২০ জনেরও বেশি স্ট্রিট ভেন্ডর ভিড় জমিয়েছেন। তিনি বিক্রেতাদের উচ্ছেদ না করে তাদের পারমিট দেওয়া এবং নির্দিষ্ট একটি বাজারে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন, যেখানে রেফ্রিজারেশন, পরিচ্ছন্নতা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুবিধা থাকবে। ফুটপাতে এই অবৈধ ব্যবসার কারণে স্থায়ী রেস্তোরাঁ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এল কোরেডর রেস্তোরাঁর মালিক মিগুয়েল কারানজা এবং তার স্ত্রী ইরমা দিয়াজ জানান, তারা একসময় ফুটপাতেই ব্যবসা করতেন। এরপর তারা ফুড ট্রাক এবং ২০১০ সালে স্থায়ী রেস্তোরাঁ চালু করেন। কিন্তু এখন ফুটপাতের বিক্রেতাদের সাথে তারা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না। কারণ, ফুটপাতের বিক্রেতাদের রেস্তোরাঁর মতো ভাড়া বা অন্যান্য খরচ বহন করতে হয় না। একই এলাকার আরেক ব্যবসায়ী ব্রেন্ডা মনটোয়া জানান, করোনা মহামারির আগে এই এলাকার অর্থনীতি অনেক ভালো ছিল, কিন্তু ফুটপাতে বিক্রেতাদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এখন তাদের বিক্রি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। সংবাদসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের আশঙ্কায় বাজার থেকে প্রত্যাহার করা ১৫ লাখেরও বেশি ডিমের ওপর সর্বোচ্চ ঝুঁকির ‘ক্লাস ১’ (Class 1) সতর্কতা জারি করেছে। গত জুলাই মাসে এই ডিমগুলো বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। সম্প্রতি পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সংস্থাটি এই কড়া সতর্কতা জারি করে। গত ১২ আগস্ট এফডিএ-এর পক্ষ থেকে এই সতর্কতা সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সংস্থাটির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো পণ্যের কারণে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি বা মৃত্যুর প্রবল আশঙ্কা থাকলে সেটিকে ‘ক্লাস ১’ বা সর্বোচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়। এই সতর্কতা থেকে স্পষ্ট যে, প্রত্যাহার করা ডিমগুলো সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা হুমকিস্বরূপ হতে পারে। এর আগে জুলাই মাসে মিডওয়েস্ট পোল্ট্রি সার্ভিসেস, এল.পি. প্রথমবার এই বিপুল পরিমাণ ডিম বাজার থেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। এর আওতায় প্রায় ১৫ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭৭টি সাদা এবং বাদামি রঙের খোসাযুক্ত ডিম রয়েছে। এসব ডিম ক্রোগার (Kroger), সিম্পল ট্রুথ (Simple Truth) এবং কান্ট্রি মর্নিং (Country Morning)-এর মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের নামে বিক্রি করা হয়েছিল। জানা গেছে, ডিমগুলো মূলত টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে উৎপাদন করা হয়। পরে সেগুলো দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। এফডিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, যেসব অঙ্গরাজ্যে এই ডিমগুলো ছড়িয়ে পড়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আরকানসাস, লুইজিয়ানা, মিসিসিপি, নিউ মেক্সিকো, ওকলাহোমা এবং টেক্সাস। প্রত্যাহার করা ডিমের কার্টন বা প্যাকেটের বাম অথবা ডান দিকে কালির ছাপ দেওয়া নির্দিষ্ট কোড লেখা রয়েছে। এফডিএ জানিয়েছে, যেসব প্যাকেটে P-1950 বা 0840962 কোড রয়েছে এবং সাথে জুলিয়ান তারিখ (Julian Date) ১৫৭ থেকে ১৮৪ উল্লেখ করা আছে, কেবল সেই ডিমগুলোই এই সতর্কতার আওতায় পড়বে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই নির্দিষ্ট ডিমগুলো কেনা গ্রাহকদের তা না খাওয়ার জন্য কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। এর বদলে যেখান থেকে কেনা হয়েছে, সেখানে ফেরত দিয়ে পুরো অর্থ বুঝে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত এই ডিম খেয়ে কেউ অসুস্থ হয়েছেন বা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত খাবার খেলে সালমোনেলোসিস নামের খাদ্যবাহিত রোগ হতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, দূষিত খাবার খাওয়ার ছয় ঘণ্টা থেকে ছয় দিনের মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তির জ্বর, ডায়রিয়া বা তীব্র পেটব্যথা দেখা দিতে পারে। সাধারণত এই অসুস্থতা এক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হয়। কিছু ক্ষেত্রে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন হলেও বেশিরভাগ মানুষ কোনো বিশেষ চিকিৎসা ছাড়াই নিজে থেকেই সুস্থ হয়ে ওঠেন।
কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা প্রায় ৪ হাজার ৩০০ পাউন্ড ক্যানজাত চিকেন নুডলস স্যুপ বাজার থেকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের ফুড সেফটি অ্যান্ড ইনস্পেকশন সার্ভিস (FSIS)। কারণ, পণ্যগুলো বাধ্যতামূলক আমদানি পুনঃপরিদর্শন ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে, যা খাদ্য নিরাপত্তা বিধিমালার লঙ্ঘন। এফএসআইএস জানিয়েছে, কানাডার কুইবেকভিত্তিক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান BCI Foods Inc. স্বেচ্ছায় এই রিকল কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রত্যাহার করা পণ্যটি ১০ দশমিক ৫ আউন্সের “tasty KITCHEN Chicken Noodle Condensed Soup PRODUCT OF CANADA” নামে বিক্রি হচ্ছিল। এটি ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে উৎপাদিত হয় এবং ক্যানে “Best By: 2028 FE 04”, লট কোড “5 9 2 26 035” ও কানাডার প্রতিষ্ঠান নম্বর “EST. 142” উল্লেখ রয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই চালানটি ওকলাহোমার বিভিন্ন ফুড ব্যাংক ও খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রে সরবরাহ করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি নিজেই এফএসআইএসকে জানায় যে, পণ্যটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় প্রয়োজনীয় আমদানি পুনঃপরিদর্শনের জন্য উপস্থাপন করা হয়নি। এরপরই রিকলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এফএসআইএস বলেছে, এখন পর্যন্ত এই স্যুপ খেয়ে কেউ অসুস্থ হয়েছেন বা কোনো ধরনের স্বাস্থ্যগত ক্ষতির শিকার হয়েছেন—এমন নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট পণ্য যাদের কাছে রয়েছে, তাদের এটি না খেয়ে ফেলে দেওয়া অথবা কেনা প্রতিষ্ঠানে ফেরত দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের অসুস্থতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রত্যাহার কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে তারা নিয়মিত নজরদারি চালাবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানকে বাজার থেকে পণ্য সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ৩৪টি অঙ্গরাজ্যে সাইক্লোস্পোরা পরজীবীজনিত অন্ত্রের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, ১ মে থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত বিদেশ ভ্রমণের ইতিহাস নেই—এমন ১ হাজার ৬৪৫ জনের শরীরে পরীক্ষাগারে সাইক্লোস্পোরা সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৪১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। সিডিসি আরও জানিয়েছে, সম্ভাব্য আরও ৫ হাজার ১০০টির বেশি রোগীর তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। গত বছরের একই সময়ে যেখানে মাত্র ২৪৯টি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল, সেখানে এবার আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। সংস্থাটির ধারণা, অনেক রোগীর পরীক্ষা না হওয়া এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে তথ্য পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে। সংক্রমণের উৎস শনাক্ত করতে সিডিসি, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। রোগীরা অসুস্থ হওয়ার আগে কী ধরনের খাবার খেয়েছিলেন, বিশেষ করে কাঁচা ফল ও সবজি গ্রহণ করেছিলেন কি না—সেসব তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এফডিএ জানিয়েছে, লেটুসসহ একাধিক কাঁচা কৃষিপণ্যের সরবরাহ চেইন অনুসরণ করে তদন্ত চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট খাবার, ব্র্যান্ড, সরবরাহকারী, রেস্তোরাঁ বা খুচরা বিক্রেতাকে সংক্রমণের নিশ্চিত উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। এফডিএর ভারপ্রাপ্ত খাদ্যবিষয়ক ডেপুটি কমিশনার ডোনাল্ড প্রেটার বলেছেন, বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে জনগণকে কোনো নির্দিষ্ট খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ এখনো মেলেনি। সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি মিশিগানে। অঙ্গরাজ্যটির স্বাস্থ্য বিভাগ ৩ হাজার ৩০০টির বেশি সম্ভাব্য সংক্রমণের তথ্য পেয়েছে। এক হাজারের বেশি রোগীর সাক্ষাৎকারে লেটুস বা সালাদজাতীয় সবজির বিষয়টি বারবার উঠে আসায় সেগুলো সম্ভাব্য উৎস হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং লেটুসকে দায়ী বলে নিশ্চিত করা হয়নি। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, মিশিগান, ওহাইও, কেনটাকি ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় অন্তত ৪০০ রোগীর একটি গুচ্ছে একই ধরনের সংক্রমণের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। তবে দেশের অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের সব রোগী এই গুচ্ছের সঙ্গে সম্পর্কিত নন। ফলে একাধিক খাদ্যসূত্র থেকেও সংক্রমণ ছড়িয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে কিছু সংবাদমাধ্যমে টাকো বেলের কয়েকটি রেস্তোরাঁয় ব্যবহৃত লেটুস নিয়ে তদন্তের খবর প্রকাশের পর প্রতিষ্ঠানটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নির্বাচিত কিছু শাখা থেকে সীমিত পরিমাণ উপকরণ সাময়িকভাবে সরিয়ে নিয়েছে। তবে জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এখনো টাকো বেল বা কোনো নির্দিষ্ট সরবরাহকারীকে এই প্রাদুর্ভাবের উৎস হিসেবে নিশ্চিত করেনি। সাইক্লোস্পোরা কায়েটানেনসিস নামের অতি ক্ষুদ্র পরজীবী থেকে সাইক্লোস্পোরিয়াসিস রোগ হয়। সাধারণত পরজীবীযুক্ত মল দ্বারা দূষিত খাবার বা পানি গ্রহণের মাধ্যমে মানুষ এতে আক্রান্ত হয়। অতীতে যুক্তরাষ্ট্রে রাস্পবেরি, ধনেপাতা, তুলসীপাতা, মটরজাতীয় সবজি, লেটুস ও বিভিন্ন সালাদ মিশ্রণের সঙ্গে এ ধরনের সংক্রমণের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এই রোগে আক্রান্তদের সাধারণত পানির মতো ডায়রিয়া, পেটব্যথা, ক্ষুধামন্দা, ওজন কমে যাওয়া, বমিভাব, গ্যাস, পেট ফাঁপা এবং তীব্র ক্লান্তির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। চিকিৎসা না নিলে উপসর্গ কয়েক সপ্তাহ এমনকি এক মাসেরও বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে। দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে জটিলতার ঝুঁকি বেশি থাকে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া বা এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কাঁচা ফল ও সবজি ভালোভাবে ধোয়া, খাবার তৈরির আগে ও পরে সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করা এবং রান্নাঘরের সরঞ্জাম পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দিয়েছে সিডিসি। তবে শুধু ধুয়ে ফেললেই এই পরজীবী সম্পূর্ণ দূর হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই বলে সংস্থাটি সতর্ক করেছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, তদন্ত এখনো চলমান। নির্দিষ্ট কোনো খাদ্য বা সরবরাহকারীকে দায়ী করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ মিললে এফডিএ আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্কতা বা পণ্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া সাইক্লোস্পোরিয়াসিস সংক্রমণের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে লেটুস ও অন্যান্য সালাদ শাকসবজিকে সন্দেহ করছে অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ। সংক্রমণ বেড়ে ২ হাজার ৬৪০ জনে পৌঁছানোর পর বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং সালাদজাতীয় শাকসবজি কেনা ও খাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মিশিগান ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস (MDHHS) জানিয়েছে, চলমান তদন্তে এখন পর্যন্ত পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী লেটুস বা সালাদ শাকসবজির সঙ্গে সংক্রমণের সম্পর্ক থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে এখনো নির্দিষ্ট কোনো পণ্য, উৎপাদক বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে সংক্রমণের উৎস হিসেবে শনাক্ত করা যায়নি। এমডিএইচএইচএসের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. নাতাশা বাগদাসারিয়ান বলেন, "এখনও নিশ্চিতভাবে কোনো নির্দিষ্ট পণ্যকে এই প্রাদুর্ভাবের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। তবে তদন্তে বারবার লেটুস একটি সাধারণ খাদ্য হিসেবে সামনে এসেছে। তাই আমরা এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য জনগণের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছি, যাতে তারা নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিতে পারেন।" স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মিশিগানে সাধারণত বছরে মাত্র ৪০ থেকে ৫০টি সাইক্লোস্পোরিয়াসিসের ঘটনা শনাক্ত হয়। কিন্তু চলতি প্রাদুর্ভাবে আক্রান্তের সংখ্যা এক লাফে ২ হাজার ৬৪০ জনে পৌঁছেছে, যা অঙ্গরাজ্যের জন্য অস্বাভাবিকভাবে বেশি। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, Cyclospora নামের একটি পরজীবীর কারণে এই রোগ হয়। এতে সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী পানির মতো ডায়রিয়া, বমিভাব, পেটব্যথা, ক্ষুধামন্দা, ক্লান্তি এবং পেটের খিঁচুনির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানিয়েছে, এই রোগের ইনকিউবেশন বা সুপ্তকাল সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে। ফলে ইতোমধ্যে আরও অনেকে সংক্রমিত হলেও তাদের উপসর্গ পরে দেখা দিতে পারে। প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে বেশ কয়েকটি সতর্কতামূলক পরামর্শ দিয়েছে এমডিএইচএইচএস। সংস্থাটি বলছে, সম্ভব হলে আগে থেকে ধোয়া ও প্যাকেটজাত লেটুস বা প্রস্তুত সালাদ না কিনে সম্পূর্ণ লেটুস কেনা ভালো। রান্নার আগে বাইরের দুই থেকে তিন স্তরের পাতা ফেলে দিতে হবে এবং ভেতরের পাতাগুলো পরিষ্কার প্রবাহমান পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। যেসব শাকসবজি রান্না করে খাওয়া সম্ভব, সেগুলো অন্তত ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১৫৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রায় রান্না করার পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। কারণ, সাইক্লোস্পোরা পরজীবী সাধারণ রাসায়নিক জীবাণুনাশক এবং শুধু পানি দিয়ে ধোয়ার মাধ্যমে সম্পূর্ণ দূর করা যায় না। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় অতীতের বিভিন্ন সাইক্লোস্পোরিয়াসিস প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে প্যাকেটজাত সালাদ, ধনেপাতা, তুলসী পাতা, রাস্পবেরি, স্নো পি এবং কাঁচা পেঁয়াজেরও সম্পর্ক পাওয়া গিয়েছিল। এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ স্পষ্ট করেছে, এই প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সুইমিং পুল বা অন্য কোনো বিনোদনমূলক জলক্রীড়ার সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। যদিও সাঁতারের সময় পানি গিলে না ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তবে বর্তমান তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু দূষিত খাদ্য, বিশেষ করে শাকসবজি। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্ত এখনো চলমান। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে জনসাধারণকে দ্রুত জানানো হবে। এর মধ্যে যাদের দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া, বমিভাব বা তীব্র পেটব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, তাদের দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে মিশিগান স্বাস্থ্য বিভাগ।
ফ্লোরিডার পাম বে শহরে এক নারীর জীবনকে বদলে দেয় একটি সাধারণ আইসক্রিম। ২০১৮ সালে ব্রাস্টার্স আইসক্রিম থেকে কেনা এই আইসক্রিমে ধাতব উপাদান লোহার পেরেক ও ছোট ধাতব টুকরো মিশে ছিল। প্রথমে তিনি সেগুলোকে বাদাম ভেবে খেয়ে ফেলেন, কিন্তু পরে শরীরে অসুস্থতা দেখা দেয়। চিকিৎসকরা ধাতব উপাদান শনাক্ত করার পর নারীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসা দিতে হয়। অস্ত্রোপচারের পরও দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়, যা তার দৈনন্দিন জীবনকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হওয়ায় তিনি ২০১৯ সালে আইসক্রিম প্রস্তুতকারকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৬ সালে আদালত তার পক্ষে রায় দেয় এবং তাকে ১৪ মিলিয়নেরও বেশি ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খাবারের মান নিয়ন্ত্রণে সামান্য ত্রুটিও গুরুতর বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এই ঘটনা খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও মানোন্নয়নের গুরুত্ব স্পষ্ট করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে দুই তরুণী বোন। দিনদুপুরে ক্যারোলিন ‘কারো’ পেনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত নারী পাঁচ সন্তানের জননী ছিলেন। তবে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো বিষয় হলো, গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তদের চেহারায় অনুশোচনার সামান্যতম ছাপ তো ছিলই না, উল্টো তাদের মুখে পৈশাচিক হাসি দেখা গেছে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছের শহর দেল রিও থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ তাদের হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। আরও পড়ুন... ‘ফোনটা ধরতে পারলে হয়তো তাকে বাঁচাতে পারতাম’- টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, দুই বোনসহ তিনজন গ্রেপ্তার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত ক্যারোলিনকে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার পরপরই গুরুতর জখম অবস্থায় ভাল ভার্দে রিজিওনাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একটি সনিক ড্রাইভ-থ্রু রেস্তোরাঁর বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যারোলিন তার তিন হামলাকারীর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছায় এবং প্রায় ৩৫ হাজার বাসিন্দার শহর দেল রিওতে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীদের শনাক্ত করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গ্রেপ্তারের একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, ২১ বছর বয়সী কিটি মিয়া দিয়াজ খালি পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়িতে ওঠার আগে মৃদু হাসছেন। কিটি নিজেও এক শিশুপুত্রের মা। অন্যদিকে, তার ১৯ বছর বয়সী ছোট বোন আমায়া কুকি দিয়াজ ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে দাঁত বের করে হাসতে থাকেন। ▶️ টেক্সাসে নিজের মাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুই মেয়ে | এমনকি ভিডিও ধারণকারীকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে ‘রেকর্ড করা বন্ধ করো’ বলেও চিৎকার করতে শোনা যায় তাকে। দেল রিও পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২১ বছর বয়সী কায়ান্দ্রা রেনি ফাজ নামের তৃতীয় আরেক নারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।