- প্রচ্ছদ
- Topic
গ্রিন কার্ডধারী
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মার্কিন নাগরিক ও গ্রিন কার্ডধারীরা নির্দিষ্ট শর্তে পরিবারের সদস্যদের স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য স্পনসর করতে পারেন। এ প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হলো আই-১৩০ পিটিশন জমা দেওয়া। তবে কার জন্য আবেদন করা যাবে, কত দিন অপেক্ষা করতে হবে এবং কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে, তা নির্ভর করে স্পনসরের অভিবাসন-অবস্থা, পারিবারিক সম্পর্ক ও সংশ্লিষ্ট ভিসা শ্রেণির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিকেরা তাঁদের স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা এবং নির্দিষ্ট শর্তে ভাই-বোনের জন্য আই-১৩০ পিটিশন করতে পারেন। বাবা-মা ও ভাই-বোনের জন্য আবেদন করতে হলে স্পনসরের বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হবে। অন্যদিকে, গ্রিন কার্ডধারীরা তাঁদের স্বামী বা স্ত্রী এবং অবিবাহিত ছেলে-মেয়ের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে গ্রিন কার্ডধারীরা সরাসরি বাবা-মা, ভাই-বোন কিংবা বিবাহিত ছেলে-মেয়ের জন্য এই পিটিশন করতে পারেন না। আই-১৩০ পিটিশনের মূল উদ্দেশ্য হলো আবেদনকারী ও তাঁর পরিবারের সদস্যের মধ্যে আইনসম্মত সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা। এ জন্য বিয়ের সনদ, জন্মসনদ, পারিবারিক সম্পর্কের প্রমাণসহ প্রযোজ্য নথিপত্র জমা দিতে হয়। আবেদনকারীকে প্রতিটি যোগ্য আত্মীয়ের জন্য আলাদা পিটিশন করতে হয়। তবে পিটিশন অনুমোদন পাওয়ার অর্থ এই নয় যে পরিবারের সদস্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পেয়ে যাবেন। পরবর্তী ধাপ নির্ভর করে পরিবারের সদস্য কোন ভিসা শ্রেণির আওতায় পড়ছেন তার ওপর। মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রী, ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তান এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী বাবা-মা ইমিডিয়েট রিলেটিভ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। এ শ্রেণিতে বছরে ভিসার সংখ্যাগত সীমা নেই। তবে অন্যান্য পারিবারিক অভিবাসন শ্রেণিতে ভিসার সংখ্যা সীমিত থাকায় আবেদনকারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে। বিদেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে আই-১৩০ অনুমোদনের পর সাধারণত জাতীয় ভিসা কেন্দ্রের মাধ্যমে ভিসার আবেদন, প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও ফি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং অন্যান্য যাচাই সম্পন্ন করে নির্ধারিত মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে সাক্ষাৎকার দিতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অবস্থানরত কিছু আবেদনকারী আইনগত যোগ্যতা পূরণ করলে সেখান থেকেই স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদার জন্য আবেদন করতে পারেন। পারিবারিক অভিবাসনের ক্ষেত্রে আর্থিক সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্পনসরকে আই-৮৬৪ ফর্মের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার হলফনামা জমা দিতে হয়। এতে পরিবারের সদস্যের আর্থিক দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে হয় এবং আয় ও করসংক্রান্ত নথি দিয়ে যোগ্যতা প্রমাণ করতে হয়। স্পনসরের আয় নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করলে উপযুক্ত ক্ষেত্রে যৌথ স্পনসরের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া অভিবাসন ভিসা দেওয়ার সময় আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, আর্থিক সম্পদ, আয়, শিক্ষা ও দক্ষতার মতো বিষয় বিবেচনায় আসতে পারে। এ ধরনের মূল্যায়নকে পাবলিক চার্জ বলা হয়। ২০২৬ সালের ৫ আগস্ট মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসন ভিসা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে পাবলিক চার্জ বন্ড চাওয়ার পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তবে এ ব্যবস্থা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। যাঁদের ক্ষেত্রে বন্ডের প্রয়োজন হবে, তাঁদের কনস্যুলার কর্মকর্তা এ বিষয়ে জানাবেন। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কিছু অ-অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য যাচাই সম্প্রসারণের ঘোষণা দেয়। ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া এ পরিবর্তন নির্দিষ্ট ভিসা শ্রেণির জন্য প্রযোজ্য। এটি পারিবারিক অভিবাসনের আই-১৩০ পিটিশনের জন্য নতুন কোনো সাধারণ শর্ত নয়। তাই বিভিন্ন ভিসা শ্রেণির নিয়ম ও শর্ত আলাদাভাবে বুঝে আবেদন করা জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যদের আনার পরিকল্পনা থাকলে আবেদন করার আগে নিজের যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় নথিপত্র, আর্থিক শর্ত এবং সম্ভাব্য অপেক্ষার সময় সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত। পিটিশন অনুমোদনের পর ভিসা পাওয়ার সময় নির্ভর করতে পারে ভিসা শ্রেণি, অগ্রাধিকার তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট মাসের ভিসা বুলেটিনের ওপর। অভিবাসন আইন ও নির্দেশনা পরিবর্তিত হতে পারে বলে আবেদনকারীদের সর্বশেষ সরকারি তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে চাকরি শুধু একটি পেশা নয়; অনেকের জন্য এটি উচ্চশিক্ষা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, বাড়ি কেনার বিশেষ সুযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তার পথও। প্রতি বছর হাজারো মার্কিন নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী) যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক শাখায় যোগ দেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই জানতে চান, সামরিক বাহিনীতে যোগ দিলে কী কী সুবিধা পাওয়া যায় এবং আবেদন করার প্রক্রিয়াটি কী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ এবং ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সামরিক বাহিনীতে কর্মরত সদস্য ও যোগ্য ভেটেরানদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন, চাকরি এবং অবসরকালীন জীবনে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা রয়েছে। তবে এসব সুবিধার অনেকগুলোই চাকরির ধরন, দায়িত্ব পালনের সময়কাল এবং ব্যক্তির যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর ছয়টি প্রধান শাখা রয়েছে। এগুলো হলো আর্মি, নেভি, এয়ার ফোর্স, মেরিন কোর, কোস্ট গার্ড এবং স্পেস ফোর্স। এ ছাড়া ন্যাশনাল গার্ড ও বিভিন্ন রিজার্ভ ইউনিটেও খণ্ডকালীন দায়িত্ব পালনের সুযোগ রয়েছে। সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার অন্যতম আকর্ষণ প্রতিযোগিতামূলক বেতন ও বিভিন্ন ধরনের ভাতা। মূল বেতনের পাশাপাশি যোগ্য সদস্যরা হাউজিং অ্যালাউন্স, খাবার ভাতা, বিশেষ দায়িত্ব ভাতা এবং কিছু ক্ষেত্রে সাইনিং বোনাস পেতে পারেন। পদোন্নতি ও চাকরির অভিজ্ঞতার সঙ্গে সঙ্গে বেতনও বৃদ্ধি পায়। উচ্চশিক্ষার সুযোগও সামরিক পেশার বড় একটি সুবিধা। যোগ্য সদস্য ও ভেটেরানরা জিআই বিলের আওতায় কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি, বই, প্রশিক্ষণ এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আবাসন ব্যয়ের সহায়তা পেতে পারেন। অনেক সামরিক শাখায় চাকরির পাশাপাশি টিউশন অ্যাসিস্ট্যান্স কর্মসূচির মাধ্যমে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগও রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ সুবিধা। সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সদস্য ও নির্ধারিত যোগ্যতার আওতাভুক্ত পরিবারের সদস্যরা ট্রাইকেয়ার স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির সুবিধা পান। অন্যদিকে যোগ্য ভেটেরানদের জন্য রয়েছে ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স বিভাগের হাসপাতাল ও চিকিৎসাসেবা। তবে এসব সুবিধা ব্যক্তির সামরিক সেবার ধরন ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সামরিক সদস্য ও যোগ্য ভেটেরানদের জন্য সবচেয়ে পরিচিত সুবিধাগুলোর একটি হলো ভিএ হোম লোন। এই কর্মসূচির আওতায় অনেক যোগ্য আবেদনকারী ডাউন পেমেন্ট ছাড়াই বাড়ি কেনার সুযোগ পান। পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে তুলনামূলক অনুকূল শর্তে মর্টগেজ ঋণ পাওয়ার সুযোগও থাকে। তবে এ সুবিধা পেতে নির্ধারিত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়। চাকরির ক্ষেত্রেও কিছু বাড়তি সুযোগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের অনেক চাকরিতে যোগ্য ভেটেরানদের জন্য ভেটেরানস প্রেফারেন্স নীতি প্রযোজ্য। এর ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অগ্রাধিকার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। যদিও এই সুবিধা সব সরকারি বা বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। দীর্ঘ সময় সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালনকারীরা অবসরকালীন পেনশন, সঞ্চয় কর্মসূচি এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধার জন্য যোগ্য হতে পারেন। পাশাপাশি পরিবারের জন্যও স্বাস্থ্যসেবা, জীবনবীমা, কাউন্সেলিং, স্থানান্তর সহায়তা এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে শিক্ষা-সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে। অনেকের ধারণা, সামরিক বাহিনীতে শুধু যুদ্ধ বা অস্ত্র পরিচালনার কাজই করতে হয়। বাস্তবে বিষয়টি অনেক বিস্তৃত। বর্তমানে সামরিক বাহিনীতে সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল, চিকিৎসা, গোয়েন্দা কার্যক্রম, বিমান পরিচালনা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, লজিস্টিকস, প্রশাসন এবং আরও শতাধিক পেশায় কাজের সুযোগ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে অর্জিত অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে বেসামরিক চাকরির বাজারেও মূল্যবান হিসেবে বিবেচিত হয়। সাধারণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং বৈধ স্থায়ী বাসিন্দারা, অর্থাৎ গ্রিন কার্ডধারীরা, সামরিক বাহিনীতে আবেদন করতে পারেন। তবে প্রতিটি শাখার জন্য নির্ধারিত বয়সসীমা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, শারীরিক সক্ষমতা, চিকিৎসা পরীক্ষা এবং এএসভিএবি পরীক্ষার শর্ত রয়েছে। আবেদনকারীদের প্রথমে সংশ্লিষ্ট সামরিক শাখার রিক্রুটারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। এরপর যোগ্যতা যাচাই, চিকিৎসা পরীক্ষা, এএসভিএবি পরীক্ষা, নথিপত্র যাচাই এবং বেসিক মিলিটারি ট্রেনিং সম্পন্ন করার পর নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়। তবে এই পেশার কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জও রয়েছে। দায়িত্বের প্রয়োজনে সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য কিংবা বিদেশে দীর্ঘ সময়ের জন্য মোতায়েন হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবার থেকে মাসের পর মাস দূরে থাকতে হয়। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বা জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল কিংবা যুদ্ধক্ষেত্রেও দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে। বিশেষ কিছু মিশনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাজনিত কারণে অবস্থান বা অপারেশন-সংক্রান্ত সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হয় না। পাশাপাশি এই পেশায় কঠোর শৃঙ্খলা, শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্যরিয়ার নিয়ে কাজ করেন তাদের মতে, সামরিক বাহিনীতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শুধু বেতন বা সুযোগ-সুবিধা নয়, দায়িত্ব, সম্ভাব্য মোতায়েন, পারিবারিক জীবন এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের বিষয়গুলোও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত। কারণ এটি শুধু একটি চাকরি নয়, বরং একটি জীবনধারা। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি তরুণ-তরুণীদের জন্য সামরিক বাহিনী একটি সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ারের পথ হতে পারে। তবে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট সামরিক শাখার সরকারি যোগ্যতার শর্ত, সুবিধা এবং দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে বিচক্ষণ পদক্ষেপ।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী বা স্ত্রীর গ্রিন কার্ড আবেদনে আগস্টে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আগস্ট ২০২৬ ভিসা বুলেটিনে এফ২এ ক্যাটাগরির ‘ডেটস ফর ফাইলিং’ সব দেশের জন্য ‘কারেন্ট’ করা হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত যোগ্যতা পূরণকারী গ্রিন কার্ডধারীর স্বামী বা স্ত্রী নির্ধারিত শর্তে আই-১৩০ পারিবারিক পিটিশনের সঙ্গে আই-৪৮৫ গ্রিন কার্ড আবেদন একই সময়ে জমা দেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। পররাষ্ট্র দপ্তর ১৫ জুলাই প্রকাশিত আগস্টের ভিসা বুলেটিনে এফ২এ ক্যাটাগরির ‘ডেটস ফর ফাইলিং’ তালিকায় সব দেশের জন্য ‘সি’ বা ‘কারেন্ট’ দেখিয়েছে। এফ২এ ক্যাটাগরির আওতায় রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তান। বাংলাদেশ এই তালিকায় আলাদাভাবে উল্লেখ নেই। ফলে বাংলাদেশি আবেদনকারীরা অন্যান্য সাধারণ দেশের জন্য নির্ধারিত অংশের আওতায় পড়েন। ‘কারেন্ট’ হওয়ার অর্থ হলো, সংশ্লিষ্ট তালিকা ব্যবহারের অনুমতি থাকলে এফ২এ ক্যাটাগরির আবেদনকারীকে আই-৪৮৫ জমা দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট পুরোনো প্রায়োরিটি ডেট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। তবে শুধু ভিসা বুলেটিনে ‘কারেন্ট’ থাকাই যথেষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকে আই-৪৮৫ জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে ইউএসসিআইএস সংশ্লিষ্ট মাসে কোন তালিকা ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে, সেটিও অনুসরণ করতে হবে। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, পারিবারিক পছন্দভিত্তিক ক্যাটাগরিতে আবেদনকারীর জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা তাৎক্ষণিকভাবে উপলব্ধ থাকলে আই-১৩০ অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা না করেও আই-৪৮৫ জমা দেওয়া যায়। যোগ্য হলে আই-১৩০ ও আই-৪৮৫ একই সঙ্গে জমা দেওয়া যায়। আবার আই-১৩০ আগে জমা দেওয়া থাকলে সেটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায়ও আই-৪৮৫ জমা দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তবে এই সুযোগকে সব গ্রিন কার্ডধারীর স্বামী বা স্ত্রীর জন্য স্বয়ংক্রিয় সুবিধা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ বা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পাওয়ার অন্যান্য আইনগত যোগ্যতাও পূরণ করতে হবে। আবেদনকারী কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন, তার বর্তমান ইমিগ্রেশন অবস্থা, কোনো আইনগত বাধা বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার অযোগ্যতার কারণ রয়েছে কি না, এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিভেদে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। আগস্টের ভিসা বুলেটিনে আরও একটি বড় অগ্রগতি হয়েছে। এফ২এ ক্যাটাগরির ‘ফাইনাল অ্যাকশন ডেট’ বাংলাদেশসহ অধিকাংশ দেশের জন্য ২২ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত এগিয়েছে। জুলাইয়ে এই তারিখ ছিল ১ জানুয়ারি ২০২৫। অর্থাৎ এক মাসেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখ প্রায় দেড় বছর এগিয়েছে। তবে ‘ডেটস ফর ফাইলিং’ কারেন্ট হওয়া এবং ‘ফাইনাল অ্যাকশন ডেট’ কারেন্ট হওয়া এক বিষয় নয়। প্রথমটি নির্ধারণে ভূমিকা রাখে কখন যোগ্য আবেদনকারী আবেদন জমা দিতে পারবেন। অন্যদিকে চূড়ান্তভাবে গ্রিন কার্ড অনুমোদনের সময় আবেদনকারীর জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা নম্বর উপলব্ধ থাকতে হবে এবং তার প্রায়োরিটি ডেট প্রযোজ্য ফাইনাল অ্যাকশন ডেটের আগে থাকতে হবে। এ কারণে আগস্টে আই-৪৮৫ জমা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া মানেই সঙ্গে সঙ্গে গ্রিন কার্ড অনুমোদন পাওয়া নয়। মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে গ্রিন কার্ডধারীর স্বামী বা স্ত্রীর নিয়মেও গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। মার্কিন নাগরিকের স্বামী বা স্ত্রী ‘ইমিডিয়েট রিলেটিভ’ হিসেবে বিবেচিত হন এবং তাদের জন্য বার্ষিক ইমিগ্র্যান্ট ভিসার সংখ্যাগত সীমা নেই। অন্যদিকে গ্রিন কার্ডধারীর স্বামী বা স্ত্রী এফ২এ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত এবং এই ক্যাটাগরিতে ভিসার সংখ্যাগত সীমা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থানরত স্বামী বা স্ত্রীর ক্ষেত্রেও প্রক্রিয়াটি আলাদা। তারা সাধারণত আই-৪৮৫ জমা দেন না। তাদের আই-১৩০ অনুমোদনের পর ন্যাশনাল ভিসা সেন্টার এবং সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে ইমিগ্র্যান্ট ভিসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে পারিবারিক পছন্দভিত্তিক ক্যাটাগরিতে বিশ্বব্যাপী ২ লাখ ২৬ হাজার ইমিগ্র্যান্ট ভিসার সীমা নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে দ্বিতীয় পারিবারিক পছন্দের বড় অংশ এফ২এ ক্যাটাগরির জন্য বরাদ্দ। তাই আগস্টের পরিবর্তনকে সব গ্রিন কার্ডধারীর স্বামী বা স্ত্রীর দীর্ঘ অপেক্ষার সম্পূর্ণ অবসান হিসেবে বর্ণনা করা সঠিক হবে না। তবে এফ২এ ক্যাটাগরির আবেদন জমা দেওয়ার তারিখ সব দেশের জন্য কারেন্ট হওয়া এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখ উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে যাওয়া, যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য বড় অগ্রগতি।
যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী) শিক্ষার্থী মোহসেন মাহদাভির বিরুদ্ধে আবারও বহিষ্কার কার্যক্রম চালানোর পথ খুলে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত। সর্বশেষ এই রায়ের ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা আলোচিত অভিবাসন মামলায় নতুন মোড় এসেছে। মঙ্গলবার নিউইয়র্কভিত্তিক সেকেন্ড ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলস রায়ে ভারমন্টের একটি নিম্ন আদালতের আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়। আপিল আদালতের মতে, ফেডারেল জেলা আদালত অভিবাসন আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই মামলায় হস্তক্ষেপ করেছিল, যা তার এখতিয়ারের বাইরে ছিল। তবে আদালত মাহদাভির মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। এসব বিষয় অভিবাসন আদালতেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। মোহসেন মাহদাভি পশ্চিম তীরের বাসিন্দা এবং ২০১৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় তিনি গাজা যুদ্ধবিরোধী ও ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকার দিতে গেলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে এবং তার বিরুদ্ধে বহিষ্কার প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে এক ফেডারেল বিচারক তাকে মুক্তির নির্দেশ দেন। মাহদাভির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা আইনি লড়াই অব্যাহত রাখবেন। তাদের দাবি, আপিল প্রক্রিয়া চলাকালে তাকে আটক বা বহিষ্কার করা উচিত নয়। একই সঙ্গে তারা বলছেন, এই মামলা যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং অভিবাসন আইনের প্রয়োগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে গাজা যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া একাধিক অ-মার্কিন নাগরিক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপ জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মাহদাভির মামলাও সেই ধারাবাহিকতার অন্যতম আলোচিত উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আপিল আদালতের এই রায়ের ফলে তার বিরুদ্ধে বহিষ্কার কার্যক্রম আবারও অভিবাসন আদালতে এগিয়ে যাবে, যদিও তার সামনে এখনও আইনি আপিলের সুযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে গ্রিন কার্ডধারীদের বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে ফেডারেল সরকারের ক্ষমতা আরও বিস্তৃত হয়েছে। ৬-৩ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে আদালত সিদ্ধান্ত দিয়েছে, বিদেশ সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় কোনো স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারীর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধরনের অপরাধে জড়িত থাকার “যৌক্তিক বিশ্বাস” থাকলেই সীমান্ত কর্মকর্তারা তার প্রবেশাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারবেন এবং প্রয়োজনে বহিষ্কার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন। মঙ্গলবার ঘোষিত এই রায়কে অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বড় আইনি সাফল্য হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। আদালতের সিদ্ধান্তের ফলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় কিছু গ্রিন কার্ডধারীকে আগের তুলনায় আরও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মুখোমুখি হতে হতে পারে। মামলাটি ছিল একজন বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাকে ঘিরে, যার বিরুদ্ধে বিদেশ ভ্রমণের পর যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি আদালতে গড়ালে মূল প্রশ্ন ছিল—এ ধরনের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে কতটুকু প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা মত দেন যে সীমান্ত কর্মকর্তাদের জন্য আগের তুলনায় উচ্চমানের প্রমাণ দেখানোর বাধ্যবাধকতা নেই; বরং কোনো ব্যক্তি নির্দিষ্ট অপরাধে জড়িত ছিলেন বলে বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ থাকলেই অভিবাসন আইনের অধীনে পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বিশেষ করে বিদেশ ভ্রমণকারী গ্রিন কার্ডধারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ভ্রমণ শেষে দেশে ফেরার সময় যদি কারও বিরুদ্ধে অতীতের কোনো ফৌজদারি অভিযোগ, দণ্ড বা নির্দিষ্ট ধরনের অপরাধের রেকর্ড থাকে, তাহলে তিনি অতিরিক্ত জিজ্ঞাসাবাদ কিংবা অভিবাসন সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারেন। তবে আদালতের রায়ের অর্থ এই নয় যে সরকার ইচ্ছামতো যেকোনো গ্রিন কার্ডধারীকে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার করতে পারবে। অভিবাসন আদালতের শুনানি, আইনি প্রতিকার এবং অন্যান্য সাংবিধানিক সুরক্ষা এখনও বহাল রয়েছে। তবুও সমালোচকদের আশঙ্কা, এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারের হাতে এমন একটি আইনি সুযোগ তৈরি হয়েছে যা ভবিষ্যতে আরও কঠোর অভিবাসন প্রয়োগের পথ প্রশস্ত করতে পারে। রায়ের বিরোধিতাকারী বিচারপতিরা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। তাদের মতে, গ্রিন কার্ডধারীরা এতদিন যে আইনি সুরক্ষা ভোগ করতেন, এই রায় সেই সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে দুর্বল করেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে লাখ লাখ গ্রিন কার্ডধারী বসবাস করছেন, যাদের মধ্যে দক্ষিণ এশীয়, বাংলাদেশি ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত অভিবাসীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, যাদের বিরুদ্ধে অতীতে কোনো অপরাধমূলক মামলা, দণ্ড বা আইনি জটিলতার ইতিহাস রয়েছে, তাদের বিদেশ ভ্রমণের আগে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত। সুপ্রিম কোর্টের এই রায় এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র আকার ধারণ করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। সর্বশেষ এই রায় সেই অবস্থানকে আইনি ভিত্তি আরও শক্তিশালী করল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ ও সংরক্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রায়ান আবদুল বাতেন। তিনি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকাশিত রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ‘Film, Distribute, or Possess Image or Video of Sexual Activity with an Animal’ শীর্ষক অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রাণীর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ কিংবা নিজের কাছে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড প্রকাশের পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে তাঁর পরিচয়ের কারণে ঘটনাটি নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণীটির পরিচয় সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়লেও হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের প্রকাশিত গ্রেপ্তারসংক্রান্ত তথ্যে নির্দিষ্ট কোনো প্রাণীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ছাগলের সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডের যে দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা হচ্ছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় (Hillsborough County Sheriff’s Office), ফ্লোরিডা।